Category: প্রচ্ছদ

  • ইসলামি সংস্কৃতির অন্যতম এক অনন্য ও সুমধুর ঐতিহ্যের নাম হলো ‘আজান’

    ইসলামি সংস্কৃতির অন্যতম এক অনন্য ও সুমধুর ঐতিহ্যের নাম হলো ‘আজান’

    অনলাইন ডেস্ক:   ইসলামি সংস্কৃতির অন্যতম এক অনন্য ও সুমধুর ঐতিহ্যের নাম হলো ‘আজান’। ‘আজান’ আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো-আহ্বান করা, ঘোষণা করা। আজান শুধু নামাজের সময় জানিয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম, তা কিন্তু নয়; বরং মহান আল্লাহর একত্ববাদ ও শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য ঘোষণা। আজানের যে চিরন্তন ধ্বনি প্রতিদিন আমাদের হৃদয়ে প্রশান্তি বিলায়, তার সূচনার ইতিহাস যেমন চমৎকার, তেমনি তাৎপর্যপূর্ণ। তাইতো মহাকবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১ খ্রি.) তার বিখ্যাত ‘আজান’ কবিতায় আজানের সুমধুর ধ্বনি ও আধ্যাত্মিক মহিমাকে তুলে ধরে লিখেছেন-

    ‘হৃদয়ের তারে তারে, প্রাণের শোণিত-ধারে,

    কী যে এক ঢেউ উঠে ভক্তির তুফানে-

    কত সুধা আছে সেই মধুর আজানে!’

    আসুন তবে জেনে নেওয়া যাক, ঠিক কীভাবে এবং কোন প্রেক্ষাপটে আজানের এ পবিত্র প্রবর্তন হয়েছিল-

    মদিনায় মসজিদে নববী নির্মাণের পর হজরত রাসূল (সা.)-এর ইমামতিতে সাহাবিরা প্রতি ওয়াক্ত জামাতে নামাজ আদায় করতেন; কিন্তু সেসময় ঘড়ির প্রচলন না থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হয়ে জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে অসুবিধা দেখা দিল। রাসূল (সা.) এ সমস্যা সমাধানের জন্য সাহাবিদের নিয়ে পরামর্শ সভার আহ্বান করলেন। সভায় সাহাবিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব এলো। কেউ কেউ নামাজের সময় পতাকা ওড়ানো, উঁচু স্থানে আগুন জ্বালানো, ঘণ্টা বাজানো, শঙ্খ বাজানো ইত্যাদি প্রস্তাব করলেন। কিন্তু খ্রিষ্টানরা গির্জায় ঘণ্টা বাজায়, ইহুদিরা শঙ্খ বাজায় এবং অগ্নি উপাসকরা তাদের উপাসনালয়ে আগুন জ্বালিয়ে থাকে। এসব প্রস্তাব রাসূল (সা.)-এর মনঃপূত হলো না। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেদিনের সভা শেষ হলো। সেই সভায় বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ্ ইবনে জায়েদ (রা.) উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে বাড়িতে ফিরে তিনি এক আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখেন, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-

    “সভা শেষে বাড়িতে গিয়ে আমি ভাবতে লাগলাম, নামাজের আহ্বানের জন্য কোন পদ্ধতিটি উত্তম হবে? এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমি রাতে ঘুমিয়ে পড়ি। আমি স্বপ্নে দেখলাম-একজন সবুজ পোশাক পরিহিত আগন্তুকের হাতে একটি ঘণ্টা রয়েছে। আমি তাকে বললাম, ‘হে আল্লাহর বান্দা! আপনি কি ঘণ্টাটি বিক্রি করবেন’ তিনি আমার কথার উত্তর না দিয়ে আমাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি এটা দিয়ে কী করবে’ আমি বললাম, ‘আমি তা বাজিয়ে মুসলমানদের নামাজের জন্য আহ্বান করব।’ তখন তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম ও কার্যকর পন্থা শিখিয়ে দেব?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই!’ তিনি বললেন, ‘আমি যা যা বলছি, তুমি আমার সঙ্গে সঙ্গে তাই বল ও স্মরণ রাখ। প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্ত হলে এ কালামগুলো যথাসাধ্য উচ্চস্বরে উচ্চারণ করবে।’ অতঃপর তিনি এ কালামগুলো বলা শুরু করলেন এবং আমিও তার সঙ্গে সঙ্গে তা বলতে লাগলাম। আশ্চর্যের বিষয়, মাত্র একবার পাঠ করার পরই তা আমার মুখস্থ হয়ে যায়! সে কালামগুলো ছিল-

    আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার! (আল্লাহ্ মহান! আল্লাহ্ মহান!) আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার! (আল্লাহ্ মহান! আল্লাহ্ মহান!) আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্! (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই!) আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্! (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই!) আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্! (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসূল!) আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্! (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসূল!) হাইয়্যা আলাস সালাহ্! (নামাজের জন্য এসো!) হাইয়্যা আলাস সালাহ্ (নামাজের জন্য এসো!) হাইয়্যা আলাল ফালাহ্! (কল্যাণের জন্য এসো!) হাইয়্যা আলাল ফালাহ্! (কল্যাণের জন্য এসো!) আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার! (আল্লাহ্ মহান! আল্লাহ্ মহান!)

    লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্! (আল্লাহ্ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই!)

    অতঃপর আগন্তুক অদৃশ্য হয়ে গেলেন এবং আমারও ঘুম ভেঙে গেল। তখন ফজর নামাজের সময় ঘনিয়ে এসেছে। আমি তৎক্ষণাৎ রাসূল (সা.)-এর কাছে ছুটে গেলাম এবং স্বপ্নে যা দেখেছি ও শুনেছি, তা সবই আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে জানালাম। কালামগুলো তখন আমার খুব ভালোভাবেই স্মরণ ছিল। রাসূল (সা.) বললেন, ‘নিশ্চয়ই এটি সত্য স্বপ্ন! তুমি এখনি বেলালের কাছে যাও এবং যা যা শুনেছ, তা তাকে শিখিয়ে দাও। সে উচ্চস্বরে এ কালামের মাধ্যমে নামাজিদের আহ্বান করুক। কেননা, তার গলার স্বর তোমার চেয়ে অনেক উঁচু।’ আমি হজরত বেলাল (রা.)-এর কাছে গিয়ে তা তাকে শিখিয়ে দিলাম। তিনি মসজিদে এসে উচ্চস্বরে আজান দিলেন।’ (আল-কাউসার প্রকাশনী কর্তৃক অনূদিত সিরাতে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা ইদ্রীস কান্ধলবী (রহ.), পৃষ্ঠা ২৯৭ ও ২৯৮)।

    হজরত উমর (রা.) সেসময় বাড়িতে ছিলেন। তিনি আজান শুনে জেগে উঠলেন এবং অতিদ্রুত তার চাদরখানা গায়ে জড়িয়ে রাসূল (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা.)! সেই পবিত্র সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য নবী করে প্রেরণ করেছেন, নিশ্চয়ই আবদুল্লাহ্ ইবনে জায়েদকে যা দেখানো হয়েছে, আমিও ঠিক তাই স্বপ্নে দেখেছি ও শুনেছি। এ কথা শুনে রাসূল (সা.) বললেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই।’ (মক্কা শরিফ ও মদিনা শরিফের ইতিহাস, মওলানা রশিদ আহমদ, পৃষ্ঠা ১৩২।)

    এভাবেই প্রথম হিজরিতে ইসলামের ইতিহাসে আজানের প্রচলন শুরু হয়। সেদিন থেকেই রাসূল (সা.)-এর আদেশে হজরত বেলাল (রা.) মসজিদে নববীর স্থায়ী ‘মুয়াজ্জিন’ নিযুক্ত হন। পরবর্তীকালে হজরত বেলাল (রা.) একদিন ফজরের নামাজের আজান দেওয়ার সময় ‘হাইয়া আলাল ফালাহ!’-এরপর ‘আসসালাতু খায়রুম মিনান নাওম!’ অর্থাৎ ‘ঘুম থেকে নামাজ উত্তম!’ এ বাক্যটি যোগ করেন। রাসূল (সা.) হজরত বেলাল (রা.)-এর এ সংযোজনকে কবুল করে নেন। (ই. ফা. বা. কর্তৃক অনূদিত সুনানু ইবনে মাজাহ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২৮৪, হাদিস নং ৭১৬; কালান্তর প্রকাশনী কর্তৃক অনূদিত সিরাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ২৯)।

