Category: প্রচ্ছদ

  • প্লট দুর্নীতিতে তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড

    প্লট দুর্নীতিতে তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড

    অনলাইন ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের তিনটি মামলায় মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন। প্রতিটি মামলায় শেখ হাসিনাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    এই তিনটি মামলা রাজধানীর পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে সরকারি জমি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনা, তাঁর দুই ছেলে-মেয়ে, ছোট বোন শেখ রেহানা ও তাঁর দুই সন্তানদের নামে ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা করা হয়নি নিয়ম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। রায়ের আগে ২৩ নভেম্বর আদালতে যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন হয়।

    প্রতিটি মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ছিল ৪৭ জন, তবে একাধিক মামলায় একই ব্যক্তি থাকায় ব্যক্তিগতভাবে ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আত্মসমর্পণ করে কারাগারে রয়েছেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সরকারে থাকাকালীন শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

    বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন রায়ের সময় বিস্তারিতভাবে যুক্তি উপস্থাপন করেন। প্রতিটি মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও রাজউক ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ছয়টি মামলার মধ্যে বাকি তিনটি মামলার রায়ের জন্য বিশেষ জজ আদালত-৪-এ ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য আছে। এছাড়া অন্য দুটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

  • মুমিন ও মুনাফিকের স্বভাবে যেসব পার্থক্য

    মুমিন ও মুনাফিকের স্বভাবে যেসব পার্থক্য

    অনলাইন ডেস্ক:    সত্যবাদিতা মুমিনের গুন, মিথ্যা মুনাফিকের স্বভাব। মিথ্যা মানুষকে লাঞ্চিত ও অপমানিত করে। একটি মিথ্যার কারণে জীবনের সমস্ত অর্জন ম্লান হয়ে যেতে পারে।মিথ্যা একটি জঘন্য অপরাধ, মহাপাপ এবং কবিরা গুনাহ। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে কোন না কোন মিথ্যার ভূমিকা থাকে। অন্যায় কাজে সর্বদা মিথ্যার আশ্রয় পাওয়া যায়। এক মিথ্যা গোপন করতে  হাজারো মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়।

    সভ্য জাতির বৈশিষ্ট্য কখনো মিথ্যা হতে পারে না। মিথ্যা কেবল মুনাফিকদের জন্যই শোভা পায়। মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্যই হলো— সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য। মুমিন সত্য কথা বলে, আর মুনাফিক মিথ্যাকে জীবনের অংশ বানিয়ে নেয়।

    মুমিন আল্লাহর প্রিয় বান্দা। সর্বদা আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলার চেষ্টা করে। মিথ্যা থেকে দূরে থাকে। মিথ্যাকে ঘৃণা করে। মিথ্যা কর্মকাণ্ড অপছন্দ করে। সদা সত্য কথা বলে।হে মুমিনগণ! আল্লহকে ভয় কর এবং সত্য সঠিক কথা বল। (আল-আহযাব-৭০)

    মিথ্যা একটি জঘন্য অপরাধ। তাই মিথ্যাবাদী ব্যক্তি আল্লাহর রহমত ও দয়া থেকে বঞ্চিত থাকে। মিথ্যুক সীমালঙ্ঘনকারী, আর আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী ও মিথ্যুককে হেদায়াত দান করেন না।আল্লাহ কোন সীমালঙ্ঘনকারী, মিথ্যুককে হেদায়াত দান করেন না। (আল-মুমিন-২৮)

    সত্যবাদিতা মুমিনের পাথেয়, নেক আমল তার সম্পদ, আর জান্নাত তার গন্তব্য। অন্যদিকে, অসত্য হলো পাপাচার, আত্মিক কলুষতা এবং জাহান্নামের কারণ।আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সা.) বলেছেন, সত্য নেকির দিকে পরিচালিত করে আর নেকি জান্নাতে পৌঁছায়। আর মানুষ সত্যের উপর কায়েম থেকে অবশেষে ‘সিদ্দীক’ এর দরজা লাভ করে। আর মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়, পাপ তাকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহ্‌র কাছে মহামিথ্যাচারী প্রতিপন্ন হয়ে যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৯৪)

    মিথ্যা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত

    এবং মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাক, (আল-হাজ্জ্ব-৩০)

    মুমিন মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না

    এবং (রহমানের বান্দা তারা) যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়না। (আল-ফুরকান-৭২)আজকের সমাজে এক ভয়াবহ প্রবণতা দেখা দিয়েছে যে, কোনো খবর যাচাই না করেই প্রচার করে দেওয়া। এটি মিথ্যার এক নতুন রূপ, যা বিভ্রান্তি ছড়ায় ও সম্পর্ক নষ্ট করে।আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম(সা.) বলেছেন, কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে কোন কথা শোনামাত্রই (যাচাই না করে) বলে বেড়ায়। (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৯২)রসিকতার ছলেও মিথ্যা বলা ইসলাম অনুমোদন করে না। যারা হাস্যরসের অজুহাতে অসত্য বলে, তারা নিজের অজান্তেই গুরুতর অপরাধে লিপ্ত হয়।

    বাহয ইবনে হাকিম (রহ.) থেকে বর্ণিত, আমার পিতা তার পিতার সূত্রে আমাকে হাদিস বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, মানুষকে হাসানোর জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস। (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৯০)

    মিথ্যা মুনাফিকের স্বভাব

    আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়।

    ১. আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে;

    ২. কথা বললে মিথ্যা বলে;

    ৩. অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে; এবং

    ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীলভাবে গালাগালি (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪)

    অতএব মিথ্যা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।

    আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা সত্যবাদীদের সঙ্গে থাক। (আত-তাওবাহ্- ১১৯)

    সত্যবাদিতার পুরস্কার জান্নাত

    আল্লাহ বলেন, সেই দিন, যে দিন সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যতা উপকৃত করবে। তাদের জন্য রয়েছে এমন সব উদ্যান, যার তলদেশে নহর প্রবহমান। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই মহা সাফল্য।(আল-মায়িদাহ-১১৯)

    আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে মিথ্যা কথাবার্তা ও কাজকর্ম পরিহার করার তাওফিক দিন। আমিন।

  • অগ্রণী ব্যাংকের লকারে শেখ হাসিনার ৮৩২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার জব্দ

    অগ্রণী ব্যাংকের লকারে শেখ হাসিনার ৮৩২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার জব্দ

    অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় থাকা দুটি লকার খুলে ৮৩২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল। আদালতের অনুমতি নিয়ে সোমবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এনবিআর, সিআইসি ও দুদকের যৌথ তদন্ত দল লকার দুটি খুলে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করে।

    অগ্রণী ব্যাংকের দিলকুশা প্রধান শাখায় বহুদিন ধরে লকার দুটি সিলগালা অবস্থায় ছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর সিআইসির দল লকার নম্বর ৭৫১ ও ৭৫৩ জব্দ করে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় আদালত লকার খোলার অনুমতি দেয়। ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লকার দুটি খোলা হয় এবং স্বর্ণালঙ্কারগুলো জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    সিআইসির এক কর্মকর্তা জানান, লকার দুটির ভেতর থেকেই সব স্বর্ণ পাওয়া গেছে, যা এখন ব্যাংকের লকারেই নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। পরে সরকারের নির্ধারিত খাতে এ সম্পদ হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, এটি এনবিআরের স্বতন্ত্র অভিযান নয়, বরং একটি যৌথ তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী লকার খোলা হয়েছে।

    একই দিনে পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখায় শেখ হাসিনার নামে থাকা আরেকটি লকারও খোলা হয়। তবে সেখানে কোনো স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়নি। লকারটিতে শুধু একটি পাটের বস্তা ছিল বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর পূবালী ব্যাংকের ওই শাখায় লকার নম্বর ১২৮ জব্দ করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার নামে একই শাখায় থাকা দুইটি ব্যাংক হিসাবে মোট ৫৬ লাখ টাকাও জব্দ করা হয়, যার মধ্যে ১২ লাখ টাকা এফডিআর এবং ৪৪ লাখ টাকা চলতি হিসাবের ছিল।

    অগ্রণী ব্যাংকের এমডি আনোয়ারুল ইসলাম প্রথম দফায় জব্দের সময় জানিয়েছিলেন, গ্রাহকের অনুপস্থিতিতে কোনো লকার খুলতে হলে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই লকারগুলোতে হাত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকের একটি চাবি এবং গ্রাহকের একটি চাবি—এই দুই চাবি ছাড়া লকার খোলা সম্ভব নয়, তাই পুরো প্রক্রিয়াটি আদালতের নির্দেশে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হয়েছে।

    ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দেশে ব্যাপক গণঅন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এর পরপরই অন্তর্বর্তী সরকার তার ও তার পরিবারের আর্থিক লেনদেন, কর ফাঁকি ও সম্পদ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করে। সিআইসি, দুদক এবং এনবিআর বর্তমানে এসব অনুসন্ধান একসঙ্গে পরিচালনা করছে।

  • এনা পরিবহনের এনায়েতের বিরুদ্ধে ১০৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

    এনা পরিবহনের এনায়েতের বিরুদ্ধে ১০৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

    অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এনা ট্রান্সপোর্টের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ১০৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তিনি এই অর্থ চাঁদাবাজি করে উপার্জন করেছিলেন বলে অভিযোগ।

    সিআইডির তথ্য বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার প্রমাণ পাওয়ার পর মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রমনা থানায় মামলা দায়ের করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

    সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বুধবার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান খন্দকার এনায়েত উল্লাহ আশির দশকের পর পরিবহন সেক্টরে যাত্রা শুরু করেন। পার্টনারশিপে একটি পুরাতন বাস কেনার মাধ্যমে তার ব্যবসার সূচনা হলেও কয়েক বছরের মধ্যে তিনি প্রায় ২০টি বাসের মালিক হয়ে ওঠেন। অল্প সময়েই তিনি পরিবহন মালিকদের সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। এরপর তার আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব বাড়িয়ে নেন।”

    তিনি আরও জানান, “প্রথমে বিএনপির রাজনীতি, পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদও লাভ করেন।সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, এই রাজনৈতিক পরিচয় খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতন পর্যন্ত টানা ১৬ বছর তিনি ধারাবাহিকভাবে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি সংগঠনের সব গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং পরিবহন সেক্টরে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন সময়ে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল ও অবরোধে পরিবহন সচল রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি সংবাদ শিরোনামে থাকলেও নিজের কোম্পানির বাসগুলো রাস্তায় নামাতেন না, যা তার কৌশলের অংশ ছিল।”

    জসীম উদ্দিন খান বলেন, “চাঁদাবাজি কার্যক্রমগুলো ছিল অত্যন্ত সংগঠিত ও ভয়ভীতি-ভিত্তিক। এনায়েত উল্লাহ ও তার সহযোগীরা সিন্ডিকেট গড়ে বিভিন্ন অজুহাতে বাস মালিকদের কাছ থেকে প্রকাশ্য চাঁদা আদায় করতেন। দৈনিক চাঁদার পাশাপাশি মাসিক চাঁদাও নেওয়া হতো এবং নতুন বাস কোনো রুটে নামাতে হলে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা দিতে হতো। নতুন বাস কেনার সময় মালিকদের সেই বাসের একটি ভাগও এনায়েতকে দিতে বাধ্য করা হতো, না হলে বাসটি সড়কে চলতে পারত না। এর ফলে অনেক কোম্পানি বিক্রির সময় মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে চাঁদা পরিশোধ করত।”

    সিআইডির মুখপাত্র বলেন, “ঢাকার প্রতিটি বাস টার্মিনাল তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশের বাস, মিনিবাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতিগুলো থেকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হতো। সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে তিনি পরিবহন সেক্টরে ত্রাসের রাজত্ব চালাতেন। বিএফআইইউ, বিভিন্ন ব্যাংক, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, বাংলাদেশ মালিক পরিবহন সমিতি এবং মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদসহ অন্যান্য বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্রের ওপর ভিত্তি করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে।”

    তিনি আরও বলেন, “অনুসন্ধানকালে ধানমন্ডির ২টি ফ্ল্যাট এবং রূপগঞ্জের ২টি প্লট সিনিয়র স্পেশাল মহানগর জজ আদালত, ঢাকার আদেশে ক্রোক করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। একই আদালতের আদেশে তাদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। যার মোট স্থিতি প্রায় ১১০ কোটি টাকা। এই দুটি আদেশ গত ৩ জুলাই কার্যকর করা হয়।”

  • পেঁয়াজের সংকট নেই—দাম কমে গেছে: কৃষি উপদেষ্টা

    পেঁয়াজের সংকট নেই—দাম কমে গেছে: কৃষি উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক: কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই, দাম কমে গেছে। কিছু ব‍্যবসায়িদের আমদানির চাপ ছিল কিন্তু আমরা তা করিনি। মুড়ি কাটা পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। আমাদের কৃষকবান্ধব হতে হবে। আলুর দাম পায়নি কৃষক, এখন কিছুটা দাম বাড়ছে। এ ছাড়া ডিসেম্বরে পর্যন্ত কোল্ড স্টোরে আলু রাখতে দিতে বলা হয়েছে।”

    কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “পর্যাপ্ত পরিমাণের সার মজুত আছে। কেউ মজুত করলে তার বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সারের ডিলারশিপ রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হবে না।”

    সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি।’

    জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি রয়েছে। সমাজ থেকে দুর্নীতি কমানো সম্ভব হয়নি। তবে সরকার কমাতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে। সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা যায়নি কিন্তু কমানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

    এসময় তিনি এসপি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ, বি ও সি হিসেবে তিনটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে জানিয়ে বলেন, “৬৪ জেলার এসপির মধ্যে আগের ১৮ জন এসপিকে তুলে আনার পর সেখানে নতুন এসপি নিয়োগ হয়েছে এরপর বাকিদের বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে লটারির মাধ্যমে। সেক্ষেত্রে মেধাবীরা কেউ বাদ পড়েনি।”

  • রণক্ষেত্র শাহবাগ, যান চলাচল বন্ধ

    রণক্ষেত্র শাহবাগ, যান চলাচল বন্ধ

    অনলাইন ডেস্ক:     রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে শাহবাগ। ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে সেখানে পুলিশের পালটা পালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান থেকে পানি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এরপরও সেখানে অবস্থান নিয়ে আছেন প্রার্থীরা। শাহবাগে বর্তমানে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।এর আগে দুপুরে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন।

    তারা শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। এতে সেখানেই অবস্থান নেন পরীক্ষার্থীরা।পালটা পালটি ধাওয়ায় ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ মনসুর আহত হয়েছেন।

    ওসি খালিদ মনসুর বলেন, আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে ইট পাটকেল ছুড়েছে। ইট পাটকেলের আঘাতে আমিও আহত হয়েছি। তারা এখনো চারুকলার সামনের সড়কে অবস্থান করছেন।জানা যায়, লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে স্মারকলিপি, মিছিল, অবরোধ ও অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি করে আসছেন ৪৭তম বিসিএসের একদল লিখিত পরীক্ষার্থী। তারা রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহে রেলপথেও অবরোধ করেন। এছাড়া অবরোধ করা হয় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কও। তারিখ না পেছালে পরীক্ষা বর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

    পরীক্ষার্থীরা বলেন, আগের বিসিএসগুলোতে অংশগ্রহণকারীরা লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬ মাস থেকে এক বছর সময় পেয়েছেন। কিন্তু এবার সময় দেওয়া হয়েছে কম। এ সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। ৪৭তম বিসিএসের পরীক্ষার তারিখ পেছাতে হবে। প্রস্তুতির জন্য যৌক্তিক সময় দিতে হবে।

    এদিকে পিএসসির ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে একযোগে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে আসনবিন্যাস প্রকাশসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।