Category: প্রচ্ছদ

  • স্বতন্ত্র কাঠামোর দাবিতে তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    স্বতন্ত্র কাঠামোর দাবিতে তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজ নিয়ে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসা সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা এবার তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র কাঠামো বজায় রাখার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। এ দাবিকে ঘিরে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে মহাখালী এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

    সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী কলেজের মূল ফটকের সামনে সড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাখালীর আমতলী থেকে গুলশানমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে থাকে।

    বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) এ কে এম মইনুদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানান, পুলিশ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। শুরুতে শিক্ষার্থীরা সরতে রাজি না হলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা অবরোধ তুলে নেন।

    অবরোধ শেষে আন্দোলনে থাকা এক শিক্ষার্থী বলেন, তাদের দাবি দ্রুত মেনে না নিলে আগের মতোই কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা জানান, পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হলেও তারা নিজেদের স্বতন্ত্র কাঠামো বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

  • রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিলে বিএনপিকে লক্ষ্য করে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের চেষ্টা: রিজভী

    রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিলে বিএনপিকে লক্ষ্য করে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের চেষ্টা: রিজভী

    অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন, রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এমন একটি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে চাইছে, যা বিএনপিকেও ঘায়েল করতে লক্ষ্য রাখে। তিনি বলেন, এটি কি কোনো গভীর নীলনকশার অংশ নয়—যা মানুষের জন্য ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    রিজভী আরও বলেন, দেশজুড়ে এমন কিছু শক্তির উত্থান ঘটছে যা গণতন্ত্রের চর্চা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিএনপি দেশের মাটি মিশ্রিত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কৃতি চর্চা করে, যেখানে জামায়াতে ইসলামী ইসলাম প্রচারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক আগেই, তাই জনগণেরও মতামত রয়েছে।

    ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ব্যালট পেপার একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে ছাপানো হয়েছে, যার মালিকের সঙ্গে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি প্রেসের মাধ্যমে ব্যালট ছাপানো যেত, কিন্তু তা না করে ব্যক্তিগত প্রেসে ছাপানো হয়েছে। এমন অনিয়ম দেখে জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষকেরাও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভূমিকার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোড অব কনডাক্ট অনুযায়ী সাবেক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। তিনি বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক আত্মিক সম্পর্কের পরিপন্থী এবং নির্বাচনকে একচেটিয়া করতে সরকারপন্থী কিছু মানুষের সঙ্গে আঁতাত করে উপাচার্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভূমিকা পালন করেছেন।

    রিজভী আরও বলেন, অতীতে অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অনেকেই এখন নতুন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন। তারা সাংস্কৃতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন, যা দেশের গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্বাভাবিকতায় প্রভাব ফেলে।

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৮তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।

  • ফেব্রুয়ারিতেই মহোৎসবের জাতীয় নির্বাচন : প্রধান উপদেষ্টা

    ফেব্রুয়ারিতেই মহোৎসবের জাতীয় নির্বাচন : প্রধান উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমতের পথে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেটি হবে ‘জাতির নবজন্মের মহোৎসব।’

    আজ রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চলমান সংলাপে তিনি এ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘শুরুতে যখন কমিশনের ধারণা এল, আমি নিশ্চিত ছিলাম না—এটা টিকবে কি না। কিন্তু আজ দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পরে আপনাদের আলোচনা ও সিদ্ধান্তে আমি অভিভূত হয়েছি।’

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কমিশনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোও অনুসরণ করবে। ‘এটা শুধু বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে না, সারা দুনিয়া লক্ষ্য করবে আমরা কিভাবে সমস্যার সমাধান করলাম।’

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতির সামনে আর কোনো বিকল্প পথ নেই। ‘যে পথে আমরা শুরু করেছি, সেই পথ থেকে বের হবার কোনো সুযোগ নেই। এই সমতায় আমাদের আসতেই হবে। এটাই ছাত্র-জনতার দেওয়া সুযোগ, যেখান থেকে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।’

    আগামী নির্বাচনের বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি—ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচন হবে। সেটি হবে মহোৎসবের নির্বাচন, যদি আমরা ঐক্যমতের মাধ্যমে ফয়সালা করতে পারি। এই নির্বাচন শুধু নির্বাচন নয়, এটি হবে জাতির নবজন্ম।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জাতি সত্যিকার নবজন্ম হবে—এটা শুধু নির্বাচন না, এটা নবজন্ম। এই যে এত ত্যাগ, এত রক্ত—এগুলো সার্থক হবে যদি আমরা এই নবজন্মটা লাভ করতে পারি।’

    তিনি সতর্ক করে দেন, বিভাজন বা দ্বিমতের কোনো স্থান নেই। ‘আমরা অনেক কথা বলতে পারি, কিন্তু দ্বিমত রেখে সমাপ্ত করতে পারব না। যখন ঐকমত্যে পৌঁছাবো, তখনই নির্বাচন সার্থক হবে।’

    অধ্যাপক ইউনূস উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আমাদের হাতে এখন আলাদিনের প্রদীপের মতো সুযোগ এসেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সেই শক্তি এনে দিয়েছে। আমরা চাইলে ছোটখাটো বিষয় চাইতে পারি, আবার চাইলে পুরো জাতিকে নতুনভাবে গড়তে পারি। এই সুযোগ একবারই এসেছে, আর আসবে না।’

    রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। ‘এত বড় কাজ আর কোনোদিন পাওয়া যাবে না। তাই ধৈর্য ধরে আমাদের এগোতে হবে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আমাদের কাজ হলো—কোনো দ্বন্দ্ব ছাড়াই মহোৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করা।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা হাইওয়ে বানিয়ে ফেলেছি, এখন শুধু সাইনবোর্ড বসানো বাকি। পথ ঠিক আছে, গন্তব্য পরিষ্কার। এই নির্বাচন হবে উৎসবের নির্বাচন, দেশের শান্তি ও নতুন যাত্রার সূচনা।’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো সব পথঘাট বন্ধ করা—যাতে কোনো স্বৈরাচার আর ফিরে আসতে না পারে। এজন্য সবাইকে একমত হতে হবে।’

    কমিশনের কাজকে তিনি অভূতপূর্ব অর্জন বলে অভিহিত করেন। কমিশনের সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পরিশ্রমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আপনারা ইতিহাসের এক স্মরণীয় অধ্যায় রচনা করেছেন। এখন শুধু এটিকে নিখুঁতভাবে সমাপ্ত করা দরকার। এর মধ্য দিয়েই নতুন জাতির জন্ম ঘটবে।’

    তিনি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে উদ্দ্শ্যে করে বলেন, ‘এবার আমাদের ব্যর্থ হবার কোনো সুযোগ নেই। ঐকমত্যের এই পথেই আমরা এগোবো, নির্বাচন সফল করব এবং জাতি হিসেবে মহাউৎসবের যাত্রা শুরু করব।’

    এসময় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার।

  • মানুষের জন্ম চাকরির জন্য নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য: অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

    মানুষের জন্ম চাকরির জন্য নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য: অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

    অনলাইন ডেস্ক: অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মানুষ কারো চাকরি করার জন্য নয়, বরং নিজের উদ্যোগ তৈরি করার জন্য জন্মগ্রহণ করেছে। তিনি রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ভবন-২ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষকে তার সক্ষমতার ভিত্তিতে নিজের পথ চিহ্নিত করার সুযোগ দেওয়া উচিত। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোক্তা উদ্ভূত হয়েছে এবং প্রযুক্তির বিকাশের কারণে আরও নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। “প্রযুক্তি আমাদেরকে বিশ্বের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করেছে। এখন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করার সময় এসেছে,” তিনি উল্লেখ করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা চাই প্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব সক্ষমতার আলোকে যেখানে যেতে চায় সেখানে পৌঁছাতে পারুক। পিকেএসএফ নতুন ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনের নতুন যাত্রা শুরু করবে।” তিনি যুব সমাজের উদ্ভাবনী শক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান প্রজন্ম আগের দিনের মতো নয়; তারা অনেক দূর এগিয়েছে, কয়েক লাখ নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী হয়ে উঠেছে।

    পিকেএসএফ-এর প্রতিষ্ঠার স্মৃতি তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস জানান, প্রতিষ্ঠানটির জন্ম হয়েছিল বিশ্বব্যাংক থেকে আসা ২০ কোটি টাকার ফান্ডকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেন, “ওই ফান্ড না হলে পিকেএসএফ জন্ম পেত না। সেই সময় প্রেসিডেন্ট এরশাদ ফান্ড রাখার জন্য আমাকে সমর্থন করেছিলেন। আমরা লক্ষ্য করেছি, মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে পারলে, ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেমের মাধ্যমে মানুষকে সত্যিকারের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা সম্ভব।”

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পিকেএসএফ পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানসহ অন্যান্য সরকারি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

  • ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই: উপদেষ্টা সাখাওয়াত

    ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই: উপদেষ্টা সাখাওয়াত

    অনলাইন ডেস্ক: নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, হবে এবং হবে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিষয়টি নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যেও কোনো সংশয় নেই।

    শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশালের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় খাল পুনরুদ্ধার, পোর্ট রোড ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতি ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।

    বরিশাল থেকে রাজধানীমুখী যাত্রীদের জন্য নতুন আকর্ষণ হিসেবে চালু হতে যাচ্ছে প্যাডেল জাহাজ- এ খবর জানিয়ে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী অক্টোবর মাস থেকে এই জাহাজ চলাচল শুরু হবে। বরিশালের মানুষের নৌ-যাত্রায় ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সমন্বয় ঘটাতে আমরা প্যাডেল জাহাজ চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এতে শুধু যাত্রীসেবা নয়, পর্যটন খাতও নতুন গতি পাবে।

    সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছেন, যা প্রশংসনীয়। খালগুলো ঘুরে দেখেছি। নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা এবং খাল পাড়সংলগ্ন এলাকায় ওয়াকওয়ে নির্মাণে বিআইডব্লিউটিএ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

    উপদেষ্টা বলেন, মীরগঞ্জ সেতু নির্মাণ এবং হিজলা-মুলাদীতে বাঁধ তৈরির জন্য প্রায় সাড়ে আটশ কোটি টাকা বরাদ্দ আনার চেষ্টা চলছে। এছাড়া ভোলার গ্যাস বরিশালে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

    বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা প্রশাসক, পুলিশ বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন উপদেষ্টা সাখাওয়াত। এ সময় বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রায়হান কাওছার এবং জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

  • শেখ হাসিনার শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে : ফিনান্সিয়াল টাইমস

    শেখ হাসিনার শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে : ফিনান্সিয়াল টাইমস

    অনলাইন ডেস্ক: গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে বলে ব্রিটিশ দৈনিক ফিনান্সিয়াল টাইমস এক প্রামাণ্যচিত্রে দাবি করেছে। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য ভিত্তিক পত্রিকাটির প্রকাশিত এ ডকুমেন্টারির শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশের হারানো বিলিয়নস: চোখের সামনেই লুট’।

    ডকুমেন্টারিতে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনকারী, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে তারা অনুসন্ধান করেছে কীভাবে এই বিপুল অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে এবং সেটি ফেরত আনার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না।

    ডকুমেন্টারির শুরুতেই শেখ হাসিনার নাটকীয় ক্ষমতাচ্যুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। সেখানে ছাত্রনেত্রী রাফিয়া রেহনুমা হৃদি ও রেজওয়ান আহমেদ রিফাদসহ ফিনান্সিয়াল টাইমসের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যুরোপ্রধান জন রিড, পণ্যবাজার সংবাদদাতা সুজানাহ স্যাভেজ, স্পটলাইট অন করাপশন-এর উপপরিচালক হেলেন টেইলর এবং ব্রিটিশ সংসদীয় প্রতিবেদক রাফে উদ্দিন অংশ নেন।

    প্রামাণ্যচিত্রে দাবি করা হয়, পাচার হওয়া অর্থ বিদেশে নেওয়া হয়েছে বাণিজ্যে অতিরিক্ত বা কম ইনভয়েসিং, হুন্ডি ও হাওয়ালা পদ্ধতি এবং যুক্তরাজ্যে সম্পত্তি কেনাবেচার মাধ্যমে। বিশেষ করে লন্ডনকে উল্লেখ করা হয়েছে প্রধান গন্তব্য হিসেবে, যেখানে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিস্তৃত আর্থিক খাত ও লাভজনক সম্পত্তি বাজার এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় ছিল।

    এতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পরিবারের সদস্যরা—যার মধ্যে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকও রয়েছেন—বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের দুর্নীতির মামলায় অবকাঠামো প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত। এছাড়া প্রাক্তন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমের নামও উল্লেখ করা হয়েছে অর্থ পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে।

    জন রিড জানান, তারা এমনসব ঘটনার বর্ণনা শুনেছেন যেখানে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বন্দুকের মুখে ব্যাংকের পরিচালককে অপহরণ করে জোরপূর্বক পদত্যাগ করিয়েছেন এবং তাদের শেয়ার শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠদের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য করেছেন।

    লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক মোশতাক খান বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দুর্নীতি কোনো গোপন বিষয় ছিল না। তিনি আরও বলেন, ‘সেই সময় যা ঘটেছে, তার অনেক কিছুই যেন চলচ্চিত্রের গল্পের মতো। আমার বেশ কয়েকজন বন্ধু কারাবন্দি ছিলেন কুখ্যাত এক কারাগারে, যার নাম ছিল ‘হল অব মিররস’ বা ‘আয়না ঘর’। কারণ ভেতরে গেলে শুধু নিজেকেই দেখা যেত।’

    তিনি উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের সহায়তায় প্রাক্তন শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠরা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

    ফিনান্সিয়াল টাইমসের সংবাদদাতা সুজানাহ স্যাভেজ বলেন, ‘আমরা প্রায়ই মনে করি স্বৈরতন্ত্র ও ব্যাপক দুর্নীতি যেন কেবল দূরদেশেই ঘটে। কিন্তু বাস্তবে এটি বৈশ্বিক সমস্যা, আর যুক্তরাজ্যও এর কেন্দ্রবিন্দু।’

    তিনি আরও বলেন, অর্থ লুট হয়েছে- সেটা জানা এক বিষয়, কিন্তু তা ফেরত আনা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। সম্পদ পুনরুদ্ধারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো—প্রায়শই চুক্তি বা সমঝোতার প্রয়োজন হয়, অর্থ লুটকারীদের সঙ্গেই সমঝোতায় পৌঁছাতে হয়। এতে প্রশ্ন ওঠে—কতটা অর্থ ফেরত আনা যাবে আর তা জনগণের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে। ফৌজদারি মামলার জন্য খুবই কঠোর প্রমাণের মানদণ্ড পূরণ করতে হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পদ পুনরুদ্ধার টাস্কফোর্সের উপদেষ্টা ইফতি ইসলাম বলেন, ‘এটি ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল প্রক্রিয়াগুলোর একটি।’

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকেও প্রামাণ্যচিত্রে দেখানো হয়।

    ইফতি ইসলাম বলেন, ‘অনেকে বলেন, সব ফেরত আনা সম্ভব নয়। আমি বলি, যতটুকু সম্ভব ততটুকু আমাদের লক্ষ্য। আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ খুঁজতে হবে, লেনদেনের ধারা অনুসরণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহায়তা নিতে হবে।’

    তিনি উল্লেখ করেন, এক হিসাবে দেখা যাচ্ছে ব্যাংক ও ব্যবসা খাত থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার লোপাট হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সম্ভবত এটি বিশ্বের ইতিহাসে কোনো দেশের সবচেয়ে বড় অর্থপাচার।’

    সুজানাহ স্যাভেজ বলেন, এ অর্থ ফেরত আনার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য হবে। তবে অর্থ পাচারে অভিযুক্ত কংগ্লোমারেটগুলো ভবিষ্যত সরকারগুলোর ওপর প্রভাব ধরে রাখবে কিনা সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

    জন রিড বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপ্লব হয়তো এক মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত। তবে আবারও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে একদল রাজনীতিবিদ ক্ষমতা পুরোপুরি কুক্ষিগত করবে।’

    অধ্যাপক মোশতাক খান বলেন, ‘যেসব মৌলিক প্রতিষ্ঠান এখন সামনে এসেছে, সেগুলোর সংস্কার অপরিহার্য। যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন, এই সংস্কার ঠেকানো কঠিন হবে।’

    প্রামাণ্যচিত্রটি শেষ হয় ছাত্রনেত্রী হৃদির বক্তব্য দিয়ে: ‘আমাদের সবচেয়ে বড় ভয় হলো, আমরা হয়তো আমাদের শহীদদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারবো না।’