Category: আন্তর্জাতিক

  • মোসাদের সঙ্গে যুক্ত ৮ গুপ্তচরকে আটক করেছে ইরান

    মোসাদের সঙ্গে যুক্ত ৮ গুপ্তচরকে আটক করেছে ইরান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) শনিবার (৩০ আগস্ট) জানিয়েছে, ইসরায়েলের মোসাদ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজগে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তথ্য ইসরায়েলের মোসাদ গুপ্তচর সংস্থার কাছে সরবরাহ করছিলো।

    এছাড়াও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা গত জুন মাসে ইসরায়েলের সাথে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর সময় মোসাদকে তথ্য প্রদান করেছে। বিশেষকরে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর তথ্য এবং শীর্ষ সামরিক কমান্ডার সঠিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইসরায়েলকে দিয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া চলতি মাসের শুরুর দিকে রিপোর্ট করেছে যে, ইরানি পুলিশ ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধে ২১ হাজার ‘সন্দেহভাজন’ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।

    সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট, আল জাজিরা।

  • কিয়েভে রুশ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

    কিয়েভে রুশ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির এ তথ্য জানিয়েছেন।

    কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে জেলেনস্কি বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের নির্মমভাবে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড এটি। রুশরা যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্তে যাচ্ছে না, এর বদলে তারা নতুন করে হামলা চালাচ্ছে।

  • আবারও সিরিয়ায় একাধিক বিমান হামলা ইসরায়েলের

    আবারও সিরিয়ায় একাধিক বিমান হামলা ইসরায়েলের

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আবারও সিরিয়ায় একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার (২৮ আগস্ট) রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কিসওয়া এলাকায় চালানো হয় এ হামলা। এক প্রতিবেদনে খবরটি নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

    একটি প্রাক্তন সেনা ব্যারাকে এ আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে দাবি সিরীয় সেনাবাহিনী ও দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-ইখবারিয়ার। এতে ব্যবহার করা হয় চারটি হেলিকপ্টার।

    আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনেক ইসরায়েলি সেনা সরাসরি ঘটনাস্থলে অবতরণ করে। তাদের সাথে ছিল নানা অনুসন্ধানী সরঞ্জাম। ২ ঘণ্টারও বেশি সময় সেখানে অবস্থান করে তারা। তবে এ হামলার ব্যাপারে এখনো কোনও মন্তব্য করেনি আইডিএফ। এর আগে, গত মঙ্গলবার একই এলাকায় হামলায় প্রাণ হারান ৬ সিরীয় সেনা।

    বুধবার এক বিবৃতিতে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করে।

    উল্লেখ্য, কিসওয়ার কাছে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ছয় সৈন্য নিহত হওয়ার একদিন পর, অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি আহমেদ আল-শারার সরকার ইসরায়েলের অঞ্চলটিতে নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ চেষ্টার অভিযোগ করে। আর এরপরই এই অভিযান পরিচালনা করে ইসরায়েল।

  • নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখলো দক্ষিণ কোরিয়া

    নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখলো দক্ষিণ কোরিয়া

    অনলাইন ডেস্ক: বাড়তি গৃহমূল্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়েছে।

    সিউল থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

    এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দক্ষিণ কোরিয়া চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সেমিকন্ডাক্টরের ব্যাপক চাহিদা রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

    বৃহস্পতিবার ব্যাংক অব কোরিয়া (বিওকে) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পূর্বাভাস অনুযায়ী তাদের নীতিগত সুদহার ২.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে। মুদ্রাস্ফীতি স্থিতিশীল থাকলেও প্রবৃদ্ধির দৃষ্টিভঙ্গি এখনও অনিশ্চিত। তবে দেশীয় চাহিদার  ক্ষেত্রে সামান্য উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সিউলে বাড়ির দামের ঊর্ধ্বগতি বর্তমান নীতি সুদহার বজায় রাখাকে  ‘যুক্তিযুক্ত’ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে তারা সতর্ক করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

    প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। শেষপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিনিয়োগে সম্মত হওয়ার পর তা কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনতে সক্ষম হয় সিউল ।

    বিওকে বলেছে, রপ্তানি শক্তিশালী থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব বিস্তৃত হওয়ায় ধীরে ধীরে তা দুর্বল হয়ে পড়বে।

    চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিওকে ০.৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.৯ শতাংশ করেছে। তবে ব্যাংক বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতি, নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর শুল্ক এবং দেশীয় চাহিদা পুনরুদ্ধারের গতিসহ বেশ কিছু অনিশ্চয়তা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর রি চ্যাং ইয়ং বলেছেন, দুর্বল প্রবৃদ্ধির কারণে আগামী বছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত সুদহার কমানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত ইতিবাচক বৈঠক বিওকের জন্য সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তকে সহজ করে তুলেছে।
    বৈঠকের একই দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করে, যা সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির অংশ।

  • পরিদর্শকরা ‘ইরানে ফিরে গেছেন’ : জাতিসংঘ পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান

    পরিদর্শকরা ‘ইরানে ফিরে গেছেন’ : জাতিসংঘ পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাতিসংঘ পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান বলেছেন, তাদের পরিদর্শকদের একটি দল ‘ইরানে ফিরে গেছেন’, এই বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় ইসরাইলি ও মার্কিন হামলার পর এটিই প্রথম প্রবেশকারী দল। ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

    জুন মাসে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর তেহরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় ইসরাইলি ও মার্কিন হামলার নিন্দা জানাতে অইএইএ-এর ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করে জাতিসংঘর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে।

    মঙ্গলবার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ফক্স নিউজের ‘দ্য স্টোরি’-কে মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ‘এখন আইএইএ-এর পরিদর্শকদের প্রথম দল ইরানে ফিরে গেছে এবং আমরা পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছি।’

    গ্রোসি বলেন, ‘ইরান প্রসঙ্গে আপনারা জানেন, সেখানে অনেক স্থাপনা রয়েছে। যার ক’টিতে আক্রমণ করা হয়েছিল, ক’টিতে আক্রমণ করা হয়নি। তাই, সেখানে আমাদের কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য কী ধরণের ব্যবহারিক পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে আমরা তা নিয়ে আলোচনা করছি।’

    মঙ্গলবার জেনেভায় ইরান ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির সঙ্গে আলোচনা চলাকালে এই ঘোষণা আসে। ২০১৫ সালের মৃতপ্রায় পারমাণবিক চুক্তির অধীনে ইউরোপীয় শক্তিগুলো যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে তেহরান তা এড়াতে চাইছে।

    ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাদি, আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ত্রয়ীর “সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং কূটনীতিকে সময় ও স্থান দেওয়ার’ সময় এসেছে।

    ২০১৫ সালের চুক্তির পক্ষ  ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি  আগস্টের শেষ নাগাদ চুক্তির ‘স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া’ চালু করার হুমকি দিয়েছে।

    জুনের যুদ্ধের সমাপ্তির পর থেকে মঙ্গলবারের বৈঠকটি ছিল ইউরোপীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা, যে যুদ্ধ একটি নজিরবিহীন ইসরাইলি আকস্মিক আক্রমণের ফলে শুরু হয়েছিল।

    ওই সংঘাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক আলোচনা ব্যাহত করে।

    এটি ইরানের সঙ্গে আইএইএ’র সম্পর্কের ওপরও শীতলতা এনে দিয়েছে, তেহরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় হামলার জন্য জাতিসংঘের সংস্থাটিকে আংশিকভাবে দায়ী করেছে।

    ইসরাইল বলেছে, তারা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার জন্য এই হামলা চালিয়েছে। তবে তেহরান বারবার তার বিরুদ্ধে আনা অস্ত্র তৈরির  উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা অস্বীকার করেছে।

    ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি ২০১৮ সালে বাতিল করা হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে একতরফাভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

  • বিশ্বব্যাপী নিরাপদ পানীয় জলের অভাবে রয়েছে প্রতি ৪ জনের ১ জন : জাতিসংঘ

    বিশ্বব্যাপী নিরাপদ পানীয় জলের অভাবে রয়েছে প্রতি ৪ জনের ১ জন : জাতিসংঘ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী এখনও দুই বিলিয়নেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানীয় জলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত বলে মঙ্গলবার জাতিসংঘ জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সর্বজনীন কাভারেজ অর্জনের দিকে অগ্রগতি একেবারেই যথেষ্ট দ্রুতগতিতে হচ্ছে না।

    জেনেভা থেকে এএফপি এ সংবাদ জানায়।

    জাতিসংঘের স্বাস্থ্য ও শিশু বিষয়ক সংস্থাগুলো বলেছে, গত বছর বিশ্বব্যাপী প্রতি ৪ জনের মধ্যে ১ জন নিরাপদভাবে পরিচালিত পানীয় জলের অভাবে ছিল। যেখানে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ এখনও পানির জন্য প্রাকৃতিক উৎস যেমন নদী, পুকুর ও খালের ওপর নির্ভরশীল ছিল ।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ জানিয়েছে যে পানি, স্যানিটেশন এবং পরিছন্নতা পরিষেবার বিলম্ব কোটি কোটি মানুষকে রোগের ঝুঁকিতে ফেলেছে। তারা একটি যৌথ গবেষণায় বলেছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে এই ধরনের পরিষেবার সার্বজনীন কভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য বিশ্ব এখনও অনেক দূরে রয়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে সেই লক্ষ্য ক্রমশ নাগালের বাইরে যাচ্ছে।

    ডাব্লিউএইচও -এর পরিবেশ প্রধান রুইডিগার ক্রেচ বলেছেন,  পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি বিশেষাধিকার নয়: এগুলি মৌলিক মানবাধিকার। আমাদের অবশ্যই বিশেষ করে সবচেয়ে প্রান্তিক সম্প্রদায়ের জন্য পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করতে হবে।

    প্রতিবেদনটিতে পানীয় জল সেবার পাঁচটি স্তর পর্যালোচনা করা হয়েছে।

    * সর্বোচ্চ স্তর ‘নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত’, অর্থাৎ পানীয় জল ঘরে সহজলভ্য, প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় এবং মল বা ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত।

    * এর নিচে রয়েছে চারটি স্তর : মৌলিক (৩০ মিনিটের কম সময়ে উন্নত উৎস থেকে আনা পানি), সীমিত (উন্নত হলেও ৩০ মিনিটের বেশি সময় লাগে), অনিরাপদ (যেমন সুরক্ষাহীন কূপ বা ঝরনা) এবং প্রাকৃতিক উৎসের পানি।

    প্রাকৃতিক উৎসের পানি পান কমছে : ২০১৫ সাল থেকে ৯৬১ মিলিয়ন মানুষ নিরাপদভাবে পরিচালিত পানীয় জলের আওতায় এসেছে এবং কাভারেজ ৬৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    গত বছর যেসব ২.১ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ পানি সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তাদের মধ্যে ১০ কোটি ৬ লাখ মানুষ এখনও প্রাকৃতিক উৎসের পানি ব্যবহার করছে—যা গত দশকে ৬ কোটি ১০ লাখ কমেছে।

    ২০১৫ সালে ১৪২টি দেশ প্রাকৃতিক উৎসের পানি ব্যবহার বন্ধ করেছে যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৪ টিতে।
    ২০২৪ সালে ৮৯টি দেশে অন্তত মৌলিক স্তরে সর্বজনীন পানীয় জলের সুবিধা ছিল, যার মধ্যে ৩১টি দেশে নিরাপদভাবে পরিচালিত পানীয় জলের সুবিধা সর্বজনীন। তবে যে ২৮টি দেশে প্রতি ৪ জনে ১ জনের বেশি এখনও মৌলিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত, সেগুলো মূলত আফ্রিকায় অবস্থিত।

    লক্ষ্য ক্রমশ নাগালের বাইরে: স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে, ২০১৫ সাল থেকে ১.২ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদভাবে পরিচালিত স্যানিটেশন সুবিধা পেয়েছে এবং কাভারেজ ৪৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

    এগুলোকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এমন উন্নত সুবিধা হিসেবে যা একাধিক পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করা হয় না এবং যেখানে মলমূত্র নিরাপদে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হয় বা বাইরে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

    খোলা স্থানে মলত্যাগকারীর সংখ্যা ২০১৫ সালের পর থেকে ৪২ কোটি ৯০ লাখ কমে ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ৪০ লাখে, যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার চার শতাংশ।

    ২০১৫ সাল থেকে ১.৬ বিলিয়ন মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি সেবার আওতায় এসেছে—অর্থাৎ বাসায় সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা—এবং কাভারেজ ৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    ইউনিসেফের ওয়াশ পরিচালক সিসেলিয়া শার্প সতর্ক করে বলেছেন, “যখন শিশুদের নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির সুযোগ থাকে না, তখন তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ে।”

    তিনি আরও বলেন, এ বৈষম্য বিশেষ করে মেয়েদের জন্য ভয়াবহ, কারণ তাদেরই প্রায়শই পানি সংগ্রহের দায়িত্ব নিতে হয় এবং মাসিকের সময় তারা অতিরিক্ত বাধার মুখে পড়ে। বর্তমান অগ্রগতির হারে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি আরও দূরে সরে যাচ্ছে।