Category: আন্তর্জাতিক

  • গাজা দখলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু, নিহত ৮১

    গাজা দখলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু, নিহত ৮১

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলি সেনাদের নতুন সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। ‘গিডিওন চ্যারিওটস’ নামের এই অভিযানের লক্ষ্য গাজার সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্র গাজা সিটি দখল করা। বুধবার (২০ আগস্ট) ভোর থেকে শুরু হওয়া হামলা ও অবরোধজনিত সংকটে একদিনেই অন্তত ৮১ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে অনাহারে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের এবং মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) এ তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    ইসরায়েলি সেনাদের দাবি, তাদের ৯৯তম ডিভিশন ইতোমধ্যে গাজা সিটির উপকণ্ঠ আল-জাইতুন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি হামাস সুড়ঙ্গ উন্মোচন করেছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সেনারা। গাজার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা ডাকা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ব্যাটালিয়নের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

    অভিযানের মধ্যে গাজার প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, নতুন দফায় সামরিক হামলা ও জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিও জানিয়েছে, ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা এখন বাস্তুচ্যুতির হুমকির মুখে।

    শুধু বুধবারেই গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একটি তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতদের ওপর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন। একইদিনে ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন ফিলিস্তিনি জাতীয় বাস্কেটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় মোহাম্মদ শালানসহ অন্তত ৩০ জন। ফলে যুদ্ধশুরুর পর থেকে অনাহার ও খাদ্যাভাব-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৯ জনে, যাদের মধ্যে শিশু ১১২ জন।

    জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বলেছে, গাজায় খাদ্য সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি কেবল ক্ষুধা নয়, সরাসরি অনাহারে রূপ নিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, ‘অপুষ্টি হলো এক নীরব হত্যাকারী, যা জীবনভর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি ডেকে আনে এবং সাধারণ অসুখকেও প্রাণঘাতী করে তোলে।’ ইউএনআরডব্লিউএ’র তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির প্রতি তিন শিশুর মধ্যে একজন এখন মারাত্মকভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে।

    হামাস এই অভিযানকে ‘গণহত্যার অংশ’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে মানবিক বিপর্যয়ের পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করছেন।

  • হেরাতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, ইরান ফেরত ৭১ আফগান নিহত

    হেরাতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, ইরান ফেরত ৭১ আফগান নিহত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭১ জন মানুষ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৭ জন শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কও। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় হেরাতের গুজারা শহরে একটি যাত্রীবাহী বাস, মোটরসাইকেল ও জ্বালানিবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির।

    হেরাত প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ মুত্তাকি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাদেশিক পুলিশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ সাইদি জানিয়েছেন, বাসটি ইরান থেকে রাজধানী কাবুলের দিকে যাচ্ছিল। যাত্রীরা সবাই আফগান নাগরিক এবং তারা ইরান থেকে ফেরত আসা শরণার্থী ছিলেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত গতি ও চালকের অসতর্কতার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

    সাইদি আরও জানান, দ্রুতগতির বাসটি প্রথমে একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে বাসটি একটি জ্বালানিবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অনেক যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতদের মধ্যে ট্রাক চালক, তার সহকারী, মোটরসাইকেলের চালক ও যাত্রী ছাড়া বাকি ৬৭ জনই বাসযাত্রী ছিলেন। বাসের মাত্র তিনজন যাত্রী বেঁচে গেছেন।

    দুর্ঘটনার শিকার বাসযাত্রীরা ইরান ফেরত আফগান শরণার্থী ছিলেন। গত শতকের আশির দশকে সোভিয়েত বাহিনীর সামরিক অভিযানের সময় বিপুল সংখ্যক আফগান শরণার্থী ইরানে আশ্রয় নেন। চলতি বছরের শুরুতে ইরান সরকার তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার আফগান দেশে ফিরে আসেন। মঙ্গলবার দুর্ঘটনার শিকার বাসটিতে যাত্রীরা ওই নির্দেশ মেনে আফগানিস্তানে ফিরছিলেন।

    আফগানিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। দুর্বল সড়ক নেটওয়ার্ক, দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং চালকদের বেপরোয়া আচরণের কারণে বড় দুর্ঘটনা যেন নিয়মিতই ঘটছে। মাত্র কয়েক মাস আগে গত ডিসেম্বরে একটি জ্বালানি ট্রাক ও বাসের সংঘর্ষে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

  • এটা আমার যুদ্ধ নয়—জেলেনস্কি এখনই যুদ্ধ শেষ করতে পারেন: ট্রাম্প

    এটা আমার যুদ্ধ নয়—জেলেনস্কি এখনই যুদ্ধ শেষ করতে পারেন: ট্রাম্প

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রচেষ্টায় সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে ইউরোপীয় নেতাদের। সোমবার তাদের সঙ্গে দিনভর বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৈঠকে অংশ নেওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের শেষ করার ক্ষেত্রে ‘উন্নতি’ হয়েছে। এটা আমার যুদ্ধ না, তবে এটা সত্যিই যে জেলেনস্কি এই যুদ্ধ এখনই শেষ করতে পারেন।”

    স্থানীয় সময় সোমবার ওভাল অফিসে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন মন্তব্য করেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

    এর আগে, যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ‘প্রচেষ্টা’র জন্য এবং তাকে এই বৈঠকের আমন্ত্রণ দেওয়ায় জেলেনস্কি তাকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি ওলেনা জেলেনস্কার একটি চিঠি দিয়ে বলেন, এটা আপনার জন্য নয়, আপনার স্ত্রীর (মার্কিন ফার্স্ট লেডি) জন্য।

    জেলেনস্কি এটা বলার পর তারা দুজনেই হাসেন।

    বৈঠকে জেলেনস্কি সাংবাদিকদের জানান, ইউক্রেনিয়ানদের মনোবল এখনও দৃঢ় রয়েছে এবং তারা ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘কূটনৈতিক উপায়ে’ যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টিকে সমর্থন করে।

    তিনি আরও জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডন্টে এবং রাশিয়ার প্রেসিডন্টের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে চান।

    এ সময়, গত সপ্তাহে এই যুদ্ধে অনেক লোক নিহত হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, তিনি এবং জেলেনস্কি উভয়ই চান যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে, পুতিনও এমনটাই মনে করেন।

    এ সময় ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয় , যুদ্ধে কোন পক্ষ সুবিধাজনক অবস্থান রয়েছে?

    এর জবাবে তিনি বলেন, এটা আমার যুদ্ধ না।

    তখন তিনি আবারও ২০২৩ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন না থামানোর জন্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করেন। ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে জানান, তিনি সবার ভালোর জন্যই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে চান।

    এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাস্কায় বৈঠক করেন ট্রাম্প। রুদ্ধদ্বার সেই বৈঠক নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জেলেনস্কি-পুতিন বৈঠকেরও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

    কিন্তু পর্দার আড়ালে ঠিক কী আলোচনা হচ্ছে তা কেউ খোলাসা করছেন না। সবাই ভাসাভাসা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে শান্তি আলোচনায় যে উভয়পক্ষকে কিছু ছাড় দিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র তার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে অবশ্যই তার ভূখণ্ডের কিছু অংশ রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

  • খারকিভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ১১ জন

    খারকিভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ১১ জন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ আবারও রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (১৭ আগস্ট) রাতে চালানো এ হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন ১৩ বছর বয়সী কিশোরীও রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

    খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনেহুবভ টেলিগ্রামে জানান, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই এ শহরটি নিয়মিতভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চল উত্তরপূর্ব ইউক্রেনের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইউক্রেনের স্টেট এমার্জেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে, বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনের জানালা ভেঙে যায় এবং কিছু বাসিন্দাকে সরিয়ে নিতে হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা রয়টার্সকে বলেছেন, রাস্তায় চিকিৎসাকর্মীরা আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন এবং উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করছিলেন।

    খারকিভ ছাড়াও রাশিয়ার নির্দেশিত আকাশবোমা হামলায় উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে ৫৭ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছেন। সেখানে অন্তত এক ডজন আবাসিক বাড়ি ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুমি অঞ্চলের প্রশাসক ওলেহ হ্রিহোরভ অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া রাতের অন্ধকারে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে।

    রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়া ঠিক কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছে তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মস্কোর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও উভয় পক্ষই বেসামরিক লোকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবে এখন পর্যন্ত নিহত হাজারো মানুষের অধিকাংশই ইউক্রেনীয়।

    এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ অবসানে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছেন। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি কিয়েভকে মস্কোর সঙ্গে একটি চুক্তি করতে আহ্বান জানান। তার ভাষায়, “রাশিয়া একটি অত্যন্ত বড় শক্তি, কিন্তু ইউক্রেন নয়।”

  • শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি, আহত অন্তত ২৯

    শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি, আহত অন্তত ২৯

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬। রোববার (১৭ আগস্ট) ভোরে হওয়া এই ভূমিকম্পে অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং জরুরি তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

    ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় ভোরে অনুভূত হয় এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল পোসো জেলার উত্তর দিকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। প্রধান কম্পনের পর অন্তত ১৫ বার আফটারশক অনুভূত হয়েছে। তবে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

    স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় অনেকে আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে ছুটে আসেন। পসো অঞ্চল এবং আশপাশের এলাকায় বেশ কিছু ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে গির্জার কাঠামোগত ক্ষতির দৃশ্যও ধরা পড়ে। দুর্ঘটনার সময় আহতদের অনেকেই গির্জায় সকালের প্রার্থনায় উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

    বিএনপিবি’র মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক মূল্যায়ন চলছে এবং দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    ইন্দোনেশিয়া প্রায় ২৭ কোটিরও বেশি মানুষের দেশ, যা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরীয় “রিং অব ফায়ার”-এর অন্তর্ভুক্ত। এই ভৌগোলিক কারণে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামি দেখা দেয়। ২০২২ সালে পশ্চিম জাভায় ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৬০২ জনের প্রাণহানি ঘটে। তার আগে ২০১৮ সালে সুলাওয়েসিতেই ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে ৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। আর ২০০৪ সালে সুমাত্রার উপকূলে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে কেবল ইন্দোনেশিয়াতেই প্রাণ হারান প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সুলাওয়েসিসহ ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ ঘটে বলে দেশটি সবসময় বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকে। এই ঝুঁকিতে রয়েছে জাপান, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশও।

  • রাশিয়ার শক্তি বিশাল—ইউক্রেনের উচিত সমঝোতা করা: ট্রাম্প

    রাশিয়ার শক্তি বিশাল—ইউক্রেনের উচিত সমঝোতা করা: ট্রাম্প

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রোববার এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “ইউক্রেনের উচিত রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় যাওয়া, কারণ রাশিয়া একটি বিশাল শক্তি, আর ইউক্রেন তা নয়।”

    বার্তাসংস্থাটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বৈঠকের পর ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে জানান, পুতিন যুদ্ধবিরতি মানতে রাজি আছেন যদি কিয়েভ পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল ছেড়ে দেয়। এ দাবিকে জেলেনস্কি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে এক সূত্র জানিয়েছে। অবশ্য রাশিয়া এরই মধ্যেই ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ দখলে নিয়েছে, যার মধ্যে দোনেৎস্কের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকাও রয়েছে।

    এসময় ট্রাম্প জানিয়েছেন, “তিনি পুতিনের সঙ্গে একমত হয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে শুধু যুদ্ধবিরতি নয় বরং সরাসরি একটি শান্তিচুক্তি প্রয়োজন। ট্রাম্পের ভাষায়, সবাই মেনে নিয়েছে, ভয়াবহ এই যুদ্ধ থামানোর সেরা উপায় হচ্ছে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি, কারণ যুদ্ধবিরতি প্রায়ই টেকে না।”

    অন্যদিকে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে অনিচ্ছুক হওয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, ‘হত্যাযজ্ঞ থামানোই যুদ্ধ থামানোর মূল শর্ত’। তবুও তিনি সোমবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

    অবশ্য এই বৈঠক অনেকের মনে করিয়ে দিচ্ছে গত ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে, যখন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে জেলেনস্কিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে পুতিনকে নিয়ে তিন পক্ষের বৈঠকও হতে পারে।

    ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে তারা ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাডেফুল জানিয়েছেন, সোমবারের বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারাও যোগ দিতে পারেন।

    রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন চালাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাতে দুই পক্ষের হাজার হাজার মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে, যার মধ্যে হাজারো সাধারণ ইউক্রেনীয় নাগরিকও রয়েছেন।

    ট্রাম্পের মন্তব্য অনেকাংশেই মস্কোর সরকারি অবস্থানের সঙ্গে মিলে যায়। পুতিন বরাবরই বলছেন, সমাধান জটিল হবে কারণ দুই পক্ষের অবস্থান একেবারে বিপরীত। তিনি ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের সম্ভাবনা আটকে দেওয়ার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি ও পুতিন ভূখণ্ড হস্তান্তর এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ‘মূলত একমত’ হয়েছেন। তার ভাষায়, আমরা চুক্তির বেশ কাছাকাছি। তবে ইউক্রেনকে এতে রাজি হতে হবে।

    প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কির উচিত সমঝোতায় যাওয়া। কারণ রাশিয়া একটি বড় শক্তি, আর তারা নয়।

    জেলেনস্কি অবশ্য বারবার বলেছেন, ইউক্রেন কোনো ভূখণ্ড ছাড়তে পারবে না সংবিধান পরিবর্তন ছাড়া। দোনেৎস্কের স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কের মতো শহরগুলোকে তিনি রাশিয়ার অগ্রযাত্রা ঠেকানোর ঢাল হিসেবে দেখেন।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরবর্তী স্থায়ী শান্তির জন্য ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অপরিহার্য। ট্রাম্প এ বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন বলে জানান জেলেনস্কি।