Category: আন্তর্জাতিক

  • সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে আমদানি করেই মালদ্বীপে পিয়াজ পাঠাচ্ছে ভারত

    সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে আমদানি করেই মালদ্বীপে পিয়াজ পাঠাচ্ছে ভারত

    বর্তমানে পিয়াজ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভারত। ফলে নিজেদের চাহিদা পূরণে বাইরের দেশ থেকেও তাদের পিয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে। এ কারণে গত মাস থেকেই বাংলাদেশে এই পণ্যটির রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে প্রতিবেশী দেশটি। এতে বাংলাদেশকে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তবে নিজেদের সংকটের মধ্যেও দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দক্ষিণ এশিয়ারই আরেকটি দেশ মালদ্বীপে পিয়াজ রপ্তানি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ভারত।

    মালদ্বীপের রাজধানী মালে’তে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের এক টুইট বার্তার বরাত দিয়ে সোমবার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এ তথ্য জানায়।
    রবিবার টুইট বার্তায় ভারতীয় দূতাবাস জানায়, আমাদের ‘মালদ্বীপীয় বন্ধুদের’ নিশ্চিত করছি যে, পিয়াজ সংকটের কারণে এক লাখ টন আমদানি ও মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও ভারত মালদ্বীপে পিয়াজ রপ্তানি অব্যাহত রাখবে।

    টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, মালদ্বীপ তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য প্রায় পুরোটাই ভারতের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে নিজেদের সংকট কাটাতে আফগানিস্তান, তুরস্ক, ইরান ও মিসর থেকে পিয়াজ আমদানি করছে ভারত। এরপরও পিয়াজসহ অন্যান্য পণ্য মালদ্বীপে রপ্তানি অব্যাহত রাখবে ভারত।

    এর আগে, গত শনিবার ভারতের খাদ্যমন্ত্রী রাম বিলাস পস্বন জানিয়েছিলেন, চলমান সংকটের কারণে ভারত এক লাখ টন পিয়াজ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করছে।

    গত মাসে ভারত হঠাৎ করেই বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে দেশের বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে এর দাম। এ নিয়ে তৈরি হয় নানা আলোচনা। অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালেও এ বিষয়টি ছিল আলোচনার শীর্ষে। সেখানে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অনেকটা রসিকতা করেই বলেছিলেন, পিয়াজ নিয়ে আমাদের সামান্য সমস্যা হয়ে গেলো। আমি জানি না, কেন আপনারা পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু, আমি আমার রাঁধুনীদের বলে দিয়েছি, এখন থেকে রান্নায় পিয়াজ দেওয়াই বন্ধ করে দাও

  • বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার কারণ কী

    বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার কারণ কী

    চীনের কাছে অপরাধী প্রত্যর্পণে আইন করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে হংকং। ছবি: রয়টার্সবিশ্বের কোন কোন দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে, তার হদিস রাখাটা এই সময়ে কোনো এক ব্যক্তির পক্ষে প্রায় অসম্ভব একটি কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, সহিংস হোক বা অহিংস হোক বিশ্বের অনেকগুলো দেশে বর্তমানে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। প্রতিটি মহাদেশই এই অস্থির ঢেউয়ে আক্রান্ত বলা চলে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে এমন দেশের তালিকায় আলজেরিয়া, বলিভিয়া, ব্রিটেন, স্পেন, চিলি, ইকুয়েডর, ফ্রান্স, গিনি, হাইতি, হন্ডুরাস, হংকং, ইরাক, কাজাখস্তান, লেবাননসহ আরও দেশ রয়েছে। আর চলতি মাসের শুরুতেই তালিকাটিতে ঢুকে পড়েছে পাকিস্তান। দশ হাজারেরও বেশি মানুষ দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে জড়ো হয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগ চেয়েছে।

    গত শতকের আশির দশকের শেষ ও নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে যে গণ-আন্দোলন হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার সঙ্গে কিছুটা তুলনীয়। তবে যথাযথ তুলনাটি টানতে হলে তাকাতে হবে আরও পেছনে। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে বিশ্বব্যাপী যে গণ-আন্দোলনের ঢেউ উঠেছিল দেশ ও আন্দোলনকারীদের সংখ্যার বিচারে এই সময়ের চরিত্রটি তার সঙ্গে অনেকটা মেলে।

