Category: প্রচ্ছদ

  • বাড়লো বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের টিকিটের মূল্য

    বাড়লো বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের টিকিটের মূল্য

    খেলাধুলা ডেস্ক:    আগামী ১৮ নভেম্বর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই ম্যাচের টিকিট কিনতে বেশি টাকা গুনতে হবে দর্শকদের। এর আগে সিঙ্গাপুর ও হংকং ম্যাচে গ্যালারির টিকিটের মূল্য ৪০০ টাকা হলেও ভারত ম্যাচের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ৫০০ টাকা। বাফুফে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিটের দাম প্রকাশ করেনি।

    বাফুফের টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস বলেছেন, ‘সোমবার দুপুর ১২টা থেকে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এবার গ্যালারির টিকিটের মূল্য ৫০০ টাকা করে।’ ৯টি ক্যাটাগরিতে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    গ্যালারি ৫০০ টাকা, ক্লাব হাউজ ৫০০০ ও ৩০০০ টাকা, ভিআইপি ৪০০০ ও ৩০০০ টাকা, রেড বক্স ৬০০০ টাকা, কর্পোরেট বক্স ৮০০০ টাকা, স্কাই বক্স ৮০০০ ও স্কাই ভিউ ৭০০০ টাকা। ১৮ নভেম্বর রাত ৮ টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-ভারতের মর্যাদার লড়াই। দুই দেশই বিদায় নিয়েছে এশিয়ান কাপের বাছাই থেকে। দুই দলেরই ম্যাচ বাকি দুটি করে। এই দুই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করবে গ্রুপে কারা কোনো অবস্থানে থেকে বাছাই মিশন শেষ করবে।

  • সেনাবাহিনীর সদস্য সরিয়ে নেওয়ার খবর গুজব, আগের মতোই মাঠে থাকছেন তারা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    সেনাবাহিনীর সদস্য সরিয়ে নেওয়ার খবর গুজব, আগের মতোই মাঠে থাকছেন তারা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে প্রত্যাহারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আগের মতোই মাঠে থাকবে, এই বিষয়ে যে খবর ছড়ানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ গুজব।

    রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এই মুহূর্তে সেনাবাহিনী আগের মতোই মাঠে থাকবে, তাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না।”

    গত ৫ নভেম্বর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় যে, সেনাবাহিনীর অর্ধেক সদস্যকে বিশ্রাম ও নির্বাচনকালীন প্রশিক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে সে খবরের সত্যতা নেই বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “মোতায়েনকৃত সেনা সদস্যদের ৫০ শতাংশ প্রত্যাহার করা হবে— এই খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব।”

    কার্যক্রমে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বরের ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।”

    এর আগে সেনাসদরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের (এমওডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন জানান, সেনা প্রত্যাহার বিষয়ে একটি চিঠি পাওয়া গিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “গত ১৫ মাস ধরে সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে আসছে। চুরি যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার ও চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।”

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো শিথিলতা আনা হচ্ছে না। বরং মাঠপর্যায়ে সেনা ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয় আরও জোরদার করা হচ্ছে যাতে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়।

  • বিতর্ক, দুর্ঘটনা, সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের

    বিতর্ক, দুর্ঘটনা, সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের

    নিজস্ব প্রতিবেদক :    একের পর বিতর্ক প্রতিষ্ঠানটি গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে, ফেলছে অস্বস্তিতে। সর্বশেষ কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সিলগালা করা স্ট্রংরুমের (ভল্ট) তালা ভাঙার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটল মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা, যা ঘটিয়েছেন এক দায়িত্বরত আনসার সদস্য। তার পোশাকের ভেতরে লুকানো অবস্থায় পুরোনো মডেলের ১৫টি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

    ঘটনা জেনে সেই আনসার সদস্যকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার ও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান বলেছেন, আনসার সদস্যের কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধারের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সদস্য রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা নিয়েছে, যা বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সূত্রমতে, দেশের প্রধান বিমানবন্দরে প্রতি বছর লাগেজসহ হাজার হাজার চুরির ঘটনা ঘটে আসছে, যা কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। অনেকের মতে, বছরের পর বছর ধরে বিমানবন্দরে চোর ও লাগেজ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। যাদের মধ্যে নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরাও জড়িত রয়েছে।

    বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সরকারি হিসাবমতে, বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে তিনটি লাগেজ চুরি বা গায়েব হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই লাগেজ গায়েব চক্র তত্পরতা চালালেও পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে কারা, কীভাবে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অপতত্পরতা চালাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ও এভিয়েশন বিশ্লেষকরা। গত ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরও অগ্নিপ্রতিরোধী স্ট্রংরুমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য আমদানি করা বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল। তবে সিলগালা অবস্থায় থাকা স্ট্রংরুমে তালা ভাঙা হয়। ঘটনার ১০ দিন পর ২৭ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় জিডি হলে গত ৪ নভেম্বর তা প্রকাশ পায়। অনেকের আশঙ্কা, স্ট্রংরুম থেকে কয়েকটি অস্ত্র চুরি গেছে। সেই ঘটনার রেশ শেষ না হতেই কার্গো ভিলেজে ভস্মীভূত দ্রব্যের মাঝে থাকা ১৫টি বাটন ফোন লুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্য।

    এর আগে বিমানবন্দরে যাত্রীর লাগেজ থেকে ৬ হাজার ৮০০ ইউরো (৮ লাখ ৯৭ হাজার টাকা) চুরির ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাঁচ কর্মীকে গত ৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়। গত ২ আগস্ট ভারতের চেন্নাইগামী সেই যাত্রীর চেক করা লাগেজ থেকে ইউরো চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সিসিটিভির ফুটেজ থেকে কর্মীদের শনাক্ত করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলার পর আদালতের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার আগে গত ৭ জানুয়ারি ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরে লাগেজ খুইয়ে ফেলেন ভুক্তভোগী কাজী মোশতাক আহম্মেদ। ইমিগ্রেশনে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়েও লাগেজ না পেয়ে অভিযোগ দেন বিমানের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ বিভাগে। শেষ অবধি লাগেজ ফিরিয়ে দিতে না পেরে বিমান কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৯ হাজার টাকা দেয়।

    তবে ভুক্তভোগীর ভাষ্য, খোয়া যাওয়া লাগেজে ১১ কেজি ওজনের বিভিন্ন সামগ্রী ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। অথচ পাঁচ মাস পরে তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ১৯ হাজার ৫২০ টাকা। সেই ঘটনার পর ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন আমেরিকান নাগরিক ও ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সৌদিপ্রবাসী এক যাত্রীর লাগেজ খোয়া যায়। বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সহযোগিতায় পরে তারা লাগেজ ফিরে পান। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি আরিফ প্রামাণিক নামে এক সৌদি আরবপ্রবাসী দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পথে দুষ্কৃতকারীরা তার টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজ থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুষ্কৃতকারীদের আটক এবং উদ্ধার করা টাকা ও মালামাল বুঝিয়ে দেয়। বিমানের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ বিভাগের সূত্রমতে, প্রতিদিন গড়ে তিনটির মতো লাগেজ চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। গত ছয় মাসে ৫৪০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    জানতে চাইলে সিভিল এভিয়েশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেন, বাইরে যতই কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয়। কিন্তু ভেতরে তেমন শক্তিশালী কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থাই নেই। বাইরে কড়াকড়ি, ভেতরে ঢিল। ভেতরের এই প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে সিন্ডিকেট চক্রের ঔদ্ধত্য এতটা বেপরোয়া। শাহজালালে এত এত বাহিনীর স্ট্রং সিকিউরিটি থাকা সত্ত্বেও তারা কিছুই টের পেল না! সিভিল এভিয়েশনের সিকিউরিটি চুরি-পাচারসহ অমুক করে তমুক করে বলে অ্যাবসেক বাহিনী আনা হলো। কার্যত কিছুই হচ্ছে না! শো অফ হলো। সিন্ডিকেটবাজি থামছেই না। অবশ্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘নিরাপত্তাবলয় ছিল বলেই চোর সফল হতে পারেনি। এটা ব্যক্তির অসাধুতা, যা কোনোভাবেই পুরো আনসার বাহিনীর পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না। বাহিনী যথেষ্ট ভালো কাজ করছে।

