Category: প্রচ্ছদ

  • নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি পেশ

    নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি পেশ

    অনলাইন ডেস্ক:   ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ (বাসস): ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৪৭ তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি পেশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ ইসলাম।

    বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আজ জবানবন্দি পেশ শেষ করেন নাহিদ। তিনি গতকাল জবানবন্দি পেশ শুরু করেন।

    আজ বিকেলে তাকে জেরা করবেন এই মামলায় পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।

    এ মামলায় প্রসিকিউসন পক্ষে আজ চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম শুনানি করেন। সেই সাথে অপর প্রসিকিউটররা শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।

    উক্ত মামলায় পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে পরে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

    মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

    একপর্যায়ে এ মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে (অ্যাপ্রোভার) রাজসাক্ষী হতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্র্যাইব্যুনাল। পরবর্তীকালে এ মামলার ৩৬ তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন রাজসাক্ষী পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    এ মামলাটি ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাটি হয়েছে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।

    গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, এর দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার কাজ চলছে।

  • অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি প্রধান উপদেষ্টার

    অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি প্রধান উপদেষ্টার

    অনলাইন ডেস্ক:    ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য (এমইপি) মুনির সাতোরির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বুধবার বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এসময় প্রধান উপদেষ্টা অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    প্রধান উপদেষ্টা সফরকারী প্রতিনিধি লকে বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছি। এটি রমজানের ঠিক আগে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, পরিষ্কার, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর হবে। কিছু শক্তি এখনও নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে, তবুও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে তা নিশ্চিত করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    ‘জনসাধারণ বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে নির্বাচনী উৎসাহ বাড়ছে, কারণ দীর্ঘদিন পর-কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দশকেরও বেশি সময় পর-ছাত্র সংসদ নির্বাচন আবার শুরু হয়েছে’-উল্লেখ করেন ড. ইউনূস।

    প্রধান উপদেষ্টা আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন বলেন, তরুণ ভোটাররা রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দেবেন, কারণ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই প্রথমবারের মতো তাদের অনেকেই ভোট দেবেন।

    ‘ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক নতুন সূচনার সাক্ষী হবে। এটি আমাদের ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে-জাতির জন্য একটি নতুন যাত্রা’-এমনটিই যোগ করে প্রধান উপদেষ্টা।

    ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায়, প্রধান উপদেষ্টা এবং এমপিরা সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের অব্যাহত সমর্থন এবং চলমান রোহিঙ্গা মানবিক সংকট নিয়ে মতবিনিময় করেন।

    সফররত এমপিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে। বাংলাদেশ হয়তো সেই কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি যেখানে বিষয়গুলো সঠিক দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    অধ্যাপক ইউনূস ইইউকে তাদের দৃঢ় সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশে বসবাসরত দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য তহবিল বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

    বিশেষ করে, সম্প্রতি সাহায্যের ঘাটতির কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিনি শিবিরগুলোতে স্কুলগুলো পুনরায় চালু করতে সহায়তার আহ্বান জানান।।

  • সুন্দর ত্বকের জন্য বাজারের প্রসাধনী নয়, ভরসা রাখুন দেশি খাবারে

    সুন্দর ত্বকের জন্য বাজারের প্রসাধনী নয়, ভরসা রাখুন দেশি খাবারে

    লাইফস্টাইল ডেস্ক:    সুন্দর ত্বকের জন্য বাজারের প্রসাধনী ব্যবহার না করে ভরসা রাখতে পারেন দেশি কিছু খাবার ও নিয়মে পালনের মাধ্যমে। সে জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন, যা ত্বকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    ডিহাইড্রেশন হলে ত্বকের মসৃণতা কমে যায়। ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে ওঠে। এ ছাড়া পানি খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান শরীরে সরবরাহ করতে সহায়তা করে। সেই সঙ্গে অনেক বিষাক্ত উপাদান শরীর থেকে দূর করে এবং আমাদের শরীরে রক্ত সরবরাহ সচল রাখতে সহায়তা করে থাকে।

