Category: রাজনীতি

  • জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট্রের মাধ্যমেই সরকারের পরিবর্তন আনা হবে : মওদুদ

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট্রের মাধ্যমেই সরকারের পরিবর্তন আনা হবে : মওদুদ

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর থেকেই সরকারের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় প্রতিহিংসামূলকভাবে তারেক রহমানকে সাজা দেয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ আইন বর্হিভূতভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এই রায় একটি ফরমায়েসী রায়, এই রায় দেশের মানুষ মানে নাই এবং মানতে পারে না। কারণ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষীর জবানবন্দি তারা দিতে পারে নাই।

    আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেয়া ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রত্যাহারের দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

    সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরজাহান ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও সহ-সভাপতি জেবা খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

    মওদুদ আহমদ বলেন, তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরে আসবেন তিনি আত্নসমর্পণ করে হাইকোর্টে আপিল করবেন এবং তিনি জামিন নিবেন সেই সাথে প্রমাণ করবেন তার বিরুদ্ধে এটি একটি অসত্য রায়, এই রায় কার্যকর হবে না। সেই আপিলে অবশ্যই তিনি সফল হবেন এবং খালাস পাবেন এই বিশ্বাস আমরা রাখি।

    তিনি বলেন, আজকে তাদের (সরকার) গাত্রদাহ হয়েছে এতো বড় ঐক্যফ্রন্ট কি করে হলো? সে জন্য বিভিন্ন মন্ত্রীরা বিভিন্ন অশালীন ভাষায় মন্তব্য করা শুরু করেছেন এটাই প্রমাণ করে আমরা ঠিক কাজই করেছি। আমরা যে ঐক্যফ্রন্ট করেছি এটা সঠিক কাজ করেছি দেশের সকল মানুষ যে এই ঐক্য চায় সেটাই আজকে প্রমাণিত হয়েছে। সরকার আমাদের যতই সমালোচনা করবে ততই বুঝতে হবে আমরা ঠিক কাজ করেছি, সঠিক কাজ করেছি। আমাদের এই ঐক্য আরও জোরদার হবে, এটির মাধ্যমে আমরা আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করবো।

    বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, আজকে সারা জাতি ঐক্যবদ্ধ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে গঠন করা হয়েছে এটা সারা জাতি সকল শ্রেণির সকল দলের মানুষের মনের কথা প্রকাশ করেছে। এই কারণে সারা বাংলাদেশে আজকে গ্রামগঞ্জে পর্যন্ত এই ঐক্যের ডাক পৌঁছে গেছে। দেশের মানুষ আজকে এই ঐক্যের মাধ্যমে এই সরকারের পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর। এই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট্রের মাধ্যমেই সরকারের পরিবর্তন আনা হবে। তাদেরকে (সরকার) বাধ্য করা হবে সংলাপে বসতে, বাধ্য করা হবে সংসদ বাতিল করে দিতে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে।

    সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মওদুদ আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচন হবে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন, এককভাবে কোনো নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। এবার আর ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হবে না। এবার আমরা নির্বাচনে গেলে মাঠে যখন মানুষ নামবে তখন আপনারা বুঝতে পারবেন কোন পক্ষে দেশের মানুষ রয়েছেন।

    সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পূর্বঘোষিত জনসভায় প্রথমে অনুমতি দিয়ে সেটি আবার বাতিল করা হয়েছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আজকে একটি দল ডাক ঢোল পিটিয়ে (জাতীয় পার্টি) সমাবেশ করছে তাদেরকে কোনো বাধা দেয়া হচ্ছে না, আমরা করলে এর চেয়ে ২০ গুন বেশি লোকের জনসমাগম ঘটতো। সবাইকে অনুমতি দেয়, ওয়ার্কার্স পার্টিকে দেয় আমাদেরকে দেয়না, ২৩ তারিখে সিলেটে আমাদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভার প্রথমে অনুমতি দিয়ে পরে আবার সেটি প্রত্যাহার করেছে। কারণ, এটা একটি স্বৈরাচারী সরকার, ফ্যাসিবাদী সরকার এরা জনগণকে ভয় পায় এরা আইনের শাসন বিশ্বাস করে না।

  • ড. কামালকে নিয়ে যা বললেন তোফায়েল

    ড. কামালকে নিয়ে যা বললেন তোফায়েল

    বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার ক্ষমতা কারো নেই।
    মন্ত্রী শনিবার সদর উপজেলা অডিটরিয়ামে জেলা যুব মহিলা লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যদি ২০১৪ সালের মতো অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায় তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দক্ষতার সাথে দেশের মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দেবে। তারা (বিএনপি) যদি আবার ক্ষমতায় আসে, তবে দেশটাকে ধবংস করে দেবে।’

    বিএনপি দৈন্যতায় ভোগা একটি দল এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো তাদের সাথে কামাল হোসেন জোট করেছেন।
    বিএনপি দলের মধ্যে কোনো যোগ্য লোক নেই বলেই কামাল হোসেনের মতো দল ত্যাগকারী নেতাকে বেছে নিয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নতুন জোটের উদ্দেশ্য যদি হয় শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো, তাহলে তা কোন দিনই সফল হবে না। বাংলার মানুষ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। দেশকে উন্নয়নের চরম শিখরে পৌঁছাতে হলে শেখ হাসিনাকে আবার প্রধানমন্ত্রী করতে হবে।
    সেই লক্ষ্যকেই সামনে রেখে মহিলা যুবলীগসহ সকল নেতা-কর্মীকে নিরলস কাজ করার আহবান জানান তিনি।

    মহিলা যুবলীগ আহবায়ক খাদিজা আক্তার স্বপ্নার সভাপতিত্বে সভায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন নারী নেত্রী আনোয়ারা আহমেদ। বক্তৃতা করেন এ্যাডভোকেট মমতাজ বেগম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক আরজু প্রমুখ।

    নীতিহীন স্বাধীনতা বিরোধীদের ঐক্যের সঙ্গে বাংলার জনগণ যাবে না
    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ‘ঐক্যের নামে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তবে যে ঐক্য নীতিহীন, স্বাধীনতা বিরোধীদের কথা বলে, সেই ঐক্যের সঙ্গে বাংলার জনগণ যাবে না।’

    শুক্রবার বিকেলে কসবা পৌর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি কসবা শাখার আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় কসবা উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবু ইউসুফ ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তৃতা করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. আনিসুল হক ভূইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা ইসলাম ও কসবা পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল।

    আনিসুল হক বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে শিক্ষক হিসেবে নয়, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে ভালো-মন্দ যাচাই বাছাই করে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ শিক্ষক সমিতির নেতারা এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতি জেনেভা যাবেন

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম-২০১৮-এর ৫ দিনব্যাপী সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে আগামীকাল রাতে জেনেভার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর জেনেভায় জাতিসংঘ দফতরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
    রাষ্ট্রপতি বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বিনিয়োগ সম্মেলন এবং হোমল্যান্ড এন্ড গ্লোবাল সিকিউরিটি বিষয়ক ২০তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল রাতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে জেনেভার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বাসসকে আজ এ কথা বলেন।
    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সম্মেলনে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ, মন্ত্রী এবং বিশ্বের কোম্পানিগুলোর সিইওগণ যোগ দেবেন। তারা তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করবেন।

  • নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে : এরশাদ

    নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে : এরশাদ

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, আগামী নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মানুষ পরিবর্তন চায়। ছাত্ররা আন্দোলনের সময় বলেছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের মেরামত প্রয়োজন। আমরাও তাই চাই।

    আজ শনিবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মিলিত জাতীয় জোট আয়োজিত মহা সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

    সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন দলেন সিনিয়র কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ দলের সিনিয়র নেতারা।

  • বিএনপির বিরুদ্ধে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র!

    বিএনপির বিরুদ্ধে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র!

    এবার বিএনপির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে রিটের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে সরকারের এক উচ্চপর্যায়ের সূত্র থেকে। দলের হাইকমান্ডের সবুজ সঙ্কেত পাওয়া গেলেই এই রিট দায়ের করা হবে হাইকোর্টে। কোন বেঞ্চে এই রিট দায়ের করা হবে, রিটের আবেদনে কী ধরনের আদেশ চাওয়া হবে, কাকে এ রিটে আবেদনকারী করা হবে এবং আইনজীবী হিসেবে কারা এর পক্ষে আইনি লড়াইয়ে থাকবেন সব চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে।

    রিটে মূল যুক্তি তুলে ধরা হবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন। এ মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরো নেতা বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি পেয়েছেন। এ ছাড়া যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলায় জড়িত থাকার ব্যাপারে বিভিন্ন মামলা দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার কিছু কিছুতে বিচার ও শাস্তি দেয়ার ঘটনার রেফারেন্সও থাকতে পারে এ আবেদনে।

    সরকারি দলের একটি উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, দলীয় প্রধান বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর তিনি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়ার কথা জানিয়েছেন। এর আগে বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দলÑ এই মর্মে মন্ত্রী ও নেতাদের বক্তব্য রাখার জন্য বলা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে যুবলীগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। একই দাবিতে সরকারি দলের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনও কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে।

    জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোরালোভাবে অবয়ব নেয়ার কারণে কূটনৈতিক সূত্রসহ অন্যান্য মহল থেকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এটি হলে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপও সরকারি দলের বিপর্যয় রোধ করতে যথেষ্ট হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মালদ্বীপের নির্বাচনের সাম্প্রতিক উদাহরণের বিষয়টি সামনে রাখা হয়েছে। বলা হচ্ছে, যেকোনো অজুহাতে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে না পারলে জয় নিশ্চিত করা যাবে না। আর নিবন্ধন বাতিলই তাদেরকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে কার্যকর অজুহাত হবে।

    নতুন এ রিটটি নির্বাচন নির্দিষ্ট সময়সীমা থেকে পেছানোর একটি কারণ হিসেবেও কাজ করতে পারে। সংবিধান অনুসারে জরুরি অবস্থা জারি ছাড়া সরকার নির্বাচন পেছাতে পারবে না; কিন্তু আদালত থেকে রায় এলে এটি সম্ভব।

    এ বিষয়টিকে সামনে রেখে বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের বিবেচ্য রিট ছাড়াও সম্প্রতি আরো কয়েকটি রিট দায়ের করা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে। গত সেপ্টেম্বরের শেষে সংসদ বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট করা হয়েছে। এ রিটে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪২ দিন আগেই দশম সংসদ বাতিল, নতুন আঙ্গিকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি দাখিল করেন। এ রিট আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
    এর দিন দশেক পর জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আরেকটি রিট দায়ের করা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ’-এর নিবন্ধন না দেয়া পর্যন্ত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিটটিও দায়ের করেন। এ রিটে ‘ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশে’ রাজনৈতিক দল হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

  • টেলিফোনে কী আলাপ হয়েছিল মান্না আর মাহীর মধ্যে

    টেলিফোনে কী আলাপ হয়েছিল মান্না আর মাহীর মধ্যে

    নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না আবারো ফোনালাপের কবলে পড়েছেন। আপাদমস্তক নিপাট ভদ্রালোক এবং বন্ধুবৎসল বলে পরিচিত মাহমুদুর রহমান মান্না ইতঃপূর্বে মোবাইল ফোনে কথা বলে কী যে দুর্ভোগে পড়েছিলেন, তা দেশবাসী কমবেশি সবাই জানেন। সেবার তিনি কথা বলেছিলেন একজন অপরিচিত মানুষের সাথে। রাজনীতিবিদ হিসেবে আমরা অনেকেই আমজনতার ফোন ধরি এবং পরিচিত-অপরিচিত কিংবা অজ্ঞাত লোকের সাথে আন্তরিকতা নিয়ে কথাবার্তা বলে নিজের মহত্ত্ব ও গণসম্পৃক্ততা প্রমাণের চেষ্টা করি। অনেক সময় কেউ হয়তো ফোন করেই জানতে চান- আমাকে চিনেছেন!

    তখন আমরা উহ-আহ, হু-হা বলে এমন একটা ভাব করি যে-তাকে চিনতে পেরেছি; অথচ আদৌ চিনি না। মাঝে মধ্যে দু-একজন পাল্টা প্রশ্ন করে বলে ওঠেন, আচ্ছা বলুন তো আমি কে? তখন আমরা সত্যিকার অর্থেই বিপদে পড়ে যাই এবং আমতা আমতা করে বলি, চেনা চেনা লাগছে! বলুন তো কে আপনি! তারপর ভদ্রলোক বা ভদ্রমহিলা নিজের নাম বলতেই আমরা না চিনলেও উচ্ছ্বাস দেখিয়ে বলি- উফ্! এবার চিনতে পেরেছি। তারপর আমরা মনোযোগ দিয়ে তাদের কথাবার্তা, অভাব-অভিযোগ, অনুযোগ-পরামর্শ শুনতে থাকি- আর এভাবেই অনর্থক কর্মকাণ্ডে বছরের পর বছর পার করে দাড়ি-চুল পাকিয়ে গরিবের সুন্দরী বউয়ের মতো পাড়া-মহল্লার কামুক পুরুষ এবং ঈর্ষাকাতর ধনবতী কুৎসিত রমণীর জ্বালাতন উপভোগ করে কবরের পথে এগোতে থাকি

    মাহমুদুর রহমান মান্না যে ফোনালাপের মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রেহোরে মামলার দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তা অনেকটা উপরিউল্লিখিত প্রকৃতিরই ছিল। কিন্তু মান্নার এবারকার ফোনালাপটি অবশ্য গতানুগতিক নয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা: বি. চৌধুরীর আলোচিত এবং কারো কারো কাছে বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত এবং কর্নেল অলি আহমদের মতো লোকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমালোচিত যুবক রাজনীতিবিদ মাহি বি চৌধুরীর সাথে মান্নার ফোনালাপের বিষয়টি এখন দেশের রাজনীতির চায়ের কাপে ঝড় তুলেছে। তাদের কথোপকথন নিয়ে যেভাবে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে তাতে মান্নার বিনয়, ভদ্রতা ও সৌজন্যতার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। অন্য দিকে, যে বা যারা ফোনালাপটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন তারা প্রকারান্তরে মাহির ব্যক্তি ইমেজ ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালিমা লেপন করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার আগে দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর ঐক্য এবং সেই ঐক্যের ভাঙন নিয়ে দু-চারটি কথা বলা অবশ্যক।

    একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের জোটের পরিধি বাড়াতে গিয়ে ইতোমধ্যে হেফাজত নেতা মাওলানা আহমদ শফী এবং সাবেক বিএনপি নেতা নজমুল হুদার সাথে ঐক্য করেছেন বলে পত্রপত্রিকায় এসেছে। তারা কয়েকটি ইসলামী দল বা জোট, কাদের সিদ্দিকী, কর্নেল অলিসহ সিপিবি-বাসদের মতো বাম ঘরানার দলগুলোর সাথে তলে তলে ঐক্য করে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সরকারের শরিকদল এবং জাতীয় সংসদের অভিনব বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও রাজনৈতিক মোর্চা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা এখন পর্যন্ত তাদের ওপর সরকারের নির্দেশ, আদেশ ও পরামর্শের কোনো অনুলিপি হাতে পাননি। ফলে তারা দৃঢ়ভাবে বলতে পারছেন না যে, তারা কি আগামীতে ক্ষমতাসীন জোটের অংশীদার হিসেবে নির্বাচন করবেন, নাকি তাদেরকে নির্বাচনের সাপোজিটর হিসেবে এককভাবে কাজ করতে হবে। তারা এক দিকে যেমন সরকারের ভয়-প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং তাদের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গা-ঝাড়া দিয়ে ফেলে রুখে দাঁড়াতে পারছেন না, আবার যদি দৈবাৎ কারণে বর্তমান সরকার পুনরায় ক্ষমতায় না আসে তবে কী পরিণতি এবং কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে তার ব্যারোমিটারও খুঁজে পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় তারা সাদামাটা রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে পত্রিকার পাতাগুলো ভরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    উপরিউল্লিখিত গতানুগতিক ধারার সাথে তাল মিলিয়ে প্রায় একই কাজ করে যাচ্ছিল রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং তাদের মিত্রদলগুলো। বিএনপি-জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে করা বাহারি মামলা মোকদ্দমা, হুমকি-ধমকি, কূটকৌশল, প্রচার-প্রপাগান্ডা ও তাপচাপে তারা প্রায় ভর্তা হয়ে যাওয়ার অবস্থায় পড়েছিল। নির্বাচনকালীন সরকারপদ্ধতি, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনপূর্ব সংলাপ ইত্যাদি নিয়ে গতানুগতিক বক্তৃতা-বিবৃতির পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ে চলতি ঘটনার ওপর নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করেই তারা সময় পার করছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে ডা: বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট গঠন এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যপক্রিয়ার আহ্বানে বিএনপি শিবিরে নতুন-আশা-আকাক্সক্ষা ও আবেগ-উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। পরে ড. কামাল, বি চৌধুরী, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিএনপি এবং তাদের মিত্র বলে পরিচিত বুদ্ধিজীবী ও সুশীলসমাজের সমন্বয়ে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য করে একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করার একটি প্রক্রিয়া শুরু হলে রাজনীতির মাঠ বেশ আলোচিত হয়ে ওঠে এবং বিষয়টি সরকারের নজরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ দিন থেকেই ড. কামালকেন্দ্রিক একটি প্রক্রিয়া নিয়ে গুঞ্জন ছিল। অন্য দিকে, বি. চৌধুরী এবং কাদের সিদ্দিকীকে নিয়ে গুঞ্জন ছিল যে, তারা আসলে শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবেন- তা হলফ করে বলা যাবে না। কাদের সিদ্দিকী সম্পর্কে অন্যান্যের অভিযোগ হলো- তিনি অতিমাত্রায় অস্থির এবং প্রচণ্ড নাক উঁচু প্রকৃতির। কোনো সভা-সমিতি, অনুষ্ঠান কিংবা বৈঠকে তাকে পাওয়া এবং স্বস্তিতে সেই অনুষ্ঠান শেষ করা রীতিমতো কষ্টসাধ্য। কারণ তিনি কী চাইবেন বা কী বলবেন তা আয়োজকদের জন্য সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। নাগরিক ঐক্যের পক্ষে একবার তিনি নারায়ণগঞ্জে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমনভাবে কথা বলেছিলেন, যা আয়োজকদের বিপক্ষে গিয়েছিল। তিনি কয়েকবার জিয়াউর রহমান, বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার পক্ষেও যেমন বলেছেন, আবার তারেক রহমানসহ অনেককে যুগপৎভাবে তুলোধুনা করে দিয়েছেন। এসব কারণে তাকে নিয়ে অনেকেরই অস্বস্তি রয়েছে। কাজেই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যেকোনো কারণেই হোক তাকে দেখা যায়নি। বি. চৌধুরী সম্পর্কে সবারই একধরনের শ্রদ্ধা ও ভালো লাগার অনুভূতি রয়েছে। কিন্তু মাহিকে নিয়ে বিএনপি এবং শরিকদের অনেকেরই রয়েছে সুতীব্র অ্যালার্জি। কিন্তু তারপরও ঐক্যপ্রক্রিয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্তিতে অনেকে অবাক হয়েছিলেন এবং সাধারণ বিএনপি-জামায়াতের লোকজন খুশি হয়েছিলেন।

    বি. চৌধুরীর বিকল্পধারা এবং তার নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্টের কয়েকটি বৈঠক এবং পরে ড. কামাল হোসেনের সাথে তাদের বৈঠকে মাহি বি চৌধুরীর কিছু বক্তব্য, দাবি ও মন্তব্যে সারা দেশে বিপরীতমুখী আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তাদের জোটে বহু সিনিয়র নেতা থাকা সত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত তরুণ মাহির কণ্ঠে এমন সব কথাবার্তা শোভা পাওয়া শুরু করল, যা কিনা তাদের জোটে বিএনপির অংশগ্রহণকে অনিশ্চিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছিল। নতুন জোটে পরোক্ষভাবে হলেও জামায়াত থাকতে পারবে না এবং সেই ঘোষণা বিএনপিকে প্রকাশ্যে দিয়ে তারপর জোটে আসতে হবে এমন শর্তের পাশাপাশি তাদের জোটকে ১৫০টি আসন দিতে হবে। ক্ষমতার ভারসাম্যের ব্যাপারে চুক্তি করতে হবে ইত্যাদি কথাবার্তা বলে মাহি এক দিকে যেমন জোটের ভেতর জনপ্রিয়তা হারাচ্ছিলেন, তেমিন সরকারি মহলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল। এরই মধ্যে একদল লোক সমালোচনা শুরু করে যে, মাহি মূলত সরকারের এজেন্টরূপে কাজ করছে এবং জোটে ভাঙন ধরানোর মিশন নিয়েই তিনি পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছেন। মাহি সম্পর্কে লোকজন যতই বিরূপ মন্তব্য করুক না কেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে খুব কাছ থেকে চিনি বলেই আমি জানতাম যে, বিএনপির সাথে শেষ অবধি তার বা তার দল বিকল্পধারার ঐক্য হবে না- আর সে কারণেই তাদের গঠিত যুক্তফ্রন্ট টিকবে না এবং বৃহত্তর ঐক্যের সাথেও তারা থাকতে পারবে না।

    বাংলাদেশের রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট লোকজন খুব ভালো করেই জানেন, কোন পরিস্থিতিতে এবং কেন বি. চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। পরে বিকল্পধারা গঠিত হলে তৎকালীন বিএনপি সর্বশক্তি নিয়ে নবগঠিত বিকল্পধারার ওপর আক্রমণ চালায় মেজর মান্নানের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আগুন-ভাঙচুর, রেদওয়ান আহম্মেদের বাসাবাড়ীতে আক্রমণ এবং বি. চৌধুরীর বারিধারার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের কাহিনী লোকজন হয়তো ভুলে যাবে, কিন্তু ঢাকা মহাখালী রেলক্রসিংয়ের কাছে বি. চৌধুরী ও মাহি বি চৌধুরীসহ বিকল্পধারার নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের যুগপৎ আক্রমণে যে ন্যক্কারজনক এবং মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয়- তা কোনো দিন ভুলবার নয়। বয়োবৃদ্ধ একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট সে দিন প্রাণভয়ে যেভাবে অসহায় অবস্থায় পড়ে পালাচ্ছিলেন তা কেবল তার জন্য নয়- পুরো গণতন্ত্র তথা বাংলাদেশের জন্য একটি লজ্জাজনক অধ্যায়। রাগে, ক্ষোভে এবং অপমানে বি. চৌধুরী সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি আর কোনো দিন বিএনপিতে ফিরে যাবেন না।

    উল্লিখিত ঘটনার পর বহু বছর কেটে গেছে। বিকল্পধারা থেকে কর্নেল অলি বের হয়ে গেছেন- বিএনপিও ক্ষমতা হারিয়ে ইতিহাসের ভয়াবহতম বিপর্যয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে বিকল্পধারার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির নির্মম বাস্তবতায় বি. চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজনেরা যেমন তাকে বিএনপিতে ফেরত যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, তেমনি বিএনপি নেতৃত্বকেও তাদের শুভার্থীরা পরার্মশ দিয়েছেন যে, বি. চৌধুরীকে সসম্মানে দলে ফিরিয়ে নেয়া হোক। এ অবস্থায় ২০১৫ বা ১৬ সালে হঠাৎ পত্রিকায় খবর বের হলো যে, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বি. চৌধুরীর বাসায় গিয়েছেন। পরবর্তীকালে বি. চৌধুরীও বিএনপির ব্যাপারে নমনীয় কথাবার্তা বলতে আরম্ভ করলে তিনি আওয়ামী লীগের কোপানলে পড়েন এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাকে বদু কাকা সম্বোধন করে ঠাট্টাছলে অনেক বিষোদগার করেন।

    বিএনপি এবং বিকল্পধারার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বি. চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়াকে পছন্দ করেন। তবে তিনি কিছুতেই তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব মানতে পারেন না। তারেকের কথা শুনলে তার মনে গোস্বা দেখা দেয়- মস্তিস্ক এলোমেলো হয়ে যায় এবং শরীরে অস্থিরতা ভর করে। একইভাবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মাহি সম্পর্কে প্রচণ্ড অ্যালার্জি রয়েছে। যে অ্যালার্জির কারণে কর্নেল অলি বিকল্পধারা ত্যাগ করেছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সাথে যুক্তফ্রন্টের ঐক্যের ব্যাপারে বিরোধিতা করেছিলেন। রাজনীতির অন্তরালের খবরাখবর যারা রাখেন, তারা সবাই তারেক-মাহির ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিযে মুদ্রণ অযোগ্য রসাত্মক ও ব্যাঙ্গাত্মক কথাবার্তা প্রচার করেন- যা আমার কাছে প্রায়ই ভ্রান্ত বলে মনে হয়। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয়, তারেক-মাহির ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার পরও তারা কেউ পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তো দূরের কথা একান্ত আলোচনাতেও একটি বিরূপ মন্তব্য করেননি।

    অবস্থার প্রেক্ষাপটে দেশের পত্রপত্রিকা যখন গরম গরম খবর প্রকাশ করছিল- বিকল্পধারার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সাথে বিএনপির ঐক্য হয়েছে, তখন আরো অনেকের মতো আমিও অপেক্ষা করছিলাম ঐক্যে ফাটল ধরার খবর শোনার জন্য। কিন্তু কেউ কেউ যখন বি. চৌধুরী এবং মাহিকে সরকারের এজেন্ট বলে গালমন্দ করছিল, তখন বিষয়টি বিশ্বাস করতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। কারণ, রাজনীতির সূত্রমতে-তাদের সাথে সরকারের সুসম্পর্ক হতে পারে, কিন্তু সরকারের দোসর বা দালাল হওয়ার মতো দৈনতায় তারা পড়বেন এমন নিচু চিন্তা আমার মনে স্থান পায়নি। আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হলো- অন্যসব রাজনৈতিক দল ও জোটের মতো বিকল্পধারাও ক্ষমতায় যেতে চায় বা ক্ষমতার সঙ্গী হতে চায়। সে ক্ষেত্রে তারা হয়তো একটি তৃতীয় শক্তি হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে চাইবেন। তবে বিএনপির ছত্রছায়ার তুলনায় তারা বর্তমান সরকারকে যে নিরাপদ মনে করেন, তা তাদের সাম্প্রতিক কথাবার্তায় বহুবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে বিএনপির সাথে তাদের বৃহত্তর ঐক্য, জামায়াত প্রসঙ্গ এবং সংসদীয় আসনের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক এবং সর্বশেষে ঐক্যপ্রক্রিয়া থেকে ছিটকে পড়ার ঘটনার মধ্যে একটি কথা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ঐক্যজোটের সিনিয়র নেতারা তাদেরকে বিশ্বাস করতে পারেননিÑ যা মান্না ও মাহির টেলিফোন সংলাপে অনেকটা স্পষ্ট হয়ে গেছে।