    প্রকৃতপক্ষে, আজান হলো মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে উপস্থিত হওয়ার এক পবিত্র আমন্ত্রণ। মুয়াজ্জিন যখন আজানের সুরে সেই চিরন্তন আহ্বান জানান, তখন নামাজ আদায়ের মাধ্যমে সেই ডাকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই হলো একজন মুমিনের পক্ষ থেকে দেওয়া আজানের শ্রেষ্ঠ জবাব। মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে নামাজের মাধ্যমে এ পবিত্র আহ্বানে সাড়া দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। [নিবন্ধটি লেখক কর্তৃক লিখিত স্মৃতি মোবারক : হজরত মুহাম্মাদ (সা.) ও আহলে বাইতের জীবনী নামক গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।]

    লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

  • সম্পদের চেয়ে দায় বেশি

    সম্পদের চেয়ে দায় বেশি

    অনলাইন ডেস্ক:   আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নজিরবিহীন লুটপাটের কারণে অর্থশূন্য হয়ে পড়েছে বেশির ভাগ নন ব্যাংক ফাইন্যান্স কোম্পানি। ঋণের নামে লুটপাট করে একদিকে যেমন র্থপাচার করা হয়েছে, অন্যদিকে সব ঋণ এখন খেলাপি হচ্ছে। ফলে সম্পদের মান কমে গেছে, বেড়ে গেছে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ। লুটপাটের কারণে সব মূলধন ক্ষয় হয়ে গেছে। মূলধনের হিসাবে এখন বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে-আয় বলতে নেই। ফলে বছর শেষে মোটা অঙ্কের লোকসান দিতে হচ্ছে। নগদ অর্থ না থাকায় আমানতকারীদের টাকা দিতে পারছে না অনেক কোম্পানি। লুটপাটের ক্ষত বাড়তে বাড়তে এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, ফাইন্যান্স ম্পানিগুলোর গড় হিসাবে সম্পদের চেয়ে দায়ের পরিমাণ বেশি। ১০০ টাকার সম্পদের বিপরীতে দায়ের পরিমাণ ১১৪ টাকা। ফলে কোম্পানিগুলোর সমুদয় সম্পদ বিক্রি করেও গ্রাহকদের দায় মেটানো সম্ভব হবে না।

    ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর সার্বিক অবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি হালনাগাদ এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ আমলে পি কে হালদার একাই পাঁচটি ফাইন্যান্স কোম্পানিতে লুটপাট করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেউলিয়া করে গেছেন। এছাড়া এস আলম দুটি কোম্পানিতে লুটপাট করেছেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আরও কয়েকটি কোম্পানিতে লুটপাট হয়েছে। এতে ১৩টি কোম্পানির প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। এর বেশির ভাগই বিদেশে পাচার করা হয়েছে। লুটের যে অংশ দেশে আছে, সেগুলো আদায় না হওয়ায় খেলাপি হয়ে পড়েছে। যে কারণে নন ব্যাংক ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর খেলাপি ঋণ পাগলা ঘোড়ার গতিতে বেড়েছে। ২০২৩ সালের জুনে খেলাপি ঋণ ছিল ২০ হাজার কোটি টাকা। যা ছিল মোট ঋণের ২৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৫৪১ কোটি টাকায়। যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। খেলাপি ঋণ বাড়ায় ও চাহিদা অনুযায়ী জামানত না থাকায় সম্পদের মান কমে গেছে। বেড়ে গেছে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ। এক বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ছিল ৫৭ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। গত জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকায়। প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ৭৭ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণের ৮০ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ ঋণে পরিণত হয়েছে। এতে কোম্পানিগুলোর ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়েছে। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদসহ মোট সম্পদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা।

    প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, কোম্পানিগুলোতে সম্পদের মান খারাপ হওয়ায় এর মান কমে গেছে। সম্পদ থেকে কোনো আয় হচ্ছে না। মূলধনও ক্ষয় হয়ে গেছে। ফলে কোনো আয় হচ্ছে না। এতে বাড়ছে না সম্পদ। অন্যদিকে দায়ের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের জুনে দায়ের চেয়ে সম্পদের পরিমাণ বেশি ছিল। একই বছরের সেপ্টেম্বরে সম্পদের চেয়ে দায়ের পরিমাণ বেড়ে যায়। কমে যায় সম্পদের পরিমাণ। এই হার ক্রমেই বাড়তে থাকে। ২০২৫ সালের জুন মাসের শেষের দিকে দায়-সম্পদ অনুপাত ১১৩.৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা ২০২৫ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকের তুলনায় ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি। সম্পদের চেয়ে দায় বেশি হওয়া আর্থিক খাতের জন্য একটি উদীয়মান উদ্বেগের বিষয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    মোট ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের মধ্যে ঋণ ঝুঁকি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ মোট সম্পদের মধ্যে ঋণ ঝুঁকি বেশি। ঋণের বিপরীতে জামানত না থাকার কারণে এমনটি হয়েছে। ফলে ওইসব ঋণ আদায়ের সম্ভাবনাও কম।

    প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানিগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে কমপক্ষে ১০ শতাংশ মূলধন রাখতে হয়। লুটপাটের কারণে খেলাপি ঋণ অব্যাহত গতিতে বাড়ার কারণে মূলধন ক্ষয় হয়ে গেছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মূলধন ১০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে মূলধন কমতে থাকে। ঘাটতি বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত মূলধন কমে হয় ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। জুন থেকে মূলধন নেগেটিভে চলে যায়। ওই মাসে নেগেটিভ ছিল ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। এরপর থেকে খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে। পাশাপাশি বাড়তে থাকে প্রভিশন ঘাটতি। এ ঘাটতির কারণে মূলধন ক্রমেই ক্ষয় হতে থাকে। গত জুনে এ খাতে নেগেটিভ অবস্থা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোতে গড় হিসাবে কোনো মূলধন নেই। উলটো মূলধন নেগেটিভ হয়ে আছে ১৬ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভালো চলছে। বর্তমানে ৩৫টি ফাইন্যান্স কোম্পানির মধ্যে সরকারি মাত্র ১৪টি প্রতিষ্ঠানের মৌলিক মূলধন ১০ শতাংশের ওপরে রয়েছে। বাকি ২১টির মূলধন ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি কোম্পানির কোনো মূলধন নেই। তার মধ্যে ৯টি কোম্পানিকে বন্ধ করে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সামগ্রিক মূলধন অনুপাতের ক্রমাগত নেতিবাচক এবং সর্বনিম্ন স্তরের নিচে থাকায় তীব্র মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে-যা এই খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরে।

    ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর বর্তমানে কোনো মূলধন না থাকায় এ খাত থেকে তাদের কোনো আয়ও নেই। সম্পদ বা বিনিয়োগ থেকেও কোনো আয় নেই। গত জুনে এ খাতে লোকসান হয়েছে ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকা সম্পদের বিপরীতে লোকসান হচ্ছে প্রায় ৩ টাকা। এভাবে লোকসান বাড়ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থশূন্য হয়ে পড়ছে। অর্থ সংকটে গ্রাহকের দায় মেটাতে পারছে না।

    ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোতে আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ২৮৯ কোটি টাকায়। এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানির ঋণ গ্রহণ ও অন্যান্য দায় মিলে কোম্পানিগুলোর মোট দায় ১ লাখ ৪ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। এই দায়ের বিপরীতে সমপরিমাণ সম্পদ নেই। ১১৪ টাকা দায়ের বিপরীতে সম্পদ আছে ১০০ টাকার। সম্পদের ঘাটতি রয়েছে ১৪ টাকা। সম্পদের মধ্যে প্রায় ৯১ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে এসব সম্পদ থেকে যেমন আয় কম হচ্ছে, তেমনি এসব সম্পদ নগদায়ন করাও চ্যালেঞ্জিং। ফলে আমানতকারীদের দায় মেটানোও চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

    ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে মোট আমানতের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ আমানত হিসাবে রাখতে হয়। এর মধ্যে কিছু অংশ রাখতে হয় নগদ আকারে ও কিছু অংশ বিভিন্ন বন্ড বা ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করে বা নগদে। ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোতে নগদ অর্থের সংকট এতই প্রকট যে, তারা নগদ জমা সংরক্ষণ বা সিআরআরের অর্থ চাহিদা অনুযায়ী রাখতে পারছে না। এ খাতে ঘাটতি রয়েছে ১১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতে উদ্বৃত্ত ছিল ১৬ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ খাতে ঘাটতি কোনোভাবেই সহ্য করে না। ঘাটতি হলেই জরিমানা করে দেয়। ওই জরিমানা মওকুফ করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদে আবেদন করতে হয়। তবে অন্য খাতের জরিমানা মওকুফ করলেও সাধারণত এ খাতের জরিমানা মওকুফ করে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেভাবেই চলছে পুলিশি কার্যক্রম। নির্বাচনের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের তরফ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসাবে সপ্তাহে অন্তত এক বা দুদিন প্রার্থীদের নিয়ে বসতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব মেট্রোপলিটন কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলার এসপিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনসংক্রান্ত সব ধরনের বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য কোনো প্রার্থী চাইলে টাকার বিনিময়ে আনসার সদস্য নিতে পারবেন। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে গানম্যানসহ সম্ভাব্য সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে। কেউ লাইসেন্স করা অস্ত্র সুবিধা চাইলে সেটাও দেওয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের।

    আগামী নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশ তৎপর বলে জানা গেছে। একটি পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলেই তা স্পষ্ট। এতে দেখা যায়, ১৩ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ৬৪ হাজার ৮৭টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এসব চেকপোস্টের আওতায় আট লাখ ৫১ হাজার ৯০২টি গাড়ি এবং ৭৪ লাখ আট হাজার ৭৭৯টি মোটরসাইকেলে তল্লাশি করা হয়। আট হাজার ৯৮৪টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় ১০ হাজার ২৮৪টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে। উদ্ধার করা হয় ২৪২টি আগ্নেয়াস্ত্র, এক হাজার ৬৮৪ রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি। গত ২৭ দিনের অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৫৩০ জনকে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১৬ হাজার ৩৮২ জন সদস্যও রয়েছেন। অপর দিকে বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসাবে গ্রেফতার করা হয়েছে ২৩ হাজার ১৪৮ জনকে।

    নির্বাচনি প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশের দেড় লাখ সদস্যের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সব পুলিশ সদস্যকে বডিওর্ন ক্যামেরা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার উদ্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গেই যথাযথ নির্দেশনা দেবেন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    সূত্র জানায়, নির্বাচনি নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি থানা এলাকায় সর্বাধিক মোবাইল টিম মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব উপজেলায় দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ সদস্যরা কাজ করবেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অভিযান চলাকালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন থাকবে।

    এদিকে, ব্যালট পেপার ছাড়াও পোস্টাল ব্যালট (ডাকযোগে ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত) এবং নির্বাচনি সরঞ্জামাদি পরিবহণে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    পরাজিত একটি মহল নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বারবার উঠে আসছে। মহলবিশেষ নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচন চলাকালে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, কেপিআই (কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন), নির্বাচন অফিস ও ভোটকেন্দ্র ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করতে পারে। এই উদ্বেগের বিষয় সামনে রেখে ওইসব এলাকায় প্যাট্রোল ডিউটি জোরদার করা হয়েছে।

    প্রতিবেশী দেশে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে ঢুকে পড়ার যে আশঙ্কা রয়েছে সেদিকে সরকারের সর্বোচ্চ নজর রয়েছে। ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ কেউ বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কঠোরহস্তে দমন করা হবে বলে সূত্র জানায়।

    এদিকে, কোনো মহল সংখ্যালঘুদের উসকানি ও মদদ দিয়ে যাতে বসতবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং ভাঙচুর চালিয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে মাঠ পুলিশকে তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মাজার ও ধর্মীয় স্থাপনার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে বলা হয়েছে।

    ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে পাঁচ হাজার ৭৬৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র লুট হয়। এসব অস্ত্রের বড় একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন ধরনের ১০ হাজার ৫০৬টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে ৬৫৭টি অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। জমা না পড়া অস্ত্রগুলো এরই মধ্যে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গত ২৭ দিনে তিনটি রাইফেল, ২১টি রিভলবার, ৩১টি বিদেশি পিস্তল, ৩৬টি পিস্তল, ২৪টি শুটারগান, ২৭টি পাইপগান, ২৮টি এলজি, ২৩টি বন্দুক, চারটি শটগান, একটি করে স্টেনগান ও এমএ (মিয়ারমার আর্মস) ও ৪৩টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে।

    পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশের কী দায়িত্ব তা এরই মধ্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত পুলিশ সদর দপ্তর মাঠপর্যায়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

  • ৪০ কোটি বছর আগের উদ্ভিদ নিয়ে বিস্ময়

    ৪০ কোটি বছর আগের উদ্ভিদ নিয়ে বিস্ময়

    অনলাইন ডেস্ক:       পৃথিবীতে টিকে থাকা প্রাচীনতম উদ্ভিদ গোষ্ঠীর অন্যতম হর্সটেইল সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

    তাদের মতে, এই উদ্ভিদের ভেতর দিয়ে পানি প্রাকৃতিক পরিশ্রাবণের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। শুধু তাই নয়, উদ্ভিদটির ভেতরে থাকা আইসোটোপের বৈশিষ্ট্যও বেশ অস্বাভাবিক।

    নতুন এ তথ্য আদিম বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা ও প্রাচীন পানি চক্র সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে।

    বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, হর্সটেইল এমন এক বংশধারার অংশ, যা একাধিকবার বিলুপ্ত হওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন সত্ত্বেও ৪০ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে।

  • হাসিনা, টিউলিপ ও আজমিনাসহ ১৮ জনের মামলার যুক্তিতর্ক ১৩ জানুয়ারি

    হাসিনা, টিউলিপ ও আজমিনাসহ ১৮ জনের মামলার যুক্তিতর্ক ১৩ জানুয়ারি

    ‎‎‎‎‎‎‎অনলাইন ডেস্ক:‎‎‎‎‎‎‎‎‎‎‎   রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

    আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ-৪ এর বিচারক রবিউল আলম দিনটি ধার্য করেন।

    এদিকে আজ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য ছিল। কারাগারে আটক থাকা আসামি খুরশীদ আলম আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে আদালতে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন। শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পায়নি। এরপর আদালত মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

    আদালতের পেশকার বেলাল উদ্দিন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। মামলায় টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরো দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন আফনান জান্নাত কেয়া।

    মামলার অন্য আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

  • দেশে কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না : সিইসি

    দেশে কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না : সিইসি

    অনলাইন ডেস্ক:     প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, দেশে কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না এবং রাজপথে নামারও দরকার হবে না।

    আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে আপিল দায়ের কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন। রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল করলে, উভয় ক্ষেত্রেই সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা ইনসাফে বিশ্বাসী। আমরা ইনসাফ করব। শুনানি শেষে আপনারা দেখবেন, আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী ন্যায়বিচার করা হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান এবং সবাই তা মানতে বাধ্য।’

    এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, অতীতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন সহিংসতা ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটত। কিন্তু এবার অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। এটি একটি ভালো দিক।

    তিনি আরও জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশন এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আপিল করতে আসছেন। এতে প্রমাণ হয়, নির্বাচনের প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে। আমরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি।’

    এদিকে, মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আজ চতুর্থ দিনের মতো নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের শুরু হয়েছে।

    ইসির কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার নির্বাচন কমিশনে ১৩১টি আপিল দায়ের করা হয়। এতে গত তিন দিনে মোট আপিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫টি।

    ইসির কর্মকর্তারা আরও জানান, বুধবার দায়ের করা আপিলগুলোর মধ্যে খুলনা অঞ্চলে ১১টি, রাজশাহী অঞ্চলে ১৫টি, রংপুর অঞ্চলে ৯টি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১০টি, কুমিল্লা অঞ্চলে ১৯টি, ঢাকা অঞ্চলে ৩১টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১৬টি, বরিশাল অঞ্চলে ৯টি এবং ফরিদপুর অঞ্চলের জেলাগুলো থেকে ৭টি আপিল দায়ের করা হয়।

    এর আগে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে ১২২টি আপিল দায়ের করা হয়। সোমবার প্রথম দিনে মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৪১টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে একটি আপিল দায়ের করা হয়।

    ইসি সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে জমা পড়া মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।

    ইসির নোটিশ অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী বা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে মূল কাগজের ১ সেট ও ৬ সেট ফটোকপি মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দিতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা আপিলগুলোর শুনানি আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন ভবনের বেইজমেন্ট-২ এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ফুল কমিশন এ শুনানি গ্রহণ করবেন।

    ইসির তথ্য অনুযায়ী, ১০ জানুয়ারি ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি শুরু হবে। ১১ জানুয়ারি ৭১ থেকে ১৪০, ১২ জানুয়ারি ১৪১ থেকে ২১০, ১৩ জানুয়ারি ২১১ থেকে ২৮০, ১৪ জানুয়ারি ২৮১ থেকে ৩৫০, ১৫ জানুয়ারি ৩৫১ থেকে ৪২০, ১৬ জানুয়ারি ৪২১ থেকে ৪৯০, ১৭ জানুয়ারি ৪৯১ থেকে ৫৬০ এবং ১৮ জানুয়ারি ৫৬১ নম্বর থেকে অবশিষ্ট আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

    শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল মনিটরে দেখানো হবে। একই সঙ্গে রায়ের পিডিএফ কপি ও আপিলের সিদ্ধান্ত রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো হবে এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

    এছাড়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে রায়ের অনুলিপি বিতরণ করা হবে।