Category: আন্তর্জাতিক

  • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ফের ইসরাইলি হামলা, নিহত ৩৭

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ফের ইসরাইলি হামলা, নিহত ৩৭

    আন্তর্জাতিক  ডেস্ক:     গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নতুন হামলায় ১৬ শিশুসহ অন্তত ৩৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলা হামাসের সঙ্গে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করা হচ্ছে।গাজার বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবারের এই হামলায় মূলত আবাসিক ভবনগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বুধবার (২৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রেস টিভি

    এর আগে গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানায়, প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ৩০ জন, তবে আহতের সংখ্যা কয়েক ডজন ছাড়িয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, আমাদের উদ্ধারকর্মীরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিহত ও আহতদের উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

    এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার গাজায় ‘তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী’ পাল্টা হামলার নির্দেশ দেন। তিনি দাবি করেন যে, রাফাহ অঞ্চলে হামাস ইসরাইলি সেনাদের টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে।তবে হামাস এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে বলেছে, ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করছে এবং চুক্তিটিকে ‘ব্যর্থ করার’ অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

    এর আগে সংগঠনটি অভিযোগ করে বলেছিল, ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের বন্দিদের লাশ উদ্ধারে বাধা দিচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ ছিল।  হামাস ইসরাইলের এই আচরণকে ‘ব্যবস্থাগত প্রতিবন্ধকতা’ বলে উল্লেখ করেছে।ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি আরও বলেছে, গাজার রাফাহ ক্রসিং— যা এই অঞ্চলের প্রধান জীবনরেখা— এটি বন্ধ রাখা যুদ্ধবিরতির আরেকটি শর্ত ভঙ্গের স্পষ্ট উদাহরণ।

    এদিকে সর্বশেষ হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি চলতি মাসের শুরুর দিকে মিশরে সম্পাদিত হয়। যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত। ট্রাম্প দাবি করেন, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইসরাইলি গণহত্যা শেষ করা।

    হামাস বারবার ঘোষণা দিয়েছে, তারা এই চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ— যার আওতায় তারা ইসরাইলি বন্দি ও মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার এবং গাজার প্রশাসন একটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের ‘প্রতিক্রিয়ার অধিকার’ সমর্থন করে হামাসকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘যথাযথ আচরণ না করলে’ হামাসকে ‘সমাপ্তি’র মুখে পড়তে হবে।এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি ‘অবিচল রয়েছে’। যদিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

  • কে হবেন ফিলিস্তিনের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট, জানালেন আব্বাস

    কে হবেন ফিলিস্তিনের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট, জানালেন আব্বাস

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:     নিজের উত্তরসূরীর নাম ঘোষণা করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।  এক লিখিত ঘোষণায় আব্বাস জানিয়েছে, যদি কখনো তিনি আর দায়িত্ব পালন করার মতো অবস্থায় না থাকেন, সেক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল শেখ। খবর আনাদোলুর।

    মাহমুদ আব্বাসের ঘোষণাটি প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তাসংস্থা ওয়াফা। সেখানে তিন বলেছেন, ‘কোনো কারণে যদি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) প্রধানের পদ শূন্য হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের এবং প্যালেস্টাইনিয়ান লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল শেখ অস্থায়ীভাবে এই পদে স্থলাভিষিক্ত হবেন। তার দায়িত্ব হবে ফিলিস্তিনের নির্বাচনী আইন মেনে নির্বাচনের আয়োজন করা এবং তারপর নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।’

    ফিলিস্তিনের সংবিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে। যদি অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার কারণে তা সম্ভব না হয়, তাহলে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট আরও এক মেয়াদ এই পদে থাকবেন।

    সংবিধানের ডিক্রি নম্বর এক-এ আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পদ কোনো কারণে শূন্য হয়ে গেলে পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন ফিলিস্তিনের পার্লামেন্ট প্যালেস্টাইনিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বা স্পিকার।

    মাহমুদ আব্বাসের সাম্প্রতিক ঘোষণা সংবিধানের ডিক্রি নম্বর ১-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়া ডিক্রিটি বাতিল করা হয়েছে। মাহমুদ আব্বাসের ঘোষণায় এর ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে।লিখিত ঘোষণায় এ প্রসঙ্গে মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা রক্ষা, মাতৃভূমির নিরাপত্তা এবং ফিলিস্তিনের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার স্বার্থে সংবিধানের এক নম্বর ডিক্রি বাতিল করা হলো।’

    মাহমুদ আব্বাস গত ২০ বছর ধরে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের পদে আছেন। ২০০৪ সালের নভেম্বরে পরলোকগমন করেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট এবং অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসের আরাফাত। আরাফাতের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হন আব্বাস।

  • পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস, ভূগোলসহ ৯ বিভাগ বন্ধ

    পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস, ভূগোলসহ ৯ বিভাগ বন্ধ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:    ব্যাচেলর অব স্টাডিজের (বিএস) বিভিন্ন কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমে যাওয়ায় পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয় চলতি শরৎকালীন সেমিস্টার থেকে ৯টি বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এ বিভাগগুলো হচ্ছে উন্নয়ন অধ্যয়ন, ভূতত্ত্ব, ভূগোল, ইতিহাস, সামাজিক নৃবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, লজিস্টিকস ও সরবরাহ চেইন বিশ্লেষণ, মানব উন্নয়ন ও পরিবারবিদ্যা এবং গার্হস্থ্য অর্থনীতি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের নথির বরাত দিয়ে ডন জানিয়েছে, এবার মাত্র একজন মানব উন্নয়ন ও পরিবারবিদ্যা সংক্রান্ত বিএস প্রোগ্রামে ভর্তি হতে আবেদন করেছে, দুজন করে আবেদন করেছে উন্নয়ন অধ্যয়ন, লজিস্টিকস ও সরবরাহ চেইন বিশ্লেষণ এবং গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে, তিনজন করে ইতিহাস ও ভূগোলে, সামাজিক নৃবিজ্ঞানে ৫ জন, পরিসংখ্যানে ৭ আর ভূগোলে ১৪ জন।

    এর প্রেক্ষিতে পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ঘোষণা দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, বিশবিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কোনো কোর্সে ভর্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জনের কম হয় তাহলে ওই ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি শিক্ষার্থী সংখ্যা নির্ধারিত মানদণ্ডের নিচে থাকায় ৯টি বিভাগ আর চালু রাখা হবে না। তারা এই বিভাগগুলোতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিভাগ বদলেরও পরামর্শ দিয়েছে।

    পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬৯টি বিভাগ রয়েছে এবং প্রতিটি বিভাগ ৪ বছরের বিএস কোর্সে ৬০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করে। কিন্তু এবার গণিত, রসায়ন, সামাজিক কাজ, উর্দু, পশতু, সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনার মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগেও কম শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।

    পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পেয়েছে ওষুধশাস্ত্র, ইংরেজি, মনোবিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, আইন, পরিবেশ বিজ্ঞান, পদার্থ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন, অপরাধবিদ্যা ও ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞান।

    বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি কম হওয়ার পেছনে অনেক কারণ আছে বলে মনে করছেন পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র। বিভাগ বা বিষয় বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত নির্দেশনা ও পরামর্শ পায় না বলেই তিনি মনে করেন।

    তিনি বলেন, সমন্বিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের মতো সম্প্রতি চালু হওয়া বিষয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি থাকে, কারণ এসব বিষয়ে পড়লে পাকিস্তানের পাশাপাশি বিদেশেও ভালো সুযোগ থাকে। বাজারে গুরুত্ব কম থাকায় বিভিন্ন ভাষাভিত্তিক বিষয়ের প্রতি আকর্ষণ কমে গেছে।

  • ট্রাম্পের এশিয়া সফর: থাকবে সম্মেলন, বৈঠক ও চুক্তি

    ট্রাম্পের এশিয়া সফর: থাকবে সম্মেলন, বৈঠক ও চুক্তি

    অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ এশিয়া সফরে যাচ্ছেন। সফরের শেষ দিনে দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

    ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ট্রাম্পের দেখা হতে পারে এমন গুঞ্জন উঠলেও, ওয়াশিংটন বলছে, এমন কোনো বৈঠক সূচিতে নেই।

    ট্রাম্পের লক্ষ্য, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের মধ্যে চলমান তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ‘সবকিছুর ওপর একটি চুক্তি’ করা।

    ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা দেশে শুল্ক বসিয়ে ও কূটনৈতিক চুক্তি করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছেন।

    তিনি এই মেয়াদে প্রথমবারের মতো এশিয়া সফরে যাচ্ছেন। সফর তালিকায় মালয়েশিয়া ও জাপানও রয়েছে।

    এক জ্যৈষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা শুক্রবার বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল অর্থনৈতিক অঞ্চলে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান জনগণের জন্য সাফল্য বয়ে আনবেন। এ সময়ে তার একাধিক অর্থনৈতিক চুক্তি সই করার কথা রয়েছে।’

    দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দেবেন ট্রাম্প।

    এ বিষয়ে সিউলের পুনরেকত্রীকরণ মন্ত্রী জানান, সম্মেলনে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’

    তবে ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরো জানান, ‘এমন কোন বৈঠক তাদের সূচিতে নেই।’

    যদিও দুই নেতা আগেই জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনরায় জাগিয়ে তুলতে চান তারা।

    শান্তি ও বাণিজ্য চুক্তি

    ট্রাম্পের প্রথম গন্তব্য মালয়েশিয়া। তিনি রোববার সেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেবেন। প্রথম মেয়াদে এই সম্মেলন তিনি একাধিকবার এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

    মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সই করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে তার সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর। এই চুক্তির তদারকি করবেন তিনি নিজেই।

    শান্তি প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে অনেকে ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ বলেই দেখছেন।

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলার পর, এবার সেই দূরত্ব কমাতে চাইছে উভয় পক্ষ।
    এএফপিকে এমনটাই জানিয়েছেন দেশ দু’টির কর্মকর্তারা।

    এরপর ট্রাম্প সোমবার টোকিও পৌঁছাবেন। মঙ্গলবার তিনি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ সপ্তাহেই দায়িত্ব নেওয়া তাকাইচি একজন রক্ষণশীল রাজনীতিক।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প যে কঠোর শুল্ক আরোপ করেছেন, তার বড় ধাক্কা থেকে জাপান অনেকটাই রেহাই পেয়েছে।

    ট্রাম্পের অভিযোগ, ‘অন্যায় বাণিজ্য ভারসাম্য’ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘লুটে নিচ্ছে।’

    তবে ট্রাম্পের এশিয়া সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া।

    তিনি বুধবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বুসানে পৌঁছাবেন। সেখানে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে তার উপস্থিতিকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

    তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    এছাড়া এপেক সম্মেলনের ফাঁকে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন এবং গিয়ংজু শহরে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধানদের সঙ্গে নৈশভোজ করবেন।

    বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতার সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে।

    বিশ্ববাজার এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে। ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের কারণে শুরু হওয়া বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধ হবে কি-না, তা জানতে আগ্রহী সবাই। বিশেষ করে, বেইজিংয়ের বিরল খনিজ রপ্তানিতে সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উত্তেজনার পর, এই বৈঠককে ঘিরে আগ্রহ আরও বেড়েছে।

    ট্রাম্প শুরুতে বৈঠক বাতিলের হুমকি দেন এবং নতুন শুল্ক আরোপ করেন।

    তিনি পরে আবার জানান, বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

    আরেক জ্যৈষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মূলত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।’

    ট্রাম্প নিজেই বৃহস্পতিবার বলেছেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে প্রথমেই থাকবে ফেন্টানিল ইস্যু।

    তিনি বেইজিংয়ের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন, যাতে চীন মাদক পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। পাশাপাশি, লাতিন আমেরিকার মাদকচক্র দমনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।

    ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন বলেছেন, সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ।

    তিনি মার্কিন পত্রিকা পলিটিকো’কে বলেন, ‘এই বৈঠক ভেস্তে গেলে এর প্রভাব ব্যাপক হবে।’

    ব্যাননের ভাষায়, এটি যেন ‘লোহার পাশা ছোড়ার মতো’—অর্থাৎ সফল হলে ফল বড়, কিন্তু ব্যর্থ হলে বিপদও কম নয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় কোনো অগ্রগতি আশা করা ঠিক হবে না।

    ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক রায়ান হাস বলেছেন, ‘এই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। এটি শুধু চলমান সম্পর্কের ধারাবাহিকতার একটি ধাপ।’

  • ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর মধ্যযুগীয় নির্যাতন

    ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর মধ্যযুগীয় নির্যাতন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:      হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরাইল ২৫০ জন দণ্ডিত ফিলিস্তিনি বন্দির পাশাপাশি গাজার ভেতর থেকে আটক করা আরও প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন গাজাবাসীকে মুক্তি দিয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করেছিল এবং দীর্ঘ মাস ধরে কোনো বিচার ছাড়াই কারাগারে রেখেছিল।

    বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ।

    ইসরাইল দাবি করেছে, এই আটক ব্যক্তিরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা অভিযোগ করেছে, ইসরাইলি বাহিনী গাজায় নির্বিচারে অভিযান চালিয়ে অনেক সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে গেছে তথাকথিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে, যাদের অনেকেরই কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না।

    মুক্তি পাওয়া বহু বন্দি জানিয়েছেন, কারাগারে তারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, নিয়মিত মারধর, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পর্যাপ্ত খাবারের অভাব ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাদের।


    কারা এসব আটক ব্যক্তি?

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইল আক্রমণের পর শুরু হওয়া যুদ্ধে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বিপুল সংখ্যক গাজাবাসীকে আটক করে।

    ২০০২ সালের ‘অবৈধ যোদ্ধাদের আটক আইন’-এর আওতায় আইডিএফ (ইসরাইলি সেনাবাহিনী) ও শিন বেত (ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা) গাজার ভেতর থেকে এসব মানুষকে আটক করে এবং বিভিন্ন কারাগারে পাঠায়।

    তাদের অনেককে আটক করা হয় হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, যেখানে ইসরাইলি বাহিনী হামাসের উপস্থিতির অভিযোগ তোলে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আবাসিক ভবন, রাস্তার চেকপয়েন্ট ও চলাচলের সময়ও সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    আটক অবস্থার শর্ত

    ২০২৫ সালের অক্টোবরের শুরুতে ইসরাইলি কারাগারে ‘অবৈধ যোদ্ধা আইন’-এর আওতায় আটক গাজাবাসীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার ৬৭৩। মানবাধিকার সংগঠন হামোকেদ জানিয়েছে, সামরিক আটক কেন্দ্রে আরও কয়েকশ মানুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

    আটক ব্যক্তিদের সাধারণত ছয় মাস মেয়াদে আটকাদেশ দেওয়া হয়, যা নিয়মিত নবায়ন করা হয় জেলা আদালতের মাধ্যমে। এসব শুনানি ভিডিও কনফারেন্সে পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়।

    বন্দিদের অধিকাংশই জানতেন না কেন তাদের আটক করা হয়েছে; তারা কোনো প্রমাণ দেখতে পাননি, এমনকি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগও পাননি। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসকেও ইসরাইল তাদের কাছে যেতে দেয়নি। পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা বা যোগাযোগেরও অনুমতি ছিল না।

    ২০২৪ সালের মে মাসে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর চাপে সেনাবাহিনী বন্দিদের সঙ্গে আইনজীবীর সাক্ষাতের ব্যবস্থা চালু করে। তবে কেবল যারা হামোকেদ বা অনুরূপ মানবাধিকার সংগঠনের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতেন, তারাই যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন। হামোকেদের নির্বাহী পরিচালক জেসিকা মন্টেল জানান, তাদের সংগঠন মাত্র ৫০ জন বন্দির আইনজীবী সাক্ষাৎ নিশ্চিত করতে পেরেছে।

    নির্যাতনের অভিযোগ

    মুক্তি পাওয়া অনেক বন্দি জানিয়েছেন, আটক অবস্থায় তারা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

