Category: প্রচ্ছদ

  • সালমান শাহ হত্যা মামলার রায় ২০ অক্টোবর

    সালমান শাহ হত্যা মামলার রায় ২০ অক্টোবর

    বিনোদন ডেস্ক:  দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলা নিষ্পত্তির আদেশের বিরুদ্ধে করা রিভিশন মামলার শুনানি শেষে ২০ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেছেন আদালত।সোমবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। রিভিশনকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ওবায়দুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ। এ ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরের বছর ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যার অভিযোগে আবার মামলা করেন তিনি। তখন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত অপমৃত্যু ও হত্যার মামলার একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি।

    ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। তবে প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত।

    দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ বলা হয়। কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর ছেলে হত্যা মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন মা নীলা চৌধুরী।

    ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি সিএমএম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন। সর্বশেষ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। এরপর ২০২২ সালের ১২ জুন এই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা করে বাদীপক্ষ।

    রিভিশন মামলায় বলা হয়, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বারবার তদন্তে তার মৃত্যুকে অপমৃত্যু মামলা হিসেবে বলা হচ্ছে।

  • কিছু উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের কণ্ঠ রেকর্ড আছে: তাহের

    কিছু উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের কণ্ঠ রেকর্ড আছে: তাহের

    অনলাইন ডেস্ক:   অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনে একটি বিশেষ দলের অনুগতদের বসিয়ে ‘নীলনকশার নির্বাচন’ করার ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। জামায়াতের নায়েবে আমির দাবি করেছেন, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওই সব উপদেষ্টার নাম, এমনকি ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের কণ্ঠ রেকর্ডও তাদের কাছে রয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে এই ষড়যন্ত্র বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন।

    জামায়াত নেতা অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘প্রশাসনের যে অবস্থা এবং যে ষড়যন্ত্র চলছে, এটাকে বন্ধ করুন। নিরপেক্ষ সৎ লোকদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করুন।’

    সৈয়দ তাহের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি সময়মতো সাবধান না হন, তাহলে কোন কোন উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, আমরা জনগণের কাছে তাদের নাম প্রকাশ করব। তাদের কণ্ঠ রেকর্ড আছে। মিটিংয়ে তারা কী বক্তব্য দেন, এর খবর আছে। আমরা আপনাদের সংশোধনের জন্য সময় দিতে চাই।’

    সম্প্রতি জনপ্রশাসনে একজন সচিব নিয়োগের বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন, ‘সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে আমরা এখানে কোনো দলীয় লোক দেব না, অসৎ লোক দেব না। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছি, আমাদের সঙ্গে কথা বলার এক দিন পরেই এমন এক ব্যক্তিকে সেখানে নিয়োগ করা হয়েছে, যার অতীতের দুর্নীতির ইতিহাস অনেক লম্বা। সে একটি দলের প্রতি পরিপূর্ণভাবে অনুগত।’

    এই জামায়াত নেতা যোগ করেন, ‘আমি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম, সেখানে একই রকমের কথা—প্রচণ্ড চাপ কোনো একটি দলের লোকদেরকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। আমরা বলতে চাই, কোনো একটি দলের লোককে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিভিল এবং পুলিশ প্রশাসনে বসিয়ে যে নীল নকশার নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র চলছে, এতে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখি না। এরকম একটি নির্বাচনে—২০২৪-এর মতো, ২০১৮-এর মতো পাতানো নির্বাচনে—জনগণ অংশগ্রহণ করবে না।’

    জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এই মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম, এহসানুল মাহবুব জোবাবয়ের, আবদুল হালিম প্রমুখ।

  • গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও ফল রপ্তানিতে সহায়তার আশ্বাস এফএওর

    গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও ফল রপ্তানিতে সহায়তার আশ্বাস এফএওর

    অনলাইন ডেস্ক:    জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক ড. কু দোংইউ বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ শিল্পের উন্নয়ন ও কৃষিজাত পণ্য—বিশেষ করে ফল রপ্তানি বাড়াতে অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

    রোমে এফএও সদর দপ্তরে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম এবং সংস্থাটির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (রোম সময়) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।বৈঠকের শুরুতে ড. কু অধ্যাপক ইউনূসকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং বাংলাদেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে তার ব্যাপক অবদানের প্রশংসা করেন।

    বাংলাদেশকে ‘উচ্চ সাফল্য অর্জনকারী দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এফএও মহাপরিচালক বলেন, সংস্থাটি প্রযুক্তিগত সহায়তা, উদ্ভাবন এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ ও ত্রিমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের সহায়তা অব্যাহত রাখব।’

    প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস এফএও’র দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনটি নতুন ক্ষেত্রে সহায়তা চান—গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফল রপ্তানি সম্প্রসারণে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ উন্নয়ন এবং ফসল সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, যার মধ্যে সাশ্রয়ী ও বহনযোগ্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন অন্তর্ভুক্ত।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের পুরো সমুদ্র রয়েছে, কিন্তু আমরা মাছ ধরি অগভীর জলে। আমরা কখনোই সামুদ্রিক সম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি। বিদেশি ট্রলারগুলো আমাদের জলসীমায় মাছ ধরে, অথচ আমরা পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নই।’এর জবাবে ড. কু পরামর্শ দেন, বাংলাদেশ যেন চীনের বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানিয়ে গভীর সমুদ্রের মাছের মজুদ নিরূপণ ও টেকসই আহরণ কৌশল প্রণয়নে সহায়তা নেয়।

    বাংলাদেশের ফল রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, চীন ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল ও পেয়ারা আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি ছোট কৃষকদের ফসল সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমাতে মোবাইল কোল্ড স্টোরেজ নকশার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।ড. কু বলেন, উচ্চমূল্যের নগদ ফল উৎপাদন কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ১৯৮০-এর দশকে জাপানে ফল রপ্তানির মাধ্যমে চীন কৃষি উন্নয়নে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছিল।

    আগামী দিনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির ২০ বছর পূর্ণ হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা তা উদযাপন করব,’—বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে এ কথা বলেন তিনি।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

  • ধর্ষণকাণ্ড  মুজিবের পা ধরে রক্ষা পেয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেল

    ধর্ষণকাণ্ড মুজিবের পা ধরে রক্ষা পেয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেল

    অনলাইন ডেস্ক:   বিখ্যাত নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘দেয়াল’ উপন্যাসের অংশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দালিলিক প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

    সেখানে বলা হয়েছে, ‘এক নবদম্পতি গাড়িতে করে যাচ্ছিল। টঙ্গীর তৎকালীন (দেশ স্বাধীনের পরই) আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল দলবলসহ গাড়িটি আটক করে। ড্রাইভার আর নববধূর স্বামীকে হত্যা করে, মেয়েটিকে সবাই মিলে ধর্ষণ করে। অতঃপর তিন দিন পর তার লাশ পাওয়া যায় টঙ্গি ব্রিজের নিচে। পৈশাচিক এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র। বিশেষ অভিযানে দায়িত্বরত মেজর নাসেরের হাতে মোজাম্মেল ধরা পড়ে। মোজাম্মেল মেজরকে বলে- ঝামেলা না করে আমাকে ছেড়ে দিন, আপনাকে তিন লাখ টাকা দেব। বিষয়টা সরকারি পর্যায়ে নেবেন না। স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমি ছাড়া পাব। আপনি পড়বেন বিপদে। আমি তুচ্ছ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকে জড়াতে চাই না।’

    মেজর নাসের বললেন, ‘এটা তুচ্ছ বিষয়? মোজাম্মেল জবাব দিল না, উদাস চোখে তাকাল। মেজর নাসের বললেন, আমি অবশ্যই তোমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবার ব্যবস্থা করব। তোমার তিন লাখ টাকা তুমি তোমার গুহ্যদ্বারে ঢুকিয়ে রাখো! মোজাম্মেল বলল, দেখা যাক। মোজাম্মেলের বাবা, দুই ভাই গেল বঙ্গবন্ধুর কাছে। ঘরে ঢোকা মাত্র মোজাম্মেলের বাবা ও দুই ভাই কেঁদে বঙ্গবন্ধুর পায়ে পড়ল। টঙ্গী আওয়ামী লীগের সভাপতিও পায়ে ধরার চেষ্টা করলেন কিন্তু পা খুঁজে পেলেন না। পা মোজাম্মেলের আত্মীয়স্বজনের দখলে! বঙ্গবন্ধু বললেন, ঘটনা কী বল? টঙ্গী আওয়ামী লীগের সভাপতি বললেন, আমাদের মোজাম্মেলকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। মেজর নাসের তাকে ধরেছে। নাসের বলেছে, তিন লাখ টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দিবে। মিথ্যা মামলাটা কি? মোজাম্মেলের বাবা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, খুনের মামলা লাগায়া দিছে।

    টঙ্গী আ.লীগের সভাপতি বললেন, এই মেজর আ.লীগের নাম শুনলেই তারাবাতির মতো জ্বলে ওঠে। সে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে, টঙ্গীতে আমি কোনো আ.লীগের শূয়োর রাখব না। বঙ্গবন্ধু, আমি নিজেও এখন ভয়ে অস্থির! টঙ্গীতে থাকি না। ঢাকায় চলে আসছি। বঙ্গবন্ধু বললেন, কান্দিস না। কান্দার মতো কিছু ঘটে নাই। আমি এখনো বাইচ্যা আছি তো, মইরা যাই নাই। এখনি ব্যবস্থা নিতাছি। তিনি মোজাম্মেলকে তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং মেজর নাসেরকে টঙ্গী থেকে সরিয়ে দেবার জরুরি আদেশ দেয়া হলো। মোজাম্মেল ছাড়া পেয়ে মেজর নাসেরকে তার বাসায় পাকা কাঁঠাল খাওয়ার নিমন্ত্রণ করেছিল।

  • ইসির কাছে ‘শাপলা’ প্রতীক চেয়ে বসেছে আরও এক দল

    ইসির কাছে ‘শাপলা’ প্রতীক চেয়ে বসেছে আরও এক দল

    অনলাইন ডেস্ক:   ‘শাপলা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে চিঠি চালাচালি চলছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। দলটি প্রতীক হিসেবে শাপলা পেতে অনড়, আর ইসি নানান যুক্তি দাঁড় করিয়ে শাপলা প্রতীক দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এসবের মধ্যে আরও একটি রাজনৈতিক দিল ইসির কাছে শাপলা প্রতীক দাবি করে বসেছে।

    বাংলাদেশ কংগ্রেস দল জানায়, ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ কংগ্রেস তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে শাপলা ব্যবহার করে আসছে। দলের প্রথম প্রচারপত্র থেকে শুরু করে ব্যানার, পোস্টার, লোগো—সর্বত্রই শাপলার উপস্থিতি রয়েছে। পরে ২০১৭ সালে নিবন্ধনের সময় ইসি জানায়, শাপলা যেহেতু জাতীয় প্রতীক, তাই এটি দলীয় প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

    কমিশনের সেই নির্দেশনা মেনে কংগ্রেস ‘বই’ প্রতীক প্রস্তাব করে আবেদন জমা দেয়। তবে আবেদনপত্র ও দলীয় লোগোতে তখনও শাপলা ছিল, যা কংগ্রেসের আদর্শ ও ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তারপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় দলটির নিবন্ধন দেওয়া হলে তারা বই প্রতীক দাবি করলেও গেজেটভুক্ত না থাকায় শেষে তাদের ডাব প্রতীক নিতে হয়।

  • ভোটারদের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে কোন দল, ওঠে এলো জরিপে

    ভোটারদের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে কোন দল, ওঠে এলো জরিপে

    অনলাইন ডেস্ক:    ভোটারদের পছন্দের তালিকায় দেশের ছয়টি বিভাগে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রংপুর বিভাগে এগিয়ে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী এবং বরিশাল বিভাগে এগিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ। বেসরকারি সংস্থা ইনোভিশন কনসালটিং পরিচালিত ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে, দ্বিতীয় পর্ব– তৃতীয় খণ্ড’ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত ‘ভোটারদের সিদ্ধান্তে সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ভিন্নতার প্রভাব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় জরিপের ফল প্রকাশ করে ইনোভিশন।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন- ড. আসিফ শাহান, জামায়াতের ড. নকিবুর রহমান, এনসিপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ, পলিসি এনালিস্ট ড. অনন্য রায়হান, বাংলা আউটলুকের মোকতাদির রশিদ এবং গবেষণা সংস্থা ব্রেইনের ড. শফিকুর রহমান। জরিপের প্রেজেন্টেশন দেন ইনোভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াত সারওয়ার।

    জরিপে দেখা যায়, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে বিএনপি এগিয়ে। ময়মনসিংহ বিভাগে বিএনপি ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ, জামায়াত ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আওয়ামী লীগ শতাংশ ১৭ দশমিক ৩ ও এনসিপি ৪ দশমিক  ৭ শতাংশ। সিলেটে বিএনপি ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ, জামায়াত ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ, আওয়ামী লীগ ১৪ শতাংশ। রাজশাহীতে বিএনপি ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ, জামায়াত ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ, আওয়ামী লীগ ৯ দশমিক ২ শতাংশ। খুলনায় বিএনপি ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ, জামায়াত ৩০ দশমিক ১ শতাংশ, আওয়ামী লীগ ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ঢাকায় বিএনপি ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ, আওয়ামী লীগ ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং জামায়াত ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। চট্টগ্রামে বিএনপি ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ, জামায়াত ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ ও আওয়ামী লীগ ১৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার সমর্থন পেয়েছে।

    অন্যদিকে রংপুর বিভাগে জামায়াত এগিয়ে ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে; যেখানে বিএনপি ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ, আওয়ামী লীগ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। বরিশালে আওয়ামী লীগ এগিয়ে ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার সমর্থন নিয়ে, বিএনপি ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ ও জামায়াত ২৯ দশমিক ১ শতাংশ।

    সার্বিকভাবে ভোটারদের পছন্দের তালিকায় বিএনপি প্রথম, জামায়াত দ্বিতীয়, আওয়ামী লীগ তৃতীয় এবং এনসিপি চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।

    ইনোভিশনের তথ্যমতে, জরিপটি পরিচালিত হয় দেশের ৬৪ জেলার মোট ১০ হাজার ৪১৩ নাগরিকের মধ্যে। এলাকা অনুযায়ী ৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী গ্রামীণ এবং ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ শহুরে। পুরুষ ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ, নারী ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং তৃতীয় লিঙ্গের অংশগ্রহণ শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

    বয়সভিত্তিকভাবে জেন জি (১৮–২৮ বছর) ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ, মিলেনিয়াল (২৯–৪৪ বছর) ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ, জেন এক্স (৪৫–৬০ বছর) ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটার ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

    বিভাগভিত্তিক নমুনায় ঢাকা বিভাগে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ, চট্টগ্রামে ২০ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৫ শতাংশ, খুলনায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ, রংপুরে ১১ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, বরিশালে ৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং সিলেটে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ অংশগ্রহণ রয়েছে।

    ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভের’ দ্বিতীয় পর্বের তথ্য সংগ্রহ করা হয় ২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর। এতে দুটি খণ্ড রয়েছে। প্রথম খণ্ডে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি- নির্বাচনের সময়কাল, পরিবেশ ও অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যসম্পাদন সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। দ্বিতীয় খণ্ডে আলোচিত হয়েছে ভোটারদের দলীয় পছন্দ, অনুমোদন, ভোটের সিদ্ধান্ত, ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতি প্রত্যাশা।

    ইনোভিশন কনসালটিংয়ের এ জরিপ পরিচালনায় সহযোগিতা করে ব্রেইন ও ভয়েস ফর রিফর্ম।