Category: রাজনীতি

  • নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ গণ অধিকার পরিষদের

    নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ গণ অধিকার পরিষদের

    অনলাইন ডেস্ক: নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গণ অধিকার পরিষদ। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের আইনের আওতায় না আনা হলে যমুনা ও সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি চালানো হবে।

    রাশেদ খান অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হয়েছে। “এতদিন পার হলেও স্পষ্ট সিসিটিভি ও ভিডিও থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা সন্দিহান যে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে কি-না,” তিনি বলেন। এছাড়া তিনি হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগেরও দাবি তুলেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা আরও জানিয়েছেন, শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নুরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আরও কিছু দিন হাসপাতালে থাকতে হবে। তারা অভিযোগ করেছেন, সরকারের ঘোষণার পরও নুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়নি বরং তালবাহানা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে দলের পক্ষ থেকে এবং পরিবারের উদ্যোগে নুরকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে বলেও জানান তারা।

    নুরুল হক নুরের ওপর এই হামলার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকা নুরের নিরাপত্তা ও দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ সরকারের ওপর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা প্রয়োজন: সালাহউদ্দিন

    সুষ্ঠু নির্বাচন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা প্রয়োজন: সালাহউদ্দিন

    অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শনিবার গুলশানের একটি হোটেলে ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যত: জনমানুষের ভাবনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় যোগ দিয়ে বললেন, “নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে কিছু সংস্কার প্রয়োজন, সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছাও প্রয়োজন। দলগুলোর ভিন্নমত থাকবে তবে এক অপরের প্রতি সহনশীল হতে হবে।”

    সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা বিএনপির লক্ষ্য। রাষ্ট্রকে অনেক রক্তের বিনিময়ে একটি ট্র্যাকে উঠানো হয়েছে। এখন সাংবিধানিক আইনি কাঠামোয় রূপ দেয়া প্রয়োজন। জনগণ ও ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায় হলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।”

    তিনি বলেন, “জাতীয় প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। সেই সুযোগ দিয়েছে জুলাই আন্দোলন। নানাবিধ মতভেদ থাকলেও এই শক্তি সমুন্নত রাখতে হবে।”

    সাংবিধানিক সংস্কারসহ অন্যান্য সংস্কার যারা এখনই চাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন-বলেন বিএনপির এ নেতা।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েই জাতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: সালাহউদ্দিন

    সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েই জাতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: সালাহউদ্দিন

    অনলাইন ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের নানা অর্জন ও ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকারের সাফল্য থাকলেও যদি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব না হয়, তবে সেই অর্জনের কোনো মূল্য থাকবে না। তিনি মনে করেন, সংবিধান সংশোধন, সংস্কার বাস্তবায়ন ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা—সবকিছু মিলিয়েই জাতীয় জীবনের প্রধান প্রশ্ন এখন নির্বাচন।

    বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশন আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য আয়োজন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তার কাজও সেই সময়সূচি অনুযায়ী এগোচ্ছে।

    সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেবল নির্বাচিত জাতীয় সংসদই সংশোধনী অনুমোদনের ক্ষমতা রাখে। অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় তা হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে বিএনপি অতীতেই ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল, যার বেশিরভাগই ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তার দাবি, সংস্কারগুলো আংশিকভাবে এখনই বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বাকিগুলোও ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, “অনেকে বলেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে না। কিন্তু বিএনপি যে সরকার গঠন করবে—এটা কি কেউ শপথ করে বলেছে? বাস্তবায়নের দায়িত্ব যারাই সংসদে থাকবে, তাদেরই। আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন অবশ্যই করতে হবে।”

    তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত রাখতে কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, ডেপুটি স্পিকার ও বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকারের কিছু সাফল্য আছে, আবার কিছু ব্যর্থতাও আছে। তবে গণতন্ত্র রক্ষার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হবে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, কেয়ারটেকার সরকারের ভূমিকা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। এগুলো নিশ্চিত করতে পারলেই আর কোনো সংসদ ফ্যাসিবাদী আচরণ করতে পারবে না।”

    নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সংসদে নারীদের জন্য সরাসরি নির্বাচনে অন্তত ১০ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সামাজিক বাস্তবতার কারণে নারী অংশগ্রহণ এখনও সীমিত।

    জুলাই গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “এ বিচার যে সরকারই থাকুক থেমে থাকবে না। বিচার তার নিজস্ব বিচারিক প্রক্রিয়াতেই এগোবে।”

    গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্য বক্তারাও মনে করেন, ভোট নিয়ে জনগণের দুশ্চিন্তা দূর করা সরকারের দায়িত্ব। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত না হলে জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের অগ্রগতি সম্ভব নয়।

  • জুলাই সনদের ভিত্তিতেই নির্বাচন হবে: তাহের

    জুলাই সনদের ভিত্তিতেই নির্বাচন হবে: তাহের

    অনলাইন ডেস্ক: রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে গৃহীত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আয়োজিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে মত দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্পষ্টভাবে জানান, জুলাই সনদের ভিত্তিতেই দেশের আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এ বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য একাধিক প্রস্তাব উপস্থাপন করে। প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞ প্যানেল পাঁচটি উপায়ের সুপারিশ দেয়—অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট, বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আলোকে সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ।

    আলোচনায় দলগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন মতামত উঠে আসে। জামায়াতে ইসলামী বিশেষ সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেয়। গণসংহতি আন্দোলন আদালতের মতামত নিয়ে সংসদ সংস্কারের বাধ্যবাধকতা তৈরি করার মতো আইনের পক্ষে মত দেয়। অন্যদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সরাসরি আগামী সংসদেই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়।

    কমিশনের আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়, পূর্ণাঙ্গ সনদ বা এর কিছু অংশ গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন, রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতাবলে বিশেষ সাংবিধানিক আদেশে বাস্তবায়ন, কিংবা সংসদকে সংবিধান সংস্কার সভারূপে প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমেও সনদের ধারা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।

    বিস্তারিত পর্যালোচনার পর কমিশন চারটি কার্যকর পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করে—অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট এবং বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ। ফলে রাজনৈতিক মহলে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এখন এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

  • বাগেরহাটে ৪টি সংসদীয় আসন বহালের দাবিতে হরতাল

    বাগেরহাটে ৪টি সংসদীয় আসন বহালের দাবিতে হরতাল

    অনলাইন ডেস্ক:    বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহালের দাবিতে আজ থেকে মোংলা বন্দরসহ জেলাব্যাপী ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি।

    আজ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট অবরোধ কোরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। হরতাল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে খুলনা-ঢাকা, খুলনা-বরিশাল, খুলনা-মোংলা, মোংলা-ঢাকা ও বাগেরহাট-ঢাকা মহাসড়কসহ ১৬টি রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে অন্তত ২১ জেলার সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সেইসাথে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়াও।

    আন্দোলনকারীরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের একটি সংসদীয় আসন কমিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করেছে। জেলার ভৌগোলিক অবস্থা, জনসংখ্যা, মোংলা বন্দর, ইপিজেড-শিল্পাঞ্চল ও দুটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইডসহ গুরুত্ব বিবেচনায় চারটি আসন বহাল রাখা প্রয়োজন। আসন কমে গেলে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, চাকরি ও বিভিন্ন সরকারি সেবায় বাগেরহাটবাসী বঞ্চিত হবে। তাই চারটি আসন বহাল রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান তারা।

  • ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের বুনিয়াদ গড়ে দিয়েছে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: মামুনুল হক

    ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের বুনিয়াদ গড়ে দিয়েছে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: মামুনুল হক

    অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের বুনিয়াদ গড়ে দিয়েছে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড।

    ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আওয়ামী লীগের চালানো নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার, শাপলা চত্বরে শহীদ হওয়া আলেম ও মাদ্রাসাছাত্রদের খোঁজখবরসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন দৈনিক যুগান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তোফায়েল গাজালি।

    আপনি প্রায় বক্তব্যেই বলেন, ‘প্রয়োজনে আবার শাপলা চত্বরে যাব।’ শাপলা থেকে আপনারা পালিয়ে এসেছিলেন। সেখানে আবার যেতে চান কেন?

    জবাবে মামুনুল হক বলেন, শাপলা চত্বর থেকে পালিয়ে আসা কথাটার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই একমত নই। সেদিন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী গুলি, টিয়ারশেল দিয়ে নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলা চালায়। গুলির মুখে সেখানে অবস্থান করাটা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। আর এর কোনো নজিরও ইতিহাসে নেই। সেদিন বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছে, কেউ আহত হয়েছে, কারও চোখ নষ্ট হয়েছে, কারও অঙ্গহানি হয়েছে।

    তিনি বলেন, এ হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বে এমন কলঙ্কের দাগ লেগেছে যা শত-সহস্র বছরেও মুছবে না। বরং এ শাপলা চত্বরই বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের বুনিয়াদ গড়ে দিয়েছে। ২০১৩ সালের আন্দোলনই ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বিপ্লবকে সফল করেছে।

    তিনি আরও বলেন, শাপলা আমাদের চেতনার বাতিঘর। যেমনিভাবে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বালাকোটের রণাঙ্গনে বাহ্যিকভাবে মনে হয়েছিল যে, বীর যোদ্ধারা পরাস্ত হয়েছেন। কিন্তু আসলে সেই আত্মদান এবং শাহাদতের মাধ্যমে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ভিত শক্ত হয় এবং এক সময় ব্রিটিশরা এদেশ থেকে বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়েছিল।

    মামুনুল হক বলেন, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে আমাদের জন্য নতুন এক ‘বালাকোট’ তৈরি করেছে। শাপলা আজ আমাদের চেতনার বাতিঘর। আমরা বিশ্বাস করি, অন্যায়-অবিচার, জুলুম-স্বৈরতন্ত্র কিংবা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এ শাপলার চেতনা আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে উজ্জীবিত রাখবে। এজন্যই আমরা বলি, শাপলা শুধু একটি দিন বা একটি ঘটনা নয়, এটি একটি প্রতীকী ইতিহাসে পরিণত হয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করতে এটি সাহসের প্রতীক। তাই যখনই অন্যায় দেখি, তখনই আমরা শাপলার চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার কথা বলি।

    হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, প্রকাশিত তালিকাটি হেফাজতে ইসলামের প্রণীত বা অনুমোদিত তালিকা নয়। এটি কোনো একজনের ব্যক্তিগত খসড়া-যা গণমাধ্যমে হেফাজতের নামে ভুলভাবে প্রচারিত হয়েছে। আমরা ২০১৩ সাল থেকেই শহীদদের তালিকা প্রণয়নে কাজ করে যাচ্ছি। এ পর্যায়ে এসে আমার মনে হয়-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। এর অন্যতম কারণ হলো-বহু শহীদের লাশ গুম করা হয়েছে যাদের পরিবার জানেই না যে, তাদের আপনজনের কী হয়েছে, কোথায় গিয়েছে।

    তিনি বলেন, এমনও অনেক আছেন, যাদের লাশ গুম হয়নি। কিন্তু ওই সময় নিরাপত্তার কারণে তাদের পরিবার পরিচয় গোপন করেছে। অনেক শহীদের পরিবার অসুখ-বিসুখ, দুর্ঘটনা ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে লাশ দাফন করেছে। আমরা যাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছি, তাদের তথ্য দিয়ে ‘শহীদনামা’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছি। আমাদের অনুসন্ধান এখনো চলমান।