Category: রাজনীতি

  • কামাল হোসেনের টার্গেট শেখ হাসিনাকে হটানো

    কামাল হোসেনের টার্গেট শেখ হাসিনাকে হটানো

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ঐক্যটা’ আসলে কে চালাবে? মূল দল হচ্ছে বিএনপি। আর বিএনপি চালায় কে? তাদের চেয়ারপারসন এখন জেলে। ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার অঙ্গুলি হেলনেই চলবে এটা। লন্ডন থেকে দলেরও নেতৃত্ব দিচ্ছে, এই জোটেরও (জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট) নেতৃত্বের কলকাঠি নাড়বেন তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বনানীতে নির্মিত বিআরটিএ’র নতুন ভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কামাল হোসেনের টার্গেট সম্ভবত ক্ষমতায় যাওয়া নয়, তার টার্গেট হলো শেখ হাসিনাকে ক্ষমতার মঞ্চ থেকে হটানো। সেজন্য তারেক রহমানের মতো যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যাক্তির নেতৃত্ব মেনে নিতে তার আপত্তি আছে বলে মনে করি না।

  • আ’লীগের ঘাঁটিতে প্রার্থীজট নাছিরেই ভরসা বিএনপিতে

    আ’লীগের ঘাঁটিতে প্রার্থীজট নাছিরেই ভরসা বিএনপিতে

    দিরাই ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জ-২ আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। অনেকে আবার এটিকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের আসন হিসেবেই জানে। এ পর্যন্ত ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৭টিতে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

    ভোটে জয়লাভ করার জন্য তার ব্যক্তি ইমেজই বেশি কাজ করেছে অতীতে। তিনি যখন ন্যাপ, একতা, গণতন্ত্রী পার্টি করতেন তখনও তিনি জয়লাভ করেছেন এ আসনে। বিশেষ করে নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারি ও ১২ জুনের নির্বাচন বাদে সব কটি নির্বাচনে জয়লাভ করেন সুরঞ্জিত।

    ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির মিফতা উদ্দিন চৌধুরী রুমী এবং ওই বছরের ১২ জুনের নির্বাচনে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির নাছির উদ্দিন চৌধুরী। এ ছাড়া চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি।

    ২০০৮ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ৯৫ হাজার ৫৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নাছির চৌধুরী পান ৭৭ হাজার ৮৮৯ ভোট। ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে জয়ী হন তার স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্তা। আগামী নির্বাচনেও জয়া সেনগুপ্তা প্রার্থী।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন জয়া সেনগুপ্তা। আওয়ামী লীগের আরও অনেকেই মনোনয়ন চাচ্ছেন। সুরঞ্জিত বিহীন এ আসনে দলের অন্তত হাফ ডজন প্রার্থী মাঠে সক্রিয়। সেদিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপি।

    দলের জেলা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দলীয় মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলে জানা গেছে। আগামী নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জয়া সেনগুপ্তা ও নাছির উদ্দিনের মধ্যে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

    সুরঞ্জিত বিহীন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে দলে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। তবে আগামী নির্বাচনেও সুরঞ্জিত সেনের ব্যক্তি ইমেজ বিশেষভাবে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।

    এর পরও আওয়ামী লীগ সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলাম, শাল্লা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট অবনি মোহন দাস, এমসি কলেজের সাবেক ভিপি ইকবাল হোসেন, ছায়েদ আলী মাহবুব রেজু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার অনুকুল তালুকদার ডাল্টন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা সামছুল হক চৌধুরী।

    বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট দীপক চৌধুরীর নামও আলোচনায় আছে। তবে আওয়ামী লীগের ৫ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী জয়া সেনের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে মাঠে আছেন। ইতিমধ্যে তারা দিরাই ও শাল্লায় সভা করে দলের প্রার্থী বদলের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ- ‘জয়া সেনগুপ্তাকে ঘিরে রেখেছেন দলের সুবিধাভোগী ও অনুপ্রবেশকারীরা, সারা দেশে উন্নয়ন অগ্রগতি হলেও এলাকায় উন্নয়ন থমকে আছে।

    কথা হয় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইকবাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, পরিবর্তনের বিকল্প নেই, দীর্ঘ চল্লিশ বছর দিরাই-শাল্লাকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে, শেখ হাসিনার উন্নয়নকে লুটপাটকারীরা বাধাগ্রস্ত করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এ অবস্থার পরিবর্তন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দিরাই-শাল্লার উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে চাই।

    উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, ‘দিরাই-শাল্লার মানুষ সুরঞ্জিতকে ভালোবেসে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মর্যাদার আসনে জায়গা দিয়েছেন, আগামীতেও অমর্যাদা হবে না।

    আগামী নির্বাচন হবে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দিরাই-শাল্লার উন্নয়নের পক্ষে ও সুরঞ্জিত সেনের মর্যাদা রক্ষার। আওয়ামী লীগে কোনো বিভক্তি নেই, জয়া সেনগুপ্তার নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না রেখে কারও প্রার্থিতা দাবি করার যৌক্তিকতা নেই।’

    জানতে চাইলে জয়া সেনগুপ্তা বলেন, ‘আমাদের অভিভাবক দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। একাধিক প্রার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা প্রত্যেকের গণতান্ত্রিক অধিকার।

    সুবিধাভোগীদের কারণে ত্যাগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, ভাবিষ্যতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়েই উন্নয়ন কাজ করতে চাই, আমার স্বামীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে চাই। আগামী নির্বাচনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ইমেজ ও দলীয় ঐক্য এবং শক্তি আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    শহীদ পরিবারের সন্তান সিলেট ল’ কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলাম। গত উপনির্বাচনের পর থেকে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তৃণমূলে পৌঁছে দিতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী।

    অ্যাডভোকেট অবনি মোহন দাস বলেন, নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে হলে তৃণমূলের দাবি নৌকার মাঝি বদল করতে হবে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান এমপির সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কেউ নেই। তিনি সুবিধাভোগীদের লালন করছেন, তারা লুটপাট করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন।

    ‘দিরাই-শাল্লার রাজনীতি উন্নয়নের রাজনীতি, হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই নৌকার বিকল্প নাই’- এ স্লোগান নিয়ে এবং সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতির চিত্র পোস্টার-ব্যানার, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে তুলে ধরছেন ছায়েদ আলী মাহবুব। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই, উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হলেও জয়া সেনগুপ্তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি।

    যুক্তরাজ্য শ্রমিক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সামছুল হক চৌধুরী বলেন, ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসি। রাজনীতিতে নিতে নয়, দিতে এসেছি। এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত করতে চাই।

    এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে এ পর্যন্ত বিএনপি জয়লাভ করতে পারেনি। তবে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন নিয়ে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে সেই সুযোগে বিএনপি আসনটি দখলে নিতে মরিয়া। বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক এমপি ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী।

    যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রবাসী কমিউনিটি নেতা তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলের নাম আলোচনায় রয়েছে। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ মোহাম্মদ জাহির আলী।

    জাসদের আমিনুল ইসলাম আমিন, গণতন্ত্রী পার্টির গুলজার আহমদ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা নুর উদ্দিন আহমদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা সোয়াইব আহমদ, ইসলামী আন্দোলনের আবদুল হাই, কমিউনিস্ট পার্টির নিরঞ্জন দাস খোকন, বাসদের আজহারুল ইসলাম চৌধুরী।

    বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে কথা হয় দিরাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মিয়ার সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন নাছির উদ্দিন চৌধুরীই পাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। তিনি দলের সাংগঠনিক অবস্থানকে চাঙ্গা করার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে যাচ্ছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাকেই মাঠে পাচ্ছেন। এলাকায় তার ব্যাক্তি ইমেজও ভালো।’

    জানতে চাইলে সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, বিএনপি ভোটে এলে আমি নির্বাচন করব। তবে দিরাই-শাল্লায় আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই, যারা কোনো কিছুতেই জড়িত নেই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে কিন্তু ট্রিপল মার্ডারের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে মিটিং করছে। এলাকায় কোনো উন্নয়নও নেই, রাস্তায় চললে কোমর ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।

  • নরসিংদী-৩: গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দেয়ার দাবি

    নরসিংদী-৩: গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দেয়ার দাবি

    নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতাকে মনোনয়নের দাবি জানানো হয়েছে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায়।

    সোমবার বিশেষ বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশিদ খান।

    বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক সামসুল আলম ভূঁইয়া রাখিল, সহ-সভাপতি আজিজুল রহমান খান বুলু, সাধারচর ইউপি চেয়ারম্যান মাছিহুল গণি স্বপন, যোশর ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল আহম্মেদ, পুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এলিছ খন্দকার ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসহাক খলিল বাবু প্রমুখ। সাবেক এমপি জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন বলেন, অর্থ দিয়ে বড় নেতা হওয়া যায় না। বর্তমান এমপি তৃণমূলের নেতাকর্মীকে মূল্যায়ন করতে পারেননি। এতে নাখোশ স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

  • রাজনীতি এখন নির্বাচনমুখী

    রাজনীতি এখন নির্বাচনমুখী

    জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার এক মাস বাকি। বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার সিদ্ধান্ত না জানালেও দলটি ভেতরে-ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি ও দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের কাজ এগিয়ে রাখছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক সফরসহ মহানগরে নির্বাচনী গণসংযোগ করছে। এ ছাড়া বাম দল ও ইসলামি দলগুলোও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যের কথা বলে আসছে। এ বিষয়ে দলটি যুক্তফ্রন্ট, নাগরিক ঐক্য ও ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও করেছে। ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে যোগ দেন। এরপর আর সেভাবে ঐক্য প্রক্রিয়ার বিষয়টি এগোয়নি।

    নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপি অক্টোবরে মাঠ দখলের কথা বলেছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করে বিএনপি। ওই সমাবেশ থেকে ৩ অক্টোবর দেশের সব জেলা শহরে সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও ৪ অক্টোবর সব মহানগরে সমাবেশ করে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেয় দলটি। যদিও ৩ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও ও মুন্সিগঞ্জে পুলিশি বাধায় বিএনপির সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। এ ছাড়া হবিগঞ্জ ও রংপুরেও বিএনপির সমাবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

    বিএনপির একটি সূত্র বলছে, নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি মাঠে নেই, সত্য। কিন্তু নির্বাচনের জন্য বিএনপি প্রস্তুত হচ্ছে। প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া ও জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়েও কাজ চলছে। এ কারণে সপ্তাহে অন্তত চার দিন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বসছেন। তাঁরা নিজেদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছেন এবং নির্বাচন বিষয়ে সম্ভাব্য করণীয় কী হতে পারে, সে বিষয়েও তাঁরা আলোচনা করছেন।

    এ বিষয়ে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরউল্লাহ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি তো বিভিন্নভাবে মাঠে নামার চেষ্টা করেছে। সরকার মাঠে নামতে দিচ্ছে না। সরকার একদিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছে, আরেক দিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের পয়লা শর্ত, কথা বলতে দেওয়া, সভা-সমিতি করতে দেওয়া—সরকার এসব করতে দিচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য বিএনপি প্রস্তুত। বিএনপি দুই কদম করে বাড়লে আওয়ামী লীগ এককদম করে পেছাচ্ছে। বিএনপি নির্বাচনে আছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচন করে কি না, সেটাই দেখার বিষয়। আওয়ামী লীগ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, এমন হলে তো নির্বাচন করা মুশকিল।

    বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিক—এমনটাই চাইছে কমনওয়েলথ। সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে লেখা এক চিঠিতে সংস্থাটির মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড এ কথা বলেছেন। প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড লিখেছেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপিকে উৎসাহিত করছি। কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অপরিহার্য।’

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনে যাওয়ার জন্য আমাদের সমস্ত প্রস্তুতি আছে। কিন্তু আমরা একটি ন্যূনতম পরিবেশ চাই, যে কারণে আমরা কিছু দাবি দিয়েছি। সেসব দাবি আদায়ের জন্য আমরা এই মুহূর্তে আন্দোলন করছি, রাজপথে থাকছি।’

    আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বিএনপির কর্মকাণ্ড বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন নিয়ে প্রচণ্ড দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে বিএনপি। এভাবে তারা নিজেদের ক্ষতি করছে। বিএনপির আন্দোলন করার শক্তি নেই। তাই বিএনপির উচিত হবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া। এভাবে আন্দোলন-আন্দোলন করে নিজেদের হাস্যকর করে তোলার কী প্রয়োজন?

    নির্বাচন বিষয়ে বাম দলগুলোও গত ১৮ জুলাই জোট গঠন করেছে। সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) খালেকুজ্জামান, বাসদ (মার্ক্সবাদী), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন—এই আট দল মিলে জোট গঠন করে।

    বাম দলগুলোর জোট প্রসঙ্গে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সঙ্গে কোনো মেরুকরণে যাবে না সিপিবি। তিনি বলেন, ‘এক দুঃশাসন শেষ হলে আরেক দুঃশাসন এসে পড়ে। তিন দশক ধরে আমরা এই অবস্থায় আছি। এই দুঃশাসনের দুষ্টুচক্র ভাঙতে হবে।’ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি বুঝে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এখন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে তাঁরা আন্দোলন করবেন। এ ছাড়া প্রয়োজন হলে তাঁরা নির্বাচন বয়কট করতে পারেন, আবার অংশও নিতে পারেন। অংশ নিলে বামজোট ও প্রগতিশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে তাঁরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবেন।

    নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক প্রচার, সভা-সমাবেশ সবকিছু নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এরপর নিয়ন্ত্রিতভাবে রাজনৈতিক প্রচারের বাইরে তেমন কিছু করার থাকবে না রাজনৈতিক দলগুলোর। তফসিল ঘোষণার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করার মতো প্রস্তুতি আছে নির্বাচন কমিশনের। কমিশন তারিখ নিয়ে এখনো ওইভাবে আলোচনা করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ডিসেম্বরের শেষার্ধে অথবা জানুয়ারির প্রথম দিকে জাতীয় নির্বাচন হবে।

    জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে। উত্তরবঙ্গ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে সাংগঠনিক সফর শেষে এখন সপ্তাহব্যাপী নির্বাচনী গণসংযোগ করছে আওয়ামী লীগ। ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা মহানগরে নির্বাচনী এই গণসংযোগ কর্মসূচি চলবে। গণসংযোগের জন্য দলের চারজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দীপু মণি ও মাহবুব উল আলম হানিফের নেতৃত্বে চারটি দল গঠন করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এসব দল একেক দিন রাজধানীর একেক এলাকায় গণসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে জনগণের কাছে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে নৌকা মার্কায় ভোট চাইছে।

    এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রথম আলোকে বলেন, গণসংযোগের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা গেছে। মানুষ এখন নির্বাচনমুখী। মানুষ এখন সচেতন। দেশের যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ অংশ নেবে এবং ভোট দেবে বলে আওয়ামী লীগ দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

    গণসংযোগের বাইরে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের তেমন কোনো কর্মসূচি হাতে নেই। নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বাইরে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ জোট করবে কি না, এ বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। এ বিষয়ে গত বুধবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জোট বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। দল ও শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করা যাবে বলে তিনি জানান।

    এ ছড়া ইসলামি দলগুলোও নির্বাচনে যাওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো তাদের কিছু জানানো হয়নি। তবে ইসলামি দলগুলো নির্বাচন প্রশ্নে নিজেদের প্রস্তুত করছে।

    জাতীয় পার্টি সরকারে ও বিরোধী দলে উভয় ভূমিকায় থাকলেও দলটি এবার নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দর-কষাকষি করছে। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের কাছে ১০০ আসন চাইছে। আওয়ামী লীগ সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি যদি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করে, তাহলে জাতীয় পার্টিকে ৪০ থেকে ৫০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তবে জাতীয় পার্টি বেশি আসন নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

  • ইসলামী ঐক্যজোট থেকে মুহ্বিুল্লাহ বাবুনগরীর পদত্যাগের পর

    ইসলামী ঐক্যজোট থেকে মুহ্বিুল্লাহ বাবুনগরীর পদত্যাগের পর

    হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির, দেশের প্রবীণ আলেম আল্লামা মুহ্বিুল্লাহ বাবুনগরী ইসলামী ঐক্যজোট থেকে পদত্যাগ করায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ৫০১ আলেম। গতকাল যাত্রাবাড়ী আশরাফিয়া মাদরাসার মুহতামীম মাওলানা জাফর আহমদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, হক্কানী আলেমরা কখনো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে সমর্থন করতে পারে না। তারা এ মতবাদকে কুফুরি মতবাদ আখ্যায়িত করে কোনো হক্কানী আলেম নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে বাতিল শক্তির সাথে আঁতাত করতে পারেন না। আল্লামা বাবুনগরী সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়ায় দেশবাসীর পক্ষ থেকে আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। তারা বলেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি ওলামায়ে কেরামের ন্যায্য অধিকার, এ জন্য ওলামায়ে কেরামের ঐতিহ্য বিলীন করে কারো গোলাম হওয়া যাবে না।

    বিবৃতিদাতাদের অন্যতম হলেন : মুফতি হিফজুর রহমান, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা মফিজুর রহমান, মুফতি আব্দুল বারী, মাওলানা আল আমীন, মাওলানা মুজিবুর রহমান, মাওলানা আশরাফুল হক আমিনী, মাওলানা জাফর আহমদ, মাওলানা আমানুল্লাহ, মাওলানা ইসহাক শরিফ, মাওলানা মুফতি সিদ্দিকুর রহমান, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা সুলাইমান, মাওলানা অলিউর রহমান, মাওলানা ফারুক আহমদ, মুফতি জসিম উদ্দিন প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি।

    জামায়াতের প্রতিবাদ

    জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী পশ্চিম সাংগঠনিক জেলার মোহনপুর উপজেলা শাখার নায়েবে আমির ও মোহনপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল কালাম আযাদকে গতকাল গ্রেফতার করায় এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
    গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে গতকাল তিনি বলেন, মোহনপুর উপজেলা শাখা জামায়াতের নায়েবে আমির ও মোহনপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল কালাম আযাদকে বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে তার ওপর চরম জুলুম করেছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
    মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ একজন জনপ্রিয় নেতা। তার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়েই সরকার তাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করেছে। অথচ পরোয়ানা ছাড়া কাউকে গ্রেফতার না করার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে।
    তিনি আরো বলেন, এভাবে জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে সরকার বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। সরকারের এ জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।

    মাওলানা আবুল কালাম আযাদসহ সারা দেশে জামায়াতের গ্রেফতার সব নেতাকর্মীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

    বিজ্ঞপ্তি।

    অতিথি থাকবেন ২০ দলীয় জোট নেতারা ২২ অক্টোবর ঢাকায় লেবার পার্টির নাগরিক সমাবেশ

    আগামী ২২ অক্টোবর সোমবার সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নাগরিক সমাবেশ করবে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ লেবার পার্টি। পার্টির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সমাবেশ করবে দলটি। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সমাবেশ উদ্বোধন করবেন প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ। প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান বক্তা থাকবেন ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এ ছাড়া ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা সমাবেশে বক্তৃতা করবেন।

    সমাবেশ সফল করতে গতকাল নয়াপল্টনের কার্যালয়ে প্রস্তুতি কমিটির এক সভা সমন্বয়কারী মো: ফারুক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ভাইস চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রাজু, মো: আমিনুল ইসলাম, এস এম ইউসুফ আলী, যুগ্ম মহাসচিব নুরুল ইসলাম সিয়াম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম ওয়াসিম, হুমাউন কবির, অর্থ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আল আমিন, ঢাকা দক্ষিণের সহসভাপতি হাজী নাসির উদ্দিন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক খোন্দকার মিরাজুল ইসলাম, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম, মহিলা সম্পাদিকা নাছিমা নাজনিন, দফতর সম্পাদক আমানুল্লাহ মহব্বত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    বিজ্ঞপ্তি।


  • নির্বাচন ঘিরে ফেসবুক ওয়েবসাইট নিয়ে নতুন পরিকল্পনা!

    নির্বাচন ঘিরে ফেসবুক ওয়েবসাইট নিয়ে নতুন পরিকল্পনা!

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটগুলো কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে যাচ্ছে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে মনিটরিং সেল গঠন করা হচ্ছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিদেশ থেকে এ জন্য যন্ত্রপাতি আমদানি করা হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টিতে আপত্তিকর, ক্ষতিকর, বেআইনি লেখা বা পোস্ট ফিল্টারও বন্ধ করতে ডিভাইস বসানো হচ্ছে। স্পেনে তৈরি এসব ডিভাইস সরবরাহ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটগুলোর ওপর নজরদারি করার এই প্রকল্পে সরকারের খরচ হবে ১৪৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। টেকভ্যালি সল্যুশন লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের বিষয়ে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একটি টিম ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। সরকারের সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স প্রজেক্টরের আওতায় এসব যন্ত্রপাতি বসানো হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে যাতে কাজ শুরু করা যায় সে জন্য ডিভাইস ভিত্তিক নজরদারির এই যন্ত্রপাতি আমদানি ও প্রশিক্ষণের কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই প্রযুক্তি কিওয়ার্ড পদ্ধতিতে ফিল্টারিং ও ব্লক করার কাজ করবে। এ প্রক্রিয়ায় ফেসবুক বা টুইটারের মতো মাধ্যমে লেখা বা চিহ্নিত কনটেন্টগুলোর হুমকি বিবেচনায় নিয়ে তা অপসারণ বা ব্লক করা হবে।

    প্রযুক্তিগত এই নজরদারির পাশাপাশি তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি মনিটিরিং সেলও এ ব্যাপারে কাজ করবে। জাতীয় সংসদে গত ২০ সেপ্টেম্বর তথ্যপ্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, গুগলসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। তিনি বলেছিলেন, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই তথ্য মন্ত্রণালয় গঠিত এই গুজব মনিটরিং সেল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দেবে কোন তথ্যটি গুজব, জোনটি ভুয়া। আর সেই ‘পরামর্শ’ অনুযায়ী সংবাদমাধ্যমগুলোকে প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে ফেসবুকের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকায় ফেসবুকের সঙ্গে এক বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বাংলাদেশীদের ফেসবুক আইডি খোলার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইলফোন নাম্বার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছেন যাতে সরকারবিরোধী প্রচারণায় জড়িত ব্যক্তিকে সহজে চিহ্নিহ্নহ্নত করা যায়।

    সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের কর্মকাণ্ডের চিত্র যেভাবে উঠে আসছে তাতে আগামী নির্বাচনে এসব মাধ্যম শাসক দলের জন্য বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে তাতে তেমন কোনো সাংগঠনিক নেতৃত্ব ছাড়াই সারা দেশের শিক্ষার্থীরা সঙ্ঘবদ্ধ ও সুপরিকল্পিতভাবে মাঠে নেমে পড়ে।

    এসব আন্দোলনের পেছনে শিক্ষার্থীরা যেভাবে যুক্তি উপস্থাপন ও দ্রুত প্রচারণার কৌশল গ্রহণ করে তা মোকাবেলার মতো অবস্থা সরকারের ছিল না। এই আন্দোলনের কৌশল ও প্রভাব ভোটের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে মনে করে সরকারের নীতিনির্ধারকরা উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক এ দু’টি আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি দলের নেতাকর্মী ও ছাত্র সংগঠনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ফেসবুককে সরকারের নীতিনির্ধারকরা সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক মাধ্যম হিসেবে দেখছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ফেসবুক পেজ বন্ধ করা হয়েছে।

    দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি বিশেষ করে স্মার্টফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাথে সংযুক্ত। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ হিসাব বলছে, দেশে ৯ কোটি পাঁচ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এর মধ্যে আট কোটি ৪৭ লাখজন মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। দেশে মোবাইলফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫ কোটি পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন ১০ কোটি ৪১ লাখ মানুষ। এই হিসাবে অনুমান করা যায় দেশের প্রতিটি ভোটারের কাছে মোবাইল ফোন রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতিতে প্রচারণার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে ইন্টারনেট সংযুক্ত মোবাইল ফোন।

    পৃথিবীর যেসব শহরে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি তার মধ্যে ঢাকা হচ্ছে দ্বিতীয়। গত বছর (২০১৭) আন্তর্জাতিক দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথভাবে চালানো এক বৈশ্বিক জরিপে এ চিত্র পাওয়া গেছে। জরিপটি চালিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উই আর সোশ্যাল’ আর কানাডাভিত্তিক ডিজিটাল সেবা প্রতিষ্ঠান হুটস্যুইট। অনলাইনে প্রকাশিত ওই বছরের এপ্রিল মাসের হিসাব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারী আছে ব্যাংকক শহরেÑ তিন কোটি। এরপরই রয়েছে ঢাকা। এখানে সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দুই কোটি ২০ লাখ।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে কী ধরনের সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে, সেদিকেও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট গুজব ছড়িয়ে থাকে। অনলাইন মাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রায় সব মহলের আপত্তি সত্ত্বেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করেছে। এই আইনের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ পুরো ডিজিটাল মাধ্যম সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে , ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত দেশের সংহতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুণœ করলে বা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা ব্লক বা অপসারণের জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে অনুরোধ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ পরোয়ানা বা অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ এবং গ্রেফতার করতে পারবে।

    আইনে অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কেউ কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার অতি গোপনীয় বা গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত ধারণ, প্রেরণ, সংরক্ষণ বা প্রকাশ করে বা কাউকে করতে সহায়তা করে ওই আইন তার ভঙ্গ করলে এই আইনে তার সর্বোচ্চ ১৪ বছরের সাজা হতে পারে বা ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে।

    তা ছাড়া কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার অতি গোপনীয় বা গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত যদি কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করা হয় তাহলে তা গুপ্তচরবৃত্তি বলে গণ্য হবে এবং এ জন্য পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
    আইন অনুযায়ী ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার নামে প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণা চালালে বা মদদ দিলে অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

    ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা, ভীতি প্রদর্শন, তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ, মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, ঘৃণা প্রকাশ বা অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, প্রকাশ বা ব্যবহার করলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে তিন থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। দ্বিতীয়বার এ রকম অপরাধ করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনলাইন মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের প্রচারণা বন্ধ করতে নজরদারির পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে এই আইনের প্রয়োগ হবে। প্রয়োজনে অনলাইন ভিত্তিক নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ন্ত্রণে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন ও সংযোজন করা হতে পারে