Category: আন্তর্জাতিক

  • যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল : হামাস

    যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল : হামাস

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে হামাস। সংগঠনটির দাবি, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ডেইলি সাবাহ।

    রোববার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ‘ইসরাইলি দখলদার বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে অনুমোদিত এলাকায় গুলি চালিয়েছে, যার ফলে ৪৬ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন।”

    হামাসের দাবি, নিহতদের অর্ধেকই শিশু, নারী ও প্রবীণ। নিহতদের মধ্যে আবু শাবান পরিবারও রয়েছে, যাদের সাত শিশু ও দুই নারীসহ পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।

    বিবৃতিতে হামাস আরও জানায়, এসব ইসরাইলি লঙ্ঘন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘বিপর্যস্ত ও ব্যাহত করার প্রচেষ্টা এবং আগ্রাসী নীতির ধারাবাহিকতা।’

    সংগঠনটি অভিযোগ করে, ইসরাইল এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় মাংস, হাঁস-মুরগি, পশুপালনজাত দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নির্মাণ সামগ্রী ও হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

    এছাড়া ইসরাইল নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক বন্দিদের মুক্তি দিতেও দেরি করছে এবং এখনো পর্যন্ত বন্দিদের পূর্ণ তালিকা কিংবা ইসরাইলি হেফাজতে থাকা শতাধিক ফিলিস্তিনির মরদেহের তালিকা হামাসকে দেয়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

    হামাস জানায়, সম্প্রতি ইসরাইল ১৫০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু মরদেহে হাতকড়া পরানো, গলায় চিহ্ন বা সামরিক যানচাপার স্পষ্ট দাগ ছিল।

    তবু হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে তা বাস্তবায়ন করছে। তারা মধ্যস্থতাকারী ও নিশ্চয়তাদাতাদের প্রতি আহ্বান জানায়, যেন ইসরাইলকে ‘চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে মেনে চলতে বাধ্য করা হয় এবং এমন লঙ্ঘন বন্ধ করা হয় যা চুক্তিকে বিপন্ন করছে।’

    উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তি হয়। প্রথম ধাপে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা পুনর্গঠন এবং হামাসবিহীন নতুন প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার কথাও রয়েছে।

    গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৮,২০০ জন নিহত এবং ১,৭০,২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

  • গাজায় ফের ইসরাইলের বিমান হামলা শুরু

    গাজায় ফের ইসরাইলের বিমান হামলা শুরু

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   গাজা উপত্যকায় আবারও বিমান হামলা শুরু করেছে দখলদার ইসরাইল। রোববার (১৯ অক্টোবর) যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে জায়নিস্ট বাহিনী এ হামলা চালায় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা।

    আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো রাফা ও দক্ষিণ গাজার বিভিন্ন এলাকায় হামলার খবর দিচ্ছে। ইসরাইলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ এবং সেনা কর্মকর্তারা এক ফোনালাপে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন।ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে ‘গোলাগুলি বিনিময়’-এর পর এই হামলা চালানো হয়।

    ইসরাইলি মিডিয়ার দাবি, দক্ষিণ গাজার রাফা এলাকায় ‘সন্ত্রাসী তৎপরতার’ জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানায়, রাফায় সামরিক যান বিস্ফোরণে ইসরাইলের দুই সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

    এদিকে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে ‘আসন্ন হামলার প্রস্তুতি’ নিচ্ছে।

    বিবৃতিতে হামাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে ইসরাইলি দখলদারদের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সঙ্গে মিলে যায় এবং এটি ইসরাইলের চলমান সংগঠিত অপরাধ ও আগ্রাসনের জন্য রাজনৈতিক আড়াল তৈরি করে।

    হামাসের দাবি, বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা অভিযোগ করে, ইসরাইল নিজেরাই সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠী গঠন, অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থায়ন করছে—যারা ফিলিস্তিনি নাগরিকদের হত্যা, অপহরণ, ত্রাণবাহী ট্রাক লুট ও সম্পদ চুরিতে জড়িত।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব অপরাধে ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর সম্পৃক্ততা নিজস্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে।

    হামাস জানায়, গাজার পুলিশ বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব অপরাধী চক্রকে শনাক্ত ও বিচার করার কাজ চলছে, যাতে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

    সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায়, ইসরাইলি দখলদারদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন বন্ধে তেলআবিবকে নিয়ন্ত্রণে আনতে।বিবৃতির শেষে হামাস পুনর্ব্যক্ত করে, তারা ফিলিস্তিনি জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা ও সংগঠিত আগ্রাসন ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে অঙ্গীকারবদ্ধ।

  • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরাইলি হামলা, নিহত ৩ শিশুসহ ১১

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরাইলি হামলা, নিহত ৩ শিশুসহ ১১

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের ১১ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতটি শিশু ও তিনজন নারী। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র আট দিন পরই ইসরাইল চুক্তি লঙ্ঘনের এ ঘটনা ঘটালো। রোববার (১৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজা সিটির জায়তুন এলাকায় আবু শাহবান পরিবারের বেসামরিক একটি গাড়িতে ইসরাইলি বাহিনীর ট্যাংকের গোলা আঘাত হানে। গাড়িটিতে করে তারা তাদের নিজ বাড়ির অবস্থা দেখতে যাচ্ছিলেন।সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, নিহতদের মধ্যে সাতটি শিশু ও তিনজন নারী।

    তিনি বলেন, ‘তাদের সতর্ক করা যেত বা অন্যভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু যা ঘটেছে, তা প্রমাণ করে দখলদার বাহিনী এখনো রক্তপিপাসু এবং নিরীহ বেসামরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।’সংস্থাটি এক পৃথক বিবৃতিতে জানায়, জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক কার্যালয়ের (ওসিএইচএ) সহায়তায় তারা এখন পর্যন্ত নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছে। তবে দুটি শিশুর মরদেহ এখনো নিখোঁজ, কারণ প্রচণ্ড বিস্ফোরণে তাদের দেহাবশেষ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।হামাস এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

    সংগঠনটির দাবি, কোনো কারণ ছাড়াই ওই পরিবারের ওপর হামলা করা হয়েছে। এতইসঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন ইসরাইলকে  যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে চাপ দেওয়া হয়।

    এদিকে চলমান বন্দি বিনিময় চুক্তির মধ্যেই শনিবার পর্যন্ত ইসরাইল অন্তত ৩৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে গাজার মিডিয়া অফিস। খাদ্য ও চিকিৎসাসহ জরুরি সহায়তা প্রবাহও কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।

  • ৫০ ধরনের ক্যান্সার শনাক্তে রক্ত পরীক্ষায় চমকপ্রদ ফল

    ৫০ ধরনের ক্যান্সার শনাক্তে রক্ত পরীক্ষায় চমকপ্রদ ফল

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  একটি রক্ত পরীক্ষা যা ৫০টিরও বেশি ধরনের ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারে — এমন এক বিপ্লবী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে উত্তর আমেরিকায় পরিচালিত এক গবেষণায়।গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরীক্ষা ক্যান্সারের বিভিন্ন ধরন শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশেরই কোনো নিয়মিত স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম নেই। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শনাক্ত হওয়া ক্যানসারের অর্ধেকেরও বেশি ছিল প্রাথমিক পর্যায়ে—যেখানে চিকিৎসা সহজ এবং নিরাময়ের সম্ভাবনা বেশি। খবর বিবিসির।

    গ্যালেরি টেস্ট নামে পরিচিত এই রক্ত পরীক্ষা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি গ্রেইল। এটি ক্যান্সারযুক্ত ডিএনএর ক্ষুদ্র অংশ শনাক্ত করতে পারে, যা টিউমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রক্তে ভাসতে থাকে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস এই পরীক্ষাটি ট্রায়াল হিসেবে পরিচালনা করছে।

    গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ২৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ককে এক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ১ শতাংশের রিপোর্ট পজিটিভ আসে এবং এই কেসগুলোর ৬২ শতাংশেই পরবর্তীতে ক্যানসার নিশ্চিত হয়।

    গবেষণার প্রধান ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির রেডিয়েশন মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নিমা নবাভিজাদেহ বলেছেন, ‘এই রক্ত পরীক্ষা ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের ধারণা আমূল বদলে দিতে পারে।’ ওরেগন আরও বলেন, ‘এই প্রযুক্তি এমন অনেক ধরনের ক্যান্সার আগে থেকেই শনাক্ত করতে পারবে, যখন চিকিৎসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক থাকে।’গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাদের পরীক্ষায় ক্যানসার পাওয়া যায়নি, তাদের মধ্যে ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে পরীক্ষাটি সঠিকভাবে ক্যানসার বাদ দিতে পেরেছে।

    ব্রেস্ট, বাওয়েল ও সার্ভিক্যাল স্ক্রিনিংয়ের সঙ্গে এই রক্ত পরীক্ষাকে যুক্ত করলে ক্যানসার শনাক্তের হার সাতগুণ বৃদ্ধি পাবে।সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো— শনাক্ত হওয়া ক্যানসারের তিন-চতুর্থাংশ এমন ধরনের, যেগুলোর জন্য কোনো স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম নেই; যেমন ডিম্বাশয়, লিভার, পাকস্থলী, মূত্রথলি ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার।পরীক্ষাটি ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সারের উৎসও সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পেরেছে।

    গবেষণায় সরাসরি যুক্ত না থাকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরীক্ষা ক্যানসারে মৃত্যুহার কমাতে সক্ষম কিনা—তা প্রমাণে আরও সময় ও তথ্য প্রয়োজন।লন্ডনের ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর অধ্যাপক ক্লেয়ার টার্নবুল বলেন, ‘র‍্যান্ডমাইজড স্টাডি থেকে মৃত্যুহার সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া না গেলে, এই পরীক্ষার প্রকৃত কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’এই গবেষণার সারসংক্ষেপ শনিবার (১৮ অক্টােবর) বার্লিনে ইউরোপীয় সোসাইটি ফর মেডিকেল অনকোলজি কংগ্রেস-এ উপস্থাপিত হবে, যদিও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো কোনো পিয়ার-রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত হয়নি।

    পরবর্তী বড় পরীক্ষা হিসেবে ইংল্যান্ডে এনএইচএস-এর তিন বছর মেয়াদি ট্রায়ালে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। ফলাফল প্রকাশ পাবে আগামী বছর। যদি সফল হয়, তাহলে পরীক্ষাটি আরও ১০ লাখ মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হবে বলে এনএইচএস জানিয়েছে।গ্রেইল-এর বায়োফার্মা বিভাগের সভাপতি স্যার হারপাল কুমার বলেন, ‘ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’

    হারপাল বিবিসিকে বলেন, ‘এই প্রযুক্তি আমাদের আরও অনেক আক্রমণাত্মক ধরনের ক্যানসারও প্রাথমিক পর্যায়ে খুঁজে বের করার সুযোগ দিচ্ছে—যখন চিকিৎসা বেশি কার্যকর ও নিরাময় সম্ভব।’তবে ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে-এর নাসের তুরাবি সতর্ক করে বলেন, ‘অতিরিক্ত রোগ নির্ণয় এড়াতে আরও গবেষণা প্রয়োজন—কারণ কিছু ক্যানসার হয়তো কখনোই প্রকৃত ক্ষতি করত না।’তুরাবি যোগ করেন, ‘এই পরীক্ষাগুলো এনএইচএস গ্রহণ করবে কিনা, তা নির্ধারণে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল স্ক্রিনিং কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

  • শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া

    শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া

    অন্তর্জাতিক ডেস্ক:  শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইন্দোনেশিয়া। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া প্রদেশে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে ওই ভূমিকম্প থেকে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি বা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। 

    ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল জয়পুরা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৫ মাইল) দূরে। এর গভীরতা ছিল ৩৫ কিলোমিটার।হাওয়াইয়ের প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পটি থেকে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।

    ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) ১৬ কিলোমিটার গভীরে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি রেকর্ড করেছে।সংস্থার ভূমিকম্প ও সুনামির পরিচালক দারিওনো এক বিবৃতিতে বলেন, এখনো কোনো আফটারশক রেকর্ড করা হয়নি।বিশাল দ্বীপপুঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ারে অবস্থানের কারণে প্রায়ই দেশটিতে ভূমিকম্প আঘাত হানে।

  • প্রতি আউন্সে ৪,২০০ ডলার  নিরাপদ বিনিয়োগ চাহিদায় স্বর্ণের দামে রেকর্ড

    প্রতি আউন্সে ৪,২০০ ডলার নিরাপদ বিনিয়োগ চাহিদায় স্বর্ণের দামে রেকর্ড

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বুধবার স্বর্ণের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্সে ৪,২০০ ডলার অতিক্রম করেছে।স্পট গোল্ড বুধবার গ্রিনউইচ মান সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে ১.৫% বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,২০৩.৭৯ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে এক পর্যায়ে দাম বেড়ে ৪,২১৭.৯৫ ডলারের রেকর্ড ছোঁয়। ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারও ১.৪% বেড়ে ৪,২২০.২০ ডলারে লেনদেন হয়।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ৫৮% বেড়েছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা দেখছেন— মার্কিন সুদহার কমার প্রত্যাশা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বাড়তি স্বর্ণ ক্রয়, ডলারের ওপর নির্ভরতা হ্রাসের প্রবণতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা।

    অ্যাকটিভট্রেডস বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, ‘মার্কিন সরকারে চলমান অচলাবস্থা, ফেড কর্মকর্তাদের নরম মন্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা স্বর্ণের দাম আরও বাড়াতে পারে। মাঝারি থেকে দীর্ঘমেয়াদে ৫,০০০ ডলার পৌঁছানো অসম্ভব নয়।’বুধবার ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মন্তব্যের পর ডলারের মান কমে যায়, যা বাজারে আগামী অক্টোবর ও ডিসেম্বরে দুটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট হারে সুদ কমানোর প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চীনের সঙ্গে কিছু বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বিবেচনা করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অচলাবস্থার কারণে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকেরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

    স্বর্ণ সাধারণত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা কিংবা মূল্যস্ফীতির সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে জনপ্রিয়। বিশ্লেষক সোনি কুমারির মতে, ‘স্বর্ণের বুলিশ প্রবণতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে।’প্রযুক্তিগতভাবে দেখা যাচ্ছে, স্বর্ণের রিলেটিভ স্ট্রেংথ ইনডেক্স (আরএসআই) ৮৫-এ দাঁড়িয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে— বাজার বর্তমানে ‘ওভারবট’ অবস্থায় রয়েছে।

    অন্যদিকে, রুপার দাম ২.৩% বেড়ে প্রতি আউন্স ৫২.৬৪ ডলার হয়েছে, যা মঙ্গলবারের ৫৩.৬০ ডলারের রেকর্ডের কাছাকাছি। প্লাটিনাম ১.২% বেড়ে ১,৬৫৭.০৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.৭% বেড়ে ১,৫৫১.১৮ ডলারে লেনদেন হয়।