Category: রাজনীতি

  • ‘খালেদা-তারেকের দুর্নীতিতে দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল’

    ‘খালেদা-তারেকের দুর্নীতিতে দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল’

    বিগত জোট সরকারের আমলে খালেদা-তারেকের দুর্নীতির কারণে দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আর তার চোরপুত্র তারেক রহমান হাওয়া ভবন নিয়ে এতই ব্যস্ত ছিল যে, সে সময় সোনার বাংলা দুর্নীতিতে বিশ্বে কয়েক বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।’

    বুধবার ঈশ্বরদীর পাকশীতে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস আর নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশ অচল করে দিয়েছিল তারা। অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া দেশকে মাত্র ১১ বছরে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোর মুখ দেখিয়েছেন। দেশের অসহায় মানুষগুলো আজ শান্তিতে আছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘২০ বছর আগে অসহায় মা-বোনেরা ছেঁড়া-জোড়াতালি দেওয়া শাড়ি পড়ে থাকতো। এখন মা-বোনদের ছেঁড়া শাড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায় না। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বয়স্ক অসহায় নারীদের বিভিন্ন ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সকল ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে তাই দেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।’

    মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. কাজী সদরুল হক সুধার সভাপতিত্বে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ১৯৭২ সালে বলেছিলেন-বাংলাদেশ একটি ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’। সত্তরের দশকে জাস্ট ফ্যালান্ড ও জন পার্কিনসন নামের দুই অর্থনীতিবিদের যৌথভাবে লেখা বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কিত বিখ্যাত বইটির নাম ছিল বাংলাদেশ: এ টেস্ট কেইস অব ডেভেলপমেন্ট। বিশ্বের এই অর্থনীতিবিদরা বিশ্বাসই করেননি যে, এই দেশ কোনদিন উন্নতি লাভ করবে। অর্থনীতিবিদদের সকল গবেষণাকে ভুল প্রমাণিত করে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।’

    পাবনা জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম বাবু মন্ডলের সঞ্চালনায় অতিথিদের মধ্যে ছিলেন-মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বহির্বিশ্বে জনমত গঠনে ভূমিকা পালনকারী রবিউল আলম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক সচিব রশিদুল আলম, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নি হাবিবা আলম ও মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আজিজা খানম।

    এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নায়েব আলী বিশ্বাস, সহ-সভাপতি রশিদুল্লাহ, ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম হববুল।

    এর আগে বেলা ১২টায় পাকশী উদীচী শিল্পীদের পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত ও গণ সংগীতের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তারপর ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর অতিথিবৃন্দদের ফুল দিয়ে বরণ ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

  • এ দেশে প্রথম ভোট ডাকাতি শুরু করেছিলেন জিয়াউর রহমান: হানিফ

    এ দেশে প্রথম ভোট ডাকাতি শুরু করেছিলেন জিয়াউর রহমান: হানিফ

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রথম এ দেশে ভোট ডাকাতির রাজনীতি শুরু করেছিলেন।’ মঙ্গলবার কুষ্টিয়ায় তার নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান হাঁ-না ভোট করেছিলেন এবং কোথাও কোথাও ১২০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। সেটাও দেশবাসী জানে। বিএনপি ১ কোটি ৩০ লাখ ভুয়া ভোটার বানিয়ে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিল। আজিজ মার্কা ভোট করেছিল। ভোট সংক্রান্ত এত অপকর্মের সাথে যারা জড়িত তাদের মুখে ভোট নিয়ে কোন কথা মানায় না।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের ফল প্রত্যাখ্যান করবে কি করবে না এটা বিএনপির বিষয়। তবে জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে সেটি এবারও প্রমাণিত হয়েছে। এই দল ক্ষমতায় থাকতেও দেশবিরোধী কাজ করেছে, ক্ষমতার বাইরে থেকেও উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিরুদ্ধে কাজ করেছে। তাই এই দলকে নিয়ে মানুষ আর ভাবছে না।’

    এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হাসান মেহেদী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক, আওয়ামী লীগ নেতা প্রকৌশলী ফারুকুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এস এম তানভির আরাফাত পিপিএমসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    পরে তিনি তার নিজ গ্রাম কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন। বিকেল ৩টায় কুষ্টিয়া শহরের গড়াই নদীর পাড় রেনউইক’র পাশে বধ্যভূমির ভিত্তি প্রস্তুর, বিকেল ৪টায় কুষ্টিয়া সিরাজুল হক মুসলিম হাই স্কুলে শহীদ মিনার, ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করার কথা রয়েছে।

  • ভোটের দিন সাংবাদিক হেনস্তাকারী সেই ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

    ভোটের দিন সাংবাদিক হেনস্তাকারী সেই ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

    ঢাকা সিটি করপোরেশনের ভোটের দিন সাংবাদিক হেনস্তাকারী সেই ছাত্রলীগ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

    সোমবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল না‌হিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বহিষ্কার ছাত্রলীগ নেতার নাম শহিদুল ইসলাম খান রিয়াদ। তিনি ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১ ফেব্রুয়ারি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকায় ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে ছাত্রলীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্তে এই বহিষ্কার করা হয়।

    নির্বাচনের দিন রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় দুই সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তাদের আটক রাখাসহ ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন ছাত্রলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম।

  • আওয়ামী লীগের ভোটাররাই গেল কই

    আওয়ামী লীগের ভোটাররাই গেল কই

    ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কম ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে সর্বত্র চলছে নানামুখী আলোচনা ও বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক মহল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিভি টকশো থেকে শুরু করে গতকাল রবিবার অফিস-আদালত, দোকানপাটসহ সব জায়গাতেই আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল ভোটারের খরা। এসব আলোচনায় কান পেতে কমন যে প্রশ্নটি সর্বাধিকবার কানে এসেছে, সেটি হলো—আওয়ামী লীগের ভোটাররাই গেল কই?

    যৌক্তিক-অযৌক্তিক নানা কারণে বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের সিংহভাগ ভোট দিতে কেন্দ্রে না গেলেও ক্ষমতাসীনদের নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও বিপুল অংশ কেন ভোট দিতে যাননি সেটিই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে খাড়া হয়েছে। এই প্রশ্ন উত্থাপনকারীরা বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বেশির ভাগ ভোট দিতে গেলেও ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতির চিত্রটা এমন হতো না। কারণ স্বাভাবিক জরিপ মতেই দলভেদে ঢাকা সিটির মোট ভোটারের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগের সমর্থক। তাছাড়া শনিবারের ভোটের ঘোষিত ফলাফলের হিসাব মতে, দুই সিটিতে আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী এবার যে ভোট পেয়েছেন তা ২০১৫ সালে একই দলের বিজয়ী মেয়রদ্বয়ের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে অনেক কম।

    আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটারদেরও বিরাট অংশের ভোট দিতে কেন্দ্রে না যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. আলমগীরও। ইসি সচিব গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘অনাস্থার কারণে মানুষ ভোট দিতে যাননি, এটা আমার কাছে মনে হয়নি। অনাস্থার কারণে যদি ভোটে না যেতেন, তাহলে যারা সরকারি দল তাদের তো অন্তত ভোটে অনাস্থা নাই। তাদের যদি সব ভোটার ভোট দিতেন, তাহলেও তো এত কম ভোট পড়ত না। তার মানে হলো যারা সরকারকে সমর্থন করেন, তাদেরও অনেক ভোটার ভোট দিতে যাননি।’

    কম ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস এবং উত্তরে আতিকুল ইসলামের ভোটের আগে ২০ দিনের প্রচারণার সময় প্রতিটি স্থানে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী-সমর্থক বা লোকজনের সমাগম দেখা গেছে। কিন্তু প্রচারণা বা গণসংযোগকালের সেই সমাগমের প্রতিফলন দেখা যায়নি ভোটের দিন দুই সিটির কেন্দ্রগুলোতে। ভোট শেষে বিজয়ী দুই মেয়র তাপস ও আতিক নিজেও সেটি স্বীকার করেছেন।

    ঢাকা দক্ষিণের নবনির্বাচিত মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস শনিবার ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আমরা গণসংযোগে যখন গিয়েছি আশা করেছিলাম যে আরো ভোটার উপস্থিতি থাকবে। কারণ যে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়েছিলাম, তাতে আশা করেছিলাম সবাই এসে ভোট দেবেন।’ ভোটারের খরার কারণ ব্যাখ্যায় শেখ তাপস বলেন, ‘এক বছর আগেই একটা জাতীয় নির্বাচন হলো। ঐ নির্বাচনে সবার আগ্রহ থাকে। এখানে যেহেতু সরকার পরিবর্তনের কোনো বিষয় নেই আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এজন্য আগ্রহ কম হতে পারে। আবার ছুটির সময়ে অনেকে ঢাকা ও দেশের বাইরে যেতে পারেন।’ ঢাকা উত্তরে পুনর্নির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলামও ভোট শেষে ভোটারের উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে বলেছেন, ‘আরো ভোটার ভোট দিতে এলে ভালো হতো। তবে শুক্র ও শনিবার ছুটি থাকায় অনেকে ঢাকার বাইরে চলে গেছে, এটাই বাস্তবতা।’

    শুধু আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থীই নন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে দলটির সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচারণায়ও কর্মী-সমর্থকদের সরগরম উপস্থিতি দেখা গেছে। এছাড়া কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদেরও কারও কারও প্রচারণায় ব্যাপক লোক সমাগম হতে দেখা যায়। কিন্তু দুই মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি দল সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীরাও কেন কেন্দ্রে ভোটার আনতে পারলেন না কিংবা আনলেন না—সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।

    নির্বাচনের আগে প্রচার-প্রচারণায় প্রতিটি স্থানেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বিপুল সমাগম থাকলেও ভোটের দিন কেন্দ্রের দৃশ্যের সঙ্গে সেটির মিল না থাকার বিষয়ে অবশ্য কয়েক ধরনের বিশ্লেষণও রয়েছে। কারও মতে, শেখ তাপস বা আতিকুল ইসলাম যখন যেই এলাকায় প্রচারণায় গেছেন তখন সেখানে যত লোক জড়ো হয়েছেন তাদের সবাই কিন্তু ঐ এলাকার ভোটার নন। আবার জড়ো হওয়া সব লোক এক কেন্দ্রের ভোটারও নন। অনেক কেন্দ্রের ভোটাররা ঐ সময়ে দলীয় মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে গণসংযোগ করেছেন, কিংবা পথসভায় অংশ নিয়েছেন। কিন্তু ঐ লোকজন ভোটের দিন ভাগ হয়ে ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট দিতে গেছেন কিংবা দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে গণসংযোগের সময়ে জড়ো হওয়া লোকজনের হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারের উপস্থিতির অঙ্ক মিলবে না।

    আবার এমন মতও রয়েছে যে, প্রচারণার সময় একটি ওয়ার্ডে মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে স্থানীয় হাজার-হাজার লোকজনকে দেখা গেছে। জড়ো হওয়া সেই লোকজনের মধ্যে কয়েক হাজার নিশ্চয়ই স্থানীয়ভাবে ভোটার। ওয়ার্ডভেদে পাঁচ থেকে আটটি ভোটকেন্দ্র থাকে। যদি স্থানীয় ভোটার ও কেন্দ্রের সংখ্যা হিসাব করা হয়, তাহলেও গণসংযোগে জড়ো হওয়া ঐ কয়েক হাজার ভোটারের মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে কয়েকশ ভোটারের ভোট দিতে যাওয়ার কথা। কিন্তু ভোটের দিন বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের উপস্থিতির সেই হার দেখা যায়নি। একইভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থিত কিংবা বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীরাও দলীয় ভোটারদের সিংহভাগকেই ভোটকেন্দ্রে আনতে পারেননি কিংবা আনেননি।

    কম ভোটারের উপস্থিতির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বলেছেন, ‘ভোটার উপস্থিত কম হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। টানা তিনদিন ছুটি, সে কারণে ঢাকার অনেক ভোটার গ্রামে চলে গেছে। বিএনপি শুরু থেকে নির্বাচন ও ইভিএম সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণা করেছে। এজন্য ৮-১০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে। এছাড়া বিএনপি শুরু থেকেই বলেছে—তারা নির্বাচনকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছে। ফলে জনগণের মধ্যে ধারণা জন্মেছে বিএনপি জয়লাভের জন্য নির্বাচন করছে না, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে না। সে কারণেও অনেক ভোটার ভোট দিতে উত্সাহ হারিয়ে ফেলেছে।’

    আর ভোটারের খরার ব্যাখ্যায় ইসি সচিব মো. আলমগীর এ-ও বলেছেন, ‘আমি গেলেও সমস্যা নাই, এ ধরনের একটা মনোভাব থেকে হয়তো অনেকেই ভোট দিতে যাননি। জনগণ ছুটি পেয়েছে, অনেকে ছুটি ভোগ করেছে। কেউ কেউ ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত ছিল।’

    ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটের হার কম হওয়ার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক গতকাল বলেছেন, ‘এর কারণ বিএনপির নির্বাচনবিরোধী চরিত্র। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই বিএনপির নেতারা ও তাদের প্রার্থীরা ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার হয়, এমন ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।’ ভোটারদের আগ্রহী করতে ভবিষ্যতে ইভিএম নিয়ে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানো এবং স্থানীয় নির্বাচনের সময় গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্তটিও পুনর্বিবেচনার ওপর জোর দেন নানক। ভোটের দিন ঢাকা মহানগরে গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা ভোটারের কম উপস্থিতির একটি কারণ বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুও।

    আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি নৈরাশ্যজনকভাবে কম ছিল। নির্বাচনি প্রচারে যে উত্সাহ ও অংশগ্রহণ ছিল ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে সেটির প্রতিফলন ঘটেনি।

  • আওয়ামী লীগের ভোটাররাই গেল কই

    আওয়ামী লীগের ভোটাররাই গেল কই

    ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কম ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে সর্বত্র চলছে নানামুখী আলোচনা ও বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক মহল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিভি টকশো থেকে শুরু করে গতকাল রবিবার অফিস-আদালত, দোকানপাটসহ সব জায়গাতেই আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল ভোটারের খরা। এসব আলোচনায় কান পেতে কমন যে প্রশ্নটি সর্বাধিকবার কানে এসেছে, সেটি হলো—আওয়ামী লীগের ভোটাররাই গেল কই?

    যৌক্তিক-অযৌক্তিক নানা কারণে বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের সিংহভাগ ভোট দিতে কেন্দ্রে না গেলেও ক্ষমতাসীনদের নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও বিপুল অংশ কেন ভোট দিতে যাননি সেটিই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে খাড়া হয়েছে। এই প্রশ্ন উত্থাপনকারীরা বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বেশির ভাগ ভোট দিতে গেলেও ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতির চিত্রটা এমন হতো না। কারণ স্বাভাবিক জরিপ মতেই দলভেদে ঢাকা সিটির মোট ভোটারের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগের সমর্থক। তাছাড়া শনিবারের ভোটের ঘোষিত ফলাফলের হিসাব মতে, দুই সিটিতে আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী এবার যে ভোট পেয়েছেন তা ২০১৫ সালে একই দলের বিজয়ী মেয়রদ্বয়ের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে অনেক কম।

    আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটারদেরও বিরাট অংশের ভোট দিতে কেন্দ্রে না যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. আলমগীরও। ইসি সচিব গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘অনাস্থার কারণে মানুষ ভোট দিতে যাননি, এটা আমার কাছে মনে হয়নি। অনাস্থার কারণে যদি ভোটে না যেতেন, তাহলে যারা সরকারি দল তাদের তো অন্তত ভোটে অনাস্থা নাই। তাদের যদি সব ভোটার ভোট দিতেন, তাহলেও তো এত কম ভোট পড়ত না। তার মানে হলো যারা সরকারকে সমর্থন করেন, তাদেরও অনেক ভোটার ভোট দিতে যাননি।’

    কম ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস এবং উত্তরে আতিকুল ইসলামের ভোটের আগে ২০ দিনের প্রচারণার সময় প্রতিটি স্থানে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী-সমর্থক বা লোকজনের সমাগম দেখা গেছে। কিন্তু প্রচারণা বা গণসংযোগকালের সেই সমাগমের প্রতিফলন দেখা যায়নি ভোটের দিন দুই সিটির কেন্দ্রগুলোতে। ভোট শেষে বিজয়ী দুই মেয়র তাপস ও আতিক নিজেও সেটি স্বীকার করেছেন।

    ঢাকা দক্ষিণের নবনির্বাচিত মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস শনিবার ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আমরা গণসংযোগে যখন গিয়েছি আশা করেছিলাম যে আরো ভোটার উপস্থিতি থাকবে। কারণ যে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়েছিলাম, তাতে আশা করেছিলাম সবাই এসে ভোট দেবেন।’ ভোটারের খরার কারণ ব্যাখ্যায় শেখ তাপস বলেন, ‘এক বছর আগেই একটা জাতীয় নির্বাচন হলো। ঐ নির্বাচনে সবার আগ্রহ থাকে। এখানে যেহেতু সরকার পরিবর্তনের কোনো বিষয় নেই আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এজন্য আগ্রহ কম হতে পারে। আবার ছুটির সময়ে অনেকে ঢাকা ও দেশের বাইরে যেতে পারেন।’ ঢাকা উত্তরে পুনর্নির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলামও ভোট শেষে ভোটারের উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে বলেছেন, ‘আরো ভোটার ভোট দিতে এলে ভালো হতো। তবে শুক্র ও শনিবার ছুটি থাকায় অনেকে ঢাকার বাইরে চলে গেছে, এটাই বাস্তবতা।’

    শুধু আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থীই নন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে দলটির সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচারণায়ও কর্মী-সমর্থকদের সরগরম উপস্থিতি দেখা গেছে। এছাড়া কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদেরও কারও কারও প্রচারণায় ব্যাপক লোক সমাগম হতে দেখা যায়। কিন্তু দুই মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি দল সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীরাও কেন কেন্দ্রে ভোটার আনতে পারলেন না কিংবা আনলেন না—সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।

    নির্বাচনের আগে প্রচার-প্রচারণায় প্রতিটি স্থানেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বিপুল সমাগম থাকলেও ভোটের দিন কেন্দ্রের দৃশ্যের সঙ্গে সেটির মিল না থাকার বিষয়ে অবশ্য কয়েক ধরনের বিশ্লেষণও রয়েছে। কারও মতে, শেখ তাপস বা আতিকুল ইসলাম যখন যেই এলাকায় প্রচারণায় গেছেন তখন সেখানে যত লোক জড়ো হয়েছেন তাদের সবাই কিন্তু ঐ এলাকার ভোটার নন। আবার জড়ো হওয়া সব লোক এক কেন্দ্রের ভোটারও নন। অনেক কেন্দ্রের ভোটাররা ঐ সময়ে দলীয় মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে গণসংযোগ করেছেন, কিংবা পথসভায় অংশ নিয়েছেন। কিন্তু ঐ লোকজন ভোটের দিন ভাগ হয়ে ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট দিতে গেছেন কিংবা দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে গণসংযোগের সময়ে জড়ো হওয়া লোকজনের হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারের উপস্থিতির অঙ্ক মিলবে না।

    আবার এমন মতও রয়েছে যে, প্রচারণার সময় একটি ওয়ার্ডে মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে স্থানীয় হাজার-হাজার লোকজনকে দেখা গেছে। জড়ো হওয়া সেই লোকজনের মধ্যে কয়েক হাজার নিশ্চয়ই স্থানীয়ভাবে ভোটার। ওয়ার্ডভেদে পাঁচ থেকে আটটি ভোটকেন্দ্র থাকে। যদি স্থানীয় ভোটার ও কেন্দ্রের সংখ্যা হিসাব করা হয়, তাহলেও গণসংযোগে জড়ো হওয়া ঐ কয়েক হাজার ভোটারের মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে কয়েকশ ভোটারের ভোট দিতে যাওয়ার কথা। কিন্তু ভোটের দিন বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের উপস্থিতির সেই হার দেখা যায়নি। একইভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থিত কিংবা বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীরাও দলীয় ভোটারদের সিংহভাগকেই ভোটকেন্দ্রে আনতে পারেননি কিংবা আনেননি।

    কম ভোটারের উপস্থিতির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বলেছেন, ‘ভোটার উপস্থিত কম হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। টানা তিনদিন ছুটি, সে কারণে ঢাকার অনেক ভোটার গ্রামে চলে গেছে। বিএনপি শুরু থেকে নির্বাচন ও ইভিএম সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণা করেছে। এজন্য ৮-১০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে। এছাড়া বিএনপি শুরু থেকেই বলেছে—তারা নির্বাচনকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছে। ফলে জনগণের মধ্যে ধারণা জন্মেছে বিএনপি জয়লাভের জন্য নির্বাচন করছে না, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে না। সে কারণেও অনেক ভোটার ভোট দিতে উত্সাহ হারিয়ে ফেলেছে।’

    আর ভোটারের খরার ব্যাখ্যায় ইসি সচিব মো. আলমগীর এ-ও বলেছেন, ‘আমি গেলেও সমস্যা নাই, এ ধরনের একটা মনোভাব থেকে হয়তো অনেকেই ভোট দিতে যাননি। জনগণ ছুটি পেয়েছে, অনেকে ছুটি ভোগ করেছে। কেউ কেউ ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত ছিল।’

    ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটের হার কম হওয়ার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক গতকাল বলেছেন, ‘এর কারণ বিএনপির নির্বাচনবিরোধী চরিত্র। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই বিএনপির নেতারা ও তাদের প্রার্থীরা ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার হয়, এমন ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।’ ভোটারদের আগ্রহী করতে ভবিষ্যতে ইভিএম নিয়ে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানো এবং স্থানীয় নির্বাচনের সময় গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্তটিও পুনর্বিবেচনার ওপর জোর দেন নানক। ভোটের দিন ঢাকা মহানগরে গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা ভোটারের কম উপস্থিতির একটি কারণ বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুও।

    আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি নৈরাশ্যজনকভাবে কম ছিল। নির্বাচনি প্রচারে যে উত্সাহ ও অংশগ্রহণ ছিল ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে সেটির প্রতিফলন ঘটেনি।

  • তবে কেন হরতাল ডাকে বিএনপি

    তবে কেন হরতাল ডাকে বিএনপি

    দুই বছর পর গতকাল হরতাল ডাকে বিএনপি। ঢাকা সিটি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ডাকা এই হরতালের প্রভাব লক্ষ করা যায়নি রাজধানীর কোথাও। নিত্যদিনের মতোই সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। সকাল থেকে খোলা ছিল অফিস-আদালত, দোকানপাট—সবকিছু। ভোর থেকেই সব ধরনের যানবাহন চলাচল করেছে। জীবনযাত্রায় কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। দলের নয়াপল্টন অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে কিছু সময় পার করা ছাড়া গোটা শহরের কোথাও পিকেটিং বা মিছিলের খবর পাওয়া যায়নি।

    কেবল গতকালই নয়, এর আগে সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকা হরতালের দৃশ্যপট ছিল তথৈবচ। তারও আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে এবং ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ৯৪ দিনের লাগাতার অবরোধের একপর্যায়ে শিথিল হয়ে আসতে থাকে হরতাল-অবরোধের আবেদন। ফলে একপর্যায়ে তা স্থগিত করা হয়। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসেই দুই দফা হরতাল ডেকেও সুবিধা করতে পারেনি বিএনপি। তারপর ২০১৭ সালে হরতাল ডেকেও পালন করতে পারেনি দলটি। তবু কেন বারবার হরতাল ডাকে বিএনপি—এখন এই প্রশ্ন জনমনে। এ নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপির একাধিক নেতা।

    দলের সিনিয়র একজন নেতা বলেন, হরতাল সফল করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি। অতীতে হরতালের পূর্ব রাতে মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো যে জনগণ টের পেত কাল হরতাল। কেন্দ্র থেকে গ্রুপে গ্রুপে ভাগ করে দেওয়া হতো কারা কোন এলাকায় রাজপথে থাকবেন। পিকেটাররা ভোর থেকেই রাস্তায় নেমে পড়তেন। মিছিল-স্লোগানে ও সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে একটি অন্যরকম পরিবেশ তৈরি করা হতো। দলের বড়ো নেতারা থাকতেন নেতৃত্বে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই পরিবেশ ও পরিস্থিতি এখন আর নেই। তবু বাধ্য হয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে অথবা দল ও দেশের প্রয়োজনে হরতাল দিতে হয়। তবে জনস্বার্থে হরতাল দিলে তাতেও যদি মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া না দেয়, তাহলে তো বিএনপির কিছু করার নেই।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, গতকাল হরতাল ঘোষণার পর কীভাবে হরতাল পালন করা হবে তার কোনো নির্দেশনা ছিল না। ন্যূনতম কোনো প্রস্তুতিও ছিল না। ঘোষণা দিয়েই সবাই ক্ষান্ত। রিজভী আহমেদ ছাড়া বড়ো নেতারা কেউ রাজপথে নামেননি। মহাসচিব ফখরুল ইসলাম পার্টি অফিসে ব্রিফিং করেছেন। অন্য নেতারা বাসায় সময় কাটিয়েছেন। তাহলে হরতাল হবে কী করে? দলের অন্য এক নেতা বলেন, নেতাকর্মীদের নামে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় রাজপথে পিকেটিং করতে নামেননি তারা। হরতাল ডেকে তা সফল করার মতো সাংগঠনিক পরিস্থিতি এখন বিএনপির নেই। তবে সিনিয়র নেতারা রাজপথে নামলে অন্যান্য নেতা ও কর্মী-সমর্থকেরা রাস্তায় নামতে বাধ্য। কিন্তু হঠাত্ ডাকা এই হরতালের জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রস্তুত ছিলেন না।

    দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা হরতাল ডেকেছি। তারা কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে এই হরতাল প্রত্যাশা করেছিল, তাই এটা দেওয়া হয়েছিল।’