Category: প্রচ্ছদ

  • জাপার রওশনপন্থি মহাসচিব মামুনুর রশীদ ৬ দিনের রিমান্ডে

    জাপার রওশনপন্থি মহাসচিব মামুনুর রশীদ ৬ দিনের রিমান্ডে

     রাজনীতি ডেস্ক:    সরকার উৎখাতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদের ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এদিন আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

    অন্যদিকে রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এর আগে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    এর আগে ১৭ সেপ্টম্বর এ মামলার প্রধান আসামি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী (৫৫) ও তার প্রধান সহযোগী গোলাম মোস্তফা আজাদের (৪৯) পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিএমএম আদালত। তার আগে, ১৫ সেপ্টেম্বর একই মামলায় এনায়েত করিমের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিন্টো রোডে সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠান আদালত।

    মামলার অভিযোগসূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মিন্টো রোডের মন্ত্রিপাড়া এলাকায় প্রাডো গাড়িতে আরোহণ করে সন্দেহজনক চলাচল করতে দেখা যায় আসামি এনায়েত করিম চৌধুরীকে। এ সময় তার গাড়ি থামানো হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো সদুত্তোর দিতে না পারায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। তার নিকট থেকে পাওয়া দুইটি আইফোন বিশ্লেষণ করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

  • প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

    অনলাইন ডেস্ক:     বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন বিনিয়োগকারী ও স্ন্যাপচ্যাটের সাবেক প্রধান কৌশলগত কর্মকর্তা (সিএসও) ইমরান খান সাক্ষাৎ করেছেন।নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শনিবার তিনি সাক্ষাৎ করেন। এ সময়ে ইমরান খান বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    ইমরান খানের বর্তমানের বয়স ৪৮ বছর। তিনি ১৮ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং প্রযুক্তি কোম্পানিতে বিনিয়োগ ব্যাংকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি আলেফ হোল্ডিং-এর বোর্ড চেয়ারম্যান।অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশে দ্রুত বর্ধনশীল ফিনটেক, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক ব্যবসা খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। ইমরান খান বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণে ইউনূসের আজীবন মিশন তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে এবং এখনই মাতৃভূমিতে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময়।

    তিনি অধ্যাপক ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি আপনার কাজের একজন বড় ভক্ত। আপনি আমাদের জাতীয় গর্ব।’জেপি মরগান ও ক্রেডিট সুইসে বিনিয়োগ ব্যাংকার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা ইমরান আলিবাবার রেকর্ড ভাঙা আইপিও-তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান। পরবর্তীকালে স্ন্যাপচ্যাটের সিএসও হিসেবে কয়েক মাসের মধ্যেই কোম্পানির মূল্য শূন্য থেকে ৭২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করেন।

    আলোচনায় ইমরান খান জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁর ভাষায়, ‘সময়টি অনুকূল। নিয়ন্ত্রক পরিবেশ এখন আরও সহায়ক হয়েছে।’তিনি বিশেষভাবে ফিনটেক খাতের দ্রুত বিকাশ নিয়ে আশা প্রকাশ করেন এবং সঠিক সুযোগ তৈরি হলে বিনিয়োগের আশ্বাস দেন। ‘বাংলাদেশ একটি ফ্রন্টিয়ার মার্কেট। এখানে ফিনটেক খাতে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিপুল। তরুণ জনগোষ্ঠী বিশাল এবং সুযোগ সীমাহীন।’

    ইমরান খান ২০১৮ সালে প্রাইম অ্যাসেট নামে একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা মূলত প্রযুক্তি-নির্ভর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়া খাতে বিশেষ বিনিয়োগ করে, বিশেষ করে ফিনটেক ক্ষেত্রে। তাঁর পোর্টফোলিওতে পেমেন্টস, ডিজিটাল অবকাঠামোসহ একাধিক খাত রয়েছে।অধ্যাপক ইউনূস ইমরান খানকে শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যেন তিনি নিজে এসে বিনিয়োগ সম্ভাবনা ঘনিষ্ঠভাবে দেখতে পারেন। জবাবে ইমরান খান আগামী মাসগুলোতে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনার কথা জানান।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণদের জন্য আপনার মতো রোল মডেল প্রয়োজন। দেশে এখন উদ্দীপনামূলক সময় চলছে—আপনি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন।’সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের প্রতি তাঁদের মোট বিনিয়োগের এক শতাংশ সামাজিক ব্যবসায় ব্যয় করার অথবা সমমনাদের অংশগ্রহণে একটি সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন। ইমরান খান এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং এতে ভবিষ্যতে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রতিবাদ জানাতে ডিম ছোড়া হয় কেনো

    প্রতিবাদ জানাতে ডিম ছোড়া হয় কেনো

    অনলাইন ডেস্ক:     ডিম—রান্নাঘরের সহজ একটা উপকরণ। তবু প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক বিক্ষোভের মঞ্চে এটি বহুবার পরিণত হয়েছে একটি প্রতীকী অস্ত্রে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে রাজনীতিকদের দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনা বেড়েছে; তবে এটি নতুন কোনো প্রবণতা নয়—এর ইতিহাস বহু পুরনো এবং বৈশ্বিক।

    অভিযোগভিত্তিক বিক্ষোভে, দলীয় বিরোধী শক্তির প্রতি ক্ষোভ দেখাতে বা আদালত প্রাঙ্গণে আসামিদের উপর প্রতিবাদ জানাতে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা বার বার ঘটছে। মধ্যযুগে বন্দিদের ওপর জনসম্মুখে ডিম নিক্ষেপ করা হতো বলে লোকমুখে জানা যায়; লিখিত সূত্রে ডিম নিক্ষেপের প্রথম কাহিনি পাওয়া যায় ১৮শ শতকের গোড়ায়। ১৮০০ দশকের সময় আয়েল অফ ম্যান দ্বীপে মেথোডিস্টদের ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা নথিভুক্ত আছে। আর ১৮৩৪ সালে মার্কিন শহর কনকোর্ডে দাসত্ববিরোধী বক্তা জর্জ হোয়াইটারকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছিল।

    বিশ্বজুড়ে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল—অস্ট্রেলিয়ায় ১৯১৭ সালে তখনকার প্রধানমন্ত্রী বিলি হিউজকে জনসভায় ডিম মারার ঘটনা এবং ব্রিটেনে ২০০১ সালে উপ-প্রধানমন্ত্রী জন প্রেসকটকে একজন তরুণ কৃষক ডিম নিক্ষেপ করলে প্রেসকটের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ঘুষি দেওয়ার ছবি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও এই প্রতিবাদধারা দেখা যায়; হলিউড অভিনেতা আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারকে টমেটো কিংবা ডিম নিক্ষেপের শিকার হতে হয়েছে।

    কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অধ্যাপক অ্যান্ড্রু গেলম্যান এই ধরণের খাদ্য নিক্ষেপকে ব্যাখ্যা করে বলেন, খাবার ছুড়লে তা সস্তা, সহজলভ্য এবং দৃশ্যমান প্রতিবাদে রূপ নেয়। টমেটো বা ডিম ফেটে গেলে দৃশ্যটি আরো নাটকীয় হয় এবং একধরণের আত্মতৃপ্তি তৈরি করে।

    তিনি বলেন, খাদ্যছুড়াকে প্রায়ই অহিংস প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হয়—যেখানে পুলিশকে গোলা চালাতে বাধ্য করা কঠিন; ডিম বা টমেটো নিক্ষেপ করলে পুলিশের গুলি চালানো জনমনে ‘ফুলিশ’ হিসেবে দেখা দেবে। ফলে খাবার নিক্ষেপের একটি প্রতীকী মূল্য আছে।

    ডিমের মাধ্যমে প্রতিবাদ শুধুই ক্ষোভের প্রকাশ নয়; এটি সস্তা, গ্রাসযোগ্য এবং দ্রুত নজর কাড়ার কারণে জনগণীয় বিক্ষোভের এক কার্যকর প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই ইতিহাস জানলে বুঝা যায়—কৃষক থেকে শিক্ষার্থী, দর্শক থেকে প্রকাশক কত নানা কারণে এই সহজ উপকরণটিকে প্রতিবাদের হাতিয়ার বানিয়েছে।

  • বিজ্ঞাপনমুক্ত সংস্করণ আনছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম

    বিজ্ঞাপনমুক্ত সংস্করণ আনছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম

    অনলাইন ডেস্ক:     ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের জন্য বড় পরিবর্তন আনছে মেটা। যুক্তরাজ্যে এখন থেকে চাইলে ব্যবহারকারীরা মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে বিজ্ঞাপনবিহীন অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন। মেটার এ সিদ্ধান্ত এসেছে দেশটির তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিওর সতর্কতা এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে চলমান আলোচনার পর।

    নতুন সেবায় ওয়েব ব্যবহারকারীদের মাসে গুনতে হবে ২.৯৯ পাউন্ড (প্রায় ৪৮৬ টাকা), আর মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩.৯৯ পাউন্ড (প্রায় ৬৪৯ টাকা)। তবে যেসব অ্যাকাউন্ট ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সঙ্গে লিঙ্ক করা, তাদের কেবল একটি ফি দিলেই চলবে।

    মেটা জানিয়েছে, ধাপে ধাপে এ সেবা চালু হবে এবং যারা সাবস্ক্রিপশন নেবেন না, তারা আগের মতোই বিজ্ঞাপন দেখতে থাকবেন। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নে একই ধরনের সাবস্ক্রিপশন মডেল চালু করলেও সমালোচনার মুখে পড়ে মেটা।

    ইউরোপীয় কমিশনের অভিযোগ ছিল, ব্যবহারকারীর কম তথ্য ব্যবহার করেও বিনামূল্যে বিজ্ঞাপনভিত্তিক সংস্করণ চালু করা সম্ভব ছিল, যা মেটা করেনি। এর ফলে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের দায়ে চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটিকে ২০০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা গুনতে হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে।

    আইসিও মনে করছে, ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষায় ‘অপ্ট আউট’ সুযোগ রাখা ইতিবাচক পদক্ষেপ। মানবাধিকার কর্মী তানিয়া ও’ক্যারলের করা মামলার নিষ্পত্তির পর থেকেই মেটা বিজ্ঞাপনমুক্ত সেবা চালুর ইঙ্গিত দিয়েছিল। আইন সংস্থা টিএলটির অংশীদার গ্যারেথ ওলডেইল মনে করেন, যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্ত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে।

  • সহাবস্থানের সীমারেখা ও ঈমানের শুদ্ধতা

    সহাবস্থানের সীমারেখা ও ঈমানের শুদ্ধতা

    ধর্ম  ডেস্ক:    আধুনিকতার উজ্জ্বল আলোয় ঢাকা পড়ে গেছে অনেক প্রাচীন সত্য। আজ দেখা যায়, কেউ কেউ ধর্মীয় সহাবস্থানের নামে এমন এক সংস্কৃতির জন্ম দিচ্ছে, যেখানে ঈমানের সীমারেখা মুছে দিতে চাওয়া হচ্ছে। অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ বা অভিনন্দন জানানোকে অনেকে বলছেন সৌজন্য, কেউ বলছেন আধুনিকতা। অথচ ইসলাম কোনোদিনই সৌজন্যের ছদ্মবেশে ঈমান বিসর্জনের অনুমতি দেয়নি।

    আল্লাহ রব্বুল আলামিনের ঘোষণা স্পষ্ট, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩)

    দ্বীন যখন পূর্ণাঙ্গ, তখন তার ভেতরে নতুন কোনো আচার বা উৎসবের স্বীকৃতি দেওয়া মানে পূর্ণতার অস্বীকার। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেছেন, “অমুসলিমদের বিশেষ ধর্মীয় উৎসবে অভিনন্দন জানানো মুসলমানদের জন্য হারাম, এটি তাদের কুফরির প্রতি সন্তুষ্টি ও অনুমোদনের সমতুল্য।”(আহকাম আহলিজ্জিম্মাহ)

    ইমাম নববী রহ. এবং অসংখ্য মুজতাহিদ আলেমও এই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। রাসূল সা. হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৪০৩১) ইসলামের দৃষ্টিতে সাদৃশ্য মানে শুধু পোশাক বা রীতি নয়, বরং এমন কথাবার্তা ও আচরণ, যা সরাসরি তাদের ধর্মীয় প্রতীকের স্বীকৃতি দেয়। তাই মুসলমানের জন্য সীমানা স্পষ্ট—মানবিকতায় উদার, কিন্তু ঈমানের প্রশ্নে অটল।

    প্রশ্ন জাগে, তাহলে কি অমুসলিমদের সাথে সৌহার্দ্য থাকবে না? বরং ইসলামই দিয়েছে তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা। কুরআনে বলছে, “আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না তাদের সাথে সদাচার ও ন্যায়বিচার করতে, যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি।” (সূরা আল-মুমতাহিনাহ: ৮)

    অর্থাৎ মুসলমান মানবিকতায় সীমাহীন হতে পারে—প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়াতে পারে, তাদের হক আদায় করতে পারে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে পারে। কিন্তু সেই সৌজন্য কখনোই এমন জায়গায় যাবে না, যেখানে শিরকের বৈধতা মিশে থাকে।

    আজ যাদের কণ্ঠে শোনা যায় “সব ধর্ম সমান”, “সব উৎসব সামাজিক” তারা আসলে ইসলামের মূল ভিত্তি তাওহীদকে আঘাত করছেন। ইসলাম কোনো মিশ্রণবাদী দর্শন নয়, ইসলাম একক সত্য। একজন মুসলমান যখন নিজের ঈমানের শুদ্ধতা রক্ষা করে, তখনই সে প্রকৃত মানবিকতার প্রতিনিধি হয়। কারণ মানবিকতা কেবল হাসিমুখের নাম নয়, মানবিকতা হলো ন্যায়, আর ন্যায় কেবল সেই পথেই সম্ভব, যেখানে সত্য বিকৃত হয় না।

    মুসলমানের গৌরব এখানেই সে মানবিকতায় কোমল, কিন্তু ঈমানের প্রশ্নে কঠোর। সভ্যতার নামে আত্মপরিচয় বিসর্জন দেয় না, সৌজন্যের মোড়কে দ্বীন বিক্রি করে না। যে সীমারেখা আল্লাহ টেনে দিয়েছেন, সেটিই তার মর্যাদা, আর সেই সীমা রক্ষার দৃঢ়তাই তার ঈমানের

  • কলা খেয়ে কি ওজন কমানো যায়

    কলা খেয়ে কি ওজন কমানো যায়

    লাইফস্টাইল ডেস্ক:       আপনি ওজন কমাতে চাইছেন, তাহলে কলা খেতে পারেন। পাকা কলা না কাঁচা কলা— কোনটি খেলে ভালো হয়? এ বিষয়ে ভারতের পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তী বলেছেন, যেহেতু পাকা কলায় ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে— ১০০ গ্রাম কলায় ১১৭-১২০ কিলোক্যালরি পাওয়া যায়। তাই কলা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। তবে যদি ক্যালরি মেপে খাওয়া যায়, তাহলে ওজন যারা কমাতে চাইছেন, তারাও কলা ডায়েটে রাখুন।

    কারও সারা দিনে ১২০০ কিলোক্যালোরি প্রয়োজন। তিনি সারা দিনে ভাত, রুটি ও অন্যান্য খাবার খেয়ে তার সঙ্গে কলা খেলেন। এ ক্ষেত্রে তার দিনের ধার্য ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যাবে। শম্পা বলেন, যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তারা যদি রুটি বা ভাতের পরিমাণ কমিয়ে অথবা সেগুলো বাদ দিয়ে পাকা কলা খান, তাহলে অসুবিধা হবে না। সকালে রুটি না খেয়ে একটি রুটির পরিবর্তে একটি কলা খাওয়া যেতে পারে। কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম।

    তিনি বলেন, কারও শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ে অসুবিধা না থাকলে, ডায়েটে কলা রেখে ওজন কমানো যেতে পারে। কেউ দুপুরের খাবারে ভাতের সঙ্গে অন্য সবজি না খেয়ে একটি কলা খেলেন, সেটি চলতে পারে। আবার রাতের খাবারে একটি রুটি, একটি কলা, এক কাপ দুধ খেলেন, তাতেও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

    এ বিষয়ে পুষ্টিবিদরা বলছেন, শুধু ক্যালোরি নয়, একটি কলা শরীরে পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন বি৬, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের অভাব পূরণ করতে পারে। এতে থাকে ফাইবার। তাই শরীর ভালো রাখতে ফাইবারে সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খুব জরুরি।

    একটি পাকা কলা খেলে পেট বেশ কিছুক্ষণ ভরা থাকে। ফলে চট করে অন্য কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হয় না। উল্টোপাল্টা খাবার বাদ পড়লে, ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যা ওজনকমাতে পরোক্ষভাবে সহায়ক হয়। এ ছাড়া শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অনেকটাই পূরণ করে কলা।

    আবার কাঁচকলায় পাকা কলার চেয়ে ক্যালোরির পরিমাণ একটু কম। স্টার্চের পরিমাণ কম। তবে ওজনকমাতে পাকা কলার চেয়ে কাঁচকলা বাড়তি ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন না পুষ্টিবিদরা। কারণ কাঁচকলায় রয়েছে পেকটিনের মতো ডায়েটরি ফাইবার। এই ফাইবার ওজনকমাতে সাহায্য করে। তবে সারা দিনে কতটা ক্যালোরি খাওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে কাঁচকলা বা পাকা কলা ওজনবাড়াবে না কমাবে।