Category: আন্তর্জাতিক

  • খেললেন ট্রাম্প, জিতলেন পুতিন

    খেললেন ট্রাম্প, জিতলেন পুতিন

    মাত্র তিন বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর রাষ্ট্র ছিল। বিশ্বের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দেশটি প্রভাব বিস্তার করতে পারত। তবে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প সবকিছু থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেছেন। প্রেসিডেন্টের দপ্তরে বসেই ট্রাম্প একের পর এক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সমঝোতা বাতিল করেছেন। ১২টি দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি ‘ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ’ থেকে বের হয়ে গেলেন। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করলেন। নিজের দেশকে প্রত্যাহার করে নিলেন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে। রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক মিসাইল–সংক্রান্ত চুক্তি ‘ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জনিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) ট্রিটি’ থেকেও বেরিয়ে গেছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া একের পর এক বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা এবং মিত্রদেরকে নানান হুমকি দিচ্ছেন।

    আফ্রিকার ৪০ জন নেতা অর্থ ও অস্ত্রের সন্ধানে চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর রাশিয়ায় এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়। পররাষ্ট্র অথবা অভ্যন্তরীণ—যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্প প্রথা মানেন না। তিনি বিশেষজ্ঞ মতামতের ধারেকাছেও ভেড়েন না। জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সিদ্ধান্ত নিতে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এনএসসি) সভায় যান না। পরিবর্তে নিজের জ্ঞানের ওপর ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে স্বস্তি পান। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন কর্মপন্থা নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে এরই মধ্যে দুর্বল করে ফেলেছেন ট্রাম্প। যেসব দক্ষ লোক নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন কর্মপন্থা নির্ধারণ ও পরিচালনা করতেন, তাঁদের তিনি দূরে সরিয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশ্বাসযোগ্যতা ও দক্ষতায় ক্ষত তৈরি করেছেন ট্রাম্প। বিশ্বব্যাপী মার্কিন কূটনীতির মতো শক্ত কাজ তিনি যেন একাই সেরে ফেলতে চান। পররাষ্ট্র দপ্তর চালানোর এই রীতিতে আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক, চীন ও উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে তিনি কিছুটা সফল হয়েছেন। তবে আঘাতটা লেগেছে ভেতরে। এই রীতির কারণে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এমন ধারায় দেশ চালানোয় মার্কিন জাতীয় স্বার্থে বিপর্যয় নেমে এসেছে, আর এটা আশীর্বাদ হয়েছে পুতিনের জন্য।

    যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদিও পুতিনকে সে দেশে স্বাগত জানিয়েছে। কূটনৈতিক বিষয়ে পুতিন নমনীয় মনোভাব দেখান। তিনি বিশ্বাস করেন, পৃথিবীর কোনো দেশেরই চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই। যেটা আছে তা হলো চিরস্থায়ী স্বার্থ। এ কারণে ২০১৫ সালে যে তুরস্ক রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল, কিছুদিন না যেতেই তাকে আপন করে নিলেন পুতিন। সম্প্রতি তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিনেছে। এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ন্যাটোর কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ এঁকে দিয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরবের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছেন। সংযুক্ত আবর আমিরাত সফর করেছেন, মিসরের দিকেও এগোচ্ছেন। এসবের পাশাপাশি পুতিন নজর দিয়েছেন মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোর দিকে।

    পূর্বতন কলোনি মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র থেকে ফ্রান্স ২০১৭ সালে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়। এতে দেশটিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে শূন্যতা তৈরি হয়। পুতিন এই সুযোগ লুফে নেন। ফ্রান্সের চলে যাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পুতিনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার ব্যবসায়ীরা মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে হাজির হন। এর কিছুদিন পরে রাশিয়ার সেনারা সেখানে নামেন।

    পুতিনের এমন ধারায় এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, সামনের দিকে যেতে তিনি কিছু নীতি মেনে চলেন। তিনি মিত্রদের সমর্থন করেন, রাশিয়ার সবল দিকগুলো নানাভাবে কাজে লাগান, সংকটের সময় একেবারে ধীরস্থির থাকেন এবং প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দিতে পারে—এমন জায়গা কখনো ছাড়েন না।

    নিজ ঘরেই সমালোচিত পুতিন। মাঝেমধ্যে দুর্নীতিবিরোধী কিংবা গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ জানান রাশিয়ার জনগণ। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে রাশিয়া এখনো অনেক পিছিয়ে। দ্য ইকোনমিকস বলছে, অর্থনৈতিক চুক্তির জায়গাতে রাশিয়ার বাগাড়ম্বর ও বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে বিস্তার ফারাক। ২০১৮ সালে রাশিয়া সাব-সাহারা অঞ্চলের দেশগুলোতে ৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করেছে। একই সময়ে ওই এলাকাতে আমেরিকার বাণিজ্য ছিল ১২০ বিলিয়ন ডলার। সামরিক ক্ষেত্রেও এই অঞ্চলে রাশিয়া কিছুটা অনুজ্জ্বল। পুতিনের দাবি, আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে তিনি অন্তত ৩০টি যৌথ সামরিক চুক্তি করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ওই সব দেশে কিছু গৌণ সামরিক প্রশিক্ষণ ছাড়া বড় কোনো মহড়া দেখাতে পারেননি পুতিন।

    নিজ ঘরেও পুতিন নানা সমস্যার উল্লেখযোগ্য সমাধান করতে পারেননি। রাশিয়ার জমা করে রাখার মতো অর্থের পরিমাণ টানা ছয় বছর ধরে নিম্নমুখী। ক্রমাগত দুর্নীতির ঘুরপাকে পড়ে রাশিয়ার জনগণ ক্ষুব্ধ। তাই সোভিয়েত ধাঁচে বিশ্বব্যাপী রাশিয়ার প্রভাব তৈরি করতে চাইলে পুতিনকে ঘরে ও বাইরে—দুটোই সামাল দিয়ে হাঁটতে হবে আরও বহু পথ।

  • তুষারপাতে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ, অন্ধকারে কাশ্মীর

    তুষারপাতে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ, অন্ধকারে কাশ্মীর

    নভেম্বরের শুরু থেকেই প্রবল তুষারপাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রশাসনও পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে মিলছে না মোমবাতি, এলপিজি কয়েলও। সব মিলিয়ে ঠান্ডার প্রকোপে নাজেহাল কাশ্মীরবাসী।

    গত বুধবার থেকে তুষারপাত শুরু হয় কাশ্মীরে। তার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উপরে। বারামুলায় উপড়ে যায় বিদ্যুতের খুঁটি। ওই এলাকায় প্রায় ৬ ফুট পুরু বরফ জমেছে। গত কয়েক দিন ধরে প্রায় চল্লিশ জন শ্রমিক কাজ করেও বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরাতে পারেনি।
    স্থানীয়দের দাবি, প্রথম দু’তিন দিন পরিস্থিতি সামলাতে প্রশাসনের তরফ থেকেও তেমন কোনও পদক্ষেপই চোখে পড়েনি। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ কাশ্মীরের বড় অং‌শ বিদ্যুৎহীন হয়ে যায়। খাস শ্রীনগরে মাত্র ৪০ শতাংশ বাসিন্দার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে।

    প্রবল ঠান্ডা ও বিদ্যুতের অভাবে কাহিল হয়ে পড়েছেন কাশ্মীরের বাসিন্দারা। বাড়িতে মোমবাতি জ্বালিয়ে কিছুটা আলো ও তাপ পাওয়ার কথা ভেবেছিলেন তারা। কিন্তু বাজারে মোমবাতি, এলপিজি কয়েলেরও আকাল। কারণ নিষেধাজ্ঞার কাশ্মীরে এখনও নতুন রসদ সংগ্রহ করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া নভেম্বরের শুরুতেই এমন তুষারপাতের পূর্বাভাসও দেয়নি আবহাওয়া দফতর।

    ব্যবসায়ীরা জানান, শীতে ঘর গরম রাখার জন্য কাশ্মীরিরা যে পাত্রে আগুন জ্বালিয়ে রাখেন, সেই কাংরিও এখনও বাজারে আসেনি। খানিয়ার এলাকার বাসিন্দা শেখ ইরান বললেন, ‘‘কাশ্মীরে বুখারি নামে এক ধরনের হিটারের চল আছে। সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না। কয়লার দোকানও বন্ধ।’’

    এই পরিস্থিতিতে উপত্যকায় বাড়ছে জ্বর-সর্দি-কাশির প্রকোপ। হাসপাতালে এমন সব উপসর্গ নিয়ে লাইন দিচ্ছেন রোগীরা। তার উপরে উপত্যকার সঙ্গে বাকি দেশের যোগাযোগের অন্যতম পথ জম্মু-শ্রীনগর সড়কও গত কাল থেকে তুষারপাতের ফলে বন্ধ।

    প্রবল ঠান্ডার মধ্যে শোনা যাচ্ছে প্রবল ক্ষোভের সুরও। নিশানায় নয়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসন। অনেকেই জানান, ‘‘আগে তুষারপাত আর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে স্থানীয় প্রশাসনকে সরাসরি জানাতাম আমরা। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বা মেহবুবা মুফতির উদ্দেশেও কড়া মন্তব্য করতেন অনেকে। কিন্তু এখন প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর রাস্তাও বন্ধ।

  • বদলে যাচ্ছে ইরানের অর্থনীতি

    বদলে যাচ্ছে ইরানের অর্থনীতি

    বড় একটি তেলের খনি আবিষ্কার করেছে ইরান। খনিটিতে দুই হাজার ২২০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুদ রয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এর মধ্যে মাত্র দুই হাজার ২২০ কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলন সম্ভব। আ এই

    সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ইরানি জ্বালানিমন্ত্রী বাইজান নামদার জাঙ্গানেহ। রোববার প্রথম নতুন তেলক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি।
    ইরানের অর্থনীতি মূলত তেলনির্ভর। নতুন এই তেলের খনির সন্ধান সে দেশের অর্থনীতিতে নতুন শক্তির সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    নতুন খনিটিতে পাঁচ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে বলে জানান তিনি। কিন্তু একদিন পরই দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী তেলের পরিমাণের নতুন হিসেব তুলে ধরেন। খবর এএফপির।

    বিশ্বের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ইরানের অর্থনীতি তেলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্র আহভাজে।

    এতে ছয় হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল তেল মজুদ আছে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির করা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সরে গিয়ে দেশটির ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বিশেষ করে ইরানের তেল রফতানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল বিক্রি অনেক কমে গেছে।

    এর কারণ, যেসব দেশ ইরানের তেল কিনবে তাদের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তেহরানের দাবি, ইরান তেল উত্তোলন মাত্র ১ শতাংশ বাড়ালেই তাদের আয় ৩,২০০ কোটি মার্কিন ডলার বেড়ে যাবে। খুজেস্তান প্রদেশে আবিষ্কৃত নতুন খনিটি সেদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেলের খনি হতে চলেছে।

    এখানে যে পরিমাণ তেল মজুদ রয়েছে বলে তথ্য মিলেছে তাতে ইরানের মোট সঞ্চিত তৈল ভাণ্ডার এক ধাক্কায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় ইয়ায্?দ শহরে এক সমাবেশে তেলের খনি আবিষ্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট রুহানি।

    তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শত্রুতা রাখলেও আমরা এই আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি। কোনো শত্রুই ইরানের উন্নতি রুখে দিতে পারবে না। খনিটি আমাদের অন্যতম বৃহত্তম একটি খনি।

    এটি এতটাই বিশাল যে বোস্তান থেকে শুরু করে উমিদেহ পর্যন্ত এটার বিস্তৃতি। এটি প্রায় ২,৪০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত। খনি ভূগর্ভে প্রায় ৮০ মিটার পর্যন্ত গভীর।

  • ব্রিটেনের নির্বাচনে গুরুত্ব পাচ্ছে পাকিস্তান-ভারত লড়াই

    ব্রিটেনের নির্বাচনে গুরুত্ব পাচ্ছে পাকিস্তান-ভারত লড়াই

    আগামী ১২ ডিসেম্বর ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচন। তাদের ভোটব্যাংকে জম্মু ও কাশ্মির থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তান দ্বৈরথ তাদের ভোটব্যাংকে ফাটল ধরাবে বলেই আশঙ্কা করছেন প্রার্থীরা।

    ইতিমধ্যেই কাশ্মিরে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রস্তাবনা পাশ করে রানির দেশে ভারতীয়দের চক্ষুশূল হয়েছে বিরোধী দল লেবার পার্টি। ব্রেক্সিট নিয়ে জটিলতার জেরে দীর্ঘদিনের কনজারভেটিভ পার্টি সরকারের পতনের আশঙ্কা এবার যথেষ্টই। পাল্লা ভারী লেবার পার্টির দিকে। কিন্তু সম্প্রতি কাশ্মির ইস্যুতে ‘ভারতবিরোধী’ অবস্থান বিপদ বাড়িয়েছে তাদের।
    কিছু ভারতীয় বংশোদ্ভূত সংগঠন সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং হোয়াটসঅ্যাপে লেবার পার্টিকে আক্রমণ করে ভোটারদের প্রভাবিত করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, একটি ট্যুইট বার্তায় জেরেমি করবিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টিকে ‘ভারতবিরোধী’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ কেউ আবার এও বলছেন, করবিন প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্কের অবনতি হবে।

    এর মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমপি তথা ব্রেক্সিট পার্টির নেতা নাইজেল ফ্যারাজ ঘোষণা করেছেন, ২০১৭ সালে কনজারভেটিভ পার্টির জেতা আসনে তার দল প্রার্থী দেবে না। কিন্তু লেবার পার্টির জেতা সব আসনেই তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যদিও, কাশ্মির ইস্যুটি ভোটে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেবার এমপি বীরেন্দ্র শর্মা।

    একটি বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, ‘মাতৃভূমির ভাগাভাগিকে দূরে সরিয়ে রেখে আজকের ব্রিটেনের উপর আমাদের জোর দেয়া উচিত। কাশ্মির সেখানকার মানুষদের বিষয়। এবং ভারতের সংবিধান এবং আইন মেনেই সেখানকার যাবতীয় দ্বন্দ্বের সমাধান হবে। এটা কোনোভাবেই এই নির্বাচনের ইস্যু নয়। আমরা কোন ব্রিটেনে বাস করতে চাই, এবারের নির্বাচনে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

    তবে, বিষয়টিকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না ব্রিটেনের পার্লামেন্টের প্রথম পাগড়িধারী শিখ সদস্য তনমনজিৎ সিং ধেসি। ২০১৭ সালে প্রথমবার জয়ী হন এই লেবার এমপি। ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিদ্বেষকে খুবই আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছেন বার্কশায়ারের স্লাও থেকে প্রার্থী হওয়া তনমনজিৎ। জেরেমি করবিনের পেশ করা কাশ্মির প্রস্তাবনা নিয়ে হওয়া যাবতীয় বিতর্ককে ভুল বোঝাবুঝি বলেই ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

    তার মতে, কোনোভাবেই ভারতের বিরোধিতা করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। তারা মানবাধিকারের উপর জোর দিয়েছিলেন। যদিও ওই প্রস্তাবনায় কাশ্মিরকে বিতর্কিত এলাকা হিসেবে মেনে নেয়া এবং কাশ্মিরিদের জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাবনা মেনে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছিল।

    এদিকে, প্রস্তাবনাটি প্রত্যাহারের জন্য ট্যুইটারে করবিনের উপর চাপ বাড়িয়েছে ‘রেসপেক্ট ব্রিটিশ ইন্ডিয়ানস’ নামে একটি সংগঠন। ১০০-রও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে তারা। এবারের নির্বাচনে ১৫ লক্ষ ভোট রয়েছে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের। ফলে তাদের হাতে রাখতে চায় সবপক্ষই। ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বড় অংশ বরাবরই লেবার পার্টির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালে ডেভিড ক্যামেরনের সময় থেকেই তা চলে যায় কনজারভেটিভ পার্টির ঝুলিতে।

    বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, এক্ষেত্রে একটিমাত্র ইস্যুতে ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা আদৌ হচ্ছে না। ব্রেক্সিট, করব্যবস্থা সংস্কার এবং অন্যান্য ইস্যু এবারের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। এর উপরে জাতীয়তাবাদ বিরোধী আবেগ কাজ করলে সহজেই উপমহাদেশের বংশোদ্ভূতদের ভোটে বিভাজন ধরানো সম্ভব হবে

  • পাকিস্তান জাদুঘরে অভিনন্দনের মূর্তি বসানো নিয়ে ভারতীয়দের ক্ষোভ

    পাকিস্তান জাদুঘরে অভিনন্দনের মূর্তি বসানো নিয়ে ভারতীয়দের ক্ষোভ

    সীমান্তে আটকের পর দেশে ফেরা ভারতীয় সেই উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের একটি মূর্তি বসানো হয়েছে পাকিস্তানের একটি জাদুঘরে। সেখানে রাখা হয়েছে তার চা পান করার সেই কাপটিও। এই ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

    তাকে নিয়ে একের পর এক খবর ছাপানোর সঙ্গে তার ছবিসহ শাড়ি বিক্রি করা হয়েছে ভারতে। তার মত করে গোঁফ রেখেছেন কেউ কেউ। তার নামে সন্তানের নামও রেখেছেন ভারতীয়রা। কিন্তু এবার অভিনন্দন নিয়ে মাতলেন পাকিস্তানিরা। করাচিতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ওয়্যার মিউজিয়ামে এই ভারতীয় উইং কমান্ডারের একটি ম্যানিকুইন বসানো হয়েছে।
    পাকিস্তানের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনোয়ার লোধি টুইটারে অভিনন্দনের ‘ম্যানিকুইন’-এর ছবি পোস্ট করেন।

    তিনি লিখেছেন, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর মিউজিয়ামে অভিনন্দনের ম্যানিকুইন প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। তার হাতে চায়ের কাপ ধরাতে পারলে বিষয়টি আরও আকর্ষণীয় হতো।

    আনোয়ার লোধির টুইটারে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অভিনন্দনের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন এক পাকিস্তান সেনা। আর পেছনে কাচের পাটাতনে অভিনন্দনের ব্যবহৃত চায়ের কাপটিও দেখা যাচ্ছে।

    সে টুইটের পরই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনায় মেতে ওঠেন পাকিস্তানের নেটিজেনরা।

    অনেকেই বলেন, অভিনন্দনকে পাকিস্তান কারাগারে আদর করে সম্মানের সহিত ফিরিয়ে দিলেও ভারতে গিয়ে বন্ধুত্বের সেই মর্যাদা তিনি রাখেননি। ভোল পাল্টে পাকিস্তানের নামে নিন্দা ও অপপ্রচার করেছেন। তাকে ভারতীয়রা বীর বলে আখ্যা দিলেও বস্তুত তিনি প্রতারক। আর সেই প্রতারকের মূর্তি পাকিস্তানের জাদুঘরে কেন স্থাপিত হলো তা বোধগম্য নয় তাদের কাছে।

    এদিকে পাকিস্তানের মিউজিয়ামে ভারতীয় এই উইং কমান্ডারের মূর্তি স্থাপনের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেননি ভারতীয়রা। এ ঘটনায় পাকিস্তানকে সমুচিত জবাব দেয়া হবে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

  • হাঙরের পেটে মিলল নিখোঁজ পর্যটকের হাত!

    সাপ্তাহিক ছুটিতে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন গিয়েছিলেন দম্পতি। স্ত্রীকে হোটেলে রেখে স্বল্প সময়ের জন্য সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হন স্বামী। সেই থেকে হন্যে হয়ে চলছে খোঁজ।

    বুধবার খোঁজ মিলল বটে, কিন্তু নিখোঁজ ব্যক্তির নয়। তার ছিঁড়ে নেওয়া হাত মিলল হাঙরের পেটে। আঙুলের বিয়ের আংটি দেখে স্বামীর হাত শনাক্ত করলেন স্ত্রী! তবে কি হাঙরের পেটেই গিয়েছেন স্বামী? নাকি তাঁর হাত ছিঁড়ে নিয়েছে হাঙর? এ প্রশ্নের জবাব এখনও স্ত্রীর অজানা।
    স্কটিশ এই পর্যটককে শেষ দেখা গিয়েছিল ফরাসি রিইউনিয়ন দ্বীপে। মাদাগাস্করের কাছে এই সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটছিলেন ৪৪ বছরের ওই ব্যক্তি। সম্প্রতি সেই সৈকতের কাছ থেকেই ধরা পড়েছে একটি টাইগার শার্ক, আর তার পেট থেকে উদ্ধার হয়েছে ছেঁড়া হাত!

    স্থানীয় বাসিন্দা এরিক কোয়েলকিউজেউয়ের কথায়, ‘সেন্ট গিলসে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন ওই ব্যক্তি। উনি যেখানে সাঁতার কাটতে নেমেছিলেন, সে জায়গাটা প্রবাল প্রাচীরে ঘেরা। এর মধ্যে খুব সরু একটা অংশ দিয়ে গভীর সমুদ্রে যাওয়া যায়, কিন্তু অংশটা মোটামুটি নিরাপদ বলেই জনতাম। অনেকক্ষণ খোঁজ না পেয়ে তার স্ত্রী সমুদ্রতটে আসেন। পাগলের মতো কাঁদছিলেন ওই নারী। হেলিকপ্টার, বিমান, নৌকা, ডুবুরি নামিয়েও খোঁজ মেলেনি। এর কয়েকদিন পর গবেষণার প্রয়োজনে এখান থেকে বেশ কয়েকটি হাঙর ধরা হয়। নিখোঁজ ব্যক্তির হাত মিললেও কী ঘটেছে, তা স্পষ্ট নয়।’

    এরিক জানালেন, এই দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে বেশ কিছু জায়গায় সাঁতার কাটার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে পোস্টার রয়েছে, কিন্তু অনেকেই তা মানে না। রিইউনিয়ন দ্বীপে সাম্প্রতিক সময়ে হাঙরের একাধিক হামলাও মানুষকে সচেতন করতে পারেনি। যে লেগুনের সামনে থেকে ব্যক্তি নিখোঁজ হন, তার ৭ কিলোমিটার দূর থেকে ধরা হয়েছে হাঙরটিকে।

    চলতি বছরে রিইউনিয়ন দ্বীপে এখনও অবধি হাঙরের শিকার হয়েছেন দু’জন। এই দ্বীপের সব সমুদ্রতটে সাঁতার এবং ওয়াটার স্পোর্টস নিষিদ্ধ করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল মাক্রঁ গত মাসে জানান, ২০২২-এর মধ্যে ফের ওয়াটার-স্পোর্টস চালু করতে চান। কিন্তু সেটা কতটা নিরাপদ হবে, প্রশ্ন