Category: প্রচ্ছদ

  • কুয়ালালামপুরে চীন-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা শুরু

    কুয়ালালামপুরে চীন-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা শুরু

    অর্থনীতি ডেস্ক: চীন ও যুক্তরাষ্ট্র শনিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে তাদের সর্বশেষ বাণিজ্য আলোচনা শুরু করেছে।বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এএফপি এ খবর জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় দু’দেশের শীর্ষ নেতাদের বহুল প্রত্যাশিত বৈঠকের আগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লিফেংর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল সোমবার পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় অবস্থান করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে।

    বিশ্বের দুই বড় অর্থনীতির দেশ নিজেদের মধ্যে শুল্কারোপ সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব আর বাড়াতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি চীনের সঙ্গে একটি ‘ভালো’ বাণিজ্য চুক্তি করতে এবং চলমান শুল্কযুদ্ধের অবসান ঘটাতে চান। যদিও তার আগে তিনি বৈঠকটি বাতিল করার হুমকি দিয়েছিলেন।

    আগামী ৩১ অক্টোবর শুরু হবে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলন। এই সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প-সি বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে।

    চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া শনিবার সকালে জানায়, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল বাণিজ্য আলোচনায় বসেছে।

    চীন সম্প্রতি তাদের গুরুত্বপূর্ণ ‘রেয়ার আর্থ’ শিল্পে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। জবাবে ট্রাম্প চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন।

    এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেকশন ৩০১’ ধারা অনুসারে করা তদন্ত প্রতিবেদনে চীনের ওই খাতের আধিপত্যকে অযৌক্তিক বলে চিহ্নিত করা হয়। এরপরই দুই দেশ একে অপরের জাহাজের ওপর বন্দর ব্যবহারের ফি আরোপ শুরু করেছে।

  • ট্রাম্পের এশিয়া সফর: থাকবে সম্মেলন, বৈঠক ও চুক্তি

    ট্রাম্পের এশিয়া সফর: থাকবে সম্মেলন, বৈঠক ও চুক্তি

    অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ এশিয়া সফরে যাচ্ছেন। সফরের শেষ দিনে দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

    ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ট্রাম্পের দেখা হতে পারে এমন গুঞ্জন উঠলেও, ওয়াশিংটন বলছে, এমন কোনো বৈঠক সূচিতে নেই।

    ট্রাম্পের লক্ষ্য, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের মধ্যে চলমান তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ‘সবকিছুর ওপর একটি চুক্তি’ করা।

    ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা দেশে শুল্ক বসিয়ে ও কূটনৈতিক চুক্তি করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছেন।

    তিনি এই মেয়াদে প্রথমবারের মতো এশিয়া সফরে যাচ্ছেন। সফর তালিকায় মালয়েশিয়া ও জাপানও রয়েছে।

    এক জ্যৈষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা শুক্রবার বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল অর্থনৈতিক অঞ্চলে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান জনগণের জন্য সাফল্য বয়ে আনবেন। এ সময়ে তার একাধিক অর্থনৈতিক চুক্তি সই করার কথা রয়েছে।’

    দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দেবেন ট্রাম্প।

    এ বিষয়ে সিউলের পুনরেকত্রীকরণ মন্ত্রী জানান, সম্মেলনে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’

    তবে ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরো জানান, ‘এমন কোন বৈঠক তাদের সূচিতে নেই।’

    যদিও দুই নেতা আগেই জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনরায় জাগিয়ে তুলতে চান তারা।

    শান্তি ও বাণিজ্য চুক্তি

    ট্রাম্পের প্রথম গন্তব্য মালয়েশিয়া। তিনি রোববার সেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেবেন। প্রথম মেয়াদে এই সম্মেলন তিনি একাধিকবার এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

    মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সই করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে তার সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর। এই চুক্তির তদারকি করবেন তিনি নিজেই।

    শান্তি প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে অনেকে ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ বলেই দেখছেন।

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলার পর, এবার সেই দূরত্ব কমাতে চাইছে উভয় পক্ষ।
    এএফপিকে এমনটাই জানিয়েছেন দেশ দু’টির কর্মকর্তারা।

    এরপর ট্রাম্প সোমবার টোকিও পৌঁছাবেন। মঙ্গলবার তিনি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ সপ্তাহেই দায়িত্ব নেওয়া তাকাইচি একজন রক্ষণশীল রাজনীতিক।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প যে কঠোর শুল্ক আরোপ করেছেন, তার বড় ধাক্কা থেকে জাপান অনেকটাই রেহাই পেয়েছে।

    ট্রাম্পের অভিযোগ, ‘অন্যায় বাণিজ্য ভারসাম্য’ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘লুটে নিচ্ছে।’

    তবে ট্রাম্পের এশিয়া সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া।

    তিনি বুধবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বুসানে পৌঁছাবেন। সেখানে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে তার উপস্থিতিকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

    তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    এছাড়া এপেক সম্মেলনের ফাঁকে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন এবং গিয়ংজু শহরে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধানদের সঙ্গে নৈশভোজ করবেন।

    বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতার সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে।

    বিশ্ববাজার এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে। ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের কারণে শুরু হওয়া বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধ হবে কি-না, তা জানতে আগ্রহী সবাই। বিশেষ করে, বেইজিংয়ের বিরল খনিজ রপ্তানিতে সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উত্তেজনার পর, এই বৈঠককে ঘিরে আগ্রহ আরও বেড়েছে।

    ট্রাম্প শুরুতে বৈঠক বাতিলের হুমকি দেন এবং নতুন শুল্ক আরোপ করেন।

    তিনি পরে আবার জানান, বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

    আরেক জ্যৈষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মূলত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।’

    ট্রাম্প নিজেই বৃহস্পতিবার বলেছেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে প্রথমেই থাকবে ফেন্টানিল ইস্যু।

    তিনি বেইজিংয়ের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন, যাতে চীন মাদক পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। পাশাপাশি, লাতিন আমেরিকার মাদকচক্র দমনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।

    ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন বলেছেন, সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ।

    তিনি মার্কিন পত্রিকা পলিটিকো’কে বলেন, ‘এই বৈঠক ভেস্তে গেলে এর প্রভাব ব্যাপক হবে।’

    ব্যাননের ভাষায়, এটি যেন ‘লোহার পাশা ছোড়ার মতো’—অর্থাৎ সফল হলে ফল বড়, কিন্তু ব্যর্থ হলে বিপদও কম নয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় কোনো অগ্রগতি আশা করা ঠিক হবে না।

    ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক রায়ান হাস বলেছেন, ‘এই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। এটি শুধু চলমান সম্পর্কের ধারাবাহিকতার একটি ধাপ।’

  • নভেম্বরে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত তারেক রহমান

    নভেম্বরে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত তারেক রহমান

    অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন, “আগামী নভেম্বরের মধ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।”

    উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে এক-এগারোর সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রেফতার হন তারেক রহমান। ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার সময় কারামুক্ত হয়ে সপরিবারে লন্ডনে চলে যান। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার অনুপস্থিতিতে পাঁচ মামলায় সাজা দেওয়া হয়। এছাড়াও দায়ের করা হয় শতাধিক মামলা। তার বক্তব্য-বিবৃতি প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

    তবে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। তারেক রহমান চলে আসেন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। সব মামলা থেকে ইতোমধ্যে খালাস পেয়েছেন। তবে এক বছরের বেশি সময় পরও তিনি দেশে ফিরেননি।

  • তরুণ-তরুণীর বন্ধুত্ব নিয়ে ইসলাম কী বলে

    তরুণ-তরুণীর বন্ধুত্ব নিয়ে ইসলাম কী বলে

    ধর্ম  ডেস্ক:     ইসলাম মানবিক সম্পর্ককে অনুমোদন করলেও, তরুণ-তরুণীর অবাধ মেলামেশা বা ‘স্মার্ট বন্ধুত্বে’ নৈতিকতার সীমানা টেনেছে। নির্জনতা ও অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠতা থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আধুনিকতার ঝলকে এই সম্পর্কগুলো দেখতে যতই সুন্দর লাগুক, এর অন্তরালে লুকিয়ে থাকে এক সূক্ষ্ম নৈতিক সংকট। প্রশ্নটা জাগে ইসলাম এই বন্ধুত্বকে কীভাবে দেখে? ইসলাম মানবিক সম্পর্ককে সীমাবদ্ধ করে না, বরং তা পরিশুদ্ধতার আলোয় স্নাত করতে শেখায়।

    আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন দৃষ্টি নত রাখে ও লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র।’ (সুরা আন-নূর, আয়াত ৩০)এবং নারীদের উদ্দেশে একই আদেশ, ‘মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন দৃষ্টি নত রাখে, লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে এবং নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।’ (সুরা আন-নূর, আয়াত ৩১)

    এই আয়াতদ্বয় আসলে সম্পর্কের এক দার্শনিক সীমানা টেনে দেয় যেখানে শালীনতা হচ্ছে আত্মার বর্ম, আর সংযম হচ্ছে চরিত্রের অলংকার। রাসুলুল্লাহ সা. সতর্ক করে বলেছেন, ‘যখন কোনো নারী ও পুরুষ নির্জনে অবস্থান করে, তখন তাদের তৃতীয় জন হয় শয়তান।’ (তিরমিজি, হাদিস ১১৭১) অতএব, ইসলাম বন্ধুত্ব নিষিদ্ধ করেনি, কিন্তু সীমাহীন বন্ধুত্বের দরজায় স্পষ্টভাবে ‘সতর্কতা’র সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে।

    ইমাম ইবনু কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, ‘নারী–পুরুষের অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠতা হৃদয়ের রোগ সৃষ্টি করে, যা পাপের দ্বার উন্মুক্ত করে।’ (আল–জাওয়াবুল কাফি, পৃ. ১২৪) ইমাম নববী (রহ.) মন্তব্য করেন, ‘যে সম্পর্ক মানুষকে আল্লাহর স্মৃতি থেকে দূরে নিয়ে যায়, তা বন্ধুত্ব নয়, বরং তা ফিতনার সূচনা।’ আজকের তথাকথিত ‘স্মার্ট বন্ধুত্ব’ বা ‘বেস্ট ফ্রেন্ড কালচার’ অনেক সময় আবেগের জোয়ারে গুনাহের স্রোতে পরিণত হয়। মোবাইল স্ক্রিনের আড়ালে জন্ম নেয় এমন সম্পর্ক, যা শুরু হয় নিরীহ কথোপকথনে—শেষ হয় আত্মিক শূন্যতায়। ইসলাম এই ঝুঁকি থেকে বাঁচার জন্যই শালীনতা ও সংযমের কঠোর বিধান দিয়েছে।

    তবে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে ইসলাম কোনো কাল্পনিক বিচ্ছিন্নতা চায় না। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র বা সামাজিক দায়িত্বে নারী–পুরুষের সহযোগিতা হতে পারে, কিন্তু তা যেন উদ্দেশ্যনির্ভর, সম্মাননির্ভর এবং সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে। বন্ধুত্ব তখনই পবিত্র, যখন তা আত্মার উন্নতি ঘটায়, নয়তো তা পরিণত হয় আত্মপ্রবঞ্চনায়।

    আজকের তরুণ প্রজন্মের জন্য এটাই ইসলামের বার্তা,অন্যের হৃদয় নয়, নিজের নৈতিকতাকে জয় করো। বন্ধুত্ব নয়, ভ্রাতৃত্বই ইসলামের ভাষা; যেখানে সম্পর্কের ভিত্তি আবেগ নয়, ঈমান।

    লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর

  • প্রথমবারের মতো দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের প্রযুক্তি উদ্ভাবন

    প্রথমবারের মতো দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের প্রযুক্তি উদ্ভাবন

    অনলাইন ডেস্ক:   বিশ্বে প্রথমবারের মতো একটি স্টার্টআপ দাবি করেছে, তারা এমন একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে যা দৃষ্টিশক্তি হারানো মানুষদের আবার দেখার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে পারে।স্টার্টআপটির বিজ্ঞানীরা একটি রেটিনা ইমপ্লান্ট বা চোখের পর্দায় বসানো যন্ত্র তৈরি করেছেন, যা দৃষ্টি হারানো মানুষদের দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা দিতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

    এই যুগান্তকারী উদ্ভাবন এসেছে ইলন মাস্কের স্টার্টআপ নিউরালিংকের প্রতিদ্বন্দ্বী ‘সায়েন্স কর্পোরেশন’-এর হাত ধরে। তাদের প্রযুক্তি ‘আর্টিফিশিয়াল ভিশন’ বা কৃত্রিম দৃষ্টি নামে পরিচিত।ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কৃত্রিম দৃষ্টি ব্যবহার করে ‘ম্যাকিউলার ডিজেনারেশন’ (এএমডি) রোগীরা লেখা পড়তে ও ক্রসওয়ার্ডের মতো ধাঁধা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছেন।

    এএমডি মূলত প্রবীণদের হয়ে থাকে। এই রোগে চোখের রেটিনার ম্যাকুলা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানুষের কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি বা সরাসরি সামনের দিকে দেখার ক্ষমতা কমে যায় বা নষ্ট হয়, যা অপরিবর্তনীয় অন্ধত্বের অন্যতম কারণ।

    ‘প্রিমা’ নামের নতুন ‘ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেইস’ একটি সিস্টেম যার মধ্যে ক্যামেরা লাগানো এক জোড়া চশমা রয়েছে। চশমাটি তারবিহীনভাবে রেটিনার নিচে বসানো চিপে সংকেত পাঠায়।সহজভাবে বলতে গেলে, এই প্রযুক্তি মূলত দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। প্রিমা চশমা ক্যামেরার মাধ্যমে বাইরের দৃশ্য দেখে এবং তা সংকেতে রূপান্তরিত করে। চিপটি রোগীর চোখের রেটিনার ঠিক নিচে অস্ত্রোপচার করে বসানো হয়, যা সংকেতগুলো মস্তিষ্কে পাঠায়। এর ফলে রোগী আংশিক বা কৃত্রিম দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান।

    এক বছর ধরে এএমডি রোগীদের ওপর পরীক্ষার পর দেখা গেছে, ‘প্রিমা’ সিস্টেম ব্যবহার করে তারা সংখ্যা ও শব্দ পড়তে সক্ষম হয়েছেন।৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এএমডি হলো দৃষ্টিশক্তি হারানোর সবচেয়ে সাধারণ রোগ। বিশ্বজুড়ে ৫০ লাখের বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। রোগটির কারণে মানুষ কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন, ফলে পড়া, গাড়ি চালানো বা মুখ চেনা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    ‘প্রিমা’ প্রযুক্তির আগ পর্যন্ত চিকিৎসকরা এএমডি রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় করতে বা হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে পারতেন না। আগের চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো কেবল রোগ বিস্তারের গতি কমাতে সক্ষম, যাতে দৃষ্টিশক্তি আরও খারাপ না হয়।

    গবেষকরা জানিয়েছেন, ক্লিনিকাল ট্রায়ালে ৩৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়েছে। ১২ মাস ব্যবহার করার পর ৮০ শতাংশের বেশি রোগী ‘ক্লিনিক্যালি মিনিংফুল ইমপ্রুভমেন্ট’ বা অর্থপূর্ণ উন্নতি পেয়েছেন। এই উন্নতি তাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লেগেছে এবং চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন এনেছে।

    ‘সায়েন্স কর্পোরেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ম্যাক হোডাক বলেছেন, ‘এই যুগান্তকারী সাফল্য আমাদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রতি অঙ্গীকারকেই তুলে ধরে, যা অসহায় রোগীদের মধ্যে আশা জাগায় এবং তাদের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

    ‘প্রিমা রোগীদের জন্য দৃষ্টিশক্তি পুনরায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলেছে এবং এতে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত।’

    ম্যাক হোডাক নিউরালিংকের সহ-প্রতিষ্ঠাতারও একজন। যদিও নিউরালিংকের লক্ষ্যও মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা, এখনও তারা এমন সক্ষমতা দেখাতে পারেনি। নিউরালিংকের প্রাথমিক ব্রেইন ইন্টারফেইস চিপের প্রোটোটাইপ শুধু পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের উপর ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে তারা মস্তিষ্কের সংকেতের মাধ্যমে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

    ‘সাবরেটিনাল ফটোভোলটাইক ইমপ্লান্ট টু রিস্টোর ভিশন ইন জিওগ্রাফিক অ্যাট্রোফি ডু টু এএমডি’ শিরোনামে এই নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিস্তারিত গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’-এ।

  • দেশজুড়ে ভূমি অফিসের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

    দেশজুড়ে ভূমি অফিসের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

    অনলাইন ডেস্ক:    ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ এর উপসচিব নুসরাত জাহান নিসু সই করা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে।

    সব বিভাগীয় কমিশনার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিদুর্ঘটনা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ডরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের সব উপজেলা ভূমি অফিস, রাজস্ব সার্কেল ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ যাবতীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

    অফিসগুলোতে আকস্মিক অগ্নিদুর্ঘটনা ও যেকোনো ক্ষয়ক্ষতি বা বিপর্যয় এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।