Category: প্রচ্ছদ

  • হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রমাণ করে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: প্রধান উপদেষ্টা

    হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রমাণ করে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: প্রধান উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:     প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতের দণ্ডাদেশ প্রমাণ করেছে যে ক্ষমতার অবস্থান যাই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।আজ এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এ বিবৃতিতে তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশের আদালত এমন স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেছে যা দেশের ভেতর থেকে বৈশ্বিক পরিসর পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হয়েছে। এ রায় জুলাইুআগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের প্রতি পর্যাপ্ত না হলেও ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

    প্রফেসর ইউনূস বলেন, দেশ এখন দীর্ঘ বছরের দমন-পীড়নে বিধ্বস্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেসব অপরাধের বিচার হয়েছে, নিরস্ত্র তরুণ-তরুণী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়; রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার মৌলিক আস্থার বন্ধনও ভেঙে দিয়েছিল।

    তিনি বলেন, এ ঘটনা বাংলাদেশের মৌলিক মূল্যবোধ-মর্যাদা, প্রতিরোধ-ক্ষমতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারে তীব্রভাবে আঘাত করেছিল।‘প্রায় ১,৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তারা কেবল কোনো সংখ্যা ছিলেন না; ছিলেন ছাত্র-ছাত্রী, বাবা-মা ও অধিকারসম্পন্ন নাগরিক,’ যোগ করেন তিনি।

    প্রফেসর ইউনূস জানান, আদালতে মাসের পর মাসের সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর কীভাবে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। এ রায় তাদের দুর্ভোগকে স্বীকৃতি দেয় এবং নিশ্চিত করে যে ন্যায়বিচারের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নে ছাড় নেই।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহির মূল স্রোতে পুনরায় যুক্ত হচ্ছে। ‘পরিবর্তনের দাবিতে যারা দাঁড়িয়েছিল, তাদের অনেকে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছে; তাদের আজকের ত্যাগ আমাদের আগামীর পথ তৈরি করছে।’

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শুধু আইনি জবাবদিহি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনও এখন জরুরি। মানুষ কেন প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য সবকিছু ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত হয়েছিল, এখন তা বোঝা এবং সেই আস্থার উপযোগী সিস্টেম তৈরি করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, আজকের রায় সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি পূর্ণ আস্থা রাখি ‘বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সঙ্গে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।’আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার শুধু টিকেই থাকবে না, বরং বিজয়ী হবে এবং তা স্থায়ী হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এর আগে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেওয়া ও তদন্তে সহযোগিতা করায় রাষ্ট্রপক্ষের স্বীকারোক্তিকারী হিসেবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ‘লঘুদণ্ড’ হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

  • নারীর দিকে বাজে দৃষ্টি দেওয়া কি জেনা?

    নারীর দিকে বাজে দৃষ্টি দেওয়া কি জেনা?

    অনলাইন ডেস্ক:     ইসলামে জেনা বা ব্যভিচার মারাত্মক গুনাহ। ইসলামি শরিয়াহ মতে, মানুষের চারটি অঙ্গের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলেই বাস্তবে অনেক গুনাহ ও ব্যভিচারের মতো পাপ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা খুবই সহজ। আর তাতে ঈমানি শক্তিও বৃদ্ধি পাবে। তন্মধ্যে চোখ ও দৃষ্টিশক্তি একটি।

    হাদিসে পাকে প্রিয় নবী (সা.) সব সময় উম্মতে মুসলিমাহকে চোখের হক আদায় করার কথা বলতেন। চলাফেরা, ওঠাবসায় চোখ ও দৃষ্টিশক্তি সংযত করার কথা বলতেন। কারণ মানুষের জন্য চোখ ও দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা রক্ষা করা লজ্জাস্থানকে রক্ষা করার শামিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন-

    غُضُّوْا أَبْصَارَكُمْ، وَاحْفَظُوْا فُرُوْجَكُمْ

    ‘তোমরা তোমাদের চোখকে নিচু করে রাখ এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত কর।’ (মুসনাদে আহমাদ ৫/৩২৩, মুসতাদরাকে হাকেম ৪/৩৫৮-৩৫৯, ইবনে হিব্বান ২৭১, বায়হাকি ৬/২৮৮)

    হঠাৎ ঘটনাক্রমে কোনো হারাম বস্তুর উপর চোখ পড়ে গেলে তা তড়িঘড়ি ফিরিয়ে নিতে হবে। চোখ বা দৃষ্টি সরাতে দেরি করা যাবে না। এমনকি দ্বিতীয়বার কিংবা একদৃষ্টে ওদিকে তাকিয়ে থাকাও যাবে না। হাদিসের বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার হজরত আলিকে (রা.) উদ্দেশ করে বলেন-

    يَا عَلِيُّ! لَا تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ، فَإِنَّ لَكَ الْأُوْلَى، وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ

    ‘হে আলি! বার বার দৃষ্টিক্ষেপণ করো না। কারণ হঠাৎ দৃষ্টিতে তোমার কোনো দোষ নেই। তবে ইচ্ছাকৃত দ্বিতীয় দৃষ্টি অবশ্যই দোষের।’ (আবু দাউদ ২১৪৯, তিরমিজি ২৭৭৭, মুসনাদে আহমাদ ৫/৩৫১-৩৫৩-৩৫৭, মুসতাদরাকে হাকেম ২/১৯৪, বায়হাকি ৭/৯)

    রাসুলুল্লাহ (সা.) অসংযত (হারাম) দৃষ্টিকে চোখের জেনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমনিভাবে কোনো ব্যক্তির হাত, পা, মুখ, কান, মনও ব্যভিচার করে থাকে। তবে এসবের মধ্যে মারাত্মক হচ্ছে লজ্জাস্থানের ব্যভিচার। যাকে বাস্তবেই ব্যভিচার বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন-

    إِنَّ اللهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنَ الزِّنَا، أَدْرَكَ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ، فَزِنَا الْعَيْنَيْنِ النَّظَرُ، وَزِنَا اللِّسَانِ الْـمَنْطِقُ، وَالْيَدَانِ تَزْنِيَانِ فَزِنَاهُمَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلَانِ تَزْنِيَانِ فَزِنَاهُمَا الْـمَشْيُ، وَالْفَمُ يَزْنِيْ فَزِنَاهُ الْقُبَلُ، وَالْأُذُنُ زِنَاهَا الِاسْتِمَاعُ، وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِيْ، وَالْفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ وَيُكَذِّبُهُ.

    ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক আদম সন্তানের জন্য জেনার কিছু অংশ বরাদ্দ করে রেখেছেন। যা সে অবশ্যই করবে। (যেমন)- চোখের জেনা হচ্ছে অবৈধভাবে কারোর দিকে দৃষ্টি দেওয়া। মুখের জেনা হচ্ছে অশ্লীল কথোপকথন করা। হাতও ব্যভিচার করে, তবে তার ব্যভিচার হচ্ছে অবৈধভাবে কাউকে হাত দিয়ে ধরা। পা-ও ব্যভিচার করে, তবে তার ব্যভিচার হচ্ছে কোনো ব্যভিচারের ঘটনায় জড়িত হতে কোথাও পায়ে হেঁটে যাওয়া। মুখও ব্যভিচার করে, তবে তার ব্যভিচার হচ্ছে অবৈধভাবে কাউকে চুমু দেওয়া। কানের ব্যভিচার হচ্ছে অশ্লীল কথা শোনা। মনও ব্যভিচারের কামনা-বাসনা করে। আর তখনই লজ্জাস্থান তা বাস্তবায়ন করে থাকে।’ (আবু দাউদ ২১৫২, ২১৫৩, ২১৫৪)

    মনে রাখা জরুরি

    দৃষ্টিশক্তির কুফল হচ্ছে- আফসোস, ঊর্ধ্বশ্বাস ও অন্তরজ্বালা। কারণ, মানুষ যা চায় তার সবটুকু সে কখনোই পায় না। আর তখনই তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।

