Category: বিনোদন

  • সিনেমা মুক্তির আগেই সমালোচনার মুখে জাহ্নবী

    সিনেমা মুক্তির আগেই সমালোচনার মুখে জাহ্নবী

    অনলাইন ডেস্ক: সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও জাহ্নবী কাপুর অভিনীত আসন্ন রোম্যান্টিক ড্রামা ‘পরম সুন্দরী’র ট্রেলার। ট্রেলারে একদিকে দর্শকদের প্রশংসা মিললেও কেরালের বহু শিল্পী ও দর্শক তীব্র এর সমালোচনা তুলেছেন। অভিযোগ, ছবিতে জাহ্নবী কাপুরের চরিত্রে যেই মালয়ালি মেয়ের চরিত্রে রাখা হয়েছে, তাকে অতিরঞ্জিত ও প্রচণ্ডভাবে স্টেরিওটাইপিক্যালভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মালয়ালি অভিনেত্রী ও গায়িকা পবিত্রা মেনন নির্মাতাদের বিরুদ্ধে এমনই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে ভিডিও শেয়ার করে একই সুরে সমালোচনা করেন নেটিজেনরা।

    সেই ভিডিও ছড়িয়ে নেটিজেনরা মন্তব্য করেন, ‘ছবিতে জাহ্নবীর চরিত্রের লম্বা নাম ও সাজসজ্জা একেবারেই অবাস্তব মনে হয়েছে। কেরালার সবার লম্বা নাম হয় না। বরং তাকে চেন্নাইয়ের চরিত্র হিসেবে দেখালে মানাত।’ এছাড়াও ভিডিওর কমেন্ট সেকশনে মালায়ালি নেটিজেনদের একাংশ জাহ্নবীর উচ্চারণ ও অভিনয়ের কড়া সমালোচনা করেন। একজন লিখেছেন, ‘তিনি হিন্দিতে বললেন সব বুঝলাম, কিন্তু একটাও মালায়ালম শব্দ বুঝলাম না। ভুয়া সাউথ ইন্ডিয়ান অ্যাকসেন্ট একেবারেই মানা যায় না।’

  • আমি অস্কারের জন্য অভিনয় করি না: ডেনজেল

    আমি অস্কারের জন্য অভিনয় করি না: ডেনজেল

    বিনোদন ডেস্ক: দুইবারের অস্কারজয়ী হলিউড তারকা ডেনজেল ওয়াশিংটন। ক্যারিয়ারে অনেক আলোচিত ও প্রশংসিত চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। পেয়েছেন নানা পুরস্কার ও স্বীকৃতি। তবে এসব পুরস্কার নিয়ে খুব একটা ভাবেন না তিনি। ততোটা গুরুত্বও দেন না। এবার এ নিয়ে মুখ খুললেন ডেনজেল নিজেই। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অস্কারই কেবল নয়, কোনো পুরস্কার নিয়েই তার কোনো আগ্রহ নেই। তার ভাষায়, জীবনের শেষ দিনে এসব পুরস্কার কোনো কাজে আসবে না। সম্প্রতি ‘হাইয়েস্ট টু লোয়েস্ট’ সিনেমার প্রচারণায় এক সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটন বলেন, ‘আমি অস্কারের জন্য অভিনয় করি না।

    এসব নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। বহু বছর ধরে কাজ করছি। কখনো এমন হয়েছে, জিতেছি অথচ জেতা উচিত ছিল না। আবার কখনো হারিয়েছি অথচ জেতা উচিত ছিল। মানুষ পুরস্কার দেয়। কিন্তু সত্যিকারের পুরস্কৃত করের ঈশ্বর।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা হয় অস্কারগুলো কোথায় রাখি। আমি বলি, অন্যটার পাশে। এটা অহংকার নয়, সত্যি বলছি। জীবনের শেষ দিনে এগুলো আমাকে একটুও উপকার দেবে না।’ এ বছরের শুরুর দিকে ‘গ্ল্যাডিয়েটর ২’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে অনেকে তাকে ‘অস্কার স্নাব’ বলেছেন।

    কিন্তু ওয়াশিংটন তাতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। তিনি মজা করে বলেন, ‘আপনি কি মজা করছেন? আহা! আমি খুব মন খারাপ করেছি! আমি খুশি যারা মনোনয়ন পেয়েছে। আর আমি যা করছি তাতেই খুশি।’ অস্কার নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ না দেখানো তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তার ‘ট্রেইনিং ডে’ ছবির সহ-অভিনেতা ইথান হক একবার জানান, অস্কার আসরে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার হারানোর পর ওয়াশিংটন তাকে বলেছিলেন, ‘হারাটাই ভালো হয়েছে। তুমি কোনো পুরস্কারকে উঁচু না করে বরং তোমার কারণে পুরস্কারের মর্যাদা উঁচু হচ্ছে।’

  • এবার হত্যার হুমকি পেলেন কমল হাসান

    এবার হত্যার হুমকি পেলেন কমল হাসান

    বিনোদন ডেস্ক : সম্প্রতি কন্নড় ভাষার উৎপত্তি নিয়ে মন্তব্য করে আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন দক্ষিণী সিনেমার সুপার স্টার কমল হাসান। এবার সনাতন ধর্ম নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে আবারও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এ তারকা। ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের কারণে কমল হাসানকে বয়কটের ডাকও দেওয়া হয়েছে। তবে সদ্য রাজ্যসভায় সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়া মেগাস্টারকে ঘিরে বিতর্কের রেশ এখানেই শেষ হয়নি।

    সনাতন ধর্মকে অপমান করার অভিযোগে কমল হাসানকে এবার খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের চেন্নাইতে দক্ষিণী তারকা সূরিয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আগরম ফাউন্ডেশনের পনেরো বছরপূর্তির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন কমল হাসান। সেখানেই সনাতন ধর্ম নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেন তিনি। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে সদ্য রাজ্যসভার সাংসদ পদপ্রাপ্ত তথা মাক্কাল নিধি মাইয়াম দলনেতাকে বলতে শোনা গিয়েছে, একমাত্র শিক্ষার জোরেই পরিবর্তন সম্ভব। কমলের মন্তব্য, ‘এই যুদ্ধে শুধু শিক্ষাই পারে দেশকে বদলাতে। এটাই একমাত্র অস্ত্র দেশের স্বৈরাচার শাসন এবং সনাতন ধর্মের শেকল ভাঙার জন্য। অন্য কোনো অস্ত্র আপনাদের হাতে তুলে নেবেন না। তাহলে এমন সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছে পরাস্ত হতে হবে।

    এই যুদ্ধ জয় করতে শিক্ষাই একমাত্র অস্ত্র।’ কমল হাসানের এমন মন্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে! ফুঁসে উঠেছে তামিলনাড়ুর রাজ্য বিজেপি সচিব অমর প্রসাদ রেড্ডি। সেই সুরেই সুর মিলিয়ে দক্ষিণী টিভি তারকা অভিনেতা রবিচন্দ্রন এবার মেগাস্টার রাজনীতিককে খুনের হুমকি দিলেন। এক ইউটিউব চ্যানেলের ইন্টারভিউতে রবিচন্দ্রন কমল হাসানকে ‘মূর্খ রাজনীতিক’ বলে কটাক্ষ করেন। শুধু তাই নয়, সনাতন বিরোধী মন্তব্য করার জন্য তিনি ‘কমলের গলা কেটে হত্যা করবেন’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন। যে মন্তব্য এরই মধ্যেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণী চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে। সম্প্রতি কমল হাসানের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে এক্স-এ এক ভিডিওতে অমর প্রসাদকে বলতে শোনা যায়, ‘সনাতন ধর্মকে ধ্বংস করতে চাওয়া কমল হাসানের সব সিনেমা বয়কট করুন। সব হিন্দুদের কাছে আমার আবেদন।

    সনাতন ধর্ম বিরোধী কথা বললেই চরম পরিণতি ভুগতে হবে- এটাই চরম বার্তা হোক। দেখি, আর কোন অভিনেতা সনাতন ধর্মকে ব্যঙ্গ করার সাহস দেখায়? জনপ্রিয় অভিনেতা কমল হাসান বলেছেন উনি হিন্দু ধর্মকে ধ্বংস করতে চান। তাই সব সনাতনীর কাছে আমার অনুরোধ, এমন লোকজনকে উচিত শিক্ষা দেওয়া দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উচিত কমল হাসানের সব সিনেমা প্রেক্ষাগৃহ, ওটিটি থেকেও নিষিদ্ধ করে দেওয়া। তাহলে আর এমন মন্তব্য করবেন না, যা কোটি কোটি হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়।’ এদিকে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই কমল হাসানের বিরুদ্ধে সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।

  • ইতিহাস গড়ার পথে রজনীকান্তের ‘কুলি’

    ইতিহাস গড়ার পথে রজনীকান্তের ‘কুলি’

    বিনোদন ডেস্ক: ১৪ আগস্ট মুক্তি পেতে যাচ্ছে লোকেশ কঙ্গরাজের সিনেমা ‘‘কুলি’’। সিনেমায় কুলির চরিত্রে অভিনয় করেছেন দক্ষিণি তারকা রজনীকান্ত। গত ৩ আগস্ট সিনেমার ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে সিনেমাটি নিয়ে। বয়স যে একটি সংখ্যা মাত্র, তা আবারও প্রমাণ করলেন ৭৪ বছর বয়সী রজনীকান্ত। দক্ষিণ ভারতে তার সিনেমা মুক্তির দিনে অফিস থেকে ছুটি নেওয়ার ধুম পড়ে, টিজার-ট্রেলার মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমত ঝড় ওঠে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

    দক্ষিণের সবচেয়ে আলোচিত নির্মাতাদের একজন লোকেশ কঙ্গরাজ। সপ্তাহখানেক আগে প্রকাশ হয়েছে সিনেমাটির ট্রেলার। ভিজ্যুয়াল, অ্যাকশন আর তারকাদের উপস্থিতি নিয়ে মুক্তি পায় ৩ মিনিট ২ সেকেন্ডের ট্রেলারটি। স্বর্ণ পাচারের পটভূমিতে গড়ে ওঠেছে এ ছবির গল্প, যেখানে এক ‘‘কুলি’’র অতীত আর বর্তমানের টানাপোড়েনে দেখা মিলবে রজনীকান্তের দুর্দান্ত অভিনয়।

    ট্রেলার শুরুতেই দেখা যায় এক মনোলগ, ‘‘কারও জন্ম হলে, তার মৃত্যুও তখনই লেখা হয়ে যায় হাতের রেখায়।’’ এখান থেকেই তৈরি হয় থ্রিল আর রহস্যে ঘেরা আবহ। এরপর একে একে হাজির হতে থাকে চরিত্ররা। সিনেমাটিতে অল্প সময়ের জন্য দেখা মিলবে আরেক সুপারস্টার আমির খানের। এরপর একঝলকে ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা দেন দক্ষিণী তারকা নাগার্জুনা ও সত্যরাজ। সবার মাঝে এক অদৃশ্য যোগসূত্র।

    এদিকে সিনেমাটি মুক্তির আগেই বক্স অফিসে ঝড় তুলতে শুরু করেছ। মুক্তির চারদিন আগেই বিশ্বজুড়ে অগ্রিম বুকিংয়ের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের

    ভারতের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রি-সেল শুরু হওয়ায়, বিদেশে টিকিট বিক্রিতে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে সিনেমাটি। তবে ভারতও কিন্তু পিছিয়ে নেই। দেশটিতে শুক্রবার থেকে ধাপে ধাপে বুকিং শুরু হলেও, এই সিনেমাটি ইতোমধ্যেই ১৪ কোটি রুপির অগ্রিম বিক্রি করে ফেলেছে, যার মধ্যে ১০ কোটি মুক্তির প্রথম দিনের জন্য। তামিল সংস্করণ শীর্ষে রয়েছে প্রায় ১০ কোটি রুপি, তেলুগু ও কন্নড় ভাষার সংস্করণও ভালো শুরু করেছে। হিন্দি সংস্করণ আপাতত পিছিয়ে থাকলেও, মুক্তির কাছাকাছি সময়ে গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির প্রিমিয়ার বুকিং ইতোমধ্যেই ১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৪ কোটি রুপি) ছুঁয়েছে, যার মধ্যে ১.৪৫ মিলিয়ন এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেখানে ৫৬ হাজারেরও অধিক টিকিট বিক্রি হয়েছে। এই মাইলফলক লোকেশ কানাগরাজের ‘‘লিও’’-র রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা মুক্তির দিনে ১.৩ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। সিনেমাটির বিদেশি মোট অগ্রিম বিক্রি এখন ৪১ কোটি টাকা, যা ইতোমধ্যেই কমল হাসানের ‘‘ঠাগ লাইফ’’-এর আজীবন বিদেশি আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। তামিল সিনেমার সর্বকালের সর্বোচ্চ অগ্রিম বুকিং রেকর্ড ভাঙার পথে ‘‘কুলি’’, যা ‘‘লিও’’-র ৪৬ কোটি টাকার রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যেতে চলেছে।

    প্রায় সাড়ে তিন’শ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটির শুটিং শুরু হয় গত বছরের ৫ জুলাই। শেষ হয় এ বছরের ১৭ মার্চ। ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। রজনীকান্ত, নাগার্জুনা, উপেন্দ্র এবং শ্রুতি হাসান অভিনীত এই সিনেমায় আমির খানের একটি বিশেষ ক্যামিও রয়েছে।

  • বিশ্বমঞ্চে চীনা সুর, সবাইকে পেছনে ফেলা কে এই চেন চুশেং?

    বিশ্বমঞ্চে চীনা সুর, সবাইকে পেছনে ফেলা কে এই চেন চুশেং?

    বিনোদন ডেস্ক: জনপ্রিয় চীনা সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ‘সিঙ্গার ২০২৫’-এর সরাসরি সম্প্রচারিত ফাইনালে গায়করা মুখোমুখি হন এক জমজমাট লড়াইয়ে। শনিবারের (৯ আগস্ট) এই ফাইনালে চীনের ইতিহাসে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফাইনালিস্টরা সংখ্যায় চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে যান।

    তবে শেষমেশ এতে শীর্ষস্থান অর্জন করেন চীনের মূল ভূখণ্ডেরই সঙ্গীতশিল্পী চেন চুশেং। এতে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা ছিলেন—চীনা মূলভূখণ্ডের শান ইয়িচুন, তাইওয়ানের এ-লিন, যুক্তরাষ্ট্রের মিকি গাইটন ও গ্রেস কিন্স্টলার, মালয়েশিয়ার জেস লি এবং জাপানের বেনি।

    হুনান টিভি ও ম্যানগো টিভির যৌথ আয়োজনে হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত গায়ক-গায়িকারা প্রতি সপ্তাহে সরাসরি সম্প্রচারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দর্শক এবং অনলাইন ভোটের ভিত্তিতে ফলাফল নির্ধারণ হয়; সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া শিল্পীরা বাদ পড়েন, আর নতুন চ্যালেঞ্জারদের প্রবেশের সুযোগ হয়।

    আন্তর্জাতিক শিল্পীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে চীনে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য এই শো বিশেষভাবে পরিচিত। ব্রিটিশ পপ তারকা জেসি জে ২০১৮ মৌসুমে শীর্ষস্থান অর্জন করে এই শোর অন্যতম সফল বিদেশি প্রতিযোগী হয়ে ওঠেন।

    এবারের মৌসুমে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক লাইনআপ ছিল, যেখানে ফাইনালিস্টদের পাশাপাশি অতিথি শিল্পী হিসেবে ছিলেন কানাডিয়ান গায়ক মাইকেল বুবলে, ব্রাজিলের আলেক্সিয়া এভেলিন এবং মার্কিন গায়ক চার্লি পুথ ও জর্ডান স্মিথ।

    চীনা দর্শকদের প্রশংসা করে মার্কিন সঙ্গীত শিল্পী গ্রেস কিন্স্টলার বলেন, ‘আমি মুগ্ধ হয়েছি, যেভাবে তারা খোলাখুলি শিল্পীদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে, তা দেখে’।

    এ বছরের শুরুর দিকে শাওহংশু অ্যাপে যোগ দেওয়ার পর তাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

    কিন্স্টলার বলেন, ‘এই শো আমাকে প্রেরণা জোগায়, আমাকে এগিয়ে যেতে উত্সাহিত করে। আমি এই অভিজ্ঞতার বিনিময়ে কিছুই চাইব না’।

    এদিকে ফাইনালে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা মার্কিন প্রতিযোগী মিকি গাইটন এই অভিজ্ঞতাকে ‘জীবন পরিবর্তনকারী’ বলে অভিহিত করেন। তিনি পরিবারসহ প্রথমবার চীন ভ্রমণে এসে স্থানীয় খাবার, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সংস্কৃতির স্বাদ উপভোগ করেন।

    তার ভাষায়, ‘চীনা দর্শক অসাধারণ—তারা খুব খোলা মনের, আবেগপ্রবণ, সহনশীল ও উত্সাহদায়ী। আমি অবশ্যই ভবিষ্যতে আবার আসব এবং তাদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখব’।

    ‘সিঙ্গার ২০২৫’ ১৬ মে থেকে সম্প্রচার শুরু হয় এবং ফাইনালের আগে ১২টি পর্ব প্রচারিত হয়। চূড়ান্ত পর্বে দুটি ধাপ ছিল—যুগল পরিবেশনার র‌্যাংকিং এবং একক পরিবেশনার র‌্যাংকিং, প্রতিটি ধাপে ৫০% করে চূড়ান্ত স্কোরে যোগ হয়।

    প্রায় চার মাসের এই সঙ্গীতযাত্রায় আন্তর্জাতিক শিল্পীরা চীনা ঐতিহ্যবাহী সুরের সঙ্গে নিজেদের সৃজনশীল ধারা মিশিয়েছেন; আবার চীনা শিল্পীরা তাদের গানে সাংস্কৃতিক উপাদান শেয়ার করেছেন। শো-এর বাইরে, বিদেশি শিল্পীরা চীনের ঐতিহ্য, নান্দনিকতা ও আতিথেয়তার উষ্ণতা উপভোগ করেছেন। সূত্র: সিনহুয়া

  • অবিশ্বাস্য যাত্রা! দারিদ্র্য থেকে অস্কার জয়

    অবিশ্বাস্য যাত্রা! দারিদ্র্য থেকে অস্কার জয়

    বিনোদন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী শার্লিজ থেরন। নাচ নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা ছিল; কিন্তু তা হয়নি। পরে মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হলেও অভিনয়ে নিজেকে খুঁজে পান তিনি। থেরনের অভিনয়ের জীবন সংগ্রামের গল্প, সেসবই আইএমডিবি থেকে তুলে ধরা হয়েছে তার ৫০তম জন্মবার্ষিকীতে। শার্লিজ থেরনের জন্ম ১৯৭৫  সালে। থেরন তার শৈশব কাটিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে থেরনকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বোর্ডিং স্কুলে। সেখানেই তার প্রথম শিল্পচর্চার প্রতি ভালোবাসা জন্মে। চেয়েছিলেন নাচ নিয়ে থাকতে। পরে মডেলিং শুরু করে বিজ্ঞাপনে ডাক পান অভিনেত্রী। তখনো মডেলিং, নাকি অভিনয়-এ নিয়ে দোটানায় ছিলেন থেরন। প্রথম মডেলিংয়ের কাজে ইউরোপে আসেন তিনি। ইতালির একটি প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। পরে এক বছর মাকে নিয়ে ঘুরতে থাকেন ইউরোপের বিভিন্ন শহরে। সেখান থেকে চলে আসেন নিউইয়র্কে। সেখানে ব্যালে নৃত্যশিল্পী হিসেবে নাম লেখান। শার্লিজ থেরন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি তিন দিনের মডেলিংয়ের কাজে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলাম। সেখানে এসে বন্ধুর বাসায় পুরো একটি শীত কাটিয়ে দিই। যে বাসায় থাকতাম, সেখানে কোনো জানালা ছিল না। কিন্তু আমি ব্যালে নৃত্য শিখতে আগ্রহী হয়েছিলাম। যে কারণে ধৈর্য ধরেছি। পরে যখন হাঁটুতে চোট পেলাম, তখন মনে হলো আমাকে দিয়ে এই নৃত্য হবে না। এদিকে মা বলছিলেন- তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে চান। আমার নিজের সিদ্ধান্ত আমার ওপরই চাপিয়ে দেন। কী করব তখন, সব মিলিয়ে আমি ডিপ্রেশনে পড়ে যাই। ১৯৯৪ সালে মায়ের সঙ্গে জন্মভূমিতে না ফিরে মায়ের দেওয়া মাত্র ৩০০ ডলার নিয়ে নিউইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি দেন শার্লিজ থেরন। ফেরার মতো কোনো টাকা ছিল না। হাতে থাকা ৩০০ ডলার অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এমনও দিন গেছে, তিনি রেস্তোরাঁ থেকে রুটি চুরি করে খেয়েছেন। এভাবে টিকে থাকা তার পক্ষে কষ্টসাধ্য। সঙ্গে মায়ের পাঠানো চেক ছিল। সেগুলো ভাঙানোর জন্য একদিন হলিউড বুলেভার্ড এলাকার ব্যাংকে যান। কিন্তু চেকগুলো ভাঙাতে ঝামেলা পোহাতে হয়। কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। এ নিয়ে ব্যাংকেই ঝগড়া শুরু করে দেন তিনি। এ সময় হঠাৎই তার পেছনে থাকা জন ক্রসবি নামে একজন গ্রাহক তাকে একটি ব্যবসায়িক কার্ড হাতে ধরিয়ে দেন এবং চেকটিও ভাঙিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এই ক্রসবি মূলত তরুণ অভিনয়শিল্পী, পরিচালক, গায়ক-গায়িকাদের কাজ খুঁজে দিতেন। পরে ক্রসবিই তাকে প্রথম ফিল্ম স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। এরপর ক্রসবির সহায়তায় তিনি প্রথম একটি ভৌতিক সিনেমায় নাম লেখানোর সুযোগ পান। সিনেমার নাম ‘চিলড্রেন অব দ্য কর্ন ৩: আরবান হার্ভেস্ট’। সিনেমায় থেরনের কোনো সংলাপ ছিল না। পরে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে অনেকের চোখে পড়েন। কারণ তার উচ্চতা ছিল বেশি। দেখতেও সুন্দরী। অভিনয়েও নিজেকে প্রতিনিয়ত দক্ষ করে তোলেন। বছর পেরোতেই ‘ডেভিলস অ্যাডভোকেট’ সিনেমায় আল পাচিনোর সঙ্গে পর্দা শেয়ারের সুযোগ তাকে হলিউডে ক্যারিয়ার গড়তে অবদান রাখে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘সুইট নভেম্বর’, ‘দ্য ইতালিয়ান জব’, ‘মনস্টার’সহ ব্যবসাসফল সিনেমায় নাম লেখান। মনস্টার সিনেমার জন্য ২০০৪ সালে অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়ে যান। একসময় হয়ে ওঠেন হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া তারকাদের মধ্যে একজন। প্রতিটি সিনেমায় কোটি ডলার পারিশ্রমিক নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এদিকে শৈশবে একটি ঘটনা তাকে প্রায়ই ট্রমার মধ্যে নিয়ে যায়। বিভিন্ন সময় সাক্ষাৎকারে তিনি সে ঘটনা সম্পর্কে জানিয়েছেন, ঘটনাটি তিনি কখনই ভুলতে পারেননি। তখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর। থাকতেন দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে। দিনটি ছিল ২১ জুন ১৯৯১ সাল। থেরনের বাবা সেদিন মাতাল হয়ে বাসায় ফিরেন। তার হাতে ছিল বন্দুক। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্ত্রী ও মেয়েকে হুমকি দিতে থাকেন তিনি। স্ত্রীকে আঘাত করেন। একসময় স্ত্রী ও মেয়েকে লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়েন। নিজেদের রক্ষা করতে একসময় হাতে পিস্তল তুলে নেন থেরনের মা, বাঁচার জন্য পাল্টা গুলি ছোড়েন। গুলিতে থেরনের বাবা মারা যান। আত্মরক্ষার্থে গুলি, তাই বেকসুর খালাস পেয়ে যান থেরনের মা। কিশোরী বয়সের সেই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে তিনি মডেলিংয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন।