Category: প্রচ্ছদ

  • যেভাবে বুঝবেন হোয়াটসঅ্যাপে আপনাকে কেউ ব্লক করেছে কি না

    যেভাবে বুঝবেন হোয়াটসঅ্যাপে আপনাকে কেউ ব্লক করেছে কি না

    অনলাইন ডেস্ক:    হোয়াটসঅ্যাপে কারো সঙ্গে কথা হচ্ছে না, মেসেজ সিন হচ্ছে না, প্রোফাইল ডিপি স্ট্যাটাসও দেখা যাচ্ছে না মনটা কেমন যেন ধক করে ওঠে, তাই না? আসলে ব্লক করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিতভাবে জানার একেবারে নির্দিষ্ট কোনো উপায় নেই। তবে কয়েকটি লক্ষণ মিললে বেশ নিশ্চিত হওয়া যায়। নিচে ধাপে ধাপে সেই লক্ষণগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো-

    ‘লাস্ট সিন’ বা ‘অনলাইন’ স্ট্যাটাস দেখাবে না

    যদি কেউ আপনাকে ব্লক করে, তার মেসেজ সিন বা অনলাইন স্ট্যাটাস আর দেখতে পাবেন না। তবে মনে রাখতে হবে অনেকেই গোপনীয়তার কারণে এগুলো অফ করে রাখে। তাই একে একা প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না।

    প্রোফাইল ছবি হঠাৎ গায়েব হয়ে যাওয়া

    আপনি আগে যেটা দেখতেন, এখন সেটি আর দেখা যাচ্ছে না এটা ব্লক হওয়ার একটি বড় ইঙ্গিত। কিন্তু তিনি হয়তো শুধু ‘মাই কন্ট্যাক্টস’ সেটিং করে রেখেছেন এবং আপনার নম্বর সেভ করা নেই সেটাও হতে পারে।

    পাঠানো মেসেজে শুধু ‘একটি টিক’ থাকবে

    হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠালে সাধারণত দুটি টিক থাকে একটি টিক মানে পাঠানো, দুটি টিক মানে পৌঁছানো। কেউ আপনাকে ব্লক করলে আপনার মেসেজে সারাজীবন শুধুই একটি টিক থাকবে। দিন যায়, রাত যায় দ্বিতীয় টিক আসবে না।

    ভয়েস কল বা ভিডিও কল কখনোই রিং হবে না

    ব্লক করা হলে আপনার কল তার কাছে রিংই করবে না। আপনি যতবার কল দিন, শুধু “কলিংৃ”দেখাবে কিন্তু “রিংগিং”এ যাবে না। এটিও প্রমাণের একটি শক্ত ইঙ্গিত।

    স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন না

    যদি সে আপনাকে ব্লক করে, তার কোনো স্ট্যাটাস আপনি দেখতে পাবেন না। এমনকি আপনি স্ট্যাটাস দিলে সেও দেখতে পারবে না।

    গ্রুপে যুক্ত করা যাবে না

    এটি সবচেয়ে নির্ভুল পরীক্ষা বলা যায়। যদি আপনি তাকে কোনও গ্রুপে অ্যাড করতে যান, আর দেখান- কুডনট অ্যাড, ইউ আর নট অ্যালাউড টু অ্যাড দিজ কন্ট্যাক্ট। তাহলে ধরে নিতে পারেন আপনি ব্লকড।

    তবে সতর্ক থাকুনসব লক্ষণ মিললেই পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়। অনেক সময় নেটওয়ার্ক সমস্যা, অ্যাপ বাগ, গোপনীয়তা সেটিং কিংবা নম্বর সেভ না থাকা এসবেও একইরকম দেখা যেতে পারে। তাই একটি লক্ষণ দেখে সিদ্ধান্ত নয় বরং ৩-৪টি লক্ষণ মিললে ধরে নিতে পারেন আপনি ব্লকের তালিকায় আছেন।