    ভালোদের কারণে খারাপদের এসব কর্মকাণ্ড আমরা শনাক্ত করতে পারছি।’ এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, পুরো এয়ারপোর্টের মালিকানা অনেকটা সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের। সরকারের পক্ষ থেকে তারা এ দায়িত্বপ্রাপ্ত। এয়ারপোর্টের ভেতরে অন্য কোনো সংস্থার কর্তৃত্ব নেই। এর ভেতরে ভালো কিছু হলে প্রশংসা, মন্দ হলে নিন্দিত হতে হবে তাদেরই। অথচ এর ভেতরে কিছু ঘটলেই দেখা যায়, সবার মধ্যে দায়িত্ব এরিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি, এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ইত্তেফাককে বলেন, এভাবে একের পর অপ্রীতিকর ঘটনা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচয়ে কলঙ্কের কালিলেপন করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির নামে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা দায় এড়াচ্ছেন এবং বিষয়টিকে বারবারই উপেক্ষা করে যাচ্ছেন। আর কতটা মূল্য দিলে বিমান এদের কাছ থেকে রেহাই পাবে।

  • দেশের ১৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ

    দেশের ১৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ

    নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের ১৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (৮ নভেম্বর) মধ্যরাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাগেরহাটের ডিসি আহমেদ কামরুল হাসানকে নোয়াখালী, কুষ্টিয়ার ডিসি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনকে হবিগঞ্জ, ভোলার ডিসি মো. আজাদ জাহানকে গাজীপুর, বরগুনার ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আলমকে ঢাকা, সিরাজগঞ্জের ডিসি মুহাম্মদ নজরুল ইসলামকে গাইবান্ধা এবং খুলনার ডিসি মো. তৌফিকুর রহমানকে বগুড়ার জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

    এছাড়া সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহকে বরগুনা, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সচিব (উপসচিব) মো. আমিনুল ইসলামকে সিরাজগঞ্জ, বাণিজ্য উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে মাগুরা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবু সাঈদকে পিরোজপুর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পাবনা জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতারকে সাতক্ষীরা, স্থানীয় সরকার বিভাগের ফেনী উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মো. বাতেনকে বাগেরহাট, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) একান্ত সচিব স. ম. জামশেদ খোন্দকারকে খুলনা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনকে কুষ্টিয়া এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব ডা. শামীম রহমানকে ভোলার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

  • আদালত সংস্কারে উদ্যোগ নিচ্ছি—সুফল পাবে জনগণ: আইন উপদেষ্টা

    আদালত সংস্কারে উদ্যোগ নিচ্ছি—সুফল পাবে জনগণ: আইন উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:   সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল রোববার সকালে রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের লিগ্যাল এইড অফিসে বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, “একজন বিচারকের জায়গায় আদালতে তিনজন বিচারক দেওয়া হচ্ছে, যাতে আদালতে মামলার চাপ কমে। আদালত সংস্কারে আমরা নানান উদ্যোগ নিচ্ছি। সুফল অবশ্যই জনগণ পাবে।

    আসিফ নজরুল বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই। সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ও আমাদের (উপদেষ্টাদের) ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন কথা বলে। এসব কথার কিছু হয়তো সত্য থাকে। তাদের কথায় জনমনে নির্বাচন নিযয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।”

    ‘১৬-১৭ বছরের নির্বাচন হয় না, এ কারণে কিছুটা শঙ্কা মানুষের মধ্যে আছে। ৫ কোটি মানুষ কখনো ভোট দিতে পারেনি, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। তাদের মাঝে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে’-উল্লেখ করেন তিনি।