    আমরা যদি মান্না-মাহির টেলিফোন সংলাপ বিশ্লেষণ করি তবে লক্ষ করব যে, মান্না কথা বলতে বেশ ইতস্তত বোধ করছিলেন। অন্য দিকে, মাহি তার কথাবার্তা দিয়ে মান্নাকে বিব্রত, এবং বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিল, মান্নার কাছে মাহির ফোনালাপটি ছিল অপ্রত্যাশিত এবং তিনি কথা বলতে গিয়ে বারবার চিন্তা করছিলেন, তাদের ফোনটিতে আড়িপাতা হচ্ছে, যা তার জন্য নতুন বিপদের কারণ হতে পারে। এ কারণে তিনি কথার ফাঁদ থেকে বাঁচার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন এবং খুবই সতর্কভাবে কথাবার্তা বলছিলেন। অন্য দিকে, মাহির কথা শুনে মনে হচ্ছিলো- তিনি পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে কথাবার্তা চালাচ্ছিলেন এবং তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে তাদের সংলাপ রেকর্ড হচ্ছে, যা নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশিত হবে। কথার মাধ্যমে তিনি নিজেদের অসহায় ও দুর্বল বলে উপস্থাপন করে দর্শক-শ্রোতার সহানুভূতি লাভের চেষ্টা করছিলেন। তিনি তার বাবাসহ ড. কামালের বাড়িতে গিয়ে যেভাবে অপমানিত হয়েছেন, তা অত্যন্ত অভদ্রজনিত আচরণ। এ কথা বারবার বলে তিনি বুঝাতে চাচ্ছিলেন, ড. কামাল তো ইতঃপূর্বে এমন সৌজন্য বিবর্জিত ছিলেন না। বিএনপির সাথে ঐক্য করার পর তিনি হয়তো সৌজন্য ভুলে গেছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোকো মারা যাওয়ার পর বেগম জিয়ার অফিসে গিয়ে যেভাবে অপমানিত হয়েছেন, ঠিক একই কায়দায় বিকল্পধারার বড় চৌধুরী এবং ছোট চৌধুরী সাহেবদ্বয় ড. কামালের বেইলি রোডের বাড়িতে গিয়ে অপমানিত হয়েছেন।

    টেলিফোন আলাপে মাহির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং দ্ব্যর্থপূর্ণ বক্তব্যটি ছিল দেশবিরোধী চক্রান্ত নিয়ে। তিনি অনেকটা শিক্ষকসুলভ অভিব্যক্তি নিয়ে বেশ দৃঢ়তার সাথে মান্নাকে এমনভাবে বুঝাচ্ছিলেন, তাতে শ্রোতাদের মনে হতে পারে যে, মান্না লোকটি আসলে অবোধ-সে কিছুই বোঝে না। মাহি বলছিলেন, আরে মান্না ভাই আপনি জানেন না, এসব ঐক্যের পেছনে অনেক কিছু আছে- এটা কোনো ঐক্য না, এটা দেশবিরোধী চক্রান্ত। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ঐক্যপ্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত লোকেরা যে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযুক্ত আসামি হতে পারেন তার ইঙ্গিত দেন। তার বক্তব্যের জবাবে মান্না কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কৌশলে পাশ কাটানোর চেষ্টার মাধ্যমে মাহির সম্পর্কে সাম্প্রতিক কালের গুঞ্জনকে জনগণের বিচারের জন্য একটি সুন্দর জায়গা করে দিয়েছেন। ফলে মান্না-মাহির টেলিফোন সংলাপ নিয়ে পত্রপত্রিকা, টকশো এবং সামাজিক মাধ্যমে যা আলোচনা হচ্ছে- তা তার জন্য শুভ ফল বয়ে নিয়ে আসবে, সেটা বিচার করার ভার সম্মানিত পাঠকদের ওপর ছেড়ে দিলাম।

  • কী ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশে

    কী ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশে

    বাংলাদেশে ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে, আমরা তা ঠাহর করতে পারছি না। যারা আমার মতো বয়োবৃদ্ধ, তাদের মনে পড়ছে এই উপমহাদেশের দেশীয় রাজ্য কাশ্মির ও হায়দরাবাদের কথা। ব্রিটিশ শাসনামলে তদানীন্তন ভারতীয় উপমহাদেশে পাঁচ ভাগের দুই ভাগ ছিল, যাকে বলা হতো ‘দেশীয় রাজ্য’। এসব রাজ্য সরাসরি ব্রিটিশ শাসনের আওতায় ছিল না; ছিল দেশীয় শাসকদের নিয়ন্ত্রণে। তাদের মেনে চলতে হতো ব্রিটেনের সঙ্গে বিশেষ ধরনের চুক্তি, যাকে বলা হতো ‘বাধ্যতামূলক বন্ধুতা’।