    তবে উল্লিখিত দশকগুলোয় বিশ্বব্যাপী হওয়া গণ-আন্দোলনের সঙ্গে শুধু সংখ্যার বিচারেই এ সময়ের আন্দোলনগুলো তুলনীয়; চরিত্র বিচারে নয়। সে সময়ে আন্দোলনগুলো অনেক বেশি পরস্পর-সম্পৃক্ত ছিল। বিপরীতে বর্তমানে উত্তাল বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে চলা আন্দোলনগুলো অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ও স্বতঃস্ফূর্ত। বিভিন্ন দেশের আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ ও লক্ষ্যের মূলটি একই হলেও আন্দোলনকারীরা তা যথাযথভাবে শনাক্ত করতে না পারায় এই বিচ্ছিন্নতা থেকে যাচ্ছে।

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, পাকিস্তানে চলমান আন্দোলনের মূলে রয়েছে অর্থনীতি, যা মুদ্রাস্ফীতি ও আইএমএফ প্রস্তাবিত ব্যয় সংকোচন নীতিতে আরও সংকটাপন্ন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং গত জাতীয় নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ। অন্য দেশগুলোর দিকে তাকালে এর অন্তর্নিহিত ঐক্যের দেখা পাওয়া গেলেও তা দূরদর্শিতার অভাবে বিচ্ছিন্ন থেকে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে করা কলের ওপর করারোপের প্রতিবাদে লেবাননে আন্দোলনের সূচনা হয়। হংকং উত্তাল হয়েছে চীনের কাছে অপরাধী প্রত্যর্পণের জন্য আইন করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিবাদে, স্পেনের কাতালোনিয়ায় স্বাধীনতার সমর্থকদের কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে, ব্রিটেনে দ্বিতীয় ব্রেক্সিট গণভোটের দাবিতে আন্দোলনের সূচনা হয়।

    আন্দোলন সূচনার এই কারণগুলোর মধ্যে মোটাদাগে কোনো ঐক্য নেই। অনেকটা স্থানিক ও সাময়িক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই আন্দোলনগুলোর জন্ম বলে মনে হয়। কিন্তু তেমন হলে এটি অল্প দিনেই শক্তি হারিয়ে ফেলার কথা। তা কিন্তু হচ্ছে না। ফলে প্রাথমিক দাবিটি থেকে অন্য কোথাও চোখ বোলাতে হয়, যেখানে মূলত অর্থনৈতিক অসাম্য ও চাপিয়ে দেওয়া নীতিই কারণ হিসেবে সামনে আসে। কিন্তু দেশের ভূগোলে ভাগ হয়ে থাকা আন্দোলনকারীরা এই মৌল কারণটিকে শনাক্ত ও সামনে না এনে বিচ্ছিন্ন থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

    বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শুরু থেকেই দেশে দেশে চলমান এই আন্দোলনগুলোর ধরনকে চিহ্নিত করার চেষ্টা শুরু করছেন পণ্ডিতেরা। মোটাদাগে তাঁরা এই সময়ের আন্দোলনগুলোর ব্যাখ্যা হিসেবে তিনটি ব্যাখ্যাকে হাজির করছেন। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক ও জনমিতিক ব্যাখ্যা। আর তৃতীয়টি যথারীতি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব।

    ফরেইন অ্যাফেয়ার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মেট্রো ভাড়ার হার ৪ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়াতে চিলি উত্তাল হয়ে উঠলেও তা মৌলিক কারণ নয়। কারণ, সেখানকার সাধারণ মানুষ অনেক আগে থেকেই অর্থনৈতিক অসাম্যের দরুন ক্ষোভে ফুঁসছিল। বামপন্থীদের দৃষ্টিতে এটি ব্যর্থ ও অকার্যকর পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিপরীতে সাধারণ মানুষের বিস্ফোরণ।

    বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সমাজতান্ত্রিক ঘরানার অস্ট্রেলীয় পত্রিকা রেড ফ্ল্যাগ বলছে, দশকের পর দশক ধরে চলা ব্যবস্থার কারণেই এটি ঘটছে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নয়া উদারবাদী ধারায় শ্রমিক ও দরিদ্রদের পকেট কাটার যে নীতি প্রণীত ও অনুসৃত হয়েছে দেশগুলোয়, তা-ই সংকটকে জটিল ও বিস্ফোরণোন্মুখ করে তুলেছে। এই সংকট মূলত দেশগুলোর অনুসৃত ব্যবস্থার সংকট। এমনকি মুক্তবাজার অর্থনীতির ভক্তরাও বিভিন্ন দেশে তৈরি হওয়া জন-অসন্তোষের কারণ হিসেবে ক্রমবর্ধমান অসাম্যকেই দায়ী করছেন। লাতিন আমেরিকায় চিলিকে এক সময় সবচেয়ে স্থিতিশীল দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অথচ বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশটি দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন থেকে পিছিয়ে এসেছে। এই অস্থিরতার পেছনেও রয়েছে অসাম্যই। কারণ, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর জোট ওইসিডিভুক্ত এ দেশে কিছু কিছু সূচকে সবচেয়ে বেশি অসমতা রয়েছে।

    জনমিতিক ব্যাখ্যা মূলত আন্দোলনকারীদের গড় বয়স দিয়েই এর ধরনটিকে শনাক্ত করতে চায়। এ ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, বিভিন্ন দেশে চলমান আন্দোলনের মূল শক্তি হচ্ছে তরুণেরা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পত্রিকা টাইমস জানাচ্ছে, বিশ্বে বর্তমানে চলমান আন্দোলনগুলোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এক-তৃতীয়াংশের বয়স ২০ বছরের নিচে। এই বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারীর বোঝার বয়সটি হয়েছিল কিন্তু ২০০৭-০৮ সালে, সর্বশেষ মহামন্দার সময়। বুঝতে শিখেই সে দেখেছে অস্থিরতা। এরা শিক্ষিত এবং অসাম্যের শিকার। এ ক্ষেত্রে ১৯৬০-এর দশকের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এদের চারিত্রিক সাদৃশ্য রয়েছে। সে সময় উচ্চশিক্ষার প্রসারে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একটি উচ্চশিক্ষিত শ্রেণির উদ্ভব হয়েছিল। বয়সে তরুণ এই বিপুল জনগোষ্ঠীর সামনে ছিল উপার্জনের অনিশ্চয়তা। একই ধরনের অনিশ্চয়তাকে সঙ্গে নিয়ে বেড়ে উঠেছে বর্তমান আন্দোলনকারী প্রজন্ম, যারা শিক্ষিত হলেও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তাশূন্য।

    আর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তো সবারই জানা। যেকোনো দেশের সরকারই তার বিরুদ্ধে হওয়া যেকোনো আন্দোলনকে এই তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারলে বর্তে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা বহিঃশক্তিকে কারণ হিসেবে দেখায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হাজির করে পেছনের মূল খেলোয়াড় হিসেবে। চীন যেমন হংকংয়ে চলমান আন্দোলনকে মার্কিন ও ব্রিটিশ কারসাজি হিসেবে দেখাতে তৎপর, পাকিস্তান তেমনি প্রতিবেশীর ষড়যন্ত্র হিসেবে তার জনরোষকে দেখাতে চায়। একইভাবে চিলি, বলিভিয়ার মতো দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার দায় চাপাতে চায় কিউবা ও ভেনেজুয়েলার ওপর।

    মেট্রো ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হলেও চিলির আন্দোলনের মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক অসাম্য। ছবি: রয়টার্সএই সবগুলো কারণ ও ব্যাখ্যাকেই ধর্তব্যে নেওয়া যেতে পারে। কোনো কোনো দেশে অন্য দেশের হস্তক্ষেপের তত্ত্বটিও খাটে বৈকি। কিন্তু এই কোনো ব্যাখ্যাই এখনকার ক্রম-উত্তাল বিশ্বের পেছনের কারণটিকে শনাক্ত করতে পারে না। প্রথমত, ২০০৭-০৮-এর মহামন্দার সময়ের চেয়ে নিশ্চয় এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থা ভালো। সে সময় যদি, গোটা বিশ্ব একযোগে উত্তাল না হয়ে ওঠে, তবে এখন কারণ কী? তরুণ জনগোষ্ঠী তো তখনো ছিল। তরুণেরাই বিভিন্ন আন্দোলনের মূল শক্তি—এ তো ঐতিহাসিক সত্য। তাহলে, জনমিতিক ব্যাখ্যাটিও যথেষ্ট নয়। তাহলে কারণটি কোথায়?