    আসামিদের জামিন দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, “জামিন দেওয়া শুধু বিচারকের ওপর অনেক ক্ষেত্রে নির্ভর করে না। পুলিশ কি রিপোর্ট দিচ্ছে তার ওপরও নির্ভর করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে কিংবা কণ্ঠ শোনা গেছে, এরকম হলে ব্যতিক্রম হয়। যেখানে জামিন পাওয়ার যোগ্য সেখানে জামিন পেতেই পারে। তবে যারা জামিন পেয়ে একই ধরনের অপরাধ করতে পারে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিনষ্ট করতে পারে, নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সদস্য হয়ে তৎপরতা চালাতে পারে, তাদের যদি বেশি জামিন হয়, সেক্ষেত্রে আমরা আতঙ্কিত হবো।”

  • সব খাতে সরকারের খরচ বাড়লেও আয় বাড়েনি

    সব খাতে সরকারের খরচ বাড়লেও আয় বাড়েনি

    অর্থনীতি ডেস্ক:  সরকারের খরচ বাড়লেও আয় বাড়েনি। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। মূলত রাজস্ব আদায় হ্রাস, বিগত সরকারের নেয়া ঋণ পরিশোধ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকট মোকাবিলা করা এবং সরকারের পরিকল্পিত চলতি ব্যয় মেটাতে নির্ভর করতে হচ্ছে ঋণের ওপর। যদিও আর্থিক দুরবস্থার কারণে সরকার কৃচ্ছ সাধনের নীতি গ্রহণ করেছে। উন্নয়ন প্রকল্পে একেবারেই কম ব্যয়। তারপরও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ বাড়ছে। পাশাপাশি কমে যাচ্ছে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ। আর সরকারি খাতের ঋণ বাড়ায় সার্বিকভাবে অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহ সামান্য বেড়েছে। তবে সরকারি খাতের ঋণ কমাতে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে দাতা সংস্থা আইএমএফ চাপ দিচ্ছে। সংস্থাটি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ অব্যাহতভাবে নিম্নমুখিতাকে উদ্বেগজনক হিসাবে চিহ্নিত করেছে। আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকারি খাতে চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে ঋণপ্রবাহ ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে বাড়েনি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ। বরং দশমিক ০৩ শতাংশ কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট দুই মাসেই বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ নেতিবাচক। বেসরকারি খাতে আমদানি বাড়লেও রপ্তানি খাত, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ছে না। কয়েক বছর ধরেই এ খাতে মন্দা যাচ্ছে। গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে এ খাতে মন্দা আরো প্রকট হয় এবং এখনো সেই মন্দার প্রভাব কাটছে না।

    সূত্র জানায়, সরকারি খাতে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের মাত্র ২৮ শতাংশ যাচ্ছে। বাকি ৭২ শতাংশই বেসরকারি খাতে যাচ্ছে। তার মধ্যে গ্যাস, জ্বালানি তেল আমদানির ঋণ সরকারি খাতে গেলেও তার বড় অংশই বেসরকারি খাত ভোগ করে। ফলে বেসরকারি খাতের ঋণের অংশ আরো বেশি হবে। দেশের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি ২৩ লাখ কোটি টাকার মধ্যে বেসরকারি খাতে রয়েছে সাড়ে ১৭ লাখ কোটি টাকা আর সরকারি খাতে সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমলেও কেবল সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ার কারণে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে ঋণপ্রবাহ সরকারি খাতে বাড়ার কারণে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে তার তেমন কোনো ভূমিকা নেই। সরকার মূলত পরিকল্পিত চলতি ব্যয় নির্বাহ করতেই নিয়েছে এসব ঋণ। হঠাৎ কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার মুখোমুখি হলে সরকারের অপরিকল্পিত ব্যয় বেড়ে যাবে। তখন ঋণ আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। আর বিগত সরকার সময়ে ব্যাপকভাবে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেয়া হয়। ওসব ঋণ বিগত সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়ে ডলার ও টাকার সংকটে পরিশোধ করতে পারেনি। ফলে ঋণের মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। তাতে ঋণের বিপরীতে সুদ ও দণ্ড সুদ বেড়ে ঋণ পরিশোধের স্থিতিও বেড়েছে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে ওসব ঋণ এখন বর্তমান সরকার পরিশোধ করছে। বিগত সরকারের ঋণ পরিশোধের বোঝা এবং রাজস্ব আদায় একেবারেই তলানি নামায় প্রকট আকার ধারণ করেছে সরকারের অর্থ সংকট। সরকার এখন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কম সুদের ঋণের টাকায় ব্যয় নির্বাহ করছে।

    সূত্র আরো জানায়, মাঝে মধ্যে সংকট প্রকট আকার ধারণ করলে সরকারকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও ছাপানো টাকায় ঋণ নিতে হয়। তবে ছাপানো টাকার ঋণ সাময়িকভাবে নিলেও তা স্বল্প সময়ের মধ্যেই পরিশোধ করে দিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট  দুই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায় নেয়া ৩ হাজার ১০৫ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে। তবে তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিচ্ছে না সরকার। বরং ওই খাত থেকে আগের নেয়া ঋণের মধ্যে ২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। তার বিপরীতে নন-ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে। ওই খাত থেকে গত জুলাই-আগস্টে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। ওসব ঋণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেছে। তবে নন-ব্যাংক খাতের ঋণের সুদহার বেশি। ওই খাতের সবচেয়ে বেশি সঞ্চয়পত্র ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঋণ নিচ্ছে সরকার। তাতে সুদের হার ১১ থেকে পৌনে ১২ শতাংশ। আর ব্যাংক থেকে ঋণের সুদহার ৫ থেকে ১০ শতাংশ।

    তাছাড়া বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে গিয়ে চড়া দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি ঋণের কিস্তি স্থগিত করার কারণে সুদও বেশি দিতে হচ্ছে। ফলে ঋণের বিপরীতে সরকারকে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। তাছাড়া মূল্যস্ফীতির হার এখনো ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। প্রায় তিন বছর মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ শতাংশের বেশি থেকে ১১ শতাংশের ওপরে। দীর্ঘ সময় মূল্যস্ফীতির হার বেশি থাকার কারণে পণ্য ও সেবার মূল্য বেড়েছে। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষের আয় কমায় তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়াতে হয়েছে। এতেও সরকারের খরচ বেড়েছে।

    এদিকে রাজস্ব আদায় হচ্ছে সরকারের আয়ের প্রধান খাত। কিনতু দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনৈতিক মন্দা ও সামপ্রতিক সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের কারণে রাজস্ব আয় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে গত অর্থবছরের জুলাই-আগস্টের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় বাড়েনি, বরং কমেছিল আড়াই শতাংশের বেশি। জুলাই-আগস্টে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬১ হাজার কোটি ২৬ লাখ টাকা। তার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৪ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। ঘাটতি হয়েছে ৬ হাজার ৫৭৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি হয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৪৫ হাজার ৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আর গত আগস্টের শেষে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানত বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। যা ব্যাংক খাতে তারল্যের জোগান বাড়ানোর জন্য যথেস্ট নয়। তার মধ্যে মেয়াদি আমানতের হিসাব বাড়ার কারণেই সার্বিকভাবে আমানত বেড়েছে। মেয়াদি আমানত বাড়ার ফলে ব্যাংক খাত দীর্ঘ মেয়াদে আমানত সংকট ঘোচানোর দিকে এগোচ্ছে। তবে চলতি আমানত কম হওয়ার মানে হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কম। যদিও ব্যাংক খাতে আমানত বাড়ায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বেড়েছে, ডলারের প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক সম্পদ বেড়েছে। ওই দুটি মিলে দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে। ফলে টাকার প্রবাহ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে।