Category: প্রচ্ছদ

  • লেভানডোভস্কির হ্যাটট্রিকে বার্সেলোনার দারুণ জয়

    লেভানডোভস্কির হ্যাটট্রিকে বার্সেলোনার দারুণ জয়

    খেলাধুলা ডেস্ক:     লা লিগার ম্যাচে রোববার (৯ নভেম্বর) রাতে সেল্তা ভিগোকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডোভস্কির হ্যাটট্রিক এবং লামিনে ইয়ামালের এক গোলের সুবাদে এই দারুণ জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি।

    প্রথমার্ধে দুবার পিছিয়ে পড়লেও সেল্তা ভিগো প্রতিবারই সমতা ফিরে আসতে সক্ষম হয়। তবে লেভানডোভস্কি এদিন যেন ছিলেন চলতি মৌসুমের সেরা ফর্মে। তার একক পারফরম্যান্সের কাছেই যেন ধরাশায়ী হয় সেল্তা ভিগো।

    ম্যাচের ১০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। কিন্তু পরবর্তী মিনিঈটে সেল্তা ভিগোর কারেইরা গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। ৩৭ মিনিটে রাশফোর্ডের ক্রসে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন লেভানডোভস্কি। তবে সেল্তা ভিগোর বোর্তা ইগলেসিয়াস দর্শনীয় এক গোলে আবার ম্যাচে সমতা ফেরান। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইয়ামালের গোলে ৩-২ এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সা।

    দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বার্সেলোনা। ৭৩ মিনিটে রাশফোর্ডের কর্নারে হেড করে লেভানডোভস্কি তার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। কোনো গোলের দেখা না পেলেও তিনটি গোলেই ভূমিকা রেখেছেন রাশফোর্ড।

    এই জয়ে শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সাথে পয়েন্টের পার্থক্য কমিয়ে এনেছে বার্সা। ১২ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। অন্যদিকে সমপরিমাণ ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট ৩১।

  • যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় চলছে ইসরাইলি হামলা, নিহত ৭

    যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় চলছে ইসরাইলি হামলা, নিহত ৭

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:    যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। গত ২৪ ঘণ্টায় উপত্যকাটিতে দখলদার বাহিনীর চালানো হামলায় আরও সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের বরাতে সোমবার (১০ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা মেহের।

    গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজনের লাশ গাজা বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এখনো বহু লাশ ধ্বংসস্তূপের নিচে ও রাস্তায় পড়ে আছে কিন্তু অব্যাহত বোমাবর্ষণ ও উদ্ধার সরঞ্জামের  অভাবে উদ্ধারকর্মীরা গুরুতর সমস্যার মুখে পড়ছেন।

    গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং তার অস্বীকার করেছে ইসরাইল। যার ফলে এখন পর্যন্ত ২৪১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৬১৯ জন আহত হয়েছেন।

    এদিকে, ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী গাজা উপত্যকার পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বিমান ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। দখলদার সেনারা খান ইউনুসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের  আল-জান্নাহ এলাকায়ও গোলাবর্ষণ করেছে।

    অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে আল-মায়াদিন-এর এক সংবাদিক জানান, অধিকৃত আল-কুদসের উত্তরের আল-রাম শহরে ইসরাইলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনি তরুণদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে ইসরাইলি সেনারা ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড, আহত বহু শিক্ষক

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড, আহত বহু শিক্ষক

    অনলাইন ডেস্ক:     এমপিওভুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন নন-এমপিও শিক্ষকেরা। রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আন্দোলনকারীরা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাঁদের। তাই এক দফা দাবি হিসেবে তাঁরা সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, “সকাল থেকে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে গেলে কোনো উসকানি ছাড়াই পুলিশ আমাদের ওপর চড়াও হয়। লাঠিপেটা, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন।” তিনি বলেন, “এমন হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এমপিওভুক্তির প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”

    পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা এসেছে। শাহবাগ থানার পরিদর্শক (প্যাট্রল) বুলবুল আহমেদ বলেন, “নন-এমপিও শিক্ষকরা দুপুরে সচিবালয়ের সামনে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। তাঁদের নেতারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আশ্বাস দিলেও সাধারণ শিক্ষকরা পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করেন। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ব্যবহার ও একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়।” তবে তিনি লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

    ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, “জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে আহত চার শিক্ষককে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।” আহতদের মধ্যে রয়েছেন আসাদুজ্জামান (৪৭), ইকবাল হাসান (৪০), মোস্তাকিম (৪৫) ও বাবু (৩৬)।

    প্রসঙ্গত, টানা ১৮ দিন ধরে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা। তাঁদের এক দফা দাবি— সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করা।

  • পেঁয়াজের দাম না কমলে আমদানি অনুমোদন দেবে সরকার: বাণিজ্য উপদেষ্টা

    পেঁয়াজের দাম না কমলে আমদানি অনুমোদন দেবে সরকার: বাণিজ্য উপদেষ্টা

    অর্থনীতি ডেস্ক:   পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে চলতি সপ্তাহেই আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেছেন, দেশে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই, তবে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে।

    রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে, সংরক্ষণের জন্য সরকার ১০ হাজার হাই ফ্লো মেশিনও সরবরাহ করেছে। অথচ বাজারে হঠাৎ করে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”

    তিনি জানান, ইতোমধ্যে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ২ হাজার ৮০০টি আবেদন জমা পড়েছে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে দাম সহনীয় পর্যায়ে না এলে সরকার আমদানির অনুমোদন দেবে। “আমরা বাজার পর্যবেক্ষণ করছি। যদি এ সময়ের মধ্যে দাম না কমে, তবে আমদানির পথে যেতে হবে,” বলেন শেখ বশিরউদ্দীন।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, “দেশে কোনো সংকট নেই, বরং যথেষ্ট মজুত রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তাই সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে পেঁয়াজ এসেছে মাত্র ১৩ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গত অর্থবছরের একই সময়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার টন।

    বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আমদানির ঘাটতি ও বাজার তদারকির দুর্বলতাই মূলত দাম বৃদ্ধির কারণ। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) জানিয়েছে, প্রতিবছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে পেঁয়াজের দাম বাড়ে। এ অবস্থায় কমিশন সীমিত পরিমাণ আমদানির সুপারিশ করেছে, যাতে বাজারে সরবরাহ বাড়ে এবং মূল্য স্থিতিশীল থাকে।

    ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মইনুল খান বলেন, “বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৯০ টাকার মধ্যে থাকার কথা, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকার বেশি দামে। পার্শ্ববর্তী দেশে যেখানে দাম প্রায় ৩০ টাকা, সেখানে আমাদের দেশে এই বৃদ্ধি অযৌক্তিক। কৃষকও এর সুফল পাচ্ছেন না, বরং মধ্যস্বত্বভোগীরাই লাভবান হচ্ছেন।”বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানও ওই সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • পাকিস্তানের সিনেটে বিতর্কিত সংশোধনী বিল তড়িঘড়ি পাসের উদ্যোগ, বিরোধীদের প্রতিবাদ

    পাকিস্তানের সিনেটে বিতর্কিত সংশোধনী বিল তড়িঘড়ি পাসের উদ্যোগ, বিরোধীদের প্রতিবাদ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   পাকিস্তান সরকার গতকাল শনিবার বিতর্কিত ২৭তম সংবিধান সংশোধনী বিল সিনেটে উপস্থাপন করেছে। বিরোধীদলগুলো বলেছে, সরকার বিলটি খুব দ্রুত পাস করাতে চাইছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর ব্যাপ্তি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা।এক  প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে দ্য ডন।

    আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার ২৬ পৃষ্ঠার এ বিল উপস্থাপন করেন। পাস হলে এটি ‘সংবিধান (২৭তম সংশোধনী) আইন, ২০২৫’ নামে পরিচিত হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি সিনেটে তোলা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে মন্ত্রিসভার বৈঠক পরিচালনা করেন। সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে নিয়ে আজারবাইজানের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেশটিতে গেছেন তিনি।

    সিনেটের চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি বিলটিকে উচ্চকক্ষের আইন ও বিচারবিষয়ক কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন, যেন তারা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে যৌথ বৈঠক করে আলোচনা করে।

    বিলটিতে একটি কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক আদালত গঠন, উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন, প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যার সীমা বৃদ্ধি ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোয় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে গিয়ে গতকাল বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে সিনেটের ওই অধিবেশন ডাকা হয়। তবে বিলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বৈঠক প্রায় আধা ঘণ্টা বিলম্বিত হয়।সিনেট অধিবেশন চলাকালেই ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির উভয় কক্ষের আইন ও বিচারবিষয়ক কমিটি যৌথভাবে একটি গোপন বৈঠক করে বিলটি পর্যালোচনা করে। বৈঠক বর্জন করেন কমিটির জেইউআই-এফ ও পিটিআইয়ের সদস্যরা।

    এদিকে খুবই বিরলভাবে আজ রোববার বিকেলেও সিনেটের অধিবেশন বসছে। একমাত্র আলোচ্য বিষয় হলো এ সংশোধনী বিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, সরকার বিলটি দ্রুত পাস করাতে ব্যস্ত।

    এ বিষয়ে পিটিআইয়ের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নেতা আলী জাফর বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতিতে এ বিল নিয়ে বিতর্ক অনুচিত। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ও তার মিত্ররা সংশোধনীটি তাড়াহুড়া করে পাস করাতে চাইছে। তিনি প্রস্তাব দেন, বিলের খসড়াটি আলোচনার জন্য উন্মুক্ত করা হোক।

    বিলের মূল বৈশিষ্ট্য

    বিলের মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আজম নাজির তারার বলেছেন, ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত (এফসিসি) গঠনের ধারণা প্রথম আসে ২০০৬ সালের গণতন্ত্র সনদে। সনদটি পিপিপি ও পিএমএল–এন যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছিল। প্রস্তাবিত আদালতে দেশের সব প্রদেশের বিচারপতি থাকবেন। এটি শুধু সাংবিধানিক বিষয়ে রায় দেবেন, অন্যদিকে বর্তমান উচ্চ আদালতগুলো অন্যান্য মামলা দেখবেন।

    মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, সংবিধানের ২৬তম সংশোধনী নিয়ে আলাপ–আলোচনার সময় কিছু সদস্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠনের মাধ্যমে এ বিষয়ে পরীক্ষা করা হোক। কিন্তু এসব বেঞ্চ মামলার জট কমাতে পারেনি, কারণ, বিচারপতিরা নিয়মিত মামলায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবে দেখা যায়, আদালতের মোট সময়ের ৪০ শতাংশ ব্যয় হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ মামলায়।’

    আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বলেন, সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে ‘সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে’। সেখানে কিছু নতুন ধারা যোগ করা হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল উপাধি দেওয়া হয়েছে। ‘এটি একটি উপাধি, কোনো নতুন পদ বা নিয়োগ নয়। সেনাপ্রধানের পদ পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারিত’, বলেন তিনি।

    এ ছাড়া ২৭ নভেম্বর বর্তমান চেয়ারম্যান অবসর নেওয়ার পর ‘চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি (সিজেসিএসসি)’ পদটি বিলুপ্ত হবে। এরপর কোনো নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে না। সেনাপ্রধানই প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    নতুন বিল অনুযায়ী, সেনাপ্রধানের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের প্রধান নিয়োগ করবেন।

    বিল থেকে পড়ে শোনাতে গিয়ে আজম নাজির তারার বলেন, ‘যদি কেন্দ্রীয় সরকার কোনো সামরিক কর্মকর্তাকে ফিল্ড মার্শাল, এয়ার মার্শাল অব দ্য এয়ার ফোর্স বা অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট (পাঁচ তারকা পদ) পদে উন্নীত করে, তবে ওই কর্মকর্তা আজীবন এ পদ ও সুবিধা পাবেন এবং ইউনিফর্ম পরিধান করবেন।’

    মেয়াদ শেষে রাষ্ট্রের স্বার্থে এমন কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব সরকার নির্ধারণ করবে।

    বিলটিতে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, ২৪৮ অনুচ্ছেদে সংশোধন এনে প্রেসিডেন্টকে আজীবন ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। তবে গভর্নরদের ক্ষেত্রে এ সুরক্ষা থাকবে শুধু তাঁদের দায়িত্ব পালনকালে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ও গভর্নর দুজনই শুধু মেয়াদকালে এমন সুরক্ষা পান।

    নাজির তারার আরও জানান, প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যার সাংবিধানিক সীমা সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক পরিষদের মোট সদস্যসংখ্যার ১১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৩ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    ‘সংবিধানের ওপর আক্রমণ’

    মজলিস-ই-ওয়াহদাত–ই–মুসলিমিনের সিনেটর ও পিটিআই–মনোনীত বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এত বড় সংশোধনী এত তাড়াহুড়া করে আনা হচ্ছে কেন?

    আব্বাস বিলটিকে ‘সংবিধানের ওপর আক্রমণ’ বলে নিন্দা জানান। তাঁর দাবি, বর্তমান আইনসভা জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি নয়, বরং ‘ফর্ম ৪৭–এর ফসল’। অর্থাৎ ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারচুপির ইঙ্গিত দেন তিনি। আরও বলেন, এ সংশোধনীগুলো বিচারব্যবস্থাকে ‘নিষ্ক্রিয় করার’ জন্য আনা হয়েছে।

    আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস বলেন, ‘ক্ষমতাবানদের ইচ্ছায় করা এ সংশোধনীর নাটক আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। কিন্তু যাঁরা চরম দারিদ্র্যে বাস করছেন, তাঁদের জীবনের উন্নতির জন্য কোনো সংশোধনী আনা হয়েছে কি?’

    জেইউআই-এফ নেতা সিনেটর কামরান মুরতাজা বলেন, ‘মাত্র ১৩ মাস আগে পাস হওয়া ২৬তম সংশোধনী কার্যত এখন বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।’

    পিপিপি নেতা সিনেটর শেরি রেহমান বলেন, ‘যদি কেন্দ্র এখন ব্যয়ভার সামলাতে না পারে, তবে আমরা সবাই বসে দেখি, কোথায় অপচয় হচ্ছে; কিন্তু প্রদেশগুলোর বাজেট কেটে নয়।’

    এদিকে, আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির প্রধান সিনেটর আইমাল ওয়ালি খান বলেন, তার দল জনগণের স্বার্থে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগে সমর্থন দেবে।

    ওয়ালি খান বলেন, আইন প্রণয়ন করা সরকারের এখতিয়ার এবং বিরোধীদলগুলোকে আইনসভার কমিটিতে যোগ দিয়ে বিলের বিষয়ে ‘গঠনমূলক মতামত’ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।

  • আমজনতার দলের তারেককে আপিল করতে বললেন ইসি সচিব

    আমজনতার দলের তারেককে আপিল করতে বললেন ইসি সচিব

    অনলাইন ডেস্ক:     নিবন্ধনের দাবিতে অনশনে থাকা আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমানকে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার আহ্বান জানিয়েছেন সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
    রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
    আমজনতার দলের সদস্য সচিব তারেক রহমানের নির্বাচন ভবনের সামনে অনশন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘আইনগতভাবে আমরা যা বলার, তা চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি। এখন তারা চাইলে আপিল করতে পারেন এবং ঘাটতিগুলো পূরণ করে পুনরায় আবেদন করতে পারেন। আপিল, সংশোধন, পরিমার্জন বা সময় বর্ধনের বিষয়গুলো প্রচলিত প্রথা। আমি আন্তরিকভাবে অনুরোধ করব— যেন তারা অনশন ভঙ্গ করে আইনগত প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যান।’
    তিনি বলেন, ‘যদি তারা পুনর্বিবেচনা বা সংশোধনের আবেদন করতে চান, তাহলে কমিশনের সচিব বরাবর আবেদন করতে পারেন। আবেদন করলে কমিশন সেটি বিবেচনায় নেবে কি নেবে না, সেটি পরবর্তী বিষয়। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
    নির্বাচন ভবনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন ভবন একটি কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান। তাই সবাইকে সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আরপিও’র ধারাবাহিকতায় সংশোধনের আবেদন মঞ্জুর করা হলেও, আপিলের বিষয়টি আইন অনুযায়ী কমিশন বিবেচনা করবে। কেউ যদি যেকোনো সময় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন, সেটিও গ্রহণযোগ্য।
    রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে ইসি সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলের আচরণবিধিমালার গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় আছি। গেজেটটি প্রকাশ পেলেই আমরা সংলাপের সময়সূচি চূড়ান্ত করব।’