Category: প্রচ্ছদ

  • মটোরোলার নতুন ফোল্ডেবল ফোন মটোরোলা রেজর ফোল্ড উন্মোচন

    মটোরোলার নতুন ফোল্ডেবল ফোন মটোরোলা রেজর ফোল্ড উন্মোচন

    অনলাইন ডেস্ক:    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে শুরু হয়েছে প্রযুক্তির বড় মেলা সিইএস ২০২৬। সেখানে মটোরোলা তাদের নতুন ফোল্ডেবল ফোন মটোরোলা রেজর ফোল্ড উন্মোচন করেছে, যা কোম্পানির প্রথম বই-স্টাইল ফোল্ডেবল স্মার্টফোন।

    এতদিন পর্যন্ত রেজর নামটি ফ্লিপ ফোনের সঙ্গে পরিচিত ছিল, যার ডিজাইন ছিল নস্টালজিয়ায় মোড়া। কিন্তু এবার মটোরোলা ভিন্ন পথে হাঁটল এবং রেজর ফোল্ডকে উৎপাদনশীলতার একটি প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

    মটোরোলা জানিয়েছে, রেজর ফোল্ড মূলত কাজ ও বিনোদনের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ব্যবহারিক দিককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ফোনটি বন্ধ অবস্থায় দেখতে সাধারণ স্মার্টফোনের মতো। এতে রয়েছে ৬.৬ ইঞ্চির একটি বড় এক্সটারনাল ডিসপ্লে, যা দিয়ে মেসেজ দেখা, ইমেইল পড়া এবং অ্যাপ ব্যবহার করা সহজ হবে।

    ফোনটি খুললে পাওয়া যাবে ৮.১ ইঞ্চির একটি বড় পর্দা, যা একটি ২কে এলটিপিও স্ক্রিন। এটি বিশেষভাবে মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য তৈরি, যার মাধ্যমে একাধিক অ্যাপ একসঙ্গে চালানো যাবে। বড় স্ক্রিনে কাজ করা আরও সুবিধাজনক হবে।

    মটোরোলার দাবি, রেজর ফোল্ডের মাধ্যমে কাজের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে। ডকুমেন্ট দেখা, ভিডিও কল এবং প্রেজেন্টেশন করার সুবিধা থাকবে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে নতুন মাত্রা যোগ করা হয়েছে। ফোনটিতে রয়েছে দুটি নতুন এআই ফিচার—‘ক্যাচ মি আপ’ এবং ‘নেক্সট মুভ’। ‘ক্যাচ মি আপ’ ব্যবহারকারীকে গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশন দেখাবে, আর ‘নেক্সট মুভ’ পরবর্তী কাজ সাজেস্ট করবে, যাতে অ্যাপ বদলাতে কম হয় এবং কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়।

    ফোনটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজ করছে মটোরোলার নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘কিরা’-এর মাধ্যমে। এটি একটি ইউনিফায়েড এআই প্ল্যাটফর্ম, যা মটোরোলা ও লেনোভো ডিভাইসগুলিকে একত্রে সংযুক্ত করবে।

    ক্যামেরার দিক থেকেও ফোনটি শক্তিশালী। রেজর ফোল্ডে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা, যার মধ্যে একটি পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স রয়েছে, যা দূরের ছবি তোলার সুবিধা দেবে। এছাড়া আলাদা দুটি সেলফি ক্যামেরা রয়েছে—একটি ভেতরের স্ক্রিনে এবং অন্যটি বাইরের স্ক্রিনে। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ডলবি ভিশন সাপোর্ট ও স্ট্যাবিলাইজেশন সুবিধা রয়েছে। ক্যামেরার মূল সেন্সর হিসেবে সনি লাইটিয়া সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে, যা কম আলোতেও ভালো ছবি তুলতে সক্ষম।

    রেজর ফোল্ডে স্টাইলাস সাপোর্টও রয়েছে, যা ফোনটিকে আরও সিরিয়াস করে তুলেছে। এর মাধ্যমে নোট নেওয়া, ড্রয়িং করা বা ডিজাইন ও অফিস কাজ করা সহজ হবে।

    সিইএস ২০২৬-এ মটোরোলা একটি বিশেষ সংস্করণও দেখিয়েছে, যা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এডিশন রেজর নামে পরিচিত। এই সংস্করণে কাস্টম ডিজাইন এবং বিশেষ সফটওয়্যার ফিচার থাকবে।

    তবে এখনও ফোনটির দাম বা বাজারে আসার তারিখ জানানো হয়নি। কোম্পানি এই বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ফোনটি প্রিমিয়াম সেগমেন্টে আসবে।

