Category: রাজনীতি

  • ‘বিএনপি বিষোদগার ছাড়া জাতিকে কিছুই দিতে পারেনি’

    ‘বিএনপি বিষোদগার ছাড়া জাতিকে কিছুই দিতে পারেনি’

    বিএনপি বিষোদগার ছাড়া এ সংকটে জাতিকে কিছুই দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রবিবার তিনি তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন।

    জনগণের জীবন-জীবিকার উপর সরকারের কোন দায়িত্ব নেই বিএনপি মহাসচিবের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ওবায়দুল কাদের বলেন জীবন ও জীবিকার চাকা সচল রাখতে শেখ হাসিনা সরকার যখন নানামুখী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তখন বিএনপি সমালোচনা করেছিলেন কেন?

    তিনি বলেন, লকডাউনের জন্য চাপ তৈরি করে মির্জা ফখরুল সাহেব এখন জনগণের জীবীকার কথা বলছেন।

    বিএনপির সুবিধাবাদী রাজনৈতিক চরিত্র এবং ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ইতিমধ্যেই জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে বলেও মত প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    সরকারের অবহেলা আর অজ্ঞতার জন্য না কি পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মহামারীতে বিশ্বের কোন দেশ বিদ্যমান সুবিধা দিয়ে সফলতা পেয়েছে? কোন দেশ হিমসিম খায়নি। সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংকট মোকাবিলা করে চলেছে।

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির বক্তব্যর সূত্র ধরে বলেন, রাস্তায় রাস্তায় মানুষ মরে পড়ে থাকেনি, আর সেটি হয়নি বলেই বিএনপির গাত্রদাহ।

    সাম্প্রতিক করোনা পরীক্ষায় ২টি প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা মানুষকে বিস্মিত করেছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত পূর্বক অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

    মন্ত্রী আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন শেখ হাসিনা সরকার কোন অন্যায়কারীকে ছাড় দেয়নি ভবিষ্যতেও দিবে না।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুরহাট এবং মানুষের ঈদযাত্রা করোনা সংক্রমণের মাত্রাকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, বিশেষজ্ঞদের এমন আশংকায় করেনা বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কয়েকটি জেলায় পশুরহাট না বসানোর পরামর্শ দিয়েছে, বিদ্যমান এ পরিস্থিতিতে এ পরামর্শ খুবই ব্যবহারিক এবং বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ভাল ফলাফল বয়ে আনবে নিঃসন্দেহে।

    তিনি বলেন, যত্রতত্র পশুরহাট বসানো যাবে না,সড়ক মহাসড়কের উপর কিংবা পাশে অনুমতি দেওয়া যাবে না। কেনাবেচায় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

  • চসিক ও ২টি উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা

    চসিক ও ২টি উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, যশোর-৬ আসনে কেশবপুর থানা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ ও বগুড়া-১ আসনে সোনাতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।

    গতকাল সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এর আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেব না। কিন্তু আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সকল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেব।

    এর আগে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান।

    সাক্ষাৎকার শেষে ছয় মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন তারেক রহমান। সবাইকে একযোগে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

    এর আগে ২৮ এপ্রিল ২০১৫ অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন মঞ্জুর আলম। নির্বাচনের দিন সকাল ১১টায় কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। এবার মঞ্জুর আলম ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন।

    গত মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে চসিকের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ছয় নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সহসভাপতি নিয়াজ মোহাম্মাদ খান, সহসভাপতি সৈয়দ আজম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মো. এরশাদ উল্লাহ ও ডা. লুসি খান।

    ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চসিকের মেয়র পদে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী নৌকার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। চসিকের মেয়র পদে বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ মোট ১৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।

    চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে ছাত্ররাজনীতিতে উঠে আসা এই নেতা ইতিপূর্বে দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। মেয়র পদে নির্বাচন করার আগ্রহের কারণে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ছেড়ে দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি পদে আসেন।বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারাবন্দী অবস্থায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নগরীর কোতোয়ালী আসন থেকে।

    বগুড়া-১ আসনের একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি দুই দফায় সোনাতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

    যশোর-৬ আসনে আবুল হোসেন আজাদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি। একাদশ নির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।

    গত ১৮ জানুয়ারি বগুড়া-১ আসনের সাংসদ আব্দুল মান্নান এবং ২১ জানুয়ারি যশোর- ৬ আসনের সাংসদ ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে আসন দুইটি শূন্য হয়।

  • অপরাধ অনুসারেই পাপিয়ার বিচার হবে: ওবায়দুল কাদের

    অপরাধ অনুসারেই পাপিয়ার বিচার হবে: ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অপরাধী যে দলেরই হোক, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। অপরাধ অনুসারেই শামিমা নূর পাপিয়ার বিচার হবে।

    তিনি বলেন, যেই অপরাধে যুক্ত হবে, দলীয় কিংবা যে পরিচয় থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারের সায় রয়েছে বলেই, এসব অপরাধীদের ধরা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। সে যে দলেরই হোক।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

    পাপিয়ার গ্রেফতারের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, অপরাধ অনুযায়ী অপরাধী শাস্তি পাবে। সরকার দলের হোক কিংবা বাইরের হোক- কোনো অপরাধীকে পার পেয়ে যেতে দেয়নি। সব অপরাধীকেই বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। পাপিয়ার পরিচয় যেটাই হোক, অপরাধী হিসেবে এবং অপরাধ অনুযায়ী বিচার হবে।

    পাপিয়ার পেছনে যারা আছেন, তাদের খুঁজে বের করা হবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপরাধের বিচার করতে গেলে তো পেছনের লোক খোঁজা হয়, হবে না কেন? তারা সামনে আসবে না, এটা মনে করার তো কোনো কারণ নেই। আমাদের সরকারের আমলে এ ধরনের বিচার প্রক্রিয়া চলেছে। বিষয়টি যখন আদালতে যাবে, তখন তো সবকিছুই আসবে।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধের জন্য অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করছে এবং শাস্তি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের সায় এবং জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেই আজকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেই স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। অপরাধ-অন্যায় যারাই করবে, তাদের যেটাই পরিচয় হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই অনুযায়ী অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে।

  • ওবায়দুল কাদের-মির্জা ফখরুলের সেই আলোচিত ফোনালাপ ফাঁস

    ওবায়দুল কাদের-মির্জা ফখরুলের সেই আলোচিত ফোনালাপ ফাঁস

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ফোনালাপ নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বমহলে। গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি টেলিফোনে ৭ মিনিট কথা বলেন ফখরুল। পরের দিন ওবায়দুল কাদের নিজেই ওই ফোনালাপের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। এ নিয়ে সর্বত্র কৌতুহলের সৃষ্টি হয়।

    ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কথা বলেছেন ফখরুল। প্যারোল নিয়েও কথা হয়েছিল।

    মির্জা ফখরুল জবাবে দাবি করেন যে, প্যারোল নিয়ে কোন কথা হয়নি। আসলে কি কথা হয়েছিল? তাদের সেই কথোপকথনটি তুলে ধরা হল।

    মির্জা ফখরুল: কাদের ভাই আসসালামুআলাইকুম।

    ওবাদুল কাদের: ওলাইকুম আসসালাম।

    মির্জা ফখরুল: ভাই কেমন আছেন..?

    ওবায়দুল কাদের: হুম, আছি মোটামোটি ভাল।

    মির্জা ফখরুল: আপনার শরীরের অবস্থা এখন কেমন আছে?

    ওবায়দুল কাদের: আছে মোটামোটি ভাল। কয়েকদিন ধরে শরীরটা ভাল যাচ্ছে না।

    মির্জা ফখরুল: চেকাপ করবেন, অসুখের ওপর খেয়াল রাখবেন।

    ওবায়দুল কাদের: হুম, নিয়মিত চেকআপ করাচ্ছি। ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ আছে।

    মির্জা ফখরুল: আপনাকে একটি বিষয় অবহিত করার জন্য ফোন দিয়েছি। আপনি জানেন, আমাদের ম্যাডাম খুবই অসুস্থ। দুইদিন আগে তার পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। তাদের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। তারা আমাকে বলেছেন, ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা খুবই সংকটজনক। যা আপনাকে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।

    ওবায়দুল কাদের: হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেছেন যে, তার অবস্থা স্থিতিশীল। আপনারা বলছেন, অন্য কথা। তাহলে কার কথা শুনবো। মেডিকেলের রিপোর্টের বাইরে যাওয়ার আমাদের কোন সুযোগ নেই। তার বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। আদালতের ওপরতো আমাদের কোন হস্তক্ষেপ করার নাই। এটা আমরা বার বার বলছি এবং এখনও বলছি।

    মির্জা ফখরুল: জি.., আপনি, আমি, জানি যে, কী মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে।

    ওবায়দুল কাদের: কী মামলা মানে? এটাতো আমাদের আমলের সময় মামলা নয়, এই মামলাটি হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। মামলাটি পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে বিচার চলছে। একদিনেও বিচার হয়নি। দীর্ঘদিন বিচার চলার পর ওই মামলার রায় হয়েছে। আদালত রায় দিয়েছে, বিষয়টি আদালতের ব্যাপার। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। আর যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চিকিৎসা চলছে সেটি বিশ্বমানের চিকিৎসা। আমার চিকিৎসাও সেখানে হচ্ছে।

    মির্জা ফখরুল: আমরা আদালতে বার বার জামিনের জন্য আবেদন চাইতে গেছি। আদালত দেয়নি। আপনি বলেন, বিচার বিভাগ কী পুরোপুরি স্বাধীন?

    ওবায়দুল কাদের: বিচার বিভাগ পুরোপুরি স্বাধীন রয়েছে। এই বিচার বিভাগের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে। আদালত স্বাধীন।

    মির্জা ফখরুল: হুম…., আমরা বার বার আদালতে গেছি….কিন্তু, আদালত ম্যাডামকে জামিন দেয়নি। বিষয়টি আপনারা মানবিক দৃষ্টিতে দেখেন। তিনি তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী। বাংলাদেশের বড় দলের সর্বোচ্চ নেতা। আপনারা মানবিক দৃষ্টিতে দেখেন। আপনাদের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

    ওবায়দুল কাদের: হুম.., আমরাতো বলেছি যে, আমরা আদালতের বাইরে যেতে পারবো না। এর বাইরে যাওয়া সরকার ও দলের কোন এখতিয়ার নেই। আপনারা আদালতে যান। আদালতেই আপনাদের সামনের শেষ রাস্তা।

    আরেকটি রাস্তা আছে যে, তাকে প্যারোল চাইতে হলে আইন অনুযায়ী তাকে দোষ স্বীকার করে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। প্যারোলের আবেদন আসলে সরকার বিষয়টি ভেবে দেখবে। আমাদের গণ্ডির মধ্যে থাকতে হবে….। এর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

    মির্জা ফখরুল: আমরা যে, প্যারোল চাইবো তা আপনাদের এই মামলা নিয়ে যে সব কাণ্ড করলেন তা ভরসা করতে পারছি না। প্যারোল চাইলেই যে, তিনি মুক্তি পাবেন তা ভরসা করা যাচ্ছে না। তার দল থেকে প্যারোল চাইতে পারে। তবে আমরা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার জন্য আপনাদের কাছে দাবি করছি। আপনারা বিষয়টি মানবিক হিসাবে দেখেন। ম্যাডাম খুব অসুস্থ। হঠাৎ একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেলে এর দায় কে নিবে বলেন? আপনারা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণে দেখেন।

    ওবায়দুল কাদের: বিষয়টিতো মানবিকভাবেই দেখা হচ্ছে। তার ভাল চিকিৎসা হচ্ছে, উন্নত হাসপাতালে। আপনারা আদালতে যান। আদালতেই এর সমাধান দিবে।

    মির্জা ফখরুল: ওকে, কাদের ভাই ভাল থাকেন।

    ওবায়দুল কাদের: আপনিও ভাল থাকেন।

  • গুটি কয়েকজনকে দিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন বলা যাবে না : রওশন

    গুটি কয়েকজনকে দিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন বলা যাবে না : রওশন

    বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেছেন, জাতীয় পার্টি (জাপা) বিরোধী দল হিসেবে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরছে। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়নে সহযোগিতা করছে। যে কারণে দেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়নে জাপার ভূমিকা কোনো অংশে কম নয়। ইতিহাস একদিন এর মূল্যায়ন করবে।

    মঙ্গলবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের উপর আলোচনা ও ষষ্ঠ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    রওশন বলেন, অতীতে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয় হয়নি। যে কারণে দেশের অগ্রগতি হয়নি। বক্তব্যের একপর্যায়ে রওশন এরশাদ প্রশ্ন রাখেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন কোথায়?’ এ সময় স্মিত হেসে প্রধানমন্ত্রী আঙুল দিয়ে নিজের, স্পিকার ও বিরোধী দলীয় নেতাকে ইঙ্গিত করেন। সংসদ সদস্যরা এসময় টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান। এরপর রওশন এরশাদ বলেন, আমি বলতে চাইছি যে ভাগ্যচক্রে এটা হয়ে গেছে। গুটিকয়েক মহিলাকে নিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা যাবে না। শিক্ষার হার দেখতে হবে। নারীরা কীভাবে নির্যাতিত হচ্ছে এটা দেখতে হবে।

    দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হয়নি দাবি করে রওশন বলেন, প্রধানমন্ত্রীতো প্রধানমন্ত্রী, তিনি থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীকে কেউ সরাতে পারবেন না। আর তিনি নিজে বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন ভাগ্যক্রমে। সংসদে পুরুষ সদস্য বেশি, নারী কম। গুটি কয়েক নারীকে নিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা যাবে না।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন- বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়াকে অতিক্রম করে যাবে। অর্থমন্ত্রী কীভাবে একথা বললেন, তার ব্যাখ্যা শোনার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে আছেন।

    রওশন বলেন, ব্যাংকে টাকা নেই, অনেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি, টাকা বাইরে নিয়ে গেছে, শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়ে গেছে, সোনা তামা হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরকে টপকে যাবে তার একটি ব্যাখ্যা অর্থমন্ত্রীর দেওয়া উচিত।

    শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সমালোচনা করে রওশন বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বেশিরভাগ সময় বিদেশে থাকেন, তাহলে কীভাবে শিক্ষার উন্নয়ন হবে। তাকে খুবই কম দেখেছি সংসদে। কোনো সময় তাকে পাওয়া যায় না। আজকেও নেই।

    পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের কচুরিপানা নিয়ে বক্তব্যের সমালোচনা করে রওশন বলেন, কিছু কচুরিপানা নিয়ে এসেছিলাম।প্ল্যানিং মিনিস্টার এখানে নেই। গরুর খাবার কি মানুষ খেতে পারে? ঘাসে তো ভিটামিন আছে। আমরা কি ঘাস খাই?

    রওশন অভিযোগ করেন,সিটি করপোরেশন এখন ড্রেন পরিষ্কার করে না। মশার যন্ত্রণা বেড়েছে। কথা বলতে গেলে মুখে মশা ঢোকে যায়। জনগণ ওয়াসা, সিটি করপোরেশনকে কর দেয়। তিনি বলেন, ‘তাহলে ট্যাক্স বন্ধ করে দেব। যদি সেবাই না পেলাম তাহলে কেন দেব?’ তরুণ প্রজন্ম রাতে ঘুমায় না, পড়াশোনা করে না দাবি করে রওশন রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ফেসবুক বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন।

  • ‌‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে’

    ‌‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে’

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে।

    তিনি বলেন, বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে জনবিস্ফোরণের চেষ্টা করছে বিএনপি। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে। আসলে বিএনপি সব কিছুতেই রাজনীতি করতে চায় তাই তাদের দলের নেত্রীর মুক্তি নিয়েও রাজনীতি করছে।

    আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের খুলনা বিভাগীয় অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

    বেগম জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি সব কিছুতেই রাজনীতি করতে চায়, তাই তাদের দলের চেয়ারপার্সনের মুক্তি নিয়েও রাজনীতি শুরু করেছে। ফখরুল সাহেব ঝানু রাজনীতিক হতে পারেন কিন্তু চিকিৎসক না। তিনি কিভাবে বলবেন, খালেদার শরীরের অবস্থা কেমন?

    ওবায়দুল কাদের বলেন, চিকিৎসার ব্যাপারে মির্জা ফখরুল কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। চিকিৎসকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা বার্ধ্যক্যের কারণে যে অবস্থানে থাকার কথা, সেই অবস্থানে তার শারীরিক অবস্থা রয়েছে। কিন্তু ফখরুল সাহেব একবার বলেন তার অবস্থা খারাপ, আবার বলেন মানবিক কারণে মুক্তি দেওয়ার কথা।

    খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি সরকারের হাতে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, খলেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা। সরকার কীভাবে মুক্তি দেবে? যদি, রাজনৈতিক মামলা হতো তাহলে রাজনৈতিক বিবেচনায় মুক্তির প্রশ্ন ছিল?

    খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ফোনালাপ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মির্জা ফখরুল ফোনে আমাকে অনুরোধ করেছিলেন যেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কথা বলি। ব্যাপারটি এখন মির্জা ফখরুল অস্বীকার করলে তা প্রমাণ করারও সুযোগ রয়েছে। তিনি আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন, সেটার রেকর্ড আছে।

    তিনি বলেন, অসত্য কথা কেন বলবো। তিনি আমাকে অনুরোধ করেছেন। তিনি কি প্রমাণ করতে চান যে তিনি অনুরোধ করেননি। তাহলে কিন্তু প্রমাণ দিয়ে দেব। কারণ, টেলিফোনে যে সংলাপ, এটা তো আর গোপন থাকবে না। এটা বের করা যাবে। ফোনে কথা বলবে এটা কি গোপন রাখা যাবে। এটার রেকর্ড আছে।