    তাছাড়া চোখ বা দৃষ্টিশক্তিই সব অঘটনের মূল। কারণ, চোখ কোনো কিছু দেখার পরই তা মনে জাগে। মনে জাগলে তার প্রতি চিন্তা আসে। চিন্তা আসলে অন্তরে তাকে পাওয়ার কামনা-বাসনা জন্মে। কামনা-বাসনা জন্মানোর ফলেই তাকে খুব কাছে পাওয়ার ইচ্ছে হয়। দীর্ঘ দিনের ইচ্ছে প্রতিজ্ঞার রূপ ধারণ করে। এ ধারাবাহিক কাজগুলোর মধ্যে যদি কোনো ধরনের বাধা না থাকে, তখনই কোনো কর্ম সংঘটিত হয়।

    মানুষের দৃষ্টি যদি খারাপ হয় তবে তা সব সীমাকেই অতিক্রম করে ফেলে। কারণ দৃষ্টি হচ্ছে তীরের মতো। যা মানুষের অন্তরকে নাড়া দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। দৃষ্টির এ আঘাতের ফলেই মানুষের ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। একবার দৃষ্টি খারাপ হয়ে গেলে তা থেকে ফিরে আসা খুবই কঠিন।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, ব্যভিচারের মতো মারাত্মক অপরাধ থেকে বাঁচতে প্রথমেই নিজেদের চোখ ও দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণ করা। যেমনটি হাদিসে এসেছে, চোখের অবাধ দৃষ্টি একে অপরকে জান্নাতে পৌঁছানোর পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, আর দৃষ্টি সংযত রাখা ইসলামের পরিপূর্ণতা এবং সততার লক্ষণ।

  • আগাম শীতকালীন সবজিতে ভরে উঠেছে রাজবাড়ীর হাট-বাজার

    আগাম শীতকালীন সবজিতে ভরে উঠেছে রাজবাড়ীর হাট-বাজার

    অনলাইন ডেস্ক:      শীত মৌসুমের শুরুতেই রাজবাড়ী জেলার হাট বাজারে আগাম শীতকালীন সবজিতে ভরে উঠেছে। ভালো দামের আশায় কৃষকেরা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে বেশি বেশি সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর রাজবাড়ীতে ৫ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম, মিষ্টিকুমড়া, টমেটো ও বরবটি আবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ প্রান্তিক কৃষকদের শীতকালীন সবজি আবাদের জন্য সহযোগিতা করে আসছে। ইতোমধ্যেই রবি মওসুমের প্রণোদনার আওতায় ২০ হাজার কৃষকের মধ্যে ৩ কোটি, ৪৫ লাখ, ৩ হাজার ২০০ টাকার সার, বীজ, প্রদান করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। যার মধ্যে ছিল, ১ কেজি করে সরিষা বীজ, ১ কেজি সূর্যমুখী, ১০ কেজি চিনা বাদাম, ১ কেজি পিয়াজ, ৫ কেজি মুসুর ও ৮ কেজি খেশারির বীজ।

    প্রান্তিক কৃষকেরা এবার শীত মওসুমের আগেই ফুলকপি, মুলা, বাধাকপি, পটল, শিম, টমেটো, করল্লা বেগুন, ধনিয়া, লাউ, ধুন্দুলসহ নানা জাতের সবজি চাষ শুরু করছেন। চারা রোপণ এবং গাছে আশা ফুল ও ফলের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

    পদ্মার চরের সদর উপজেলার মিজান পুর, উড়াকান্দা, রামকান্তপুর, সুলতানপুর ও মুলঘর ইউনিয়নের কৃষক রওশন আলীর সাথে কথা হলে তারা জানান, পুরো শীত মৌসুমে সবজির অধিক দাম পাওয়া যায়। কারণ বর্ষা মওসুমের পরে, সবজির বাজার চড়া থাকে, সে কারণে সচেতন কৃষকেরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে সবজি চাষে মনযোগী থাকেন। তাই ফলন ভালো হয় এবং সবজি বিক্রি করে দামও ভাল পাওয়া যায়।

    জৌকুরার কৃষক মিলন জানান, সবজি চাষে আমার সংসারে সফলতা এসেছে। তিনি বলেন, তার সবজি নিয়ে বাজারে যেতে হয় না, পাইকারেরা ক্ষেত থেকেই ন্যায্য দামে কিনে নিয়ে যায়।

    রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বাসসকে বলেন, এ মওসুমে শীতকালীন সবজি আবাদের জন্য ৫ হাজার ১০০ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩ হাজার ১০০ হেক্টরে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।

    তিনি বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের শীতকালীন সবজি আবাদে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সহযোগিতা করে আসছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই ২০ হাজার কৃষককে রবি মওসুমের প্রণোদনার আওতায় ৩ কোটি, ৪৫ লাখ, ৩ হাজার ২০০ টাকার সার, বীজ প্রদান করেছে।

  • শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড

    শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড

    অনলাইন ডেস্ক:    চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।আজ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানকারী এই ট্রাইব্যুনালে অপর দুই সদস্য বিচারক হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    বহুল আলোচিত এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ এনে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলেন প্রসিকিউশন।অন্যদিকে, আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চায়  তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। এছাড়া রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের খালাস চান তার আইনজীবী।

    এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামিম শুনানি করেন। এছাড়া শুনানিতে প্রসিকিউটর বি. এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্য প্রসিকিউটরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। আর রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

    ঐতিহাসিক এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বোমোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

    মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

    একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে (অ্যাপ্রুভার) রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক  অভিযোগ জমা পড়ে। এখন দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সে সব অভিযোগের বিচার চলছে।

  • বিমান থেকে ঝাঁপ দিয়ে খুলল না প্যারাশুট, ভয়ংকর অভিজ্ঞতা অজয়ের

    বিমান থেকে ঝাঁপ দিয়ে খুলল না প্যারাশুট, ভয়ংকর অভিজ্ঞতা অজয়ের

    বিনোদন ডেস্ক:      চোখের সামনে ভয়াবহ মৃত্যু দেখেছেন বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগন। স্কাই ডাইভিং করতে গিয়ে কী ভয়ংকর পরিণতি হতে পারে, তা জানালেন অভিনেতা। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।বর্তমানে ‘দে দে পেয়ার দে ২’ ছবির প্রচার নিয়ে ব্যস্ত অজয়। একসময় নানা ছবিতে কঠিন লড়াইয়ের দৃশ্যে অভিনয় করেছেন তিনি। অজয়ের বাবা বীরু দেবগন ছিলেন লড়াইয়ের দৃশ্যের পরিচালক। তাই লড়াইয়ের দৃশ্য তার কাছে কখনওই বিশেষ কঠিন মনে হয়নি। কিন্তু বাস্তবে স্কাই ডাইভিংয়ের অভিজ্ঞতা খুব খারাপ অজয়ের।

    উল্লিখিত ছবিতে অভিনয় করেছেন মাধবনও। তিনি ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, অজয় একটি দৃশ্যে কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই বিমান থেকে স্কাই ডাইভিং করেন। অজয়ের এমন নির্ভীক সত্তা দেখে তিনি মুগ্ধ। তখনই সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান অজয়। আমেরিকায় স্কাই ডাইভিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি। অভিনেতা বলেছেন, “আমি ওখানে যাওয়ার পরেই এক সাংঘাতিক অভিজ্ঞতা হয়। দেখি, একজন বিমান থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু তার প্যারাশুটটি আর খোলেনি। সেই ব্যক্তির পরেই আমার পালা ছিল স্কাই ডাইভিংয়ে।

    স্কাই ডাইভিং করতে গিয়ে নাকি কোনওমতে রক্ষা পেয়েছিলেন হলিউডের অভিনেতা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও। বিমান থেকে ঝাঁপ দেওয়ার পরেও তাঁর প্যারাশুট ঠিক ভাবে খুলছিল না। সঙ্গে সঙ্গে লিওনার্দোর প্রশিক্ষকও ঝাঁপ দেন এবং অভিনেতাকে বাঁচান।

    ‘দে দে পেয়ার দে’ ছবিতে অজয় ও মাধবন ছাড়াও অভিনয় করেছেন রকুল প্রীত। ছবিটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ওটিটি মঞ্চে মুক্তি পাবে। এই ছবিটি ছাড়াও ‘দৃশ্যম ৩’ নিয়েও ব্যস্ততা চলছে অজয়ের।

  • উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উগান্ডা

    উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উগান্ডা

     খেলাধুলা ডেস্ক:  মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় নারী কাবাডি বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো মর্যাদার এই আসর আয়োজন করছে বাংলাদেশ, যা বাংলাদেশের জন্য দারুণ এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

    এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ১১ দেশ। স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও আছে ২০১২ সালের প্রথম আসরের দুই ফাইনালিষ্ট ভারত ও ইরান এবং চাইনিজ তাইপে, জার্মানি, কেনিয়া, নেপাল, পোল্যান্ড, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, জাঞ্জিবার। ২০১২ সালে ভারতের পাটনায় হওয়া প্রথম বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত; ইরান হয়েছিল রানার্সআপ। পঞ্চম হয়েছিল বাংলাদেশ।

    এর আগে রোববার সকালে হয়েছে আসরের ড্র। ১১ দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। এ-গ্রুপে আছে ৫ দল। বি-গ্রুপ হয়েছে ৬ দল নিয়ে। স্বাগতিক বাংলাদেশ আছে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারতের গ্রুপে।  এই গ্রুপে বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়াও আছে থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, উগান্ডা ও জার্মানি। বি-গ্রুপে গতবারের রানার্স-আপ ইরানের সঙ্গে আছে নেপাল, চাইনিজ তাইপে, পোল্যান্ড, কেনিয়া ও জাঞ্জিবার।

    ১৭ নভেম্বর প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হবে চার ম্যাচ। বেলা তিনটায় উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ খেলবে উগান্ডার বিপক্ষে। দ্বিতীয় ম্যাচে নেপাল খেলবে জাঞ্জিবারের বিপক্ষে। দিনের তৃতীয় ম্যাচে খেলতে নামবে ইরান, তাদের প্রতিপক্ষ পোল্যান্ড। আর দিনের শেষ ম্যাচে চাইনিজ তাইপের প্রতিপক্ষ কেনিয়া।

    আফ্রিকান দেশ উগান্ডা ২০১২ নারী কাবাডি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি। বাংলাদেশের আসর দিয়ে বিশ্বকাপ কাবাডিতে যাত্রা শুরু হচ্ছে উগান্ডার মেয়েদের। ‘দ্য শি গ্ল্যাডিয়েটর্স’ নামে পরিচিত উগান্ডা জাতীয় নারী কাবাডি দল  আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাধারী। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো এই শিরোপা জয়ের পর ২০২৫ সালেও তা ধরে রাখে।

    বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক রূপালী আক্তার বলেন, “উগান্ডার বিপক্ষে আমাদের প্রথম ম্যাচ। জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে চাই। এই প্রতিযোগিতার জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি, মেয়েরা সবাই ভালো পারফরম করতে মানসিকভাবে প্রস্তুত। দল নিয়ে আমি ভালো কিছু করার ব্যাপারে আশাবাদী।”

    কোচ শাহনাজ পারভীন মালেকা বলেছেন, “আমাদের প্রথম ম্যাচ উগান্ডার সাথে। এই টুর্নামেন্টের অন্য দলগুলোর মতো তারাও কিন্তু পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এসেছে। তবে প্রথম ম্যাচে আমাদের একটু সাবধান থাকতে হবে। শুরুর কয়েক মিনিট দেখতে হবে উগান্ডা কোন দিকে বেশি ভালো। প্রতিপক্ষকে বুঝে নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলব আমরা। যেহেতু নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ, আমরাও ভালো কিছু পেতে চাই। শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ, আমরা চেষ্টা করব ভালো কিছু দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।”

    এক নজরে নারী কাবাডিতে বাংলাদেশের অর্জন :

    -২০০৫ সালে ভারতে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে আন্তর্জাতিক কাবাডিতে শুরু বাংলাদেশের মেয়েদের।

    – এশিয়ান গেমস : ২০১০ (ব্রোঞ্জ), ২০১৪ (ব্রোঞ্জ), ২০১৮ (সপ্তম), ২০২২ (ষষ্ঠ)।

    – দক্ষিণ এশিয়ান গেমস (এসএ গেমস) : ২০০৬ (ব্রোঞ্জ), ২০১০ (রৌপ্য), ২০১৬ (ব্রোঞ্জ) ও ২০১৯ (ব্রোঞ্জ)।

    – এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ: ২০০৫ (ব্রোঞ্জ), ২০২৫ (ব্রোঞ্জ)

    – বিশ্বকাপ : ২০১২ (পঞ্চম)