    সব মিলিয়ে, রেজর ফোল্ড একটি বড় পদক্ষেপ। নস্টালজিয়া থেকে সরে এসে মটোরোলা এবার ব্যবহারিক দিকেই বেশি জোর দিয়েছে। এটি শুধুমাত্র আকর্ষণীয় নয়, কাজেরও একটি শক্তিশালী ডিভাইস। প্রযুক্তি বাজার এখন অপেক্ষা করছে দাম ও প্রাপ্যতা সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য, যা ফোনটির আসল প্রভাব নির্ধারণে সাহায্য করবে।

  • জকসু নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল

    জকসু নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল

    অনলাইন  ডেস্ক:    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতিমা কাকলী এই বিজয় ঘোষণা করেন।

    নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ভিপি, জিএস এবং এজিএস—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদের সবকটিতেই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে প্যানেলটি।

    সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান’ প্যানেলের প্রার্থী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৮৮০।

    সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ ৫ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে বড় জয় নিশ্চিত করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২০৩ ভোট, অর্থাৎ বিজয়ী প্রার্থী ৩ হাজার ২৬৭ ভোটের এক বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

    একইভাবে সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদেও আধিপত্য বজায় রেখেছে অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল। এই পদে তাদের প্রার্থী মাসুদ রানা ৫ হাজার ২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার বিপরীতে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী বিএম আতিকুর তানজিল পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৬৮ ভোট। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর জকসুতে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিল ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলটি।

  • রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

    রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

    অনলাইন ডেস্ক:     উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।  এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।  খবর বিবিসি’র।গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় চেষ্টা চালানোর পর অবশেষে বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাহাজটি মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে।  অভিযানের আগে রুশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল যে হেলিকপ্টার থেকে কমান্ডো নামিয়ে জাহাজটি দখল করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।  এর আগে মার্কিন কোস্টগার্ড জাহাজটি থামানোর সংকেত দিলেও সেটির ক্রুরা তা অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

    রাশিয়া এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।  রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী উন্মুক্ত সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে এবং অন্য দেশে নিবন্ধিত কোনো জাহাজের ওপর শক্তি প্রয়োগ করার অধিকার কোনো রাষ্ট্রের নেই।

    তবে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।  মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘বেলা-১’ নামে পরিচিত এই ট্যাঙ্কারটি মূলত ভেনিজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহন করছিল যা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে প্রতিহত করা হবে।

    মার্কিন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভেট এই অভিযান সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও দাবি করেছেন, জাহাজটি ভেনিজুয়েলা, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে অবৈধভাবে তেল আনা-নেয়া করত।  নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ভেনিজুয়েলার জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসায় জাহাজটির ক্রুদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে সেখানে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও তিনি জানান।

    ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তেলের বাজারের ওপর মার্কিন কঠোর নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে এই অভিযান মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল।

  • জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তায় সাত দিন মাঠে থাকবে সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তায় সাত দিন মাঠে থাকবে সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

    অনলাইন ডেস্ক:     জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তায় সাত দিনের জন্য মাঠে থাকবেন সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সদস্যরা। ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি সাত দিন তারা মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া এলাকা ও গুরুত্বভেদে ভোটকেন্দ্রের পাহারায় থাকবেন পুলিশ ও আনসারের ১৬ থেকে ১৮ জন সদস্য।

    আগের মতো এ নির্বাচনেও স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র (সেনা, নৌ ও বিমান) বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এসংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার ওই পরিপত্র নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে এ পরিপত্র জারি করা হলো। এতে ৮ জানুয়ারির আগ পর্যন্ত এখন যে অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, তা বহাল থাকবে। ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে মাঠে নামবে তারা।

    এ নির্বাচনে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সারা দেশে প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬-১৭ জন পুলিশ ও আনসার এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন মোতায়েন থাকবে। আর মেট্রোপলিটন এলাকার সাধারণ ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন থাকবেন। দুর্গম ঘোষিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট এলাকার ভোটকেন্দ্রে ১৬-১৮ জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন হবে। এসব সদস্য ভোটগ্রহণের দুদিন আগ থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।

    পরিপত্রে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় মোতায়েন হবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে সারা দেশে তাদের মোতায়েন করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সশস্ত্র বাহিনী অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্টে অবস্থান করবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে টহল ও অন্যান্য অভিযান পরিচালনা করবে। সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হবে।

    ইসির কর্মকর্তারা জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধনীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসাবে সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনে আগের মতোই ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের সপ্তম ও দশম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মোতায়েন করা হয়েছে।

    এ নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল বা স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে। ওই ফোর্স সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন এবং নির্বাচনি আচরণবিধি যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করবে। এছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। ওই সমন্বয় সেলে সব বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। ওই সেল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করবে। পরিপত্রে বৈধ অস্ত্রের প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে।

    ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈধ অস্ত্রধারীরা অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন যাতে না করেন, সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে। তবে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ-সদস্য প্রার্থীরা নীতিমালা অনুযায়ী অস্ত্র বহন করতে পারবেন। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রার্থী বা তার পক্ষে ক্যাম্প স্থাপন যাতে না করে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ডিসেম্বরে সামান্য বেড়েছে পিএমআই

    ডিসেম্বরে সামান্য বেড়েছে পিএমআই

    অনলাইন ডেস্ক:      বাংলাদেশের সামগ্রিক পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) ডিসেম্বর মাসে সামান্য বেড়েছে। এটি অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের গতি বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

    সর্বশেষ পিএমআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাতে অব্যাহত প্রবৃদ্ধিই এ উন্নতির প্রধান চালিকা শক্তি।

    নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে পিএমআই ০.২ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪-তে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, ৫০ পয়েন্টের ওপরে অবস্থান অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ এবং নিচে অবস্থান সংকোচনের নির্দেশক।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) যৌথভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    পিএমআই একটি অগ্রগামী উদ্যোগ, যার লক্ষ্য হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সময়োপযোগী ও নির্ভুল ধারণা প্রদান করা, যাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকরা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

    এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জের যৌথ উদ্যোগে, যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্ট (এসআইপিএমএম)-এর কারিগরি সহযোগিতায় এ সূচক তৈরি করা হয়েছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বর মাসে সামগ্রিকভাবে কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পিএমআই সামান্য উন্নত হয়েছে। তবে টানা তিন মাসের প্রবৃদ্ধির পর নির্মাণ খাত আবার সংকোচনে পড়েছে।

    কৃষি খাতে টানা চতুর্থ মাসের মতো সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং ডিসেম্বর মাসে এর গতি আরও বেড়েছে। নতুন ব্যবসা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান ও ইনপুট ব্যয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে অর্ডার ব্যাকলগ দ্রুত হারে কমেছে, যা কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতার ওপর চাপের ইঙ্গিত দেয়।

    উৎপাদন খাত টানা ১৬তম মাসের মতো সম্প্রসারণে থাকলেও নভেম্বরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে।

    নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি অর্ডার, কারখানার উৎপাদন, কাঁচামাল ক্রয়, আমদানি, ইনপুট মূল্য, কর্মসংস্থান এবং সরবরাহকারী ডেলিভারিসহ বেশিরভাগ সূচকে সম্প্রসারণ লক্ষ্য করা গেছে।

    বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, সমাপ্ত পণ্যের সূচক আবার সম্প্রসারণে ফিরে এসেছে। যদিও অর্ডার ব্যাকলগ কমতে থাকলেও এর গতি কিছুটা ধীর হয়েছে।

    অন্যদিকে, নির্মাণ খাত ডিসেম্বর মাসে আবার সামান্য সংকোচনে পড়েছে। নতুন ব্যবসার সূচকে সংকোচনের হার বেড়েছে, যদিও নির্মাণ কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান ধীরগতিতে সম্প্রসারণে রয়েছে। ইনপুট ব্যয় সামান্য দ্রুত হারে বেড়েছে। টানা পঞ্চম মাসের মতো অর্ডার ব্যাকলগ কমেছে, তবে সংকোচনের গতি কিছুটা কমেছে।

    সেবা খাত টানা ১৫তম মাসের মতো সম্প্রসারণে রয়েছে এবং ডিসেম্বর মাসে এর গতি সামান্য বেড়েছে। কর্মসংস্থান ও ইনপুট ব্যয় সম্প্রসারণে থাকলেও নতুন ব্যবসা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও অর্ডার ব্যাকলগে সংকোচন দেখা গেছে, যা চাহিদার অসম পরিস্থিতি নির্দেশ করে।

    ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা—সব খাতেই ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচকে প্রবৃদ্ধি থাকলেও এর গতি ধীর, যা সতর্ক আশাবাদের ইঙ্গিত দেয়।

    প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, সর্বশেষ পিএমআই সূচক সামান্য অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রধান ভিত্তি শক্তিশালী কৃষি খাত।

    তিনি বলেন, ‘উৎপাদন খাতে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে এবং নির্মাণ খাত আবার সংকোচনে ফিরে গেছে। তবে ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচক সব প্রধান খাতেই সম্প্রসারণে রয়েছে, যা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অব্যাহত প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীল আশাবাদের ইঙ্গিত দেয়।’

  • নির্বাচন ব্যবস্থাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ ইসি : নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ

    নির্বাচন ব্যবস্থাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ ইসি : নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ

    অনলাইন ডেস্ক:    নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আজ বলেছেন, ধারাবাহিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার লক্ষ্য অর্জনে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও এফেয়ার্স ব্যুরো কনফারেন্স হলে ২৭টি সিভিল সোসাইটি সংগঠন নিয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (এএফইডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচনের জন্য নাগরিক পর্যবেক্ষণ : জাতীয় নির্বাচন, ২০২৬’ প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

    তিনি বলেন, ২০২৬-এর নির্বাচনটাকে যদি একটি উপমা দিয়ে বুঝাতে চাই তাহলে বলা যায়, এটা অনেকটা ট্রেনকে লাইনে ফেরত এনে আবার চালানো শুরু করার মতন। নূন্যতম সংস্কার করে এটাকে একটা গতি দেয়ার কাজটা যদি আমরা করতে পারি, তাহলেই আমাদের প্রথম ধাপ অর্জিত হবে। তারপরে যত নির্বাচন আসবে তখন আমাদের এই প্রক্রিয়া আরো উন্নত হবে। কারণ আমাদের সবার প্রত্যাশা অনেক এবং সবই যৌক্তিক প্রত্যাশা। আর জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরনেই কমিশন কাজ করে যাচ্ছে, কেননা এটা কমিশনের অঙ্গীকার।

    ইসি সানাউল্লাহ বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমাদের একটা বিরাট শূন্যস্থান তৈরি হয়ে গিয়েছে। তবে এই বাস্তবতায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সব ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যাশার সঙ্গে যৌক্তিকতার একটা সমন্বয় ঘটাতে হবে। আমাদের সবসময় এটা লক্ষ্য থাকে যে কিভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরো উন্নত করা যায়। এবারের নির্বাচনে এসে নতুন করে অনেকগুলো বিধান সংযোজিত হয়েছে, আইনি সংস্কার হয়েছে, বিধির সংস্কার হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে সঠিক একটা নির্বাচন ব্যবস্থা তৈরি করার লক্ষ্যেই কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। এই নির্বাচন ব্যবস্থাতে নতুনভাবে যেসকল বিষয়গুলো প্রথমবারের মতন এবার সংযোজিত হয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে সঞ্চালনা করা গেলে এবারের নির্বাচনটা ভবিষ্যতে একটা রোল মডেল হয়ে থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে এবং এটাই স্বাভাবিক। কিšুত্ম তা যেন একটা নির্দিষ্ট সহনশীল পর্যায়ে থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এটা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, খুব স্বাভাবিকভাবেই কিছু সামান্য ত্রুটি হয়তো থেকে যাবে, তবে সেটাকে ধারাবাহিকভাবে সংস্কার করে এই নির্বাচন থেকে শুরু করে সামনের বা এর পরেরগুলোকে সম্পূর্ণ নির্ভুল করে ভবিষ্যতের জন্য একটা খুব সুন্দর গ্রাউন্ড তৈরি করতে হবে। যাতে করে বিচ্যুতির জায়গাগুলো কমিয়ে ফেলতে পারি এবং স্বচ্ছতর জায়গাগুলোকে যেন আমরা সম্প্রসারিত করতে পারি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা বস্তুনিষ্ঠভাবে আপনাদের দায়িত্ব সম্পাদন করবেন, কারণ আপনারা সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ইলেকশন কমিশনের কোথায় ভুল হচ্ছে, কী কী সীমাবদ্ধতা আছে- সেগুলো কিন্তু আপনারাই কমিশনকে দেখিয়ে সংশোধন করে আরও উন্নতি করার সুযোগ করে দিচ্ছেন। কমিশন চায় যে অত্যন্ত মৌলিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে যেন কোনখানে কোন ব্যত্যয় না হয়। নির্বাচনের নীতিমালার ভেতরে থেকে যে কাজগুলো আপনাদের করার কথা সেটা করার জন্যব সব ধরনের সহায়তা নির্বাচন কমিশন থেকে আপনাদেরকে দেওয়া হবে।

    বক্তব্যে শেষে তিনি ‘সিটিজেন অবজারভেশন ফর ইনক্লুসিভ এন্ড একাউন্টেবল ইলেকশন ইন বাংলাদেশ : ২০২৬ ন্যাশনাল ইলেকশন’ প্রজেক্টের উদ্বোধন করেন।

    এলায়েন্স ফর দি ফেয়ার ইলেকশন এন্ড ডেমোক্রেসি (এএফইডি)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত আজকের অনুষ্ঠানটির

    পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন। সার্বিক সহায়তায় ছিল ইউরোপীয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি)।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- এএফইডি’র কো-চেয়ার রফিকুল ইসলাম খোকন ও এডভোকেট রোখসানা খোন্দকার, এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া, ফার্স্ট সেক্রেটারি সেবাস্তিয়ান রিগার-ব্রাউন, বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স ডিয়েপাক এলমার, ইউরোপীয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির (ইপিডি) প্রকল্প পরিচালক আনাস্তাসিয়া এস উইবাওয়া, ডেমোক্রেসিওয়াচ চেয়ারপারসন এবং এএফইডি’র বোর্ড সদস্য তালেয়া রেহমান ও এএফইডির সদস্য সচিব মো. হারুন-অর-রশিদসহ আরও অনেকে।