Category: প্রচ্ছদ

  • অক্টোবরে সড়কে ঝরেছে ৪৪১ প্রাণ, মোট দুর্ঘটনা ৪৮৬টি

    অক্টোবরে সড়কে ঝরেছে ৪৪১ প্রাণ, মোট দুর্ঘটনা ৪৮৬টি

    অনলাইন ডেস্ক:  গত অক্টোবর মাসে দেশের সড়কে ৪৮৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৪১ জন, আহত হয়েছেন ১১২৮ জন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি, একই সময়ে নৌপথ ও রেলপথেও ঘটেছে বহু প্রাণহানির ঘটনা। বুধবার ১৯ নভেম্বর রোড সেফটি ফাউন্ডেশন গণমাধ্যমে পাঠানো মাসিক প্রতিবেদনে অক্টোবরের এই সার্বিক চিত্র তুলে ধরেছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৯২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৩৭ জন। যা মোট মৃত্যুর প্রায় এক তৃতীয়াংশ। একই সময়ে ৯টি নৌ দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত, নিখোঁজ রয়েছেন ৪ জন। রেলপথে ৪৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৩ জনের এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৫৭ জন এবং শিশুর সংখ্যা ৬৩।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১২ জন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ২৪ জন। দুর্ঘটনাগুলোর ১৬৬টি ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ১৪৮টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮১টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৮৭টি শহরের সড়কে। বাকি চারটি দুর্ঘটনা ঘটেছে অন্যান্য স্থানে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, “অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটছে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে।” তিনি আরও বলেন, “গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং চালকদের নিয়মিত মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ জরুরি।”

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছিল ১৩ দশমিক ৯ জন। অক্টোবর মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৭ জনে। হিসাব অনুযায়ী অক্টোবর মাসে সড়কে প্রাণহানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

    দুর্ঘটনায় নিহতদের ধরন অনুযায়ী দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী মারা গেছেন ১৩৭ জন। বাসযাত্রী ৩০ জন, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ অন্যান্য পণ্যবাহী গাড়ির আরোহী ২৪ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ৭ জন। থ্রি হুইলারে নিহত ১০৩ জন এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি নসিমন, ভটভটি, আলমসাধু, টমটম ও মাহিন্দ্রর যাত্রী মারা গেছেন ৩৪ জন। রিকশা ও বাইসাইকেল আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের সমস্যা, চালকদের অদক্ষতা, বেপরোয়া গতি, স্বল্পগতির যানবাহন মহাসড়কে চলাচল, যাত্রী ও পথচারীদের আইন না জানা বা না মানা এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজির মতো বিষয়গুলো বড় ভূমিকা রাখছে।

    এ ছাড়া নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরেছে সংস্থাটি। তাদের ভাষায়, “সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়াতে হবে এবং চালকদের নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা প্রণয়ন জরুরি।” পাশাপাশি মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধের জন্য আলাদা সার্ভিস রোড, রেল ও নৌপথ সংস্কার এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

  • উৎসবমুখর নির্বাচন চাই, সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন বলে জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

    উৎসবমুখর নির্বাচন চাই, সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন বলে জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:     আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর এবং সবার অংশগ্রহণমূলক একটি উৎসব হিসেবে দেখতে চান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মনে করেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার ১৯ নভেম্বর মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড ও স্টাফ কলেজের কোর্স ২০২৫ এর গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের ৩১১ জন তরুণ সামরিক কর্মকর্তা অংশ নেন। তাদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন প্রধান উপদেষ্টা। বক্তৃতায় তিনি ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দেশবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ উৎসবে রূপ দিতে সেনাবাহিনীর সহায়তা অপরিহার্য। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে আনন্দমুখর করতে সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    ড. ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই কারণেই পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছিল। তিনি বলেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা জাতি সবসময়ই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

    অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের তরুণ সামরিক কর্মকর্তারাও তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাংলাদেশি একজন কর্মকর্তা বলেন, ডিএসসিএসসিতে পাওয়া নেতৃত্ব, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক জ্ঞান ভবিষ্যতে যে কোনো জাতীয় সংকটে প্রয়োগ করা যাবে। তিনি বলেন, অর্জিত অভিজ্ঞতা প্রয়োজনে নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনেও কাজে লাগবে।

    চীনের একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে সামরিক প্রশিক্ষণের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য মান বজায় রাখছে। তার মতে, ২৩টি দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময় তাদের বোঝাপড়া ও পেশাগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নিজ নিজ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজে আসবে।

    প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে দেশব্যাপী আরেকটি বিষয়ও উঠে আসে। মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর ভারতকে হারিয়ে ২২ বছর পর ফুটবলে বড় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ দল। এই জয়ের জন্য তিনি জাতীয় ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানান। তার মতে, ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য নয়, এটি জাতিকে নতুন অনুপ্রেরণা দেয়। ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই জয় বাংলাদেশের ফুটবলের গৌরবময় দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।

    তিনি বলেন, খেলাধুলা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক শক্তিতে উদ্বুদ্ধ করে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ফুটবলকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতের সরকারগুলোও এই সমর্থন ধরে রাখবে।

  • মুক্তির আগেই নজর কেড়েছে রণবীরের ‘ধুরন্ধর’

    মুক্তির আগেই নজর কেড়েছে রণবীরের ‘ধুরন্ধর’

    অনলাইন ডেস্ক:   চমক দেওয়ার ক্ষেত্রে রণবীর সিং যেন আলাদা নাম। জন্মদিনের সকালেই নিজের নতুন সিনেমা ‘ধুরন্ধর’র প্রথম লুক প্রকাশ করে অনুরাগীদের তাক লাগিয়ে দেন তিনি। উস্কোখুস্কো চুল, রক্তাক্ত মুখ আর সিগারেট হাতে রণবীরকে দেখে নেটিজেনদের চোখ কপালে উঠেছিল।

    চরিত্রের এমন রাফ অ্যান্ড টাফ উপস্থাপন বলিউডে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে। এমন সময় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর-মুক্তির আগেই রেকর্ড গড়তে পারে ‘ধুরন্ধর’। শোনা যাচ্ছে, ছবিটি হতে পারে তিন ঘণ্টার বেশি দৈর্ঘ্যরে।

    আগামী দশ দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে টিম ‘ধুরন্ধর’। সব ঠিক থাকলে পরিচালক আদিত্য ধর ও প্রযোজনা সংস্থার সিদ্ধান্তে ফিল্মটি দাঁড়াতে পারে ৩ ঘণ্টা ৫ মিনিটে, যা রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ারের দীর্ঘতম ছবি।

    পরিচালক আদিত্য ধর জানান, ‘রণবীরের ক্যারিয়ারে ‘ধুরন্ধর’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রজেক্ট। এই চরিত্রে দর্শক তাকে একাধিক নতুন রূপে পাবেন। গল্পের গতি বা আবহ-কোনো কিছুতেই তাড়াহুড়ো করতে চাইনি আমরা। ছবির নানা বাঁক দর্শককে চমক দেবে।’

    বলিউডে দীর্ঘ ছবির ইতিহাস নতুন নয়। এর আগে ‘অ্যানিম্যাল’ (৩ ঘণ্টা ২১ মিনিট) ও ‘বাহুবলী’ (৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট) সময়ের মানদণ্ডে রেকর্ড গড়েছিল। এ তালিকায় রমেশ সিপ্পির কালজয়ী ‘শোলে’র দৈর্ঘ্য ছিল ৩ ঘণ্টা ১৯ মিনিট। সম্প্রতি দিল্লি বিস্ফোরণের কারণে পিছিয়ে গিয়েছিল ‘ধুরন্ধর’র প্রচারণা।

    তবে এখন সবকিছুই এগোচ্ছে মুক্তির দিকে। চলতি বছরের ৫ ডিসেম্বর ছবিটি আসছে প্রেক্ষাগৃহে। প্রথম টিজারে রণবীরের পরিণত ও আক্রমণাত্মক উপস্থিতি দেখে মনে পড়ে গিয়েছিল তার জনপ্রিয় চরিত্র ‘আলাউদ্দিন খিলজি’র কথাও। শুধু রণবীর নয়-ফার্স্ট লুকে নজর কেড়েছেন সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খান্না, অর্জুন রামপাল ও আর মাধবনও। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে তাদের। এখন দেখার অপেক্ষা-তিন ঘণ্টার এই ‘ধুরন্ধর’ সত্যিই নতুন রেকর্ড গড়তে পারে কি না।

  • অপ্টিমাস হতে যাচ্ছে মানুষের ডিজিটাল প্রতিরূপ

    অপ্টিমাস হতে যাচ্ছে মানুষের ডিজিটাল প্রতিরূপ

    অনলাইন ডেস্ক:     মানব সভ্যতার ইতিহাস বদলে দিতে পারে টেসলা সিইও ইলন মাস্কের তৈরি করা হিউম্যানয়েড রোবট ‘অপ্টিমাস’। এটি শুধু দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পন্ন করবে না, বরং ভবিষ্যতে মানুষের ‘ডিজিটাল কপি’ তৈরি করতেও সক্ষম হতে পারে। মাস্কের মতে, অপ্টিমাস একটি মানুষের চেতনা, ব্যক্তিত্ব এবং স্মৃতিশক্তি ‘অধিগ্রহণ’ করতে পারবে এবং হুবহু তার মতো হয়ে যেতে পারবে।

    অপ্টিমাস-এর ধারণা প্রথম প্রকাশ করা হয় ২০২১ সালে। এটি একটি স্বয়ংক্রিয়, বাইপেডাল (দুই পায়ে হাঁটা সক্ষম) রোবট, যার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ৫৬ কেজি। রোবটটি হাটতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজ যেমন জিনিসপত্র তোলা-রাখা, ঘর মুছা, সামগ্রী সাজানো ইত্যাদি করতে সক্ষম।

    মাস্ক জানান, অপ্টিমাস-এর মস্তিষ্কে কাজ করছে টেসলার তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এটি নিউরালিঙ্ক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত, যা মানুষের মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ শনাক্ত করতে পারে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কারও মস্তিষ্কে কী চলছে তা শনাক্ত করে সেই তথ্য অপ্টিমাসে আপলোড করা সম্ভব হতে পারে।

    অর্থাৎ, একটি মানুষের চেতনাকে পুরোপুরি রোবটে প্রতিফলিত করা সম্ভব হবে। তবে মাস্ক সতর্ক করেছেন, এটি এত তাড়াতাড়ি ঘটবে না। প্রযুক্তির বর্তমান সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে দ্রুত চলমান উন্নয়নের কারণে তিনি আশাবাদী, পরবর্তী ২০ বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারে।

    টেসলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপ্টিমাস মানব শ্রম হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি সাধারণ গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি বিপজ্জনক বা একঘেয়ে কাজেও মানুষের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হবে। এছাড়া, শিক্ষাক্ষেত্র, স্বাস্থ্যসেবা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল উৎপাদন এবং গবেষণার মতো ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে। অপ্টিমাস শুধু একটি রোবট নয়, বরং এটি প্রযুক্তি এবং মানবজাতির সংমিশ্রণ, যা ভবিষ্যতে মানুষের জীবনধারা ও ধ্যানধারণা পাল্টে দিতে পারে।

  • রাঙামাটিতে পাহাড়ে দেশের সবচেয়ে উঁচু সড়ক

    রাঙামাটিতে পাহাড়ে দেশের সবচেয়ে উঁচু সড়ক

    অনলাইন ডেস্ক:     পাহাড়ের কোল ঘেঁষা সর্পিলাকার সড়ক। সূর্যের আলোতে কোথাও পাহাড়ের গভীর মিতালি, আবার কোথাও লুকোচুরি। যেন ছবির মতো জনপদ রাঙামাটির বাঘাইছড়ির উদয়পুর। এটিই সীমান্তের শেষ ইউনিয়ন। ওপারে ভারতের মিজোরাম পাহাড়। উদয়পুর রাঙামাটির ভেতরে হলেও খাগড়াছড়ি হয়ে সেখানে পৌঁছানো সহজ।

    সীমান্ত সড়ক ঘেঁষেই উদয়পুর বাজার। ৮৩ পেরোনো স্নেহ কুমার চাকমার সঙ্গে সেখানেই কথা। জীবন সায়াহ্নে এসে সুখ-দুঃখের কথার ঝাঁপি খুললেন। বললেন, গাড়ি দিয়ে এখন যাইতাছি-আইতাছি। অসুখ-বিসুখ হলে রোগীকে এখন খাগড়াছড়ি কিংবা চিটাগাং পর্যন্ত নেওয়া যায়। আগে পুরো এলাকা ছিল জঙ্গল।

    তিনি জানান, কিডনিসহ নানা রোগে দীর্ঘদিন ভুগে মাস ছয়েক আগে মারা গেছেন স্ত্রী কালাবি চাকমা। ওষুধের জন্য বাঘাইছড়ি পৌঁছতে এক সময় পথিমধ্যে দুই রাত পার হয়ে যেত। আর খাগড়াছড়ি পৌঁছার কথা খুব কম মানুষই কল্পনা করতেন। এখন সীমান্ত সড়ক নেটওয়ার্ক বদলে দিয়েছে পুরো এলাকার ছবি।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার। ২০৩৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত প্রথম ধাপে ২০৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ শেষ হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে ২০২৪ সালের জুনে। পুরো কাজ শেষ হলে এটি হবে দেশের দীর্ঘ সড়ক নেটওয়ার্ক।

    এরই মধ্যে খাগড়াছড়ির বেটলিং, রাঙামাটির মাঝিরপাড়া ও সাইচলে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ শেষ হয়েছে। এটিই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উঁচু সড়ক নির্মাণের কীর্তি। যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৮শ ফুট। এর আগে দেশের সবচেয়ে উঁচু সড়ক ছিল বান্দরবানে পাহাড়ের ওপর দিয়ে নির্মিত থানচি-আলীকদম সড়কটি। সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় আড়াই হাজার ফুট ওপরে। ২০১৫ সালে নির্মিত হয়েছিল সড়কটি।

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনে ২০, ২৬ ও ১৭ ইসিবি সীমান্ত সড়ক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ফেনী সংলগ্ন খাগড়াছড়ির রামগড় থেকে শুরু হয়ে বান্দরবানের আলীকদমের পোয়ামুহুরিতে গিয়ে শেষ হবে সড়কটি। পুরো রাস্তাটি সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড়ের ভেতর দিয়ে নির্মিত হচ্ছে।

    পার্বত্যঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, পুরোদমে এগিয়ে চলছে নির্মাণকাজ। ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়কটির বাংলাদেশের ভেতরে ৭০৩ কিলোমিটার। বাকিটা নির্মাণ হচ্ছে মিয়ানমার সীমান্তে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে ২০৫ কিলোমিটার রাস্তা। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ১১৭ কিলোমিটার, খাগড়াছড়িতে ১৫ কিলোমিটার ও বান্দরবান সীমান্তে ১৫ কিলোমিটার। দুই লেনের এই সড়ক ১৮ ফুট প্রশস্ত। দুর্গম পাহাড়কে মূল জনপদের সঙ্গে যুক্ত করছে দীর্ঘ এই রাস্তা। পাহাড়ের দুর্গম আর ‘দুর্গম’ থাকছে না। সীমান্তের এপার-ওপারকে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

    বর্ডার আউট পোস্টে (বিওপি) দায়িত্বরত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত এই সড়ক ব্যবহার করে টহল জোরদার করতে পারবেন।

    সীমান্ত সড়কের প্রকল্প কর্মকর্তা (উদয়পুর) মেজর এইচ.এম ইকরামুল হক বলেন, এ সড়কের নির্মাণের ফলে গহিন পাহাড়ের অরক্ষিত এলাকাও পুরোপুরি নজরদারির মধ্যে চলে আসবে। বিস্তৃত এলাকার নিরাপত্তাসহ পর্যটন শিল্প বিকাশের পথ প্রশস্ত হবে। বেটলিং, মাঝিরপাড়া ও সাইচলে দেশের সবচেয়ে উঁচু সড়কের রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

    প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ এই সড়ক পার্বত্য জেলাগুলোর সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটাবে। এ ছাড়া পাশের দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, সীমান্ত এলাকার কৃষিপণ্য দেশের মূল ভূখণ্ডে পরিবহনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে অদূর ভবিষ্যতে ভারতের মিজোরাম-ত্রিপুরা এবং মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের সঙ্গে সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে এটি।

    সীমান্ত সড়ক নির্মাণের ফলে পাহাড়ের জনজীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে- তা জানতে একাধিক পাহাড়ি বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয়। সাজেকের দাড়িপাড়ার সুখী চাকমা বলেন, রকমারি পণ্য নিয়ে এখন এক বাজার থেকে আরেক বাজারে দ্রুত যেতে পারছি। আমার স্বামী তোরন জীবন চাকমা গাড়িচালক। তারও আয়-রোজগার বেড়েছে। এক জায়গায় কাজ না পেয়ে অন্য জায়গায় যেতে পারছে।

    বাঘাইছড়ির একটি এনজিওতে কাজ করেন সুমন্ত চাকমা। তিনি বলেন, সীমান্ত সড়ক পাহাড়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে। চিকিৎসাসেবাও অনেকের আরও দোরগোড়ায় কড়া নাড়বে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপন ও সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া ছাড়াও কৃষি এবং পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটবে। সড়কটি শুরু হয়েছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম থেকে। এর পর দোছড়ি-আলীকদম-থানচি-রেমাক্রি-ধুপানিছড়া সড়ক হয়ে তিন দেশের (বাংলাদেশ-মিয়ানমার-ভারত) সীমানা তিনমুখ পাহাড় ঘেঁষে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সীমান্তের রামগড় পর্যন্ত পৌঁছবে।

    ২০১৮ সালে শুরু হওয়া সড়কটির প্রথম পর্যায়ে ৩১৭ কিলোমিটারের কাজ সাতটি ভাগে বাস্তবায়ন হয়েছে। এর পর শুরু হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। সীমান্তের গহিন ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি হওয়ায় খুশি স্থানীয়রা। এছাড়া পার্বত্য এলাকায় চোরাচালান ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।

    প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তির পর তিন পার্বত্য জেলায় অবকাঠামো খাতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। শান্তিচুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত তিন পার্বত্যাঞ্চলে পাকা রাস্তা নির্মাণ হয়েছে ১ হাজার ২শ ১২ কিলোমিটার। কাঁচা সড়ক ৭শ কিলোমিটার, সড়ক সংস্কার ৬শ ১৪ কিলোমিটার ও ব্রিজ নির্মাণ ৯ হাজার ৮শ ৩৯ মিটার ও কালভার্ট ১শ ৪১টি।

  • জামায়াতের নেতাকর্মীরা গত দেড় বছরে কোনো প্রতিশোধ নেয়নি: জামায়াত আমির

    জামায়াতের নেতাকর্মীরা গত দেড় বছরে কোনো প্রতিশোধ নেয়নি: জামায়াত আমির

    অনলাইন ডেস্ক:      বাংলাদেশ জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে প্রীতি সমাবেশে যোগ দিয়ে বললেন, “জামায়াতের নেতাকর্মীরা গত দেড় বছরে কারো ওপর ব্যক্তিগত কোনো প্রতিশোধ নেয়নি।” তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের যতটুকু সহযোগিতা করেছিল, পরবর্তী সময়ে লুটতরাজ করে বিনিময় নিয়ে গেছে।”

    ডা. শফিকুর রহমান বললেন, “জামায়াতের নেতাকর্মীরা গত দেড় বছরে কারও ওপর ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেয়নি। আওয়ামী লীগ দায়িত্বজ্ঞানহীন সংগঠন হলেও জামায়াত বিবেক দিয়ে দেশ পাহারা দিয়েছে। দেশের মানুষের প্রতি আমাদের দায় এবং দরদ রয়েছে। তাই কারও প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হয়নি জামায়াত।”

    তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার বিচার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়েছে। তার রায়ে স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা সাময়িক স্বস্তি পাবে। বিচারবিভাগের প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা রায় কার্যকর করুন- দেশবাসী পাশে থাকবে।”

    ‘ফ্যাসিবাদী ১৭ বছরে বিপরীত মতের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার দেশকে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল। অভ্যুত্থান দমনে আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী নিপীড়ন দেখে সাধারণ জনগণ ঘরে বসে থাকতে পারেনি। রাস্তায় গুলি করে মন ভরেনি আকাশ থেকেও গুলি করে মানুষ মেরেছে ফ্যাসিস্ট সরকার’-উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশকে ভালোবাসলে আইনের হাতে সোপর্দ করুন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন জামায়াতের প্রধান লক্ষ্য। নৈতিকতার ভিত্তির ওপর বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠিত হবে। আমরা চাই না আমাদের একটি সন্তানও বিপথগামী হোক। আমাদের মূল কর্মসূচি পিছিয়ে পড়া মানুষদের সামনে এগিয়ে নেয়া।’

    ‘দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা না পর্যন্ত আমরা থামব না। দেশের সব সম্পদশালীর সম্পদ পাহারা দেবে জামায়াত। সব ধরনের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা বদ্ধপরিকর। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে জামায়াত’-যোগ করেন জামায়াত আমির।