Category: আন্তর্জাতিক

  • ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে গাজায় নিহত অন্তত ৭০, ট্রাম্পের আহ্বানও উপেক্ষিত

    ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে গাজায় নিহত অন্তত ৭০, ট্রাম্পের আহ্বানও উপেক্ষিত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় শনিবার (৪ অক্টোবর) সারাদিনব্যাপী ভয়াবহ বোমাবর্ষণ চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বান ও প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় হামাসের আংশিক সম্মতির পরও ইসরায়েল হামলা বন্ধ করেনি। আল জাজিরা জানিয়েছে, এদিনের হামলায় অন্তত ৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

    গাজার চিকিৎসা সূত্রগুলো আল-জাজিরাকে জানায়, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪৫ জন দুর্ভিক্ষকবলিত গাজা সিটির বাসিন্দা। ইসরায়েলি বিমান ও স্থল গোলাবর্ষণে শহরটির তুফাহ এলাকায় একটি বেসামরিক বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। সেই হামলায় ১৮ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। আশপাশের ভবনগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    গাজার সিভিল ডিফেন্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই বাড়িতে নিহতদের মধ্যে সাত শিশু ছিল। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স মাত্র দুই মাস, আর সবচেয়ে বড়টির আট বছর।

    এছাড়া, দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-মাওয়াসি এলাকায়—যা ইসরায়েল নিজেই ‘নিরাপদ মানবিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল—সেই বাস্তুচ্যুতদের শিবিরেও হামলা চালায় দখলদার বাহিনী। এতে দুই শিশু নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হন। যদিও ইসরায়েলি সেনারা দীর্ঘদিন ধরেই গাজার অন্যান্য অঞ্চল থেকে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে এই এলাকাতে আশ্রয় নিতে বলেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওই অঞ্চলই পরিণত হয়েছে বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে।

    মধ্য গাজার আল-নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরসহ একাধিক স্থানে এদিন আরও বিমান হামলা চালানো হয়। আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খোদারি জানিয়েছেন, গাজার হাতে গোনা কয়েকটি হাসপাতাল কোনোভাবে চালু থাকলেও তারা আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

    দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, এবং তীব্র খাদ্য ও ওষুধ সংকটে গোটা অঞ্চল দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।

  • হামাস শান্তিতে রাজি, ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের

    হামাস শান্তিতে রাজি, ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, হামাস যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী জিম্মিদের মুক্তি ও আরও কিছু শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়েছে। তবে নিরস্ত্রীকরণসহ জটিল ইস্যুগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, হামাসের প্রতিক্রিয়ার পর তারা ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার প্রথম ধাপ – অর্থাৎ জিম্মি বিনিময় – “তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের”প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপরই ইসরায়েলি গণমাধ্যমে জানানো হয়, সামরিক বাহিনীকে আক্রমণাত্মক কার্যক্রম কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার বার্তা সংস্থা রয়াটার্স এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে।

    বোমাবর্ষণ চলছেই

    ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই গাজা সিটির তালাতিনি স্ট্রিটে ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণ ও আকাশপথে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। রিমাল এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। খান ইউনুসেও হামলার ঘটনা ঘটে। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    হামাস এর আগে ট্রাম্পের দেওয়া ২০ দফা পরিকল্পনায় সাড়া দিয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি, জিম্মি-বন্দি বিনিময়, ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন আন্তর্জাতিক প্রশাসন গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

    ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করতে হবে, যাতে জিম্মিদের দ্রুত ও নিরাপদে মুক্ত করা যায়। এটি শুধু গাজার বিষয় নয়, এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বহুদিনের প্রতীক্ষিত শান্তির সূচনা।”

    নেতানিয়াহুর চাপের মুখে অবস্থান

    দেশের ভেতরে নেতানিয়াহু ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন। জিম্মিদের পরিবার ও যুদ্ধক্লান্ত জনসাধারণ দ্রুত যুদ্ধের ইতি টানার আহ্বান জানালেও তার জোটের কট্টর-ডানপন্থীরা গাজায় অভিযান চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস-নেতৃত্বাধীন আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলে ১,২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে গাজায় জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। ইসরায়েলের হিসাবে এখনো ৪৮ জন জিম্মি রয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত।

    গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসেবে, ইসরায়েলের দীর্ঘ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক সংকট ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

    জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন এবং একাধিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যেই গাজায় ইসরায়েলের কার্যক্রমকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে নেতানিয়াহুর সরকার দাবি করছে, তারা আত্মরক্ষার অধিকারেই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    হামাসের শর্ত