  • অনির্বাচিত সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না

    অনির্বাচিত সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না

    অনলাইন ডেস্ক:      লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সূচি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ইংরেজি পোস্টে তিনি বলেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এমন একটি সরকার নিচ্ছে, যাদের জনগণের নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই। তিনি সতর্ক করেছেন, এসব সিদ্ধান্তের প্রভাব বছরের পর বছর সাধারণ মানুষ বহন করতে হবে।

    তারেক রহমান উদাহরণ দিয়ে দেখান, গাজীপুরের একটি ছোট পোশাক কারখানার মালিক দীর্ঘ দশক ধরে ব্যবসা গড়ে তুললেও হঠাৎ রপ্তানি শুল্ক সুবিধা কমে গেলে অর্ডার হারানো, শ্রমিকদের বেতন দিতে হিমশিম খাওয়া এবং পরিবারকে নিরাপদে রাখা কঠিন হয়ে যায়। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের এক তরুণীর পরিবারের সংকট তুলে ধরেছেন, যারা ওভারটাইমের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি কমলে প্রথমে ওভারটাইম কমানো হয়, পরে শিফটে কাটছাঁট, শেষে চাকরি হারানোর ঝুঁকি দেখা দেয়। তিনি বলেন, “এগুলি সংবাদ শিরোনামে আসে না, তবে লাখো মানুষের জীবনে নীরব সংকট তৈরি করে।”

    তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের এলডিসি উত্তরণের সময়সূচি নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক’ এবং তা নিচ্ছে একটি অন্তর্বর্তী সরকার, যাদের জনগণের ভোট নেই। তার প্রশ্ন, কেন বিকল্প পথ বন্ধ করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় যাওয়ার আগেই নিজেদের দর–কষাকষির শক্তি দুর্বল করা হচ্ছে। তারেক রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতের চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা, ঋণের ঝুঁকি এবং রপ্তানির ধীরগতি প্রমাণ করে প্রস্তুতি ছাড়া শুধুমাত্র অধিকার পাওয়াই যথেষ্ট নয়।

    চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও তিনি একইভাবে দেখছেন। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো কৌশলগত প্রতিশ্রুতি। তারেক রহমান বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বিষয়টি হলো দেশের প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক আদর্শ রক্ষা করা। একটি অনির্বাচিত সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না।”

    তিনি ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরব থাকে না। মানুষ চায় সম্মান, অংশগ্রহণ এবং নিজের কণ্ঠের মূল্য দিতে। তাই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন হবে দেশের জনগণের জন্য কথা বলার, নির্বাচন করার এবং সহজ সত্য পুনর্ব্যক্ত করার সুযোগ। তারেক রহমানের মতে, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে তারা, যারা এখানে বসবাস করে এবং বিশ্বাস করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

  • নির্বাচনের দিনই গণভোট, অধ্যাদেশে চূড়ান্ত অনুমোদন দিল উপদেষ্টা পরিষদ

    নির্বাচনের দিনই গণভোট, অধ্যাদেশে চূড়ান্ত অনুমোদন দিল উপদেষ্টা পরিষদ

    অনলাইন ডেস্ক:     গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

    সভা শুরুর সময় ছিল সকাল ১১টা। তার আগে ২০ নভেম্বরের বৈঠকে গণভোট আইন অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামোগত সংস্কারে জনগণের মতামত নিতে নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সরকার। সেই প্রক্রিয়ায় আইন প্রণয়নের অংশ হিসেবে মঙ্গলবারের বিশেষ বৈঠকে অধ্যাদেশ পাস করা হলো।

    বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, গণভোট আয়োজনের ঘোষণা অনুসারে আগামী সপ্তাহেই অধ্যাদেশটি কার্যকর করার মতো প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। তার ভাষায়, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক কার্যদিবসের মধ্যেই আইনি কাঠামো দাঁড়িয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অনুমোদনও দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এই সচিবালয় গঠিত হলে নিম্ন আদালতের বিচারকদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আর সরকারের হাতে থাকবে না।

    এর আগেও প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সেই নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এতে নির্বাচন আরও উৎসবমুখর হবে এবং ব্যয়ও কমবে।

    গণভোটে চারটি সংস্কার প্রস্তাব একত্রে একটি প্রশ্নে উপস্থাপন করা হবে। ভোটাররা হ্যাঁ বা না দিয়ে মতামত জানাবেন। অধিকাংশ ভোট যদি হ্যাঁ হয়, তবে নতুন সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে, যারা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার চূড়ান্ত করবে। পরবর্তী পর্যায়ে ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হবে।

    সরকারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী, অধ্যাদেশ অনুমোদনের ফলে গণভোটের প্রস্তুতি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে পারবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি নীতিগত কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

  • শতভাগ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পর্যবেক্ষকদের প্রতি আহ্বান সিইসির

    শতভাগ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পর্যবেক্ষকদের প্রতি আহ্বান সিইসির

    অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সময় শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

    তিনি বলেন, যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন, অনুগ্রহ করে তারা শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে আপনাদের পক্ষে যারা কাজ করবেন তাদেরকেও এ কথা জানিয়ে দেবেন। নির্বাচন কমিশনের একটাই এজেন্ডা-আর তা হল জাতিকে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। তাই সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করা সকলের জাতীয় দায়িত্ব।

    আজ (মঙ্গলবার) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৪০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ চলাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্বচ্ছতার সঙ্গে সকলকে রিপোর্ট করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কমিশনের নিজস্ব সুপারভাইজারি মেকানিজম থাকবে, অফিশিয়াল মেকানিজম থাকবে। কিন্তু আপনাদের চোখ দিয়েও আমরা এই নির্বাচনকে দেখতে চাই। যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন, তারা নির্বাচন সংক্রান্ত কাজগুলো স্বচ্ছভাবে হচ্ছে কিনা এবং আচরণ বিধিমালা ও আইনগুলো সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে আমাদের জানাবেন।

    সিইসি বলেন, যাদেরকে নিয়োগ করবেন তারা যাতে দলীয় প্রচার-প্রচারণা করে কাউকে প্রভাবিত করতে না পারেন, সে বিষয়টা খেয়াল করবেন। মনে রাখবেন, তাদের দায়িত্ব হবে পর্যবেক্ষণ করা; নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা নয়।

    তিনি বলেন, আপনাদেরকে সহযোগী হিসেবে পেতে চাই। আমরা জাতিকে ওয়াদা দিয়েছি একটি সুষ্ঠু, সুন্দর এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার। কিন্তু এটা ইলেকশন কমিশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। অতীতের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

    নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা থাকবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, প্রচারকালীন পরিস্থিতি, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা বা প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশের দায়িত্ব পালন এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কিনা-ইত্যাদি সম্পর্কে তারা রিপোর্ট দেবেন। তবে সেটি হতে হবে শতভাগ সত্যনির্ভর। কেননা এই রিপোর্টের ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে।

    এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে তাও সংশোধন করা হবে। এ বিষয়েও আপনারা সুপারিশ দিতে পারবেন। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোটারবান্ধব পরিবেশে নির্বাচনের আয়োজন করতে চাই।

    সংলাপে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমেদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • এনসিপির ঘোষণা, বিএনপি জামায়াতের বাইরে নতুন রাজনৈতিক জোট

    এনসিপির ঘোষণা, বিএনপি জামায়াতের বাইরে নতুন রাজনৈতিক জোট

    অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি জামায়াতের বাইরে খুব শিগগিরই আরেকটি নতুন রাজনৈতিক জোট আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ ও চাঁদাবাজ বিরোধী এই জোট আগামী নির্বাচনে সবকটি ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিতে প্রস্তুত।

    সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে দুদিনব্যাপী মতবিনিময় শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই দেশবাসী বিএনপি জামায়াতের বাইরে একটি নতুন রাজনৈতিক অ্যালায়েন্স দেখতে পাবে। তাঁর ভাষায়, এই জোট “সংস্কারের পক্ষে, নারীদের পক্ষে, আলেম ওলামাদের পক্ষে এবং দুর্নীতি সন্ত্রাস চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কাজ করবে।”

    সংবাদ সম্মেলনে পাটওয়ারী জানান, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই নতুন জোটের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, “একটি নতুন অ্যালায়েন্স দেখতে পাবে দেশবাসী যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে এগোতে চায়।”

    দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, ভারত এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক শক্তি জাতীয় পার্টিকে ব্যবহার করে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে। তাঁর দাবি ছিল, রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রশাসন ভাগ বাটোয়ারার পুরোনো চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন বাস্তবতায় সমঝোতার পথে হাঁটতে হবে।

    এনসিপি নেতারা মনে করেন, আসন্ন জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন এই মেরুকরণ তৃতীয় শক্তি হিসেবে প্রভাব ফেলতে পারে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে দুদিনের মতবিনিময় শেষে এই সংবাদ সম্মেলনে নেতারা জানান, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের একটি “বাস্তবসম্মত বিকল্প” তৈরি করতে চায় এনসিপি এবং সম্ভাব্য নতুন জোট।

  • সংবাদকর্মীদের স্বাধীন থাকতে হবে, রাজনৈতিক দলের পকেটে ঢুকে গেলে সমস্যা: মির্জা ফখরুল

    সংবাদকর্মীদের স্বাধীন থাকতে হবে, রাজনৈতিক দলের পকেটে ঢুকে গেলে সমস্যা: মির্জা ফখরুল

    অনলাইন ডেস্ক:     রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গত পনের বছর অনেক সাংবাদিক স্বেচ্ছায় ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করেছেন। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে স্বাধীন গণমাধ্যমের পথ কঠিন হয়ে যায়। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার বিজেসি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যেই দলীয় বিভাজন তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সাংবাদিকদের পকেটে নিতে চায় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকরাই দলীয় ঘেরাটোপে ঢুকে পড়েন, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক।

    এ সময় ফখরুল মনে করিয়ে দেন, স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিএনপি আগেই অঙ্গীকার করেছে। তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে এবং সে লক্ষ্যে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ আছে। কমিশন ইতোমধ্যে গঠিত হলেও তার প্রতিবেদন নিয়ে কোনো আলোচনার উদ্যোগ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার সময় দেশের প্রায় সব পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, মাত্র চারটি পত্রিকা সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলত। পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে মুক্ত সংবাদপত্রের সুযোগ তৈরি করেন। তার দাবি, পরবর্তী সময়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে যখনই কাজ করেছে, তখনই গণমাধ্যমকে আধুনিক ও সবল করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের টেলিভিশন শিল্পের বিকাশও তারই ধারাবাহিক অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার জায়গা ধরে রাখতে হলে নিজেকেই রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে রাখতে হবে। তার ভাষায়, সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো জনগণের তথ্য জানা ও জানানো। তাই তাদের নিজেদের অঙ্গীকার থাকতে হবে, দলীয় বিভাজনের বাইরে থেকে কাজ করতে হবে।

    বিজেসির এই অনুষ্ঠানে বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক কমিটি এনসিপি, এবি পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, সিপিবি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ, সম্প্রচারমাধ্যমের জন্য আলাদা আইন, স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন, পে চ্যানেল নীতিমালা, কর্মীদের প্রতিনিধিত্বসহ আট দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয় সভায়।

    বিজেসি জানায়, কমিশনের তৈরি প্রতিবেদন ও সাংবাদিকদের প্রস্তাবগুলো এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, তাই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে এসব প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেবে বলে তারা আশা করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও।