Category: আন্তর্জাতিক

  • প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    শেষ পর্যন্ত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার জাতিসংঘকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়ে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী এক বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে। এদিকে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। খবর বিবিসি’র।

    আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    এর আগে ২০১৭ সালের জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ট্রাম্পের যুক্তি, প্যারিস চুক্তি মার্কিন স্বার্থ বিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাকারী একটি নতুন পরিবেশ চুক্তি করতে তিনি তখন আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে নতুন করে জলবায়ু চুক্তি সম্পাদন সম্ভব নয় বলে ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে।

    বিশ্বের মোট নিঃসরণ কৃত কার্বনের ১৫ শতাংশের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাই দায়ী। তাছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলা করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তাকারী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে নিন্দার ঝড় উঠেছে বিশ্বব্যাপি।

    ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। এই সিদ্ধান্ত জলবায়ু ও জীব-বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে ফান্স-চীন অংশীদারিত্বের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে’।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের স্পিকার নেন্সি পেলোসি এই সিদ্ধান্তকে ‘শিশুদের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেওয়ার মতো ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরিবেশকর্মী আর গোর এই সিদ্ধান্তকে ‘নিজেদের স্বার্থে বিশ্বকে বলিদান’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ফান্সের প্যারিসে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির হাত থেকে আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৮৮ টি দেশ জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনা এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমপক্ষে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়।

  • চীনে ভয়াবহ মুসলিম নির্যাতন, নিশ্চুপ গোটা বিশ্ব

    চীনে ভয়াবহ মুসলিম নির্যাতন, নিশ্চুপ গোটা বিশ্ব

    চোখ বন্ধ করে একবার ভাবুন তো, আপনি মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও নামাজ রোজা রাখতে পারছেন না, কোরআন ও অন্যান্য ইসলামিক জ্ঞান অর্জন করতে পারছেন না, নারীরা হিজাব চাইলেও ব্যবহার করতে পারছেন না, এমনকি সরকারি চাকরিতে হিজাবি নারীদের নিয়োগ পথ বন্ধ; এক কথায় ধর্মীয় স্বাধীনতার সকল পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সরকারিভাবে। তখন আপনি কি করবেন? এই প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে আপনারা হয়তো ভাবছেন, এমন কোন সমাজ ব্যবস্থার অস্তিত্ব কী বর্তমান পৃথিবীর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে! অথচ এমনি ঘটনা দীর্ঘ ৭০ বছর যাবত প্রত্যক্ষ করে আসছে চীনের উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়, চীন সরকারের নির্মম নির্যাতন এবং নৃশংশতার সাক্ষী শিনজিয়াং প্রদেশের ১ কোটি ১০ লাখ মুসলমান।

    চীনের শিনিজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিম নির্যাতনের কাহিনী বহু পুরোনো। চীনের একেবারে পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত সবচেয়ে বড় প্রদেশ এটি। শিনজিয়াং কাগজে কলমে স্বায়ত্তশাসিত হলেও, চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। এই অঞ্চলের শহরগুলোর ভেতর দিয়েই গেছে সিল্ক রোড, তাই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শিনজিয়াং এর অর্থনীতি কৃষি ও বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে উইঘুররা নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ১৯৪৯ সালে চীনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কিছুদিন পর চীনের কমিউনিস্ট সরকার উইঘুরদের বৃহত্তর চীনের সাথে যোগ দেয়ার প্রস্তাব জানায়। প্রস্তাব মেনে না নেয়ার পর থেকে শুরু হয় উইঘুর মুসলিমদের উপর নির্যাতন, নেমে আসে বিভীষিকাময় অত্যাচার। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নামে উইঘুরদের ধর্ম ও সংস্কৃতির স্থলে কমিউনিজম চাপিয়ে দেওয়ার জন্য চীনা কমিউনিস্টরা উঠে পড়ে লেগে যায়। এর অংশ হিসেবে তাদের ধর্মীয় শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়। ধর্মীয় প্রার্থনালয় ভেঙে দেয়া হয়। ধর্মীয় কার্যাবলীর উপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। চীনাদের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে যখন উইঘুররা বিদ্রোহ করা শুরু করে তখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সহায়তায় হাজার হাজার নিরীহ উইঘুরকে হত্যা করা হয়। একই সাথে অনেককে করা হয় গৃহহীন। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে ঢুকে প্রিয়জনদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে, সন্তানদের ধরে নিয়ে রাখা হচ্ছে ক্যাম্পে। এরকম ভীতিকর পরিস্থিতির মাঝেই চলছে তাদের জীবন।

    শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরদের নিজস্ব সংস্কৃতি ধ্বংস করে দেয়ার জন্য চীনের অন্য অঞ্চল থেকে মূল চীনাদের এখানে এনে পুনর্বাসন করা হয়। ফলে ১৯৪৯ সালে শিনজিয়াং এ যেখানে উইঘুর মুসলিমদের সংখ্যা ছিল ৯৫%, ১৯৮০ সালের মধ্যেই তা ৫৫% এ নেমে আসে। ১৯৮৮ সালে চীনাদের এই দমন পীড়নের হতে মুক্তি লাভ ও চীনের থেকে স্বাধীন হওয়ার জন্য উইঘুররা প্রতিষ্ঠা করেন – পূর্ব তুর্কিস্তান ইসলামিক পার্টি। এই সংগঠনের মাধ্যমে তারা কিছু প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু চীনা সরকার ১৯৯০ সালে সেখানে পরিকল্পিত ভাবে এক দাঙ্গা পরিচালনা করে। পরে এই দাঙ্গার অভিযোগেই হাজার হাজার উইঘুর যুবককে অন্যায়ভাবে হত্যা করে এবং কারাদণ্ড প্রদান করে চীন সরকার।

    উইঘুর তথা মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য যা যা করা দরকার তার কোন কিছুই বাকি রাখছে না চীনা প্রশাসন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতির মাধ্যমে সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছে। তা হুবুহু তুলে ধরছি, ‘উইঘুর সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। তাদের বাড়িঘরের দরজায় লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ কোড, বসানো হয়েছে মুখ দেখে সনাক্ত করা যায় এরকম ক্যামেরা। ফলে কোন বাড়িতে কারা যাচ্ছেন, থাকছেন বা বের হচ্ছেন তার উপর কর্তৃপক্ষ সতর্ক নজর রাখতে পারছে। তাদেরকে নানা ধরনের বায়োমেট্রিক পরীক্ষাও দিতে হচ্ছে।’

    জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটি ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেছে, প্রায় ১০ লাখ উইঘুরকে চীনের ‘সন্ত্রাসবাদ’ কেন্দ্রগুলোয় আটক রাখা হয়েছে। ২০ লাখ মানুষকে ‘রাজনৈতিক ও রাজনৈতিক পুনর্বিবেচনার শিবিরে’ অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়েছে। এসব তথ্যের সাথে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগের মিল পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, যেসব লোকজনের ২৬টি তথাকথিত ‘স্পর্শকাতর দেশের’ আত্মীয়-স্বজন আছেন তাদেরকে এসব ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান এবং তুরস্কসহ আরো কিছু দেশ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এছাড়াও যারা মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিদেশের কারো সাথে যোগাযোগ করেছে তাদেরকে টার্গেট করেছে কর্তৃপক্ষ।

    জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রাপ্ত তথ্য থেকে ভয়াবহ কিছু বিষয় জানা গেছে। ‘শিক্ষা শিবির’ নামক ক্যাম্পে যাদেরকে রাখা হয়েছে তাদেরকে চীনা ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হচ্ছে। কমিউনিস্ট পার্টির প্রশংসার কথা বলা এবং তাদের সঠিক আচরণ পরিচালনার নিয়মগুলো কঠোরভাবে মনে রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সমালোচনা করতে অথবা সেই ধর্ম পরিত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ অভ্যাসগুলোর অংশ হিসেবে চীন সরকার সাংঘর্ষিকভাবে শিনজিয়াংয়ের উইঘুর সংস্কৃতি ও জাতিগত সত্তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই শিক্ষাশিবিরের পাশাপাশি উইঘুর শিশুদের ক্যাম্প ও স্কুল রয়েছে, যেখানে তাদের পরিবার, ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। শিক্ষাশিবিরে পাঠানো লাখো উইঘুরের নির্মম নির্যাতনের ঘটনা বিশ্ব মিডিয়াতেও এসেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ২০০৯ সালের দাঙ্গার পর চীনা সরকারের সমালোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশের দায়ে চীন সরকার গোপনে বেশ কয়েকজন উইঘুর মুসলিম বুদ্ধিজীবীর বিচার করেছে। বিশিষ্ট উইঘুর ব্যক্তিত্ব গত কয়েক বছরে আটক বা অদৃশ্য হয়ে গেছেন শিনজিয়াং থেকে। এদের মধ্য আছেন ইসলামি শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ সালিহ হাজিম, অর্থনীতিবিদ ইলহাম তোকতি, নৃতাত্ত্বিক রাহাইল দাউদ, পপশিল্পী আবদুর রহিম হায়াত, ফুটবল খেলোয়াড় এরফান হিজিম প্রমুখ। ২০১৬ সালে ‘মেকিং ফ্যামিলি’ নামের একটি উদ্যোগ চালু করে চীন। এর মাধ্যমে উইঘুর পরিবারকে প্রতি দুই মাসে কমপক্ষে পাঁচ দিনের জন্য তাদের ঘরে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের হোস্ট করতে বাধ্য করে।

    শিনজিয়াং প্রদেশে সংবাদ মাধ্যম নিষিদ্ধ। তাই এসব অত্যাচারের নির্মমতা মানুষ খুব কমই জানতে পারছে। চীন সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। উইঘুর মুসলমানদের বিরুদ্ধে বর্বরোচিত নীতির ব্যাপারে চীন বলে যে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় চরমপন্থার মোকাবিলা করার জন্যই তারা নানান পলিসি নিতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু দাড়ি রাখা, রমজান মাসে রোজা রাখা কীভাবে ধর্মীয় চরমপন্থা, তা বিশ্ববাসীকে বোঝাতে পারে না। মূলত ধর্মীয় অনুষ্ঠান তাদের মতে চরমপন্থা। আর এই চরমপন্থা দমনের নামে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, জেল-জরিমানা চলছে। অপরদিকে গোটা বিশ্ব বিবেক এই বর্বর নির্যাতন চেয়ে চেয়ে দেখছে। মাঝেমধ্যে নিন্দা করে বিবৃতি দেওয়া ছাড়া কোনো দেশ এই ব্যাপারে তেমন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বা নিতে পারছেন না। তবে সকল উদারবাদী শান্তিপ্রিয় মানুষের একটাই চাওয়া, অচিরেই উইঘুর মুসলিমরা যেন চীনে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ফিরে পায়

  • দূষণ রোধে দিল্লিতে বিদ্যুৎ-চালিত বাস চান ম্যার্কেল

    দূষণ রোধে দিল্লিতে বিদ্যুৎ-চালিত বাস চান ম্যার্কেল

    দুই দিনের সফরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এসেছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। সংক্ষিপ্ত এই সফরে যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি কথা শুনতে হচ্ছে ম্যার্কেলকে, সেটি হলো দিল্লির বায়ুদূষণ। গত সপ্তাহে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দিল্লি এখন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর। অবস্থা লাগামছাড়া হওয়ায় গতকাল শুক্রবার জরুরি স্বাস্থ্য-সতর্কতাও জারি করতে হয়েছে রাজ্য সরকারকে। ম্যার্কেলকেও তাই কথা বলতে হয়েছে দিল্লির দূষণ নিয়ে। জরুরি এ সমস্যার একটা সমাধানও দিয়েছেন তিনি। দূষণ রোধে ডিজেলচালিত বাসের বদলে বিদ্যুৎ-চালিত বাস চালু করার কথা বলেছেন জার্মান চ্যান্সেলর।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ শনিবার ম্যার্কেল দিল্লির দূষণ নিয়ে কথা বলেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর বলেছেন, গণপরিবহনগুলো কেন ডিজেলের বদলে বিদ্যুৎ দিয়ে চালানো উচিত, সেটির আদর্শ উদাহরণ দিল্লি। ভারতকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তার হাত বাড়াবে জার্মানি, এমন ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ম্যার্কেল বলেছেন, ‘তামিলনাড়ুর গণপরিবহন খাতে সংস্কারের জন্য আমরা ২০০ মিলিয়ন ইউরো দেব। গতকাল যাঁরাই দিল্লির দূষণের অবস্থা দেখেছেন, তাঁরা সবাই বুঝবেন কেন গণপরিবহনগুলো ডিজেলের বদলে বিদ্যুৎ দিয়ে চালানো উচিত।’

    গত দুই বছরের মধ্যে দিল্লি বায়ুদূষণের দিক থেকে অন্যতম ভয়াবহ দিন পার করেছে গতকাল। গতকাল বিকেল চারটার দিকে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে দিল্লির স্কোর উঠেছিল ৪৮৪। আজ সকালে অবশ্য পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আপাতত জরুরি অবস্থা থেকে বের হয়ে এসেছে, তবে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দূষণের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, স্কুলগুলোও ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    গতকাল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও আঙ্গেলা ম্যার্কেলের মধ্যে বাণিজ্য, জলবায়ু খাত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজই জার্মানির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ম্যার্কেল দ্বারকা সেক্টর ২১ মেট্রো স্টেশন পরিদর্শন করবেন। ওই মেট্রো স্টেশনের সোলার প্যানেলগুলোর অর্থায়ন করেছে জার্মান সরকার।

    এর আগে গতকাল ম্যার্কেল বলেছেন, অবকাঠামোগত প্রকল্প, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি সরবরাহ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চায় জার্মানি। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিই ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার। ১ হাজার ৭০০টির বেশি জার্মান প্রতিষ্ঠান ভারতে বিনিয়োগ করেছে।

  • ইরানের নির্মান খাতের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

    ইরানের নির্মান খাতের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

    ইরানের নির্মাণ খাত লক্ষ্য করে তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নির্মাণ খাতে বিপ্লবী গার্ডের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে ওয়াশিংটন সূত্র। সেজন্য চলমান বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নতুন এই নিষেধাজ্ঞা সংযোজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর এএফপি’র।

    ইরানের পারমাণবিক, সামরিক বা ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কাজে ব্যবহার হওয়া আরো চারটি সামগ্রী এ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হবে বলে তারা জানায়। আর কৌশলগত দিক থেকে এসব সামগ্রী খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মর্গান ওর্তেগাস নামে একজন মুখপাত্র বলেন, ইরানের নির্মাণ খাত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণ করছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

  • ইসরাইলের হামলায় ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত

    ইসরাইলের হামলায় ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত

    গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরাইলের বিমান হামলায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ভূখন্ড থেকে চালানো রকেট হামলার জবাবে এ বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইল। হামাস শাসিত ভূখন্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিমান হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। খবর এএফপি’র।

    মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৭ বছর বয়সী আহমেদ আহমেদ আল-সাহরি গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের কাছে চালানো ইসরাইলের বিমান হামলা চলাকালে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

  • সৌদি যুবরাজের সঙ্গে মেয়ের ‘গোপন সম্পর্ক’ নিয়ে মুখ খুললেন লিন্ডসের বাবা

    সৌদি যুবরাজের সঙ্গে মেয়ের ‘গোপন সম্পর্ক’ নিয়ে মুখ খুললেন লিন্ডসের বাবা

    সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মার্কিন অভিনেত্রী ও গায়িকা লিন্ডসে লোহানের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন লিন্ডসের বাবা মাইকেল লোহান।

    তিনি দাবি করেছেন, মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তার মেয়ের গোপন রোমান্টিক সম্পর্ক নেই, যা আছে তা কেবলই বন্ধুত্বের।

    মিন গার্লস তারকা আর সৌদি যুবরাজের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন উঠলে এমনটা দাবি করেন মাইকেল লোহান।

    মাইকেল লোহান বলেন, ‘তারা দুইজন শুধুই বন্ধু (জাস্ট ফ্রেন্ড)। লিন্ডসে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন, সেখানে সে কাজ করে। বিশেষ করে শরণার্থীদের সহায়তায় সেখানে কাজ করছে সে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তার অনেক ক্ষমতাধর বন্ধু রয়েছে। সেখানে কাজ করতে গিয়ে সে মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা করেছে।’

    তিনি বলেন, ‘সিরিয়ায় শরণার্থী নিয়ে সে (লিন্ডসে লোহান) যেসব ভালো কাজ করছে, সেসব নিয়ে কেউ লিখছে না। তারা শুধু বাজে কথা শুনতে চায়।’

    মাইকেল আরও বলেন, ‘সৌদি যুবরাজের সঙ্গে লিন্ডসের সম্পর্ক শ্রদ্ধার এবং কামনা-বাসনাহীন। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।’

    মার্কিন তারকাকে একটি ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন উপহার দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ, এমনটা খবর বের হলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন উঠে।

    গত আগস্টে মার্কিন তারকার এক প্রতিনিধিও দাবি করেন, লিন্ডসের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের কোনো রোমান্টিক সম্পর্ক নেই। তাদের মধ্যে কোনও ক্রেডিট কার্ডও বিনিময় হয়নি।