Category: প্রচ্ছদ

  • ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতের কৃষির জন্য ঝুঁকি

    ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতের কৃষির জন্য ঝুঁকি

    অনলাইন ডেস্ক:    নতুন এক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক কমানোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের কাছে অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় কৃষকেরা।

    মুম্বাই থেকে এএফপি জানায়, শনিবার প্রকাশিত দুই দেশের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, ভারত ‘যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পপণ্য’ এবং বিভিন্ন খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক ‘বাতিল বা হ্রাস’ করবে।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ হারে সমমুখী শুল্ক আরোপ করবে। এর আওতায় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, চামড়া ও জুতা, প্লাস্টিক ও রাবার, জৈব রাসায়নিক এবং কিছু যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    চুক্তির শর্তাবলি প্রকাশ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে মোদি নতুন বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং কর্মসংস্থান বাড়াবে।

    তবে ভারতীয় কৃষক সংগঠনগুলো এতে সন্তুষ্ট নয়। তারা এ চুক্তিকে মার্কিন কৃষি করপোরেশনগুলোর কাছে ‘পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

    একাধিক কৃষক ইউনিয়নের জোট সংযুক্ত কিষান মোর্চা (এসকেএম) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘সস্তা আমদানির ফলে ভারতীয় শিল্প ও কৃষি এখন গুরুতর হুমকির মুখে পড়বে এবং এসব পণ্য ভারতীয় বাজারে ঢেলে দেওয়া হবে।’

    সংগঠনটি ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী কৃষক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।

    যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত পরিসরের খাদ্য ও কৃষিপণ্যের’ ওপর শুল্ক ‘বাতিল বা হ্রাস’ করবে।

    এর মধ্যে গাছজাত বাদাম, কিছু তাজা ফল, সয়াবিন তেল, মদ এবং আরও কিছু ‘অতিরিক্ত পণ্য’ রয়েছে, যেগুলোর নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

    ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা সিরাজ হোসেন বলেন, ভারতীয় ভোক্তাদের মধ্যে বাদামের চাহিদা বাড়ছে, ফলে আমদানি স্থানীয় উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলবে না; বরং উচ্চ চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।

    তবে আপেলের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে সস্তা আমদানির প্রভাব নিয়ে দেশীয় উৎপাদকরা উদ্বিগ্ন।

    এসকেএম জানায়, ‘আপেলের মতো তাজা ফল আমদানি কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

    কর্মকর্তারা আশা করছেন, আপেলের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি কোটা বা ন্যূনতম আমদানি মূল্য নির্ধারণের মতো সুরক্ষা ব্যবস্থা বিদেশি প্রতিযোগিতার প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে।

    এ ছাড়া পশুখাদ্যের জন্য শুকনো ডিস্টিলারস গ্রেইন এবং লাল সরগমের ওপর শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতির ফলে দেশীয় সয়াবিন মিলের চাহিদা কমতে পারে।

    বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা জয়ারাম রমেশ বলেন, শুকনো ডিস্টিলারস গ্রেইন ও সয়াবিন তেল আমদানির বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যের ‘লাখ লাখ সয়াবিন চাষির’ ক্ষতি করবে।

    কৃষকদের উদ্বেগ কমাতে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হবে এবং নয়াদিল্লি যে ‘গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা’ নির্ধারণ করেছিল, তা অতিক্রম করা হয়নি।

    তিনি বলেন, শস্য, মসলা, দুগ্ধ, হাঁস-মুরগি, মাংস এবং আলু, কমলা ও স্ট্রবেরিসহ বিভিন্ন সবজি ও ফলের মতো ‘সংবেদনশীল খাতে’ কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জিনগতভাবে পরিবর্তিত (জিএম) ফসলও এই চুক্তির অংশ নয়। এর মধ্যে জিএম সয়াবিনও রয়েছে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে নতুন বাজার খুঁজছে।

    ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১৬ শতাংশ কৃষি খাত থেকে এলেও ৪৫ শতাংশের বেশি মানুষের জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল।

    ফলে এই খাতটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক এবং রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই কৃষকদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করে। অতীতে কৃষক সংগঠনগুলো বারবার শক্তিশালী জনআন্দোলন গড়ে তোলার সক্ষমতা দেখিয়েছে।

    ২০২১ সালে দীর্ঘমেয়াদি তীব্র বিক্ষোভের মুখে সরকার কৃষি সংস্কার পরিকল্পনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। সেই বিক্ষোভে জাতীয় রাজধানীর মহাসড়ক অবরোধ করা হয় এবং ট্রাক্টর নিয়ে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করা হয়।

    সাবেক কর্মকর্তা সিরাজ হোসেন বলেন, ‘ভারতের খামারগুলো খুবই ছোট, ফলে তারা উচ্চ ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষির সঙ্গে বাস্তবে প্রতিযোগিতা করতে পারে না।’

    ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত, যখন নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছিল, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

    শীর্ষ আমদানির মধ্যে ছিল তুলা, সয়াবিন তেল, ইথানল এবং বাদামের মতো বিভিন্ন পণ্য। চুক্তি হওয়ার আগেই এই বৃদ্ধি ঘটে, যদিও কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর ভারত শুল্ক কমানোর ফলে আংশিকভাবে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যৌথ বিবৃতিতে ঘোষিত সয়াবিন তেলের মতো পণ্যের ওপর শুল্ক আরও কমালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

  • সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে সরকারের ‘রিফর্ম বুক’ প্রকাশ

    সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে সরকারের ‘রিফর্ম বুক’ প্রকাশ

    অনলাইন ডেস্ক:     অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গৃহীত প্রধান সংস্কার উদ্যোগগুলো নিয়ে ‘রিফর্ম বুক’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে সরকার।

    বইটিতে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে নেওয়া সংস্কারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

    আজ সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ‘আর নয়’ স্লোগানে রাজপথে নামা তরুণ-তরুণীসহ লাখো মানুষের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রায় ১৬ বছরের দমনমূলক শাসন থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে পায়। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘটে এবং গভীর সংকটকালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

    প্রেস উইং জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ চরম অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক বিপর্যয়ের মধ্যে ছিল। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অপশাসনে রাষ্ট্রের কাঠামো ভেঙে পড়ে। সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শত শত বিলিয়ন ডলার পাচার হয়, খেলাপি ঋণে বিপর্যস্ত হয় ব্যাংকিং খাত। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থের অধীন হয়ে পড়ে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিচার বিভাগে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়। ভোটারবিহীন নির্বাচন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাস এবং নাগরিক সমাজের কার্যক্রম স্তব্ধ হয়ে পড়ে।

    এ প্রেক্ষাপটে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে কাজ করে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করে বলে জানানো হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।

    কমিশনগুলোর সুপারিশ ও সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে মেয়াদকালের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার গ্রহণ করা হয়।

    প্রেস উইংয়ের তথ্যমতে, দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাসে সরকার প্রায় ১৩০টি আইন (নতুন ও সংশোধিত) প্রণয়ন করেছে এবং ৬শটিরও বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ সংস্কার ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা কেবল বক্তব্যনির্ভর নয়, বাস্তব ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

    অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার ৪শ পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া গেছে। চীনের সঙ্গে সহযোগিতায় ঋণের মেয়াদ পুনর্নির্ধারণ, স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যৌথ জলতথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

    জবাবদিহি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রেস উইং জানায়, পতিত সরকারের আমলের শতাধিক রাজনীতিক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে। জব্দ বা জব্দের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বিলিয়ন ডলারের সম্পদ।

    ব্যাংকিং খাতে তদারকি জোরদার, ৪২টি মন্ত্রণালয়ে ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে তদন্তের মুখে এক হাজার ২শরও বেশি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে।

    বিশেষ কমিশনের মাধ্যমে হাজারো ভুক্তভোগী ও পরিবারের সাক্ষ্য গ্রহণ করে সত্য উদ্ঘাটন ও জবাবদিহির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের কাঠামো পরিবর্তন করে এর নাম রাখা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’।

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সব আদালতকে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক অধীনে আনা হয়েছে।

    রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, যোগ্যতাভিত্তিক পদ্ধতিতে বিচারপতি নিয়োগ চালু হয়েছে।

    গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করা হয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া পূর্বে বন্ধ থাকা গণমাধ্যম পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ কোনো গণমাধ্যমও বন্ধ করা হয়নি বলে জানানো হয়।

    এ ছাড়া সাত মাসব্যাপী টেলিভিশনে সম্প্রচারিত রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়, যা সাংবিধানিক সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে গণভোটের অপেক্ষায় রয়েছে।

    প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব সংস্কার নতুন শাসনব্যবস্থার পথে প্রথম ধাপ। তবে ১৬ বছরের ক্ষতি ১৮ মাসে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও বাংলাদেশ কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে দৃঢ়ভাবে সরে এসেছে।

    ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে রাজপথে যে সাহসিকতা দেখা গেছে, সেই চেতনাই গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথনির্দেশক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করা হয়।

  • সংসদ নির্বাচন: আজ থেকে মাঠে সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    সংসদ নির্বাচন: আজ থেকে মাঠে সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    অনলাইন ডেস্ক:     আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আজ রোববার থেকে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছে।

    ভোটের আগে চারদিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর দুইদিনসহ মোট সাতদিন তারা দায়িত্ব পালন করবে। এ হিসেবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে।

    নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাসস’কে জানান, রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে আছে, তবে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ভোটের চারদিন আগে, ভোটের দিন ও পরবর্তী দুইদিন মিলিয়ে মোট সাতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি।

    ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা মনেকরি নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো আছে।’

    নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পাঠানো হচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সবাই এখন ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।’

    এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী সাতদিন দায়িত্ব পালন করবে এবং আনসার বাহিনী থাকবে আটদিন। পুলিশ ও সেনাবাহিনী অলরেডি মাঠে রয়েছে।

    ইসি সচিব জানান, ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোতায়েন (ডেপ্লয়েড) থাকবেন। মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য তাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এ সময় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদেরও মাঠে রাখা হবে। এছাড়া ইলেক্টোরাল এনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটি ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছে।

    ইসি সচিব আরও জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় বন্ধ হবে।

    এর আগে গত ২২ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

    তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। অতীতের নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও এবার প্রথমবারের মতো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে দুইজন অস্ত্রধারী পুলিশ ও তিনজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

    এছাড়া, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রবিহীন (লাঠিসহ) ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে, যাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও চারজন নারী।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন, যা একটি রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।’

    এজন্য নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও নির্বাচনে সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই ধাপে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম ধাপে যারা বর্তমানে মোতায়েন আছেন, তারা দায়িত্বে থাকবেন। দ্বিতীয় ধাপে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাতদিন দায়িত্ব পালন করবেন।

  • দুই বছরে তিন নেতা বদলের পর রোববার ভোট দিচ্ছে থাইল্যান্ড

    দুই বছরে তিন নেতা বদলের পর রোববার ভোট দিচ্ছে থাইল্যান্ড

    অনলাইন ডেস্ক:    দুই বছরে তিনজন সরকারপ্রধান পরিবর্তনের পর থাইল্যান্ডে রোববার জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে আগেরবার জয়ী জনপ্রিয় সংস্কারপন্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সেই রক্ষণশীল শিবির, যাদের নেতা শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হন। এদিকে সাবেক নেতা থাকসিন শিনাওয়াত্রা কারাগারে থাকলেও রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব বড় একটি বিষয় হয়ে রয়েছে।

    ব্যাংকক থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির পরবর্তী সরকারকে কম্বোডিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মোকাবিলা করতে হবে, যা গত বছর দুবার প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়। পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক বহু বিলিয়ন ডলারের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সাইবার জালিয়াতি নেটওয়ার্কের বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

    দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল, আর পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আগত পর্যটকের সংখ্যা এখনো কোভিড-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে আসেনি।

    কোনো দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এবং ফল ঘোষণার পর জোট সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ভোটের আগে রাজনৈতিক বিশ্লেষক থিতিনান পংসুধিরাক বলেন, ‘থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরেও এমন কিছু শক্তি রয়েছে, যারা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি শুধু নির্বাচন নয়, বরং দল ভেঙে দেওয়া বা বিলুপ্তির সঙ্গেও সম্পর্কিত।’

    তিন বছর আগে সর্বশেষ নির্বাচনে প্রগতিশীল পিপলস পার্টির আগের রূপ ‘মুভ ফরোয়ার্ড’ সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও তাদের প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রী হতে বাধা দেওয়া হয় এবং পরে দলটিকেও বিলুপ্ত করা হয়।

    ব্যাংককে পিপলস পার্টির শেষ নির্বাচনী সমাবেশে ৬৪ বছর বয়সী সমর্থক কিত্তি সাট্টানুওয়াত বলেন, ‘আমরা কীভাবে প্রতিরোধ করতাম? যখন ব্যবস্থা আমাদের সরকার গঠন করতে দেয় না, তখন আমরা পারি না। তবু আমরা আবার লড়ব। আশা আছে, মানুষকে আশা নিয়েই বাঁচতে হয়।’

    ২০২৩ সালের নির্বাচনে থাকসিনপন্থী ফেউ থাই পার্টি দ্বিতীয় হয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা রক্ষণশীল ভুমজাইথাই পার্টির সঙ্গে জোট গঠন করে। কিন্তু পরে আদালতের আদেশে তাদের প্রধানমন্ত্রী অপসারিত হন।

    এরপর থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু তাকেও আদালতের রায়ে অপসারণ করা হয়। পরে সংসদ গত সেপ্টেম্বরে ভুমজাইথাই নেতা আনুতিন চানভিরাকুলকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে—যা দুই বছরে দেশটির তৃতীয় সরকারপ্রধান।

    থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে সামরিক অভ্যুত্থান, রক্তক্ষয়ী সড়ক বিক্ষোভ এবং আদালতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বা দল নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বারবার ঘটেছে।

    ২০১৪ সালের সর্বশেষ সামরিক অভ্যুত্থানের পর পাঁচ বছর সামরিক শাসন চলে এবং সেনাবাহিনী প্রণীত সংবিধানের ফলে অনির্বাচিত সিনেট-নিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা রয়েছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাপোন জাতুস্রিপিটাক বলেন, ‘নির্বাচিত ব্যক্তিরা অনির্বাচিতদের দ্বারা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা যেখানে অস্থির, সে দেশের জন্য এটি অবশ্যই ভালো লক্ষণ নয়।’

    সংবিধান আদালত রাজতন্ত্র অবমাননা সংক্রান্ত কঠোর আইন সংস্কারের অঙ্গীকারকে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র উৎখাতের প্রচেষ্টা হিসেবে রায় দেওয়ার পর ‘মুভ ফরোয়ার্ড’ দলটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে এবারের প্রচারণায় এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।

    জনমত জরিপে পিপলস পার্টি এগিয়ে রয়েছে এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আনুতিনের ভুমজাইথাই পার্টি।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, গাঁজা বৈধকরণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এ রক্ষণশীল নেতা আবারও ফেউ থাইয়ের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় থাকতে পারেন।

    আধুনিক থাইল্যান্ডের অন্যতম সফল রাজনৈতিক দল ফেউ থাই এখন দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কম্বোডিয়া ইস্যু সামলানোর কারণে পেতংতার্ন আদালতের রায়ে অপসারিত হন এবং দুর্নীতির মামলায় থাকসিন কারাগারে রয়েছেন।

    থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াত পরিবারটির পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে জরিপ সংস্থা নিডা তাদের সমর্থন মাত্র ১৬ শতাংশের কাছাকাছি দেখাচ্ছে, যা আগের জনপ্রিয়তার তুলনায় অনেক কম।

    ভুমজাইথাই জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের কথা বলছে, বিশেষ করে গত বছরের কম্বোডিয়া সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে। অন্যদিকে পিপলস পার্টি বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বাতিল এবং জেনারেলের সংখ্যা কমানোর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।

    তিনটি প্রধান দলই বিভিন্ন জনতুষ্টিমূলক আর্থসামাজিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ফেউ থাই প্রতিদিন ১০ লাখ বাত (প্রায় ৩১ হাজার মার্কিন ডলার) করে নয়টি পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অর্থনীতি চাঙ্গা করতে।

    রোববারের ব্যালটে একটি গণভোটও রয়েছে, যেখানে ভোটাররা নীতিগতভাবে সংবিধান সংস্কার চান কি না সে বিষয়ে মত দিতে পারবেন, যদিও নির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব সেখানে নেই।

  • প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার

    প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার

    অনলাইন ডেস্ক:   আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হচ্ছে। গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণা ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ করার বিধান রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আগামী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে।

    উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে ইসি ওই আসনের নির্বাচন বাতিল করায় ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

    ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের ৪৯টি জেলায় ইতোমধ্যেই রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে এবং বাকি জেলাগুলোতে আজ রোববারের মধ্যে ব্যালট পৌঁছে যাবে।

    এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।

    নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন এবং সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে।

    এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে এবং নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।

    ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ থাকবে।

    এদিকে, ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী এবং পিরোজপুর-১ আসনে সবচেয়ে কম মাত্র ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

    অন্যদিকে, নির্বাচনে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করবেন।

    এছাড়া, নির্বাচনে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন বলে জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

  • ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

    ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

     অনলাইন ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শুক্রবার এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করা এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়, ‘রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তেল আমদানি বন্ধ করার অঙ্গিকার করেছে ভারত।’

    আদেশটিতে আরও বলা হয়, নয়াদিল্লি এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্য কিনবে। এছাড়া আগামী ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি নতুন রূপরেখাতেও সম্মত হয়েছে ভারত।

    ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার কার্যকর হবে।

    কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে এই শুল্ক কমানোর বাণিজ্যিক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘পারস্পরিক’ শুল্কের হারও ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়াটি এখনো শুরু হয়নি।

    শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত পৃথক যৌথ বিবৃতিতে চুক্তির অন্যান্য শর্তাবলী তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্দিষ্ট কিছু বিমান ও বিমানের যন্ত্রাংশের ওপর থেকেও শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে।

    বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন (৫০ হাজার কোটি) ডলারের জ্বালানি পণ্য, বিমান ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য এবং কোকিং কোল (কয়লা) কেনার পরিকল্পনা করছে।

    গত বছরের শেষের দিকে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের হার ছিল ৫০ শতাংশ। নতুন এই চুক্তির ফলে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

    রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছিল। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এই তেলের টাকা দিয়ে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ চালাচ্ছে। এই চুক্তির ফলে সেই উত্তেজনার অবসান ঘটল।

    একই সঙ্গে ট্রাম্প ও মোদির মধ্যকার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক আবারও জোরালো হলো। ট্রাম্প প্রায়ই ভারতের ডানপন্থী এই নেতাকে তার অন্যতম ‘সেরা বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন।

    এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার চলতি সপ্তাহে জানান, শুল্কের হার ১৮ শতাংশে নেমে আসায় ভারতীয় রপ্তানিকারকরা মার্কিন বাজারে বাড়তি সুবিধা পাবেন। কারণ এই অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্য শুল্কের হার এখনো ১৯ থেকে ২০ শতাংশের ঘরে রয়েছে।