Category: প্রচ্ছদ

  • সর্দিতে বন্ধ নাক, ঘরোয়া উপায়ে যেভাবে খুলবেন

    সর্দিতে বন্ধ নাক, ঘরোয়া উপায়ে যেভাবে খুলবেন

    অনলাইন ডেস্ক:    ঋতু পরিবর্তনের সময় ঠান্ডা-সর্দি লাগা স্বাভাবিক ঘটনা। আবার ধুলাবালিতে যাদের অ্যালার্জি, তাদের হুটহাট সর্দি লেগেই থাকে। তাই বলা যায় ঋতু পরিবর্তনে এটি নিত্য ঘটনা। সুতরাং ঠান্ডা-সর্দি বা অ্যালার্জির কারণে যাদের নাক বন্ধ হয়ে আসে, তাদের অনেকেই নেজাল ড্রপ ব্যবহার করে থাকেন। এতে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান হলেও দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে শরীরে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই হঠাৎ নাক বন্ধ হয়ে গেলে ঘরোয়া সমাধান অনুসরণ করলে মুসকিল আসান হয়।

    এ ছাড়া ঘণ্টা দুই পরপর আদা চা পান করুন। কারণ আদায় থাকা অ্যান্টি-ভাইরাল বৈশিষ্ট্য প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। উষ্ণ আদা চা পানে গলার খুশখুশে ভাব কমে যায়। সেই সঙ্গে নাকের ফোলাভাব কমিয়ে দেয়। আর নিয়মিত আদা চা পানে ঠান্ডা ও বন্ধ নাক দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে।

    আবার ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার খেলেও আরোগ্য লাভ করে। এই যেমন— কমলালেবু, কিউই, স্ট্রবেরিসহ আরও অনেক খাবার বন্ধ নাক সৃষ্টিকারী সংক্রমণগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। আপনি নিয়মিত এ ধরনের খাবার গ্রহণ করলে ঠান্ডা ও নাকের বন্ধভাব কমে আসবে।

    যদি এতেও সমস্যার সমাধান পাওয়া না যায়, তবে গরম পানির সঙ্গে মধু ও লেবু মিশ্রণ করে পান করুন। এটি একটি সতেজ পানীয়, যা শরীরকে আর্দ্র রাখে । এটি গলার জ্বালা বন্ধ করে এবং শ্লেষ্মা তরল করতে সাহায্য করে। মধুতে থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য, লেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিত হয়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে নাক বন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

    এ ছাড়া গরম দুধে হলুদ খেতে পারেন। কারণ হলুদে থাকা কারকুমিন একটি শক্তিশালী জ্বালারোধী উপাদান। গরম দুধে হলুদ মিশিয়ে পান করলে শরীরের প্রদাহ কমে। এতে সংক্রমণ প্রতিরোধ হয়। এই মিশ্রণ নাকের বন্ধভাব দূর করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

  • ট্রাম্পের জন্মদিনে হোয়াইট হাউসে হবে ইউএফসি লড়াই

    ট্রাম্পের জন্মদিনে হোয়াইট হাউসে হবে ইউএফসি লড়াই

     আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সফল মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) সংগঠন আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি)। ২০২৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হবে ইউএফসি লড়াই। হোয়াইট হাউসে এমন লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম হতে যাচ্ছে।

    রোববার ভার্জিনিয়ার নরফোক নৌঘাটিতে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প এ তথ্য জানিয়েছে। নৌবাহিনির সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আগামী ১৪ জুন আমরা হোয়াইট হাউসের মাঠে একটি বড় ইউএফসি লড়াই আয়োজন করব।

    এর আগে আগস্টে ইউএফসি প্রধান ডানা হোয়াইট জানিয়েছিলেন, আগামী বছর ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে হোয়াইট হাউসে এ লড়াইয়ের আয়োজন করা হবে। তবে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী বছর ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিনে এ লড়াই অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছরের শুরু থেকেই ‘হোয়াইট হাউস কার্ড’ তৈরি শুরু করব। এটি ইউএফসি এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ফাইট কার্ড হবে।

    জনপ্রিয় মিক্সড মার্শাল আর্টস ইউএফসি লড়াই হয় আট কোণা রিং ‘অক্টাগন’-এ। এ খেলাটির সহিংস প্রকৃতি ও আঘাতের ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এটি তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।

  • শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা : চলছে শেষ সাক্ষীর জেরা

    শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা : চলছে শেষ সাক্ষীর জেরা

    অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সর্বশেষ সাক্ষীর জেরা চলছে।

    এই মামলার শেষ (৫৪ তম) সাক্ষী হিসেবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: আলমগীরের সাক্ষ্য গ্রহণ গত মঙ্গলবার শেষ হয়। আজ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনাল-১ এ তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা শুরু করেছেন পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের আইনজীবী আমীর হোসেন।

    ঐতিহাসিক এই মামলায় এর আগে সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজন হারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।

    এই মামলায় প্রসিকিউসন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম শুনানি করছেন। সেই সাথে অপর প্রসিকিউটররা শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। আর এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আছেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

    মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

    একপর্যায়ে এই মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে (অ্যাপ্রোভার) রাজসাক্ষী হতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তীকালে এই মামলার রাজসাক্ষী হয়ে সাক্ষ্য দেন পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

    এই মামলা ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাটি হয়েছে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।

    গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, এর দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার কাজ চলছে।

  • পাহাড় ধস ও বৃষ্টিতে সিকিম ও দার্জিলিং বিপর্যস্ত

    পাহাড় ধস ও বৃষ্টিতে সিকিম ও দার্জিলিং বিপর্যস্ত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় টানা ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও ধসের কারণে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ হয়ে সিকিম রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, দুর্গাপূজার ছুটিতে কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক দার্জিলিং ভ্রমণে গিয়েছিলেন, অনেকে এখন এলাকায় আটকে পড়েছেন।

    দার্জিলিংয়ের মিরিক ও সুখিয়াপোখরির মতো পাহাড়ি এলাকায় একাধিক স্থানে ধস নেমে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে, তবে টানা বৃষ্টির কারণে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ ও ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ) দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করছে।

    পাহাড় ধসে দার্জিলিং-সিলিগুড়ি মহাসড়ক এবং সিকিমের সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান রাস্তাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষভাবে মিরিক ও দুধিয়া অঞ্চলের মধ্যে লোহার সেতু ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ত্রিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং আরেকটি সেতুর ক্ষয়ক্ষতির কারণে সিকিম ও কালিম্পং জেলার প্রবেশও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষের প্রাণহানি, সম্পত্তি ও অবকাঠামোগত ক্ষতি ঘটেছে। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন আটকে পড়া পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য জরুরি সহায়তা হটলাইন চালু করেছে।

    গোরখাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) দার্জিলিংয়ের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র যেমন টাইগার হিল, রক গার্ডেনসহ সব পর্যটন স্থান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিখ্যাত ‘টয় ট্রেন’ সেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, সিলিগুড়ি ও কোচবিহারেও ভারি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর পূর্বেই উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছিল। সিকিমে দুই দফা রেড ওয়ার্নিং জারি করা হয়েছে। বজ্রপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা জানানো হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টি চলতে পারে।

    পরিবেশগত কারণে হঠাৎ বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর ভিডিওতে দেখা গেছে, সেতু ভেঙে গেছে, রাস্তা ভেসে গেছে এবং নদীগুলোতে পানি বেড়েছে। প্রতিবেশী দেশ নেপালেও একই আবহাওয়াজনিত দুর্যোগে গত ৩৬ ঘণ্টায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ শোক প্রকাশ করে বলেছেন, “দার্জিলিংয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেন্দ্র সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।” রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দার্জিলিং সফরে যাচ্ছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মিরিক, সার্সালি ও মিরিক বাস্টি এলাকার ধসে অন্তত সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, দুজন এখনও নিখোঁজ। ত্রিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি ও ধসের কারণে প্রধান সড়কগুলো এখনও বন্ধ রয়েছে।

  • ১৭ বছর পর গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিলেন তারেক রহমান

    ১৭ বছর পর গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিলেন তারেক রহমান

    অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ দুই দশক পর কোনো গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৫ অক্টোবর) বিবিসি বাংলা তাদের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দুই পর্বে সাজানো এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচন, জাতীয় রাজনীতি ও সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে বিশদভাবে কথা বলেছেন।

    বিবিসি বাংলার ঘোষণায় বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব প্রচার হবে সোমবার (৬ অক্টোবর) এবং দ্বিতীয় পর্ব মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর)। দুই দিনই সকাল ৯টায় বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে এটি দেখা যাবে।

