Category: আন্তর্জাতিক

  • অস্থির বিশ্বে চীন-রাশিয়া সম্পর্ক ‘সবচেয়ে স্থিতিশীল’: সি

    অস্থির বিশ্বে চীন-রাশিয়া সম্পর্ক ‘সবচেয়ে স্থিতিশীল’: সি

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং মঙ্গলবার  বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ‘বিশ্বশক্তির মধ্যে সবচেয়ে স্থিতিশীল, পরিপক্ক এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে বেইজিং থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

    চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক সিসিটিভি জানিয়েছে, রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষ বা ডুমার চেয়ারম্যান ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিনের সঙ্গে এক বৈঠকে সি দুই দেশের সম্পর্ককে ‘বিশ্ব শান্তির স্থিতিশীল উৎস’ অভিহিত করে প্রশংসা করেছেন।

    সি বেইজিংয়ের বিলাসবহুল গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে ভোলোদিনকে বলেন, ‘উভয় পক্ষের উচিত তাদের দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন স্বার্থ রক্ষা, গ্লোবাল সাউথকে ঐক্যবদ্ধ করা, প্রকৃত বহুপাক্ষিকতাবাদকে সমুন্নত রাখা এবং বৃহত্তর ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের দিকে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা উন্নীত করার জন্য একযোগে কাজ করা।’

    ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে বেইজিং এবং মস্কোর মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

    চীন কখনও যুদ্ধের নিন্দা করেনি বা মস্কোকে তার সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়নি এবং ইউক্রেনের অনেক মিত্র বিশ্বাস করে যে, বেইজিং তার উত্তরের বিশাল প্রতিবেশীকে সহায়তা প্রদান করেছে।

    চীন, তার পক্ষ থেকে, জোর দিয়ে বলেছে তারা একটি নিরপেক্ষ পক্ষ, নিয়মিতভাবে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করে সংঘাত দীর্ঘায়িত করার অভিযোগও করেছে।

    রাশিয়ার  প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এই সপ্তাহের শেষে চীন সফর করবেন।

    তিনি ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলীয় নগরী তিয়ানজিনে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন, পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উদযাপন করবেন।

    সি’র সঙ্গেও বৈঠক করবেন পুতিন ।

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে সি বলেছেন, মস্কো ও  ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি দেখে চীন খুশি।

    ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে চলতি মাসে আলাস্কায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার নেতা সাক্ষাৎ করেন, কিন্তু তখন থেকে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি থমকে আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • গাজা: প্রাণচঞ্চল নগরী থেকে আজ মৃতদের শহর

    গাজা: প্রাণচঞ্চল নগরী থেকে আজ মৃতদের শহর

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দুই বছর আগেও যে শহর ছিল জীবন্ত ও প্রাণবন্ত, আজ সেই গাজা সিটি পরিণত হয়েছে এক মৃত নগরীতে। একসময় স্কুলগুলো ছিল শিক্ষার্থীর কোলাহলে ভরা, বাজারে ছিল ক্রেতার ভিড়, আর সমুদ্রতীরের ক্যাফেগুলো মানুষকে দিতো ক্ষণিক স্বস্তি। কিন্তু আজ সবই পরিণত হয়েছে ধূসর ও রক্তাক্ত স্মৃতিতে।

    হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাসের সাক্ষী গাজা বারবার ধ্বংস হয়েছে, আবার নতুন করে দাঁড়িয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় বাস্তুচ্যুত বহু ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন এই শহরে। শত শত ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ে গড়া এই নগরী দীর্ঘদিন ছিল ফিলিস্তিনিদের সংস্কৃতি ও জীবনের কেন্দ্রবিন্দু।

    ২০০৭ সালে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হামাস একে তাদের প্রত্যক্ষ প্রশাসনিক রাজধানী বানায়। দীর্ঘদিনের সংঘাত, ইসরায়েল ও মিশরের অবরোধ, এবং হামাসের কঠোর শাসন ফিলিস্তিনিদের জীবনকে কঠিন করে তোলে। তবুও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের সহায়তা ও জাতিসংঘের ত্রাণ কাঠামো সামান্য হলেও স্থিতি বজায় রেখেছিল।

    অবরোধ সত্ত্বেও গাজা সিটি বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। অর্ধেক মানুষ বেকার হলেও, নাগরিকেরা তখনো পার্কে বসতে পারত, বই হাতে কফি খেতে পারত। কিন্তু আজকের বাস্তবতা ভয়ঙ্কর ভিন্ন—শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

    হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় মাসব্যাপী বিমান ও স্থল হামলায় গাজা সিটি তার সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রাণ হারিয়ে এখন আইনহীন ধ্বংসাবশেষ। নতুন করে ‘চূড়ান্ত অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ আবারও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের মুখে পড়েছে।

    গাজার বাসিন্দা মাজদি আবু হামদি (৪০), চার সন্তানের জনক, জানান—বিস্ফোরণের ধূলা এত ঘন হয়ে যায় যে তা ভাঙা জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তার কথায়, “এমনকি গাজার কুকুরগুলোর আচরণও পাল্টে গেছে। রাতে তাদের চিৎকার শোনা যায়। এত লাশ খেতে খেতে তারা হিংস্র হয়ে উঠেছে। তাদের ঘেউ ঘেউ আর আগের মতো নেই—এখন সেটা ভীতিকর।”

    তিনি আরও বলেন, এখন কুকুরগুলো মানুষের প্রতিও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। পরিচিত মানুষকে আক্রমণ করছে। কয়েকদিন আগে একটি বিড়াল ভুল করে কাছে চলে গেলে বিশটিরও বেশি কুকুর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলে।

    মাজদির ভাষায়, “পশুগুলো আগে এমন ছিল না। কিন্তু এই মৃতদের শহর তাদেরও বদলে দিয়েছে। জানি না, এই পশুগুলোকে ইসরায়েলি বাহিনী ছাড়বে কি না!”

    সূত্র: আল জাজিরা।

  • রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে ওয়াশিংটন

    রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে ওয়াশিংটন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    এছাড়া মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসা এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোকেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

    রোববার (স্থানীয় সময়) এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের প্রিন্সিপাল ডেপুটি মুখপাত্র টমাস টমি পিগট এ মন্তব্য করেন।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের জনগণের প্রতি সমর্থন জানায়, যার মধ্যে রয়েছে সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার রোহিঙ্গা ও অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠী।’

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা বাংলাদেশ সরকারকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখার জন্য প্রশংসা করছি, পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য আঞ্চলিক অন্যান্য দেশকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

    আজ মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের গণ নির্বাসনের আট বছর পূর্ণ হল। এখনো এক মিলিয়নেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ বাংলাদেশে ক্যাম্পগুলোতে আটকে আছে।

    ২০১৭ সাল থেকে পুনর্বাসনের একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, আর রাখাইনে আরাকান আর্মি (এএ)-র ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশকে নতুন জটিলতার মুখে ফেলেছে।

  • গাজার শিশুদের পক্ষে কথা বলার জন্য মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রতি এরদোগান পত্নীর আহ্বান

    গাজার শিশুদের পক্ষে কথা বলার জন্য মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রতি এরদোগান পত্নীর আহ্বান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের ফার্স্ট লেডি শনিবার তার যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে চিঠি লিখে ইউক্রেনের শিশুদের প্রতি তিনি যেমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, গাজার শিশুদের প্রতিও তেমনই উদ্বেগ প্রকাশ করতে বলেছেন।

    ইস্তাম্বুল থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

    এমিন এরদোগান যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডিকে গাজার শিশুদের প্রতি করুণা দেখানোর জন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিঠি লিখতে বলেছেন।

    এই মাসের শুরুতে আলাস্কা শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে দেওয়া একটি চিঠিতে তিনি শিশুদের স্বার্থে ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাকে অনুরোধ করেছেন।

    তুরস্কের ফার্স্ট লেডি লিখেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, যুদ্ধে প্রাণ হারানো ৬৪৮ জন ইউক্রেনীয় শিশুর প্রতি আপনার দেখানো গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীলতা গাজাতেও প্রসারিত হবে, যেখানে দুই বছরের ব্যবধানে ১৮ হাজার শিশুসহ ৬২ হাজার নিরীহ বেসামরিক নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

    তিনি মেলানিয়াকে লিখেছেন, ‘একজন মা, একজন নারী এবং একজন মানুষ হিসেবে যারা শান্তি ও প্রশান্তি কামনা করে তাদের পক্ষ থেকে আমি আপনার চিঠিতে প্রকাশিত অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে একমত এবং আমি আশা করি আপনি গাজার শিশুদেরও অনুরূপ আশা দেবেন। ’

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান যুদ্ধের চতুর্থ বছরে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করেছেন।

    মঙ্গলবার, তিনি ইসরাইলকে গাজায় ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করে বলেন, ফিলিস্তিনি ছিটমহল থেকে আসা ছবিগুলো ‘নাৎসি শিবিরের’ চেয়েও খারাপ।

    শুক্রবার জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে, যা নেতানিয়াহু ‘নির্লজ্জ  মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

  • গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করলো জাতিসংঘ, মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম

    গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করলো জাতিসংঘ, মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় দুর্ভিক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের কোন অঞ্চলে এমন ঘোষণা দিলো সংস্থাটি। ৫ লাখ মানুষ ‘ভয়াবহ’ ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা। রোম থেকে এএফপি এই খবর জানায়।

    জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক টম ফ্লেচার বলেন, ‘এটি দুর্ভিক্ষ, গাজার দুর্ভিক্ষ।’ তিনি আরো জানান, আইপিসি প্যানেলের মূল্যায়নে গাজা শহর ও তার আশপাশে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হয়েছে।

    তিনি ইসরাইলকে দোষারোপ করে বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ত্রাণ সহায়তা  পৌঁছানোর পথে ‘পরিকল্পিতভাবে বাধা’ দিচ্ছে দেশটি।

    অন্যদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সমর্থিত এই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে নাকচ করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ‘গাজায় কোনো দুর্ভিক্ষ নেই।’

    দুর্ভিক্ষের এই মূল্যায়ন করেছে আইপিসি (ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন ইনিশিয়েটিভ)। জাতিসংঘের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই জোট আগাম মানবিক বিপর্যয়ের সতর্কতা দেয়।

    তাদের সংজ্ঞায়, কোনো অঞ্চলে ২০ শতাংশ পরিবারে চরম খাদ্যাভাব, পাঁচ বছরের নিচে ৩০ শতাংশ শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগলে ও প্রতিদিন প্রতি ১০ হাজারে অন্তত দু’জন পুরোপুরি খাদ্যাভাব বা অপুষ্টি ও রোগে মারা গেলে সেটিকে দুর্ভিক্ষ ধরা হয়।

    জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছে, বিশেষ করে ইসরাইল হামাসের বিরুদ্ধে অভিযানে গতি বাড়ানোর পর থেকে।

    রোমভিত্তিক আইপিসি জানায়, ‘১৫ আগস্ট, ২০২৫ পর্যন্ত, যথেষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে গাজা অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ (আইপিসি ফেজ ৫) নিশ্চিত করা হয়েছে।’ জাতিসংঘের হিসাবে ওই অঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বসবাস করছে।
    আইপিসি’র প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘গাজা উপত্যকার প্রায় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে অনাহার, চরম দারিদ্র্য ও মৃত্যুর মতো বিপর্যয়কর অবস্থার মুখোমুখি।’

    এতে আরো বলা হয়, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনিসেও দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তখন ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৬ লাখ ৪১ হাজারে পৌঁছাবে।

    আইপিসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে এই প্রথম কোনো দুর্ভিক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো।

    একজন মুখপাত্র এএফপিকে জানান, ২০১৮ সালে ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করা হয়েছিল, কিন্তু সেখানে মানবিক সংকট সত্ত্বেও তা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি।

    আইপিসি বলেছে, গাজার এই দুর্ভিক্ষ ‘সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট’। জুলাই মাসে সংঘাতের ব্যাপক বিস্তার, মার্চের মাঝামাঝি থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং খাদ্য সরবরাহ সীমিত হওয়ার ফলে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    মার্চের শুরুতে ইসরাইল, গাজায় ত্রাণ সহায়তা প্রবেশে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেয়। মে মাসের শেষ দিকে অল্প কিছু সরবরাহ প্রবেশের অনুমতি দিলেও তা চাহিদার তুলনায় অতি নগণ্য। এর ফলে খাবার, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দেয়।

    জেনেভায় সাংবাদিকদের ফ্লেচার বলেন, এই দুর্ভিক্ষ ‘আমাদের সকলকে তাড়া করবে’।

    তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের সুযোগ দেওয়া হতো, তবে আমরা এই দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ করতে পারতাম। কিন্তু ইসরাইলের পরিকল্পিত বাধার কারণে খাদ্য সীমান্তেই আটকে আছে।’

    জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, ‘যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার করা যুদ্ধাপরাধ।’

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও গাজায় পুনরায় পূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা এই পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই বিনা বিচারে চলতে দিতে পারি না।’

    আন্তর্জাতিক রেড ক্রস এই দুর্ভিক্ষ ঘোষণাকে ‘ভয়াবহ এবং পুরোপুরি পূর্বাভাসযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।
    সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বলা আছে, দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরাইলের দায়িত্ব হলো গাজার সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করা।’

    জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মতে, শুধু জুলাই মাসেই ১২ হাজারের বেশি শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগেছে। জানুয়ারির তুলনায় এই সংখ্যা ছয় গুণ বেশি।

    ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘লক্ষণগুলো স্পষ্ট রয়েছে। শিশুদের শরীর শুকিয়ে গেছে, কাঁদারও শক্তি নেই, খেতেও পারে না, আর শিশু ও নবজাতকেরা অনাহার ও প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা যাচ্ছে।’
    আইপিসি জানায়, গাজার স্থানীয় খাদ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। প্রায় ৯৮ শতাংশ আবাদি জমি নষ্ট হয়ে গেছে বা ব্যবহার অযোগ্য বা উভয়ই। গবাদিপশুর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
    তথ্য সংগ্রহও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি জানায়, গাজার উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে, তবে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় ‘বিপুল পরিমাণ ত্রাণ প্রবেশ করেছে’। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘কোগাট’ অভিযোগ করেছে, প্রতিবেদকরা আংশিক তথ্য ব্যবহার করেছেন।
    তবে জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষণ পরিচালক জ্যঁ-মার্টিন বাউয়ার বলেন, এ ধরনের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আইপিসি ‘সোনালি মানদণ্ড’ হিসেবে স্বীকৃত।

  • যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ শতাংশ শেয়ার দিতে ট্রাম-ইন্টেল চুক্তির ঘোষণা

    যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ শতাংশ শেয়ার দিতে ট্রাম-ইন্টেল চুক্তির ঘোষণা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ব্যবসায় ১০ শতাংশ শেয়ার দিতে সম্মত হয়েছে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনটেল। শুক্রবার ইন্টেল ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির ঘোষণা দেন।

    ওয়াশিংটন থেকে এএফপি।

    বাইডেন প্রশাসনের সময় ঘোষিত বিশাল অঙ্কের অনুদানের বিনিময়ে ওয়াশিংটনের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের পর এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইনটেলের ৪৩৩.৩ মিলিয়ন সাধারণ শেয়ার পাবে, যা কোম্পানির ৯.৯ শতাংশ অংশীদারিত্বের সমান।

    ইনটেল জানায়, এ বিনিয়োগের মোট অঙ্ক দাঁড়াবে ৮.৯ বিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার আসবে বাইডেন আমলে পাশ হওয়া ‘চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্ট’ থেকে ঘোষিত অনুদান থেকে। যা এখনো প্রদান করা হয়নি। বাকি ৩.২ বিলিয়ন ডলার আসবে ‘সিকিউর এনক্লেভ প্রোগ্রাম’ এর আওতায় প্রদত্ত পুরস্কার থেকে।

    ইনটেল আরও জানায়, এই ৮.৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সঙ্গে কোম্পানি পূর্বে পাওয়া ২.২ বিলিয়ন ডলারের অনুদান যোগ হলে মোট অঙ্ক দাঁড়াবে ১১.১ বিলিয়ন ডলার।

    ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইনটেলের ১০ শতাংশের পূর্ণ মালিক ও নিয়ন্ত্রণকারী। তিনি দাবি করেছেন যে ইন্টেলের সিইও লিপ-বু ট্যানের সাথে আলোচনার পর দেশটি এই শেয়ারের জন্য কিছুই পরিশোধ করেনি।

    ইনটেল অবশ্য জানিয়েছে, সরকারের মালিকানা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হবে, তাদের কোনো বোর্ড প্রতিনিধি বা শাসন সংক্রান্ত অধিকার থাকবে না।

    ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অংশীদার হিসেবে পাওয়া তাদের জন্যও ভালো। আমি তাদের বলেছিলাম, আমার মনে হয় কোম্পানির ১০ শতাংশ আমাদের দেওয়া উচিত।

    বাণিজ্য মন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এক্সে বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর খাতের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।’

    ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ: সিলিকন ভ্যালির অন্যতম কোম্পানি ইনটেল এশীয় জায়ান্ট টিএসএমসি ও স্যামসাংয়ের কাছে প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। বাইডেন আমলে পাশ হওয়া ‘চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্ট’-এর লক্ষ্য ছিল মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে শক্তিশালী করা, যার আওতায় বিলিয়ন ডলারের অনুদান দেওয়া হয়।

    তবে স্বাধীন প্রযুক্তি বিশ্লেষক রব এন্ডারলে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইনটেলের শেয়ার নেওয়া একধরনের বিপজ্জনক পদক্ষেপ, যা বেসরকারি ব্যবসাকে জাতীয়করণের পথে নিয়ে যেতে পারে।’

    ওয়াশিংটনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেটো ইনস্টিটিউটের স্কট লিনসিকোমও বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘প্রায় সবার জন্য খারাপ’। ইনটেলের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্যও ক্ষতিকর। কারণ, এখানে বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বেশি পড়বে।

    ইনটেল সিইও লিপ-বু ট্যান এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সাইট সম্প্রসারণে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।

    এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ট্যানের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।
    সম্প্রতি জাপানভিত্তিক সফটব্যাংক গ্রুপও ইনটেলে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।