Category: রাজনীতি

  • বিচারপতি এস কে সিনহার তৎপরতায় বিপাকে সরকার!

    বিচারপতি এস কে সিনহার তৎপরতায় বিপাকে সরকার!

    এই মুহূর্তে দেশের রাজনীতি নিয়ে সদরে-অন্দরে যতটা আলোচনা হচ্ছে তার চেয়ে ঢের বেশি কথা হচ্ছে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার একের পর এক বক্তব্য নিয়ে। সরকারের মন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সেসব বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে গলদঘর্ম হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও বিচারপতি সিনহার বক্তব্য গুরুত্বসহকারে প্রচার করছে প্রায়ই। অবস্থা এত দূর গড়িয়েছে যে খোদ আইনমন্ত্রী বলতে বাধ্য হয়েছেন আদালতের মাধ্যমে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। যদিও আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক’ ও ‘অবাস্তব’ বলে উল্লেখ করেছেন আইনজ্ঞরা। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার এককালের বিএনপি নেতা এবং বর্তমানে সরকারি দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে শাহবাগ থানায় দু’টি মামলা করেছেন। মামলায় তিনি প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তাকে খাস কামরায় ডেকে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ এনেছেন। মামলার একটিতে ২ কোটি এবং অপরটিতে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে গতকাল বুধবার দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এস কে সিনহার ভাই অনন্ত কুমার সিনহা ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার ব্যয় করে কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনেছেন সে বিষয়টি নিয়েও তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের চেয়ারম্যান অবশ্য গত সপ্তাহে সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত করার বিষয় অস্বীকার করেছিলেন।

    নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ এর প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, ‘একটি বই নিয়ে তারা (সরকার) এত ভীত কেন?’ তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মোটেও তিনি চিন্তিত নন। জীবনের ভয়েই তিনি দেশে ফিরছেন না। কেননা দেশে ফিরলে তাকে হত্যা করা হতে পারে। এ কারণেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। বিচারপতি সিনহা বলেন, তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে তখন, যখন তিনি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের রায় প্রদানে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিচারপতি এস কে সিনহার বই এবং সাংবাদিক সাক্ষাৎকারে সরকারের বিরুদ্ধে দেয়া বিভিন্ন বক্তব্য সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে বইটি ইংরেজিতে হওয়ায় বিদেশীদের কাছে তা সহজে পৌঁছে যাচ্ছে এবং সরকারকে ভাবমর্যাদা সঙ্কটে ফেলছে। সিনহার বক্তব্যে দেশের একজন প্রধান বিচারপতি কোন পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন সে বিষয়ে সবিস্তার উল্লেখ থাকায় সরকারের ইমেজ ক্ষুণœ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘দেশে আইনের শাসন, বিচারব্যবস্থার অধঃপতন নিয়েও কথা বলেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি। সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এবং নির্বাচনের আগে বিচারপতি সিনহার এসব বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

    সূত্র জানায়, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বই লিখেই ক্ষান্ত হননি। ইতোমধ্যেই প্রতিবেশী দেশের উচ্চপর্যায়েও তিনি যোগাযোগ করেছেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে কোনোভাবেই সমর্থন না করার জন্য তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ বর্তমান সরকারকে পছন্দ করেন না। তারা সরকারের ওপর বিরক্ত। প্রতিবেশী দেশের উচিত হবে না এই সরকারকে কোনোভাবেই সমর্থন দেয়া। আজ হোক কাল হোক দেশের মানুষ বিদ্রোহ করবে এবং তখন বর্তমান সরকারকে সমর্থন দেয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে ভারতের। তিনি বর্তমান সরকারকে কর্তৃত্ববাদী বলে উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন হলে বাংলাদেশের ওপর ভারত নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে। বক্তব্যের সমর্থনে তিনি বিভিন্ন দলিলপত্র পেশ করেছেন এবং ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ে এসব জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছেও তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।