    হামাস তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, তারা জিম্মিদের মুক্তি দিতে এবং গাজায় আন্তর্জাতিক সাহায্য ঢ়ুকতে দিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি একটি ‘প্রযুক্তিবিদ ও স্বাধীন ব্যক্তিদের’ সমন্বয়ে গঠিত ফিলিস্তিনি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের হাতে গাজার দায়িত্ব হস্তান্তরেও তারা রাজি। তবে ইসরায়েলের ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার এবং নিরস্ত্রীকরণের শর্ত নিয়ে এখনও মতানৈক্য রয়ে গেছে।

    এদিকে কাতার জানিয়েছে, তারা মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • সুমুদ ফ্লোটিলায় আটক অ্যাক্টিভিস্টদের নেওয়া হচ্ছে ইসরাইলে

    সুমুদ ফ্লোটিলায় আটক অ্যাক্টিভিস্টদের নেওয়া হচ্ছে ইসরাইলে

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:     গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।  এ সময় নৌযানগুলোতে থাকা সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ অন্যান্য অ্যাক্টিভিস্টদের আটক করা হয়। তাদের ইসরাইলের একটি বন্দরে নিয়ে যাচ্ছে দখলদার বাহিনী।

    এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে,  ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গাজাগামী সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আটক অধিকারকর্মীদের ছবি প্রকাশ করেছে।  তাদেরকে ইসরাইলের আসদোদ বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা আরও প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছাবে— অর্থাৎ ইসরাইলের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে।

    ইসরাইলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের ইউরোপে পাঠাতে ‘ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া’ শুরু করা হবে।তবে ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রক্রিয়াতে অনেক সময় লাগবে, সম্ভবত পুরো দিনই লেগে যেতে পারে ।এদিকে, প্রথম দফার কর্মীরা পৌঁছানো শুরু করলেও ইসরাইলি নৌবাহিনী এখনো ফ্লোটিলার বাকি নৌযানগুলো আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    বর্তমানে এসব নৌযানের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। কারণ, তারা যতই ইসরাইলি জাহাজের কাছাকাছি যাচ্ছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা ততই বাড়ছে। কখনো কখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়ে যায়, আবার কখনো কর্মীরা নিজেরাই মোবাইল ফোন ফেলে দেন, যাতে আটক বা হয়রানি এড়ানো যায়।

    এরইমধ্যে ফিলিস্তিনের গাজার জলসীমায় ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র একটি জাহাজ প্রবেশ করেছে। এছাড়া অন্তত ২৩টি ত্রাণবাহী নৌযান গাজার উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, ‘মিকেনো’ নামের একটি জাহাজ ইতোমধ্যে গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে। তবে সেটি ইসরাইলি বাহিনী আটক করেছে কিনা- তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা। এই নৌবহরে রয়েছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান। এই বহরে প্রায় ৪৪টি দেশের ৫০০ মানুষের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রথম বহর গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়া ও ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে আরও নৌযান এই বহরে যুক্ত হয়। এছাড়া গ্রিসের সাইরাস দ্বীপ থেকে পরবর্তী সময়ে আরও কিছু নৌযান ত্রাণ নিয়ে বহরে যুক্ত হয়। বর্তমানে বহরটিতে ৪০টি বেশি নৌযান রয়েছে।

    এই নৌবহরের ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছে ইসরাইল। যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি তারা। যাত্রাপথে কোনো বাধা না পেলে নৌবহরটির স্থানীয় সময় আজ (বৃহস্পতিবার) সকালেই গাজায় পৌঁছানোর কথা ছিল।

  • মার্কিনদের ইসরাইলবিরোধী মনোভাব সর্বকালের সর্বোচ্চ

    মার্কিনদের ইসরাইলবিরোধী মনোভাব সর্বকালের সর্বোচ্চ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:      গাজায় ইসরাইলের নির্বিচার হামলার প্রায় দুই বছর পর ইহুদি রাষ্ট্রটির প্রতি মার্কিনদের সমর্থনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক ভোটার এই সংঘাত মোকাবিলায় ইসরাইলি সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র নেতিবাচক মতামত প্রকাশ করেছেন।মঙ্গলবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

    দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ মার্কিনি এখন ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি অর্থ ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধী। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার পর এমন জনমত প্রকাশ্যে এলো।এতে আরও বলা হয়, প্রায় দুই বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধে ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার বিরোধিতা করছেন মার্কিন ভোটাররা। তারা সংঘাত দূর করতে ইসরাইলি সরকারের ভূমিকার প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।

    মার্কিন জনমনে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব তুঙ্গে। মধ্যপ্রাচ্যের বহু পুরোনো এই সংঘাতে মার্কিনিদের সহানুভূতি এখন ইসরাইলিদের তুলনায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি। ১৯৯৮ সালে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ বিষয়ে জরিপ শুরুর পর এই প্রথম মার্কিনিদের মনে এমন বিপরীত ভাবনা দেখা গেল।প্রতিবেদন অনুসারে—৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর মার্কিন ভোটারদের ৪৭ শতাংশ ইসরাইলের প্রতি সমর্থন দিয়েছিলেন। সেসময় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ছিল ২০ শতাংশ।নতুন জরিপে দেখা গেছে—৩৪ শতাংশ মার্কিনি ইসরাইলের প্রতি সমর্থন জানালেও ৩৫ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন ফিলিস্তিনিদের প্রতি। এ ছাড়াও, এই জরিপে ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা কারও প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেননি।

    গত ২২ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় পরিচালিত জরিপে ১ হাজার ৩১৩ জন অংশ নিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।অধিকাংশ মার্কিন ভোটার ইসরাইলে অতিরিক্ত আর্থিক ও সামরিক সহায়তা পাঠানোর বিরোধী। প্রতি ১০ ভোটারের ছয়জন বলছেন—ইসরাইলের উচিত যুদ্ধ বন্ধ করা। এমনকি, সব জিম্মি মুক্তি না পেলেও অথবা হামাসকে নির্মূল করা না গেলেও।প্রায় ৪০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করছেন, ইসরাইল ইচ্ছা করেই গাজায় বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা করছে। ২০২৩ সালের তুলনায় এই মনোভাবের মানুষের সংখ্যা এখন দ্বিগুণ।প্রধান মিত্র ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল পূর্ণ সমর্থন দিলেও ইসরাইলের প্রতি মার্কিন জনগণের এমন মনোভাব হয়ত অনেককেই বিস্মিত করছে।

  • ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট স্থগিতের মামলায় ২৪.৫ মিলিয়ন ডলার দেবে ইউটিউব

    ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট স্থগিতের মামলায় ২৪.৫ মিলিয়ন ডলার দেবে ইউটিউব

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়ের করা একটি মামলা সমাধানে ইউটিউব ২৪.৫ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করে দেওয়ায় ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

    সমাধানের অংশ হিসেবে, গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন ইউটিউব ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ২২ মিলিয়ন ডলার ন্যাশনাল মল ট্রাস্ট-কে দান করবে। এটি একটি অলাভজনক সংস্থা, যা হোয়াইট হাউসে একটি বলরুম নির্মাণের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প তত্ত্বাবধান করছে। সোমবার একটি আদালতের নথিতে এটি দেখানো হয়েছে।

    মামলার বাকী ২.৫ মিলিয়ন ডলার অন্যান্য বাদীদের মধ্যে যাবে, যার মধ্যে রয়েছে আমেরিকান কনজারভেটিভ ইউনিয়ন এবং আমেরিকান লেখিকা নাওমি উলফ, উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএস জেলা আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী।

    এছাড়াও, আদালতের নথি অনুযায়ী, ইউটিউব কোনো অপরাধ স্বীকার করেনি। এই সমঝোতা শুধু বিতর্কিত দাবি সমাধান এবং আরও বিচারব্যয়ের ঝুঁকি এড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।এই অর্থ প্রদান ইউটিউবের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশ অল্পই। কারণ শুধু ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের বিজ্ঞাপন আয় প্রায় ৯.৮ বিলিয়ন ডলার ছিল।

    এই বছরের শুরুতে মেটা প্ল্যাটফর্ম এবং এক্স একই ধরনের বহু-মিলিয়ন ডলারের সমঝোতার পরে এই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন ৬ জানুয়ারি হামলার পরে তাকে অন্যায়ভাবে বিভিন্ন জায়গা থেকে সেন্সরড করা হয়েছে। ২০২০ সালে নির্বাচনে ট্রাম্প ‘জালিয়াতির’ অভিযোগ করলে তার সমর্থকরা সেদিন এ হামলা চালায়।

    তিন মামলার মামলাকারী এবং ট্রাম্পের সহযোগী জন পি. কোয়েল এ বিষয়ে বলেন, তিনি এই সমাধান নিয়ে সন্তুষ্ট, এবং তিনি উল্লেখ করেন যে প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য বাদীরাও সন্তুষ্ট।২০২০ সালের নির্বাচনের বিষয়ে ট্রাম্পের মিথ্যা দাবির কারণে সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কায় তাকে প্ল্যাটফর্ম থেকে বাদ দেওয়ার পর, বিগ টেক কোম্পানিগুলো তার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর তার প্রশাসনের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।

    এই মাসের শুরুর দিকে, গুগলের সুন্দর পিচাই, মেটার মার্ক জুকারবার্গ এবং অ্যাপলের টিম কুকসহ টেক সিইওরা হোয়াইট হাউসের একটি ডিনার ইভেন্টে ট্রাম্পের প্রশংসা করেন এবং তার প্রশাসনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগগুলোর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।অন্যান্য মিডিয়া কোম্পানিরাও ট্রাম্পের আইনি দাবির সমাধানে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছে।

    গত জুলাইয়ে প্যারামাউন্ট গ্লোবাল জানিয়েছে, তারাও সমঝোতা করতে ১৬ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, সিবিএস নিউজের ৬০ মিনিটস প্রোগ্রাম সাক্ষাৎকারটি প্রতারণামূলকভাবে সম্পাদন করেছে। সেই সাক্ষাৎকারটি তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে ছিল।

    গত ডিসেম্বরে এবিসি নিউজ ট্রাম্পকে ১৫ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছিল। সেসময় এবিসি নিউজের অ্যাঙ্কর জর্জ স্টেফানোপোলোসের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের পোস্টডক্টরাল গবেষক টিমোথি কোস্কি বলেছেন, ইউটিউবের এই সমঝোতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে ধারাবাহিকতার আশাকে আঘাত করেছে।কোস্কি আল জাজিরাকে বলেন, নিয়মভিত্তিক শাসন ব্যবস্থার অবনতি হওয়ায়, এই প্রশাসনের অনুকূলে থাকা যে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মমাফিক এবং ধারাবাহিক আচরণের আশা করা যায় না।

    তিনি আরও বলেন, এতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত বিশাল সংখ্যক কোম্পানিও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। সেন্সরশিপ সরানোর বদলে, এটি তা বিশেষভাবে এদের ওপর শক্তি প্রয়োগ করার একটি পথ বাতলে দিয়েছে।তিনি আরও বলেন, উপরন্তু, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বজুড়ে অনেক সরকারের জন্য নজির স্থাপন করেছে।

  • হোয়াইট হাউসে বসছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু

    হোয়াইট হাউসে বসছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:      মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসছেন। চলতি বছরে এটি তাদের চতুর্থ বৈঠক। প্রায় দুই বছর ধরে ইসরাইলের গণহত্যামূলক অভিযানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবেই এই বৈঠক হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল সম্পর্ক নতুন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।

    রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ বড় অক্ষরে লেখা এক পোস্টে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দেন, মধ্যপ্রাচ্যে আসছে ‘মহান পরিবর্তন’। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বারবার বলেছেন, এই যুদ্ধের এখনই অবসান হওয়া উচিত।অন্যদিকে নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা এই পরিকল্পনাকে কার্যকর করার চেষ্টা করছে।গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে আরব ও মুসলিম নেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হয় এই ২১ দফা ‘ডে-আফটার’ যুদ্ধ পরিকল্পনা।

    বিভিন্ন ইসরাইলি ও পশ্চিমা গণমাধ্যমের তথ্যমতে, পরিকল্পনায় বলা হয়েছে—

    • হামাসকে দুই দিনের মধ্যে অবশিষ্ট ৪৮ জন বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে (যার মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে)।
    • লড়াই ত্যাগ করলে বা আত্মসমর্পণ করলে হামাস যোদ্ধাদের গাজা ছাড়ার সুযোগ বা সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হতে পারে।
    • দুর্ভিক্ষে ভুগতে থাকা গাজায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
    • ইসরাইলি কারাগার থেকে কিছু ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে।
    • ধীরে ধীরে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনাদের প্রত্যাহার করা হবে।

    তবে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে তারা কোনো নতুন প্রস্তাব পায়নি, যদিও উভয় দেশকে ট্রাম্প পরিকল্পনাটি দেওয়া হয়েছে বলে খবর রয়েছে।

    হামাস আরও জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির নতুন কোনো প্রস্তাব পেলে তারা বিবেচনা করবে। এদিকে সংগঠনটির সামরিক শাখা আল–কাসাম ব্রিগেড জানায়, ইসরাইলি স্থল আক্রমণ ও বিমান হামলা তীব্র হওয়ায় গাজা শহরে দুই ইসরাইলি বন্দিকে ধরে রাখা দলগুলোর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই ডজনখানেক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হচ্ছে এবং গাজার ধ্বংসযজ্ঞ আরও বাড়ছে।