Category: প্রচ্ছদ

  • তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা

    তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা

    অনলাইন ডেস্ক: দশম গ্রেডে বেতন প্রদানসহ তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে সব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এর ফলে সারা দেশের প্রায় ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহকারী শিক্ষকরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। দুপুরে শাহবাগের দিকে ‘কলম বিসর্জন’ মিছিল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের বাধা পেয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হন এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষক নেতাকে আটক করা হয়।

    শিক্ষকদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মাসুদ বলেছেন, “বহুবার আলোচনায় বসেছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথেই থাকব। প্রজ্ঞাপন ছাড়া কেউ ঘরে ফিরবে না।”

    বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপিও একই অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে বঞ্চিত। এবার দাবি পূরণ না হলে অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি একসঙ্গে চলবে।”

    ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে চারটি সংগঠন এই আন্দোলন পরিচালনা করছে। তাদের দাবিগুলো হলো—সহকারী শিক্ষকদের বেতন জাতীয় বেতন কাঠামোর দশম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। ফলে রোববার থেকেই এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

    এদিকে, তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক, আমরা তাদের সঙ্গে আছি।”

    সরকারি সূত্রগুলো জানায়, সহকারী শিক্ষকদের বেতনগ্রেড উন্নীত করার বিষয়টি পর্যালোচনায় আছে। এর আগে আদালতের নির্দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়িয়ে দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়, যা সারাদেশের প্রধান শিক্ষকদের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

    তবে সহকারী শিক্ষকরা বলছেন, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগ পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

  • নিজের নিরাপত্তা দাবি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

    নিজের নিরাপত্তা দাবি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

    পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার ২নং পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদার নিজের জীবনের ওপর হামলা ও অপহরণচেষ্টা এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার পিরোজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহীন বলেন, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাওলাদার মোয়াজ্জেম হোসেনকে পরাজিত করে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এলাকার শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
    ছাত্রজীবনে তিনি জিয়ানগর উপজেলা ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে শ্রমিক দলের জিয়ানগর উপজেলা সভাপতি ছিলেন। ২০০৯ সালে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে উড়োজাহাজ প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পরামর্শে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ২০১৯ সালে জেপি (মঞ্জু) দলে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
    শাহীনের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৭টার দিকে বাড়ি থেকে খুলনা যাওয়ার পথে পিরোজপুর শহরের বড় পুল এলাকায় বালিপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মুন্সির ছেলে জাকারিয়া হোসেন মুন্সি ও তার সহযোগীরা তার গাড়ির পথরোধ করে। তারা তাকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণের চেষ্টা করে এবং তার কাছে থাকা দুইটি আইফোন ছিনিয়ে নেয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
    এর কিছুক্ষণ পর পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াত ইসলাম মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, তার ভাই পিরোজপুর-২ আসনে জামায়াত ইসলাম মনোনীত প্রার্থী ও আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শামীম সাঈদী সহ জামায়াত ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ থানায় উপস্থিত হয়। থানায় উপস্থিত সকলের সামনে মাসুদ সাঈদী বলেন ” আমি শাহীন হাওলাদারকে চেয়ারম্যান বানিয়েছি।” এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয় এবং ভবিষ্যতে জাকারিয়া মুন্সী তার সাথে এই ধরনের আর কোনো আচরণ করবে না কিংবা চাঁদা দাবি করবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়।
    সংবাদ সম্মেলনে উপস্হিত সকলে বলেন ” এই চাঁদাবাজ, অপহরনের চেষ্টাকারী জাকারিয়া মুন্সী ঢাকা থাকা অবস্হা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলো। বর্তমান মাসুদ সাঈদী নির্বাচনী প্রচারনার সামনের সাড়িতে থাকে।” বিষয়টি সমাধান হওয়ার পরও বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে জাকারিয়া মুন্সী তাকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শাহীন হাওলাদার।
    এছাড়া শুক্রবার জাকারিয়া মুন্সী একটি সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উল্টো ও মিথ্যা অভিযোগ এনে নিজের অপরাধ আড়াল করতে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে।
    তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আত্মরক্ষার্থে জাকারিয়া মুন্সী গল্প সাজিয়েছেন বলে দাবি করেন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার।
    একজন চেয়ারম্যান যদি এভাবে অপহরণচেষ্টা ও অপপ্রচারের শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ এমন প্রশ্ন‌ও তোলেন তিনি।
    তাই জাকারিয়া মুন্সী এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার নিজের এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
    এছাড়া তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা তদন্ত করে সত্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
    সংবাদ সম্মেলনে ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মশিউর রহমান (মঞ্জু), ইন্দুরকানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ করীম (ইমন), মেম্বার জুবায়ের হোসেন তালুকদার, মেম্বার কাওসার আহমেদ হাওলাদার, মেম্বার আসমা আক্তার লিমা, মেম্বার ডা. মো. ইউনুস, মেম্বার রুহুল আমিন শেখ, আলহাজ্ব সোহরাব হোসেন, অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মো. রফিক আহমেদসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
  • চাশতের নামাজের যেসব পুরস্কার ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবি

    চাশতের নামাজের যেসব পুরস্কার ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবি

    অনলাইন ডেস্ক:     চাশতের নামাজ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ; যা সূর্যোদয়ের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পড়া যায়। সূর্যোদয়ের অন্তত ১৫-২০ মিনিট পর এশরাকের নামাজের সময় শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় চাশতের নামাজের সময়; যা জোহরের নামাজের আগপর্যন্ত পড়া যায়। জোহরের নামাজের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাশতের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ হয়ে যায়। চাশতের নামাজ ২ রাকাত থেকে ১২ রাকাত পর্যন্ত নামাজ পড়া যায়। তবে ৪ রাকাতই বেশি প্রচলিত।

    বিশ্বনবির ঘোষণায় চাশতের নামাজের পুরস্কার

    ১. চাশতের নামাজের এ হাদিসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ; যা এ নামাজের ফজিলত এবং তার পরিমাণ অনুযায়ী উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঘোষণা-

    عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا صَلَّيْتَ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْنَ الصُّبْحِ وَالظُّهْرِ كُتِبْتَ مِنَ الْغَافِلِينَ وَإِذَا صَلَّيْتَ أَرْبَعًا فَأَنتَ مِنَ الصَّالِحِينَ وَإِذَا صَلَّيْتَ سِتًّا فَأَنتَ مِنَ الْمُتَّقِينَ وَإِذَا صَلَّيْتَ ثَمَانِيَ فَأَنتَ مِنَ الْمُحْسِنِينَ وَإِذَا صَلَّيْتَ عَشَرًا فَفِي ذِمَّةِ اللَّهِ وَإِذَا صَلَّيْتَ اثْنَيْ عَشَرَ بُنِيَ لَكَ فِي الْجَنَّةِ بَيْتٌ

    হযরত আবুজর গিফারী (রা.) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘যদি তুমি চাশতের নামাজ ২ রাকাত পড়, তাহলে তোমাকে গাফেলদের মধ্যে গণ্য করা হবে না। যদি ৪ রাকাত পড়, তাহলে তোমাকে নেককারদের মধ্যে গণ্য করা হবে। যদি তুমি ৬ রাকাত পড়, তাহলে তোমাকে আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যদি তুমি ৮ রাকাত পড়, তাহলে তোমাকে সফলকাম ব্যক্তিদের তালিকায় লেখা হবে। যদি ১০ রাকাত পড়, তাহলে সেদিন তোমার আমলনামায় কোনো গুনাহ লেখা হবে না। আর যদি ১২ রাকাত পড়, তাহলে জান্নাতে তোমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।’ (সুনানুল কুবরা বাইহাকি ৪৯০৬)

    ২. عَنْ أَبِيْ مُوْسَى رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الضُّحَى أَرْبَعًا وَقَبْلَ الأُوْلَى أَرْبَعًا بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ

    হযরত আবু মূসা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি চাশতের চার রাকাত নামাজ আদায় করে এবং জোহরের পূর্বে চার রাকাত নামাজ আদায় করে, তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করা হয়’ (সিলসিলা ছহীহাহ হা/৭৪৫)।

    ৩. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَن صَلَّى فِي يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِيهَا تَطَوُّعٌ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ، وَلَوْ كَانَتْ كَأَمْوَاجِ الْبَحْرِ»

    হযরত আনস (রা.) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি দিনে ১২ রাকআত নফল নামাজ (চাশতের নামাজসহ) পড়বে, আল্লাহ তার সমস্ত পাপ ক্ষমা করবেন, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতোই হোক।’ (আবু দাউদ ১৩৫১, তিরমিজি ৪২১, মুসলিম ৭৩১) এছাড়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘চাশতের নামাজ দুই রাকাত পড়লে সারা দিনের নামাজের মতো কল্যাণ রয়েছে।’ (বুখারি)।

    এভাবে চাশতের নামাজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত নামাজ, যা খুব সহজেই আদায় করা যায় এবং এর মাধ্যমে একজন মুসলিম সারা দিনের জন্য বরকত ও সুরক্ষা অর্জন করতে পারে এবং নবীজি (সা.)-এর ঘোষিত ফজিলত অর্জন করতে পারে।

  • প্রাথমিক শিক্ষকদের পদযাত্রায় পুলিশের জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ

    প্রাথমিক শিক্ষকদের পদযাত্রায় পুলিশের জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ

    অনলাইন ডেস্ক:    তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলনে নামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা পুলিশি বাধার মুখে পড়েছেন। শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ অভিমুখে যাত্রার সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।এদিন বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষক আহত হন এবং পদযাত্রা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

    এর আগে, সকাল ৯টা থেকে শিক্ষকরা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। হাজারো শিক্ষক সেখানে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

    আন্দোলনকারীরা জানান, সরকারি বিভিন্ন পদে সমমানের যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই দশম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন—যেমন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই), নার্স, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা। অথচ সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী হয়েও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা এখনও ১১তম গ্রেডে রয়েছেন। তাই দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের পর এবার তারা দশম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ তিন দফা দাবিতে আবারও মাঠে নেমেছেন।

    আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো সত্ত্বেও সরকারের আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয়নি। কয়েক দফা আন্দোলনের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৭ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি বাস্তবায়ন না করে তা পাঠিয়ে দেয় নবগঠিত পে-কমিশনে।

    দুই মাস কেটে গেলেও কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় শিক্ষক নেতারা পে-কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কমিশন জানায়, গ্রেড পরিবর্তনের এখতিয়ার তাদের নয়, এটি সার্ভিস কমিশনের বিষয়।

    এ অবস্থায় শিক্ষকরা আবারও তাদের পুরোনো দাবি অর্থাৎ দশম গ্রেডে উন্নীতকরণের বিষয়টি সামনে এনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

  • বিচার বিভাগকে সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হতে হয়: প্রধান বিচারপতি

    বিচার বিভাগকে সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হতে হয়: প্রধান বিচারপতি

    অনলাইন ডেস্ক:     প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগ শুধুমাত্র ঐতিহ্যের শক্তিতে টিকে থাকতে পারে না। এটিকে সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হতে হয়। আর সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে সংস্কার করতে হবে।
    শনিবার (৮ নভেম্বর) টিএসসি অডিটোরিয়ামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের হীরক জয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
    প্রধান বিচারপতি বলেন, সংস্কারের মূল লক্ষ্য প্রশাসনিক নয়, বরং নৈতিক। যাতে প্রতিষ্ঠান ক্ষমতাকে নয়, মানুষকে সেবা দেয়। পাশাপাশি বিচার বিভাগ যাতে জনগণের আস্থার নৈতিক অভিভাবকে পরিণত হয়।
    তিনি বলেন, গত পনেরো মাসে বিচারব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও জনগণের বিচারপ্রাপ্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছি। এই কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
  • মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাম্যকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা

    মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাম্যকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা

    নিজস্ব প্রতিবেদক:     ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলায় সাতজন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় ছাত্রদল নেতা সাম্যকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

    চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে উদ্যানে গাঁজা বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল। এ চক্রের নেতৃত্বে ছিল মাদক কারবারি মেহেদী হাসান। তার সহযোগী মো. রাব্বি ওরফে কবুতর রাব্বি, মো. রিপন ওরফে আকাশ, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ এবং মো. রবিন উদ্যানে মাদক বিক্রির মূল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।

    তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আখতার মোর্শেদ চার্জশিটে উল্লেখ করেন, সাম্য ও তার বন্ধুরা প্রায়ই উদ্যানে সময় কাটাতেন এবং মাদক বিক্রি বন্ধে স্থানীয়দের সচেতন করতেন। এতে মাদক বিক্রেতাদের সঙ্গে তাদের শত্রুতা তৈরি হয়। ১৩ মে রাতে সেই শত্রুতার জেরে সাম্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন শাহরিয়ার আলম সাম্য। ঘটনার দিন রাতে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গেলে মুক্তমঞ্চের কাছে কবুতর রাব্বিকে হাতে ইলেকট্রিক ট্রেজারগানসহ দেখতে পান সাম্য। তখন তিনি তাকে থামতে বলেন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি হলে রাব্বির চিৎকারে মেহেদী, রিপন, পাপেল, সোহাগ, হৃদয় ও রবিন ঘটনাস্থলে এসে সাম্য ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা চালায়।

    হামলার সময় কবুতর রাব্বির হাতে থাকা সুইচগিয়ার দিয়ে সাম্যর ঊরুতে আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার আগে আসামি মেহেদী হাসান তার সহযোগীদের সুইচগিয়ার ও ইলেকট্রিক ট্রেজারগান কিনে দিয়েছিল, যাতে প্রতিপক্ষের হামলার মুখে তারা আত্মরক্ষা করতে পারে। কিন্তু এই অস্ত্রই শেষ পর্যন্ত সাম্য হত্যার হাতিয়ার হয়।

    ঘটনার পর সাম্যর বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ বৃহস্পতিবার ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাতজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে।

    চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন—মেহেদী হাসান, মো. রাব্বি ওরফে কবুতর রাব্বি, মো. রিপন ওরফে আকাশ, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ এবং মো. রবিন।

    অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সুজন সরকার, তামিম হাওলাদার, সম্রাট মল্লিক ও পলাশ সরদারকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না; বরং সাম্যকে রক্ষা করতে গিয়ে তারাও আহত হন।

    চার্জশিটে আরও বলা হয়, আসামি মেহেদী হাসান ছিলেন গাঁজা বিক্রির মূল নেতা। রিপন ও কবুতর রাব্বি তার কাছ থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে উদ্যানে বিক্রি করত এবং বিক্রির টাকা প্রতিদিন মেহেদীর কাছে জমা দিত। ঘটনার কয়েক দিন আগে রিপন ও রাব্বি বিক্রির পুরো টাকা জমা না দেওয়ায় তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। সেই উত্তেজনা থেকেই মেহেদী তার সহযোগীদের অস্ত্র দেয় এবং সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলে।

    তদন্ত কর্মকর্তা আখতার মোর্শেদ বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র শাহরিয়ার আলম সাম্যকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তদন্তে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে যে, মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াই হত্যার মূল কারণ।”

    তিনি আরও জানান, সাত আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পাঁচটি ধারায় অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।