Category: প্রচ্ছদ

  • প্রথম দেশ হিসেবে যে বিরল রেকর্ড গড়ল মালদ্বীপ

    প্রথম দেশ হিসেবে যে বিরল রেকর্ড গড়ল মালদ্বীপ

    অনলাইন ডেস্ক:      বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ঘোষণা করেছে, মালদ্বীপ হেপাটাইটিস বি’র পাশাপাশি এই দেশের পূর্বের এইচআইভি ও সিফিলিস নির্মূলের স্বীকৃতিকে বজায় রেখে বিশ্বে প্রথমবারের মতো ‘ত্রিমুখী নির্মূল’ অর্জন করেছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান ড. তেদরোস আধানোম গেব্রিয়াসুস বলেন, মালদ্বীপ প্রমাণ করেছে যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ থাকলে এই ভয়ঙ্কর রোগগুলোর মাতৃক-মাতৃক সংক্রমণ নির্মূল করা সম্ভব।তিনি আরও বলেন, এই ঐতিহাসিক অর্জন বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য আশা এবং অনুপ্রেরণার এক উৎস।

    মাতৃক-মাতৃক সংক্রমণ হাজার হাজার শিশুকে প্রভাবিত করে। কেবল WHO দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অস্থায়ী হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ২৩,০০০-এর বেশি গর্ভবতী মহিলার সিফিলিস হয়েছে এবং ৮,০০০-এর বেশি শিশু জন্মগত সিফিলিসে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে, ২৫,০০০ এইচআইভি-পজিটিভ গর্ভবতী মহিলাকে তাদের সন্তানদের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন ছিল। হেপাটাইটিস বি এখনও অঞ্চলের ৪২ মিলিয়নের বেশি মানুষকে প্রভাবিত করছে।

    WHO দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা ড. ক্যাথারিনা বোহমে বলেন, মালদ্বীপের এই অর্জন প্রমাণ করছে যে সমস্ত মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অঙ্গীকার এবং ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা’ কার্যকর করা সম্ভব। এটি মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে ‘সুস্থ শুরু, আশাপূর্ণ ভবিষ্যৎ’ প্রকল্পের একটি বড় পদক্ষেপ।

    মালদ্বীপ দীর্ঘ বছর ধরে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের জন্য একটি সমন্বিত এবং বিস্তৃত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরি করেছে। দেশটিতে ৯৫ শতাংশের বেশি গর্ভবতী মহিলা প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা পান, এবং এইচআইভি, সিফিলিস ও হেপাটাইটিস বি’র পরীক্ষা প্রায় সর্বত্রই নিশ্চিত। দেশটির টিকাদান ব্যবস্থা শক্তিশালীযেখানে ৯৫ শতাংশের বেশি নবজাতক সময়মতো হেপাটাইটিস বি জন্মকালের টিকা এবং সম্পূর্ণ টিকা পান, যা জীবনব্যাপী সংক্রমণ থেকে শিশুদের রক্ষা করে। 

    ফলস্বরূপ, ২০২২ ও ২০২৩ সালে কোনো শিশু এইচআইভি বা সিফিলিসে আক্রান্ত হয়নি। ২০২৩ সালের জাতীয় জরিপে প্রথম শ্রেণীর শিশুদের মধ্যে হেপাটাইটিস বি শূন্য পাওয়া গেছে, যা নির্মূলের লক্ষ্য অতিক্রম করেছে। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা, টিকা ও রোগনির্ণয় সুবিধা, শক্তিশালী নীতি এবং জিডিপি’র ১০ শতাংশেরও বেশি স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগের কারণে।

    মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রী আব্দুল্লাহ নাজিম ইব্রাহিম বলেন, এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতি আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং মাতৃ, শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত করার আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ত্রৈমুখী নির্মূল কেবল আমাদের স্বাস্থ্য খাতের একটি মাইলস্টোন নয়, এটি সরকারের জনগণের প্রতি একটি প্রতিশ্রুতি যে আমরা সকলের জন্য সমান, উচ্চমানের ও স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে অব্যাহতভাবে বিনিয়োগ করব

  • ‘জামায়াতের অন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যান থাকতে পারে’, কেন বললেন রিজভী

    ‘জামায়াতের অন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যান থাকতে পারে’, কেন বললেন রিজভী

    অনলাইন ডেস্ক:    গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় সংকট সৃষ্টি হলে ‘কালো ঘোড়ার অনুপ্রবেশ’ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    রিজভী বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক দেশ, যেগুলো অতি উন্নত গণতান্ত্রিক দেশ যেমন- ব্রিটেন, আমেরিকা যদি আমরা বলি বা আরও অন্যান্য দেশে প্রতিনিধি নির্বাচনের যে পদ্ধতিটা চালু আছে… সরাসরি প্রার্থীকে ভোট দেওয়া… তো আমাদের এখানে কী এমন ঘটনা ঘটল যে, পিআরই হচ্ছে উৎকৃষ্ট গণতন্ত্রের মডেল?

    ‘এটা আমার মনে হয় অবান্তর কথা তারা (জামায়াতে ইসলামী) বলছে। এটা বলে একটা বিভ্রান্তি তৈরি করছেন অথবা তাদের অন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যান আছে কিনা আমি জানি না…থাকলেও থাকতে পারে যে, নির্বাচন হওয়া না হওয়া নিয়ে’।

    তিনি বলেন, আমি মনে করি যে, যারা গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন তারা প্রত্যেকেই এমন একটি জায়গায় উপনীত হবেন, যাতে আমাদের পরবর্তী গণতন্ত্রের অভিযাত্রার পথে আমাদের যেন বিঘ্ন না ঘটে। তা না হলে কালো ঘোড়া প্রবেশ করতে পারে, কালো ঘোড়া ঢুকে যেতে পারে।

    রিজভী বলেন, উন্নত বিশ্বের দেশ দীর্ঘ দিনের গণতন্ত্র চর্চার দেশেও এখন কথা উঠেছে, এই পদ্ধতিতে (পিআর) জনমতের ট্রু রিফ্লেকশনটা হয় না। এ নিয়ে সেসব দেশে আলাপ-আলোচনা, বির্তক চলছে। আপনি জানেন যে, জাপান গণতন্ত্রের দিক থেকে অতি উন্নত একটি দেশ এবং সেখানেও ৩৭% পিআর পদ্ধতি চালু আছে। সেখানে সারা বিশ্বেই পিআর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা চলছে, কোথাও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হয়নি সেখানে হঠাৎ করে আমাদের এখানে কেন চালু করতে চাইবেন?

    তিনি বলেন, আমরা মনে করি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আপনি হঠাৎ করে পিআরের কথা বললে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করবে। আমি এ পর্যন্ত যত জরিপ দেখেছি, বিশেষ করে গণমাধ্যমে সেখানে অধিকাংশ মানুষ আনুপাতিক হারে ভোট পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নাই এবং অনেকেই কনফিউজড।

    গণভোট ও নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, জুলাই সনদে গণভোটের যে ব্যাপারটা রয়েছে… দুই-একটি দল চাচ্ছেন তারা এটি আগে করার জন্য। এখন আগে আপনি কখন করবেন? যদি জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে হয়… কারণ ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে রোজা শুরু হবে। তাহলে নিশ্চয়ই রোজার আগে নির্বাচন করতে হবে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন এবং গণভোট একসঙ্গে করা ছাড়া তো আর অন্য কোনো গত্যন্তর নেই।

    তিনি বলেন, এখন অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়…নির্বাচন ও গণভোটের তো একটা প্রস্তুতি আছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হয়, বহুবিধ কাজ থাকে, বহু কার্যক্রম থাকে। ফলে গণভোট আগে করে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করবেন কী করে? এতে সংকট তৈরি করবে বরং একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াটাই বাঞ্ছনীয় বলে মনে সবাই করছেন, এটাই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

    রিজভী বলেন, জাতীয় নির্বাচন দ্রুত হওয়া জরুরি। প্রত্যেকেই মনে করছেন যে, দেশে রাজনৈতিক সমস্যা, অর্থনৈতিক সমস্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনারা অর্থনৈতিক অবস্থা দেখছেন যে, বিনিয়োগ একেবারে শূন্যের কোঠায়। কারণ নির্বাচিত সরকার নেই। নির্বাচিত সরকার থাকলে পরে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীরা তারা আস্থাশীল হয়, তারা বিনিয়োগ করতে আস্থাবান হয় এবং তারা বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগের সঙ্গে কর্মসংস্থানের যেমন একটা বিষয় আছে এবং অর্থনীতিকে সামগ্রিকভাবে চাঙ্গা করার একটা বিষয় আছে। সেই ক্ষেত্রে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত না হলে পরে সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

  • সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি বৈঠক

    সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি বৈঠক

    অনলাইন ডেস্ক:     জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে আজ বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।এই অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আজ সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিতব্য ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত থাকবেন।

    যুমনায় বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়াও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।আগামী ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে।

  • আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজ থেকে নতুন দাম কার্যকর

    আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজ থেকে নতুন দাম কার্যকর

    অনলাইন ডেস্ক: দেশের বাজারে এক দিনের ব্যবধানে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতে নতুন দামের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বুধবার (১৫ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হবে নতুন এই দাম।

    বাজুস জানায়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়েছে ২ হাজার ৬১৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের ভরিতে দাম বেড়েছে ২ হাজার ৪৯৬ টাকা, নতুন দর ২ লাখ ৬ হাজার ৪৯৯ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ভরিতে দাম বেড়েছে ২ হাজার ১৪৬ টাকা, যা এখন ১ লাখ ৭৭ হাজার ১ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরিতে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৫১ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্বর্ণ বিক্রির সময় সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পার্থক্য থাকতে পারে।

    এর আগে সোমবার (১৩ অক্টোবর) বাজুস সোনার দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ৬১৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা। অর্থাৎ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে সোনার দাম।

    বছরের হিসেবে দেখা যায়, চলতি ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৬৫ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৪৭ বার দাম বেড়েছে এবং ১৮ বার কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম পরিবর্তন হয়েছিল, যেখানে ৩৫ বার বাড়ানো ও ২৭ বার কমানো হয়েছিল।

    অন্যদিকে রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ২০৫ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯১৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫ হাজার ৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০২ টাকায়।

  • ফ্রিল্যান্সিং কী, ঘরে বসে কীভাবে আয় করা যায়?

    ফ্রিল্যান্সিং কী, ঘরে বসে কীভাবে আয় করা যায়?

    অনলাইন ডেস্ক:   বর্তমান সময়টা ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর। এখন আর ঘরেই বসে সীমাবদ্ধ থাকা মানে নয় কর্মহীন থাকা। ইন্টারনেট ও একটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থাকলেই ঘরে বসে আয় করা সম্ভব—ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে।

    ফ্রিল্যান্সিং কী

    ‘Freelancing’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘মুক্তপেশা’। অর্থাৎ, কোনো প্রতিষ্ঠান বা অফিসে চাকরি না করেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে পারিশ্রমিক অর্জন করাই হলো ফ্রিল্যান্সিং। এটি একধরনের স্বাধীন পেশা যেখানে আপনি নিজের সময় ও জায়গা বেছে নিয়ে কাজ করতে পারেন। একাধিক ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করা যায় এবং আয়ের উৎসও বহুমুখী হয়।

    ফ্রিল্যান্সিংয়ের সূচনা ও জনপ্রিয়তা

    নব্বইয়ের দশকে ইন্টারনেটের প্রসারের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিংয়ের যাত্রা শুরু হয়। এখন এটি বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের বড় একটি অংশে পরিণত হয়েছে।

    ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সারদের মোট আয় ছিল প্রায় ৪.৯২ বিলিয়ন ডলার—যা ২০৩০ সালের মধ্যে ১৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। বর্তমানে দেশে রয়েছে সাড়ে ৬ লাখের বেশি সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার। বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম, যা দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য গর্বের বিষয়।

    ঘরে বসে আয় কীভাবে

    একসময় ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য বড় অফিস বা ল্যাপটপের প্রয়োজন হতো। কিন্তু এখন স্মার্টফোনই হতে পারে আপনার প্রথম কর্মক্ষেত্র। বাজারে এমন অনেক স্মার্টফোন পাওয়া যায়, যেগুলোর সাহায্যে আপনি ঘরে বসেই নানা ধরনের ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে পারেন।

    সঠিক স্মার্টফোন বাছাই করুন: বড় স্ক্রিন, ভালো প্রসেসর ও পর্যাপ্ত স্টোরেজযুক্ত ফোন হলে কাজ সহজ হয়। সঙ্গে রাখুন একটি ব্লুটুথ কিবোর্ড ও ফোন স্ট্যান্ড—এগুলো প্রোডাক্টিভিটি বাড়াবে।

    মোবাইলে যেসব ফ্রিল্যান্সিং কাজ করা যায়

    • কনটেন্ট রাইটিং: গুগল ডকস, ডব্লিউপিএস অফিস বা মাইক্রোসফট ওয়ার্ড অ্যাপ ব্যবহার করে লেখালেখির কাজ অনায়াসে করা যায়।
    • গ্রাফিক্স ডিজাইন: ক্যানভা, পিক্সল্যাব, পিক্সআর্ট বা ফটোশপ মোবাইল অ্যাপ দিয়ে লোগো ও ব্যানার তৈরি করা সম্ভব।
    • সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট: বিভিন্ন কোম্পানির ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টুইটার পেজ পরিচালনা করে আয় করা যায়।
    • ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট: ইমেইল ম্যানেজমেন্ট, সময়সূচি তৈরি বা অনলাইন গবেষণার মতো কাজ করে ভালো ইনকাম সম্ভব।
    • ওয়েব ডিজাইন (বেসিক): HTML, CSS শেখার জন্য FreeCodeCamp বা Programming Hero অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

    ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়ার ধাপ

    • নিজের আগ্রহ নির্ধারণ করুন: কোন বিষয়ে কাজ করতে চান সেটি ঠিক করুন।
    • দক্ষতা অর্জন করুন: অনলাইন টিউটোরিয়াল, ইউটিউব বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্কিল ডেভেলপ করুন।
    • পোর্টফোলিও তৈরি করুন: শেখার সময় নিজের কাজগুলো সংরক্ষণ করে অনলাইন প্রোফাইল বানান।
    • মার্কেটপ্লেসে কাজ খুঁজুন: Fiverr, Upwork, Freelancer বা LinkedIn প্রোফাইল তৈরি করে আবেদন শুরু করুন।
    • কাজের মূল্য নির্ধারণ করুন: শুরুতে বাজার অনুযায়ী রেট দিন, ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতার সঙ্গে তা বাড়ান।

    ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা

    • যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করার স্বাধীনতা
    • নিজের সময় অনুযায়ী কাজ করা যায়
    • একাধিক ক্লায়েন্টের মাধ্যমে বহুমুখী আয়
    • কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব
    • নিজস্ব ব্র্যান্ড ও প্রফেশনাল পরিচিতি তৈরি করার সুযোগ

    চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

    ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ধৈর্য, সময় ব্যবস্থাপনা ও ধারাবাহিকতা। অনেকেই শেখার শুরুতে ব্যর্থ হলে হাল ছেড়ে দেন, কিন্তু সফল ফ্রিল্যান্সাররা নিরবচ্ছিন্ন চর্চার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়ে তোলেন।

    শেষ কথা

    ডিজিটাল যুগে দক্ষতা থাকলেই আয়ের পথ খোলা। হাতে থাকা স্মার্টফোনটাই হতে পারে আপনার প্রথম অফিস, আর ইন্টারনেট হতে পারে বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের দরজা। তাই অপেক্ষা না করে এখনই শুরু করুন—শিখুন, কাজ নিন, আর ঘরে বসেই গড়ে তুলুন নিজের সফল ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার।

  • দেনমোহর পরিশোধ না করলে স্ত্রীর সঙ্গে থাকা জায়েজ?

    দেনমোহর পরিশোধ না করলে স্ত্রীর সঙ্গে থাকা জায়েজ?

    অনলাইন ডেস্ক:      শরীয়তসম্মত পন্থায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর স্বামীর জিম্মায় একটি যৌক্তিক বিনিময় নির্ধারিত হয়, যাকে ফিকহের পরিভাষায় মোহর বলে।মোহর আদায় করা স্বামীর অবশ্যপালনীয় কর্তব্য। বিয়েতে নারীর জন্য মোহরের অধিকার নির্ধারণ এবং তাতে নারীর পূর্ণ মালিকানা প্রদান ইসলামের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।এটা ঠিক যে, একজন নারী মোহর বাবদ যে সম্পদ লাভ করেন তা দাম্পত্য জীবনে তার নিঃস্বার্থ সেবার প্রকৃত বিনিময় হতে পারে না। তবে তা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে হৃদ্যতা ও ভালবাসা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।মোহরের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। এটা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে পুরুষের ইচ্ছা ও সঙ্গতির উপর। তাই সামর্থ্যবান পুরুষ যদি নিজের স্ত্রীকে কয়েক লক্ষ টাকাও মোহর হিসেবে প্রদান করেন তাতে কোনো বাধা নেই।

    কুরআন মজীদ থেকে মোহর বাবদ ‘প্রভূত সম্পদ’ দেওয়ার বৈধতা পাওয়া যায়। (সুরা নিসা : ২০)বিয়ের আকদ ও মোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্ত্রীর সম্মতি অপরিহার্য। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অনেক মুসলমান এই ফরজ আদায়ের বিষয়ে চরম উদাসীন।বিয়ের সময় বৈধ-অবৈধ উৎসব-আয়োজন ও অপ্রয়োজনীয় ধুমধাম করে লাখ লাখ টাকা অপচয় করলেও মোহর আদায়ে চরম অবহেলা করা হয়!

    মোহর কখন আদায় করবে

    বিয়ের সঙ্গে সঙ্গেই মোহর আদায় করে দেওয়া উচিত। তবে যদি অনিবার্য কারণে ওই সময় তা আদায় করা সম্ভব না হয় তাহলে কখন আদায় করা হবে তার মেয়াদ নির্ধারিত করে নিতে হবে।কিন্তু এভাবে পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ না করে শুধু মৌখিকভাবে বা কাগজে-কলমে মোহর নির্ধারণ করে সারা জীবন আদায় না করা, বা স্ত্রীর কাছ থেকে মাফ করিয়ে নেওয়া, কিংবা আদায় না করে স্ত্রীর দেনা কাঁধে নিয়ে মৃত্যুবরণ করা শুধু যে ইসলামের বিধানে কঠিন অন্যায় তা-ই নয়; নিতান্ত হীন ও কাপুরুষোচিত কাজও বটে।

    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যথাসম্ভব আকদের সময়ই মোহর পরিশোধ করার, অন্তত কিছু অংশ আদায় করার তাকিদ করেছেন। এক সাহাবি বিয়ের আগ্রহ প্রকাশ করলে নবীজী তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘মোহর আদায় করার জন্য তোমার কাছে কী আছে?’ তিনি কিছুই নেই জানালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যাও একটি লোহার আংটি হলেও জোগাড় কর!’ (বুখারি )এ থেকে মোহরের গুরুত্ব ও নগদ আদায়ের তাগিদ স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

    দেনমোহর পরিশোধ না করলে স্ত্রীর সঙ্গে থাকা জায়েজ

    মোহর নগদ আদায় না করলেও বিবাহ শুদ্ধ হবে ঠিক, তবে পরে আদায়ের মেয়াদ নির্ধারিত করে নিতে হবে। কিন্তু কেউ যদি তাও না করে তাহলে শরীয়ত স্ত্রীকে এ অধিকার দিয়েছে যে, মোহর উসূল না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী নিজেকে স্বামীর হাতে অর্পণ করা থেকে বিরত থাকতে পারবে এবং ওই অবস্থাতেও স্বামীকে স্ত্রীর ব্যয়ভার নিয়মিত বহন করতে হবে।

    কারণ স্ত্রীর ভরণ-পোষণ এবং মোহর সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। স্ত্রী অবাধ্য হলেই কেবল স্বামী তার ভরণ-পোষণ বন্ধ করতে পারে। যে মোহরের মেয়াদ নির্ধারিত হয়নি তা তলব করা তো স্ত্রীর বৈধ অধিকার। একে অবাধ্যতা বিবেচনা করে স্ত্রীর নিয়মিত ব্যয়ভার বন্ধ করার অধিকার স্বামীর নেই।

    ফুকাহায়ে কেরাম স্পষ্ট ভাষায় এ মাসআলা বলেছেন যে, স্বামী মোহর আদায় করে স্ত্রীকে নিজের বাড়ি নিয়ে যেতে পারবে। যদি (মোহর আদায় না করে নিয়ে যেতে চায়, আর) স্ত্রী মোহর দাবি করে নিজ ঘরে অনড় থাকে, তাহলেও স্ত্রী (মোহর তো পাবেই, উপরন্তু) নিয়মিত ভরণ-পোষণ পাওয়ার হকদার থাকবে। কারণ সে তার ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের স্বার্থেই বাড়ি যাচ্ছে না। (নাফাকাত অধ্যায়)

    মোহর উসুল না হওয়া পর্যন্ত স্বামীকে যৌনসম্পর্ক স্থাপন, এমনকি চুম্বন-আলিঙ্গন ইত্যাদি থেকে বাধা দেওয়া এবং স্বামীর সঙ্গে সফরে যেতে অস্বীকার করার অধিকারও স্ত্রীর রয়েছে। (দুররে মুখতার)উপরের বিবরণ থেকে স্পষ্ট হল যে, মোহর একজন স্ত্রীর শরীয়ত কর্তৃক প্রদত্ত অধিকার। কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট ভাষায় তা আদায়ের তাকিদ এসেছে।

    এসব তাকিদ উপেক্ষা করে কেউ যদি মোহর আদায়ে টালবাহানা করে কিংবা একেবারে আদায় না করারই নিয়ত করে তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে সে ব্যাভিচারী হিসেবে গণ্য।

    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মোহর আদায় না করার নিয়তে কেউ যদি কোনো নারীকে বিয়ে করে। আর আল্লাহ তাআলা ভালো করেই জানেন যে, তার মোহর আদায়ের নিয়ত নেই তাহলে সে আল্লাহ তাআলাকে ধোঁকা দেওয়ার স্পর্ধা দেখাল এবং অন্যায়ভাবে নারীর লজ্জাস্থান ভোগ করল। কেয়ামতের দিন সে ব্যভিচারীরূপে উপস্থিত হবে। (আহমদ)

    আল্লাহ তাআলার নিকট অত্যন্ত ভয়ানক একটি পাপ এই যে, কোনো নারীকে বিয়ে করে নিজের চাহিদা পূরণের পর তাকে তালাক দিয়ে দেওয়া এবং মোহর আদায় না করা।

    হাদিসে আরো বলা হয়েছে, তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন অবশ্যই হকদারের হক পরিশোধ করতে হবে। এমনকি (শিংধারী কোনো ছাগল শিংবিহীন ছাগলকে অন্যায়ভাবে গুঁতা মেরে থাকলে) শিংবিহীন ছাগলের সামনে শিংধারীকে উপস্থিত করে বদলা নিতে দেওয়া হবে।