Category: প্রচ্ছদ

  • নির্বাচনে ইসিকে পূর্ণ সহযোগিতার ঘোষণা দিলেন সেনাপ্রধান

    নির্বাচনে ইসিকে পূর্ণ সহযোগিতার ঘোষণা দিলেন সেনাপ্রধান

    অনলাইন ডেস্ক:     সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশন পূর্ণ সহযোগিতা পাবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। তিনি জানান, দেশ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, তাই সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহায়তা দেবে সেনাবাহিনী যাতে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা যায়।

    রোববার (২৩ নভেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য রাখেন। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল সদস্যদের সামনে সেনাপ্রধান বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবে। তিনি নিশ্চিত করেন যে নির্বাচন কমিশন যাতে নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি করতে বাহিনী কাজ করবে।

    অনুষ্ঠানে বাহিনীতে বীরত্বপূর্ণ অবদান এবং অসামান্য সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ ৬৪ সেনা সদস্যকে বিভিন্ন পদক দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৭৫ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সম্মাননা জানান সেনাপ্রধান। এ সময় জানানো হয় যে ২০২৪ থেকে ২০২৬ অর্থবছর পর্যন্ত অবদানের ভিত্তিতে ৯ জন সেনাবাহিনী পদক, ১৭ জন অসামান্য সেবা পদক এবং ৩৮ জন বিশিষ্ট সেবা পদক পেয়েছেন।

    সেনাপ্রধান আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দেখানো পথই দেশের সেবার মূল অনুপ্রেরণা এবং সেই পথ অনুসরণ করেই দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

  • নির্বাচনের প্রতি আস্থা বাড়াতে প্রচারণায় জোর দেওয়ার পরামর্শ কমনওয়েলথের

    নির্বাচনের প্রতি আস্থা বাড়াতে প্রচারণায় জোর দেওয়ার পরামর্শ কমনওয়েলথের

    অনলাইন ডেস্ক:    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি আয়োরকর বচওয়েক নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রচার প্রচারণার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার (২৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচন সামনে রেখে কমিশনের প্রস্তুতি ও অগ্রগতি সম্পর্কে মহাসচিবকে সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

    ইসি সচিব বলেন, মহাসচিব কমিশনের প্রস্তুতির সব দিক জানতে চেয়েছেন। নির্বাচন সামগ্রী প্রস্তুত, বিদেশে ভোটদান, প্রবাসী ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি, গণভোট আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা— সবকিছুই তাকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, কমিশনের প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের অতিরিক্ত দায়িত্বও ইসি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মোকাবিলা করছে।

    সচিব জানান, প্রচার প্রচারণার গুরুত্ব নিয়ে মহাসচিব বিশেষভাবে আলোকপাত করেন। তার ভাষায়, নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অত্যন্ত জরুরি এবং সেই আস্থা তৈরি হয় ধারাবাহিক প্রচারণার মাধ্যমে। ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রচার কার্যক্রম চলছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোও সহযোগিতা করবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কমনওয়েলথ মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ও ফেক নিউজ বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    বৈঠকে ৫৬ সদস্য দেশের সংগঠন হিসেবে প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে কমনওয়েলথ। ইউকের সহযোগিতার বিষয়টি জানানো হলে মহাসচিব সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিদেশে বসবাসকারী ভোটারদের জন্য আউট অফ কান্ট্রি ভোটিং চালুর উদ্যোগকেও তিনি প্রশংসা করেন। আইসিপিভির আওতায় অভ্যন্তরীণ দায়িত্বে নিয়োজিত প্রায় ১০ লাখ ভোটারকে ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিকেও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন তিনি।

    বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়েও আলোচনা হয়। সচিব জানান, পর্যবেক্ষক দলের সংখ্যা বা সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে ইসি বিদেশি ও প্রবাসী পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাবে। মহাসচিব আশা প্রকাশ করেছেন, তাদের উপস্থিতি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়াবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কেও জানতে চান তিনি। জবাবে ইসি জানায়, সারা দেশকে রেড, ইয়েলো এবং গ্রিন— এই তিন জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    সচিব আরও বলেন, কমনওয়েলথ জানতে চেয়েছে ইসি কী ধরনের সহযোগিতা চায়। কমিশন জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে এবং মহাসচিব ইসির প্রস্তুতির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক।

  • তেল-লোশন মেখে অজু করলে কি তা কবুল হবে?

    তেল-লোশন মেখে অজু করলে কি তা কবুল হবে?

    অনলাইন ডেস্ক:   প্রশ্ন: শরীরে তেল, লোশন, ক্রিম বা গ্লিসারিন ব্যবহার করলে কি অজু বা ফরজ গোসল শুদ্ধ হয়? অর্থাৎ আমি যদি অজুর অঙ্গগুলোতে তেল, লোশন লাগিয়ে তারপর অজু করি অথবা শরীরের যে কোনো অংশে তেল, লোশন বা গ্লিসারিন লাগানোর পর ফরজ গোসল করি, তেল-লোশন দূর না করেই শরীরে পানি গড়িয়ে দেই, তাহলে আমার অজু-গোসল শুদ্ধ হবে কি না? নাকি সাবান দিয়ে ধুয়ে তেল-লোশন দূর করতে হবে।

    উত্তর: অজুতে নির্দিষ্ট অঙ্গগুলো এবং ফরজ গোসলে পুরো শরীর পানি দিয়ে ভেজানো/ ধোয়া ফরজ। যদি অজুর অঙ্গে বা শরীরে এমন কিছু লেগে থাকে যা চামড়ার ওপর আলাদা আবরণ তৈরি করে এবং চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছতে বাধা দেয়, তাহলে অজু বা গোসল শুদ্ধ হবে না। সাধারণত তেল, লোশন বা গ্লিসারিন চামড়ার সঙ্গে মিশে যায় এবং চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছতে বাধা সৃষ্টি করে না। তাই অজু বা গোসলের সময় সংশ্লিষ্ট অঙ্গগুলো পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াই যথেষ্ট, সাবান দিয়ে ধোয়ার প্রয়োজন নেই।

    কোনো তেল বা লোশন যদি চামড়ার ওপর আলাদা আবরণ তৈরি করে, চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছতে বাধা দেয়, তাহলে ওই আবরণ দূর করে চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছাতে হবে। অজুর সময় অজুর অঙ্গগুলো এবং গোসলের সময় পুরো শরীর সচেতনতার সঙ্গে ভালোভাবে ধোয়া জরুরি যেন কোনো অংশ শুকনো থেকে না যায়। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, এক সফরে রাসুল (সা.) আমাদের পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন। আমরা আসরের নামাজ শুরু করতে দেরি করে ফেলেছিলাম। তিনি যখন আমাদের কাছে পৌঁছলেন, আমরা অজু করছিলাম এবং তাড়াহুড়ার কারণে আমাদের পা মাসেহ করার মত হালকাভাবে ধুয়ে নিচ্ছিলাম। তখন রাসুল (সা.) উচ্চৈস্বরে বললেন, ‘পায়ের গোড়ালির জন্য জাহান্নামের শস্তি রয়েছে।’ দুবার অথবা তিনবার তিনি এ কথা বললেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

    অর্থাৎ তিনি তাদেরকে সাবধান করেছেন তারা যেন অজুর অঙ্গগুলো সচেতনতার সঙ্গে ভালোভাবে ধুয়ে নেন, তাহাহুড়োর কারণে কোনো অংশ শুকনো না রেখে দেন। অজু-গোসলের সময় কিছু অংশ শুকনো থেকে গেলে অজু-গোসল হবে না। এ অবস্থায় নামাজ পড়লে নামাজও হবে না। অজু-গোসল করার পর কোনো অঙ্গের কিছু অংশ শুকনো মনে হলে তা ধুয়ে নিতে হবে। ওমর (রা.) বলেন, একবার এক ব্যক্তি অজু করে এলে দেখা গেলো তার পায়ের এক নখ পরিমাণ জায়গা শুকনো রয়ে গেছে। রাসুল (সা.) তাকে বললেন, ফিরে গিয়ে সুন্দরভাবে আবার অজু করুন। ওই ব্যক্তি ফিরে গিয়ে আবার অজু করে তারপর নামাজ আদায় করলো। (সহিহ মুসলিম)

  • সামুদের ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থানে প্রবেশে কেন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল?

    সামুদের ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থানে প্রবেশে কেন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল?

    অনলাইন ডেস্ক:     সৌদি আরব সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা আল-উলার নিকটবর্তী একটি প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহাসিক স্থানকে বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের কাছে নিজেদের আরও উন্মুক্ত করা এবং তেলের বাইরে অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করা। হেগরা বা আল-হিজর নামে পরিচিত এই রহস্যময় প্রাচীন স্থানটি বিশাল পাহাড় ও অপূর্ব সৌন্দর্যের কাঠামো দিয়ে ভরপুর। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই নির্মাণশৈলী অটুট অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্বের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পুরাতত্ত্ববিদদের মতে, পাহাড় কেটে যেভাবে এসব নির্মাণ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাজ ছিল না, কারণ আজকের যুগে এমন কাজ করতে আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী যন্ত্রপাতি লাগে।

    মাদায়েনে সালেহ বা সামুদ আবাসভূমি

    ইসলামে এই স্থানটি মাদায়েন সালেহ নামে পরিচিত, অর্থাৎ নবী সালেহ (আ.)-এর জাতি সামুদের আবাসস্থল। তারা ছিলেন অসাধারণ শক্তির অধিকারী এবং পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি বানানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ। আজও তাদের সেই নিদর্শনগুলো দৃশ্যমান। বলা হয়, এই এলাকা একসময় অত্যন্ত উর্বর ও সবুজ ছিল। প্রতি বছর পর্যাপ্ত শস্য ও ফসল উৎপন্ন হতো। কিন্তু এই প্রাচুর্য সামুদের ধনীদের মধ্যে অহংকার ও নিষ্ঠুরতা সৃষ্টি করে। তারা গরিবদের অত্যাচার ও হত্যা করতে শুরু করে।

    নবী সালেহ (আ.)-এর দাওয়াত

    তাদের হেদায়েতের জন্য আল্লাহ নবী সালেহ (আ.)-কে পাঠান। তিনি তাদেরকে আল্লাহর পথে ডাকেন। কুরআনে এভাবে উল্লেখ রয়েছে, স্মরণ করো, তিনি তোমাদেরকে আদ জাতির পর উত্তরসূরি করেছেন এবং তোমাদেরকে ভূপৃষ্ঠে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তোমরা সমতলভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ কর এবং পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরি করো। সুতরাং আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো এবং পৃথিবীতে অপকর্ম ছড়িয়ে বেড়িও না। (সুরা আল-আরাফ, আয়াত ৭৪)

    কিন্তু সালেহ (আ.)-এর দাওয়াত গ্রহণ না করে তারা তার সামনে একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল। তারা বলল, পাত্থর থেকে একটি উটনী বের করে দেখাও, যদি সত্যিই আপনি নবী হন। সালেহ (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, আল্লাহর কুদরতিতে পাহাড় ফেটে একটি উটনী বের হয়ে এলো। উটনীটি পরে একটি বাচ্চার জন্মও দেয়। সালেহ (আ.) তাদের নির্দেশ দেন, এই উটনীকে সম্মান করতে এবং কষ্ট না দিতে। তাদের মধ্যে কিছু লোক ঈমান আনল, কিন্তু বেশিরভাগই ঈমান আনল না। শেষ পর্যন্ত তাদের দুইজন সেই নিরপরাধ উটনীকে হত্যা করে। এর পরিণতিতে আল্লাহ তাদের ওপর কঠিন শাস্তি পাঠান। গভীর রাতে ভূমিকম্প তাদের গ্রাস করে নেয়, এবং পুরো জাতি ধ্বংস হয়ে যায়। কেউ আর জেগে ওঠেনি। (সুরা আল-আরাফ আয়াত ৭৮)

    আল্লাহ বলেন, তাদেরকে ভূমিকম্প আঘাত করল, ফলে তারা নিজ নিজ ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকল। হাদিসের ভাষায় এ জায়গাটার নাম আল-হিজর। কোরআনের ভাষায় এ এলাকার নাম মাদায়েনে সালেহ। রসুল সা. স্বাভাবিকভাবে এসব এলাকায় যেতে নিষেধ করেছিলেন। বুখারি শরিফের হাদিস থেকে জানা যায়, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরবাসীগণ সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরামদের বললেন, তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতিরেকে এ জাতির এলাকায় প্রবেশ করবে না। যদি তোমাদের ক্রন্দন না আসে, তবে তোমরা তাদের এলাকায় প্রবেশই করবে না। হয়ত, তাদের ওপর যা ঘটেছিল তা তোমাদের ওপরও ঘটতে পারে। (বুখারি ৪৭০২)

    আল্লাহ রব্বুল আলামিন শক্তিধর সামদ জাতির পাথরে তৈরি করা বাড়ি ঘর বিশ্ব মানুষের জন্য রেখে দিয়েছেন। যেনো মানুষ এসব দেখে আল্লাহর নাফরমানি থেকে বিরত থাকে। এজন্যই রসুল সা. এসব এলাকায় যেতে নিষেধ করেছেন। যদি আল্লাহর নাফরমানি কতটা ভয়ংকর এটা জানে, আল্লাহর শাস্তির ভয়ে অন্তর ভীত হয়, কান্না আসে তাহলেই যেতে বলেছেন তিনি। অথচ সৌদি আরব রাজ্যের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করতে একটি বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে ঐতিহাসিক এই শহরকে। ফলে এটি হয়ে উঠেছে জীবন্ত যাদুঘরে।

  • ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশে দ্বিতীয় ভূমিকম্প

    ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশে দ্বিতীয় ভূমিকম্প

    অনলাইন ডেস্ক:     সাভারের বাইপাইলকে কেন্দ্র করে হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে হওয়া এই ভূকম্পনটি রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার ছিল বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। গাজীপুরের বাইপাইল, সাভার এবং আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর জানান, সাভারের বাইপাইল ছিল কম্পনের উৎপত্তিস্থল। তিনি বলেন, এটি অল্পমাত্রার ভূমিকম্প ছিল এবং এর স্থায়িত্ব ছিল খুবই কম। একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রে দায়িত্বরত পেশাগত সহকারী নিজাম উদ্দিন আহমেদ। তাঁর ভাষায়, গাজীপুর ও সাভারের মাঝামাঝি বাইপাইলে কম্পনের মাত্রা রেকর্ড হয়েছে রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৩।

    এর মাত্র এক দিন আগে নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছিল। তার পরই আবার নতুন কম্পন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের নিম্নমাত্রার ভূকম্পন ভূত্বকের স্বাভাবিক নড়াচড়ার অংশ এবং সাধারণত এতে বড় ধরনের ঝুঁকি থাকে না।

    ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ঢাকা থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ছিল প্রায় ২৯ কিলোমিটার। রাজধানীর বেশ কিছু স্থানে খুব হালকা কম্পন অনুভূত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন বাসিন্দা।

  • শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ: সালাহউদ্দিন আহমদ

    শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ: সালাহউদ্দিন আহমদ

    অনলাইন ডেস্ক:     বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম অতন্দ্র প্রহরী’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এ দেশের মানুষ দেখুক এবং ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তারা যেন মনে রাখে যে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের কোনো স্থান নেই। যারা গণতন্ত্র হত্যা করবে, তাদের পরিণতি এ রকমই হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ কখনোই প্রকৃত গণতান্ত্রিক দল ছিল না। বরং এটি গণতন্ত্রের মুখোশ পরা একটি মাফিয়া–ফ্যাসিস্ট শক্তি হিসেবে কার্যকর ছিল, যা বারবার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।

    তিনি বলেন, দেশের জনগণের গণ-অভ্যুত্থান এবং শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে প্রত্যাশা জন্মেছে, তা হলো শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। “মানুষ বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র চাইছে। যদি জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হই, বা ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ব্যর্থ হন, তাহলে দেশে আবার ফ্যাসিবাদী রাজনীতির উত্থান ঘটতে পারে। তাই আমাদের দায়িত্ব গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখা,” যোগ করেন তিনি।

    সমাবেশে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, “শেখ হাসিনা গুপ্ত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।” তিনি দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আওয়ামী রাজনীতিকে ‘মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্রহীনতার রাজনীতি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী বাকশালীদের রাজনৈতিক মৃত্যু ঢাকায় হলেও তাদের দাফন হয়েছে দিল্লিতে। তাই এ দেশের রাজনীতি স্বাধীনতার চেতনা এবং গণতান্ত্রিক আদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা আবশ্যক।”

    তিনি আগামী নির্বাচনের গুরুত্বও উল্লেখ করে বলেন, “গত ১৭ তারিখ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পতিত স্বৈরাচারী–ফ্যাসিস্ট শাসকের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”

    সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সহস্রাধিক সদস্য।