Category: রাজনীতি

  • সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট’

    সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট’

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট বলেছেন, তাঁর দেশ বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। এ সময় তিনি আগামী নির্বাচনে সব দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানান।

    আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন।

    নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। সবাইকে নিয়েই নির্বাচন করতে চায় সরকার। কোনো দল যদি নির্বাচনে না আসে সে দায়িত্ব তাদের। সরকার এই দায় বহন করবে না।
    বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। সংসদ বহাল রেখেই এই সংসদের অধীনেই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে।।

  • তফসিল ঘোষণার জন্য ইসির প্রস্তুতি শেষ

    তফসিল ঘোষণার জন্য ইসির প্রস্তুতি শেষ

    আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তফসিল ঘোষণা করবে কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যর কমিশন। তার আগে ৩১ অক্টোবর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে ইসি। নভেম্বরের ২ ও ৩ তারিখ সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ৪ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিজয় দিবসের উত্সবের পরপরই ১৮ থেকে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে যে কোন দিন ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ হতে পারে। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে সার্বিক পরিস্থিতির উপর। ইসি সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, আগামী ১ নভেম্বর বিকাল ৪টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছি। এই সাক্ষাত্ শেষে কমিশন সভা ডেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসাবে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির আগের  ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। ওই ৯০ দিনের শুরু হচ্ছে আগামী ৩০ অক্টোবর।
    আগামী নির্বাচনের ৪০ হাজার ভোট কেন্দ্রের জন্য প্রায় সাড়ে সাত লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার তালিকা ৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রস্তুত করবে নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণের ২৫ দিন আগে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়াও ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সাথে ইসি সচিবালয়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাত্সরিক পরীক্ষার সময়সূচি নিয়েও আলাপ হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রণালয় ইসি সচিবালয়কে জানিয়ে দিয়েছে আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বরের আগেই সব পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এ সময়ের  মধ্যে সব পরীক্ষা শেষ করার  নির্দেশনা পেয়ে গেছে। সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোই ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে।  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আব্দুল ওয়াহেদ স্বাক্ষরিত এক সার্কুলারে  ২৯ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগে এ সময় ছিল ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
    পোলিং এজেন্টদের
    প্রশিক্ষণ দিতে চায় ইসি
    দলগুলো সম্মত হলে প্রথমবারের মতো নির্বাচনের আগে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, এতে পোলিং এজেন্টরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আরও সচেতন হবে। দলে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন আরও সহজ হবে। তাদের কী কী কাজ, কী দরকার জানা থাকলে নির্বাচন পরিচালনা সুবিধা হবে। গতকাল রবিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি এ কথা বলেন।
    ভোটারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, ভোট করতে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে ফেলতে হবে। রাজনৈতিক দলের কথায় নয় বরং ভোটারের স্বার্থরক্ষা করে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সে জন্য কাজ করতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।
    সিইসি বলেন, নির্বাচনে বুথ বসানো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অনুরোধ থাকে। এর কিছু কিছু যৌক্তিক। তবে আমাদের রাজনৈতিক দলের কথায় নয় বরং ভোটারের স্বার্থরক্ষা করে কাজ করতে হবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রদর্শনের পর ইতিবাচক মূল্যায়ন পাওয়া গেছে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, আগের ব্যবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। ব্যালট বাক্স রাত থেকে পাহারা দিতে হয়। ইভিএমে লাগে না। বরং ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল দিনের মধ্যে আধুনিক পদ্ধতিতে প্রকাশ করা যায়।
    সিইসি বলেন, এবার ৪০ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে দুই লাখেরও বেশি ভোটকক্ষ থাকবে। সে ক্ষেত্রে অন্তত ১০ লাখের মতো পোলিং এজেন্ট থাকতে পারে। কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ, ইটিআই মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক প্রমুখ।
    প্রচারে জীবন্ত প্রাণী
    ব্যবহার করা যাবে না
    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে জীবন্ত কোনো প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধান যুক্ত করে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের আচরণ বিধিমালার সংশোধনী অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার বিকালে ইসির সভায় এই সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। সভা শেষে ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রচারে জীবন্ত প্রাণীর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বাইরে পোস্টারের সংজ্ঞা থেকে ‘কাপড়’ বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাত্ নির্বাচনে কেউ কাপড়ের তৈরি পোস্টার ব্যবহার করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নীতিমালা নিয়ে বৈঠকে বলা হয়, এটি আরও পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে চূড়ান্ত করা হবে।
    ইসি সূত্র জানায়, তফসিলের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের থাকা এবং সভার অনুমতি সংক্রান্ত ধারায় সংশোধনী আনার প্রস্তাব থাকলেও গতকাল কমিশনের সভায় এ দুটি বিষয় ওঠেনি। ফলে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি আচরণ বিধিমালায়।
  • সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আ’ লীগ ১০ আসনও পাবে না: কাদের সিদ্দিকী

    সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আ’ লীগ ১০ আসনও পাবে না: কাদের সিদ্দিকী

    বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ১০টির বেশি আসন পাবে না। যদিও দেশে নির্বাচন হবে কি-না সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। বর্তমানে আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব নীতি চলছে। মানুষ নিজের ইচ্ছামতো সিল মারতে পারছে না। জনগণের ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ এক হাজার বছর ক্ষমতায় থাকুক; কিন্তু ভোট ছাড়া একদিনও ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না।

    রোববার বিকেলে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাইপাস মোড়ে কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের উপজেলা সভাপতি লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন দলের নাটোর জেলা সভাপতি শহীদুল ইসলাম মুন্সী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান বীরপ্রতীক, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, যুব আন্দোলনের সভাপতি হাবিবুন নবী সোহেল, ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক কাওছার জামান খান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের ও গুরুদাসপুর উপজেলা সভাপতি সোহরাব হোসেন।

    কাদের সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচনে কোনো জোটে যাওয়ার চিন্তা আমার নেই। আমার জীবনে কোনো প্রেম ছিল না। বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেম, দেশই আমার প্রেম। বর্তমানে দেশের সবাই আওয়ামী লীগ। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমি ছাড়া কোনো আওয়ামী লীগ তার পাশে ছিল না।

    ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট বিষয়ে তিনি বলেন, ১০ বছর ধরে আমি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে একটি ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলেও নিজেদের মধ্যেই তারা কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করেছে।

  • জনগণের চাওয়া বুঝে কাজ করার নির্দেশ সিইসির

    জনগণের চাওয়া বুঝে কাজ করার নির্দেশ সিইসির

    রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলের কথায় ইসি কাজ করবে না। জনগণের চাওয়া বুঝে কাজ করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।
    আজ রোববার সকালে নির্বাচন কমিশন ইন্সটিটিউটে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং ইভিএম ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
    সিইসি বলেন, এ বছর প্রথমবারের মতো পোলিং এজেন্টদের ট্রেনিং দেয়ার কথা ভাবছে কমিশন। রাতভর ব্যালট পাহাড়া দেয়ার দিন শেষ। আস্তে আস্তে ইভিএম ব্যবহারের দিকে যেতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
    সিইসি বলেন, ভোটাররা নির্বিঘেœ যেন ভোট দিতে পারে সেদিক বিবেচনা করে কাজ করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে রাজনৈতিক দল ও ইসির মধ্যে দুরত্ব কমিয়ে ফেলতে হবে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

  • জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিদেশিদের কাছে দলগুলোর ধরনা

    জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিদেশিদের কাছে দলগুলোর ধরনা

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরব কূটনৈতিক অঙ্গন। রাজনৈতিক নেতারা যেমন সমর্থন পাওয়ার আশায় উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার কূটনীতিকদের দুয়ারে নিয়মিত ধরনা দিচ্ছেন; তেমনি প্রভাবশালী বিদেশি ক‚টনীতিকরাও বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচনী পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছেন। দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে তাদের অভিযোগ-অনুযোগ শুনছেন, পরার্মশ দিচ্ছেন। ক্ষেত্র বিশেষে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকাও রাখছেন। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, প্রতিবেশী ভারত ছাড়াও চীন, কানাডা, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কূটনীতিকরাই বেশি সক্রিয়। এমনকি জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাও বসে নেই। তারাও নানাভাবে নসিহত করছে রাজনীতিকদের। যদিও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশি ক‚টনীতিকদের এই তৎপরতা ভালো চোখে দেখছেন না অনেকেই। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের নাক গলানোই উচিত নয় বলে মনে করেন তারা। কূটনীতিকরা অবশ্য বলছেন, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ নয়; বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কাজ করছেন তারা।
    বিদেশিদের সমর্থন পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দল বিএনপি। শক্তিধর দেশের ঢাকাস্থ কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর বৈঠক করে সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ জানাচ্ছে। তাদের দাবির বিষয়ে অবহিত করছে। এমনকি সরকারের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করে দেয়ার জন্য সহযোগিতাও চাইছে। তবে এর পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে বসে নেই ক্ষমতাসীনরাও। সরকারি ও দলীয়ভাবে নিয়মিত কূটনীতিকদের ডেকে নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছে তারা। নির্বাচন নিয়ে সরকারের চিন্তা-ভাবনার বিষয়ে বার্তা দিতে কূটনৈতিক অঙ্গনে জোর তৎপরতা চলছে সরকারের তরফ থেকে। বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। লক্ষ্য সফলে দলের শীর্ষ চার নেতাকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ চার নেতা হলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির এবং আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ। এ চার নেতাকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।
    আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জানান, গত দুই মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের ক‚টনীতিকদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন তারা। কখনো দূতাবাসগুলোয় যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতারা, কখনো ওই রাষ্ট্রদূতরা আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসায়-অফিসে আসছেন, কখনো তারকা হোটেলে চলছে দ্বিপক্ষীয় আলাপ। গত সোমবার রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলের ঢাকাস্থ বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনৈতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন ক্ষমসতাসীন দলের নেতারা। দলটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উপ-কমিটির আয়োজনে একটি রুদ্ধধার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আগামী নির্বাচন ধরন ও পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চান কূটনৈতিকরা। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ইসি নিশ্চয়ই সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এর ৩ দিন পরই সেতু ভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন, ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।
    জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারক খান ভোরের কাগজ বলেন, আমাদের বিশেষ কোনো কূটনৈতিক উইং নেই। বিএনপির মতো নালিশ জানানোরও প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, এখানে যেসব বিদেশি রাষ্ট্রদূত আছেন তাদের আর আমাদের ভাবনাগুলো সমন্বয় করার চেষ্টা করছি। তাদের সেই ভাবনায় যদি কোনো ঘাটতি থাকে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাধানের চেষ্টা করি। মূলত দলের পররাষ্ট্রনীতিকে এগিয়ে নিতেই আমাদের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ-কমিটিমূলক কাজ করছে, আপাতত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে মতবিনিময় করছে। কূটনৈতিক নেতারা এসে কাউকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা।
    দলটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ বলেন, দুই ধরনের ক‚টনীতিতে মনোযোগী আমরা। প্রথমটা হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন।
    অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্বে ক‚টনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বিএনপি। কূটনৈতিদের সমর্থন আদায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর গত ৮স মাসে প্রায় ২ ডজনেরও বেশি বৈঠক করে কূটনৈতিকদের কাছে নালিশ জানিয়েছেন দলটির নেতার। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, খালেদা জিয়ার সাজা ও জামিন এবং আগামী নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দলের অবস্থান ও আকাক্সক্ষা কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরেছেন তারা। মিশন সফলে প্রকাশ্যে ও গোপনে একাধিকবার বিদেশ সফর করেছেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা। ঢাকায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের সঙ্গে বিএনপির একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
    এরইমধ্যে ‘গোপন মিশন’ নিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সংস্থাটির রাজনৈতিকবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মিরস্লাভ জেনকি, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তার পাশাপাশি ১৮টি থিংক ট্যাংক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আসন্ন নির্বাচন যাতে স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ হয় সেজন্য সহযোগিতা চেয়ে জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছে বিএনপি। জবাবে বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে অল-আউট সাপোর্ট পেয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।
    বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে নানা তৎপরতার পাশাপাশি ভারত যাতে আসন্ন নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকে তা নিয়ে বিএনপি কাজ করেছে। বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল কয়েক মাস আগে ভারত সফরও করে এসেছে। ওই সফরে বিএনপি কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী, ক্ষমতাসীন বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতা এবং সরকারের ঘনিষ্ঠ সুশীলসমাজের কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে।
    তবে ঐক্যফ্রন্ট্র গঠনের পর কূটনৈতিক মিশনে আরো বেশি আশাবাদী হয়ে উঠছেন বিএনপি নেতারা। তাদের মতে ভোটের মাঠে ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ অন্য নেতারা বড় নিয়ামক না হলেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের একটা পরিচিতি আছে। ‘বৃহত্তর ঐক্য’ তৈরি হওয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচন আদায়ে তারা কার্যকর ভ‚মিকা পালন করতে পারবেন। সেই হিসেব মতেই গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীতে একটি হোটেল প্রায় ২৫টি দেশের ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। জোটের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন ফ্রন্টের সাত দফা ও ১১ দফা লক্ষ্য ক‚টনীতিকদের সামনে তুলে ধরেন। এরপর বর্তমান গণতন্ত্র, সরকার, নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলেন।
    জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বিএনপি সব সময় সব পরিস্থিতি বিশ্ব নেতাদের অবহিত করে। কারণ এই মুহূর্তে তাদের সমর্থন জরুরি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশের প্রতিনিধিরা বলেছেন তারা বাংলাদেশে একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চান। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে তারা বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে নির্বাচনকে বুঝিয়েছেন। তাহলে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। বহির্বিশ্ব চায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। তারা চায় শক্তিশালী গণতন্ত্র ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ। এই চাওয়াগুলো তো বিএনপির পক্ষেই যায়।
    ক‚টনৈতিক সূত্র জানায়, বিচ্ছিন্নভাবে নানা ক‚টনৈতিক উদ্যোগ ও বৈঠকের মাধ্যমে সংলাপ আয়োজনের অব্যাহত চেষ্টা চালাচ্ছেন ঢাকাস্থ কূটনীতিকরা। তাই বিবৃতি ও আহ্বানের মাধ্যমে কূটনৈতিক চাপ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এরপরও সংলাপ বা সমঝোতা না হলে নভেম্বরের মাঝামাঝি সমন্বিত উদ্যোগের কথা ভাবছেন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশন প্রধানরা। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে দিন দিন পরিস্থিতি ঘোলা হচ্ছে এ কারণেই সমন্বিত উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে। তবে এটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুসারে নভেম্বরের মাঝামাঝি পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা স্পষ্ট হবে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরও যদি সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হয় তখনই এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

  • নির্বাচন কমিশন এখন সরকারের ওপর নির্ভরশীল : মির্জা ফখরুল

    নির্বাচন কমিশন এখন সরকারের ওপর নির্ভরশীল : মির্জা ফখরুল

    সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সরকারকে অবিলম্বে সিধা পথে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। কিন্তু সেটা হতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে। আমরা বলেছি একটা পরিবর্তন চাই। তাই বলছি দয়া করে সোজা রাস্তায় আসুন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, তার সঙ্গে আলাপ করুন, বিরোধী দলের সঙ্গে আলাপ করুন এবং দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে হবে তার পথ বের করুন। এছাড়া অন্য কোনো পথের বিকল্প নেই। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্বাধীনতা হলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ফরমায়েশি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল কর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। : নির্বাচন কমিশন নিজেরাই বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, পত্রিকায় দেখলাম, নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার প্রকাশ্যে বলে দিয়েছেন যে, আমি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করবার জন্য যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছিলাম, সেই প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে না। আরেকজন কমিশনার বলছেন আন কনস্টিটিউশনাল কথা বলছেন এই কমিশনার।  এসব বক্তব্যে নির্বাচন কমিশন নিজেরাই তো বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কমিশন তো একটাই থাকতে হবে। তাদের যা কিছু বক্তব্য আসবে তা কমিশনের একটাই আসতে হবে। আজকে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচন কমিশনে, এই সংকটটাই হচ্ছে এখন রাষ্ট্রের সংকট। তাই বিভক্ত নির্বাচন কমিশন দিয়ে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। মির্জা ফখরুল বলেন, জোর করে একটা দলকে ক্ষমতায় বসাতে সব প্রকার আইন কানুন করে ২০১৪ সালের মতো আরেকটা নির্বাচন করতে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই। তাদের পুরোটাই নির্ভর করতে হয় সরকারের কর্মকর্তা এবং সরকারের ওপর। নির্বাচন কমিশনের সচিবের কথায় মনে হয়, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কথা শুনে মনে হয়, সব চেয়ে অসহায় ব্যক্তি। তিনি কিছুটা এরশাদ সাহেবের মতো সকালে এক কথা বলেন, বিকেলে আরেক কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ দেশের মানুষকে বোকা ভাববেন না। সব সময় নীরব ভাববেন না। কারণ এ দেশের মানুষ বারবার নিজেদের প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে এসেছে। আবারও রাস্তায় নামবে। : মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ২৩ অক্টোবর একটা সমাবেশ করতে যাচ্ছিল, সরকার বলছে নাশকতা হবে, দেয়া যাবে না। অথচ চরমোনাই পীর সাহেবকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। আজকে হোসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সাহেব রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে সরকারি টাকায় গাড়ি-ঘোড়া নিয়ে সোহরাওয়ার্দীতে সভা করেছেন। এখানে কোনো নাশকতা হবে না। আমরা করতে গেলেই নাশকতা। বিরোধী দল কথা বলতে গেলেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো মানুষ উনি নাকি রাষ্ট্রদ্রোহিতা করেছেন। তার বিরুদ্ধে এখন জমির মামলা-টামলা শুরু হয়ে গেছে, যেহেতু তিনি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সেগুলো মানুষ বোঝে। মানুষকে বোকা ভাবার কোনো কারণ নেই। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, কারাগার থেকে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সেখানে কোনো সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না। নূ্যূনতম চিকিৎসাও তিনি পাচ্ছেন না। : মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। বহু নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। অনেকেই ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। এভাবে একটি দলের ওপর নির্যাতন করলে কীভাবে সুষ্ঠু রাজনীতি হয়। নির্বাচনই বা সুষ্ঠু কেমনে হবে, যোগ করেন তিনি। : সভাপতির বক্তব্যে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, শেখ হাসিনার মনোজগত এখন রাজনীতির প্রতিহিংসায় নিমজ্জিত। তাই দেশের চলমান রাজনীতিতে মহাসংকট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিক্ষেপের পর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নামে তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করা হয়েছে। : তিনি বলেন, যতোই ষড়যন্ত্র করুন না কেন জিয়া পরিবারসহ বিএনপিকে রোখা যাবে না। সময় আসন্ন, অচিরেই পতনের পূর্বাভাস শুনতে পাবেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। : জাগপা সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, জাগপার সহ-সভাপতি আবু মোজাফফর মো. আনাছ, মাস্টার এমএ মান্নান, আসাদুর রহমান খান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, শেখ জামাল উদ্দিন, বেলায়েত হোসেন মোড়ল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইনসান আলম আক্কাছ, প্রিন্সিপাল হুমায়ুন কবির, যুব জাগপার সভাপতি আরিফুল হক তুহিন, জাগপা ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রুবেল, চট্টগ্রাম মহানগর জাগপার সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল, মহিলা নেত্রী সেলিমা ফয়েজ প্রমুখ। : :