Category: আন্তর্জাতিক

  • অবশেষে ডোনাল্ড লু’র স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পল কাপুর

    অবশেষে ডোনাল্ড লু’র স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পল কাপুর

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   অবশেষে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পল কাপুরকে অনুমোদন দিল মার্কিন সিনেট। এর ফলে ডোনাল্ড লু’র স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতি সামলাতে তাকেই এ অঞ্চলের নতুন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দিল যুক্তরাষ্ট্র।

    মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কূটনৈতিক পদে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ভারতীয় বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন তিনি। এর আগে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান নিশা বিসওয়াল দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।

    পল কাপুর ভারত ও পাকিস্তান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্কুলে শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলেন। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির হুভার ইনস্টিটিউটে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবেও কাজ করেছেন।ট্রাম্পের প্রথম দফায় তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পলিসি প্ল্যানিং বিভাগে যুক্ত ছিলেন।

    ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে তিনি বেশ কিছু বইও লিখেছেন। তার লেখা বইগুলোর মধ্যে রয়েছে– ‘জিহাদ অ্যাজ গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি: ইসলামিস্ট মিলিট্যান্সি, ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড দ্য পাকিস্তানি স্টেট’, ‘ডেঞ্জারাস ডিটারেন্ট: নিউক্লিয়ার উইপনস প্রলিফারেশন অ্যান্ড কনফ্লিক্ট ইন সাউথ এশিয়া’।

    এছাড়া, সহ-লেখক হিসেবে লিখেছেন ‘ইন্ডিয়া, পাকিস্তান অ্যান্ড দ্য বোম্ব: ডিবেটিং নিউক্লিয়ার স্ট্যাবিলিটি ইন সাউথ এশিয়া’।

  • শহিদুল আলমকে অপহরণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী

    শহিদুল আলমকে অপহরণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাত্রা করা ফ্রিডম ফ্লোটিলা নামের আন্তর্জাতিক নৌবহরটি আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও লেখক শহিদুল আলম এই নৌবহরের একটি জাহাজে ছিলেন। আটক হওয়ার পর তিনি একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাঁকে “অপহরণ” করেছে এবং গাজায় প্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    বুধবার (৮ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানায়, গাজামুখী ফ্রিডম ফ্লোটিলার জাহাজ ও যাত্রীদের আটক করে ইসরায়েলি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, “আইনি নৌ অবরোধ ভেঙে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের আরেকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। সব যাত্রী নিরাপদ আছেন এবং তাঁদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।”

    অন্যদিকে, ফ্রিডম ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের জাহাজগুলো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছে এবং গাজা উপত্যকার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় একাধিক জাহাজ আটক করা হয়েছে।

    এই অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। তিনি ‘কনসেন্স’ নামের একটি জাহাজে ছিলেন, যা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের অংশ। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন,

    “আমি শহিদুল আলম, বাংলাদেশের একজন আলোকচিত্রী ও লেখক। আপনি যদি এই ভিডিওটি দেখে থাকেন, তাহলে এতক্ষণে আমাদের সমুদ্রে আটক করা হয়েছে। আমাকে ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী অপহরণ করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সহায়তায় গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। আমি আমার সকল বন্ধুদের ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

    শহিদুল আলমের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, তাঁদের বহর বুধবার ভোর নাগাদ ‘রেড জোন’—অর্থাৎ বিপজ্জনক অঞ্চলের কাছাকাছি পৌঁছায়, যেখানে সম্প্রতি আরেকটি নৌবহর ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’কে আটক করেছিল ইসরায়েল। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আমরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছি, কারণ ধীরগতির জাহাজগুলোকে পেছনে না ফেলতে আমরা অপেক্ষা করেছি। এখন আমরা রেড জোন থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে।”

    এর আগে, ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের আরেকটি নৌবহরের ৪০টিরও বেশি জাহাজ ও যাত্রীকে আটক করেছিল ইসরায়েল। তাদের মধ্যে ৪৭৯ জনেরও বেশি সদস্যকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    ফ্রিডম ফ্লোটিলা মূলত আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও চিকিৎসাকর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ। এর লক্ষ্য ছিল গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

    ইসরায়েলি বাহিনীর এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তারা বলছে, গাজায় প্রবেশের যে কোনো মানবিক উদ্যোগ ইসরায়েল “নিরাপত্তা”র অজুহাতে বন্ধ করে দিচ্ছে।

    দুই বছর ধরে চলমান যুদ্ধে গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। এই সময়ে দেশটির হামলায় এখন পর্যন্ত ২৭০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং অনেকেই বন্দী রয়েছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রিডম ফ্লোটিলার ওপর ইসরায়েলের এই হামলা কেবল মানবিক সাহায্যকে বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও সরাসরি আঘাত।

  • সড়কে আছড়ে পড়ল হেলিকপ্টার

    সড়কে আছড়ে পড়ল হেলিকপ্টার

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কের ওপর একটি মেডিকেল হেলিকপ্টার আছড়ে পড়েছে। এতে হেলিকপ্টারে থাকা সবাই গুরুতর আহত হয়েছেন।

    রোববার (৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্যাক্রামেন্টো শহরের হাইওয়ে ৫০-এর অন্তর্গত ৫৯ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্যাক্রামেন্টো ফায়ার সার্ভিসের ক্যাপ্টেন জাস্টিন সিলভিয়া জানান, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি মার্কিন মেডিকেল পরিবহণ কোম্পানি রিচের মালিকানাধীন। দুর্ঘটনার সময় এতে ছিলেন পাইলট, এক ফ্লাইট নার্স এবং এক প্যারামেডিক; তবে কোনো রোগী ছিলেন না।

    ক্যাপ্টেন সিলভিয়া বলেন, দুর্ঘটনায় তিনজনই গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে হেলিকপ্টারটি সড়কে পড়লেও কোনো গাড়ি বা পথচারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। তারা আহতদের মধ্যে দুজনকে হেলিকপ্টার থেকে বের করে আনেন। পরে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তৃতীয় জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। তিনজনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

    দুর্ঘটনার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় তদন্তে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। এক বিবৃতিতে রিচ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তে এফএএ ও এনটিএসবির সঙ্গে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করছে।

  • ট্রাম্পের জন্মদিনে হোয়াইট হাউসে হবে ইউএফসি লড়াই

    ট্রাম্পের জন্মদিনে হোয়াইট হাউসে হবে ইউএফসি লড়াই

     আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সফল মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) সংগঠন আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি)। ২০২৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হবে ইউএফসি লড়াই। হোয়াইট হাউসে এমন লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম হতে যাচ্ছে।

    রোববার ভার্জিনিয়ার নরফোক নৌঘাটিতে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প এ তথ্য জানিয়েছে। নৌবাহিনির সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আগামী ১৪ জুন আমরা হোয়াইট হাউসের মাঠে একটি বড় ইউএফসি লড়াই আয়োজন করব।

    এর আগে আগস্টে ইউএফসি প্রধান ডানা হোয়াইট জানিয়েছিলেন, আগামী বছর ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে হোয়াইট হাউসে এ লড়াইয়ের আয়োজন করা হবে। তবে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী বছর ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিনে এ লড়াই অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছরের শুরু থেকেই ‘হোয়াইট হাউস কার্ড’ তৈরি শুরু করব। এটি ইউএফসি এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ফাইট কার্ড হবে।

    জনপ্রিয় মিক্সড মার্শাল আর্টস ইউএফসি লড়াই হয় আট কোণা রিং ‘অক্টাগন’-এ। এ খেলাটির সহিংস প্রকৃতি ও আঘাতের ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এটি তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।

  • পাহাড় ধস ও বৃষ্টিতে সিকিম ও দার্জিলিং বিপর্যস্ত

    পাহাড় ধস ও বৃষ্টিতে সিকিম ও দার্জিলিং বিপর্যস্ত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় টানা ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও ধসের কারণে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ হয়ে সিকিম রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, দুর্গাপূজার ছুটিতে কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক দার্জিলিং ভ্রমণে গিয়েছিলেন, অনেকে এখন এলাকায় আটকে পড়েছেন।

    দার্জিলিংয়ের মিরিক ও সুখিয়াপোখরির মতো পাহাড়ি এলাকায় একাধিক স্থানে ধস নেমে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে, তবে টানা বৃষ্টির কারণে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ ও ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ) দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করছে।

    পাহাড় ধসে দার্জিলিং-সিলিগুড়ি মহাসড়ক এবং সিকিমের সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান রাস্তাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষভাবে মিরিক ও দুধিয়া অঞ্চলের মধ্যে লোহার সেতু ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ত্রিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং আরেকটি সেতুর ক্ষয়ক্ষতির কারণে সিকিম ও কালিম্পং জেলার প্রবেশও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষের প্রাণহানি, সম্পত্তি ও অবকাঠামোগত ক্ষতি ঘটেছে। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন আটকে পড়া পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য জরুরি সহায়তা হটলাইন চালু করেছে।

    গোরখাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) দার্জিলিংয়ের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র যেমন টাইগার হিল, রক গার্ডেনসহ সব পর্যটন স্থান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিখ্যাত ‘টয় ট্রেন’ সেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, সিলিগুড়ি ও কোচবিহারেও ভারি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর পূর্বেই উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছিল। সিকিমে দুই দফা রেড ওয়ার্নিং জারি করা হয়েছে। বজ্রপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা জানানো হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টি চলতে পারে।

    পরিবেশগত কারণে হঠাৎ বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর ভিডিওতে দেখা গেছে, সেতু ভেঙে গেছে, রাস্তা ভেসে গেছে এবং নদীগুলোতে পানি বেড়েছে। প্রতিবেশী দেশ নেপালেও একই আবহাওয়াজনিত দুর্যোগে গত ৩৬ ঘণ্টায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ শোক প্রকাশ করে বলেছেন, “দার্জিলিংয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেন্দ্র সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।” রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দার্জিলিং সফরে যাচ্ছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মিরিক, সার্সালি ও মিরিক বাস্টি এলাকার ধসে অন্তত সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, দুজন এখনও নিখোঁজ। ত্রিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি ও ধসের কারণে প্রধান সড়কগুলো এখনও বন্ধ রয়েছে।

  • ফিলিস্তিন এই সময়ের কষ্টিপাথর

    ফিলিস্তিন এই সময়ের কষ্টিপাথর

     আন্তর্জাতিক ডেস্ক:     গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সদস্য এরসিন সেলিক জানিয়েছেন, ইসরাইলি প্রশাসন গ্রেটা থুনবার্গের চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ইসরাইলি পতাকায় চুম্বন করতে বাধ্য করেছে। তাকে মারধর করা হয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার এবং জল দেওয়া হয়নি৷ নাৎসিদের মতো আচরণ করেছে জায়নবাদীরা৷ বিধ্বস্ত গ্রেটাকে টানতে টানতে জনসমক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ যেহেতু আটক ব্যক্তিদের মধ্যে গ্রেটা সবচেয়ে পরিচিত মুখ, তাই তাকে টার্গেট করে হেনস্তা করেছে ইসরাইল।

    গ্রেটা এবং তার সঙ্গীদের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তার সহস্রগুণ বেশি অত্যাচার প্রতিদিন, প্রতিবেলায় সহ্য করতে হয় ফিলিস্তিনিদের৷ বছরের পর বছর। মাসের পর মাস৷ দশকের পর দশক। ইসরাইল এমনই এক রাষ্ট্র।

    বছর দুয়েক আগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারার ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা এবং অফিস ম্যানেজার জিপি নাভোন ইসরাইলের সেনাবাহিনীর কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন, অবরুদ্ধ গাজার বাসিন্দাদের হত্যা না করে বাঁচিয়ে রেখে বাড়ি বাড়ি ঢুকে অত্যাচার করা হোক। আটক ফিলিস্তিনিদের জিভ যেন না কেটে ফেলা হয়। কারণ ইসরাইলিরা তাদের আর্তনাদ উপভোগ করতে চান। আটক আরবদের কান এবং চোখ যেন আস্ত রাখা হোক, যাতে তারা দেখতে এবং শুনতে পান তাদের নির্যাতিত হতে দেখে ইসরাইলিদের উল্লাস।

    গ্রেটার হেনস্তার কথা বলা জরুরি, কারণ ইসরাইল একজন আর্ন্তজাতিক সেলিব্রিটিকেও রেয়াত করে না। যারা দিনের পর দিন খাদ্যের সারিতে প্রতীক্ষারত নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে খুন করে, হাসপাতালে বোমা ফেলে, চিকিৎসকদের নির্যাতন করে হত্যা করে, হাজারে হাজারে শিশুকে গুলিতে, বোমায় এবং অনাহারে হত্যা করে, যারা জেলখানায় বন্দি ফিলিস্তিনিদের উপর কুকুর লেলিয়ে দেয়, তারা যে গ্রেটা থুনবার্গকেও হেনস্তা করবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

    ইসরাইলের এমন বিকৃত উল্লাস ২০২৩ সালে শুরু হয়নি। বছরের পর বছর এমন বিকৃত উল্লাসের দৃশ্য গোটা পৃথিবী দেখেছে। ২০১৪ সালে ফিলিস্তিনের নিরস্ত্র জনতার ওপর যখন বোমা পড়ছে, রকেট বৃষ্টি হচ্ছে, ঝলসে যাচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুর দল, সেই অপরূপ মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য তখন উঁচু পার্বত্য এলাকায় ইসরাইলিদের ভিড়। সোফায় বসে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার এবং পানীয় নিয়ে তারা ‘উপভোগ’ করছেন মারণ উৎসব। আন্তর্জাতিক মিডিয়া তখনই এই বীভৎসতার খবর করেছে। আমরা অনেকে হয়তো দেখিনি। আমাদের চোখ খুলতে এক লাখ মানুষকে মরে যেতে হয়।

    অনেকে বলার চেষ্টা করেন এই তথাকথিত ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর। হামাসের আক্রমণের মাধ্যমে। মিথ্যে কথা৷ এই সংঘাত শুরু হয়েছে ১৯৪৮ সালে। ফিলিস্তিনিদের নিজভূমে পরবাসী করে, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ‘৪৮ সালের সেই প্রথম ‘নকবা’ থেকেই শুরু হয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সংগ্রাম। সেই লড়াই চলছে। আগামীতেও চলবে। একজন ফিলিস্তিনি বেঁচে থাকা পর্যন্ত এই স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষ হবে না।

    এই মুক্তিযুদ্ধে কখনও ছায়া দিয়েছে আরাফতের পিএলও বা ফাতাহ্, কখনও হামাস। কোথাও কমিউনিস্ট পিএফএলপি। কোথাও মাওবাদীদের ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। কোথাও পিপিপি বা অন্য কেউ। জেনিন, নাবলুস, গাজায় অসংখ্য তরুণ কোনো মতাদর্শের তোয়াক্কা না করেই স্বাধীনতার যুদ্ধ লড়তে হাতে তুলে নিয়েছেন বন্দুক বা পাথর। দশকের পর দশক ফিলিস্তিনকে রক্তের বন্যায় ডুবিয়ে দিয়েও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট ইসরাইল এখনও সেই যুদ্ধে জিততে পারেনি।

    বছরের পর বছর ঝাঁকে ঝাঁকে ফিলিস্তিনকে খুন করেছে ইসরাইল। খুব আগের কথা যদি বাদও দিই, কেবল ২০১৮ সালে ২৯৯ জন খুন হয়েছেন। ২০১৯ সালে ১৩৩ জন। ২০২১ সালে ৩১৩ জন। ২০২২ সালে ২০৪ জন। শয়ে শয়ে খুন। বছরের পর বছর। মৃতদের মধ্যে অসংখ্য শিশু। কাজেই ফিলিস্তিনিরা নয়, যুদ্ধের নামে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করেছে ইসরাইল। ক্ষুদিরাম বসু বা ভগৎ সিং যেমন ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেননি। তাদের ওপর সাম্রাজ্যবাদী নিপীড়ন চাপিয়ে দিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। তারা প্রতিরোধ করেছিলেন। মার খেতে খেতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ভারতবাসীর হয়ে প্রতিরোধ করেছিলেন। অসম যুদ্ধে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও লড়ে গিয়েছিলেন। ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামীরাও তাই করছেন।

    এই অসম যুদ্ধ শুধু ফিলিস্তিনের নয়। গোটা বিশ্বের আপামর মুক্তিকামী জনতার। ফিলিস্তিনই আজকের ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামে যখন বৃষ্টির মতো নাপাম বোমা পড়ছিল, তখন লন্ডন, প্যারিস, নিউইয়র্ক, বার্লিন, কলকাতা ভেসে গিয়েছিল যুদ্ধবিরোধী জনস্রোতে। বহু দশক পরে আজ সেই একই দৃশ্য দেখছে পৃথিবী। ইতালির শ্রমিকরা ধর্মঘটে গোটা দেশ স্তব্ধ করে সংহতি জানাচ্ছেন ‘উন্মুক্ত কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে’ পরিণত হওয়া গাজাকে। এথেন্সের শ্রমিক ও ছাত্ররা বন্দর অবরোধ করে বলছেন, ইসরাইলে যুদ্ধাস্ত্র পাঠানো যাবে না। লাতিন আমেরিকার দেশে দেশে জনজোয়ার। বার্লিনে পুলিশের বীভৎস নির্যাতনের মুখে লক্ষ লক্ষ মানুষ পথে নামছেন৷ ফ্রান্সে ব্যারিকেড ফাইট হচ্ছে। জনস্রোতে ভেসে যাচ্ছে ব্রাসেলস থেকে ব্রাজিল, কিউবা থেকে কলম্বিয়া, মেক্সিকো থেকে মিলান।

    ফিলিস্তিনের লড়াই কেবল মুসলমানের নয়। এই লড়াই মজলুম জনতার। পৃথিবীর সব নিপীড়িত মানুষের। মুসলিম, খ্রিস্টান, হিন্দু, ইহুদি, বৌদ্ধ- সকলের। ফিলিস্তিনি গেরিলাদের পপুলার ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ হাবাস নিজে ছিলেন একজন খ্রিস্টান৷ জেরুজালেমের যে আস্তাবলে যিশুর জন্ম হয়েছিল বলে মনে করা হয়, সেখানে এখন একটি চার্চ আছে। সেই চার্চের ভিতরে একটি সুড়ঙ্গ। প্রতি বছর বড়দিনে সেই সুড়ঙ্গের মুখে একটি তারা আলো দিয়ে সাজানো হয়। মনে করা হয়, এই সুড়ঙ্গের পাশেই ছিল সেই প্রাচীন আস্তাবল, দুই হাজার বছর আগে যেখানে মা মেরির কোল আলো করে জন্মেছিলেন যিশু। গত দুই বছর বড়দিনে ওই চার্চে কোনো আলো জ্বলেনি। পাদ্রীরা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের শরিক তারাও, তাই গণহত্যার প্রতিবাদে আলো জ্বলবে না চার্চে। এই লড়াই ইহুদিদেরও। লন্ডনে আমি মিছিলে হাঁটি জায়নবাদ বিরোধী ইহুদিদের সঙ্গে। মিছিলে হাঁটি হিটলারের হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা, কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে জীবন কাটানো ইহুদি বাপমায়ের সন্তানদের সঙ্গে। তাদের হাতে থাকে প্যালেস্টাইনের পতাকা। গোটা পৃথিবীতে জায়নবাদবিরোধী ইহুদিরা পথে নামছেন ফিলিস্তিনের পক্ষে, গণহত্যার বিরুদ্ধে। তারা এই সংগ্রামের শরিক।

    ফিলিস্তিন এই সময়ের কষ্টিপাথর। গোটা পৃথিবী আড়াআড়ি দুই ভাগ হয়ে গিয়েছে। হয় গণহত্যার বিরুদ্ধে, অথবা পক্ষে। মাঝামাঝি কিছু নেই৷ এই কষ্টিপাথর মানুষ চেনার আমোঘ হাতিয়ার। আমি যে মতাদর্শের কথাই বলি না কেন, আমার হাতে যে রঙের নিশানই থাকুক, আমি কি ফিলিস্তিনের পক্ষে? আমি কি গণহত্যার বিরুদ্ধে? এই চেয়ে জরুরি রাজনৈতিক প্রশ্ন আর কিছু নেই।