Category: প্রচ্ছদ

  • বাংলাদেশে প্রবীণ সেবার হালচাল

    বাংলাদেশে প্রবীণ সেবার হালচাল

    অনলাইন ডেস্ক:     গতকাল ১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৯০ সালে এই দিনটিকে স্বীকৃতি দেয় এবং ১৯৯১ সাল থেকে এটি প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে। এই দিনটি প্রবীণ নাগরিকদের অমূল্য অবদান, তাদের প্রজ্ঞা ও মর্যাদা তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের সম্মুখীন হওয়া চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় উৎসর্গীকৃত। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যেমনটি বলেছেন, ‘এই বছরের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রবীণ ব্যক্তিরা পরিবর্তনের শক্তিশালী চালিকাশক্তি। নীতি নির্ধারণ, বয়স-বৈষম্য দূরীকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা অত্যন্ত জরুরি।’

    ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো— ‘প্রবীণ ব্যক্তিরা স্থানীয় ও বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডের চালিকাশক্তি: আমাদের আকাঙ্ক্ষা, আমাদের সুস্থতা এবং আমাদের অধিকার’। এই প্রতিপাদ্যটি স্থিতিস্থাপক ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে প্রবীণদের রূপান্তরমূলক ভূমিকাকে তুলে ধরে। প্রবীণরা কেবল সুবিধাভোগী নন, বরং স্বাস্থ্য সমতা, আর্থিক সুস্থতা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং মানবাধিকারের মতো ক্ষেত্রগুলোতে তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেন। ২০০২ সালে গৃহীত রাজনৈতিক ঘোষণা এবং মাদ্রিদ আন্তর্জাতিক প্রবীণ কর্মপরিকল্পনা (MIPAA) বৈশ্বিক প্রবীণ নীতির ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করছে, যা সব বয়সের জন্য একটি সমাজ গঠনে উন্নয়নে, স্বাস্থ্যসেবায় এবং সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্বারোপ করে।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কিছু পদক্ষেপ এই এজেন্ডাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে, মানবাধিকার কাউন্সিল ৮১টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে একটি প্রস্তাব (৫৮/১৩) গ্রহণ করে, যা প্রবীণদের মানবাধিকার প্রচার ও সুরক্ষায় একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক দলিল প্রণয়নের জন্য একটি উন্মুক্ত কর্ম-গোষ্ঠী গঠনের অনুমোদন দেয়। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপটি প্রবীণদের অধিকার-ধারক এবং পরিবর্তন-নির্মাতা হিসেবে ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতির প্রতিফলন।

    বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রবীণদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত জরুরি। প্রবীণদের ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূরীকরণ নীতিগুলো একটি বার্ধক্যপ্রাপ্ত বিশ্বে টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। প্রবীণদের কণ্ঠস্বরকে উচ্চকিত করে এবং তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে, ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস প্রবীণদের তাদের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ, তাদের অধিকারের জন্য সোচ্চার হওয়া এবং তাদের মর্যাদা ও সুস্থতা নিশ্চিত করে এমন নীতিগুলোর আহ্বান জানানোর একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে।

    জনমিতিক পরিবর্তন: একটি বৈশ্বিক ও স্থানীয় চিত্র

    বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। ১৯৯৫ সালে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৪১ মিলিয়ন, যা ২০২৫ সালে ১.২ বিলিয়নে পৌঁছেছে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ২.১ বিলিয়নে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০৮০ সালের মধ্যে, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষ ১৮ বছরের কম বয়সি শিশুদের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী গড় আয়ু ৮.৬ বছর বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩.৫ বছরে পৌঁছেছে। ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়ছে এবং ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এই সংখ্যা নবজাতকদের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে ২৬৫ মিলিয়নে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই চিত্র ভিন্ন নয়। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৪৭ বছর থেকে বেড়ে বর্তমানে ৭২ বছরের বেশি হয়েছে। এই সাফল্য নিঃসন্দেহে দেশের স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতিকে নির্দেশ করে, তবে এটি একটি নতুন ধরনের জনমিতিক চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। বর্ধিত আয়ুষ্কাল মানে দীর্ঘস্থায়ী রোগ, বহুমুখী অসুস্থতা এবং বার্ধক্যজনিত সিনড্রোমগুলোর (যেমন ডিমেনশিয়া, পড়ে যাওয়া) বৃদ্ধি, যা প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিমেনশিয়া, যা বয়স্কদের মধ্যে পরাধীনতা ও অক্ষমতার একটি প্রধান কারণ, তার প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষায়িত যত্নের প্রয়োজনীয়তা আরও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

    জনসংখ্যা বার্ধক্যের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সহায়তার চাহিদা বেড়েছে, বিশেষ করে ডিমেনশিয়া-এর মতো অসুস্থতাগুলোর জন্য, যা বয়স্কদের মধ্যে পরাধীনতা ও অক্ষমতার একটি প্রধান কারণ। ক্রমবর্ধমান এই চাহিদা পূরণের জন্য বিশেষায়িত যত্ন এখন অপরিহার্য। এটি লক্ষ্যণীয় যে, বিশ্বব্যাপী অনানুষ্ঠানিক সেবাপ্রদানকারীদের প্রায় ৭০% নারী, যারা সেবাপ্রাপ্তদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে সেবার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে নারীরা বার্ধক্যে দারিদ্র্যের ঝুঁকির শিকার বেশি হন।

    প্রবীণ চিকিৎসাবিদ্যা: বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রবণতা

    ঐতিহ্যগতভাবে, বাংলাদেশের সমাজ প্রবীণদের যত্ন ও সমর্থন পারিবারিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। filial piety বা জ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং যৌথ পরিবারের শক্তিশালী বন্ধন বয়স্কদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করত। তবে, দ্রুত নগরায়ন, অর্থনৈতিক মাইগ্রেশন এবং একক পরিবারের উত্থান এই ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থায় ফাটল ধরিয়েছে। প্রবীণরা প্রায়ই একা হয়ে পড়ছেন এবং তাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলোর জন্য আনুষ্ঠানিক সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে।

    বিশ্বব্যাপী, প্রবীণ চিকিৎসাবিদ্যা রোগকেন্দ্রিক মডেল থেকে একটি সামগ্রিক, রোগী-কেন্দ্রিক পদ্ধতির দিকে সরে আসছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় জেরিয়াট্রিক্সের সংহতি, স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের প্রচার, স্বাধীন জীবনযাপনের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উপশমমূলক ও শেষ জীবনের যত্নের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অনেক উন্নত দেশে প্রবীণদের যত্নের জন্য সুসংগঠিত জাতীয় নীতি, পর্যাপ্ত তহবিল এবং চিকিৎসক, নার্স ও সহযোগী স্বাস্থ্য পেশাদারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম রয়েছে। কার্ডিওভাসকুলার রোগ, আর্থ্রাইটিস এবং স্নায়ুবিক অসুস্থতার মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রবীণ চিকিৎসাবিদ্যার বাজারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    বাংলাদেশে প্রবীণসেবার বর্তমান চিত্র এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশা

    বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রবীণ চিকিৎসাবিদ্যা এখনও একটি নবীন ক্ষেত্র। বিশেষায়িত সেবার অভাব, প্রশিক্ষিত পেশাদারদের স্বল্পতা এবং একটি সমন্বিত সরকারি নীতির অনুপস্থিতি এই খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে, কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে—

    • বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জেরিয়াট্রিক ডে কেয়ার সার্ভিস: এদেশের প্রবীণ চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো • বারডেম জেনারেল হাসপাতালে ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে চালু হওয়া জেরিয়াট্রিক ডে কেয়ার সার্ভিস। এটি সপ্তাহের শনি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং প্রবীণদের জন্য জেরিয়াট্রিক এসেসমেন্ট ও সেবা প্রদান করে। এখানে প্রশিক্ষিত কনসালটান্ট, আবাসিক চিকিৎসক এবং নার্স আছেন। সরকারি সহায়তা পেলে এই পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা অন্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

    • সরকারি নীতি ও পদক্ষেপ: সরকার “প্রবীণ ব্যক্তি (জাতীয়) নীতিমালা ২০১৩” এবং “বাবা-মার ভরণপোষণ আইন ২০১৩” এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও আইন প্রণয়ন করেছে। তবে, এগুলোর বাস্তবায়ন এবং পরিধি এখনও সীমিত। একটি আরও ব্যাপক এবং সমন্বিত জাতীয় নীতি প্রয়োজন, যা কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রবীণদের অধিকারের বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করবে। এই নীতিতে বিশেষত উপজেলা ও কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় প্রবীণসেবা অন্তর্ভুক্ত করার একটি পরিকল্পনা থাকা উচিত।

    • গবেষণা ও উন্নয়ন: বাংলাদেশের প্রবীণদের নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে গবেষণার অভাব একটি বড় শূন্যতা। পলিফার্মেসি, বার্ধক্যজনিত সিনড্রোম (যেমন, পড়ে যাওয়া ও ডিমেনশিয়া), এবং স্থানীয় প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট চিকিৎসার কার্যকারিতার মতো বিষয়গুলোতে তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণার জন্য একটি জাতীয় জেরিয়াট্রিক গবেষণা কর্মসূচী প্রয়োজন।

    কর্মসংস্থানের সুযোগ ও প্রশিক্ষণ

    প্রবীণ চিকিৎসাবিদ্যার ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে জেরিয়াট্রিক মেডিসিনে এফসিপিএস বা এমডি স্তরে কোনো আনুষ্ঠানিক স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেই। এই প্রশিক্ষণ পথগুলো তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া তত্ত্বাবধায়কদের জন্য প্রত্যয়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তৈরি করা হলে তা দেশে এবং বিদেশে উভয় ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে, যা ক্রমবর্ধমান গৃহভিত্তিক সেবার চাহিদা মেটাবে।

    প্রবীণদের জন্য দরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ

    বাংলাদেশের জনসংখ্যায় প্রবীণদের ক্রমবর্ধমান অনুপাত একটি চ্যালেঞ্জ হলেও এটি নতুন সুযোগও তৈরি করছে। অতীতকালে অনানুষ্ঠানিক পারিবারিক যত্ন ছিল প্রধান অবলম্বন, বর্তমানে খণ্ড খণ্ড পরিষেবা বিদ্যমান। তবে, বিশ্বব্যাপী প্রবণতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে, মানবসম্পদে বিনিয়োগ করে এবং একটি ব্যাপক ও সু-তহবিলযুক্ত জাতীয় নীতি প্রণয়ন করে, বাংলাদেশ একটি সুসংগঠিত এবং সহানুভূতিশীল স্বাস্থ্যসেবা মডেল তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে আমরা শুধু আমাদের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করব না, বরং সমাজের প্রতি তাদের মূল্যবান অবদানকেও সম্মান জানাব এবং ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্যকে বাস্তবে রূপ দেব – যেখানে প্রবীণরা স্থানীয় ও বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবেন, তাদের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হবে, তাদের সুস্থতা নিশ্চিত হবে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

  • অস্ত্রোপচারে পেট থেকে বেরোল ২৯ চামচ, ১৯ টুথব্রাশ

    অস্ত্রোপচারে পেট থেকে বেরোল ২৯ চামচ, ১৯ টুথব্রাশ

    অনলাইন ডেস্ক:  পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ভারতের উত্তর প্রদেশের এক বাসিন্দা।  অস্ত্রোপচার করার পর তার  পেটে ২৯টি স্টিলের চামচ, ১৯টি টুথব্রাশ ও দুটি কলম পাওয়া যায়।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রদেশটির হাপুরের বাসিন্দা শচীন (৩৫) মাদকাসক্ত ছিলেন।  তাই তার পরিবারে তাকে গাজিয়াবাদের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রেখেছিলেন।

    পেটে চামচ ও টুথব্রাশ কীভাবে এল—জানতে চাইলে শচীন বলেন, ‘মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রোগীদের সামান্য পরিমাণ খাবার দেওয়া হতো। ক্ষুধার চোটে ক্ষুব্ধ হয়ে স্তূপ করা বাসনকোসন থেকে চামচ চুরি করে খেতাম।’শচীন অভিযোগ করে বলেন, ‘সারা দিন একটু সবজি আর মাত্র কয়েকটি রুটি দেওয়া হতো। যদি বাড়ি থেকে কিছু আসত, তার বেশির ভাগই আমাদের কাছে পৌঁছাত না। কখনো কখনো দিনে একটি বিস্কুটও পেতাম। ’  বিষয়টি শচীনের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।ক্ষুব্ধ শচীন তখন স্টিলের চামচ চুরি করে বাথরুমে যেতেন, সেগুলোকে টুকরো টুকরো করে ভেঙে মুখে পুরে দিতেন। কখনো কখনো পানি দিয়ে সেগুলো গিলে ফেলতেন।

    এর কিছুদিন পর তিনি পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান করার পর তার পেটে চামচ, টুথব্রাশ ও কলমের মতো জিনিসপত্র দেখে সবাই অবাক হয়ে যান। প্রথমে এন্ডোস্কোপি করে জিনিসগুলো বের করার চেষ্টা করা হলেও পেটের ভেতরে থাকা বিপুলসংখ্যক জিনিসপত্রের কারণে তা ব্যর্থ হয়। পরে অস্ত্রোপচার করে এগুলো বের করা হয়।শচীনের অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক শ্যাম কুমার বলেন, এমন সমস্যা প্রায়ই মানসিক রোগীদের মধ্যে দেখা যায়। শচীন মাদকাসক্ত ছিলেন, পাশাপাশি তার মানসিক সমস্যাও ছিল।

  • সব প্লাটফর্মে আসছে গুগলের গ্রেডিয়েন্ট ‘G’ লোগো

    সব প্লাটফর্মে আসছে গুগলের গ্রেডিয়েন্ট ‘G’ লোগো

    অনলাইন ডেস্ক:     এখন থেকে সব প্লাটফর্মে ব্যবহার করা হবে গুগলের গ্রেডিয়েন্ট ‘G’ লোগো বলে জানিয়েছে টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি। দ্য ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার গুগল ঘোষণা করেছে— চলতি বছরের মে মাসে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের গুগল অ্যাপে নতুন লোগোটি প্রথম যায়। আর প্রায় ১০ বছর পর এটি গুগলের প্রথম বড় লোগো পরিবর্তন। তবে খুব শিগগির এটি গুগলের সব প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়বে বলে জানিয়েছে টেক জায়ান্ট কর্তৃপক্ষ।

    গুগল বলেছে, ‘এই টুল সংবাদ তৈরি, রিপোর্টিং এবং ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের ক্ষেত্রে সাংবাদিকের অত্যাবশ্যক ভূমিকাকে প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি এবং এআইয়ের পক্ষে তা সম্ভবও হবে না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন ডিজাইন আরও বেশি ছড়িয়ে পড়বে। ফলে শিগগিরই জিমেইল, ড্রাইভ, মিট ও ক্যালেন্ডারের মতো অন্যান্য অ্যাপেও গ্রেডিয়েন্ট লুক দেখা যাবে। আর নতুন ‘জি’ লোগোর পাশাপাশি গুগল তাদের গুগল হোম লোগোও একই ডিজাইনে হালনাগাদ করেছে। গুগলের বক্তব্যে এ পরিবর্তন তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিচ্ছবি।

    এর আগে ২০১৫ সালে গুগল তাদের রঙিন ‘জি’ লোগোতে লাল, হলুদ, সবুজ ও নীল রঙ আলাদা রেখেছিল। কিন্তু এবার নতুন লোগোতে চারটি রঙ একসঙ্গে মিশে গেছে এবং আরও উজ্জ্বল হয়েছে। এটি গুগলের গ্রেডিয়েন্ট জেমিনাই লোগোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

  • অন্য ধর্মাবলম্বীদের হাতে বানানো খাবার খাওয়া জায়েজ?

    অন্য ধর্মাবলম্বীদের হাতে বানানো খাবার খাওয়া জায়েজ?

