Category: প্রচ্ছদ

  • গণভোট ছাড়া নির্বাচনের বৈধতা আসবে না: গোলাম পরওয়ার

    গণভোট ছাড়া নির্বাচনের বৈধতা আসবে না: গোলাম পরওয়ার

    অনলাইন ডেস্ক:    নির্বাচনের আগে গণভোটের মাধ্যমে পাঁচ দফা গণদাবির আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, গণভোট ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের বৈধতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

    মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পল্টন মোড়ে আটটি ইসলামী দলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারসমূহের আইনি ভিত্তি কেবল গণভোটের মাধ্যমেই সম্ভব। অন্যথায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

    তিনি জানান, সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রায় নয় মাস ধরে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— দলের প্রধান ও সরকারের প্রধান এক না থাকা, সাংবিধানিক পদগুলোয় পৃথক নিয়োগ কর্তৃপক্ষ গঠন, এবং কক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠনসহ নানা সংস্কার। তবে এসব সংস্কারের আইনি ভিত্তি দিতে হলে গণভোট আয়োজন জরুরি।

    গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে যখন সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তখনই একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তিনি বলেন, “আগামী ১৩ নভেম্বর লকডাউনের নামে নতুন নাশকতার পরিকল্পনা চলছে। এই ষড়যন্ত্রের পেছনে দিল্লির ভূমিকা রয়েছে।”

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, “আমরা খবর পাচ্ছি ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে সন্ত্রাসীরা অবস্থান নিয়েছে। অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করুন। ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

    তিনি দাবি করেন, অবিলম্বে জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দিতে গণভোটের আয়োজন করতে হবে এবং এরপর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা উচিত।

    মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের বিষয়েও তিনি অবস্থান জানান। বলেন, “আমাদের পাঁচ দফার একটি দাবি ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার। ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে, এটি আমরা স্বাগত জানাই। তবে নভেম্বরে কয়েকজন অপরাধীর রায় ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ফ্যাসিস্টরা আবারও নাশকতার চেষ্টা করছে।”

    পল্টনের এই মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম (পীরসাহেব চরমোনাই)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে ২০ নভেম্বর আপিলের রায়

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে ২০ নভেম্বর আপিলের রায়

    অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের শুনানি শেষ হয়ে আগামী ২০ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) রায়ের তারিখ ঘোষণা করেছেন আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার রায়ের জন্য এ তারিখ ধার্য করেন।

    অন্য ছয় সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। দেশের সর্বোচ্চ আদালত টানা ১০ দিন শুনানি শেষে  ঐতিহাসিক এ মামলার রায়ের দিন ঠিক করলেন।

    আদালতে এ সংক্রান্ত রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহামদ শিশির মনির।

    ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

    গত ২১ অক্টোবর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের শুনানি শুরু হয়। গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।

  • ৭ হাজার ১৫০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন একনেকে

    ৭ হাজার ১৫০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন একনেকে

    অনলাইন ডেস্ক:    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৭ হাজার ১৫০ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে আজ সোমবার। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা শেষে বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা এবং একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন জানায়, অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে নতুন প্রকল্প রয়েছে ৮টি, সংশোধিত প্রকল্প ২টি এবং ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে ২টি। ১২টি অনুমোদিত প্রকল্প হচ্ছে-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প, যার মধ্যে রয়েছে- ‘‘মানিকগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’’ প্রকল্প এবং ‘‘সাতক্ষীরা জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন”প্রকল্প।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প- ‘‘কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার হাওর এলাকার ক্ষুদ্রসেচ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন”(৩য় সংশোধন)”প্রকল্প।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প- ‘‘গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন”এবং ‘‘চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন (২য় সংশোধিত)’’ প্রকল্প।

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প- ‘‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (৩য় পর্যায়) (১ম সংশোধিত)”প্রকল্প। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের রয়েছে তিনটি প্রকল্প- সমাপ্ত ৪র্থ সেক্টর কর্মসূচির অত্যাবশ্যকীয় পরিবার পরিকল্পনা, মা, শিশু ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার অসমাপ্ত কার‌্যাবলী বাস্তবায়ন”প্রকল্প, ‘‘স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, নিপোর্ট এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তরের কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উন্নয়ন”এবং অত্যাবশ্যকীয় অসমাপ্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন”প্রকল্প।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প- ‘‘ঢাকা সেনানিবাসে নির্ঝর আবাসিক এলাকায় ‘বি’টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণ’’ প্রকল্প।সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প- ‘‘নড়াইল-কালিয়া জেলা মহাসড়কের ২১তম কিলোমিটারে কালিয়া নামক স্থানে নবগঙ্গা নদীর ওপর কালিয়া সেতু নির্মাণের (২য় সংশোধিত) ৪র্থ বার মেয়াদ বৃদ্ধি”প্রকল্প।

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প- ‘‘বিসিক শিল্প পার্ক, টাঙ্গাইল (৩য় সংশোধিত)’’ প্রকল্প।সভায় আরও ৯ প্রকল্পের অনুমোদন অবহিত করা হয়। সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টার অনুমোদিত ৯টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করা হয়। এই প্রকল্পগুলো হলো- বহুস্তরীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শক্তিশালীকরণের জন্য সমন্বিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প।

    নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন (১ম সংশোধন) প্রকল্প।শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থলে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন (১ম পর্যায়) (১ম সংশোধিত)। যুবদের আত্মরক্ষামূলক মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রকল্প।

    তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প।প্রযুক্তি-ভিত্তিক বন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপকূলীয় স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির প্রকল্প।মেহেরপুর সদরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ (১ম সংশোধিত)। ঢাকা শহরের আশেপাশের এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (ডিসিএনইউপি) (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। র‍্যাব এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।

  • ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের সাথে দুর্ব্যবহার করলেই কঠোর ব্যবস্থা: ভূমি উপদেষ্টা

    ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের সাথে দুর্ব্যবহার করলেই কঠোর ব্যবস্থা: ভূমি উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:    ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সোমবার রাজধানীতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) অডিটোরিয়ামে ‘উপজেলা ভূমি অফিসের সেবা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক কর্মশালায় যোগ দিয়ে বললেন, “জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয়। সেবাগ্রহীতাদের সাথে মানবিক আচরণ করতে হবে। কেউ যদি সেবাগ্রহীতাদের সাথে দুর্ব্যবহারে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দ্রুত সেবার ক্ষেত্রে সবার আগে জনগণ।”

    আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “ভূমি প্রশাসন বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত। এর কার্যক্রম উপজেলা পর্যায়ে মূলত উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের ভূমি সংক্রান্ত প্রায় সব সেবা এই অফিসের মাধ্যমেই দেওয়া হয়। তাই উপজেলা ভূমি অফিস হলো নাগরিক সেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু এই সেবার মান ও সুশাসন নিশ্চিত করতে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান।”

    ‘ভূমি সেবায় জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চতকরাসহ সেবার গুনগত মান পর্যবেক্ষণ ও উন্নতির জন্য স্টেকহোল্ডাররা সরকারের সহযোগী হিসেবে সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে কাজ করলে জনগণের কল্যাণ হবে নিজস্ব  বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিকতা দ্বারা তা নিরুপন করে কাজ করতে হবে। উপদেষ্টা বলেন, সুশাসন একটি রাষ্ট্রের অগ্রগতির পূর্বশর্ত। এটি এমন একটি কাঠামো যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়’-উল্লেখ করেন আলী ইমাম।

    তিনি আরও বলেন, “ভূমিসেবার ক্ষেত্রেও তাই। ভূমি মানুষের জীবন-জীবিকার সাথে গভীর সম্পর্ক। ভূমি খাদ্য, শিল্প এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল উৎস এবং দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভূমি সেবার মানোন্নয়ন কেবল প্রযুক্তিনির্ভর নয় এটি মানবিকতা, সততা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়।”

