Category: রাজনীতি

  • সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর সিইসি-ইসি সচিব: রিজভী

    সিইসি ও ইসি সচিব দুজনই আওয়ামী সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সদা তৎপর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    রোববার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশন কতিপয় আত্মবিক্রয় করা লোকজন দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তার সব শক্তি দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার চিরদিনের জন্য হরণ করে নিতে শেখ হাসিনার মনোবাঞ্ছা পূরণে নিরন্তর কাজ করছেন।

    ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার খুলনায় বললেন- সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার হবে। আবার ইসি সচিব চট্টগ্রামে বললেন- প্রাথমিক পর্যায়ে ৮৪ হাজার ইভিএম কিনবে নির্বাচন কমিশন। এগুলো নাকি শহর এলাকায় ব্যবহার করা হবে। সিইসি ও ইসি সচিব- দুজনই আওয়ামী সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সদা তৎপর।’

    বিএনপির এ নেতা বলেন, রংপুরে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বললেন, ইভিএম ব্যবহার করা হবে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত। একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করার জন্য ভোটারদের গোলক ধাঁধার মধ্যে ফেলতে কমিশনের কর্তাব্যক্তিরা এসব বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলছেন।

    ‘আসলে ইভিএমের নামে মহাজালিয়াতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীনদের কিছু লোকের পকেট ভারী করার জন্য বিতর্কিত ইভিএম মেশিন ৩৮২৫ কোটি টাকায় কেনা হবে’, যোগ করেন তিনি।

    রিজভী বলেন, সব মহলের বিরোধিতা সত্ত্বেও আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে চাচ্ছে সরকার। সীমিত আকারের কথা বলা হলেও আরপিও সংশোধন করে তারা ব্যাপকভাবেই আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করবে।

    তিনি আরও বলেন, ভোটারবিহীন সরকারের প্রধান একতরফা নির্বাচন করতে সব অস্ত্র ব্যবহার করছেন, যাতে তার ক্ষমতায় থাকাটা নিষ্কণ্টক হয়। এ কারণে তার আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন দিয়ে জালিয়াতির বাক্স ইভিএম চালু করতে চাচ্ছেন।

    ইভিএম চালু ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার শামিল বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

    ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে জনগণের ভোট ধ্বংসের ষড়যন্ত্রজাল ছেঁড়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

  • সড়ক পরিবহন আইন পরিবর্তনের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

    সড়ক পরিবহন আইন পরিবর্তনের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

    এ মুহূর্তে সড়ক পরিবহন আইন পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    রোববার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে সেতু ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, দেখুন না, ধর্মঘটের পরিণতি সময় গড়াতে গড়াতে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। তবে এ মুহূর্তে তো আইন পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।

    ‘যেমন ইলেকশনের ব্যাপারে আইন পরিবর্তনের সুযোগ নেই, তেমনি এখানে যে আইন হয়েছে তা আমি এ মুহূর্তে পরিবর্তন করতে পারব না’, বলেন সেতুমন্ত্রী।

    এদিকে সকাল থেকেই সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করছেন।

    ফলে সারা দেশে বাস ও পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

    সকাল থেকে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো থেকে কোনো গন্তব্যের বাস ছেড়ে যায়নি। বন্ধ রয়েছে শহর এলাকার বিভিন্ন রুটের বাস।

    এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তবে বাস না পাওয়ায় নারী ও বয়স্কদের পড়তে হয়েছে বেশি ভোগান্তিতে।

    নিরাপদ সড়ক আইনে বলা আছে, বেপরোয়াভাবে বা অবহেলা করে গাড়ি চালানোর কারণে কেউ গুরুতর আহত বা নিহত হলে মামলা হবে দণ্ডবিধির ৩০৪(খ) ধারায়।

    এ ধারায় সাজা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। বর্তমানে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ডের বিধান আছে।

  • ৭ দফা না মানলে অকল্পনীয় শাস্তি : ড. কামালের ঘোষণা

    ৭ দফা না মানলে অকল্পনীয় শাস্তি : ড. কামালের ঘোষণা

    গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জনগণ যখনই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, অসম্ভবকে সম্ভব করা গেছে। এবারো জনগণের বিজয় হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণই ক্ষমতার মালিক। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জনগণ সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। আজকে জনগণ সাত দফার পক্ষে হাত উঠিয়ে রায় দিয়েছে। সিলেটেও গণরায় দিয়েছে। কাজেই সময় থাকতে সাত দফা দাবি মেনে নিন। অন্যথায় এটি অমান্য করার জন্য বিচার হবে, এর জন্য যে শাস্তি হবে তা অকল্পনীয়। তিনি বলেন, দেশে এখন প্রতিদিনই জনগণের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে, সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেই নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের মাধ্যমে পাঁচ বছর কাটিয়ে দেয়া হলো, এটা গুরুতর অপরাধ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর থেকে প্রতিনিয়ত সংবিধান লঙ্ঘনের কৈফিয়ত এ দেশের জনগণ নেবে, এর জন্য শাস্তি পেতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়ার প্রতি ঘণ্টার জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং শাস্তি পেতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    চট্টগ্রামে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল শনিবার দুপুরে নূর আহমদ সড়কে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কুরআন তিলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্য দিয়ে এই জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেনÑ জে এস ডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণফোরামের সদস্যসচিব মোস্তফা মহসিন মন্টু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মো: মনসুর, কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব: সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্য সদস্যসচিব মোস্তফা আমিন, এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহম্মেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো: শাজহাজান, মীর মো: নাছির উদ্দীন, তানিয়া রব। বক্তব্য রাখেনÑ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নাল আবদিন ফারুক, ড. সুকোমল বড়–য়া, গোলাম আকবর খন্দকার, ফজলুল হক ফজু, গণফোরাম কেন্দ্রীয় যুগ্মসম্পাদক আ হ ম শফিউল্লাহ, সহসভাপতি জগলুল হায়দার আফ্রিদী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, জেএসডি কেন্দ্রীয় নেতা জহির উদ্দীন স্বপন, খায়রুল কবির খোকন, জাতীয় পার্টির আহসান হাবিব লিংকন, গোলাম জিলানী চৌধুরী, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, শাহাদাত হোসেন সেলিম, লুৎফর রহমান কাজল, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, আবু সুফিয়ান, নুরী আরা সাফা, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সোহরাব হোসেন, শাহজান চৌধুরী, ম্যা মা চিং, গাজী শাহজাহান জুয়েল, অ্যাডভোকেট জানে আলম, মো. শাহ আলম, রেহেনা আকতার রানু, চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দীন, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম। বেলা ১টার আগেই মূল সমাবেশ শুরু হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, সংবিধানে লেখা আছে জনগণ ক্ষমতার মালিক, সরকার সেবকমাত্র। তিনি বলেন, আজকের সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল লালদীঘি মাঠে। জনসভা করা সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, লালদীঘি মাঠ না দিয়ে মানুষকে কষ্ট দেয়ার কৈফিয়ত আদায় করা হবে। এর জন্য শাস্তি পেতে হবে। বাংলাদেশ কারো একক সম্পত্তি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষ এ দেশের মালিক। আজ হোক কাল হোক সীমিত জায়গায় সভা করতে বাধ্য করে মানুষকে কষ্ট দেয়ার বিরুদ্ধে বেঁচে থাকলে মামলা করে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান। জনসভা করতে কারো দয়া মায়া চাই না মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।

    প্রধান বক্তা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার নিজেরাই নাশকতা, সন্ত্রাস, সহিংসতা সৃষ্টি করে দেশকে অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করার পরপরই আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এর মাধ্যমে দেশকে অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দেয়া হলো। নেত্রীর সেই কথাই আজ সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ এখন নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই করছে। আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারলে ভাঙা নৌকায় আর উঠবে না। মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণকে আটকে রেখে কোনো স্বৈরাচার টিকে থাকতে পারেনি। তিনি বলেন, আমরা অন্যায়ের কাছে মাথানত করব না, আমরা পরাজিত হব না। সাত দফা দাবি আদায় করে, জনগণের ভোটের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব। মির্জা ফখরুল ড. কামাল হোসেনকে জাতির অভিভাবক, বিবেক হিসেবে মন্তব্য করেন।

    আ স ম আবদুর রব বলেন, সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না, বাংলাদেশ ঘেরাও করতে হবে। স্বৈরাচার যাতে পালাতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনা বিচারে পালাতে দেবো না, পালানোর রাস্তা নেই। তিনি বলেন, সাত দফা মেনে না নিয়ে আমাদের সাথে আলোচনা ছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে বলব সরকার নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশকে সঙ্ঘাতের দিকে ঠেলে দেবেন না। পুলিশ আর বেশিক্ষণ সরকারের পাশে নেই। খালেদা জিয়াকে নিঃসঙ্গ করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন, এ জন্য ক্ষমা নেই। মামলা-হামলায় কাজ হবে না, ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে, জনতার কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

    ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান চেতনা গণতন্ত্র আজ আওয়ামী বাক্সে বন্দী। চট্টগ্রামের সমাবেশে সরকার পদে পদে বাধা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিছিল আসতে দিচ্ছে না, সড়কে দাঁড়াতে দিচ্ছে না, বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করছে, তবুও জনতার স্রোত নেমেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এই চট্টগ্রাম থেকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি পুলিশ প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ যা করেনি, আপনারা তা করেছেন। মনে রাখবেন আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, হুঁশিয়ার হয়ে যান। সরকারের বেআইনি হুকুম না মেনে জনগণের পাশে দাঁড়ান।

    ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, সরকার কোনোভাবেই চাইবে না অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করা হবে। নির্বাচনের আগে যাতে সরকারের অনিয়ম দুর্নীতির সমালোচনা প্রকাশ করা না যায় সে জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সম্প্রচার নীতিমালা করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। এই ঐক্যই স্বৈরাচারের পতন আনবে, গণতন্ত্র ফিরে আসবে। আওয়ামী লীগকে একটি অসহিষ্ণু স্বৈরাচারী দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের এই আচরণের কারণে জনগণ ভোটের অধিকার হারিয়েছে, আইনের শাসন হারিয়েছে, বিচার বিভাগ স্বাধীনতা হারিয়েছে এবং সর্বোপরি গণমাধ্যম স্বাধীনতা হারিয়েছে।

    মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, আমরা শুধুই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন চাই। তিনি বলেন, কোনো অধিকার কেউ দেয় না, আদায় করে নিতে হয়। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জাতিকে সঙ্ঘাতের দিকে ঠেলে দেবেন না, তা দেশকে অন্ধকারে নিয়ে যাবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ খালেদা জিয়াকে জনমানবহীন কারাগারে রেখে দেয়া কোন ধরনের মানসিকতা? গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেয়া জায়গায় আহত মুক্তিযোদ্ধা নিজের সব কিছু ত্যাগ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তুলে জনগণের সেবা করে আসছিলেন, আর সে প্রতিষ্ঠানে কুকুরদের লেলিয়ে দিয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার পাকিস্তানিদের চেয়ে খারাপভাবে দেশ শাসন করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজের ছায়াকেও এখন ভয় পান মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনি জনতাকে ভয় পাবেন না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে যারা আছেন, তারা আইনজ্ঞ, আইনের মানুষ। তাই খালেদা জিয়াকে যেভাবে হেনস্তা করছেন, তার পুনরাবৃত্তি হবে না এই নিশ্চয়তা আছে। তিনি বলেন, এই চট্টগ্রাম থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান, তাকে নিয়েও কটূক্তি করা হয়। মওলানা ভাসানীর জন্ম না হলে শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু হতেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ডা: জাফরুল্লাহ বলেন, আর মাত্র ১০ দিন অপেক্ষা করেন, দেখেন কী হয়। বিজয় নিশ্চিত।

    মাহমুদুর রহমান মান্না সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, আমাদের একটাই সেøাগান তুমি যাও, ভোট দাও, ক্ষমতা ছাড়। তিনি বলেন, আমরা এই সরকারের পতন চাই, গণতন্ত্র রক্ষা করতে চাই। তিনি বলেন, জনগণের জয় হবে, ঠেকানোর কোনো শক্তি নেই। ৭৩ বছর বয়সেও একজন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় অন্যায়ভাবে, জবরদস্তিমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় নির্জন কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    এ দিকে জনসভায় আসতে বিভিন্ন স্থানে বাধা দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। তা ছাড়া নগরীর নাসিমন ভবনের সড়কের আউটার স্টেডিয়াম প্রান্তে ফুটপাথের ওপরও পুলিশ কাউকে দাঁড়াতে দেয়নি। ব্যাপক জনসমাগম হলেও নির্দিষ্টস্থানের বাইরে মাইক টাঙাতে বাধা দেয়ার কারণে কাজীরদেউরী বাজার, ভিআইপি টাওয়ার-সংলগ্ন এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা বিপুল লোক জাতীয় নেতাদের বক্তব্য শুনতে পারেননি বলেও বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন।

  • আ.লীগকে হারানোর ক্ষমতা সুশীল-বিএনপির নেই: জয়

    আ.লীগকে হারানোর ক্ষমতা সুশীল-বিএনপির নেই: জয়

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ায় জনগণ তার সুফলও পেয়েছে। জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছে। অপরদিকে বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশকে ধ্বংস করেছিল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সকল প্রকার ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বর্তমান অবস্থায় এসেছে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার মতো ক্ষমতা সিভিল সোসাইটির সদস্য, বিএনপি এবং জামায়াতের নেই।

    আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সুচিন্তা ফাউন্ডেশন ‘২১ আগস্ট: বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান-ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারপারসন মোহাম্মদ এ আরাফাত।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জয় বলেন, ‘আমরা পরিবারের সদস্যদের হারানোর তীব্র যন্ত্রণা উপলব্ধি করি। সেকারণেই আমি রাজনীতিতে আসি এবং ২১ আগস্টের ভয়াবহ হামলার পর বিএনপি সরকারকে বিতাড়িত করি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২১ আগস্টের ওই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিলেন। এই জঘন্য হামলার বিচার সম্পন্ন করতে দীর্ঘ ১৪ বছর লেগেছে।’

    সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও অন্যরা ১/১১-এর কুশীলব ছিলেন উল্লেখ করে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নেপথ্য নায়ক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন মইনুল হোসেন। তারা এখন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে প্রধানমন্ত্রী বানানোর চেষ্টা করছেন।

    জয় বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপি’র ন্যায় হত্যার রাজনীতি করে না। তিনি আরও বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মোট ২৪ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী নিহত হয়েছে। তা ছাড়া বিএনপি’র শাসনামলে আহসানউল্লাহ মাস্টার ও শাহ এ এম এস কিবরিয়ার মতো নেতাকেও হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের ন্যায় ১০ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতো, তবে কোনো আওয়ামী লীগ নেতা জীবিত থাকতো না।’

    নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার প্রশ্নে বিএনপি নেতৃবৃন্দের অভিযোগের জবাবে জয় বলেন, ২০১৩-১৪ সালে যারা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    সুশীল সমাজের সদস্যদের সমালোচনা করে জয় বলেন, যারা খুনি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে লজ্জাবোধ করে তারা আসলে খুনি ও সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে চায়।
    নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপি’কে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করছে।

    আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন বিচার কাজ সম্পন্ন করেছে উল্লেখ করে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। নির্বাচনে যাদের একটি ভোটও সংগ্রহ করার ক্ষমতা নাই তাদের আওয়ামী লীগ ভয় পায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তথাকথিত সুশীল সমাজের হুমকিকে পরোয়া করে না।

    প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের কন্যা তানিয়া রহমান আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, দেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করাই ছিল ২১ আগস্ট হামলার মূল উদ্দেশ্য।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২১ আগস্টের হামলা এবং ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা ছিল একই সূত্রে গাঁথা। তারা বলেন, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে হত্যা করা এবং দেশকে একটি জঙ্গিবাদী দেশে পরিণত করা।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবির এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু বক্তব্য দেন।

  • আ.লীগের দুশ্চিন্তা কোন্দল, প্রার্থীজট

    আ.লীগের দুশ্চিন্তা কোন্দল, প্রার্থীজট

    • প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিত, ৭০ জন সাংসদ মনোনয়ন ঝুঁকিতে
    • দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে আজীবনের জন্য বহিষ্কার
    • মন্ত্রী-সাংসদদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে কেন্দ্রে
    • তফসিল ঘোষণার পর দলীয় দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে
    • দ্বন্দ্ব যেন সংঘাতে রূপ না নেয়, সে জন্য তৎপরতা
    • নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৩৩ সদস্যের কোর কমিটি
    • নির্বাচন পরিচালনায় ১৫টি উপকমিটির নাম ঘোষণা

    আগামী নির্বাচনের জন্য আটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে দলীয় কোন্দল, প্রতিটি আসনে প্রার্থীজট দুশ্চিন্তায় ফেলেছে দলের নীতিনির্ধারকদের। এ জন্য বিদ্রোহী ঠেকাতে দলের পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তির বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এই বার্তা আওয়ামী লীগের সব স্তরে পৌঁছে গেছে। এ অবস্থায় দলটির নীতিনির্ধারক ও মন্ত্রী-সাংসদের মধ্যে দুই ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। নীতিনির্ধারকদের ধারণা, মনোনয়নবঞ্চিতরা বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে থাকবেন কিংবা তলেতলে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করতে পারেন, যা দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবির কারণ হতে পারে।

    নির্বাচন সামনে রেখে গত শুক্রবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, সংসদীয় দল ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দেন যে ৭০ জন বর্তমান সাংসদ মনোনয়ন ঝুঁকিতে আছেন। পাশাপাশি তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, কেউ মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৩৩ সদস্যের একটি কোর কমিটি ও ১৫টি উপকমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।

    আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা দেশি-বিদেশি নানা সংস্থা দিয়ে জরিপ চালিয়েছেন। এসব জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যাঁরা ভালো অবস্থানে আছেন, তাঁদের একটি তালিকা করেছেন। এ তালিকায় মন্ত্রী, সাংসদের পাশাপাশি নতুন প্রার্থীও আছেন। আর জনপ্রিয়তার দিক থেকে পিছিয়ে, এমন তালিকাও আছে। এই সংখ্যাটা প্রায় ১০০। কাউকে কাউকে নিজের অবস্থান উন্নতির জন্য দল থেকে আগেই তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর অনেকে নিজের অবস্থান কিছুটা সংহত করতে সক্ষমও হন। তবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ জন মনোনয়ন না পাওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।

    আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিদিনই নামে-বেনামে মন্ত্রী-সাংসদদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে। কারও কারও বিরুদ্ধে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও স্থানীয় নেতারা অভিযোগ দিয়েছেন। তফসিল ঘোষণার পর এই দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে। তবে তা যেন সংঘাতে রূপ না নেয়, সে জন্য তৎপর নীতিনির্ধারকেরা।

    আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ১০ বছর ধরে দল ক্ষমতায়। মন্ত্রী-সাংসদদের অনেকেই প্রভাব খাটাতে গিয়ে অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছেন। নতুন পয়সাওয়ালা হয়েছেন অনেকেই। তাঁরাও মনোনয়ন চান। ফলে মুখোমুখি অবস্থার তৈরি হয়েছে। এ জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আর দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্বের কারণে এক ডজন সাংসদকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা, প্রতিহত করার ডাক কিংবা মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ওই নেতা আরও বলেন, নির্বাচন হবে সংসদ বহাল রেখে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান সাংসদের মধ্য থেকে যাঁরা মনোনয়ন পাবেন না, তাঁরাও সাংসদ হিসেবে বহাল থাকবেন। দীর্ঘদিনের প্রভাব তো থাকছেই। ফলে ভোটের মাঠে নতুন প্রার্থীকে হারাতে সাংসদ ভূমিকা রাখতেই পারেন।

    শুক্রবারের যৌথসভা শেষে অনেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সালাম করেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, সালাম যাঁরা করেছেন, তাঁদের সালাম নিয়েছেন তিনি। তবে মনোনয়ন পাবেন কি না, সেই নিশ্চয়তা নেই। আর মনোনয়ন না পেয়ে দলের বিরোধিতা করলে এবং এ কারণে দল হারলে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে—এটা যেন সবাই মনে রাখেন। মনোনয়ন কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে যৌথসভায় শেখ হাসিনা নেতাদের উদ্দেশে বলেন, এ বিষয়ে এখন অনানুষ্ঠানিক প্রস্তুতি চলবে। তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও অন্যতম মুখপাত্র মাহবুব উল আলম হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের নির্বাচনের সব প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। দলীয় নেতাদের বিদ্রোহী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এবার কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে আজীবন নিষিদ্ধ হবেন, এটা দলীয় প্রধান জানিয়ে দিয়েছেন। অতীতে বিদ্রোহীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলেও এবার আর কোনো মাফ হবে না।

     

    একাধিক কমিটি গঠন

    আগামী নির্বাচনে দলের কৌশল নির্ধারণ এবং সমন্বয় করার জন্য একটি কোর কমিটি গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এর আগেই দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। শুক্রবারের সভায় এই কমিটির বাইরে ৩৩ সদস্যের একটি কোর কমিটি করা হয়। এই কমিটির চেয়ারম্যান শেখ হাসিনা, কো-চেয়ারম্যান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম এবং সদস্যসচিব দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এই কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। কিছু তরুণ নেতাকেও রাখা হয়েছে কমিটিতে।

    এর বাইরে নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক ১৫টি উপকমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচনের ইশতেহার প্রণয়ন, প্রচারকৌশল ঠিক করা, পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ, আইনি সহায়তাসহ নানা বিষয় রয়েছে।

    আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ–সংক্রান্ত উপকমিটির নেতৃত্বে রাখা হয়েছে সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরীকে। শিগগিরই প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে দুজন করে ঢাকায় এনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। প্রশিক্ষণ পেয়ে তাঁরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেবেন। কেন্দ্রীয় উপকমিটি তা তত্ত্বাবধান করবে। আর ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রধান দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক ও সদস্যসচিব উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। ইতিমধ্যে এই কমিটির নেতারা তিনটি বৈঠক করেছেন।

  • ‘দুই বছরের মধ্যে ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে’

    ‘দুই বছরের মধ্যে ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে’

    দুই বছরের মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে পুরোপুরি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটি করপোশেনের মেয়র সাঈদ খোকন।
    আজ সোমবার দুপুরে নগর ভবনে ‘নিরাপদ সড়ক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা উদ্বোধণের সময় এ কথা বলেন তিনি।

    সাঈদ খোকন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে সড়কে নিরাপত্তা বাড়াতে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার । তারই অংশ হিসেবে রাজধানীর সব বাসগুলোকে শিগগিরই নির্দিষ্ট কোম্পানির আওতায় আনা সহ লেগুনা চলচলেও নিয়ন্ত্রণ আনা হবে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।