    এসব রাজ্যের কোনো স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ছিল না। সবচেয়ে বড় দু’টি দেশীয় রাজ্য ছিল কাশ্মির ও হায়দরাবাদ। এই হায়দরাবাদের শাসককে বলা হতো নিজাম। ১৯৪৭ সালে ব্রিটেন ভারত উপমহাদেশ ত্যাগ করে চলে যায়। তখন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট পাস করে Indian Independence Act। এতে বলা হয়, দেশীয় রাজ্যগুলো হয় পাকিস্তান, নয় ভারত রাষ্ট্রে যোগ দেবে। অথবা তারা ইচ্ছা করলে থাকতে পারবে স্বাধীন। কাশ্মির ছিল মুসলিমপ্রধান দেশীয় রাজ্য, যার রাজা ছিলেন ডোগরাভাষী হিন্দু। তিনি যোগ দেন ভারতে। অন্য দিকে, হায়দরাবাদের শাসক বা নিজাম ছিলেন মুসলমান।

    কিন্তু হায়দরাবাদ ছিল হিন্দুপ্রধান দেশীয় রাজ্য। হায়দরাবাদের নিজাম থাকতে চাইলেন স্বাধীন। হায়দরাবাদের মানুষের ভাষা হলো অন্ধ্রের মতো তেলেগু। তবে হায়দরাবাদের রাজকার্য ও লেখাপড়া চলত উর্দু ভাষার মাধ্যমে। কাশ্মির ভারতে যোগদান করার পর কাশ্মিরের মানুষ বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরু কাশ্মির সমস্যাকে নিয়ে যান জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে। নিরাপত্তা পরিষদে বলা হয়, কাশ্মির সমস্যা সমাধান করা হবে গণ-অভিমত গ্রহণ করে যা আজ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি।

    কাশ্মিরের একটা অংশ স্বাধীন হয়ে যায়, যাকে এখন বলা হয় আজাদ কাশ্মির। বাকি অংশ থাকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত। কাশ্মিরের একটা জেলাকে বলা হতো লাদাখ। এটা একসময় ছিল তিব্বতের অংশ। এখানকার মানুষ দেখতে অবিকল তিব্বতিদের মতো। ধর্মে এরা হিন্দু নয়, শিখ নয়; লামা বৌদ্ধ। চীন ১৯৬২ সালে যুদ্ধ করে লাদাখ দখল করে নেয়। এর আয়তন হলো ১২ হাজার বর্গমাইল। অর্থাৎ বর্তমান কাশ্মির হয়েছে ত্রিধাবিভক্ত। ‘আজাদ কাশ্মির’ কার্যত যুক্ত হয়ে পড়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে। লাদাখ যুক্ত হয়ে পড়েছে চীনের তিব্বতের সঙ্গে। কাশ্মির ও জম্মু যুক্ত আছে ভারতের সঙ্গে। তবে কাশ্মিরবাসী মুসলমানরা চাচ্ছেন স্বাধীন হতে।

    অন্য দিকে, হায়দরাবাদের নিজাম স্বাধীন থাকতে পারেননি। ভারত হায়দরাবাদ দখল করে নেয়। হায়দরাবাদ দখলের কথা আমার মনে আসছে, কারণ ভারতের বিজেপি নেতা এবং লোকসভার সদস্য সুব্রামোনিয়াম স্বামী হুমকি দিচ্ছেন বাংলাদেশকে দখল করে নেয়ার। বাংলাদেশ ভারত দিয়ে তিন দিক ঘেরা। ভারত তাই সহজেই বাংলাদেশে পাঠাতে পারে তার সৈন্য। আর বাংলাদেশ হায়দরাবাদের মতোই হয়ে পড়তে পারে ভারতের অধীন। কেবল তাই নয়, ভারতের আসাম প্রদেশ থেকে প্রায় ১৩ কোটি বাংলাভাষী মুসলমানকে বাংলাদেশের মধ্যে ঠেলে দেয়ার কথা হচ্ছে। এটা করলে বাংলাদেশে সৃষ্টি হবে বিরাট মানবিক বিপর্যয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব তখন পড়বে হুমকির মুখে।

    ভারত ধনী দেশ নয়। ভারতের পত্রপত্রিকা খুললেই চোখে পড়ে, দেশটির অনেক অঞ্চলে অনেক কৃষক মারা যাচ্ছেন অনাহারে। তথাপি ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে এ বছর কিনল সাড়ে পাঁচ শ’ কোটি ডলারের অস্ত্রসম্ভার। প্রশ্ন উঠছে, ভারত এত অস্ত্র কিনছে কেন? এর একটা উদ্দেশ্য হতে পারে, বাংলাদেশ আক্রমণ করে তা দখল করা। তাই বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতিবিদদের প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। জাতীয় পর্যায়ে ভোট হলে আমরা তাতে অবশ্যই অংশ নেব। আমরা চাই, বাংলাদেশ একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হোক। কিন্তু বিদ্যমান অবস্থায় গণতন্ত্রই কেবল আমাদের ভাবনার বিষয় হতে পারে না। ভাবনার বিষয় হওয়া উচিত, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা। কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য উচ্ছ্বাসে মনে হচ্ছে, আমরা আমাদের রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা যেন বিস্মৃত হতে চাচ্ছি। তাই আমার এ কথা মনে করিয়ে দেয়া।

    ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে প্রস্তাব রেখেছিল ‘স্ট্যাটাস অব ফোর্সেস অ্যাগ্রিমেন্ট’ করার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি করতে চায়নি। এর কারণ ছিল, ভারত ও চীনকে অসন্তুষ্ট না করা। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বিশেষভাবে বদলে গেছে। ভারত হুমকি দিচ্ছে বাংলাদেশকে দখল করার। অন্য দিকে, মূল চীনের হান চীনারা আরম্ভ করেছে চীনের মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ অত্যাচার। চীনে সাধারণত দুই ধরনের মুসলমান দেখতে পাওয়া যায়। এক ধরনের মুসলমানকে বলা হয় উইঘুর। অন্য ধরনের মুসলমানকে বলা হয় হুই। উইঘুর মুসলমানেরা তুর্কি মুসলিম বংশোদ্ভূত। এরা বাস করেন মহাচীনের সিংকিয়াং বা জিনজিয়াং প্রদেশে। এরা একসময় ছিলেন স্বাধীন। খ্রিষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে চীনের একজন মাঞ্চু রাজা এই অঞ্চল দখল করেন। সেই থেকে এ অঞ্চল হতে শুরু করে মহাচীনের অংশ হিসেবে বিবেচিত।

    চীনের হুই মুসলমানেরাও প্রধানত তুর্কি বংশোদ্ভূত। কিন্তু তারা স্বেচ্ছায় চীনে আসেনি। এদের পূর্বপুরুষকে মধ্য এশিয়া থেকে চেঙ্গিস খান ধরে আনেন চীনে দাস হিসেবে কাজ করার জন্য। ওদের সঙ্গে চীনাদের মিশ্রণ ঘটেছে। তবে হুইদের বংশধররা পছন্দ করেছেন মুসলিম ধর্ম বজায় রাখতে। সম্প্রতি মূল চীনারা প্রায় ১০ লাখ উইঘুর মুসলমানকে বন্দী করেছে। আর করছে তাদের ওপর পীড়ন (TIME, । বাংলাদেশ একটা মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। তুর্কি মুসলমানদের ওপর, তারা মুসলমান ও তুর্কি বলে মূল চীনারা অত্যাচার করবে, এটা বাংলাভাষী মুসলমানকে ক্ষুব্ধ না করে পারে না। কেননা, বাংলাভাষী মুসলমানদের মধ্যেও আছে মধ্য এশিয়া থেকে আগত তুর্কি মুসলমানদের প্রভাব। তাই এখন চীনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা হ্রাস পাচ্ছে। আর তারা সরে যেতে চাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে।

    এখন যদি স্ট্যাটাস অব ফোর্সেস অ্যাগ্রিমেন্টের অনুরূপ কোনো প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রদান করে, তবে সেটা বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত হতেও পারে। সেটা তার জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই বিবেচিত হতে পারবে আবশ্যিক হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, রাশিয়া অথবা চীনের সঙ্গে হতে পারে তার একটা খুব বড় রকমের যুদ্ধ। তাই সে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে ‘মহাকাশ বাহিনী’ গড়ার। মনে করা হচ্ছে মহাকাশ যার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, পৃথিবীকে সে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত করতে পারবে।

    রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আর কেউ বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ায়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে এসে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়া, চীন ও ভারত কার্যত এ ইস্যুতে মিয়ানমারকে সমর্থন জানাচ্ছে। এ জন্যও বাংলাদেশকে ক্রমেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে সরে যেতে হবে বলে মনে করা যায়। অনেকের ধারণা, মুসলমানেরা ধর্মান্ধ। কিন্তু মিয়ানমারের বৌদ্ধ ভিক্ষুরা কম ধর্মান্ধ নয়। তারা তাদের সরকারকে দিচ্ছে বিশেষভাবে সমর্থন। কিন্তু এ জন্য তাদের বলা হচ্ছে না, ‘বৌদ্ধ মৌলবাদী’; যদিও শব্দটা প্রয়োগ করলে তাদের ক্ষেত্রেও যে ভুল করা হয়, তা বোধহয় নয়। কথাগুলো আমার মনে পড়ছে, কেননা আমাদের দেশে একজন খ্যাতনামা নেতা হলেন বিখ্যাত চিকিৎসক বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

    তিনি বলেছেন, তিনি এমন কোনো দলের সাথে জোট বাঁধতে তিনি প্রস্তুত নন, যারা মুসলিম মৌলবাদকে সমর্থন করে। কিন্তু বাংলাদেশে কি প্রবল মুসলিম মৌলবাদী দল আদৌ আছে? বাংলাদেশের দু’টি বড় রাজনৈতিক দল, একটি হলো আওয়ামী লীগ আর একটি হলো বিএনপি। এরা কেউই মুসলিম মৌলবাদী দল নয়। তিনি এ দুই দলের সাথে জোট বাঁধবেন কি বাঁধবেন না, সেটা তার রাজনৈতিক ভাবনার ব্যাপার। কিন্তু তা বলে মুসলিম মৌলবাদের ভীতি ছড়িয়ে নিজেকে প্রগতিশীল প্রমাণ করার চেষ্টা বর্তমান পরিস্থিতিতে বাড়াবাড়ি মাত্র।