Category: প্রচ্ছদ

  • বলের আঘাতে রক্তাক্ত স্টোকসের মুখ

    বলের আঘাতে রক্তাক্ত স্টোকসের মুখ

    অনলাইন ডেস্ক:   বলের আঘাতে মারাত্মকভাবে চোট পেয়েছেন ইংল্যান্ড টেস্ট দলের অধিনায়ক বেন স্টোকস।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে চোটের বিষয় নিশ্চিত করেছেন ৩৪ বছর বয়সি স্টোকস। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তার ডান চোখের নিচে রক্ত জমাট বেঁধে মারাত্মকভাবে ফুলে কালো হয়ে আছে। এছাড়াও গাল, নাক ও ঠোঁটে ব্যথা পেয়েছেন তিনি।

    সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ছবি দিয়ে স্টোকস লিখেছেন, ‘ক্রিকেট বলে কী হতে পারে, সেটা দেখা উচিত আপনাদের।’

    কাউন্টি ক্লাব ডারহামের অনুশীলন সেশনে নেটের বাইরে সতীর্থদের সাথে একপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্টোকস। ঐ সময় নেটে ব্যাট করা ১৮ বছর বয়সি উইকেটরক্ষক রবি বোম্যানের নেওয়া শটে, বল এসে স্টোকসের মুখের ডান পাশে আঘাত করে। সাথে-সাথে তার মুখের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করে।

    ডারহামের প্রধান কোচ রায়ান ক্যাম্পবেল সান সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘স্টোকস নিজেই তার ইনজুরির দায় স্বীকার করে বলেছেন, নেট কোচিংয়ে এক নম্বর নিয়ম ভঙ্গ করেছেন তিনি। কখনও ব্যাটারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা যাবে না।’

    গত জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন স্টোকস। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ সিরিজ হারে তারা।

    আগামী জুনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে আবারও মাঠে ফিরবেন স্টোকস। ঐ সিরিজের আগে নিজেকে প্রস্তুত রাখতে কাউন্টি মৌসুমে ডারহামের হয়ে বেশ কিছু ম্যাচ খেলবেন এই অলরাউন্ডার।

  • সুদানে ত্রাণবহরে ড্রোন হামলায় নিহত ১: জাতিসংঘ

    সুদানে ত্রাণবহরে ড্রোন হামলায় নিহত ১: জাতিসংঘ

    অনলাইন ডেস্ক:     সুদানের উত্তর করদোফান রাজ্যে একটি ত্রাণবহরে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।

    শুক্রবার ত্রাণবহরটি এল-ওবেইদের নিকটবর্তী এলাকায় যাচ্ছিল।

    সুদানের পোর্ট সুদান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    এল-ওবেইদ বর্তমানে সুদানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এক বছরের বেশি সময় ধরে শহরটিকে ঘেরাও করে রেখেছে।

    ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

    এছাড়াও উভয়পক্ষের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে।

    সুদানে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ডেনিস ব্রাউন জানান, এল-ওবেইদ সফর শেষে তিনি হামলার পরবর্তী দৃশ্য দেখেছেন। হামলার পর ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো জ্বলছিল।

    তিনি এ হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবিক কর্মী, সম্পদ ও সহায়তা সামগ্রীগুলোর সুরক্ষার আহ্বান জানান।

    সুদানে যুদ্ধাপরাধ নথিভুক্তকারী স্বাধীন সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানায়, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ওই ত্রাণবহরটি হামলার শিকার হয় এবং এর জন্য তারা আরএসএফকে দায়ী করে।

    স্থানীয় বেসামরিক সংগঠন ‘সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’ও হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছে।

    সংগঠনটি জানায়, এই হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন।

    তারা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে।

    সুদান ডক্টরস নেটওয়াক আরও জানায়, এ ধরনের হামলা যুদ্ধকবলিত বেসামরিক জনগণের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানোর মানবিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুদানের প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে।

    খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা থাকা এই মানুষের সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

    দারফুর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ আরএসএফ-এর হাতে যাওয়ার পর বর্তমানে করদোফান অঞ্চলেই মূলত সংঘর্ষ কেন্দ্রীভূত।

    এল-ওবেইদ শহরটি দারফুর ও রাজধানী খার্তুমের সংযোগকারী প্রধান সড়কের ওপর অবস্থিত।

  • মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

    অনলাইন ডেস্ক:    মার্কিন বিচার বিভাগ গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, গত জানুয়ারিতে ওহাইও অঙ্গরাজ্যে সফরের সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ওহাইওর টলেডোর বাসিন্দা শ্যানন ম্যাথ্রেকে ‘ভাইস প্রেসিডেন্টের জীবন নেওয়ার এবং শারীরিক ক্ষতি করার হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ম্যাথ্রে বলেছেন যে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট কোথায় থাকবেন, তা খুঁজে বের করবেন এবং এম১৪ স্বয়ংক্রিয় বন্দুক দিয়ে তাকে হত্যা করবেন।

    তবে, তিনি কোথায় এই মন্তব্যটি করেছিলেন, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

    গতকাল শুক্রবার মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ম্যাথরেকে গ্রেফতার করেছে।

    ভ্যান্স জানুয়ারির শুরুতে বলেছেন, ‘মানসিকভাবে অসুস্থ এক ব্যক্তি’ জানালায় হাতুড়ি দিয়ে তার ওহাইওর বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেছে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তার পরিবার সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না এবং ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    বিচার বিভাগ শুক্রবার জানিয়েছে, ভ্যান্সকে  হুমকির বিষয়টি তদন্ত করার সময় ম্যাথ্রেরের কাছ থেকে ‘শিশু যৌন নির্যাতনের একাধিক ডিজিটাল ফাইল’ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার ওহাইওর উত্তর জেলার একজন মার্কিন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারকের সামনে ম্যাথ্রে আদালতে হাজির হন।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি: যমুনার সামনে বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো গুলি ছোঁড়েনি !

    অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি: যমুনার সামনে বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো গুলি ছোঁড়েনি !

    অনলাইন ডেস্ক:    শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোঁড়েনি বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হলেও কোনো আগ্নেয়াস্ত্র (লেথাল উইপন) ব্যবহার হয়নি বলে সরকার ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্চিত করেছে।

    এ নিয়ে আজ শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকার এক বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।

    সরকার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে-আজ শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোঁড়েনি।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (লেথাল উইপন) ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।

    সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

    বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, সরকার তা নাকচ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।

    সরকার আরও বলেছে, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

    বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনী সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

  • গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার : প্রেস সচিব

    গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার : প্রেস সচিব

    অনলাইন ডেস্ক:    ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার।

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, দেশের গণমাধ্যমের কাছ থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার।

    আজ শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, গত ১৮ মাস গণমাধ্যম অভূতপূর্ব স্বাধীনতা ভোগ করেছে। তারপরও বারবার মৌলিক সাংবাদিকতায় যাচাই-বাছাইয়ে ব্যর্থতার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে।

    প্রেস সচিব জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে হওয়া কর্মসূচির সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও হাদির দীর্ঘদিনের সহচর আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। এ সময় আরও বহু সমর্থক ও কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

    শফিকুল আলমের ভাষ্য, জাবেরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয় তিনি ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়েছেন। প্রেস সচিব বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটি গভীর অর্থবোধক—সাধারণভাবে এটি সরাসরি গুলিতে আহত হওয়ার ধারণা দেয়। ওই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।

    প্রেস সচিব অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রসহ বড় বড় গণমাধ্যম ওই ফেসবুক পোস্টকেই সত্য ধরে নিয়ে ফটোকার্ড ও শিরোনামে জাবের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর প্রচার করে। এতে ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

    তিনি বলেন, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্ট জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ এখন আর প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকও নিশ্চিত করেন, জাবেরসহ কোনো আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হননি।

    সংবাদ সংগ্রহ একটি গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, একটি ভুল সংবাদও সহিংসতা উসকে দিতে পারে, দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনজীবনে অরাজকতা ডেকে আনতে পারে। তাঁর অভিযোগ, আগের দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক সংবাদমাধ্যম মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা শুধু ক্লিকবেইটের ফাঁদে পড়েনি, সেটিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বক্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়তা করে।

    এর আগে মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার পর সহিংস পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে শফিকুল আলম বলেন, তখনও ভুল এবং অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। সে সময় একটি উচ্ছৃঙ্খল জনতা স্কুলের ভেতরে কয়েকজন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাকে নয় ঘণ্টার বেশি আটকে রাখে এবং আরেকটি গ্রুপ সচিবালয়ে ভাঙচুর চালায়। তাঁর মতে, ‘গতকালের বেপরোয়া ক্লিকবেইট সাংবাদিকতা প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির জন্ম দিতে যাচ্ছিল।’

    সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, সরকার, রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের দায়িত্বশীলতার কথা বলতে সাংবাদিকরা প্রায়ই সোচ্চার হন। কিন্তু নিজেদের ক্ষেত্রে আয়নায় তাকানোর সময় এলে অনেকেই চোখ ফিরিয়ে নেন।

  • ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

    ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

    অনলাইন ডেস্ক: সব জল্পনা ও আলোচনা শেষে এ বছরের অমর একুশে গ্রন্থমেলার শুরুর তারিখ চূড়ান্ত করেছে বাংলা একাডেমি। পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। মেলা পেছানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে একাডেমি কর্তৃপক্ষ।

    বইমেলার সময়সূচি নিয়ে প্রকাশক মহলে নানা আলোচনা চললেও বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমির ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ভবন ও শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বইমেলা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ভাষাশহিদদের স্মরণে একুশে উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করে আসছে বাংলা একাডেমি। সময়ের ধারায় এই আয়োজন আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।”

    তিনি জানান, অনিবার্য বাস্তবতার কারণে অন্যান্য বছরের মতো এবার ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। সব দিক বিবেচনা করে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বইমেলা পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং একাধিক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সদস্যসচিব ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, “বইমেলা আয়োজনের কাজ যখন প্রায় ৬০ শতাংশ সম্পন্ন, তখন কিছু প্রকাশক ঈদের পর মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা তাঁদের বক্তব্য শুনেছি। তবে বাস্তবতার নিরিখে এপ্রিল মাসে বইমেলা আয়োজন করা দুরূহ।”

    তিনি বলেন, এপ্রিল মাসে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, ধুলোবালির উপদ্রব ও কালবৈশাখীসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকে। এসব কারণে মাসব্যাপী বইমেলা আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়। তাই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০ ফেব্রুয়ারিতেই বইমেলা শুরু হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রমজান মাসে বইমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় মেলা প্রাঙ্গণে ইফতার, নামাজ ও তারাবির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হবে। প্রকাশকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গত বছরের তুলনায় স্টল ভাড়া ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে, যদিও সার্বিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    ড. সেলিম রেজা জানান, এবার বইমেলায় অংশ নিতে গত বছর অংশগ্রহণকারী ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং নতুন ৫৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। স্থান সংকুলানের কারণে গত বছরের ৫২৭টির সঙ্গে নতুন ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি শতাধিক প্রতিষ্ঠানও অংশগ্রহণের আগ্রহ জানিয়েছে।

    বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে জানায়, কিছু চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও প্রকাশক, লেখক ও পাঠকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এবারের অমর একুশে বইমেলা প্রাণবন্ত ও অর্থবহ হয়ে উঠবে।