Category: রাজনীতি

  • আজ চট্টগ্রাম যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

    আজ চট্টগ্রাম যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

    আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামে যাবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দক্ষিণ জেলা বিএনপির এক নেতার মেয়ের বিবাহোত্তরে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে চট্টগ্রামে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল।

    নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর জানান, মহাসচিব আজ ৩টায় দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দের সাথে চলমান সরকার বিরোধী এবং দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন এবং আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিষয়ে দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা করবেন।

  • বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির ২ মেয়র প্রার্থীর রুদ্ধদ্বার বৈঠক

    বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির ২ মেয়র প্রার্থীর রুদ্ধদ্বার বৈঠক

    জীবন নিউজ প্রতিনিথি : সদ্য-সমাপ্ত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট ‘কারচুপির’ তথ্য কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরেছে বিএনপি। লেকশোর হোটেলে গতকাল রবিবার ধানের শীষের দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন কূটনীতিকদের ব্রিফিং করেন। রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকে কূটনীতিকদের সামনে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা, ইভিএমে কারচুপি, কেন্দ্র দখল, গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণসহ নির্বাচনের সার্বিক চিত্র তথ্য-উপাত্তসহ উপস্থাপন করা হয়।বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ডেনমার্ক, নরওয়ের রাষ্ট্রদূতসহ জার্মানি, তুরস্ক, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৩টি দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাইল জবিউল্লাহ, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শামা ওবায়েদ, আসাদুজ্জামান, জহিরউদ্দিন স্বপন, জেবা খান, মীর হেলাল, ফারহানা মুন্নী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকের পর অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের ঢাকা দক্ষিণের ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন কথা বললেও তাবিথ আউয়াল কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে অংশ নেয়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতারাও সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

    ইশরাক বলেন, এখানে দলের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির পক্ষ থেকে একটা প্রেজেন্টেশন দেয়া হয়েছে। তাতে নির্বাচনের দিন কী কী ঘটনা ঘটেছে তা দেখানো হয়েছে। কোন বিষয়গুলো ফোকাস করেছেন, প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কারচুপির ইলেকশন, জালিয়াতির ভোট- এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তারা তো আমাদের উন্নয়ন সহযোগী দেশ তারা জানতে চেয়েছেন ইলেকটেরাল প্রসেসটা কীভাবে সংঘটিত হচ্ছে। তারা আমাদের এখানে বিভিন্ন সময়ে ডেমোক্রেসির ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তাদের একটা আগ্রহ রয়েছে, এত বড় নির্বাচন হয়ে গেল- সেটা কীভাবে হলো? সেগুলোর বিষয়ে আমরা তাদেরকে প্রেজেন্টেশন দিয়েছি। আমরা পুরোটা বলেছি। এখানে নির্বাচনে বিভিন্ন স্তরে কারচুপিটা হয়েছে ভোটকেন্দ্র দখল করে, সেখানে ভোট টিপে ভোট দেয়া থেকে শুরু করে একদম ফলাফল পরিবর্তন যে করা হয়েছে- সবকিছু আমরা আমাদের মতো তুলে ধরেছি। আমরা কোনো অভিযোগ করছি না। তারা জানতে চেয়েছে, আমরা তাদেরকে জানাচ্ছি। তাদের কাছে অভিযোগ করে তো কোনো লাভ নেই।

    আপনাদের বক্তব্যের পর কূটনীতিকরা কী বলেছেন, জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, তারা (কূটনীতিকরা) নির্বাক ছিলেন। তারা খুবই অবাক হয়েছে যে, এভাবে একটা কারচুপি হতে পারে এত বড় একটা নির্বাচনে। তিন-চার স্তরে ভোট কেন্দ্রগুলো দখল করা হয়েছিল বাইরে-ভেতরে সব জায়গায়।

    তিনি বলেন, সাংবাদিক ও আমাদের পোলিং এজেন্টদের আহত করায় তারা (কূটনীতিকরা) ব্যথিত হয়েছেন। আমরা বিভিন্নভাবে পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি যে, কীভাবে ফলাফল স্থগিত করে পরবর্তী সময়ে গভীর রাতে তা পরিবর্তন করা হয়। তারা এসব শুনেছেন, নির্বাক থেকেছেন।

  • সরকার পদত্যাগ না করলে লাথি মেরে নামাতে হবে: ড. কামাল | রাজনীতি

    সরকার পদত্যাগ না করলে লাথি মেরে নামাতে হবে: ড. কামাল | রাজনীতি

    জীবন নিউজ প্রতিনিধি : গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘সরকার পরিবর্তনে আর সভা-সমাবেশ নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামতে হবে। এটা অর্জনে জনগণকে অনুপ্রাণিত করতে আমরা চলুন সবাই ভূমিকা রাখি। যারা ক্ষমতা আত্মসাৎ করেছে তাদের চিহ্নিত করে বিতাড়িত করি। আসুন আর এক মিনিটও দেরি না করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ক্ষমতা আমরা উদ্ধার করি। শহর-জেলায় আমাদেরকে যেতে হবে, বলতে হবে-রুখে দাঁড়ান। দেশটা আমাদের সকলেরই, দেশের ক্ষমতা যারা আত্মসাৎ করেছে তাদের হাত থেকে আমরা দেশকে মুক্ত করি।’

    ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে হবে। সেই সংসদে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে তারা দেশ পরিচালনা করবে। এখন যারা আছে, তাদের লাথি মেরে দেশ থেকে বের করে দিতে হবে। পদত্যাগ পদত্যাগ বললে হবে না। পদত্যাগ না করলে লাথি মেরে নামাতে হবে। ওই সব ভাষায় না হলে, তাদের হাত ধরে টেনে রাস্তায় নামিয়ে দিতে হবে। সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশের মালিকের ভূমিকায় আসতে হবে। উন্নয়নের নামে যে লুটপাট হয় এগুলো থেকে দেশকে মুক্ত করতে দেশের মালিক জনগণকে আবার দাঁড়াতে হবে।’

    শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন তিনি। রাজনৈতিক এবং ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দুই বছর কারাবাসের প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে সভাটির আয়োজন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

    ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান, জেএসডির আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যের ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মহসিন রশিদ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক হোসেন, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, মমিনুল ইসলাম, জেএসডির শাহ আকম আনিসুর রহমান খান, বিকল্পধারার অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, শাহ আহমেদ বাদল ও গণ দলের গোলাম মাওলা চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    স্বাধীনতার ৪৮ বছরে কেউ দেশে রাজবন্দি হবে এটা শুনতে কেমন লাগে বলে উল্লেখ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘আজ বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সভা করতে হবে এটা অকল্পনীয় ও দুঃখের বিষয়। এখন সভা-সমাবেশে নয়, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে সামনে রেখে মাঠে নামবো। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে মাঠে নামতে হবে। চলেন আমরা মালিক হিসেবে ভূমিকা রাখি। যারা আমাদের ক্ষমতাকে আত্মসাৎ করেছে তাদের চিহ্নিত করি। আমাদের রাস্তায় নেমে বলতে হবে দেশে গণতন্ত্র থাকবে, সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হবে। এখন সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে না।’

    দেশে এখন নির্বাচনের নামে প্রহসন হয় দাবি করে ড. কামাল বলেন, ‘তারা রাষ্ট্রক্ষমতাকে জবরদখল করে চালিয়ে যাচ্ছে। আজ সব মানুষের পক্ষে বলতে হচ্ছে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশের ইতিহাসে দেখেছি, জনগণকে অধিকার বঞ্চিত করে কেউ স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। শাসকরা চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাদের ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে। আজ যারা স্বৈরাচার চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সেই ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখা দরকার যে বাঙালি কখনও স্বৈরাচারকে মেনে নেয়নি। আজ আমরা সবাই চাই, শান্তিপূর্ণভাবে দেশটাকে মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’

    কামাল হোসেন বলেন, ‘তারা কী কী প্রচার করছে, অমুক বর্ষ এভাবে উদযাপন করবে। সবাইকে একভাবে উদযাপন করতে হবে। দেশের মালিক হিসেবে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে, এটা একটা প্রহসন।’

    আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার আগে আমরা ৮ দফা দাবি দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও দাবিই পূরণ হয়নি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ছিল দাবিগুলোর মধ্যে। আমি বিএনপি করি না। কিন্তু গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়ার মুক্তি জরুরি।’

    আ স ম রব বলেন,‘শেখ হাসিনাকে বলতে চাই, আপনি কি শান্তিমতো ক্ষমতা থেকে বিদায় নেবেন, নাকি অন্যভাবে যাবেন। সিটি নির্বাচনে মানুষ ভোট না দিয়ে প্রমাণ করছে গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা পরিবর্তন হবে না। তাই তারা ভোট দিতে যায়নি। জনগণ আমাদের বলছে, রাস্তায় নামার জন্য তারা প্রস্তুত। এখনও সময় আছে, শান্তিপূর্ণভাবে বিদায় নেন। না হলে কীভাবে হবে সেটা বুঝতেও পারবেন না।’

    মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এই স্বৈরাচার সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে ফ্রন্টের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামতে হবে। আজ না হোক, এক মাস কিংবা দুই মাস পরে হলেও কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে। না হলে জনগণ নিজেরাই আন্দোলনের পথ বেছে নেবে। আমাদের কথা না বলে আন্দোলনে নামতে হবে।’

    ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি নির্বাচনে যাওয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে কিছুটা উৎসাহিত করেছিলাম। এখন আমি বলতে চাই, তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির আর কোনও নির্বাচনে যাওয়া ঠিক হবে না।’

    ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘এখন আর বক্তব্য দেওয়ার সময় নাই, রাস্তায় নামতে হবে। আন্দোলন করে খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে।’

    প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক নুরল আমিন ব্যাপারী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির শহীদুল্লাহ কাউসার ও ফ্রন্টের দফতরের নেতা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।

  • সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি

    সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি

    জীবন নিউজ প্রতিনিধি : দলের কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ১৫ ফেব্রুয়ারি এই মিছিল করা হবে।

    শনিবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন।

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দুই বছর কারাবন্দী রাখার প্রতিবাদে ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সমাবেশ করেছে বিএনপি। দুপুর সোয়া ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়।

    সমাবেশে যোগ দিতে সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের হাতে খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ফেস্টুনও দেখা যায়।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

    প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে প্রথমে পাঁচ বছরের সাজা দেন আদালত। এরপর পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ বাতিল চেয়ে করা আপিলে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন উচ্চ আদালত।

  • বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীরা জড়ো হচ্ছেন নয়াপল্টনে

    বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীরা জড়ো হচ্ছেন নয়াপল্টনে

    বিএনপির পূর্বনির্ধারিত সমাবেশে যোগ দিতে এরই মধ্যে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরুর কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে সমাবেশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দলটি। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার কারাবরণের ২ বছর পূর্তিতে আজ এ সমাবেশের ডাক দেয় বিএনপি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে। সেখানে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে গত বছরের ১ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে ৩৪টি মামলাতেই জামিনে রয়েছেন তিনি।

  • বিএনপির আচরণ ‘নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা’র মতো: তথ্যমন্ত্রী

    বিএনপির আচরণ ‘নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা’র মতো: তথ্যমন্ত্রী

    বিএনপি যখনই নির্বাচনে হেরে যায় তখন তাদের আচরণ ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা’র মতো অভিযোগ উপস্থাপন করে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বুধবার বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে করা অভিযোগও সেরকম ছিল। তারা সবসময় প্রযুক্তিকে ভয় পায়।’

    বৃহস্পতিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন।

    তথ্যমন্ত্রী বিএনপিকে এ ধরণের আজগুবি অভিযোগ উপস্থাপন না করে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের নেতাকর্মীরা কেন আপনাদের কাছ থেকে সরে গেছেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন ভোটের দিন মাঠে ছিলনা সেই বিশ্লেষণ করুন। তাহলে আপনাদের দল উপকৃত হবে।’

    ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ঢাকা সিটি নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার পর দেখলাম দুই মেয়র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বুধবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তারা কিছু আজগুবি অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন। তারা বলেছেন-ইভিএম মেশিনে নাকি রাত পর্যন্ত ভোট দেওয়া হয়। ইভিএম মেশিনে যদি এমন সুযোগ থাকতো তাহলে ভোট গ্রহণের হার ২৫ শতাংশ থাকতো না, ৬০ শতাংশের উপরে যেত। ইভিএম মেশিন নিজেই সব দলের জন্য পোলিং এজেন্টের কাজ করেন। কারো যদি আঙ্গুলের চাপ না মিলে কোনভাবেই ভোট দেয়ার সুযোগ নেই। এমনকি সিইসিকেও আঙ্গুলের চাপ না মেলায় ভোট দিতে অনেক বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা দ্বিগুণ ভোট পেয়ে যখন জয়ী হয়েছে তখনতো বিএনপিকে নানা ধরণের অভিযোগ উপস্থাপন করতে হবে। সেটাই তারা করেছে।’

    ঢাকা দক্ষিণের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করতে চারটা পর্যন্ত সময় কেন লাগলো? বিএনপির এমন অভিযোগের ব্যাপারে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা তো বিএনপির মতো গোঁজামিল দিয়ে নির্বাচন শেষ হবার দু’ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করিনি। সঠিক ফলাফল ঘোষণার জন্যেই নির্বাচন কমিশন সময় নিয়েছে। বিএনপির এসব অভিযোগ জনগণের কাছে নিজেদের হাস্যাস্পদ হিসেবে উপস্থাপন করছে। দেশের ইতিহাসে ঢাকা দুই সিটির নির্বাচন অন্যতম একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে।’

    বিএনপি সবসময় প্রযুক্তিকে ভয় পায় জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে যখন প্রথম টেলিভিশন আসে তখন অনেকে বলেছে টেলিভিশন দেখলে ঈমান চলে যাবে। আবার যখন দেশে প্রথম মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু হয় তখনও গ্রামেগঞ্জে অনেকে প্রচারণা করেছে এটি ব্যবহার করা যাবেনা। এখন কিন্তু পবিত্র হজ্বের অনুষ্ঠান এবং বিশ্ব ইজতেমার মোনাজাতও টেলিভিশনে লাইভ দেখানো হয়। বিএনপির অবস্থাও হয়েছে সেরকম। ইভিএম মেশিনেও ভোট দেওয়া যাবেনা বলে বিএনপি প্রচারণা চালাচ্ছে।’

    ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিল তখন বাংলাদেশে বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করা হলে তখন তিনি বলেছিলেন- এই সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে বাংলাদেশ যুক্ত হলে দেশের সব গোপন তথ্য চলে যাবে। আর সেই সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে আমরা পরে সংযুক্ত হয়েছি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে। সুতরাং বিএনপি সবসময় প্রযুক্তিকে ভয় পায় আর যখনই হেরে যায় তখন ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা’র মতো অভিযোগ উপস্থাপন করে। বুধবারে তাদের সংবাদ সম্মেলনও সেই ভয়ের বহিঃপ্রকাশ।’

    ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি প্রথম থেকে বলে আসছে ঢাকা সিটির নির্বাচন হচ্ছে তাদের আন্দোলনের অংশ। তাদের আন্দোলন সম্পর্কে মানুষ জানে। ২০১৪ সালে তারা নির্বাচন বানচাল করার জন্য পাঁচশ ভোট কেন্দ্র জ্বালিয়ে দিয়েছিল। ভোটার ও নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসারসহ অনেককে হত্যা করেছে। সুতরাং তারা যখন ঘোষণা দেয় এই নির্বাচন আন্দোলনের অংশ তখন মানুষ সেই হাঙ্গামার আশঙ্কায় করে। সেই কারণেই অনেকে ভোট কেন্দ্রে যায়নি। বিএনপি প্রথম থেকে ইভিএমের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা না চালালে এই উপস্থিতি আরো ৮ থেকে ১০ শতাংশ বেশি হতো।’

