Category: আন্তর্জাতিক

  • অস্ট্রেলিয়ায় নিখোঁজের দুই সপ্তাহ পর জীবিত উদ্ধার জার্মান পর্যটক

    অস্ট্রেলিয়ায় নিখোঁজের দুই সপ্তাহ পর জীবিত উদ্ধার জার্মান পর্যটক

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   প্রায় দুই সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর অস্ট্রেলিয়ায় জীবিত উদ্ধার হলেন জার্মান এক পর্যটক। দেশটির একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয় তাকে। পুলিশ জানায়, পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন ক্যারোলিনা উইলগা নামের ওই ব্যাকপ্যাকার।

    গত ২৯ জুন সবশেষ দেখা গিয়েছিলো ২৬ বছর বয়সী জার্মান পর্যটক ক্যারোলিনা উইলগাকে। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন এই ব্যাকপ্যাকার।

    মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ক্যারোলিনার। নিখোঁজের একদিন পর পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার ব্যবহৃত গাড়ি। বিদেশি এই পর্যটকের খোঁজে এরপর থেকেই বিকনের পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ। হেলিকপ্টার দিয়ে জনমানবহীন প্রত্যন্ত এলাকায় খোঁজা হয় ক্যারোলিনাকে।

    দিনের পর দিন উদ্ধার অভিযান চালানোর পরও ক্যারোলিনার সন্ধান পাওয়া না যাওয়ায় ক্ষীণ হয়ে আসছিলো তাকে জীবিত পাওয়ার আশা। তবে, নিখোঁজের ১২ দিন পর উদ্ধার হলেন এই নারী। পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন তিনি। শরীরে কয়েক জায়গায় ছোটখাটো আঘাতের চিহ্ন থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।

    অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ কর্মকর্তা জেসিকা সিকিউরো বলেন, আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, নিখোঁজ ব্যাকপ্যাকার ক্যারোলিয়ান উইলগাকে ব্যাপক অনুসন্ধানের ওপর নিরাপদে ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ১১ জুলাই বিকালে হুইটবেল্ট এলাকায় তাকে পাওয়া গেছে। ক্যারোলিনাকে ক্লান্ত, পানিশূন্য এবং ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখা গেছে। তার শরীরে কাটা-ছেঁড়ার মতো ছোটখাটো আঘাত ছিল। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    উল্লেখ্য, ২০২১ সালের সবশেষ জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী পার্থ থেকে ২৫৪ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত বিকন শহরের বাসিন্দা কেবল ১২৩ জন।

  • সাবেক রাশিয়ান পরিবহন মন্ত্রী রোমান স্তারোভোইতের মৃতদেহ উদ্ধার

    সাবেক রাশিয়ান পরিবহন মন্ত্রী রোমান স্তারোভোইতের মৃতদেহ উদ্ধার

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:      রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, সাবেক রাশিয়ান পরিবহন মন্ত্রী রোমান স্তারোভোইত মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মঘাতী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    তাকে সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বরখাস্ত করেছিলেন। স্তারোভোইতের বরখাস্তের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি এবং পরে সহকারী পরিবহনমন্ত্রী আন্দ্রেই নিকিতিনকে তার স্থলাভিষিক্ত ঘোষণা করা হয়।

    তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। স্তারোভোইত ২০২৪ সালের মে মাসে পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

    এর আগে, তিনি প্রায় ছয় বছর (২০১৮–২০২৪) রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে, ইউক্রেনীয় সেনারা একটি অভূতপূর্ব আক্রমণ চালিয়ে এই অঞ্চলের কিছু অংশ দখল করে নেয়।

    মস্কো সম্প্রতি ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সেখানে থেকে হটাতে সক্ষম হলেও, জুনের শেষ দিকে কিয়েভ দাবি করে যে তারা এখনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে একটি ছোট অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।

    স্তারোভোইতের উত্তরসূরি আলেক্সেই স্মিরনভ মাত্র অল্প সময়ের জন্য দায়িত্বে ছিলেন। এপ্রিল মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে ইউক্রেন সীমান্তে প্রতিরক্ষা বাংকার নির্মাণের তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

    স্তারোভোইত ঠিক কখন মারা গেছেন, তা স্পষ্ট নয়। রাশিয়ার স্টেট ডুমার প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান আন্দ্রেই কার্তাপোলভ সংবাদমাধ্যম আরটিভিআই-কে বলেছেন, তার মৃত্যু ‘কিছুদিন আগেই’ ঘটেছে।

    স্থানীয় সময় সোমবার (৭ জুলাই) স্তারোভোইতের মৃত্যুর খবর প্রকাশের আগে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদ এড়িয়ে যান যে, কুর্স্কের ঘটনায় পুতিন কি স্তারোভোইতের ওপর আস্থা হারিয়েছিলেন?

    পেসকোভ জবাব দেন, ‘আস্থা হারানোর কথা বলা হয় যখন আস্থা হারানো হয়।’

  • ভারতের রাজনীতিতে মামদানিকে নিয়ে ডানপন্থিদের কঠোর সমালোচনা

    ভারতের রাজনীতিতে মামদানিকে নিয়ে ডানপন্থিদের কঠোর সমালোচনা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জয় পেয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক জোহরান মামদানি। মাত্র ৩৩ বছর বয়সী এই তরুণ নেতা যুক্তরাষ্ট্রে বাম রাজনীতির নতুন মুখ হয়ে উঠেছেন, আবার ভারতে ডানপন্থীদের কড়া সমালোচনার শিকার।

    গালফ নিউজ‘র এক বিশ্লেষণ মতে, মামদানি একজন মুসলিম, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কঠোর সমালোচক এবং ইসরায়েলের গাজায় সামরিক হামলার বিরোধী — এসব কারণেই ভারতীয় ডানপন্থী মহলে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রবল। আবার তার সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, যেমন ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধির দাবি, বাস ভাড়া ফ্রি করা, শিশু যত্নে সরকারি সহায়তা— এসব কারণে ভারতের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।

    অনেকেই মামদানিকে ভারতের আম আদমি পার্টির সঙ্গে তুলনা করছেন। যেমনটি দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল করতেন, ঠিক তেমনভাবেই মামদানি প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার সামনে ‘বাধা সৃষ্টিকারী’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

    ভারতে মামদানির জনপ্রিয়তা নিয়ে চর্চা অবাক করার মতো নয়। সম্প্রতি পশ্চিমা বিশ্বে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতারা বিভিন্ন দেশে নেতৃত্বের আসনে বসছেন। রিশি সুনাক যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন — সেটি ভারতের ডানপন্থীরা উদযাপন করেছে। কারণ, সুনাক তার হিন্দু পরিচয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

    কিন্তু মামদানি হলেন উল্টো চিত্র। শুধু তার মুসলিম পরিচয়ই যেন তাকে বিতর্কের কেন্দ্রে এনে দাঁড় করিয়েছে। এমনকি কংগ্রেস নেতা অভিষেক সিংভিও মামদানিকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যা অনেকেই অশোভন বলেই মনে করছেন।

    এছাড়া, শিবসেনা নেতা মিলিন্দ দেওরা এক পোস্টে লিখেছেন, ‘অনেক মুম্বাইবাসী জানে মামদানি নিউইয়র্কের মেয়র হতে চলেছেন, কিন্তু মুম্বাইয়ের শেষ তিনজন মেয়রের নাম জানে না।‘

    মূলত মামদানির জয় ভারতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তা হলো — সিটি করপোরেশন ও নগর নেতাদের গুরুত্ব বোঝা এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো।

    মার্কিন রাজনীতিতে মামদানির এই বিজয় ডেমোক্র্যাট পার্টির দিকনির্দেশনা পাল্টে দিতে পারে। কেউ কেউ ভাবছেন, তার সমাজতান্ত্রিক অবস্থান মধ্যপন্থী ভোটারদের দূরে ঠেলে দিতে পারে। আবার অনেকে মনে করেন, রিপাবলিকানদের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ এর জবাবে মামদানির ভাবনা হতে পারে ডেমোক্র্যাটদের ভবিষ্যৎ।

  • ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ৭০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত

    ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ৭০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত

    আন্তজাতিক ডেস্ক:    ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিরা গাজার বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে। এখন পর্যন্ত ৭০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    এই ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত একটি বিতর্কিত সাহায্য প্রকল্পের বিরুদ্ধে নতুন করে নিন্দা জোরদার হয়েছে।

    শনিবার (৫ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে সাহায্য নিতে গিয়ে কমপক্ষে ৭৪৩ জন নিহত এবং ৪,৮৯১ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

    গত মে মাসের শেষে গাজায় কার্যক্রম শুরু করা জিএইচএফ ইতিমধ্যেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে, কারণ একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের ঠিকাদাররা এবং ইসরায়েলি বাহিনী সাহায্য প্রার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।

    আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ মন্ত্রণালয়ের এই তথ্য সম্পর্কে বলেন, ” এই সংখ্যাটিও আসলে রক্ষণশীল। বাস্তবে বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে খাদ্যের প্যাকেটের জন্য অপেক্ষারত মানুষের হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।’

    গাজা সিটি থেকে রিপোর্টিং করতে গিয়ে মাহমুদ বলেন, ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য সংকট চরমে পৌঁছেছে, এবং পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের খাওয়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে সাহায্য নিতে আসছে।

    তিনি বলেন, ‘মানুষ ক্ষুধার্ত। তারা যা পায় তা দিয়ে সংসার চালাচ্ছে। অনেক পরিবার একেবারেই খেতে পারছে না। মায়েরা তাদের সন্তানদের খাওয়ানোর জন্য নিজেরা খাওয়া বাদ দিচ্ছেন।’

    গত সপ্তাহে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর একটি প্রতিবেদনে আমেরিকান ঠিকাদারদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, জিএইচএফ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে সাহায্য নিতে আসা ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সরাসরি গুলি এবং স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে।

    দুই অজ্ঞাতনামা মার্কিন ঠিকাদার এপিকে বলেছেন, সশস্ত্র কর্মীরা ইচ্ছামতো গুলি চালাচ্ছে। তবে জিএইচএফ এই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে যে তারা তাদের কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে ‘অত্যন্ত সতর্ক’।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও জিএইচএফ-এর পক্ষ নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, এই সংস্থাই ‘একমাত্র সত্তা যারা গাজায় খাদ্য ও সাহায্য পৌঁছে দিতে পেরেছে’। জুনের শেষে ট্রাম্প প্রশাসন সংস্থাটিকে ৩০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি তহবিল দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

    শনিবার (৫ জুলাই) জিএইচএফ জানায়, খান ইউনিসের একটি বিতরণ কেন্দ্রে খাদ্য বিতরণ শেষে গ্রেনেড হামলায় দুই মার্কিন কর্মী আহত হয়েছেন।

    সংস্থাটি বলেছে, ‘আহত মার্কিন নাগরিকদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে হামলার জন্য কে দায়ী তা এখনও স্পষ্ট নয়।’

    প্রতিষ্ঠিত মানবাধিকার সংগঠনগুলো জিএইচএফের তাত্ক্ষণিক বন্ধের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই সংস্থা ‘২০ লক্ষ মানুষকে অতিরিক্ত ভিড় ও সশস্ত্র এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রতিদিন গুলি ও ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটছে’।

    উল্লেখ্য, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই প্রকল্পকে ‘অমানবিক ও প্রাণঘাতী সশস্ত্র পরিকল্পনা’ বলে বর্ণনা করেছে।

  • গাজায় যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার দাবিতে ফ্রান্স-মালয়েশিয়ার আহ্বান

    গাজায় যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার দাবিতে ফ্রান্স-মালয়েশিয়ার আহ্বান

    আন্তর্জাতিক  ডেস্ক:   ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাকরনের  এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

    প্যারিসে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের সর্বোত্তম পথ বেছে নিতে আহ্বান জানান।  গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৩৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়াও দুর্ভিক্ষ ও চিকিৎসা সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে গাজায়।

    ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি সরবরাহ অপ্রতুল। ম্যাকরন বলেন, ‘ইসরায়েলকে অবশ্যই সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে।’

    ম্যাকরন ও আনোয়ার উভয়েই ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে মত দেন, যা ইসরায়েলের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করবে।

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক ইরান হামলার নিন্দা করেন এবং পশ্চিমা বিশ্বের ‘দ্বিমুখী নীতির’ সমালোচনা করে বলেন, ‘ইরানকে ‘না’ বললেও ইসরায়েলকে ‘হ্যাঁ’ বললে সমস্যা থেকে যায়। ইরানকে অবশ্যই শান্তিপূর্ণ উপায়ে এগোতে হবে এবং পরমাণু পরিদর্শন মেনে নিতে হবে।’

    মালয়েশিয়া ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক অধিকারের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে এবং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরোধিতা করে আসছে।

    ইসরায়েল গাজায় হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার জবাবে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৯০% জনগণ বাস্তুচ্যুত এবং অর্ধেকের বেশি অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালত ইসরায়েলকে গণহত্যা রোধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

    এই যৌথ আহ্বান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপর চাপ বাড়াচ্ছে যাতে ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই শর্তহীন যুদ্ধবিরতি মেনে নেয় এবং ফিলিস্তিনিদের তীব্র মানবিক সংকট মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা দেয়া হয়।

  • ইথিওপিয়ান রেনেসাঁস ড্যাম (জিইআরডি)-এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন

    ইথিওপিয়ান রেনেসাঁস ড্যাম (জিইআরডি)-এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:    ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ ঘোষণা দিয়েছেন যে দেশটি গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁস ড্যাম (জিইআরডি)-এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। নীল নদের ওপর নির্মিত এই বাঁধটি আফ্রিকার সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, যা ইথিওপিয়ার জন্য গর্বের বিষয় হলেও মিশর ও সুদানের জন্য হুমকিস্বরূপ।

    মিশর নীল নদের পানির ৯৭% এর উপর নির্ভরশীল। তাদের দাবি, বাঁধের কারণে পানির প্রবাহ ২% কমলেই ২ লক্ষ একর কৃষিজমি পানিশূন্য হয়ে যাবে।

    এদিকে, সুদানও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত সপ্তাহে মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি এবং সুদানের জেনারেল আল-বুরহান এক বৈঠকে ‘ব্লু নাইল অববাহিতে কোনো একতরফা পদক্ষেপ মানবেন না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    এর আগে, ২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মিশর বাঁধটি ‘উড়িয়ে দেয়ার’ হুমকি দিয়েছে। গত এক দশক ধরে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। ইথিওপিয়া ইতিমধ্যে জলাধার পূরণ শুরু করায় মিশর-সুদানের ক্ষোভ বাড়ছে।

    ইথিওপিয়া চায় ‘সহযোগিতামূলক সমাধান’, কিন্তু পূর্বের আলোচনাগুলো ফলপ্রসূ হয়নি। বাঁধটি যদি ইথিওপিয়ার শক্তি খাতে বিপ্লব আনে, তবে মিশর-সুদানের জন্য পানির সংকট গভীর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ‘পানির যুদ্ধ’ এড়াতে আঞ্চলিক চুক্তি বেশ জরুরি ও অনিবার্য।