    প্রশ্ন: আমি একজন কাঠমিস্ত্রি। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে মিস্ত্রির কাজ করি। কখনো কখনো হিন্দু বাড়িতেও কাজ করতে হয়। আর কাজ দীর্ঘ হওয়ার কারণে অনেকদিন পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে হয়। তখন হিন্দু বাড়িতেই খেতে হয়। এ অবস্থায় কি আমার জন্য হিন্দু বাড়িতে খাওয়া বৈধ হবে?

    উত্তর: হিন্দু বা বিধর্মীদের তৈরি হালাল খাবার মুসলমানের জন্য খাওয়া জায়েজ। আর প্রয়োজনে তাদের বাড়িতেও খানা খাওয়া জায়েজ।

    তাই আপনি কাজ করতে গিয়ে প্রয়োজনে হিন্দু বাড়িতে খানা খেতে পারবেন। তবে তাদের জবাইকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম। তাই তাদের বাড়িতে মুরগি ইত্যাদির গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

    অন্য ধর্মের মানুষরাও আল্লাহর বান্দা।তাদের সঙ্গে ভালো আচরণও ইসলামের শিক্ষা। অযথা তাদের সঙ্গে মন্দ আচরণ করা ইসলাম কামনা করে না। তাই যথাসাধ্য তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করতে হবে।

    এতটা সহায় সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে যে, আমাদের আখলাক দেখে যেন তারা মুসলমান হতে আগ্রহ বোধ করে। তবে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা নিষেধ। অন্তর থেকে তাদেরকে ভালোবাসা যাবে না।

    যদি কোনো প্রয়োজনে একসঙ্গে থাকার প্রয়োজন হয়, তাহলে একই রুমে থাকা জায়েজ আছে। কিন্তু লাগাতার ওঠাবসা করতে থাকলে তাদের ধর্মের প্রতি আমাদেরও মন আকৃষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই তাদের সংস্পর্শ থেকে যথাসাধ্য দূরে থাকা উচিত।

    তারা যেসব খাবার-দাবার দিয়ে থাকে, যদি তার মধ্যে কোন ধরনের নাপাকি না থাকে, তাহলে সেই খাবার খাওয়া জায়েজ আছে। ঠিক তেমন ভাবে একই পাত্রের মধ্যে খানা খাওয়াও জায়েজ আছে। তার টাকা হালাল হলে ওই টাকার খাবার খেতেও কোনো সমস্যা নেই।

    সূত্র: আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৬৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১৬৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪৭; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৭৪

  • গরুর দুধের বিকল্প হতে পারে যেসব সবজি

    গরুর দুধের বিকল্প হতে পারে যেসব সবজি

    অনলাইন ডেস্ক:    মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত্রে তৈরি হওয়া ল্যাকটেজ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে হজমে। ল্যাকটেজ ইন্টলারেন্স নামে পরিচিত হজমের এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় পেটব্যথা থেকে শুরু করে ডায়রিয়া পর্যন্ত হয়ে থাকে। সে কারণে ল্যাকটেজ ইন্টলারেন্ট ব্যক্তিরা গরুর দুধসহ দুধের তৈরি নানান ধরনের খাবার এড়িয়ে চলেন।

    এতে একদিকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্ত থাকলেও, অন্যদিকে তারা বঞ্চিত হন ক্যালসিয়ামের মতো অপরিহার্য পুষ্টিগুণ থেকে। কিন্তু দুধ ছাড়াও এমন কিছু ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রয়েছে, যেগুলো সামগ্রিকভাবে দুধের পুষ্টির জোগান দিতে পারে।

    গরুর দুধের বিকল্প যেসব স্বাস্থ্যসম্মত খাবার—

    মটরশুঁটি

    দুধের উৎকৃষ্ট বিকল্প সুষম খাবার হচ্ছে মটরশুঁটি। এই সবুজ বীজে আছে ভিটামিন এ, সি, কে, ফাইবার, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। আর হিমোগ্লোবিন তৈরিতে, হৃৎপিণ্ডের সুস্থতা এবং চোখের জ্যোতি বাড়ানোসহ ওজন নিয়ন্ত্রণে করে থাকে।

    চিনা বাদাম

    দুধের বিকল্প হিসাবে আপনি চিনা বাদাম খান। কারণ এতে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার। পেস্তা, আখরোট, কাঠ বাদাম এবং কাজু বাদাম শুধু স্বাস্থ্যকরই নয়; বেশ উপাদেয়। এ ছাড়া অন্যান্য খনিজ যেমন ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, তামা এবং সেলেনিয়ামের পাশাপাশি আছে ভিটামিন ই, বি-২ ও ফোলেট। বাদামে থাকা উপাদান দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসে অবদান রাখে। এগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের অনুপাতে কাঠ বাদাম সবার থেকে এগিয়ে। এক আউন্স কাঠ বাদামে থাকে প্রায় ৭৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম।

    বাঁধাকপি

    দুধের বিকল্প হিসাবে বাঁধাকপি বেশ উপকারী। চর্বি, চিনি ও কোলেস্টেরলমুক্ত এবং স্বল্প পরিমাণে সোডিয়াম ও ক্যালরিযুক্ত বাঁধাকপি দেহের প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের সেরা উৎস। দুই কাপ কাঁচা বাঁধাকপিতে ক্যালসিয়াম থাকে প্রায় ১.৮ গ্রাম। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এ সবজি কোষ প্রাচীরের ক্ষয়কে বিলম্বিত করতে পারে। এ ছাড়া বাঁধাকপিতেও আছে অক্সালেটের মতো যৌগ, যেগুলো ক্যালসিয়াম শোষণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই এই অক্সালেটের পরিমাণ হ্রাস করার জন্য বাঁধাকপি ভালোভাবে রান্না করে নেওয়া উচিত। রান্না ছাড়া সেদ্ধ করে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় সালাদ হিসেবেও রাখা যেতে পারে।

    ফুলকপি

    একই উদ্ভিদ হওয়ায় বাঁধাকপির মতো ফুলকপিও ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। বিপাকের সময় শরীরে নানা ধরনের ফ্রি র্যাডিকেল নামক জৈব অণু তৈরি হয়। খুব বেশি পরিমাণে এই ফ্রি র্যাডিকেল এতটাই বিষাক্ত যে, তা কোষের ক্ষতি সাধন করে ক্যানসারের দিকে ধাবিত করতে পারে। আর ফুলকপি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এই জৈব অণুগুলোর পরিমাণকে মাত্রা ছাড়াতে দেয় না।

    মাছ

    মানবদেহের কাঠামোকে সুদৃঢ় করে রাখতে প্রয়োজন ছোট মাছের। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর ছোট মাছ আর দুধ একই পরিমাণে ক্যালসিয়ামের জোগান দেয়। ছোট মাছে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ গ্রাম প্রতি ৮.৬ থেকে ১ হাজার ৯০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, আয়রন এবং জিঙ্ক, যেগুলো দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি ও রক্তের সুস্থ পরিচালনে অবদান রাখে। গ্রামে ও শহরে অধিক বিক্রীত ছোট মাছগুলোর মধ্যে পুঁটি, কাচকি, মলা-ঢ্যালা ও দারকিনা অন্যতম।

    সরষে শাক

    শাকসবজিভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস পরিচালনার শুরুটা হতে পারে সরষে শাক দিয়ে। কারণ এতে রয়েছে থায়ামিন (বি-১) নিয়াসিন (বি-৩) এবং পাইরিডোক্সাইনসহ (বি-৬) বি ভিটামিনের এক বিরাট উৎস এ শাক। এরা মূলত হৃৎপিণ্ড এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় কাজ করে। তবে সরষেতে থাকা ভিটামিন কে অংশ নেয় হাড়ের শক্তিবৃদ্ধি করতে এবং ফ্র্যাকচার থেকে রক্ষা করতে। কাটাছেঁড়ার সময় ধমনীতে ক্যালসিয়ামের প্রাচীর গড়ে রক্তক্ষরণ রোধ হয়। এই প্রাচীর গড়াতে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, তার জন্য প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে ভিটামিন ‘কে’। এক কাপ রান্না করা সরষে শাকে ১.০৩ গ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। এর সঙ্গে বাঁধাকপি যুক্ত করে তৈরি খাবার দৈনিক ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারে।

    পালংশাক

    পালংশাকের প্রধান উপাদান হচ্ছে— ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন এ, সি, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ও পটাসিয়াম। প্রতি কাপ শাকে ২৫০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি বিদ্যমান। দাঁত ও হাড়ের যত্নে প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে পালংশাক রাখাই শ্রেয়। এতে থাকা ভিটামিন কে হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি শরীর যথাযথভাবে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারছে কিনা তা নিশ্চিত করে। কম ক্যালোরি থাকায় এটি ওজন কমানোর জন্যও উপযুক্ত। এ ছাড়া এই শাকে আছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষমতা, যেটি ডায়াবেটিসের মতো রোগের ক্ষেত্রেও সহায়তা করতে পারে।

  • যদি পুরুষরা সন্তান জন্ম দিত, পৃথিবীতে যুদ্ধ থাকত না: রানী মুখার্জি

    যদি পুরুষরা সন্তান জন্ম দিত, পৃথিবীতে যুদ্ধ থাকত না: রানী মুখার্জি

    বিনোদন ডেস্ক:   জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী রানী মুখার্জি বলিউডে আট ঘণ্টা কাজের দাবি নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন। অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের ‘কল্কি’ সিক্যুয়েল থেকে সরে দাঁড়ানোর খবরের মধ্যেই কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে কথা বললেন রানী মুখার্জি।

    অভিনেত্রী বলেন, মেয়ে আদিরার জন্মের পর তিনি যখন ‘হিচকি’র শুটিং করছিলেন, তখন আদিরা ১৪ মাসের। তাকে দুধপান করানোর জন্য তিনি একটি কঠোর রুটিন মেনে চলতেন। সকালে দুধ পাম্প করে বেরিয়ে যেতেন এবং ইউনিট ও পরিচালকের সহায়তায় ৬-৭ ঘণ্টার মধ্যেই শুটিং শেষ করে বেরিয়ে পড়তেন। এতে ট্রাফিক শুরু হওয়ার আগেই তিনি দুপুরের মধ্যে বাড়ি ফিরে আসতে পারতেন। তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো এখন আলোচনায় এসেছে। কারণ হয়তো মানুষ বাইরে এগুলো নিয়ে কথা বলছে। এটা সব পেশাতেই একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আমিও করেছি, নির্দিষ্ট সময় ধরে কাজ করেছি।

    রানী মুখার্জি বলেন, যদি প্রযোজক রাজি থাকেন, তাহলে ছবিটা করা যায়। না থাকলে করা যায় না। এটা একেবারেই পছন্দের বিষয়। কেউ কাউকে জোর করছে না। তিনি বলেন,  একবার ভাবুন তো, যদি পুরুষকে সন্তান জন্ম দিতে হতো, তাহলে তারা সবাইকে পাগল করে দিত। এখন তাদের হাতে অনেক সময়, তাই যুদ্ধ করছে। যদি তাদের সন্তান জন্ম দিতে হতো, তাহলে হয়তো পৃথিবীতে কোনো যুদ্ধই থাকত না। কারণ ওরা তখন শুধু শিশুকে নিয়েই ব্যস্ত থাকত বলে জানান অভিনেত্রী।

    রানী মুখার্জি বলেন, কারণ আমি মনে করি, পুরুষরা এই অসাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত— একটি শিশুকে জন্ম দেওয়ার। এটা ঈশ্বরের সবচেয়ে কাছাকাছি আসার অনুভূতি। কারণ আমরা একটি জীবন সৃষ্টি করি।

    অভিনেত্রী বলেন, পুরুষকে শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় না। আমরা মা হওয়ার সময় শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাই। আমি মেয়ে হয়ে খুবই খুশি। আমি এটা কোনো কিছুর বিনিময়ে পরিবর্তন করব না বলে জানান রানী মুখার্জি।