    ত্বকের দাগছোপ বা খুঁত এড়াতে অনেকে নানান ধরনের প্রসাধনীতে ভরসা রাখেন। এই ব্যস্ত জীবনে এটা-ওটা ত্বকে ব্যবহারেরই-বা সময় কোথায়। তবে রাসায়নিক উপাদানে ভরা এসব প্রসাধনী ব্যবহারে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ফল পাওয়া প্রায় অসম্ভব। পাশাপাশি থাকতে পারে এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি। যদি বাহ্যিক যত্নে সময় ব্যয় করতে না পারেন, তাহলে চেষ্টা করুন ত্বক যেন ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা ছড়ায়, সে ব্যবস্থা নেওয়ার। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক খাবার। সুতরাং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন কিছু খাবার রাখুন, যেসব ত্বক ভালো ও জেল্লাদার রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোন খাবার খেলে ত্বক ভালো থাকে—

    শসা

    শসা বলতে গেলে ৯৫ শতাংশের বেশি পানি রয়েছে। আর সত্বকের আর্দ্রতা অটুট রাখার জন্য প্রতিদিন শসার সালাদ কিংবা জুস খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। শসায় অনেক জৈব সক্রিয় যৌগ রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে কিউকারবিটাসিন, ভিটেক্সিন, ওরিয়েন্টিন এবং এপিজেনিন, যা ত্বক আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

    লেবু

    ত্বক উজ্জ্বল করার পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে লেবু। আর সালাদ, ডাল বা যে কোনো সবজির ওপর লেবুর রস দিয়ে খেতে পারেন। যাদের ত্বকে ব্রণ রয়েছে, তারা নিয়মিত সকালে লেবু-মধুর পানি পান করলে উপকার পাবেন।

    কাঁচাহলুদ

    ত্বকের ব্রণ ও দাগ দূর করে একে সুন্দর এবং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে হলুদ। আবার প্রতিদিনের রান্নায় হলুদ ব্যবহার তো করেনই, চাইলে রোজ এক টুকরো কাঁচাহলুদ চিবিয়ে খেতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে দুধে অল্প কাঁচাহলুদের রস মিশিয়ে পান করলেও উপকার পাওয়া যায়।

    গ্রিন টি

    গ্রিন টি নিয়মিত পানে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল থাকে। চা পানের পর এর পরিত্যক্ত পাতা ঠান্ডা করে চোখের নিচের অংশে লাগাতে পারেন। এটি ত্বকের ফোলা ভাব ও কালো দাগ কমাতে পারে।

    পেঁপে

    পেঁপেতে পানির পরিমাণ বেশি। এতে ভিটামিন এ, সি, ফোলেট, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম ভরপুর থাকে। নিস্তেজ ত্বক প্রাণবন্ত করতে এবং ত্বকের আর্দ্র ভাব বজায় রাখতেও নিয়মিত পেঁপে খেতে পারেন।

    বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ

    আপনি বাদামের মধ্যে কাঠবাদাম, চীনাবাদাম ও কাজুবাদাম রান্না কিংবা সালাদ ছাড়াও হালকা নাশতা হিসেবে খেতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের বীজ; যেমন চিয়া সিড, তিসি, কুমড়ার বীজ খাদ্যতালিকায় রাখলে ত্বক সুন্দর হয়। এগুলোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ভিটামিন ‘ই’। প্রতিদিনকার দূষণ ও ধুলোবালি থেকে যেসব ক্ষতি হয়, সেগুলোর মধ্যে ত্বকের অনুজ্জ্বল ভাব অন্যতম। ভিটামিন ‘ই’ এই ক্ষতি থেকে ত্বক রক্ষা করে।

    পালংশাক

    ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ পালংশাক, ত্বকের যত্নে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ত্বকের প্রতিটি কোষে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। আর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখে পালংশাক।

    ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ খাবার

    ত্বক জীবাণু ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের হাত থেকে বাঁচায় ভিটামিন ‘ডি’। এর পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা করতেও এর ভূমিকা রয়েছে। প্রতিদিন তালিকায় কোনো না কোনো ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। ভিটামিন ‘ডি’র অভাব পূরণে খেতে পারেন মাখন ও চিজের মতো দুগ্ধজাত খাবার। এ ছাড়া পাতে রাখুন মাছ, ডিম ও মাছের লিভারের তেল।

    ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল

    ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী। এসব ফল যেমন— কমলা, আপেল, তরমুজ ও স্ট্রবেরি শরীর আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। আর সেই সঙ্গে ত্বক কোমল ও সতেজ রাখতেও সাহায্য করে। এ ধরনের ফলের মধ্যে রয়েছে আঁশ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ক্ষতির হাত থেকে ত্বক রক্ষা করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে চাইলে এই ফলগুলো প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় যোগ করুন।

  • মুসলিম দেশগুলো কি ন্যাটোর আদলে যৌথ বাহিনী গঠন করছে!

    মুসলিম দেশগুলো কি ন্যাটোর আদলে যৌথ বাহিনী গঠন করছে!

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   ইসরাইল কাতারে হামলা করার এক সপ্তাহের মধ্যেই কাতারের রাজধানী দোহায় আরব লীগের সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি মুসলিম দেশ সম্মেলন করেছে।

    ৯ সেপ্টেম্বর কাতারে ইসরাইলের হামলা চালানোকে কেন্দ্র করে মুসলিম দেশের নেতাদের দুই দিনের এই জরুরি সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে চলতে থাকা যুদ্ধ ও চলমান মানবিক বিপর্যয় থামাতে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা।

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা, ইসরাইলের আগ্রাসনের মত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে এই সম্মেলনে।

    আর এই সম্মেলন থেকে ন্যাটোর আদলে ‘জয়েন্ট আরব ফোর্সেস’ বা যৌথ আরব বাহিনী গঠনের তাগিদ উঠে এসেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ সংস্থাগুলো।

    যৌথ আরব বাহিনী

    সোমবার শুরু হওয়া আরব-ইসলামিক সম্মেলনে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি এই যৌথ আরব বাহিনী গঠনের প্রস্তাব তোলেন বলে জানা যাচ্ছে।

    এই বাহিনী গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে ন্যাটো জোটের আদলে। অর্থাৎ ন্যাটো জোটভুক্ত প্রত্যেকটি দেশ যেমন জোটের কোনো একটি দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে ওই দেশের নিরাপত্তায় সেনা সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই যৌথ আরব বাহিনীও সেভাবেই কাজ করবে বলে প্রস্তাব তোলা হয়েছে।

    আরব দেশগুলোর ওপর হামলা হওয়া বা তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার মত ঘটনার পাশাপাশি আরব বিশ্বের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ও সন্ত্রাসবাদী হামলা ঠেকানোর মত বিষয়গুলো নিয়ে এই বাহিনী কাজ করবে বলে প্রাথমিক প্রস্তাবনায় উঠে এসেছে।

    সেনা সদস্যের দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি মিশর চায় কায়রোতে এই বাহিনীর সদর দপ্তর স্থাপন করতে।

    ন্যাটোর মত এই বাহিনীতেও বিমান, নৌ ও স্থল বাহিনী থাকবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সহযোগী দেশগুলোর সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ও আকৃতির ওপর নির্ভর করবে কোন দেশ এই বাহিনীতে কতটুকু অবদান রাখবে।

    বিশ্লেষকরা এই প্রয়াসকে ‘আরব ন্যাটো’ বলে উল্লেখ করছেন।

    এর আগে ২০১৫ সালেও মিশর একই ধাঁচের যৌথ আরব বাহিনী গঠনের আহ্বান জানিয়েছিল। সেসময় ইয়েমেন, লিবিয়া, সিরিয়ার মত দেশগুলোতে বিভিন্ন ইসলামপন্থী সশস্ত্র গ্রুপের বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম রোধে ওই বাহিনী গঠনের প্রস্তাব জানিয়েছিলেন. সিসি, যিনি সেসময়ও মিশরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

    তবে আরব লিগের বেশ কয়েকটি দেশ সেসময় ওই বাহিনী গঠনে আগ্রহী না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই যৌথ বাহিনী গঠন সম্পন্ন হয়নি।

    যে কোনো দেশে হামলা, সবার ওপর হামলার শামিল

    সম্মেলনে উপস্থিত দেশগুলো ইসরাইলের ওপর আইনি, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।

    জাতিসংঘ থেকে ইসরাইলের সদস্যপদ স্থগিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।

    পাশাপাশি গাজায় জরুরি ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করা, গাজার স্থাপনা পুনর্নির্মাণ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।

    এই বিবৃতি ছাড়াও একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে গঠিত জোট গঠিত গাল্ফ সিকিউরিটি কাউন্সিল, জিসিসি।

    জিসিসি তাদের বিবৃতিতে কাতারে হামলার জন্য ইসরাইলের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি উল্লেখ করেছে যে জিসিসির সহযোগী ‘যে কোনো দেশে হামলা, সবার ওপর হামলার শামিল।’

    ‘গাজার যুদ্ধ থেকে নজর সরিয়ে নিতেই কাতারে হামলা’

    সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে কাতারের আমির মন্তব্য করেছেন যে ইসরাইল গাজা থেকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার উদ্দ্যেশ্যেই কাতারে হামাস নেতাদের বৈঠকে হামলা চালিয়েছে।

    কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি তার উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্তব্য করেন যে, ইসরাইল যদি হামাস নেতাদের হত্যাই করতে চায়, তাহলে তাদের সাথে আলোচনা করার কথা বলছে কেন?

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, আপনি (ইসরাইল) যদি জিম্মিদের মুক্তিদের জন্য দর কষাকষিই করতে চান, তাহলে সেই বিষয়ে কাজ না করে আলোচনাকারীদের (হামাস নেতা) হত্যা করছেন কেন?

    এমন পরিস্থিতিতে ইসরাইলের সাথে আলোচনা সম্ভব নয় বলেও তার বক্তব্যে মন্তব্য করেন কাতারের আমির।

    সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন যে ইসরাইলের কার্যক্রম পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে।

    কাতারে হামলার ঘটনা নিয়ে সিসি মন্তব্য করেন, এই আগ্রাসনে পরিষ্কারভাবে দেখা যায় যে ইসরাইল সব ধরণের রাজনৈতিক বা সামরিক যুক্তি বহির্ভূত কাজ করছে, এবং তারা সব সীমা অতিক্রম করেছে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় দোহা সম্মেলনের তীব্র সমালোচনা

    দোহায় আরব লীগ ও ওআইসির দেশগুলোর এই জরুরি সম্মেলন নিয়ে অনেকে আশাবাদী হলেও বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন এই সম্মেলন থেকে ইতিবাচক কিছু অর্জন হবে না। কাতারে ইসরাইলের হামলার পর কাতারের প্রধানমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফর নিয়েও চলছে সমালোচনা।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে এই সম্মেলন থেকে ‘নিন্দা জ্ঞাপন’ ছাড়া আর কিছু অর্জন হবে না।

    ইয়েমেনের রাজনীতিবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক শেখ হুসেন হাজেব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে পোস্ট করে মন্তব্য করেছেন যে এই জোটের ‘উত্থানের আগেই মৃত্যু’ হবে।

  • আর কোনো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেবে না বাংলাদেশ

    আর কোনো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেবে না বাংলাদেশ

     অনলাইন ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আর কোনো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেবে না বাংলাদেশ। বরং আশ্রিতদের নিজ মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার।

    বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিরডাপ মিলনায়তনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এক আলোচনায় এ কথা জানান তিনি।

    শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা জানান, অন্তবর্তী সরকার আশা করছে সামনের বছর রোহিঙ্গারা তাদের দেশে চলে যেতে পারবে। আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। তবে কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।

    এসময় কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা নয়। বরং এটি রাজনৈতিক, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক সমস্যা।

    এই সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

  • ‘মেটা কানেক্ট ২০২৫’ এর আলোচনায় স্মার্ট গ্লাস

    ‘মেটা কানেক্ট ২০২৫’ এর আলোচনায় স্মার্ট গ্লাস

    বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:   সিলিকন ভ্যালির সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘মেটা কানেক্ট ২০২৫’ শুরু হচ্ছে বুধবার। মেটার প্রধান কার্যালয় মেনলো পার্কে বসছে এ আয়োজন। এবারের আয়োজনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে কোম্পানির নতুন প্রজন্মের স্মার্ট গ্লাস।

    এআই–চালিত স্মার্ট গ্লাসটি বাজারে ইতোমধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রেও-ব্যান ও ওকলের যৌথভাবে তৈরি এ গ্লাস। এছাড়া থাকতে পারে আরও চমক— হাইপারনোভা নামে নতুন ধরনের স্মার্ট গ্লাস।

    ফাঁস হওয়া একটি ভিডিও সূত্রে দেখা গেছে, চশমার ডান লেন্সে থাকছে হেডস-আপ ডিসপ্লে। সঙ্গে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারী।

    শুধু রেও-ব্যান নয়, আলোচনায় আছে ওকলের স্পেয়ারা স্টাইল মডেলও। দৌড়বিদ বা বাইকারদের জন্য এটির বড় ইউনিফাইড লেন্স বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। আগের মডেলগুলোর তুলনায় এর ডিজাইন আরও স্পোর্টি। আর ক্যামেরা বসানো হয়েছে নাকের ঠিক উপরে।

    কানেক্ট মঞ্চের আরেকটি বড় আলোচনার বিষয় হতে পারে- মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস। সাবেক স্কেল এআই প্রধান আলেকজান্ডার ওয়াংকে নেতৃত্বে রেখে এ ল্যাব গড়ে তুলেছে মেটা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক দৌড়ে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতেই এই উদ্যোগ।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্লাসের সঙ্গে এআই– এর সমন্বয় মেটাকে নতুন প্রজন্মের কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্মের শীর্ষে নিয়ে যেতে পারে। কোম্পানির প্রধান বিজ্ঞানী মাইকেল অ্যাব্রাশ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিউকম্ব বৃহস্পতিবার এ প্রসঙ্গে আলোচনা করবেন।

    মেটাভার্স পেছনে, নাকি সামনে?

    ‘মেটা কানেক্ট’ নাম শুনলেই মেটাভার্সের কথা মনে আসে। তবে এবারের আয়োজনটি মেটাভার্সের চেয়ে এআই ও ওয়্যারেবল প্রযুক্তির ওপর বেশি জোর দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও সিইও মার্ক জাকারবার্গ তার মূল বক্তব্যে মেটাভার্সের প্রসঙ্গ তুলবেন— এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

    কবে, কোথায়, কীভাবে দেখা যাবে?

    বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় শুরু হবে মূল বক্তব্য। মেটার ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে সরাসরি দেখা যাবে অনুষ্ঠানটি। এছাড়া মেটা কুয়েস্ট হেডসেট ব্যবহারকারীরা ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতেও উপভোগ করতে পারবেন এ আয়োজন।

    ডেভেলপারদের জন্য আলাদা সেশনও থাকছে। যেখানে এআই–চালিত নতুন অভিজ্ঞতা তৈরির দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

    সামনে কী অপেক্ষা করছে?

    মেটা ইতোমধ্যেই লাখ লাখ স্মার্ট গ্লাস বিক্রি করেছে। তবে চলতি বছরের হাইপারনোভা বা নতুন ওকলি মডেল সফল হলে, প্রযুক্তি বিশ্বে সত্যিকারের ‘চোখের বিপ্লব’ ঘটতে পারে।

    আর যদি তা হয়, তবে বলা যায়— মেটা আবারও প্রমাণ করবে, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি আমাদের চোখ দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে।