Category: আন্তর্জাতিক

  • রাজস্থানে চলন্ত বাসে আগুন, ২০ জনের মৃত্যু

    রাজস্থানে চলন্ত বাসে আগুন, ২০ জনের মৃত্যু

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজস্থানে চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রাজ্যের জয়সালমীর থেকে যোধপুরগামী ওই বাসটি মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ আগুনে পুড়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন নারী ও দুই শিশু রয়েছে।

    স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে ৫৭ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি জয়সালমীর থেকে যোধপুরের পথে রওনা হয়। পথে হাইওয়েতে হঠাৎ বাসের পেছন দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। চালক দ্রুত বাস থামালেও মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে খবর দেন।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বাসটি মাত্র পাঁচ দিন আগে কেনা হয়েছিল। আগুন লাগার পর কিছু যাত্রী বের হতে পারলেও বেশিরভাগই আগুনের তাপে আটকা পড়ে মারা যান।

    গুরুতর দগ্ধ ১৫ জনকে প্রথমে জয়সালমীরের জওহর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের ৭০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের যোধপুরে স্থানান্তর করা হয়। উদ্ধারকাজ দ্রুত সম্পন্নের জন্য পুলিশ গ্রিন করিডর তৈরি করে আটটি অ্যাম্বুলেন্সে আহতদের যোধপুরে পাঠায়।

    দুর্ঘটনার পর রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জয়সালমীর জেলা কালেক্টর প্রতাপ সিং জানান, “বাসটি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে, এমনভাবে দেহগুলো পুড়েছে যে অনেকের পরিচয় চেনা সম্ভব হচ্ছে না।” যোধপুর থেকে ফরেনসিক ও ডিএনএ বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, “আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার মতোই একই পদ্ধতিতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে, তারপর তাঁদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

  • সীমান্ত সংঘর্ষে ২৩ পাক সেনা ও ২০০ তালেবান যোদ্ধা নিহত

    সীমান্ত সংঘর্ষে ২৩ পাক সেনা ও ২০০ তালেবান যোদ্ধা নিহত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অভিযানে ২০০ জনেরও বেশি তালেবান ও তাদের মিত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।  এছাড়া এই অভিযানে ২৩ জন পাক সেনাও নিহত হয়েছেন।  খবর সামাটিভির। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষের এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়া। তবে পাকিস্তানি বাহিনী ‘সময়োপযোগী ও দৃঢ় পদক্ষেপ’ নিয়ে হামলাটি প্রতিহত করেছে এবং তাদের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

    এতে আরও বলা হয়েছে, সীমান্তপারের লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল একাধিক তালেবান পোস্ট, ক্যাম্প ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র।  এসব অভিযানে আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা ২১টি ঘাঁটি দখল করে ধ্বংস করা হয়েছে।  এতে  ২০০ জনের বেশি তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন।

    পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ২৩ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন আরও ২৯ জন। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, চলমান অভিযানের সময় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আফগান ভূখণ্ডে অবস্থিত সব সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি, তালেবান সরকারকে সতর্ক করে বলা হয়, যদি তারা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো নির্মূল না করে, তবে পাকিস্তান আরও বেশি পালটা হামলা চালাবে। আইএসপিআর দাবি করেছে, এই হামলা ‘তালেবান সরকার ও ভারতের যোগসাজশে চালানো হয়েছে’।

    মুখপাত্র বলেন, ‘এই উসকানিমূলক ও আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূ  হামলা যখন হয় তখন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের সফরে ছিলেন।’পাকিস্তান সরকার কাবুলের কাছে দাবি জানিয়েছে, তারা যেন অবিলম্বে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোকে আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তান এই অঞ্চলে শান্তি চায়, কিন্তু সন্ত্রাসবাদ কোনোভাবেই সহ্য করবে না।’

  • ট্রাম্পের ভাষণ চলাকালে ইসরাইলের পার্লামেন্টে হট্টগোল

    ট্রাম্পের ভাষণ চলাকালে ইসরাইলের পার্লামেন্টে হট্টগোল

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাষণ দেওয়ার সময় ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে হট্টগোল বেধে যায়। এতে বাধাগ্রস্ত হয় ট্রাম্পের ভাষণ। কিছুক্ষণ থেমেও থাকে। খবর ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি’র।টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, ‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি সাইনবোর্ড ধরে রাখেন হাদাশ-তা’আল পার্টির চেয়ারম্যান আয়মান ওদেহ। পরে তাকে নেসেট থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    বিবিসির খবরে বলা হয়, ওদেহ হাতে ব্যানার উঁচিয়ে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি তৎক্ষণাৎ তার দিকে ছুটে যান। এ সময় তার কাছ থেকে ব্যানার ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, তার সঙ্গে পার্লামেন্ট সদস্য ওফের কাসিফকেও বের করা হয়েছে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনার সময় বলেন, ‘কাজটা খুব দক্ষতার সঙ্গে হয়েছে।’নেসেটে ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আজ একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্যের ‘ঐতিহাসিক ভোর’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ জানান। তিনি তাকে ‘অসাধারণ সাহসী একজন মানুষ’ বলে অভিহিত করেন।

    এ সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত সদস্যদের অনেকে নেতানিয়াহুর ডাকনাম ‘বিবি’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। ট্রাম্প তখন বলেন, এখন ইসরায়েলের ‘স্বর্ণযুগ আসবে’ এবং এটি সমগ্র অঞ্চলের জন্যও ‘স্বর্ণযুগ’ হবে।

  • গাজায় ইসরাইলের গুলিবর্ষণ বন্ধ, বাসিন্দারা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে

    গাজায় ইসরাইলের গুলিবর্ষণ বন্ধ, বাসিন্দারা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় শুক্রবার গাজার হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের বিধ্বস্ত ঘর-বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী ধীরে ধীরে তাদের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। ফলে, গাজা নগর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে মানুষের ফিরে আসার ঢল নেমেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    দুই বছরের নৃশংস যুদ্ধের পর গাজায় ইসরাইলের অবশিষ্ট জিম্মিদের পরিবারগুলোও আশা করছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় সই হওয়া যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে। ট্রাম্প নিজেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে যুদ্ধবিরতি ‘বহাল থাকবে’, তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইসরাইল এবং হামাস ‘যুদ্ধে ক্লান্ত’ হয়ে পড়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতির জন্য’ তারা স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (০৯০০ জিএমটি) গুলিবর্ষণ বন্ধ করে দিয়েছে। তিন ঘন্টা পর, পেন্টাগন নিশ্চিত করে যে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় উল্লেখিত প্রত্যাহারের প্রথম ধাপ ইসরাইল সম্পন্ন করেছে। ইসরাইলি বাহিনী এখনও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের প্রায় ৫৩ শতাংশ দখলে রেখেছে।

    এই প্রত্যাহারের ফলে হামাসের জন্য একটি ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শুরু হলো, যার মধ্যে তাদের গাজায় আটক থাকা বাকি জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। এদিকে, ইসরাইল ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীর তালিকা প্রকাশ করেছে যাদের মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাস ইসরাইলের ওপর হামলার মাধ্যমে সর্বশেষ সংঘাত শুরু করার পর থেকে আটক ১ হাজার ৭শ’ জনকে মুক্তি দিবে।

    যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর, ফিলিস্তিনিরা, যারা দুই বছর ধরে প্রচণ্ড বোমাবর্ষণ এবং জাতিসংঘের সতর্কতা  অনুযায়ী দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির মধ্যে ছিল, খান ইউনিস থেকে তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করেছে।

    যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের বিশাল অংশ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার শুরু করেছে। ইতালি জানিয়েছে, গাজা ও মিশরের মধ্যবর্তী রাফাহ সীমান্তে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৪ অক্টোবর একটি পথচারী ক্রসিং পুনরায় চালু করবে।

    যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে, হামাস দুই বছর আগে ৭ অক্টোবরের হামলায় অপহৃত ২৫১ জন জিম্মির মধ্যে ৪৭ জন জীবিত এবং মৃতকে হস্তান্তর করবে। ২০১৪ সাল থেকে গাজায় আটক এক জিম্মির মরদেহও ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির নেতারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

    ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে তিনি সোমবার মিশরের এক সভায় ‘অনেক নেতা’র সঙ্গে বৈঠক করবেন। যেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজা নিয়ে আলোচনা হবে এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী যে যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক শান্তির দিকে নিয়ে যাবে।

  • এবার খৎনা নিয়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘উদ্ভট’ মন্তব্য, গবেষণা কী বলছে !

    এবার খৎনা নিয়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘উদ্ভট’ মন্তব্য, গবেষণা কী বলছে !

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ব্যথানাশক (টাইলেনল) ব্যবহারের বিরুদ্ধে তার প্রচারণা আরও জোরদার করেছেন।তিনি সম্প্রতি  নতুন সতর্কবার্তায় দাবি করেন, যেসব ছেলেশিশুর খৎনা করা হয়, তাদের পরবর্তী জীবনে অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ বেড়ে যায়।

    বার্তা সংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কেনেডি বলেন, ‘দুটি গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প বয়সে যেসব ছেলেশিশুর খতনা করা হয়, তাদের অটিজমে আক্রান্তের হার দ্বিগুণ। এর প্রধান কারণ সম্ভবত খতনার পর তাদের শরীরে ব্যথানাশক টাইলেনল দেওয়া হয়।’এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর কেনেডি ও ট্রাম্প মিলে গর্ভবতী নারীদের টাইলেনল গ্রহণ না করার আহ্বান জানানোর পর বড় পরিসরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

    তাদের দাবি ছিল, টাইলেনলের সক্রিয় উপাদান অ্যাসিটামিনোফেন অটিজমের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, যদিও এই ঝুঁকির সপক্ষে কোনো প্রমাণিত তথ্য নেই।এই সুপারিশ এখনো ব্যাপকমাত্রায় বিতর্কিত। টাইলেনল প্রস্তুতকারক সংস্থা কেনভিউ জানিয়েছে, তারা বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলো মূল্যায়ন করছে।তবে তাদের গবেষণা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় অ্যাসিটামিনোফেন ব্যবহারের সঙ্গে ভ্রূণের প্রত্যাশিত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, অ্যাসিটামিনোফেন গর্ভবতী নারীদের মধ্যে সাধারণভাবে ব্যবহৃত একটি ব্যথানাশক। ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) ইতিমধ্যে গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ পর নারীদের আইবুপ্রোফেন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে।

    অন্যদিকে গত ৫ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে সোসাইটি ফর ম্যাটার্নাল-ফিটাল মেডিসিন এবং আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকলজিস্টস উভয় সংস্থা গর্ভাবস্থায় অ্যাসিটামিনোফেন ব্যবহারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি গর্ভবতী হলে টাইলেনল খাবেন না। আর শিশু জন্মগ্রহণ করলে তাকেও টাইলেনল দেবেন না।’খৎনার কিছু বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত ইতিবাচক দিক রয়েছে। নিচে প্রধান কিছু উপকার তুলে ধরা হলো:মানুষের শরীরে সংক্রামক রোগ (এসটিআই) কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    আফ্রিকার র্যান্ডমাইজড ট্রায়ালগুলোর তথ্য দেখায়, খৎনা করা পুরুষদের হিউম্যান ইমিউনডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) সংক্রমণের ঝুঁকি ৫১-৬০% পর্যন্ত কমে যায়। এইচএসভি-২ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

    খৎনা করা নবজাতক ছেলেদের প্রথম বছরেই মুত্রনালীর সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা (প্রায় ১০ গুণ) কমে যায়। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, মুত্রনালীর সংক্রমণ হ্রাসে খৎনার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। যদিও পেনাইল ক্যানসার বিরল, তবে খৎনা সেই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হয়।

  • যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজায় ইসরাইলের ভয়াবহ বোমাবর্ষণ

    যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজায় ইসরাইলের ভয়াবহ বোমাবর্ষণ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধ শেষ করতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ভোররাত থেকে গাজা উপত্যকায় অব্যাহত রয়েছে ইসরাইলের হামলা। গাজা সিটি ও খান ইউনিসে ইসরাইলি বিমান ও আর্টিলারির ব্যাপক গোলাবর্ষণে অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ইসরাইলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকেও গাজা শহরের বেসামরিক মানুষের ওপর বোমা ফেলা হয়েছে। রাতভর তীব্র বিস্ফোরণ ও আগুনে আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে।

    মিডলইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এদিকে ইসরাইলি ট্যাংকগুলো আল-রাশিদ সড়ক অবরোধ করে দক্ষিণ গাজা থেকে উত্তরাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ফেরা ঠেকিয়ে দিয়েছে। সেনারা মাঝেমধ্যেই গুলি ও গোলা ছুড়ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।ফিলিস্তিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, ইসরাইলি সেনারা যেখানে অবস্থান করছে—সেসব এলাকায় না যেতে।

    মধ্যস্থতাকারীদের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার সকালে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা আসে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি জানান, ‘উভয় পক্ষ প্রথম ধাপের এমন এক চুক্তিতে পৌঁছেছে যা যুদ্ধের অবসান, বন্দি বিনিময় ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ সুগম করবে।’হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘চুক্তির লক্ষ্য গাজায় যুদ্ধের সমাপ্তি, দখলদার বাহিনীর প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তার প্রবেশ এবং বন্দি বিনিময় নিশ্চিত করা।’

    অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আজ ইসরাইলের জন্য এক মহান দিন।’ তিনি বন্দিমুক্তির প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।নেতানিয়াহু বলেন, বৃহস্পতিবারই তার মন্ত্রিসভা বৈঠক বসবে চুক্তি অনুমোদনের জন্য, যাতে ‘ইসরাইলি বন্দিদের ঘরে ফেরানো যায়।’মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে।

    চুক্তির প্রথম ধাপে রোববার বা সোমবারের মধ্যে হামাস ২০ জন জীবিত ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দেবে, এর বিনিময়ে ইসরাইল প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেবে। চূড়ান্ত তালিকা এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই প্রায় ৪০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের অনুমতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা পরবর্তী দিনগুলোতে আরও বাড়ানো হবে।ইসরাইলি বাহিনী ধাপে ধাপে গাজা উপত্যকা থেকে সরে যাবে, তবে প্রথম ধাপে প্রত্যাহারের সীমানা কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।চুক্তির বাকি অংশ—যেমন ইসরাইলের পূর্ণ প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন ও অন্যান্য শর্ত—পরে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

    দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক অভিযানে ইসরাইলে আঘাত হানার পর শুরু হয় এ যুদ্ধ। হামাস জানায়, ইসরাইলের দখলনীতি, আল-আকসা মসজিদে ক্রমবর্ধমান লঙ্ঘন, গাজায় মানবিক অবরোধ ও ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতনের জবাবেই তাদের এই অভিযান।

    প্রথম ঘণ্টাগুলোতেই ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড ভেঙে পড়ে, ফলে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। হামাসের হামলায় অন্তত ১,১৮০ জন নিহত হয়, যাদের প্রায় অর্ধেকই বেসামরিক নাগরিক। পরবর্তী সংঘাতে আরও সাত শতাধিক ইসরাইলি নিহত হয়।

    জবাবে ইসরাইল গাজায় ভয়াবহ বিমান ও স্থল অভিযান চালায়, যা টানা দুই বছর ধরে চলে। অবরুদ্ধ জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে যায় গাজার প্রায় প্রতিটি স্থাপনা—বাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল, মসজিদ ও গির্জা।ফাঁস হওয়া ইসরাইলি সেনা তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই সাধারণ নাগরিক।এই সময় গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন রাষ্ট্র ইসরাইলের এ কর্মকাণ্ডকে ‘ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।