Category: প্রচ্ছদ

  • ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধান উপদেষ্টা, দুর্গোৎসব ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার

    ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধান উপদেষ্টা, দুর্গোৎসব ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার

    অনলাইন ডেস্ক: শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে উপস্থিত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে তিনি মন্দিরে পৌঁছান এবং সেখানে আয়োজিত এক সভায় যোগ দেন।

    এসময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ধর্মীয় উৎসবগুলো সামাজিক সম্প্রীতি ও মিলনের বন্ধনকে শক্তিশালী করে। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে উল্লেখ করেন, পূজার সময় সামনাসামনি দেখা ও কথা বলার সুযোগ বছরে একবার আসে, যা পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    এর আগে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সাক্ষাৎ করেন এবং পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে নেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর সারাদেশে এক হাজারেরও বেশি পূজামণ্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সর্বত্র পূজার প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে।

    এদিকে শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী দুর্গাপূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব ঘিরে দেশের শিক্ষার্থীরা এবার টানা ১২ দিনের ছুটি পেতে পারে। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ ছুটি চলবে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজ দাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও শ্রী শ্রী লক্ষ্মীপূজাসহ একাধিক উৎসবের জন্য ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বরের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কার্যত ১২ দিনের বিরতি উপভোগ করবে।

    অন্যদিকে সরকারি অফিসগুলোতেও দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে টানা চার দিনের ছুটির সম্ভাবনা রয়েছে। ১ ও ২ অক্টোবর পূজার ছুটি, তার পর ৩ ও ৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি কর্মচারীরাও দীর্ঘ ছুটির সুযোগ পাবেন।

    ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক এই বৃহৎ উৎসবকে ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতে শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ : প্রধান উপদেষ্টা

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ : প্রধান উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও গভীর করতে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

    সোমবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সহায়তার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। এটি আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের (ইউএসটিআর) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত— বাংলাদেশি রপ্তানির উপর শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশল, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও সয়াবিনসহ কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধি, জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানি, বেসামরিক বিমান কেনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং  রোহিঙ্গাদের চলমান মানবিক সংকট নিয়ে আলোচনা হয়।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পণ্য আমদানি করতে প্রস্তুত। এর ফলে ভবিষ্যতে শুল্কহার আরও হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যা দুই দেশের মধ্যে টেকসই ও পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে।

    খসড়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির দ্রুত স্বাক্ষর প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের স্বার্থ এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়াটাই সহজ এবং আরও আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠেছে।’

    যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত ১১ দফা শ্রম কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রমমান ও ন্যায্য অনুশীলন রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ ও স্বল্পসুদে ঋণ প্রত্যাশা করছে।

    অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের দরজা বাংলাদেশে আরও প্রশস্ত হয়।’ এক্ষেত্রে তিনি আশ্বস্ত করেন, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

    ব্রেন্ডান লিঞ্চ আলোচনায় বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তার সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘটতি কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই উদ্যোগের ফলে আলোচনার প্রক্রিয়া মসৃণ হয় এবং ইতিবাচক ফল আসে।

    প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা একটি শক্তিশালী আলোচনা দল পাঠিয়েছিলেন, যারা কঠোর পরিশ্রম করে অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করেছে।’ তিনি শুল্ক চুক্তি ও ক্রয় প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এমিলি অ্যাশবি, এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন উপস্থিত ছিলেন।

  • ভোলাহাটে ক্যান্সার সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত!!

    ভোলাহাটে ক্যান্সার সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত!!

    এম.এস.আই শরীফ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে “বাংলাদেশর ক্যান্সার শিক্ষা এবং সচেতনতা” কর্মসূচীর আওতায় মহিলাদের মধ্যে ক্যান্সার বিস্তার ও প্রতিরোধ বিষয়ক সেমিনার আয়োজনের জন্য সাইফুন্নেসা-মকবুল দাতব্য চিকিৎসালয় ভোলাহাট মনোনিত হওয়ায় সে লক্ষ্যে পল্লীমঙ্গল ইন্সটিটিউট অফ সাইন্স এণ্ড টেকনোলজি কলেজ মিলনায়তনে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকাল ৯টায় স্থানীয় মহিলা-পুরুষদের নিয়ে ক্যানসার সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    ডাইসিন গ্রুপের সহযোগিতায় ও সাইফুন্নেসা-মকবুল দাতব্য চিকিৎসালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সার্বিক তত্বাবধানে ক্যানসার সম্পর্কে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে সচেতনতামূলক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ডাইসিন গ্রুপের পরিচালক রেজওয়ানুর রহমান, ডাইসিন গ্রুপের জিএম-ওয়্যার হাউজ আবুল কালাম আজাদ, প্রফেসর ডাঃ মুশতাক ইবনে আইয়ুব- ডিফিল ইন অনকোলজী, প্রফেসর ডাঃ মোঃ সাবিনা ইয়াসমিন-ডিপার্টম্যান্ট অফ জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অফ বায়োটেকনোলজি ইউনিভার্সিটি অফ ঢাকা, ডাঃ কানিজ ফাতিমা ও ডাইসিন গ্রুপের কর্মকর্তাগণ এবং ক্যানসার সচেতনতা বিষয়ে ডাক্তার ও অতিথিগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • ১৮ দিন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছাড়লেন নুরুল হক নুর

    ১৮ দিন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছাড়লেন নুরুল হক নুর

    অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হওয়ার পর টানা ১৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর হাসপাতাল ছেড়েছেন। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা উন্নত বলে বিবেচনা করলে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতাল ত্যাগ করেন তিনি।

    গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে নুরসহ বহু নেতাকর্মী আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় নুর রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তার নাক ফেটে যায়। পরে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও রাতেই চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়।

    ঢামেক হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি ভিত্তিতে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং সারারাত তার নিবিড় চিকিৎসা চলে। পরদিন সকালে তিনি চেতনা ফিরে পান। এরপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে নুরকে পুরাতন ভবনের চতুর্থ তলার আইসিইউতে রাখা হয়। ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

    ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বিজয়নগরে সংঘর্ষের ঘটনায় নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এই ঘটনায় জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণ অধিকার পরিষদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে।

  • তরুণদের শক্তিতেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

    তরুণদের শক্তিতেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তরুণরা সক্রিয় থাকলে দেশের কোনো সমস্যাই অমীমাংসিত থেকে যাবে না। সমাজের প্রতিটি স্তরে তরুণদের মেধা, শক্তি ও সৃজনশীলতা কাজে লাগাতে পারলেই বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

    সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ‘ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ আমরা তারুণ্যের শক্তিকে উদযাপন করছি। এটিই আমাদের জাতির চালিকাশক্তি। যখন একটি দেশের যুবসমাজ উদ্যমী, সক্রিয় ও উদ্ভাবনী শক্তিতে সমৃদ্ধ হয়, তখন কোনো প্রতিবন্ধকতাই তাদের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারে না।”

    তিনি আরও বলেন, তরুণরা শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ রক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়ও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে এ দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে তরুণরাই নেতৃত্ব দিয়েছে।

    প্রফেসর ইউনূস জানান, “আমাদের চলার পথে জনস্বাস্থ্যের সংকট, শিক্ষার সীমাবদ্ধতা কিংবা পরিবেশগত বিপর্যয়ের মতো নানা চ্যালেঞ্জ আসবে। কিন্তু এগুলোকে হতাশার কারণ হিসেবে না দেখে বরং ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আমি আশা করি এ কাজেও তরুণরা নেতৃত্ব দেবে।”

    তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবা শুধু আর্তমানবতার কল্যাণে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আত্মোন্নয়ন, চরিত্র গঠন এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের আদর্শ মাধ্যম। আজকের পুরস্কারপ্রাপ্তরা শুধু স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নয়, ভবিষ্যতে সমাজের নীতি নির্ধারক, উদ্ভাবক ও পরিবর্তনের স্থপতি হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।

    প্রধান উপদেষ্টা তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “তোমাদের প্রতিটি ক্ষুদ্র উদ্যোগও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। শিক্ষা খাতে ছোট পদক্ষেপ দেশের মান উন্নত করতে পারে, স্বাস্থ্য সেবায় উদ্যোগ হাজারো প্রাণ রক্ষা করতে পারে, আর পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করতে পারে।”

    তিনি স্বীকার করেন, স্বেচ্ছাসেবার পথ সহজ নয়। সময়, অর্থ এবং মানসিক চাপের মতো নানা বাধা অতিক্রম করেই ধৈর্য, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণ অর্জন করতে হয়। তবে তরুণদের সম্মিলিত প্রয়াসই বাংলাদেশকে উন্নত, মানবিক ও উদ্ভাবনী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া এবং স্বাগত বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব আলম।

  • ৫ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াতের

    ৫ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াতের

    অনলাইন ডেস্ক: পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিসহ ৫ দফা দাবিতে ৩ দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের এসব দাবি ঘোষণা করা হয়।

    দলটির নেতাদের বরাতে জানা গেছে, পিআর পদ্ধতির বাস্তবায়ন, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধকরণসহ ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ১৮, ১৯ ও ২৬ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে জামায়াত।

    এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমরা সংসদের উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষ উভয় ক্ষেত্রেই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির বাস্তবায়ন চাই। রাজনৈতিক বৈচিত্র্য ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পিআর পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।

    পাঁচ দফা উপস্থাপন প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল্লাহ তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আজ ১৫ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের পাঁচ দফা গণদাবি জাতীয় সামনে তুলে ধরছি।

    ১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

    ২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয়কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করতে হবে।

    ৩. অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।

    ৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম ও গণহত্যা, দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।

    ৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও নানা শ্রেণিপেশার মানুষ পিয়ার পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। এমতাবস্থায় জনগণের দাবি আদায়ের জন্য গণআন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। তাই আমাদের এই কর্মসূচি ঘোষণা।

    তথ্য অনুাযায়ী, জামায়াতের তিন দিনের কর্মসূচি: ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ। ১৯ সেপ্টেম্বর দেশের সকল বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ। ২৬ সেপ্টেম্বর সকল জেলা উপজেলায় বিক্ষোভ।