    তথ্য মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা সিটি নির্বাচনে কোন কেন্দ্র দখল, বড় কোন হাঙ্গামা হয়নি, সিল মারার কোন ঘটনা ঘটেনি। অতীতে দেখেছি আমাদের দেশে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অনেক হাঙ্গামা, কেন্দ্র দখল ও মানুষ মারা যায়। ঢাকা সিটি করপোরেশনে ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের ফলে এধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। শুধুমাত্র দেশের বিচারে নয় উপমহাদেশীয় মানদণ্ডেও ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল অত্যন্ত ভালো একটি নির্বাচন।’

    তিনি বলেন,‘কয়েকবছর আগে কলকাতা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়েছিল। সেখানে মেয়র পদে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র প্রার্থী ছিল রূপা গাঙ্গুলি, এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা তার স্টেজ ভেঙ্গে দিয়েছে। আর রূপা গাঙ্গুলিকে স্টেজ ছেড়ে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ধাওয়া করে বাড়িতে ঢুকিয়ে দিয়েছে। এধরণের ঘটনা ঢাকা সিটি নির্বাচনে হয়নি। কলকাতা সিটি নির্বাচনের সময় ৭-৮জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। ৫৫ লাখ ভোটারের ঢাকা শহরে এত শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠান করার জন্যে নির্বাচন কমিশন ধন্যবাদ পাওয়ার অধিকার রাখে।’

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যে সরকার সেটা আওয়ামী লীগের সরকার, সরকারের আওয়ামী লীগ নয়। আমাদের মূল ঠিকানা দল। আমরা যারা নির্বাচিত এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান পর্যন্ত সবার মূল ঠিকানা হচ্ছে দল। সুতরাং দায়িত্ব পালন করার সময় দলকে গুরুত্ব দিতে হবে। এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও দলের প্রতীকে হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হবার পর দলীয় কর্মীরা অনেকের কাছ থেকে দুরে সরে যায়। অনেকে আবার নিজস্ব বলয় তৈরি করেন। এটা কোনভাবেই সমীচীন নয়। নিজস্ব বলয় তৈরি করলে দেখা যাবে সংকটের সময় সেই বলয়ের লোকজন থাকবেনা। কারণ মৌচাকে যখন মধু থাকে তখন অনেক লোক ঘুর ঘুর করে। যখন মধু থাকেনা তখন কাউকে আর পাওয়া যায়না।’

    ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘৭৫’র পরে আমরা অনেক বছর ক্ষমতায় ছিলাম না। বুকে পাথর বেঁধে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। দল কিন্তু অনেক শক্তিশালী ছিল। দলের শক্তি বর্তমানের চেয়ে আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম তখন কোন অংশে কম ছিলনা। আজকে পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে আমাদের অনেকের মধ্যে আলস্য এসেছে। এই আলস্য ঝেড়ে ফেলতে হবে। দলে অনেক অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। এদের চিহ্নিত করে তারা যদি দলীয় পদে থাকে তাদেরকে বাদ দিতে হবে। ২০১৪ সালের পর যারা পিঠ বাঁচানোর জন্যে অথবা ক্ষমতার সাথে থাকার জন্য আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে তাদেরকে দলীয় পদে দেওয়া যাবেনা।’

    তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকারসহ বিগত নির্বাচনগুলোতে যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছে তাদের সভাপতি সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা যাবেনা। দলীয় শৃঙ্খলা ছাড়া দলকে আমরা কোনভাবেই শক্তিশালী করতে পারব না।’

    প্রতিনিধি সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন-সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিন্নাতুন নেছা তালুকদার, প্রফেসর মনছুর রহমান এমপি, সাবেক এমপি আকতার জাহান, কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, আয়েন উদ্দিন এমপি, এডভোকেট আদিবা আনজুম মিতা এমপি, এনামুল হক এমপি প্রমুখ। বিকালে একই ভেন্যুতে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।