Category: প্রচ্ছদ

  • বেগম জিয়ার মৃত্যু: ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও ১ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা

    বেগম জিয়ার মৃত্যু: ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও ১ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা

    অনলাইন ডেস্ক:    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ১ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন।

    প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভাষণে বললেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। এই গভীর শোকের মুহূর্তে আমি তার পরিবারের সদস্যরা, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অগণিত কর্মী-সমর্থকদের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহর কাছে আমার প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের সবাইকে এই গভীর শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করেন। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহীরুহসম ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অসামান্য ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “দেশ ও জাতির প্রতি তার সমুজ্জ্বল অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখতে তার অবিচল ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন মহান দূরদর্শী ও নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”

    ‘শোকাবহ এই মুহূর্তে আপনাদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান, আসুন আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে মহান আল্লাহর দরবারে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। একই সঙ্গে জাতির এই কঠিন সময়ে আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ থাকি। শোকের এই সময়ে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সেই বিষয়ে আমি সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। এ সময়ে আমাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি’-উল্লেখ করেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও যোগ করে বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং আগামীকাল (বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর) তার নামাজে জানাজার দিনে একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করছি। নামাজে জানাজাসহ সব ধরনের শোক পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমি সবার প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।‘আমি জানি আপনারা সবাই এই সময়ে অনেক আবেগাপ্লুত। আমি আশা করছি শোকের এই সময়ে আপনারা ধৈর্যের পরিচয় দেবেন এবং তার জানাজাসহ সব আনুষ্ঠানিকতা পালনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করবেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ধৈর্য, শক্তি ও ঐক্যবদ্ধ থাকার ক্ষমতা দিন।”

    রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

  • খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার, দাফন হবে জিয়াউর রহমানের পাশে

    খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার, দাফন হবে জিয়াউর রহমানের পাশে

    অনলাইন ডেস্ক:     বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বুধবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শেরেবাংলা নগরে তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

    দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

    মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সেখানে ছিলেন। এই খবরে হাসপাতালজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। চিকিৎসক ও নার্সদের অনেককে আবেগ ধরে রাখতে দেখা যায়নি।

    খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর পর তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও পরিচিত। রাজনৈতিক জীবনে তিনি আপসহীন অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা এবং বিরোধী দলে নেতৃত্ব দেওয়া, প্রতিটি পর্যায়ে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও অনড়।

    তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ শোক ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

  • বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

    অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মৃত্যুবরণ করেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

    বিএনপি তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান এই খবর নিশ্চিত করেন। একই ব্যথাজনক তথ্য বিএনপি মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়, যেখানে বলা হয়, “বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ফজরের ঠিক পরে ইন্তেকাল করেছেন।”

    খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর জটিল চিকিৎসা চলছিলো ফুসফুসে সংক্রমণ, লিভার ও কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী অসুখের কারণে। ২৭ নভেম্বর তাঁর অবস্থা আরও সংকটময় হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত ২টায় তাঁর চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, “উনি অত্যন্ত সংকটময় সময় অতিক্রম করছেন, মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে দেশবাসীর দোয়া কামনা করছি।”

    খবর ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিএনপি নেতাকর্মী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সাধারণ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে বিক্ষোভ, শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেছেন।

    খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে এক উজ্জ্বল পরিচয়। ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া খালেদা খানম অর্থাৎ খালেদা জিয়া রাজনীতিতে গিয়েছিলেন সংগ্রাম ও নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে। ১৯৮২ সালে বিএনপির সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশের পর তিনি দলীয় ভাইস-চেয়ারম্যান ও পরে চেয়ারম্যান হন। সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে ১৯৮০-এর দশকের গণতন্ত্র আন্দোলনে অটল ভূমিকা রেখে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে লোকমুখে পরিচিত হন।

    ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হয়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০১ ও ২০০৮ সালে তিনি আবারও নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হন, এবং কোনো আসনে পরাজিত না হওয়ার বিরল রেকর্ড গড়েন। তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষা, চাকরি ও সামাজিক ক্ষেত্রে নানা সংস্কার হয়, এবং ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় স্থান দেয়।

    রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ কখনো সহজ ছিল না। পরিস্থিতি যখন কঠিন, তিনি তখনই রাজপথে নেমেছিলেন, গ্রেপ্তার হয়েছেন, গৃহবন্দী হয়েছেন, কিন্তু কখনো রাজনীতি ছাড়েননি। ২০১৮ সালে বিতর্কিত এক মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়, যদিও সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেই রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রশ্ন ওঠে।

    ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বর্তমানে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির আদেশে মুক্তি পান। উভয় অভিযোগ থেকে খালাস পান, তবে দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সশরীরে অংশ নিতে পারেননি। গত বছর জানুয়ারিতে তাঁর বড় ছেলে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে দেখা হয়েছে, যা বহুদিন পর তাদের সাক্ষাতের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল।

    চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, তারেকের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, পরিবার সদস্য ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেকেই হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসক, নার্সেরা কন্ঠভঙ্গ করে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

    উন্নত বয়স, দীর্ঘ চিকিৎসা এবং নানা জটিলতার সম্মিলিত ফলেই বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক নেত্রীর জীবনাবসান ঘটে আজ সকাল ৬টায়। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশব্যাপী দোয়া ও শোক র‍্যালি শুরু হয়েছে।

  • আসন্ন নির্বাচন আয়োজনে ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত’ : প্রধান উপদেষ্টা

    আসন্ন নির্বাচন আয়োজনে ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত’ : প্রধান উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন আজ সোমবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন।

    সাক্ষাতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান চলাচল, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া শ্রম সংস্কার এবং দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।

    বাংলাদেশে এক বছরের দায়িত্বপূর্ণ মেয়াদ শেষে দেশে ফেরার প্রাক্কালে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন গত ১৭ মাসে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

    এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত,’ বলেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে শান্তি বিঘ্নিত করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বিশেষভাবে নতুন শ্রম আইনকে ‘অসাধারণ ও ব্যতিক্রমধর্মী’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব সংস্কার বাংলাদেশে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

    তিনি আগের সরকারগুলোর আমলে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে করা ৪৬টি মামলার মধ্যে ৪৫টি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেন।

    জবাবে প্রধান উপদেষ্টা নতুন শ্রম অধ্যাদেশকে ‘একটি উৎকৃষ্ট আইন’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় শ্রমিক নেতারা এ সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুসমর্থনের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

    সাক্ষাতে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব এলাকায় আশ্রয় শিবিরগুলোতে বসবাসরত এক মিলিয়নের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার জন্য জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে সবচেয়ে বড় দাতা।’ ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    বিদায়ী সাক্ষাতে এক বছরের দায়িত্বকালে ‘গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ করার জন্য ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি তাঁকে বাংলাদেশের ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    সাক্ষাতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

  • মনোনয়ন জমার শেষ দিনে প্রার্থী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়

    মনোনয়ন জমার শেষ দিনে প্রার্থী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়

    অনলাইন ডেস্ক: সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোতে প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রার্থীরা ৫০ হাজার টাকা জামানতসহ মোট ১৪ ধরনের প্রয়োজনীয় দলিল সংযুক্ত করে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন। তবে গুঞ্জন আছে, মনোনয়ন দাখিলের সময় আরও ২ দিন বাড়তে পারে।

    ঢাকার সেগুনবাগিচা এলাকায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আব্দুস সালাম। খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মনোনয়নপত্র জমা দেন। একই সময়ে খুলনা-১ আসনে কৃষ্ণ নন্দী, খুলনা-২ আসনে জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, খুলনা-৪ আসনে কবিরুল ইসলাম এবং খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

    ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আলমগীর ফেরদৌস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এসএম ফজলুল হক, গণফোরামের একেএম শফিকুল ইসলাম, সিপিবির ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তানজিল ইসলাম ও খান শোয়েব আমান উল্লাহ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

    নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

  • সময় বাড়ল আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার

    সময় বাড়ল আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার

    অর্থনীতি ডেস্ক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়েছে। এর আগে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার তারিখ ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়। বর্তমানে সময় আরও বাড়িয়ে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়।

    এনবিআর আজ রোববার এ বিষয়ে একটি বিশেষ আদেশ জারি করেছে। আদেশে বলা হয়, করদাতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই সময় বাড়ানো হয়েছে।

    এনবিআরের তথ্যনুযায়, চলতি ২০২৫-২৬ করবছরে এখন পর্যন্ত অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য ৪২ লাখের বেশি করদাতা নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ২৬ লাখের বেশি করদাতা ইতোমধ্যে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ এখনও প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দেননি।

    এনবিআর জানায়, বর্তমানে দৈনিক গড়ে ১৫ হাজারের বেশি করদাতা রিটার্ন জমার জন্য নিবন্ধন করছেন। প্রতিদিনই আরও নতুন নতুন করদাতা অনলাইনে নিবন্ধন করছেন।

    এনবিআর থেকে জানা যায়, এ বছর থেকে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। রিটার্ন দাখিলের সময় কোনও কাগজপত্র বা দলিলাদি আপলোড করতে হচ্ছে না; শুধু প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করলেই হচ্ছে। এতে করে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা করছে ।

    চলতি করবর্ষের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি এবং মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে এ বিধান শিথিল রাখা হয়েছে। চাইলে ই-রিটার্নও দাখিল করতে পারবেন তারা। করদাতার তরফে তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও এবছর অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।