    এই শেষ প্রশ্নটিই তাকাতে বলে ব্যবস্থার দিকে। ব্যবস্থা বলতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেরি করা উদারবাদী গণতন্ত্রের যে কাঠামো, তার দিকে তাকানোটা জরুরি। প্রতিটি মহাদেশেই এই কাঠামোটি হয় আক্রান্ত, নয় তো ভেতর থেকে ক্ষয়ে গেছে। কোনো দেশের মানুষ হয়তো মনে করছে, তাদের ভোটের শক্তিটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কোনো দেশের মানুষ আবার ভাবছে ভোটের এ পদ্ধতিই ত্রুটিপূর্ণ। আবার হয়তো কোনো দেশে নির্বাচনী পুরো ব্যবস্থাই ঠিক আছে, কিন্তু মানুষ ঠিক নির্বাচিতদের বিশ্বাস করছে না। তারা ভাবছে, নির্বাচিতরা তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। অর্থাৎ, মোটাদাগে জনসাধারণ নিজেকে ‘ক্ষমতাহীন’, ‘গুরুত্বহীন’ মনে করছে। সে মনে করছে, তার কথা নীতিনির্ধারকেরা শুনছেন না। ফলে তার পক্ষে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও চিৎকার করে নিজের কথাটি বলা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর থাকছে না।

    যেহেতু মুক্তবাজার পণ্যকেই শুধু অবারিত করেনি, সমস্যা ও সম্ভাবনাকেও অবারিত করেছে, সেহেতু বিদ্যমান ব্যবস্থায় কোনো একটি দেশ বা অঞ্চলের পক্ষে বাকি বিশ্বের সংকটের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলা সম্ভব নয়। ফলে একচেটিয়াপনা, কর্তৃত্ব, দুর্নীতি ইত্যাদি সমস্যারও এক ধরনের বিশ্বায়ন হয়। তাই বর্তমান বিশ্বকাঠামোয় অর্থনীতির শক্তি বিচারে বিভিন্ন দেশ আলাদা কাতারে থাকলেও অসাম্য বিবেচনায় সবাই একই কেন্দ্রের সঙ্গেই যুক্ত। তাই এক দেশে শুরু হওয়া গণ-আন্দোলন অন্য দেশগুলোতেও সঞ্চারিত হচ্ছে। কখন কোথায় সঞ্চারিত হবে, তা নির্ভর করছে শুধু ওই নির্দিষ্ট ভূগোলে দৃশ্যমান সংকটের ব্যাপ্তির ওপর। গণ-আন্দোলনের আগের দুটি ঢেউয়ের সঙ্গে এবারের ঢেউটি আলাদা থেকে যাচ্ছে সুনির্দিষ্ট আদর্শের অনুপস্থিতিতে। আগের দুটি ক্ষেত্রেই সুস্পষ্ট আদর্শ সামনে ছিল আন্দোলনকারীদের সামনে। এবার এখনো তেমন কোনো সাধারণ আদর্শের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। তবে বিরোধটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে; আর তা হলো অসাম্যকে বল্গাহীন করা পুঁজির কাঠামো।

  • দুর্ভিক্ষের পথে হাঁটছে উত্তর কোরিয়া

    দুর্ভিক্ষের পথে হাঁটছে উত্তর কোরিয়া

    উত্তর কোরিয়া প্রবল খাদ্য সংকটের মুখে। গত কয়েক দশকের ভেতর সবচেয়ে বেশি খরার মধ্যে পড়েছে দেশটি। এতে ফসল ফলাতে সমস্যা মুখে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের। এটি দেশটির মারাত্মক খাদ্য ঘাটতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটি এমন সঙ্কটের মুখ দেখতে হয়নি। জাতিসংঘ বলছে, উত্তর কোরিয়ার প্রতি দশ জন নাগরিকের চার জনের খাদ্য সহায়তা দরকার। আর এই বছর গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম খাদ্য উৎপাদিত হয়েছে দেশটিতে।

    উত্তর কোরিয়ায় খাদ্যসহ সবক্ষেত্রে সঙ্কট থাকলেও অর্থ ঢালা হচ্ছে পরমাণু কর্মসূচিতে। আর সেই অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সঙ্কট আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। প্রায় এক কোটি মানুষ- যা দেশটির মোট জনসংখ্যার অন্তত ৪০ শতাংশ, তারা বড় ধরনের দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে চলেছে।
    উত্তর কোরিয়ার মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশকে রেশন দেওয়া হয়। আগে তাদের পাঁচশ ৫০ গ্রাম করে খাবার দেওয়া হতো। কিন্তু মে মাসে তা নেমে আসে তিনশ কেজিতে। বছরের প্রারম্ভিক ফসলের ক্ষতি হওয়া তাদের খাবারের পরিমাণ কমে গেছে।

    দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ ও উত্তর হাওয়ানহে এবং দক্ষিণ পিয়ংগাইনে সবচেয়ে বেশি খাদ্যদ্রব্য উৎপাদিত হয়। সেখানে এবারো ফসল উৎপাদন হয়েছে কিন্তু অন্যান্য বারের থেকে অনেক কম। সেই সঙ্গে ফসলের মানও অনেক খারাপ। গ্রীষ্মকালে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং স্বল্প জলাস্তরের কারণে ফসল উৎপাদনে সমস্যা হয়েছে। এই কারণে উত্তর কোরিয়ার সামগ্রিক খাদ্য পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে আশা করা যায় না। তাই দেশটিতের নেমে আসতে পারে বড় ধরনের দুর্যোগ। নেমে আসতে পারে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।

    উত্তর কোরিয়া বসন্তকালে ও গ্রীষ্মে মারাত্মক কয়েকটি খরার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই সঙ্গে গত সেপ্টেম্বরে দেশটি কৃষি জমি প্লাবিত হয়েছিল টাইফুন লিংলিংয়ায়। এই কারণে আরো খাবার সঙ্কট গভীর হয়। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলে, ভালো মানের চাল না থাকা এবং ভুট্টা চাষের কারণে দেশটির ১০ মিলিয়নেরও বেশি লোককে জরুরি খাদ্য সহায়তা দিতে হতে পারে।

    নিষেধাজ্ঞা থাকার পরো খাদ্য সঙ্কট মোকাবিলায় এগিয়ে আসছে চীন। শুধু চীন নয় কোরিয়ার আরো অনেক মিত্র দেশই তাদের সাহায্য করছে। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়াকে ৫০ হাজার টন চাল দিতে চেয়েছিল। কিন্তু উত্তর কোরিয়া তা নিতে রাজি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকায় উত্তর কোরিয়া চাল নিতে প্রত্যাখ্যান করে।

    নিষেধাজ্ঞাও নানাভাবে দেশটির খাদ্য সঙ্কট বাড়িয়ে দিয়েছে। লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক হ্যাজেল স্মিথ এমনটাই মনে করেন। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞায় উত্তর কোরিয়ার কাছে তেল বা গ্যাস ভিত্তিক দরকারি কৃষি সরঞ্জাম বিক্রির ওপর নিষেধ রয়েছে, যার ফলে দেশটিতে সার, কীটনাশক বা সেচের মতো কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। তেল নির্ভর সরঞ্জামের অভাবে উৎপাদনের হার কমে যায় এবং অনেক কম খাদ্য উৎপাদিত হয়।

  • ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার একমাত্র কারণ আমেরিকা : চীন

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার একমাত্র কারণ আমেরিকা : চীন

    চীন বলেছে, আমেরিকার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতির কারণেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বেইজিং আরো বলেছে, মার্কিন সরকার একতরফাভাবে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

    পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে মস্কো সফরে গিয়ে এসব কথা বলেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক পরিচালক ফু কং।ইরানের পক্ষ থেকে পরমাণু সমঝোতায় দেয়া চতুর্থ দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
    ফু কং বলেন, ইরান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ প্রচেষ্টায় কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করবে না বরং তেহরান এখনো পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি’তে অটল রয়েছে।চীনা এই কূটনীতিক আরো বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করলে ইরান এ সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি আবার বাস্তবায়ন করতে শুরু করবে বলে ঘোষণা করেছে।

    ২০১৮ সালের মে মাসে আমেরিকা গায়ের জোরে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিন ইউরোপীয় দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানের স্বার্থ রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তেহরানকে এ সমঝোতায় অটল থাকার আহ্বান জানায়।কিন্তু এসব দেশ গত দেড় বছরেও ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

    এর প্রতিবাদে ইরানও ২০১৯ সালের মে মাস থেকে পরমাণু সমঝোতায় নিজের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখতে শুরু করেছে। তেহরান এখন পর্যন্ত চার দফায় তার প্রতিশ্রুতি স্থগিত রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে। সর্বশেষ ফোরদু পরমাণু স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেছে ইরান এবং এদেশের আণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বলেছেন, এই স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা পরমাণু সমঝোতা পূর্ব অবস্থায় ফিরে গেছে।

  • বলিভিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিও বিক্ষোভকারীদের দখলে

    বলিভিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিও বিক্ষোভকারীদের দখলে

    বলিভিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওর কর্তৃত্ব দখলে নিয়েছে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীরা। দুই মিডিয়ার কর্মরতদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের স্বার্থ সিদ্ধিতে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় টিভি ও রেডিওর প্রধান ইভান মেলডোনাডো বলেছেন, কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের হুমকির মুখে আমাদের জোর করে বের করে দেয়া হয়েছে।
    প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে ৬টি শহরের পুলিশ। এতে সমর্থন দিয়েছে রাজধানী লাপাজের পুলিশরাও। ইভো মোরালেসের প্রাসাদের রক্ষায় থাকা পুলিশরাও তাদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে বিদ্রোহী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।

    গত ২০ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইভো মোরালেসের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ আনে বিরোধী দল। এরপর থেকে
    দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। এতে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

  • বাবরি মসজিদের রায়ে জয়-পরাজয় দেখা উচিত নয় : মোদি

    বাবরি মসজিদের রায়ে জয়-পরাজয় দেখা উচিত নয় : মোদি

    অযোধ্যার বিতর্কিত বাবরি মসজিদ মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একাধিক টুইট বার্তায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    আজ শনিবার এক টুইটে মোদি লিখেন, ‘মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যা ইস্যুতে রায় দিয়েছেন। রাম ভক্ত হোক বা রহিম ভক্ত হোক, এই রায় কারও পক্ষে জয় বা পরাজয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। রাষ্ট্রীয় ভক্তির চেতনা জোরদার করা আমাদের পক্ষে আবশ্যক। শান্তি ও সম্প্রীতি বিরাজ করুক!’

    অযোধ্যায় অবস্থিত বিতর্কিত জায়গাটি মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সরকার পরিচালিত ট্রাস্টকে দেওয়া হবে এবং উত্তর প্রদেশের পবিত্র শহরটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে সর্বসম্মতিক্রমে সুপ্রিম কোর্ট আজ এ রায় ঘোষণা করেছে। ১৯৯২ সালে অযোধ্যার এই জায়গাটিতে অবস্থিত বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর থেকে গত তিন দশক ধরে হিন্দু-মুসলিম বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে গোটা উপমহাদেশে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছিল। হিন্দু ধর্মালম্বীদের মতে দেবতা রাম এই জায়গাটিতে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে মুঘল সম্রাট বাবরের শাসনামলে সেখানে মসজিদ তৈরি করা হয়। রায় ঘোষণার পর সহিংসতার আশঙ্কায় সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। কমপক্ষে ১২ হাজার নিরাপত্তা কর্মী অযোধ্যায় প্রেরণ করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক, মধ্য প্রদেশ,দিল্লি ও রাজস্থানসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে।