Category: রাজনীতি

  • গ্রেফতার আতঙ্ক বিএনপিতে

    গ্রেফতার আতঙ্ক বিএনপিতে

    সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতা দখলে রাখতে চাচ্ছে। বিরোধী দলকে পর্যুদস্ত করতেই বানোয়াট মামলার হিড়িক- মির্জা ফখরুল

    সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার পরদিন গত সোমবার রাজধানীর ৩২ থানায় শত শত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছে বিএনপি। গ্রেফতার এড়াতে অনেকে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এরই মধ্যে বিএনপির ১৮১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ। মামলার এজাহারভুক্ত অনেকের খোঁজে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। এদিকে, হঠাৎ করে মামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল বৈঠক করে করণীয় নির্ধারণ করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। তারা আইনি পথে মামলা মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য, গাড়ি ভাংচুর, পুলিশের কাজে বাধাসহ বিভিন্ন নাশকতার অভিযোগে সোমবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি বলছে, কোণঠাসা করতে তাদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা করা হয়েছে। মামলার এজাহারের সঙ্গে ঘটনার কোনো মিল নেই।

    গতকাল মঙ্গলবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাজাহান ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক পৃথক বিবৃতিতে বিএনপির বিরুদ্ধে মামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেছেন, একতরফা নির্বাচন করতেই সরকারের সাজানো ছকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দিচ্ছে।

    বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো পাত্তা দিচ্ছে না। সম্পূর্ণ গায়ের জোরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলে রাখতে চাইছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়নও অব্যাহত রেখেছে। একদিকে দুর্নীতি-দুঃশাসন, অন্যদিকে বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসত্য মামলা। গ্রেফতার ও নির্যাতন-নিপীড়নের মাধ্যমে সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত করতেই বানোয়াট মামলা দায়েরের হিড়িক পড়েছে।

    নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. নোমানকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিবৃতি দেন মির্জা ফখরুল।

    একই ঘটনায় অপর এক বিবৃতি দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এবং যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। নেতারা দেশব্যাপী বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের পাইকারি হারে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার তাদের পতন সুনিশ্চিত ভেবেই দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে সারাদেশে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

    এদিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের কাছে আষাঢ়ে গল্পের একটা ফরম্যাট প্রস্তুত করা থাকে সব সময়। মামলা দেওয়া ও গ্রেফতারে ব্যবহার করে থাকে সেগুলো। এবারও পুলিশ তাই করেছে। সেই একই ফরম্যাটের ধারাবাহিকতায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করিম শাহীন, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    আইনি পথে মোকাবেলা :সারাদেশে নেতাকর্মী ও সিনিয়র নেতাদের নামে মামলা নিয়ে বৈঠক করেছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৫টা থেকে দেড় ঘণ্টার এ বৈঠকে সম্প্রতি মামলার পরিসংখ্যান নিয়ে নিজেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় নেতারা মামলার বিষয়ে করণীয় নিয়েও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা জানান, সারাদেশের এসব মামলাকে তারা আইনিভাবে মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ছাড়া এটা নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনও করবেন তারা। বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, তাদের দলের নেতাকর্মীদের নামে এর আগেও অসংখ্য রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার জন্যই এখন নতুন করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এসব মামলায় বিএনপির নেতাকর্মী ছাড়াও অজ্ঞাত আসামি করা হচ্ছে। তাই এ ধরনের মামলায় শুধু নেতাকর্মী নয়, সাধারণ জনগণও আতঙ্কিত। কারণ, এ মামলা দিয়ে যে কোনো সময়ে যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ।

    হাতিরঝিল থানার ওসি আবু মোহাম্মদ ফজলুল করিম সমকালকে বলেন, সোমবার দায়ের করা মামলায় নতুন কোনো আসামি গ্রেফতার করা হয়নি। রিমান্ডে থাকা সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে ৩০ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়। এর পর সমাবেশ থেকে বাসায় ফেরার পথে হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজার রেলগেটে ৭০-৮০ জন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে যান চলাচলে বাধা দেয়। পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার কথা বললে তারা কর্ণপাত না করে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি বলাকা বাস ভাংচুর করা হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো গাড়ির নম্বর মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি। আত্মরক্ষায় গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে দাবি করে পুলিশ।

    হাতিরঝিল থানায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কুমিল্লা জেলা বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোবাশ্বর আলম ভুঁইয়া, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফি উদ্দিন, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশেদ বিন সোলায়মান, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শামছুল হক, কুমিল্লা নাঙ্গলকোট থানা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শিহাব খন্দকার, ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মোশাররফ, জামায়াতের রমনা থানার সমাজকল্যাণ সেক্রেটারি মোস্তফা হুমায়ুন সরকার, বিএনপিকর্মী মফিজুল ইসলাম, মোতাহার হোসেন, ইমরান হোসেন রিপন, ৩৬ নম্বর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, রমনা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল হক খান, বিএনপি নেতা মেরাজ, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি পিয়াস, বেলাল উদ্দিন ভুঁইয়া, মিঠুন পাটোয়ারী, ইমু, শাহান, হারুন, সাব্বির, সজীব, রুবেল, জাফর, রাহী, পারভেজ, শরীফ, রায়হান কবীর, আবু সালেহ, মোত্তাকিম, মাসুদ পারভেজ, শাকিল, সানাউল্লাহ, আরাফাত, অ্যাপোলো, নান্নু মিয়া, বাপ্পী খান, কাইয়ুম, রবিউল ইসলাম ও এনামুল হক।

    এদিকে আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে পুলিশ বলেছে, গ্রেফতার সব আসামি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী। তারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে বাধা দেন; সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। এ ছাড়া পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন, ককটেল বিস্ম্ফোরণের ঘটনা ঘটান। এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড। তবে গ্রেফতার আসামিদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, হয়রানি করার জন্য পুলিশ এসব আসামিকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আদালতের কাছে দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

  • হার্ডলাইনে সরকার

    হার্ডলাইনে সরকার

    নাশকতার ছক আঁকার তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে বলেই বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা – ওবায়দুল কাদের

    দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার হঠাৎ করে হার্ডলাইনে। বিশেষ করে গত সোমবার রাজধানীর ৩২ থানায় শীর্ষ নেতারাসহ বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা দায়েরের পর এটাই এখন দেশজুড়ে আলোচনার বিষয়। সরকারের সংশ্নিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, আগামী ১০ অক্টোবর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নাশকতা ঠেকাতে এবং বিএনপিকে চাপে রাখতেই এমন কৌশল নেওয়া হয়েছে।

    আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বড় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো না হলেও ক্ষমতাসীন দলটির কোনো কোনো নেতা দাবি করেছেন, নাশকতা সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ওই মামলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে নাশকতার ছক আঁকার তথ্য রয়েছে বলেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ বলেছে, বিএনপি নেতারা ২০১৪ সালের মতো গোপনীয়ভাবে সন্ত্রাসী তৎপরতার পরিকল্পনা করছেন। আর এ ধরনের অভিযোগে পুলিশ যদি কারও বিরুদ্ধে মামলা করে, সেটা কি হয়রানিমূলক মামলা হবে? তবে কারও বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা হোক- আওয়ামী লীগ সেটি চায় না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

    সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রোববার বিএনপির সমাবেশের পর থেকে এমনিতেই মাঠ কিছুটা উত্তপ্ত হওয়ার আভাস মিলছিল। ওই সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে সরকারের পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দু’দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে বিএনপি। এ অবস্থায় গত সোমবার বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি আন্দোলনে নামার আরেকটি ইস্যু পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ সমকালকে বলেন, বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতি দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু তারা নিজেদের সম্মান রাখতে পারেনি। বিএনপি নিজেদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে রাখেনি- ভাংচুর ও বাড়াবাড়ি করেছে। আগামীতে এমন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে তাদেরই ক্ষতি হবে। সরকার আরও হার্ডলাইনে যাবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ অক্টোবর গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা হবে। তাই এ নিয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্র করতেই পারে। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্যই ওই নারকীয় গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটিয়েছিল। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা স্বাভাবিক।

    এদিকে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং গাড়ি ভাংচুর ও পুলিশের কাজে বাধাসহ বিভিন্ন ধরনের নাশকতার অভিযোগে সোমবার বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা ওই মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা গতকাল জানিয়েছেন, বিএনপি আগামীতে নাশকতামূলক ঘটনার অপচেষ্টা করলে শক্তভাবে তা মোকাবেলা করা হবে। কোনোভাবেই ২০১৩ ও ২০১৪ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ সমকালকে বলেন, মানুষ পরিবর্তন চাইছে। অথচ বর্তমান সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আদলে আরেকটি মনগড়া নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে ক্ষমতায় থাকার অপচেষ্টা করছে। এ জন্যই নতুন করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা নিয়ে বিএনপি তো কোনো সমস্যা তৈরি করেনি। উল্টো সরকার মানুষকে সভায় আসতে দেয়নি। এখন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের বাদ দিয়েই কি নির্বাচন হবে? এ নেতারাই নির্বাচনের সময় দলের পক্ষ থেকে কথা বলবেন। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কেন অসত্য মামলা দেওয়া হলো?