    একজন ২৩ বছর বয়সি ট্রাকচালক জানান, ২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজার একটি চেকপয়েন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়। তাকে মারধর করা হয়, হামাস সদস্য হিসেবে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে ৪৫ দিনের জন্য সামরিক আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে ‘ডিস্কো রুমে’ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রচণ্ড শব্দে গান শোনানো হয় এবং ঘুম থেকে বঞ্চিত করা হয়। তিনি জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার কারণে তার স্ক্যাবিস রোগ হয় এবং বিশ্রাম নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    আরেক বন্দি জানান, খান ইউনুসে তার বাসা থেকে তাকে ধরে নিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়, হাতকড়া ও চোখ বেঁধে রাখা হয়, পরে একটি বাসে তোলা হয় এবং আবারও মারধর করা হয়। তাকে ৯৬ দিন ধরে স্দে তেইমান কারাগারে হাতকড়া ও চোখ বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়, এমনকি ঘুমানোর সময় বা বাথরুমে যাওয়ার সময়ও হাতকড়া খোলা হয়নি।

    এরপর তাকে ওফের কারাগারে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো ছিল। সেখানে দিনে হাতকড়া পরতে হতো, কিন্তু রাতে খুলে দেওয়া হতো। তবে সেখানেও বন্দিদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য সাবানের বদলে মেঝে পরিষ্কারের তরল দেওয়া হতো।

    মানবাধিকার সংগঠন হামোকেদ জানিয়েছে, অন্তত ১২ জন গাজাবন্দির কাছ থেকে একই ধরনের নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে তারা।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর কঠোর নীতিমালা আরোপ করেছেন।

    ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্দে তেইমান আটক কেন্দ্রে চোখ বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের মারধরের দায়ে এক ইসরাইলি রিজার্ভ সেনাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একই মাসে আরও পাঁচজন রিজার্ভ সদস্যের বিরুদ্ধে একজন ফিলিস্তিনি বন্দিকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়।

  • ‘কিং ট্রাম্প’ ভিডিও ঘিরে তোলপাড় যুক্তরাষ্ট্রে

    ‘কিং ট্রাম্প’ ভিডিও ঘিরে তোলপাড় যুক্তরাষ্ট্রে

     আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি ভুয়া ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাকে মুকুট পরা অবস্থায় দেখা যায় এবং ‘কিং ট্রাম্প’ লেখা একটি জেটে উড়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় সেই বিমান থেকে প্রতিবাদকারীদের ওপর বাদামী তরল (মলের মতো) ফেলা হচ্ছে।

    ভিডিওটিতে কেনি লগিনসের জনপ্রিয় গান ‘ডেনজার জোন’ ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে, আর তাতে দেখা যায় ট্রাম্পের জেটটি শহরে প্রতিবাদকারীদের মাথায় বাদামী তরল ঢালছে।

    শনিবার রাতে হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকেও একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করা হয়, যেখানে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে রাজকীয় মুকুট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। পোস্টে লেখা হয়, ‘সকলকে শুভ রাত্রি।’ এর পর একটি মুকুটের ইমোজি দেওয়া হয়।

    ট্রাম্প নিয়মিতভাবে এআই-নির্মিত ও বিকৃত ছবি বা মিম পোস্ট করে থাকেন। গত মাসে তিনি এক ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিসকে মিথ্যা গোঁফ ও সেমব্রেরো (মেক্সিকান টুপি) পরানো অবস্থায় দেখানো হয় এবং তাতে মারিয়াচি সংগীত বাজানো হয়। আফ্রিকান-আমেরিকান এই রাজনীতিক জেফরিস বলেন, ভিডিওটি  ‘বর্ণবাদী ও ঘৃণাপূর্ণ’।

    ‘নো কিংস’ আন্দোলনটি গত জুনের বিশাল প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা, যেখানে আনুমানিক ৫০ লাখ মানুষ প্রায় দুই হাজার স্থানে অংশ নিয়েছিলেন। এবারও বিক্ষোভ আয়োজন করেছে প্রগতিশীল জোট ইন্ডিভিজিবল, মুভঅন, এবং স্থানীয় সংগঠন ৫০৫০১। রিপাবলিকান নেতারা এই বিক্ষোভের সমালোচনা করে বলেন, এটি সরকারের অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করছে এবং একে ‘হেইট আমেরিকা র্যালি’ (আমেরিকা-বিরোধী সমাবেশ) আখ্যা দেন তারা।

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন ইমেইলে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘কে পরোয়া করে?’রোববার (১৯ অক্টোবর) সম্প্রচারিত ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা আমাকে রাজা বলছে। আমি রাজা নই।’