    ‘ডিজিটাল ভূমি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হলে প্রযুক্তির পাশাপাশি সেবাদাতার মানসিকতা ও দক্ষতার উন্নয়ন অপরিহার্য। নাগরিক ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায়ই সম্ভব হবে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক ভূমি সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত ভূমি কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বচ্ছতা, দেশপ্রেম, সততা এবং পেশাদারিত্বেরে মাধ্যমে ভূমি খাত জনবান্ধব করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে ভূমিসেবা দেওয়ার সাথে নিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের মনিটরিং করতে হবে। অসততার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে-যোগ করেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম।

  • অতীতে বহুবার কলঙ্কিত হয়েছি—এবার কলঙ্ক মুছে দিতে হবে: ইসি আনোয়ারুল

    অতীতে বহুবার কলঙ্কিত হয়েছি—এবার কলঙ্ক মুছে দিতে হবে: ইসি আনোয়ারুল

    অনলাইন ডেস্ক:    আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সোমবার সকালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) কুমিল্লার সম্মেলন কক্ষে ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জসমূহ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় যোগ দিয়ে বললেন, “অতীতে আমরা বহুবার কলঙ্কিত হয়েছি, এবার সেই কলঙ্ক মুছে দিতে হবে। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চাই।”

    আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন জিহাদ ঘোষণা করেছে। নির্বাচন কমিশনার বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ।”

    ‘এককভাবে একটি ভালো নির্বাচন সম্ভব নয়-এর জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সেজন্য পুলিশসহ প্রশাসনের সবাইকে ভয়-ভীতি পরিহার করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে’-উল্লেখ করেন তিনি।

    এসময় প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশে কমিশনার বলেন, “একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনে ভয়ের কোনো কারণ নেই। কোনো প্রকার প্রভাব বা চাপে না পড়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব আব্দুল হালিম খান, কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সার, জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান এবং জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

  • ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীরে যেসব প্রভাব দেখা যায়

    ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীরে যেসব প্রভাব দেখা যায়

     অনলাইন ডেস্ক:     ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা প্রায় সবাই জানি। কিন্তু ধূমপান বন্ধ করার পর শরীর যে কত দ্রুত সুস্থ হতে শুরু করে তা অনেকেরই অজানা। প্রতিটি সিগারেট ধীরে ধীরে ফুসফুসকে নষ্ট করে ফেলে। তবে আশার বিষয় হলো—ধূমপান বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই শরীর নিজেকে মেরামত করতে শুরু করে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফুসফুসের কার্যকারিতা ও রক্তসঞ্চালন উন্নত হয়।

    ডা. সুধ জানান, ধূমপান শুধু ফুসফুস নয় বরং পুরো শ্বাসতন্ত্রকে দুর্বল করে তোলে। এটি ফুসফুসকে শক্ত ও অনমনীয় করে দেয়, যার ফলে ফুসফুসের প্রসারণ এবং স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়। এর পরিণতিতে দেখা দিতে পারে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, মিউকাস জমা, ব্রঙ্কাইটিস, এমফিসেমা এবং ফুসফুসের ক্যানসার। ধূমপান ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।

    তিনি জানান, ধূমপান বন্ধ করার ২ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রক্তসঞ্চালন ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা স্পষ্টভাবে উন্নত হয়। এক বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেকে নেমে আসে এবং ১০ বছরের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।

    ডা. সুধের মতে, সম্পূর্ণভাবে ধূমপান বন্ধ করা স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। তিনি পরামর্শ দেন নিয়মিত কার্ডিও ব্যায়াম, শ্বাস–প্রশ্বাসের অনুশীলন এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার। পাশাপাশি তিনি অন্ত্র ও ফুসফুসের পারস্পরিক সম্পর্কের (গাট–লাং অ্যাক্সিস) গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন, কারণ সুস্থ অন্ত্র প্রদাহ কমিয়ে ফুসফুসের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    সবশেষে বলা যায়, ধূমপান শরীরের প্রায় সব অঙ্গেই ক্ষতি করে—বিশেষ করে ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডে। কিন্তু ধূমপান ছাড়ার পর শরীর অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে। তাই এখনই ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিন, প্রয়োজনে সহায়তা নিন। আপনার ফুসফুস, হৃদয় ও ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সুস্থ হয়ে উঠবে।