    জানা গেছে, বিচারপতি সিনহার এসব তৎপরতা সরকারের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। সরকারিভাবে ভারত ও অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের কাছে বিচারপতি সিনহার তৎপরতা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক খবরে এসবের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই বাংলাদেশে সিনহা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, মামলার তদন্ত দ্রুত করার জন্য ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অফিস থেকে ১১ দফা অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং মানিলন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। পরে অবশ্য এসব অভিযোগ সম্পর্কে উভয়পক্ষই নিশ্চুপ হয়ে যায়। বিচারপতি সিনহার সাম্প্রতিক বই প্রকাশের পর আগের অভিযোগগুলোই মামলায় রূপান্তর ঘটেছে। সরকার এখন চাইছে বিচারপতি সিনহার অভিযোগের জবাব দেয়ার চাইতে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে। আর সেটি সম্ভব হলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে।

  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : ন্যায়বিচার নিয়ে বিএনপির শঙ্কা

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : ন্যায়বিচার নিয়ে বিএনপির শঙ্কা

    ২১ গ্রেনেড হামলা মামলায় ন্যায়বিচার নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশঙ্কার কথা জানান দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    রিজভী বলেন, ২১শে আগস্ট বোমা হামলা মামলায় কয়েক দফা চার্জশিট দেয়া এবং বিচারকার্য অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পর বিচারিক আদালত থেকে চার্জশিট ফিরিয়ে এনে সম্পূরক চার্জশিট দেয়া হয় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর। যা ছিল বেআইনী ও নজীরবিহীন। মুখ্য উদ্দেশ্য হলো- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উক্ত মামলায় জড়ানো। আসলে মামলায় তারেক রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সরকারের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ন্যায়বিচার পাবেন কি না সেটি নিয়ে জনগণের প্রশ্ন এখন দীর্ঘতর হচ্ছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নিজেই বলেছেন, ‘যে দেশে প্রধান বিচারপতিই ন্যায়বিচার পায় না, সেদেশে সাধারণ মানুষ কিভাবে ন্যায়বিচার পাবে?’

    নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

    লিখিত বক্তব্যে রিজভী বলেন, ২০১১ সালের ৭ই এপ্রিল মুফতি হান্নানকে অমানুষিক নির্যাতন করে তাকে দিয়ে আদালতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম বলানো হয়। তারেক রহমানের নাম বলানোর পর সে (মুফতি হান্নান) সুযোগ খুঁজছিলো তা প্রত্যাহারের জন্য। তা না হলে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে ‘ক্রসফায়ারে’ মৃত্যুবরণ করতে হবে এই আশঙ্কায় চার্জশিট দাখিলের জন্য প্রহর গুনতে থাকে। অবশেষে ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সেই সুযোগ মুফতি হান্নান পেয়ে যায়। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিনের আদালতে মুফতি হান্নান লিখিতভাবে যেটি জানান তার কিছু অংশ ইতোমধ্যে আপনাদের নিকট পেশ করেছি।

    লিখিত বিবরণের এই অংশে মুফতি হান্নান বলেন, ২০১১ এর ৪ এপ্রিল কাশিমপুর কারাগার থেকে এনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলগেটে জেল সুপার লিখিত কাগজ স্বাক্ষর করতে বলে, স্বাক্ষর না করলে অশ্লীল গালিগালাজ করে, বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলার কথা বলে, জেল সুপার তৌহিদ হত্যার হুমকি দেয়। দুদিন পর সিআইডির এএসপি ফজলুল কবিরসহ অন্যান্য অফিসাররা এবং আগে থেকে ম্যাজিষ্ট্রেটের রুমে বসে থাকা কাহার আকন্দ আমার দিকে একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়, সেখানে তারেক রহমান, হারিস চৌধুরী, পিন্টু ও বাবরসহ অনেকের নাম জড়িত করা হয়েছে দেখতে পাই। অতঃপর জবানবন্দীতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে জেলের ভিতরে হত্যা করাসহ রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করার হুমকি দেয়া হয়। এরপর রাত ১১টার দিকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বললে আমি অস্বীকার করি।

    উল্লেখ্য যে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত করার আগে বিভিন্ন সময় আমাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। ফজলুল কবির ও কাহার আকন্দ দুজনই আমার চোখে কালো কাপড় বেঁধে র‌্যাবের কাছে নিয়ে যেতো। এরপর ভয় দেখানোর জন্য শহরের বাইরে নিয়ে গিয়ে বলতো- তুমি ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান, হারিস চৌধুরী, আব্দুস সালাম পিন্টু, বাবর প্রমুখের সঙ্গে হাওয়া ভবনে মিটিং করেছো, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে এই স্বীকারোক্তি দিতে হবে। এভাবে বিবিধ মামলায় গ্রেফতার দেখাতে বিভিন্ন সংস্থার লোকেরা ৪১০ দিন রিমান্ডে এনে পৈশাচিক নির্যাতন করেছে।

    রিজভী জানান, মুফতি হান্নান আরো বলেন, মাননীয় আদালত, আমি ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। আর তারেক জিয়া, হারিস চৌধুরী ও বাবরের সাথে কোনোদিনই হাওয়া ভবনে দেখা করিনি। পিন্টুর বাসায়ও আমি কোনোদিন যাইনি। নির্যাতনের অভিনব কায়দা প্রয়োগ করে মুফতি হান্নানের নিকট থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। সে বলে, ‘একবার টর্চারিং সেলে নেয়ার পর আমাকে ফুলের মালা পরিয়ে দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা র‌্যাব সদস্যরা আমার উপর ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে এক ভয়ার্ত ও আতঙ্কিত পরিবেশের সৃষ্টি করে। এ সময় তারা আমাকে বলতে থাকে, ‘তুমি কি জানো, তোমাকে কি জন্য আবার এখানে আনা হয়েছে? আরো অত্যাচারিত হওয়া থেকে সাময়িক বাঁচার জন্য তাদের কথায় সায় দিলেও বিবেকের তাড়নায় যখন আদালতে তা বলতাম না, তখন আবার আমাকে রিমান্ডে নিয়ে এনে আদালতে না বলার কারণ উল্লেখ করে পুনরায় নির্যাতন করা হতো। আমি বলতাম, আমি কিছু জানি না, মিথ্যা সাক্ষী দেয়া কবিরা গুণাহ। এমন বলার সাথে সাথেই চলতো বর্বর নির্যাতন। তাদের এমন সীমাহীন নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মাঝে মধ্যে দিশেহারা হয়ে গেলেও যখন কোনোভাবেই আমাকে দিয়ে তারা আদালতে মিথ্যা বলাতে পারছিলো না, তখন আমাকে রাজস্বাক্ষী হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু আমি কোনো কিছুর বিনিময়েই অন্যায় করতে পারবো না বলে তাদেরকে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেই। এতে আমার প্রতি তাদের ক্ষিপ্ততা আরো বেড়ে যায়।

    তিনি বলেন, ২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর র‌্যাব-পুলিশের প্রহরায় আমাকে প্রায় অর্ধমৃত অবস্থায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত করা হয়। তখন সেখানেও উপস্থিত ছিল র‌্যাবের অফিসার এবং এই মামলার তদানীন্তন তদন্তকারী কর্মকর্তা ফজলুল কবির। ম্যাজিস্ট্রেট ওই মামলা সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করা মাত্র যখন মামলা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না বলি, তখন উপস্থিত কর্মকর্তাদ্বয় ম্যাজিস্ট্রেট আগেই লিখিত একটি কাগজ দেখিয়ে বলেন, উনি খুব অসুস্থ, এটা দেখে দেখে আপনি লিখে নিন। ম্যাজিস্ট্রেট তাই করলেন। যা ছিল সম্পূর্ণ প্রস্তুতকৃত ও বেআইনী। তখন সময় ছিল রাত্রি সাড়ে ১২টা। অত:পর ম্যাজিস্ট্রেট যখন তার লিখিত সেই কাগজে আমাকে স্বাক্ষর করতে বলেন, তখন আমি আমার নখ উপড়ানো শাহাদৎ আঙ্গুল দেখিয়ে বলি যে, এই আঙ্গুলের সাহায্যে স্বাক্ষর করার মতো অবস্থায় আমি আজ নেই। এরপর সেই ম্যাজিস্ট্রেট এর পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তি তার হাত দিয়ে আমার হাত ধরে সেই কাগজে কোনোরকমে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এসময় নির্যাতিত আমি এতটাই অসুস্থ ছিলাম যে, দাঁড়িয়ে বা বসে থাকার মতো অবস্থা না থাকায় ম্যাজিস্ট্রেটের কামরার খালি মেঝেতে শুয়ে ছিলাম। এই ছিল তারেক রহমানসহ অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে আমার পূর্বে প্রদানকৃত জবানবন্দীর প্রকৃত ঘটনা।

    আদালতে অপর সাক্ষী মুফতি আবদুর রশিদের প্রদত্ত জবানবন্দী : এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আর এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বেসরকারি সংস্থা আল-মারকাজুল ইসলামীর ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি আবদুর রশিদ। তাকে দিয়ে গত ০৯ মে ২০১১ তারিখে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এই মর্মে জবানবন্দী প্রদান করানো হয় যে, ‘তিনি ওই হামলার আগে মুফতি হান্নানসহ কয়েকজন জঙ্গি নেতা আল-মারকাজুলের অ্যাম্বুলেন্সে করে বনানীর হাওয়া ভবনে গিয়ে তারেক রহমান এবং অন্যান্যদের সাথে এই হামলা সংক্রান্ত বৈঠক করেন। এর পরদিনই, অর্থাৎ ১০ মে ২০১১ তারিখে তিনি তার নিজ দপ্তর আল-মারকাজুল ইসলামী কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান যে, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আদালতে জবানবন্দী আদায় করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-সিআইডির লোকজন গত ০৮ মে ২০১১ তারিখ সকালে তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে দেড়দিন সিআইডি অফিসে আটক করে রাখে। এসময়কালে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরে আদালতে সাজানো জবানবন্দী আদায় করা হয়। তিনি আরো বলেন- তাকে সিআইডি কার্যালয়ে চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২১শে আগস্টের ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলার পর তাকে আসামি করার হুমকি ও ফাঁসির ভয় দেখিয়ে একটি লিখিত জবানবন্দী পড়ে শোনানো হয়। তারপর বলা হয়, আদালতে বলতে হবে এটাই তার জবানবন্দী।

    রিজভী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর সরকারের ক্রোধ, রোষ আর জিঘাংসা কত ভয়ঙ্কর তা উপরোল্লিখিত বর্বর নির্যাতনের বর্ণনায় ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ তারেক রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে উক্ত মামলায় জড়ানোর জন্য মুফতি হান্নানের ওপর এই পৈশাচিক অত্যাচার। জনজীবনকে নির্বিঘ্ন করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, অথচ তাদেরই কিছু লোক যখন ক্ষমতা, পদ, পদোন্নতি ও অর্থের জন্য বিবেকশূণ্য হয়ে অন্যায় নির্দেশ পালন করে মনুষ্যত্বহীন হয়ে পড়ে তখন সমাজে নৈরাজ্যের ছায়া বিস্তার করে। বেআইনী শাসনের পরিসর বৃদ্ধি পাওয়াতেই ন্যায়-অন্যায়ের বিচারবোধ হারিয়ে গেছে আইন-আদালত-প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকদের কাছ থেকে। ফজলুল কবির, কাহার আকন্দরা এই দেশ এই সমাজেরই লোক, অথচ নিজেদের জাগতিক স্বার্থ পূরণের জন্য নির্দোষ লোকদের ফাঁসাতে জোর করে অন্য একজনের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার বিবরণ শুনে মানুষ বিমূঢ় হয়ে পড়ে। কিভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী মহাজোট সরকারের প্রধান তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করতে আইনী মুখোশে সর্বনাশা চক্রান্তের খেলা খেলছেন, তা কারো অগোচরে নেই। সুতরাং এই গণবিরোধী সরকারের সাথে আপস করা মানে মানুষের বিপন্ন-জীবনের সঙ্গে আপস করা।

    বিএনপির এই নেতা বলেন, গতকাল বিএনপির উদ্যোগে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি সম্বলিত ৭ দফা এবং সুশাসনের অঙ্গীকার সম্বলিত ১২ দফা লক্ষ্যসহ একটি স¥রকলিপি জেলা প্রশাসক বরাবরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে হস্তান্তরের কর্মসূচি পালন করা হয়। আর এই কর্মসূচি পালনকালে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জাতীয় কবি নজরুলের সেই পংক্তিটির অর্থাৎ ‘পুলিশ শুধু করছে পরখ কার কতটা চামড়া পুরুর’ নীতি প্রয়োগ করে চলেছে নির্বিচারে। দেশের কয়েকটি জেলায় শান্তিপূর্ণ এই স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জে মিছিল পন্ড করা, পাইকারী হারে গ্রেফতার এবং আক্রমণে অনেক নেতাকর্মীকে আহত হয়।

    রিজভী জানান, ঠাকুরগাঁও জেলায় ‘চল যাই যুদ্ধে দেশ মাতার মুক্তির লক্ষ্যে’ এই শ্লোগানে নেতাকর্মীরা কর্মস–চি পালনকালে বিনা উস্কানীতে পুলিশ হামলা চালিয়ে ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটায় প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চট্টগ্রামে কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে জেলা বিএনপি নেতা প্রফেসর কুতুবউদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা ফজলুল হকসহ ৭ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে।

    মুন্সিগঞ্জে বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট স¥ারকলিপি হস্তান্তরের পূর্বে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখার পরপরই পুলিশের অতর্কিত লাঠিচার্জে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। এসময় বিএনপি নেতা মো: রানা পুসতি, আলম সিকদার, হাসান মিয়া, আবদুল বাতেনসহ ১০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। এসময় পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যালয়ে ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।

    পটুয়াখালী জেলায় স্মারকলিপি প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অভিমূখে বিএনপির একটি মিছিল এগিয়ে গেলে পুলিশ পথিমধ্যেই প্রচন্ড বাধা দেয়। গাজীপুর জেলা বিএনপির কার্যালয় পুলিশ সারাাদিন অবরুদ্ধ করে রাখে। ফেনী জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন সুমনকে গতরাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

    গতকাল স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে পুলিশের ন্যাক্কারজনক হামলা, নেতাকর্মীদেরকে আহত করা এবং গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।

    রিজভী আরো বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন প্রতিনিয়ত হামলা-মামলার শিকার। কোনো কারণ ছাড়াই কাল্পনিক মামলার বন্যায় ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে দেশকে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে এই ভোটারবিহীন সরকার। কোনো ওয়ার্ডেই তিনজন নেতাকর্মী একসাথে চলাফেরা করতে পারছে না। এর ওপর ক্রমাগত চলছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ির সামনে রাতের অন্ধকারে এসে থামে কালো টিনটেড গ্লাস দিয়ে ঢাকা মাইক্রোবাস, কর্কশ কড়া নাড়ার শব্দে ভেঙে চুরে খান খান হয়ে যায় রাতের নিস্তবদ্ধতা। বাসাবাড়ি তছনছ করে চলে চিরুনী তল্লাসী। তুলে নিয়ে যায় কিশোর, তরুণ, ছাত্রদল, যুবদল ও অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের, এমনকি বয়স্ক বিএনপির মানুষদেরও। খাল, বিল, নদীধারে মাইক্রো থেকে নামিয়ে চলে যেতে বলে, তারপর গুলি করা হয় পিছন থেকে, তা না হলে কিছুদিনের জন্য, নয়তো চিরদিনের জন্য গুম করে অদৃশ্য করা হচ্ছে। তা না হলে লকআপে চলানো হয় অকথ্য অত্যাচার নির্যাতন। বিরোধী দলের প্রতি সরকারের নীতি হচ্ছে- বিরোধী নেতাকর্মীদের ধড় থেকে মুন্ডু খসিয়ে ফেলার নীতি।

  • ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের সময় শ্রদ্ধা কোথায় ছিল’

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন করেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের সময় সংবিধানের প্রতি আপনাদের শ্রদ্ধা কোথায় ছিল? ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পবিত্র সংবিধান সংশোধনের সুযোগ নেই’। সংবিধানের প্রতি এতো শ্রদ্ধাশীল যখন তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান বাতিলের সময় এই শ্রদ্ধা ভক্তি কোথায় ছিল?
    তিনি বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের বাহন। কিন্তু আওয়ামী লীগের কাছে নির্বাচন ভীতির ব্যাপার। তাই তারা আগামী নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের ছক করছে। কিভাবে এক তরফা নির্বাচন করে বৈতরণী পার হওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে এখন নির্বাচনী হাওয়া বইলেও জনগণ ভোট দেওয়া নিয়ে শংকিত। কারণ দেশে সুশাসনের কোন নমুনাই নেই। তবে জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। কিন্তু সেই পরিবেশ নেই।
    মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ (জিসপ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ সব কথা বলেন তিনি। সংগঠনের সভাপতি এম গিয়াস উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা বরকতউল্লাহ বুলু, কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
    নজরুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামী লীগ ৯৬ সালে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলো, তখন সেটা সংবিধানে ছিল না। সংবিধান পবিত্র কোরআন নয় যে এটা পরিবর্তন করা যাবে না। বাকশাল যখন হয়, তখন ৫ মিনিটে সংবিধান পরিবর্তন করা হয়। সংবিধান জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আর তারা এখন বলেন, সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না। মন্ত্রী ও এমপি থেকে নির্বাচন করবেন, এটা কি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলো?
    তিনি বলেন, এই সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে ট্রাফিক কন্ট্রোল করতেও কাজে লাগায়। আর নির্বাচনের আগে সশস্ত্র বাহিনী মাঠে নামাতে চায় না। তাদের নামাতে এত ভয় কেন? ভোট চুরি করতে পারবে না বলেই এত ভয়। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে রাজপথে তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই মুক্তি মিলবে। গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে। তাই রাজপথ দখল ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।
    ক্ষমতাসীন দলের প্রতি সংলাপের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন দেশকে ভালোবেসে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করি। সুষ্ঠু নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ জেতে তাহলে বিএনপির কোন আপত্তি নেই। সেটা মেনে নিয়ে বিএনপি বিরোধী দলে যাবে।
  • বর্তমান সরকারকে আবারও ক্ষমতায় আনতে নৌমন্ত্রীর আহ্বান

    বর্তমান সরকারকে আবারও ক্ষমতায় আনতে নৌমন্ত্রীর আহ্বান

    উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার সরকারকে আবারও ক্ষমতায় আনতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। বর্তমান সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপের ফলে দেশের সব খাতে উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু এখন নিজেদের টাকায় হচ্ছে, এজন্য কারো কাছে হাত পাততে হয়নি।
    আজ বুধবার মাদারীপুরের আচমত আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
    দেশে এখন বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই দাবি করে শাজাহান খান বলেন, খালেদা জিয়ার সময় মানুষ বিদ্যুতের জন্য কষ্টে থাকলেও এখন মানুষ খুব আরামে আছে।
    নৌমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার আমলে ৩০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যের ঘাটতি ছিল, আর শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এখন সেই খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে আরও ২৫ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য বেশি উৎপাদন হচ্ছে।
    এছাড়া সরকার বয়স্ক ভাতা থেকে শুরু করে বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
  • ঐক্য গড়তে পথযাত্রায় নামছেন আল্লামা মাসউদ

    ঐক্য গড়তে পথযাত্রায় নামছেন আল্লামা মাসউদ

    দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আলেম ও জনতার ঐক্য গড়তে পথযাত্রা করবে জমিআতুল উলামা। পথযাত্রা করে আগামী ৬ অক্টোবর যশোর থেকে আগামী ৯ অক্টোবর সুনামগঞ্জ যাবেন আলেম-উলামারা।

    বুধবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জমিআতুল উলামার চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।

    মাদক ও দুর্নীতির বিস্তারে সরকারের ব্যর্থতার চেয়ে ব্যক্তি ও সমাজের দায় বেশি বলে মনে করেন আল্লামা মাসউদ। শোলাকিয়ার এ ইমাম বলেন, সবার আগে তিনি নিজেই দায়ী। এসব অপকর্ম রুখতে ভূমিকা রাখতে পারেননি। দায়বোধ থেকেই মাদক, দুর্নীতির পথে নামতে যাচ্ছেন। নিজের জায়গা থেকে আগে ভূমিকা রাখতে চান। সবার আগে নিজেকে শোধরাতে চান।

    কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্সের সমমান দিয়েছে সরকার। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। তিনি বলেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়ে দেশের আলেম-উলামার প্রতি সরকারের আন্তরিকতা প্রকাশ পেয়েছে। পথযাত্রার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানানো হবে।

    তাবলীগ জামাতে দু’পক্ষে দ্বন্দ্বে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পারস্পরিক মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু হাতাহাতি, হানাহানি কাম্য নয়। তিনি তাবলীগের বিবদমান দু’পক্ষের মধ্যে ঐক্য চান। কে ভুল কে শুদ্ধ তা আলোচনায় ঠিক করার আহ্বান জানান তিনি।

  • পদ্মা সেতুর কাজ কবে শেষ, জানা যাবে চলতি মাসেই: ওবায়দুল কাদের

    পদ্মা সেতুর কাজ কবে শেষ, জানা যাবে চলতি মাসেই: ওবায়দুল কাদের

    আগামী ১৩ অক্টোবর পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন তিনি পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। মাওয়া প্রান্তে এক হাজার ৩০০ মিটার নদীর তীর রক্ষা কাজের উদ্বোধন করবেন।

    মঙ্গলবার মহাখালীর সেতু ভবনে পদ্মা রেল সংযোগ ও নদী তীর রক্ষা কাজের প্রস্তুতি সভা শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, নির্দিষ্ট সময় আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে না পদ্মা সেতুর কাজ। কবে নাগাদ বহুল আলোচিত এ সেতুর কাজ হবে তা চলতি মাস শেষ নাগাদ জানানো সম্ভব হবে।

    ২০০১ সালের ৪ জুলাই মাওয়ায় পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় এসে আরিচায় পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায় সরকার আবারো মাওয়ায় ফিরিয়ে নেয় পদ্মা সেতু প্রকল্প। প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১০ হাজার কোটি টাকা।

    ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ফিরলে পদ্মা সেতু নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেয় সরকার। ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হয়। বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুললে আলোচনার ঝড় ওঠে। মিথ্যা অভিযোগ করায় বিশ্বব্যাংককে বাদ দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রকল্প ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

    ২০১৪ সালের নভেম্বরে সেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরের বছরে ডিসেম্বরে মূল সেতুর কাজের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। প্রকল্প ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা। ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার জানান, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৫৯ ভাগ। মূল সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ৭০ ভাগ।

    ভোটের আগেই পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল সরকারের। কিন্তু আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হচ্ছে না তা নিশ্চিত করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ২৪ ঘন্টাই পদ্মা সেতুর কাজ চলছে। কিন্তু কবে কাজ শেষ হবে তার দিনক্ষণ এখনই বলা যবে না। ডিসেম্বরে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অক্টোবরের শেষ দিকে প্রকল্পের সর্বশেষ পরিস্থিতি বলা যাবে।

    মন্ত্রী জানান, আপাতত পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু দেশের সম্পদ হয়ে থাকবে।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতুর সেতুর পিলার স্থাপনে আর কোনো জটিলতা নেই। পৃথিবীর সবচেয়ে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ দু’টি নদীর একটি পদ্মা। আমাজন নদীর চেয়ে ভয়ঙ্কর পদ্মা। তাই পিয়ার ও স্পন্যান স্থাপনের সময় ঠিক রাখা যায়নি। ‘সয়েল কন্ডিশন’র কারণে কাজ করা যায়নি। এর কারণে প্রকল্পে বিলম্বে হয়েছে বলে জানান তিনি।

    গত বছরের সেপ্টেম্বরে পদ্মায় স্প্যান স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪১টি স্প্যানের ছয়টি বসেছে। রেললাইন স্থাপনের কাজও শুরু হয়েছে। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার পদ্মা রেল সংযোগ নির্মাণ করা হবে। ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকার এ প্রকল্প দেশের যোগাযোগ খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পূর্ণগতিতে এই ‘মেগাপ্রজক্টের’ কাজ শুরু হবে।

    উদ্বোধনের দিন থেকে থেকেই পদ্মা সেতুতে ট্রেন চলবে; সরকারের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা ছিল। সরকারের অগ্রাধিকারের ১০ প্রকল্পের একটি ‘পদ্মা রেল সংযোগ’ প্রকল্পটি পিছিয়ে রয়েছে চীন ঋণচুক্তিতে বিলম্ব করায়। এ প্রকল্পে চীন ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে সমঝোতা স্মারক সই হলেও ঋণচুক্তি হয় গত এপ্রিলে। মঙ্গলবারের প্রস্তুতি সভায় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, তিনি আশাবাদী ২০২২ সালে নির্ধারিত সময়েই পদ্মা রেল সংযোগের কাজ শেষ হবে।

    ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী ১৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের চলমান কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন। ১০ হাজার ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের কাজের ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে থাকবে দুই লেনের সার্ভিস রোড।

    আওয়ামী লীগের এমপি নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন, মৃনাল কান্তি দাস, বাহাউদ্দিন নাছিম, সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলি, বিএম মোজাম্মেল প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন রেলওয়ে, সড়ক বিভাগ ও সেতু বিভাগের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।