    প্রায় ১৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন তারেক রহমান। সেখান থেকেই তিনি ভার্চুয়ালি বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছেন। তবে এতদিন তিনি সরাসরি কোনো গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে অংশ নেননি। ফলে এবারের সাক্ষাৎকারকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এর আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় হাইকোর্ট তারেক রহমানের বক্তব্য ও চিত্র প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর এবারই প্রথম তিনি কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বললেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর এই সাক্ষাৎকার শুধু বিএনপির জন্য নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও নতুন বার্তা বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচন ও দলীয় ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নজর কাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • তরুণদের মধ্যে বাড়ছে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি

    তরুণদের মধ্যে বাড়ছে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি

    অনলাইন ডেস্ক:    ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ২০–২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে এ রোগের হার প্রতি বছর গড়ে ৭.৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ৩০–৩৯ বছর বয়সিদের মধ্যে এ হার ছিল ৪.৯ শতাংশ এবং ৪০–৪৯ বছর বয়সিদের মধ্যে ১.৬ শতাংশ। অর্থাৎ তরুণদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসার সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে বলে জানা গেছে ইউরোপজুড়ে পরিচালিত এক গবেষণায়।

    ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে এ রোগের হার কমলেও, ৫০ বছরের নিচের মানুষের মধ্যে এর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে। ১৯৯০ সালে বিশ্বে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের রোগী ছিল প্রায় ৯৪ হাজার ৭০০ জন, যা ২০১৯ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ২৫ হাজার ৭৩৬ জনে।

    তরুণদের মধ্যে এ রোগের বৃদ্ধি নিয়ে বিজ্ঞানীরা জেনেটিক কারণকে খুব একটা দায়ী করছেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার এর অন্যতম বড় কারণ। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক সমীক্ষাতেও এ বিষয়টি স্পষ্ট। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, রেডি মিলস, চিনিযুক্ত খাবার, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত মাংসসহ ফাস্টফুড।

    ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা  গেছে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করা হয়। এতে ৪৬ হাজারেরও বেশি পুরুষকে ২৪ থেকে ২৮ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, যারা সবচেয়ে বেশি অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়েছেন, তাদের কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি।

    অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে— পুষ্টি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পরও একই ফল পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, কীভাবে এসব খাবার ক্যানসার সৃষ্টি করে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন রয়েছে। এখন পর্যন্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারকে মূলত স্থূলতার সঙ্গে মেলানো হতো, আর অতিরিক্ত ওজন যে ক্যানসারের বড় ঝুঁকি, সেটিও সবার জানা। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, স্বাভাবিক ওজনের মানুষের মধ্যেও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে।

    আর তামাক যে ফুসফুসের ক্যানসারের কারণ এবং অ্যালকোহল যে স্তন ও লিভারের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়— এ বিষয়গুলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেতে কয়েক দশক সময় লেগেছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী এক দশকের মধ্যেই তরুণদের কোলোরেক্টাল ক্যানসারের অন্যতম কারণ হিসেবে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের বিষয়টি স্বীকৃতি পাবে।

    যদি ২০ শতকের ক্যানসারের বড় কারণ হয়ে থাকে ধূমপান, তবে ২১ শতকে সেই জায়গা নিতে পারে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। যদিও বিজ্ঞান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তবে প্রতিদিন এর পক্ষে নতুন নতুন প্রমাণ যুক্ত হচ্ছে। প্রচলিত কথা— খাবারই ওষুধ। আর এখন বিজ্ঞান বলছে— খাবারই প্রতিরোধ।

    একসময় ক্যানসারকে বার্ধক্যজনিত রোগ হিসেবেই দেখা হতো। এখনো এ কথা সত্য যে, ক্যানসারের বেশিরভাগ নতুন রোগী সত্তরোর্ধ্ব। তবে ধীরে ধীরে চিত্র পাল্টাচ্ছে। এখন দেখা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু ধরনের ক্যানসার ক্রমেই তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বাড়ছে।

    তবে আশার খবর হচ্ছে— ২০২৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দই খেলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমতে পারে। কোলোরেক্টাল ক্যানসারেরই একটি ধরন হলো— কোলন ক্যানসার। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন— অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিয়ে নিয়মিত দইসহ স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত।