Category: আন্তর্জাতিক

  • ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠক কেমন হয়েছে?—জানালো রাশিয়া

    ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠক কেমন হয়েছে?—জানালো রাশিয়া

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি’র বরাতে শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

    আলোচনার পর দুই নেতা কেন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তা ব্যাখ্যা করে পেসকভ বলেন, ‘উভয়েই বিস্তৃত বিবৃতি দিয়েছেন, তাই এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। দুই নেতার এই কথোপকথন শান্তির পথ খুঁজে বের করতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে।’

    এর আগে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১টা ৮ মিনিটে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে বহুল প্রতিক্ষীত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এই দুই নেতার। প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন তারা।

    এদিকে বৈঠক শেষে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুতিনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘১০-এ ১০। আমাদের মধ্যে দারুণ মিল ছিল। আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। এখন ইউরোপের দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দায়িত্ব জেলেনস্কির।’

    আগামীতে রাশিয়া ও ইউক্রেন সরাসরি আলোচনায় বসবে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই আলোচনায় পুতিন ও জেলেনস্কি থাকবেন। এদিকে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে তিনিও আন্তরিকভাবে আগ্রহী। এই যুদ্ধকে ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবেও উল্লেখ করে তিনি। বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধের জন্য এই যুদ্ধের মূল কারণগুলো নিরসন করতে হবে।’

    জানা গেছে, বৈঠক শেষে ট্রাম্প ও পুতিন আলাস্কা ছাড়ছেন। পুতিন এরই মধ্যে উড়োজাহাজে উঠেছেন। পুতিন মস্কোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার কিছুক্ষণ পর ট্রাম্পও তাকে বহনকারী উড়োজাহাজে উঠে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই উড়োজাহাজ দুটি নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবে।

    এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আলাস্কার এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে ট্রাম্পকে বহনকারী উড়োজাহাজ অবতরণ করে। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছায় পুতিনকে বহনকারী উড়োজাহাজও। এরপর বিমানবন্দরে পুতিনকে লালগালিচায় উষ্ণভাবে বরণ করে নেন ট্রাম্প। পরে দুই নেতার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত তিন ঘণ্টার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    ট্রাম্প বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে অগ্রগতি অর্জনের জন্য আমাদের খুব ভালো সুযোগ রয়েছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি এখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে কথা বলবেন। চুক্তি ‘শেষ পর্যন্ত’ তাদের ওপর নির্ভর করবে এবং তাঁদের সম্মত হতে হবে।

    চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি নেই উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু আমরা শেষ পর্যায়ে পৌঁছাইনি’।

    প্রসঙ্গত, ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর দাবি, পুতিন আলাস্কায় গিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে। তিনি চান, ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার আধিপত্য বজায় থাকুক। আবার ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কও ভাল থাকুক। আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের বাইরের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আলাস্কার ‘জয়েন্ট বেস এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন’! ৬৪ হাজার একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ওই ঘাঁটিতেই শুক্রবার মুখোমুখি বসেছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দুই রাষ্ট্রনেতা।

  • পাকিস্তানে এলোপাতাড়ি গুলি করে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে নিহত ৩

    পাকিস্তানে এলোপাতাড়ি গুলি করে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে নিহত ৩

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের করাচিতে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকালে বেপরোয়া আকাশে গুলিবর্ষণ করা হয়। এসময় তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন একজন প্রবীণ নাগরিক ও একজান ৮ বছরের কন্যাশিশু। আহত হয়েছেন আরও ৬০ জনের বেশি। এমন তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদ মাধ্যম জিও নিউজ।

    এ ঘটনাকে “বেপরোয়া ও বিপজ্জনক” বলে আখ্যায়িত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। জিও নিউজের তথ্য উদ্ধৃত করে এএনআই জানিয়েছে, আজিজাবাদে গুলিতে শিশুটি প্রাণ হারান। করাঙ্গিতে স্টিফেন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশ আরও একজনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছে। করাচি পুলিশের মুখপাত্র জানান, ‘এ ধরনের বেপরোয়া ও বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    তিনি জনগণকে নিরাপদ উপায়ে জাতীয় দিবস উদযাপনের আহ্বান জানান। পাকিস্তানে প্রতিবছর ১৪ আগস্ট উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং যারা এই গুলিবর্ষণে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এআরওয়াই নিউজ প্রাপ্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতেই করাচিতে গুলিবর্ষণ ঘটনায় অন্তত ৪২ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে ৫ জন নারীও ছিলেন।

    এছাড়া ঐ মাসে ২৩৩ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ৫ জন নারীও রয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জানুয়ারিতে ডাকাতি প্রতিরোধের সময় গুলিবর্ষণে ৫ জন নিহত হয় এবং অনেকে গুলিবিদ্ধ হন। অন্যান্য ঘটনায় ভুলবশত গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণহানি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত শত্রুতা, মতবিরোধ, ডাকাতি প্রতিরোধ ও বেপরোয়া ফায়ারিং এসব ঘটনার জন্য দায়ী।

  • পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্পের বড় পরীক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

    পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্পের বড় পরীক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্যারিয়ারে অন্যতম দিক হলো নাটকীয়তায় ঝোঁক এবং চুক্তি করার ক্ষমতার ওপর তার অগাধ বিশ্বাস।

    তবে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানানোর ব্যাপারে নাটকীয়তা থাকলেও এক্ষেত্রে ট্রাম্পের চুক্তিবদ্ধ হওয়ার ক্ষমতার ওপর যে আস্থা, সেটি চূড়ান্ত পরীক্ষায় পড়ছে।

    ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প আগামী শুক্রবার আলাস্কায় ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন। ২০১৮ সালে হেলসিঙ্কিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর দুই প্রেসিডেন্টের প্রথম স্বতন্ত্র শীর্ষ সম্মেলন হচ্ছে এবার।

    মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, পুতিন নিজেই তাকে এই বৈঠকের পরামর্শ দিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধ করার প্রস্তাব গ্রহণে পুতিনের অস্বীকৃতিতে কতটা হতাশ হয়েছেন, ট্রাম্প তা প্রকাশ্যে বলার পরেও পুতিনকে আমন্ত্রণ জানাতে রাজি হন।

    ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে রুশ প্রেসিডেন্টকে পশ্চিমারা এড়িয়ে চলছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত পুতিনকে ট্রাম্প এবার আমন্ত্রণ জানানোর মধ্য দিয়ে সেই এড়িয়ে চলার অবসান ঘটে।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলাস্কা সফরকে পুতিনের জন্য ‘ব্যক্তিগত বিজয়’ বলেও অভিহিত করেন।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বৈঠকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং ট্রাম্প টেবিলের অন্যপাশের লোকটিকে দেখতে চান এবং বুঝতে চান যে, তিনি আন্তরিক কি না।’

    ট্রাম্প বলেন, এটি একটি ‘অনুভূতিশীল বৈঠক’। তিনি আরো বলেন, শীর্ষ সম্মেলনের পরপরই জেলেনস্কি ও অন্যান্য ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলবো, যারা সবাই ‘ইউক্রেনকে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়’ বলে জোর দিয়েছেন।

    কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের ফেলো লিয়ানা ফিক্স বলেন, ‘ইউরোপীয় নেতাদের অতীত অভিজ্ঞতা এই যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শেষ কথা বলা ব্যক্তি তার ওপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে অত্যন্ত তীব্র এক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে যে, তিনিই ইউক্রেনে শান্তি ফেরাবেন। এমনকি ক্ষণিকের জন্য হলেও ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে একমত হওয়ার ছবি প্রকাশ্যে আসে।’

    -‘কৌশলের সর্বশেষ পরিবর্তন’
    হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রক্রিয়া কঠিন মনে করছেন  এবং তার কৌশলগুলোও ব্যাপক পরিবর্তিত হয়েছে।

    এর আগে হোয়াইট হাউসে ক্যামেরার সামনে বৈঠকে জেলেনস্কিকে কঠিন ভাষায় তিরস্কার করতে দেখা গেছে ট্রাম্পকে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ওই সময় ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার প্রসঙ্গ টেনে অকৃতজ্ঞতার অভিযোগ করেছিলেন।

    এতে করে ইউক্রেন দ্রুত বুঝতে পারে যে, তাদের ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নিতে হবে এবং যুদ্ধবিরতিতে তার প্রস্তাবে স্বাক্ষর করতে হবে।

    পুতিন যুদ্ধবিরতি থেকে বিরত থাকায় ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন। তার পরেও পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষক কনস্টান্টিন কালাচেভ বলেন, ‘এ ধরনের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করাটা হবে পুতিনের জন্য বিজয় স্বরূপ। পুতিন ট্রাম্পকে উল্লেখযোগ্য কিছু দেননি এবং ট্রাম্প ইতোমধ্যে তাকে আলাস্কায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।’  তিনি ট্রাম্পের নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা না দেওয়াকেও রাশিয়ার জন্য ‘নিঃশর্ত বিজয়’ আখ্যায়িত করেছেন।

    তবে, ট্রাম্প রাশিয়ার প্রতি তার নরম মনোভাবের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, তিনি রাশিয়ার তেলের প্রধান ক্রেতা ভারতের ওপর  শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়েছেন।

    ট্রাম্প জেলেনস্কির প্রতি কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার জন্যও চাপ দিয়েছেন। তবে,  রাশিয়া জবরদখলে নেওয়া কোনো জমি ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন জেলেনস্কি।

    সিআইএ’র সাবেক রাশিয়া বিশ্লেষণ বিষয়ক পরিচালক জর্জ বিবে বলেন, ‘ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি চুক্তির রূপরেখা তৈরির সূচনা করতে পারেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের এ শীর্ষ সম্মেলন এমন প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে তা পূরণ নাও হতে পারে।’

    বিবে আরো বলেন, ‘ট্রাম্প এমন একটি সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন, যেখানে রাজনৈতিক বিপদ রয়েছে এবং  এতে সফল হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

  • শুল্কযুদ্ধে বিরতির মেয়াদ আরও ৯০ দিন, চুক্তির পথে যুক্তরাষ্ট্র-চীন

    শুল্কযুদ্ধে বিরতির মেয়াদ আরও ৯০ দিন, চুক্তির পথে যুক্তরাষ্ট্র-চীন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের বিরতির মেয়াদ আরও ৯০ দিনের জন্য বাড়িয়েছে। এতে একে অপরের পণ্যের ওপর তিন অঙ্কের উচ্চ শুল্ক কার্যকর হওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত থাকছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    সোমবার (১১ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে চীনের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ আগামী ১০ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম) পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে শুল্ক বিরতির বিদ্যমান শর্তগুলো অপরিবর্তিত থাকবে।

    এর কয়েক ঘণ্টা পর, মঙ্গলবার ভোরে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক একই সময় পর্যন্ত স্থগিত রাখবে। পাশাপাশি, এপ্রিলে মার্কিন কিছু প্রতিষ্ঠানকে যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছিল, সেটিও ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। চীন বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ৫ জুন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের টেলিফোন আলাপের সময় হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যেরই ধারাবাহিকতা, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।

    এর ফলে চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৫ শতাংশ এবং মার্কিন পণ্যে চীনের ১২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে গেল। আপাতত চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পণ্যে ৩০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে রপ্তানিকৃত পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে।

    এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার বিবিসিকে বলেন, “এটি ইতিবাচক খবর। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশই উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে তারা এ বছরের শরৎকালে শি জিনপিং ও ট্রাম্পের বৈঠকের ভিত্তি গড়ে তুলতে চাইছে।”

    ট্রাম্প সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেখা যাক কী হয়।” তিনি দাবি করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো এবং তারা একটি বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছেন। ট্রাম্প গত সপ্তাহে সিএনবিসিকে জানিয়েছিলেন, চুক্তি হলে বছরের শেষের আগেই শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবেন তিনি।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর, কারণ বছরের শেষের বড়দিন ও ছুটির মৌসুমকে সামনে রেখে কম শুল্কে পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হলো। এতে ইলেকট্রনিকস, পোশাক ও খেলনাসহ মৌসুমি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং শরৎকালের আমদানি ধারা বজায় থাকবে।

    উল্লেখ্য, গত মে মাসে জেনেভায় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রথমবারের মতো ৯০ দিনের জন্য শুল্কযুদ্ধে বিরতির ঘোষণা দেয়। এরপর জুলাইয়ের শেষ দিকে স্টকহোমে আলোচনার মাধ্যমে বিরতি বাড়ানোর সুপারিশ আসে, যা এবার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলো।

  • তুরস্কে ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়ল বহু ভবন

    তুরস্কে ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়ল বহু ভবন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের উত্তর- পশ্চিমাঞ্চলীয় বালিকেসির প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একজন নিহত ও অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। ভূমিকম্পে অন্তত ১৬টি ভবন ধসে পড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি আঘাত হানে রোববার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে। কেন্দ্রস্থল ছিল বালিকেসিরের সিন্দিরগি শহর, যা ইস্তাম্বুল পর্যন্ত অনুভূত হয়।

    তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানিয়েছেন, সিন্দিরগিতে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮১ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এএফএডি) জানায়, ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল প্রায় ১১ কিলোমিটার।

    প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সিন্দিরগি শহরের বহু ভবন সম্পূর্ণ ধসে গিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আল্লাহ আমাদের দেশকে সব ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষা করুন।” তিনি আরও জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানিয়েছেন, প্রাথমিক উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে এবং নতুন করে কোনো গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা ভয় ও আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। ভূতাত্ত্বিকরা বলছেন, তুরস্ক তিনটি বড় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে থাকায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

    বিবিসি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশটিতে ৫০ হাজারের বেশি এবং পার্শ্ববর্তী সিরিয়ায় আরও পাঁচ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত হওয়া কয়েক লাখ মানুষ এখনও ঘরে ফিরতে পারেননি।

  • গাজা দখলের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, সৈন্যদের যুদ্ধে না যাওয়ার আহ্বান

    গাজা দখলের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, সৈন্যদের যুদ্ধে না যাওয়ার আহ্বান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সম্প্রতি গাজা দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইসরায়েলে নজিরবিহীন বিক্ষোভ করেছে দেশটির সাধারণ মানুষ। সেইসাথে দেখা মেলে এ পর্যন্ত সর্ববৃহৎ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ। যেখান থেকে ইসরায়েলি সৈন্যদের এই যুদ্ধে না জড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

    শনিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় তেল আবিব এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে দশ হাজারের মতো বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। জিম্মি পরিবারের বেশিরভাগের প্রতিনিধিত্বকারী ফ্যামিলিজ ফোরাম, জেরুজালেমের তেল আবিব, দক্ষিণে শায়ার হানেগেভ জংশন এবং কিরিয়াত গাটে সমাবেশ করেছে। সেইসাথে, আরও কয়েক ডজন স্থানে ছোট ছোট সমাবেশ করেছে।

     

    রোববার (১০ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে ‘টাইমস অব ইসরায়েল’র জানায়, শনিবার সমাবেশের আগে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিম্মি ও নিখোঁজ পরিবারগুলোর ফোরাম নেতানিয়াহু সরকারকে একটি জিম্মি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানায়। সেইসাথে যুদ্ধ বন্ধ করে তাদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে আনার দাবি উত্থাপন করে। এর কারণ হিসেবে আন্দোলনকারীরা বলে, যদি এমনটা না করা হয় তবে গাজায় বন্দী তাদের প্রিয়জনদের জীবিত ফিরে পাওয়া এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়বে।

    অপরদিকে বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পদক্ষেপ ইসরায়েলি বন্দীদের নিশ্চিতভাবে বিপদে ফেলবে এবং অপারেশনে যাওয়া সৈন্যদের ফিরে আসা কঠিন করে তুলবে। তবে এর থেকেও বড় যে বিষয়টি তা হল, এটা গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর করে তুলবে।

    উল্লেখ্য, সামরিক বাহিনীর আপত্তি সত্ত্বেও মন্ত্রিসভা ঘনবসতিপূর্ণ ফিলিস্তিনি শহরটি দখলের সিদ্ধান্ত নেয়ার কয়েকদিন পর এই বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ক্রমেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।