Category: প্রচ্ছদ

  • আন্দালুস হারানো মানে শুধু একটি ভৌগোলিক অধ্যায় হারানো নয়!

    আন্দালুস হারানো মানে শুধু একটি ভৌগোলিক অধ্যায় হারানো নয়!

    ধর্ম  ডেস্ক:    মানবসভ্যতার ইতিহাসে কিছু অধ্যায় আছে, যেগুলো কেবল অতীতের স্মৃতি নয়, বরং যুগযুগান্তরের জন্য আয়না। আন্দালুস, যে ভূমি একসময় মুসলিম সভ্যতার আলোয় দীপ্ত ছিল,আজ নিছক পর্যটনকেন্দ্র, নিঃশব্দ ধ্বংসস্তূপ, নিভে যাওয়া প্রদীপের ভস্ম।

    এককালে যেখানে রাত জেগে আলোকিত হত গ্রন্থাগার, যেখানে তারার নিচে বসে পণ্ডিতেরা জ্যোতির্বিজ্ঞানের জটিল সমীকরণ কষতেন, আজ সেখানে পর্যটকের পদচারণা, আর বাতাসে ভেসে আসে অতীতের হাহাকার।

    আন্দালুস হারানো মানে শুধু একটি ভৌগোলিক অধ্যায় হারানো নয়, এটি ছিল মুসলিম উম্মাহর সেই হৃদয়ভঙ্গ, যার প্রতিধ্বনি আজও আমাদের ইতিহাসে শোনা যায়।

    ৭১১ খ্রিস্টাব্দে যখন তারিক ইবনে জিয়াদের বাহিনী জাবাল তারিক (জিব্রাল্টার) প্রণালী অতিক্রম করে আইবেরীয় উপদ্বীপে প্রবেশ করে, তখন ইউরোপ নিমজ্জিত ছিল অন্ধকারে। অজ্ঞতা, নিরক্ষরতা, দমন আর ধর্মীয় গোঁড়ামি ইউরোপকে শৃঙ্খলিত করেছিল। অথচ সেই মুহূর্তে মুসলিমরা কেবল তলোয়ার নিয়ে প্রবেশ করেনি, বরং সঙ্গে এনেছিল নতুন এক সভ্যতার দ্যুতি, ন্যায়বোধ, বিজ্ঞান, শিল্প ও মানবিকতার আলো।

    আন্দালুস দ্রুত হয়ে ওঠে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এক নগরসভ্যতা। কর্ডোবা শহরে তখন জ্বলছিল তিন লাখ প্রদীপ, যখন লন্ডনের পথে মশালের আলো ছিল বিরল। কর্ডোবার গ্রন্থাগারে ছিল অর্ধ মিলিয়নের বেশি বই, অথচ ইউরোপের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় তখনও জন্ম নেয়নি।

    এই ভূমি হয়ে উঠেছিল জ্ঞানের মিলনস্থল মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি একসঙ্গে বসে দর্শন, চিকিৎসা, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, সাহিত্যের চর্চা করত। ইবনে রুশদ, ইবনে হাযম, আল-জাহরাওয়ি কিংবা মূসা ইবনে মাইমুনের মতো মনীষীরা মানবসভ্যতার উত্তরাধিকার সমৃদ্ধ করে গেছেন।

    কর্ডোবার জ্যোতির্বিদরা তারার মানচিত্র এঁকেছিলেন, যা পরবর্তীতে ইউরোপীয় নাবিকদের সমুদ্রযাত্রায় দিকনির্দেশ দিয়েছিল। চিকিৎসাবিদ আল-জাহরাওয়ির লেখা শল্যবিদ্যার গ্রন্থ শতাব্দীর পর শতাব্দী ইউরোপের মেডিকেল স্কুলে পাঠ্যপুস্তক ছিল। আন্দালুস ছিল মানবতার সেই বাগান, যেখানে ধর্ম ও সংস্কৃতির বিভাজন মুছে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল এক নতুন সামঞ্জস্য।

    কিন্তু গৌরবের মধ্যেই লুকানো ছিল পতনের বীজ। প্রথম যুগে মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ খলিফাতন্ত্রের অধীনে এগিয়ে চললেও পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার লোভে বিভক্ত হয়ে পড়ে ছোট ছোট আমিরাত ও সালতানাতে। প্রত্যেকে নিজেদের স্বার্থে অপরজনকে দুর্বল করতে খ্রিস্টান রাজ্যগুলোর সাহায্য নেয়। ইতিহাসে এই বিশ্বাসঘাতকতা আন্দালুসের সর্বনাশ ডেকে আনে। যখন মুসলিমরা একে অপরের বিরুদ্ধে বিদেশিদের আহ্বান করছিল, তখন শত্রুপক্ষ শক্তি সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছিল।

    আরেকটি বড় কারণ ছিল ভোগবিলাস ও আভিজাত্যের নেশা। যারা একসময় আল্লাহর পথে ত্যাগ স্বীকার করে এই সভ্যতা গড়েছিলেন, তাদের উত্তরসূরিরা ডুবে গেল বিলাসবহুল প্রাসাদ, দামী রত্ন, সুরা আর ভোজনবিলাসে।

    ইবনে খালদুন যথার্থই বলেছেন “সভ্যতার পতন শুরু হয় তখনই, যখন এর অধিবাসীরা আভিজাত্যে নিমজ্জিত হয়”। জ্ঞানচর্চা আর ইবাদতের জায়গা দখল করল আত্মতুষ্টি ও গাফিলতি।

    এদিকে ইউরোপ জেগে উঠছিল। মুসলিমদের তৈরি করা জ্ঞানভাণ্ডার অনুবাদ হতে লাগল লাতিন ভাষায়। আন্দালুসের আলো থেকে ইউরোপের রেনেসাঁর শিখা প্রজ্বলিত হলো, অথচ মুসলিমরা সেই আলোকপ্রদীপ রক্ষা করতে ব্যর্থ হল। তারা হারাল মুক্তচিন্তার উন্মুক্ততা, ভেঙে গেল দর্শন ও বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ। সংকীর্ণতায় আবদ্ধ হয়ে পড়ল শিক্ষাব্যবস্থা, আর রাজনৈতিকভাবে তারা দুর্বল হয়ে গেল।

    অবশেষে এলো সেই কালো দিন। দীর্ঘ “রিকনকুইস্তা” অর্থাৎ খ্রিস্টান রাজ্যগুলোর পুনর্দখল অভিযানের চূড়ান্ত ফলশ্রুতিতে ১৪৯২ সালের জানুয়ারি মাসে গ্রানাডার পতন ঘটে। নাসরিদ আমির বোয়াবদিল আলহাম্ব্রার চাবি ক্যাথলিক রাজা-রানির হাতে তুলে দেন। তখন কেবল একটি নগরীর পতন হয়নি, বরং সাত শতকের সভ্যতা ইতিহাসের কবরস্থানে দাফন হলো।

    গ্রানাডার পতনের পর শুরু হলো এক ভয়াল অধ্যায়। লাখ লাখ মুসলমান ও ইহুদি হয় জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হল, নয়তো হত্যা করা হলো। গ্রন্থাগারগুলোতে আগুন দেওয়া হলো, অমূল্য পান্ডুলিপি ছাই হয়ে গেল। আন্দালুসের সোনালি অতীত রূপ নিল এক ভৌতিক শূন্যতায়। ইতিহাসবিদদের মতে, শুধু গ্রানাডায় পতনের পর কয়েক দশকে প্রায় এক মিলিয়নের বেশি মুসলমান হত্যা বা বিতাড়িত হয়েছিল। আন্দালুস, যা ছিল মানবতার সহাবস্থানের প্রতীক, তা পরিণত হলো ধর্মীয় নিপীড়নের নির্মম পরীক্ষাগারে।

    তাহলে কেন হারালাম আমরা আন্দালুস? কারণ আমরা ভুলে গিয়েছিলাম আমাদের মূল পরিচয়। আমরা ঐক্য হারিয়েছি, জ্ঞানচর্চা ছেড়ে দিয়েছি, ভোগবিলাসে নিমজ্জিত হয়েছি। আমরা ভেবেছিলাম ক্ষমতা চিরস্থায়ী, অথচ ইতিহাস বারবার শিখিয়েছে ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কেবল আদর্শই চিরন্তন।

    আজকের উম্মাহর জন্য আন্দালুস নিছক ইতিহাস নয়, বরং জীবন্ত শিক্ষা। ফিলিস্তিন থেকে কাশ্মীর, সিরিয়া থেকে ইয়েমেন সবখানেই আজ আমরা বিভক্ত, দুর্বল, বাইরের শক্তির করুণায় জর্জরিত। আমাদের মধ্যে সেই একই রোগ—অভ্যন্তরীণ কলহ, আভিজাত্যের মোহ, জ্ঞানচর্চার প্রতি অবহেলা। ফলে আমরা নতুন নতুন আন্দালুস হারাচ্ছি।

    কিন্তু ইতিহাস কেবল শোকের নয়, আশা জাগানোরও। আন্দালুস আমাদের মনে করিয়ে দেয় ঐক্য, জ্ঞান ও নৈতিকতা ছাড়া সভ্যতা টিকে না। এটি আমাদের শিখিয়েছে, অন্যের জ্ঞান গ্রহণে উন্মুক্ত না হলে আমরা অগ্রসর হতে পারি না। আর এটি আমাদের সাবধান করে দিয়েছে, বিভাজন ও বিশ্বাসঘাতকতা সভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় বিষ।

    আজ যখন আলহাম্ব্রার প্রাসাদে সূর্যাস্ত হয়, তার লাল প্রাচীরগুলো নিঃশব্দে সাক্ষী দেয় হারিয়ে যাওয়া এক মহিমার। যেন বাতাসে ভেসে আসে এক শোকগাথা, “আমাকে হারিয়েছো তোমরা নিজেদের ভেতরেই। যদি ফিরে পেতে চাও, তবে আবার জ্বালাতে হবে জ্ঞানের প্রদীপ, জাগাতে হবে ঐক্যের শক্তি, আর ফিরিয়ে আনতে হবে নৈতিকতার মূলমন্ত্র”।

  • ৭ দিনে চুল পড়া বন্ধ ও পাকা চুল কালো করবেন যেভাবে

    ৭ দিনে চুল পড়া বন্ধ ও পাকা চুল কালো করবেন যেভাবে

    অনলাইন ডেস্ক:      সাত পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ হবে। সেই সঙ্গে পাকা চুল কালো হবে। আপনার দুশ্চিন্তা মুক্ত হবে। এটাও কি সম্ভব?

    অসম্ভব। সাত দিনে চুল পড়া বন্ধ ও পাকা চুল কালো করা সম্ভব নয়। কারণ চুল বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ধীর এবং এর জন্য ধৈর্য ও ধারাবাহিকতার প্রয়োজন আছে। তবে পেঁয়াজের রস, রোজমেরি ও কাস্টর অয়েল ব্যবহার করে চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করা যায়। চুল পড়া কমানো যায় এবং নতুন চুল গজানোর সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা যায়।

    একটি কার্যকর পদ্ধতি হলো— প্রতিদিন রোজমেরি তেল ব্যবহার করা, যা চুলের ফলিকলকে উদ্দীপিত করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে থাকে।

    আপনি চুলের যত্ন নেওয়া শুরু করেছেন নিশ্চয়ই। নানা রকম কেশসজ্জা করার ইচ্ছাও আছে আপনার। এর জন্য হেয়ার কাটও করাচ্ছেন। তবে চুল যদি নিষ্প্রাণ ও জেল্লাহীন হয়, তাহলে সব চেষ্টাই বৃথা। কেশসজ্জা যতই সুন্দর হোক না কেন, রুক্ষ চুলে তা মানাবে না। চুল উঠে পাতলা হয়ে গেলেও দেখতে ভালো লাগবে না। তাই হাতে সময় থাকতে চুলের যত্ন নেওয়া শুরু করুন।

    বিশেষ এই পূজায় ঘন, লম্বা ও জেল্লাদার চুল চাইলে সাত দিন সময় দিতে হবে। ওই সাত দিনে কেশচর্চার সাত রকম পদ্ধতি নিয়ম মেনে চলতে পারলে চুল উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

    প্রথম দিন অ্যালোভেরার মাস্ক ব্যবহার করুন। কারণ ভিটামিন ই-তে ভরপুর অ্যালোভেরায় রয়েছে ‘অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল’ উপাদান। এতে থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান ও ভিটামিন ই খুসকি দূর করতে, স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং চুল বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রথম দিন অ্যালোভেরাজেল মাথার ত্বক ও চুলে ভালো করে মালিশ করুন। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

    দ্বিতীয় দিন কাঁচা পেঁয়াজের রস ব্যবহার করুন। নতুন চুল গজানো কিংবা মাথার ত্বকের সংক্রমণ রোধ করার ঘরোয়া টোটকা হচ্ছে পেঁয়াজের রস। মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এ কাঁচা পেঁয়াজের রস। ফলে পেঁয়াজের রস মাখলে নতুন চুল গজায়। চুলের ঘনত্ব বাড়ে। দ্বিতীয় দিন পেঁয়াজের রস ভালো করে মাথায় মেখে আধাঘণ্টার মতো রেখে সামান্য গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

    তৃতীয় দিন নারিকেল তেল ব্যবহার করুন। এতে চুল হবে তরতাজা। নারিকেল তেল হালকা গরম করে সেই তেল ভালো করে চুলে মালিশ করুন। এরপর সারা রাত রাখতে পারলে ভালো, না হলে ঘণ্টা দুয়েক পর শ্যাম্পু করে চুল ধুরে ফেলুন।

    চতুর্থ দিন চালের পানি ব্যবহার করুন। অল্প চাল ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। এরপর ধোয়া চালের মধ্যে আরও খানিকটা পানি ঢেলে নিন। এবার ১০-১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। চাল হাত দিয়ে চটকে নিন। পানি ঘোলা হয়ে যাবে। এবার পাত্রে পানিটা ছেঁকে নিন। চাল ধোয়া পানি তৈরি হলো। এবার চুলে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার মাখার পর শেষবার চুল ধুতে ব্যবহার করুন সেই চাল ধোয়া পানি। তাতে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। পানিটা চুলে ঢেলে ধীরে ধীরে গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত মাসাজ করুন। এরপর মিনিট পাঁচেক রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

    পঞ্চম দিনে আমলকী-কারিপাতার তেল ব্যবহার করুন। কারণ এ তেল ভিটামিন সি’সমৃদ্ধ। বানিয়ে নিন বাড়িতেই। এক কাপের মতো আমলকী ও তাতে আধাকাপের মতো কারিপাতা দিয়ে ভালো করে ফোটাতে হবে। এরপর তেল নিয়ম করে মাখলে চুলের পুষ্টিও হবে, বৃদ্ধিও হবে।

    ষষ্ঠ দিনে গ্রিন-টি ম্যাজিক ব্যবহার করুন। চুলে থাকা সিবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে তেল নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিকভাবে চুলকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা জোগায়। এই আর্দ্রতা ধরে রাখবে গ্রিন-টি ব্যবহার করুন। এতে থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করবে এবং চুলের ঘনত্ব বাড়াবে।

    সপ্তম দিনে জবাফুলের মাস্ক ব্যবহার করুন। চুল যেমন ঝরছে, ঠিক তেমনই পাকা চুলের সংখ্যাও বাড়ছে। কানের পাশে, সিঁথির দুই পাশে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে পাকা চুল। তা ঢাকতে যথেচ্ছ ডাই ব্যবহার করে চুলের আরও ক্ষতি হচ্ছে। তার চেয়ে বরং জবাফুলের মাস্ক ব্যবহার করলে চুল পড়া ও খুশকির সমস্যা যেমন দূর হবে, ঠিক তেমনই পাকা চুল কালো হবে অচিরেই। ২-৩টি জবাফুল ফুটিয়ে নিতে হবে। যে রস বেরোবে, তার সঙ্গে নারিকেলের দুধ মিশিয়ে ভালো করে চুলে মালিশ করুন। ২০ মিনিট রেখে ভেষজ কোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

  • ফেসবুকে যে কাজ করলে আপনার ভিউ লাখে পৌঁছে যাবে

    ফেসবুকে যে কাজ করলে আপনার ভিউ লাখে পৌঁছে যাবে

    অনলাইন ডেস্ক:     সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মটি শুধু অনুভূতি শেয়ার করার জায়গা নয়; এখান থেকে আয় করাও যায়, জানা যায় অনেক কিছু। আর ফেসবুক ব্যবহার করেন না এমন মানুষ কমই আছে। অনেকেই আছেন ফেসবুক থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। কিন্তু আপনি ফেসবুকে ইনকাম করার চেষ্টা করছেন, পারছেন না। আপনার প্রোফাইলে তেমন একটা ভিউ দেখা যায় না। ভীষণ দুশ্চিন্তা আপনার মনে, কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। চলুন জেনে নেওয়া যাক, আপনি এমন কিছু করুন, যা করলে আপনার ফেসবুকে লাখো ভিউ পৌঁছে যাবে।

    ফেসবুক শুধু চালালেই হবে না, জানতে হবে কীভাবে ফেসবুক থেকে আয় করা যায়। সে জন্য আয় করতে হলে আপনাকে ফেসবুকের কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে— নির্দিষ্টসংখ্যক ভিউ হতে হবে আপনার ফেসবুক কন্টেন্টের। এটি আগে কঠিন কাজ ছিল। অনেকেই সেই শর্ত পূরণ করতে পারতেন না। তবে সময়মতো গড়িয়েছে, এখন সেই কাজটি খুব সহজ হয়েছে।

    ফেসবুকের নতুন আপডেটে আপনি খুব সহজেই আপনার প্রোফাইলকে লাখো ভিউয়ারের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। সে জন্য অবশ্য আপনাকে নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত মানতে হবে।

    চলুন জেনে নিই কী সেই শর্ত—

    শুরুতেই আপনার প্রোফাইল ঠিক করতে হবে। প্রথমে পেশাদার মোড চালু করতে হবে। পাবলিক ফলোয়ার পেতে এবং কন্টেন্ট ইনসাইট ও মনিটাইজেশনের মতো ক্রিয়েটর টুল অ্যাক্সেস করতে, আপনার ব্যক্তিগত প্রোফাইলে পেশাদার মোড চালু করতে হবে।

    দ্বিতীয়ত পোস্টটি পাবলিক করতে হবে। পেশাদার মোড চালু করার পর আপনার প্রোফাইল কন্টেন্ট প্রকাশ করতে পারেন, যা আপনার ফলোয়াররা দেখতে পাবেন। সেই সঙ্গে আপনার পোস্ট পাবলিক করে রাখুন, নতুন দর্শকসহ যেন সবাই তা দেখতে পায়।

    আপনার উদ্দেশ্য থাকবে—নিয়মিত ও আকর্ষণীয় কন্টেন্ট তৈরি করা। এমন কন্টেন্ট তৈরি করুন, যা দর্শকদের আগ্রহী করে তোলে এবং তারা অন্যদের সঙ্গে তা শেয়ার করতে উৎসাহিত হয়। আর প্রতিদিন নিয়ম করে কনটেন্ট আপলোড করুন। এ ধারাবাহিকতা আপনার দর্শকপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

    পোস্ট এনগেজিং কন্টেন্ট তৈরি করুন। ভালো মানের ও আকর্ষণীয় কন্টেন্ট, যা দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। দর্শক যত বেশি আপনার কন্টেন্ট দেখবে, তত বেশি কন্টেন্টের এনগেজমেন্ট বাড়বে।

    এ ছাড়া অন্যান্য ব্যবহারকারীর সঙ্গে যুক্ত হন। অন্যান্য ব্যবহারকারীর পোস্টে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। এতে আপনার প্রোফাইল পরিচিতি বাড়বে।

    শেষ সঠিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করুন। প্রাসঙ্গিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলে আপনার পোস্টগুলো সঠিক দর্শকের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। আর ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে কোলাবোরেশন করুন। আপনার কন্টেন্ট যদি ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে কোলাবোরেশন করে থাকেন, তাহলে তাদের মাধ্যমেও আপনার প্রোফাইল লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।

    এ ছাড়া প্রোমোশন কিংবা বিজ্ঞাপনের সাহায্য নিন। যদি আপনার বাজেট থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে প্রোমোশন কিংবা বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে দ্রুত অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছানো যায়।

  • ক্ষমতায় এলে ৩ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজের অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

    ক্ষমতায় এলে ৩ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজের অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

    অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে, দেশ সেবার সুযোগ পেলে তিনটি প্রধান বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এফডিইবি) বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনের অনুষ্ঠানে শনিবার দুপুরে যোগ দিয়ে তিনি এমন অঙ্গীকার করেন।

    এসময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ক্ষমতায় এলে দাবি আদায়ে কাউকে এক মিনিটের জন্যও কর্মস্থল ফেলে রাস্তায় আসতে হবে না। ইনসাফের ভিত্তিতে যার যেটা পাওনা সেটা তার হাতে তুলে দেয়া হবে। আমাদের প্রধান কমিটমেন্ট (অঙ্গীকার) ৩টি। প্রধান ফোকাস থাকবে ভাঙাচোরা শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা রাখব না। আমার মেরুদণ্ড নেই তো দাঁড়াব কীভাবে, বসব কীভাবে, মেরুদণ্ড ছাড়া তো আমি ফুটবল হয়ে যাব। প্রথমে মেরুদণ্ডেই চিকিৎসার জন্য হাত দিতে হবে। যে শিক্ষা অনৈতিকতা তৈরি করে, মানুষকে দুর্নীতিবাজ বানায়, মানুষকে ইতর প্রাণী বানায় সেই শিক্ষা আমরা দেবো না। যে শিক্ষা মানুষকে মানুষ বানায়, মানুষকে সম্মান করতে শেখায় সেই শিক্ষাই আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদের হাতে তুলে দেবো।”

    ‘নৈতিক আর বৈষয়িক শিক্ষার মেলবন্ধন তৈরি করা হবে। যার ফলে শিক্ষার পাঠ শেষ করে সে অনুযায়ী কাজ পেয়ে যাবে। সে বেকার থাকবে না। কেউ কাজের বাইরে থাকবে না। হয় সে উদ্যোক্তা নয় তো চাকরিজীবী হবে’-উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।

    দ্বিতীয় কমিটমেন্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু ডিগ্রির ভিত্তিতে এই কল্যাণ রাষ্ট্রে কারও মর্যাদা র্নিধারণ হবে না। কাজের ভিত্তিতে মর্যাদা নির্ধারণ করা হবে।

    তৃতীয় কমিটমেন্টের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দুর্নীতির জোয়ার কেটে দিবো। এ কথা শুনে অনেকের বুকে ধড়ফড় শুরু হয়েছে। অনেকেই তো আবার চলেনই এগুলো দিয়ে। যে সার্ভিসের ডেপ্থ এবং ওয়েট যত সেই সার্ভিসের বেতন কাঠামো সেইভাবে করতে হবে।

  • বেফাঁস মন্তব্য করায় সূর্যকুমারকে আইসিসির সতর্কবার্তা

    বেফাঁস মন্তব্য করায় সূর্যকুমারকে আইসিসির সতর্কবার্তা

    খোলাধুলা ডেস্ক:      ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে আন্তর্জাতিক ম্যাচের অফিসিয়াল প্রেস কনফারেন্সে রাজনৈতিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

    গত ১৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের জয়কে সুর্যকুমার উৎসর্গ করেছিলেন পেহেলগাম হামলার ভুক্তভোগীদের প্রতি। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান অভিযোগ জানালে বৃহস্পতিবার ভারতীয় অধিনায়ককে ডেকেছিলেন ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসন। তার সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় বোর্ডের সিওও হেমাং অমিন ও ক্রিকেট অপারেশনস ম্যানেজার সুমীত মল্লাপুরকার।

    কমিটি সূর্যকুমারকে প্রেস কনফারেন্সে করা তার বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিও দেখিয়ে বক্তব্য জানতে চায়। সূর্যকুমার তার ভুল স্বীকারের পর আইসিসি তাকে সতর্ক করে দেয়।

    এছাড়া পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ‘হ্যান্ডশেক’ ইস্যুতে ভারতীয় ক্রিকেটারদের শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের জন্যও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সূর্যকুমারকে। এই প্রসঙ্গে ভারতের অধিনায়ক শুনানিতে বলেছেন, ‘কিছু বিষয় খেলোয়াড়ের নীতির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পেহেলগাম হামলার সকল ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়াই এবং এটি উৎসর্গ করি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে যারা অপারেশন সিঁদুরে অংশ নিয়েছে।’

    ‎আইসিসি তাকে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছে, যদি সবাই রাজনৈতিক মন্তব্য করে, তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে।

    ‎এদিকে পাকিস্তানের দুই খেলোয়াড় সাহিবজাদা ফারহান এবং হারিস রউফ শুক্রবার আইসিসির কমিটির সামনে হাজির হবেন। তাদের সমন এসেছে ভারতের অভিযোগের ভিত্তিতে। যেখানে বলা হয়েছে, ফারহান তার ব্যাট দিয়ে বন্দুকের নকল করেছেন, আর রউফ বারবার বিমান ভূপাতিতের ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি দেখিয়েছেন।

  • ৩০% ভোট নিয়ে শতভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা যাবে না

    ৩০% ভোট নিয়ে শতভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা যাবে না

    স্টাফ রিপোর্টার:    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনসহ ৫ দফা গণদাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখা। সেখানে বক্তারা বলেন, ৩০ পার্সেন্ট ভোট নিয়ে শতভাগ মানুষের প্রতিনিধত্ব করা যাবে না।

    শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে শহরের শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অবকাশ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে শহীদ মিনার চত্বরে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রবের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ।

    জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন— জেলা সহকারী সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা সিদ্দিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমীর মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, পৌর আমির ইসহাক আলী খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। বক্তারা বলেন— পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে আরেকটি স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার জন্ম নেবে। অনেক রক্তের বিনিময়ে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছ।

    কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার লোভ-লালশায় জুলাই বিপ্লবের স্বাধীনতা নষ্ট করা যাবে না। ৩০ থেকে ৩৫ পার্সেন্ট মানুষের ভোট নিয়ে শতভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার কোনো সুযোগ নেই।

    একমাত্র পিআর পদ্ধতির মাধ্যমেই নির্বাচন হলে শতভাগ মানুষের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হবে। সবার মতামত দেওয়ার স্বাধীনতা থাকবে। মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ হবে, লুটপাট দুর্নীতি বন্ধ হবে। আর কোনো স্বৈরাচার তৈরি হবে না।