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সমকালকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই মামলা হয়। আর সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য, গাড়ি ভাংচুর, পুলিশের কাজে বাধাসহ বিভিন্ন ধরনের নাশকতার অভিযোগে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি বলেন, জনগণ ও দেশের কল্যাণের জন্যই রাজনীতি। ষড়যন্ত্র করে দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়াটা রাজনৈতিক দলের কাছে কারোরই কাম্য নয়।

    আরেফিন সিদ্দিক আরও বলেন, ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবার আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনি রাজনীতিবিদদের নাশকতা ও ষড়যন্ত্র থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

    এদিকে, গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে ঘিরে সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের তৎকালীন কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ওই মামলার মূল আসামি হওয়ায় এই আশঙ্কা বেশি করে দানা বেঁধেছে। এ নিয়ে সরকার আরও হার্ডলাইনে যাচ্ছে। সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে বিএনপি নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। এই নাশকতায় উস্কানিদাতা হিসেবে যুক্ত হতে পারেন- বিএনপির এমন শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করারও প্রস্তুতি রয়েছে। আবার এ রায়কে ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবেলায় সরকারি দল আওয়ামী লীগ মাঠে নামার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

    তবে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে যেতে চাইছেন না আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তারা নিজেদের দলীয় কর্মসূচি নিয়েই মাঠে সক্রিয় থাকবেন। বিশেষ করে নির্বাচনের মাত্র অল্প কিছুদিন সময় বাকি থাকায় গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণার দিকে মনোযোগী রয়েছেন তারা। সাম্প্রতিক সময়ে আকাশ, ট্রেন ও সড়কপথে নির্বাচনী যাত্রার সফল সমাপ্তির পর এখন দেশজুড়ে গণসংযোগ কর্মসূচিতে রয়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন পর্যন্ত নানা কর্মসূচিতে মাঠ দখলে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

    এদিকে, নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে। এ নিয়ে তারা মাঠে না নামলেও গতকাল কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন দলটির নেতারা। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একতরফা নির্বাচন করতেই সরকারের সাজানো ছকে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, মামলা ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের কাছে আষাঢ়ে গল্পের একটা ফরম্যাট সব সময় প্রস্তুত করা থাকে। এবারও পুলিশ তাই করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় পুলিশ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে হাস্যকর, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়েছে।

  • জাতীয় ঐক্যে আসতে আওয়ামী লীগকেও ৫টি দাবি মানতে হবে: ড. মোশাররফ

    জাতীয় ঐক্যে আসতে আওয়ামী লীগকেও ৫টি দাবি মানতে হবে: ড. মোশাররফ

    বিরোধী রাজনীতিকদের গড়া জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেও পাঁচটি দাবি মানতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

    তিনি বলেন, এখন যদি আওয়ামী লীগ জাতীয় ঐক্যে আসতে চায়, জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে জনগণের দাবি মেনে নিয়েই আসতে হবে। তখনই তাদেরকে জাতীয় ঐক্যে স্বাগত জানানো হবে।

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের মুক্তির দাবিতে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আয়োজন করে নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ।

    খন্দকার মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগকে ছাড়া কীভাবে জাতীয় ঐক্য হবে? কিন্তু জাতীয় ঐক্য হচ্ছে জনগণের দাবিগুলোকে নিয়ে, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে, ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সেই পাঁচ দফা- আগামী নির্বাচনের তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ইভিএম বাদ, সামরিক বাহিনী মোতায়েন- এসব বিষয়ে জনগণের সঙ্গে একমত হয়ে ঘোষণা দিলে আওয়ামী লীগকেও জাতীয় ঐক্যে অন্তর্ভুক্ত করব, স্বাগত জানাব।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ জোড় করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আজ ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে তাদের সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে এ দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে কালো আইন হিসেবে অভিহিত করে ড. মোশাররফ বলেন, সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে এই কালো আইন করেছে। সংবাদমাধ্যমের অবশিষ্ট স্বাধীনতাকে খর্ব করার জন্য, মুখে তালা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে।

    সংগঠনের সভাপতি সাঈদ হাসান মিন্টুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমূখ বক্তব্য দেন।

  • সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপির সমাবেশ শনিবার

    সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপির সমাবেশ শনিবার

    বৃহস্পতিবারের পরিবর্তে দুদিন পর শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছে বিএনপি। এতে অনুমতি পাওয়ার ব্যাপারে আশা করছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

    তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের অবহেলা, হয়রানি ও অস্বাস্থ্যকর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দিনযাপন করতে হচ্ছে। এতে তার স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাকে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ করেন।

    বিএনপির এ নেতা বলেন, গতকাল ঢাকাসহ দেশব্যাপী গ্রেফতার করা হয়েছে ৯৪ নেতাকর্মীকে, ১৩টি মামলায় এক হাজার ৪০০-এর অধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

    ‍‍“আমি দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি”, বলেন রিজভী।

  • আত্মসমর্পণের পর বিএনপি নেতা আমির খসরুর জামিন

    আত্মসমর্পণের পর বিএনপি নেতা আমির খসরুর জামিন

    তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণের পর আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    আজ সোমবার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওসমান গণির আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী।

    তিনি বলেন, আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে আদালত ২০ হাজার টাকার বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।

    এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    গত ৪ আগস্ট নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র নাশকতায় উসকানি ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কোতোয়ালী থানায় আমির খসরুর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেন নগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর একটি অডিও কথোপকথন ফাঁস হয়। এ অডিওতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে দাবি করেন মামলার বাদী জাকারিয়া দস্তগীর।

  • বর্তমান সরকারের অধীনেও নির্বাচনে যেতে রাজি ড. কামাল

    বর্তমান সরকারের অধীনেও নির্বাচনে যেতে রাজি ড. কামাল

    বর্তমান সংবিধানিক কাঠামো এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে তারা নীতিগতভাবে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

    ড. কামাল হোসেন এ বিষয়ে জানান, তাদের নবগঠিত জোটের শরিকদের সঙ্গে এব্যাপারে কোন কথা হয়নি। এটি শুধুই তার দলের অবস্থান।

    বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।

    এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন জানান, তাদের এই জোট কোন নির্বাচনী জোট নয়। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই শুধু তারা একজোট হয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করার জোট। যে কারণে এটা দ্রুত করা সম্ভব হয়েছে।’

    ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘এটা একটা সিম্পল প্রভিশন। আমি মনে করি সবাই এটা বলতে দ্বিধা করবেন না। তবে এরকম কোন সিদ্ধান্ত আমরা বসে নেইনি।’

    তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে, তারা যেগুলো আইনে আছে, এগুলো মেনে চলবেন। যদি দেখা যায় যে, তারা এখান থেকে সরে যাচ্ছেন বা কোনো প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছেন। তখন এটা দৃষ্টি এলে প্রথমেতো আপত্তি করা হবে যে, এটা থেকে আপনারা বিরত থাকেন। এরপরও অন্যপক্ষ যদি দেখেন যে রীতিনীতি না মেনে এটা করা হচ্ছে। তখন তো নির্বাচন বাতিল করার জন্য কোর্টে যেতে হবে।’

    নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে ড. কামাল উল্লেখ করেন, যারা সরকারে থাকবে, নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে তাদের দায়িত্ববোধ থাকতে হবে।

    ‘বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ যারা আছেন, তারা যখন একটা স্বাক্ষর করবেন যে, আমরা কেউ এখানে হস্তক্ষেপ করবো না, আমরা এই প্রক্রিয়াকে একটা নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া হিসেবে হতে দেবো,তখন আমরা ধরে নিতে পারি সরকারের পক্ষে বা আমাদের পক্ষে যারা ওথ (শপথ) নিয়ে কথাগুলো বলবেন, তাদেরতো ন্যূনতম একটা দায়িত্ববোধ থাকবে।’

    ‘নির্বাচন কমিশন এটা রেফারি হিসেবে পরিচালনা করবে।কেউ যদি নিরপেক্ষতা থেকে সরে যায় তারা সেটা চিহ্নিত করবে এবং এটাকে অবৈধ বলবে। এগুলোতো ইলেকশন আইনেই আছে।’

    জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে শনিবার এই জোটের প্রথম যে সমাবেশ হয়, সেখান থেকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয় এবং আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সে সব দাবিদাওয়া মেনে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কী ধরণের পূর্বশর্ত তারা সরকারকে দিচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘ভোটার লিস্ট নিরপেক্ষভাবে করতে হবে। ভোটার লিস্ট অনুয়ায়ী সবার ভোট দেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

    সূত্র: বিবিসি বাংলা