Category: রাজনীতি

  • সরকারকে সিধা পথে আসার আহবান মির্জা ফখরুলের

    সরকারকে সিধা পথে আসার আহবান মির্জা ফখরুলের

    সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সরকারকে অবিলম্বে সিধা পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। কিন্তু সেটা হতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে।

    আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ভবনের স্বাধীনতা হলে এক সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা।

    সংগঠনের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এতে সভাপতিত্ব করেন।

    নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন আজকে বিভক্ত, তারা (নির্বাচন কমিশন) এখন ভিন্ন কথা বলছে। সেখানে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। একজন কমিশনার যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেই প্রস্তাবকে অন্য কমিশনার বলছে অসাংবিধানিক। আমরা বলব নির্বাচন কমিশনকে হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন। তা না হলে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবেনা।

    সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপিরস্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিশ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, যুব জাগপার নেতা প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান সহ অনেকেই।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলার সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। বহু নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। অনেকেই ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। এভাবে একটি দলের ওপর নির্যাতন করলে কীভাবে সুষ্ঠু রাজনীতি হয়। নির্বাচনই বা সুষ্ঠু কেমনে হবে।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বলছি- অবিলম্বে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সিধা পথে আসুন। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপে বসুন। তা না হলে অন্য কোনো পথ নেই। এই একটাই পথ।

    বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি করার পর এখন তাকে সুচিকিৎসাও দেয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আজকে গণতন্ত্রের কথা বলার কারণেই সরকারের অনিয়মের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে জেল খানায় বন্দি করা হয়েছে মিথ্যা মামলা।

    বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিদেশি কূটনীতিকদের নির্বাচন নিয়ে তাদের অবস্থান জানানো হয়৷ সেখানে তারা তাদের সাত দফা দাবি এবং ১১ দফা লক্ষ্য তুলে ধরেন৷ তাদের মূল কথা ছিল, সমান সুযোগ দিয়ে অংশগ্রহণমূলক এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন৷ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ওই অনুষ্ঠানে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন৷ জোটের শরিক দলের নেতারাও ছিলেন৷ কূটনীতিকরা ঐক্যজোট নেতাদেরও কিছু প্রশ্ন করেন, যার জবাব দেন ড. কামাল হোসেন৷ মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা উইলিয়াম মুলার প্রশ্নগুলো করেন৷ আর সেই সব প্রশ্নের মধ্যে মূল প্রশ্ন ছিল ঐক্য ফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন৷ আর এর জবাবে ড. কামাল বলেছেন, সেটা সংসদই ঠিক করবে৷ এর বাইরে খালেদা জিয়াকে করাগারে রেখে তারা নির্বাচনে যাবেন কিনা, জামায়াতের ব্যাপারে বিকল্প ধারার অবস্থান এবং জোটের বাইরে থাকার প্রশ্ন এসেছে৷ আর এই সব প্রশ্নের জবাব থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, তারা নির্বাচনে যাচ্ছেন এবং তাদের লক্ষ্য নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য করা৷

    বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, কাতার, মরক্কোসহ ৩০ টি দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন৷

    একই দিনে ঢাকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট ও ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা৷ ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকের পর বার্নিকাট সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ হতে পারে৷’’

    আর শ্রিংলা সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘ভারত আশা করে আগামী একাদশ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে৷ আগামী নির্বাচন সামনে রেখে কোনো নাশকতার আশঙ্কা দেখছে না ভারত৷ আমরা আশা করি, সবার অংশগ্রহণে সুন্দর একটি নির্বাচন হবে৷’’ দু’টি দেশই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায়৷

    তবে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, সংলাপের উপলক্ষ কিংবা পরিবেশ দেখছেন না তিনি৷ খালেদা জিয়া বন্দি থাকলেও, নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি মনে করেন৷

    এদিকে ঢাকা সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়ন( ইইউ)-এর একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন৷ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনজি তিরিংক৷ তিনি বলেন, ‘‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও পরিবেশ দেখতে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ইইউ-এর দু’জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসবেন৷ তাঁরা কয়েক সপ্তাহ এখানে অবস্থান করবেন৷’’

    তিনি আরো বলেন, ‘‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ৷ এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য কোনো সহযোগিতা করতে ইইউ প্রস্তুত৷’’

    তবে নির্বাচনের সময় ইইউ কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে না৷ প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা নির্বাচনের সময় পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুরোধ করলেও তারা রাজি হননি৷

    প্রধান নির্বাচন কশিমনার তাদের জানিয়েছেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে৷ নির্বাচন হতে পারে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে৷ নির্বাচন কমিশন সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে৷

    কূটনীতিকদের এই তৎপরতা এবং ঐক্য ফ্রন্টের পক্ষ থেকে কূটনীতিকদের পরিস্থিতি জানানোকে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনেরই উদ্যোগ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা৷ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সবাইতো একটা অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়৷ যেহেতু এটা নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের এক ধরনের দূরত্ব আছে, সরকারের দিক থেকে প্রতিযোগীদের কতটুকু সুযোগ দেবে তা নিয়েও সন্দেহ আছে৷ এই যে সিলেটে ঐক্য ফ্রন্টকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হলো না, কেন দেয়া হলো না তার ব্যাখ্যা নেই৷ এইসব মিলিয়ে যে যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করছেন একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার৷ কূটনীতিকরাও চাইছেন সবার সঙ্গে কথা বলে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে যে দূরত্ব নির্বাচন নিয়ে, তা কমিয়ে আনতে৷ দূরত্ব যতটা কমিয়ে আনা যায়, তার মাধ্যমে মোটামুটি হলেও একটি অংশগ্রহমূলক এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাওয়া৷ তবে এটা কতটুকু সফল হবে তা বলার সময় এখনো আসেনি৷ আমার ধারণা, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, কূটনীতিকসহ সব মহলের এই তৎপরতা আরো বাড়বে৷’’

    তিনি আরো বলেন, ‘‘ঐক্য ফ্রন্ট স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই নির্বাচন পর্যন্ত যেতে চায়৷ তারা সহিংস হয় কিনা সেটাও পর্যবেক্ষণের বিষয় রয়েছে কূটনীতিকদের৷ কারণ, এইযে সিলেটে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হলো না, কিন্তু ঐক্য ফ্রন্ট সেখানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে৷ তাতে একটা সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে৷ কিন্ত এর দায় কার৷ আমার মতে সরকারের৷ সরকারও হয়তো এখন দেখাতে চায় তারা সহিংস হচ্ছে৷’’

    তিনি মনে করেন, ‘‘নির্বাচনই শেষ নয়৷ এরপর সরকার গঠন কেমন হবে, সাধারণ মানুষের তাতে আস্থা আছে কিনা, এই বিষয়গুলোও বুঝতে চান কূটনীতিকরা৷ সে কারণেই হয়তো ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন– এ জাতীয় প্রশ্ন করেছেন তারা৷’’

    অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ (জানিপপ)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, ‘‘প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়৷ কারণ, উন্নয়ন সহযোগী এবং জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে একের প্রতি অন্যের একটা দায়িত্ব আছে৷ সেই চিন্তা থেকে এবং দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের যে একটি ধারা তৈরি হয়েছে, সেখান থেকেই কূটনীতিকদের এই আগ্রহ এবং তৎপরতা৷ আর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক সংগঠন সারাবছরই কোনো-না-কোনো দেশের নিরিখে কাজ করে৷ এটা এক অর্থে রুটিন কাজ এবং আরেক অর্থে সিজনাল কাজ৷ আর সে কারণেই ঢাকার কূটনৈতিক মিশনগুলো তৎপর হয়েছে৷ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোও তাদের টিম পাঠাচ্ছে৷’’

    তিনি আরো বলেন, ‘‘বাংলাদেশের রাজনীতি এবং নির্বাচন নিয়ে কী হচ্ছে এটা কূটনীতিকরা জানেন৷ তাই কৌতুহলের দিক থেকে তাঁরা ঐক্য ফ্রন্ট নেতাদের নানা প্রশ্ন করেছেন৷ আর বিএনপি যে কূটনীকিদের দাওয়াত দিয়ে তাঁদের অবস্থান জানিয়েছে, এটা নতুন নয়৷ এরশাদ সরকারের আমল থেকেই সরকারি বা বিরোধী সবাই এটা করেছেন৷ তাঁরা চেয়েছেন একধরনের সুনজরে থাকতে৷’’

    তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘ইইউ যে নির্বাচনের সময় পর্যবেক্ষক পাঠাবে না এর কারণ হলো নির্বাচন যখন রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়, অন্য কোনো গুরুত্ব না থাকে, তখন নজরদারির বিষয়টি তেমন থাকে না৷ তাই পাঁচ বছর আগে যে আগ্রহ ছিল, সেটা এখন নেই৷’’

    যে পথে এগোতে চায় ঐক্য ফ্রন্ট :

    ঐক্যফ্রন্ট কূটনীকিদের সঙ্গে এই বৈঠকের পর এখন সুশীল সমাজের সঙ্গে বসবে বলে জানা গেছে৷ তাঁরা সব মহলে তাদের অবস্থান তুলে ধরে জনমত গঠনের পাশাপাশি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান৷ একই সঙ্গে দেখাতে চায় যে, সরকার তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে৷ নির্বাচনে সব সুযোগের পথে সরকারই প্রধান বাধা৷ ২৩ অক্টোবর সিলেটে সমাবেশের অনুমতি না দেয়া হলেও তারা ওইদিন সিলেটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন৷ তারাই চাইছেন, হযরত শাহজালালের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী কাজ শুরু করতে৷ তাতে যদি বাধা দেয়া হয়, তাহলে তারা কী করবেন সেই করনীয় ঠিক করতে শুক্রবার রাতে বৈঠক ডেকেছেন৷ বাধা পেলেও সেটা যেন তারা তাদের পক্ষে কাজে লাগাতে পারেন, সেটাই তারা চাইছেন৷

    জানা গেছে, ৩০ অক্টোবরের মথ্যে তারা বিভাগের সমাবেশগুলো শেষ করবেন৷ নভেম্বরে তফসিল ঘোষণার পররই তারা সারাদেশে লংমার্চের কর্মসূচি দিতে পারেন৷

  • চাঁদপুর-২: মতলবে আ’লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ইসফাক আহসানের প্রচার

    চাঁদপুর-২: মতলবে আ’লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ইসফাক আহসানের প্রচার

    চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) আসনে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় যে কয়জন মাঠে রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম এম ইসফাক আহসান। তিনি আহসান গ্রুপের পরিচালক।

    সমাজসেবা ও রাজনীতিতে দীর্ঘদিন জড়িত থাকায় মতলবের মানুষের কাছে প্রিয়মুখ তিনি। মতলব উত্তরের পাঁচানি এলাকার লতুরদী গ্রামে পৈতৃক নিবাস। তার শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম মোল্লা নরসিংদী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি।

    দুই মতলবে তার নির্বাচনী প্রচারণা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই মতলবে তার নির্বাচনী প্রচারণা সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

    মনোনয়ন পেলে প্রথমত দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করা ও ঐক্যবদ্ধ রাখাই হবে প্রথম কাজ বলে জানান। তাছাড়া বৃহত্তর দুই মতলবকে মাদকমুক্ত রাখা ও মতলবে পর্যটনের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করবেন।

    আর এসব উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে যুগান্তরকে জানান। ইসফাক আহসান আরও বলেন, আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। মানুষের পাশে থাকার জন্য এসেছি।

    মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা পাওয়ার জন্য এসেছি। এমপি হই বা না হই আমি জনগণকে নিয়ে আছি এবং থাকব। দুই মতলবের উন্নয়নে তার বিভিন্ন স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চান এ নেতা। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেন বলে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে থাকবেন বলে জানান।

  • জোটের আবর্তে রাজনীতি

    জোটের আবর্তে রাজনীতি

    ভোট এলেই বাড়ে জোটের সংখ্যা। এবারও ব্যতিক্রম নয়। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জোট-মহাজোট গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোতে নীরব প্রতিযোগিতা চলছে।

    নিজেদের ঐক্য অটুট রেখে অন্য জোট ভাঙতে নানা কৌশল প্রয়োগে ব্যস্ত নেতারা। ফলে জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে অনেক দল।

    এতে যেমন এক দিকে ভাঙছে, তেমনি অন্য দিকে গঠিত হচ্ছে নতুন জোট। নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতে অনেক দল নতুন করে জোট বাঁধার পরিকল্পনা আঁটছেন।

    এ অবস্থায় ভোটের মাঠে গুরুত্বহীন অনেক দল প্রধান দুটি রাজনৈতিক ধারার একটির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে মরিয়া। যে কোনো ভাবে ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

    ফলে আদর্শ নয় জোটের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনীতি। নিজের পায়ে ভর করে ছোট দলগুলোর নেতারা ক্ষমতায় যাবেন বা এমপি হবেন এমন সুযোগ খুব বেশি নেই।

    তাই তারা জোট-মহাজোটের সান্নিধ্যে থেকে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। আদর্শ, নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে তারা এক জোট ছেড়ে অন্য জোটে ভিড়েন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটমুখী রাজনীতিতে আদর্শের চেয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থ। অতীতে যেসব দলের মধ্যে ঐক্য হয়েছে তাদের মধ্যে নানা দিক দিয়ে ন্যূনতম মিল ছিল।

    পুরোপুরি না হলেও নেতারা আদর্শের কাছাকাছি ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারা প্রায় বিলুপ্ত।

    জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ভোট এলেই জোট বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ জোট হওয়ার পেছনে আদর্শের কোনো প্রেরণা কাজ করে না। ছোট দলগুলো বড় দলের আশপাশে, বিশেষ করে যাদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে যে ঐক্য প্রক্রিয়া বা ২০ দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা ১৪ দলে ভেড়ানোর কথা বলি সব কিছুর পেছনেই কাজ করে স্বার্থ। আদর্শ এখানে কার্যকর নয়।

    শাসক দল সূত্রে জানা গেছে, এ মুহূর্তে অনেক দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে যোগ দিতে চাচ্ছে। এতে তাদের জোটের আকার বাড়তে পারে।

    সে ক্ষেত্রে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বৃহৎ আকারের জোট নিয়ে মাঠে নামতে পারে দলটি। যারা আসতে চাচ্ছে তাদের নিয়ে কাজ করার জন্য একাধিক নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

    তারা আগ্রহী এবং জোট ছুট দলগুলোর সঙ্গে কথা বলছেন। বাম ও ইসলামী ভাবধারার কয়েকটি জোটও আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

    তবে বিএনপি ও ড. কামালের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ‘নির্বাচনী ঘোষণা’ না আসা পর্যন্ত জোটের, ভোটের ও আসন বণ্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে হাত দেবে না শাসক দল।

    বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০ দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরিধি বাড়াতে কাজ করছে বিএনপি। জোট থেকে অন্য কোনো দল যাতে বেরিয়ে না যায় সেজন্য নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।

    জোটের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট আরও বড় হতে পারে। অনেকেই জোটে আসতে চাইছে।

    অনেকেই আবার নিজেরাই আলাদা জোট গঠন করতে চাচ্ছেন। এরা বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ কারও সঙ্গেই থাকবে না। এমন জোটও হতে পারে। তফসিলের আগে আগে সব কিছু পরিষ্কার হবে বলেও জানান তিনি।

    এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, জোট- মহাজোটের রাজনীতি আমি খারাপভাবে দেখছি না।

    তবে এক্ষেত্রে দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম আদর্শিক মিল থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমানে দেখা গেছে, অনেক দল আদর্শের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থেই বিভিন্ন জোটে ভিড়ছে। তিনি বলেন, ২০ দল অটুট আছে। এ জোট ভাঙছে না। ব্যক্তি স্বার্থে দু-একজন চলে গেলেও তার কোনো প্রভাব জোটে পড়বে না।

    দুটি দল যে অভিযোগে জোট ছেড়েছে তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এখনও তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। আসন ভাগাভাগির প্রশ্ন আসছে কেন।

    জানা গেছে, দেশে জোটবদ্ধ রাজনীতির ইতিহাস বেশ পুরনো। সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপি, আ স ম আবদুর রবের জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য নিয়ে নতুন এ জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

    বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান ও তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব আবদুল আউয়ালের নেতৃত্বে সম্প্রতি ধর্মভিত্তিক নতুন জোট হয়েছে।

    নাম ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স। এর আগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল এবং বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট গঠন হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে আছে সম্মিলিত জাতীয় জোট।

    তিন বড় দলের বাইরেও একাধিক জোট গঠিত হয়েছে। নতুন জোট গঠিত হচ্ছে। অনেক দল আছে যারা এখনও কোনো জোটে যোগ দেয়নি। কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এমন একটি দল। দলটি এখন পর্যন্ত কোনো জোটে যোগ দেয়নি।

    বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টে তার যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত যাননি। শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো জোটে যোগ দেন কিনা তা সময় বলে দেবে। বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাসদ (রব) সভাপতি আ স ম রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না নিয়ে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে নতুন একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে সম্প্রতি।

    বিকল্পধারাকে বাদ দিয়ে যুক্তফ্রন্টের দুই শরিক নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়। এর ফলে যুক্তফ্রন্টের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

    ১৮ জুলাই বামপন্থী আটটি দল নিয়ে একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। নাম দেয়া হয় ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’। এ জোটে আছে সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন।

    এ জোটের একটি অংশ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সবাই যোগ না দিলে জোটটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও আছে।

    সূত্র জানায়, নির্বাচনী জোট বাঁধতে নানামুখী প্রস্তাব পাচ্ছে আওয়ামী লীগ। জোটের নীতি-আদর্শের সঙ্গে পুরোপুরি মিল রয়েছে এমন দলগুলোকে ১৪ দলীয় জোটে নেয়ার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।

    সমমনা কিন্তু আদর্শিকভাবে পুরোপুরি মিল নেই তাদের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য করে, তাদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করা যায় কিনা তা ভাবা হচ্ছে। আর যেসব দল বা জোট সরাসরি ১৪ দলে আসবে না নির্বাচনে তাদেরও যুগপৎভাবে রাখা যায় কিনা, সেই চিন্তা করছে আওয়ামী লীগ।

    এদিকে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে থাকা ইসলামী দলগুলো জোটে আসতে চাচ্ছে। ইসলামী ভোটব্যাংকে ভাগ বসাতে বিভিন্ন ফরম্যাটে এ ধরনের দলগুলোকে ঐক্যে আনা যায় কিনা সে বিষয়েও আলোচনা চলছে।

    এর অংশ হিসেবে ইসলামী ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ, জাকের পার্টি, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বেশ কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কথাবার্তা চলছে।

    জোটে যোগদানে আগ্রহীদের ব্যপারে অনেক দিন ধরে কাজ করছেন ১৪ দলের মুখপাত্র আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, জোটে অনেকেই আসতে চায়।

    তবে আমরা বলেছি জোটের আদর্শ ‘ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’য় বিশ্বাসী যে কোনো দল জোটে আসতে পারে। এর বাইরে নির্বাচনী মহাজোট তো আছেই।

    আগামী নির্বাচনের আগে নির্বাচনী মহাজোটের পরিধি বাড়বে এটি এখনি বলা যাচ্ছে না। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাপ করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

    ইতিমধ্যে রাজনৈতিক বেশ কয়েকটি দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন ওবায়দুল কাদের। ২৪ জুলাই সিপিবি অফিসে যান তিনি। সেখানে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক শাহে আলমের সঙ্গে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন।

    সিপিবি একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট না বাঁধলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। ২৬ জুলাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে আলোচনা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

    কয়েক দিন পর বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের সঙ্গে সরাসরি এবং এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

    আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান ও তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব আবদুল আউয়ালের নেতৃত্বে ধর্মভিত্তিক ১৫ দলীয় জোট, ১০ দল নিয়ে ‘ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক জোট’সহ ছোট ছোট অনেক দল ও জোট আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগ দিতে চায়।

    এদিকে হঠাৎ করে ২০ দলের ভাঙাগড়ার পেছনেও স্বার্থের দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপি যে কারণ দেখিয়ে জোট ত্যাগ করে বাস্তব চিত্র তার উল্টো। জোটের অন্য শরিকদের দাবি, কোনো প্রলোভনে পড়েই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    ব্যক্তি স্বার্থ চিন্তা করেই দুটি দল জোট ছেড়েছে। ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বিকল্পধারার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন। বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে জোটে গানি যোগ দিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এনডিপিও একই পথ অনুসরণ করতে পারে।

    সূত্র জানায়, ২০ দলীয় জোট থেকে দুটি দল সরে গেলে তাদের একাংশ জোটেই থাকছে। এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়ে?ছে। দল?টির জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মুকাদ্দিমকে নতুন চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মো. ওসমান গনি পাটোয়ারীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়েছে।

    তাদের নেতৃত্বেই দলটি ২০ দলীয় জোটে থাকবে বলে জানা গেছে। এছাড়া বাংলাদেশ ন্যাপের সাংগঠনিক সম্পাদক এমএন শাওন সাদেকীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শাওনের নেতৃত্বে ন্যাপের অংশটি ২০ দলে থাকবে।

    সূত্র জানায়, জোট থেকে আরও কয়েকটি শরিককে বের করে নিতে চাপ রয়েছে। বিশেষ করে জোটের যেসব দলের নিবন্ধন রয়েছে ওই দলগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে। বাংলাদেশ মুসলিম লীগসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে ইতিমধ্যে জোট ভাঙার নেপথ্যের কারিগররা যোগাযোগ করেছেন।

    তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে মুসলিম লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান খান যুগান্তরকে বলেন, তার দলের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা জোটে আছি এবং থাকব। জোটের ঐক্যে ফাটল ধরাতেই কোনো একটি গোষ্ঠী এ ধরনের গুঞ্জন ছড়াচ্ছে।

    জানা গেছে, জোট থেকে দুই শরিক চলে যাওয়ায় বিএনপির নীতিনির্ধারকরাও বেশ তৎপর। তারা শরিকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন। কারও কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ থাকলে তা জানার চেষ্টা করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    জানতে চাইলে জোটের শরিক লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান যুগান্তরকে বলেন, আমরা একটা লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে জোট গঠন করেছিলাম। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়া। আমাদের সেই লক্ষ্য এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এ লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সংগ্রাম চলছে।

  • সিলেটে সমাবেশের অনুমতি মেলেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের

    সিলেটে সমাবেশের অনুমতি মেলেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের

    সিলেটে সমাবেশ করার অনুমতি পায়নি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ।

    তিনি বলেন, গতকাল যখন আমরা সমাবেশের আবেদন করেছিলাম, তখন কিছু বলা হয়নি। কিন্তু আজ সকালে কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিয়া আমাকে ফোন করে সমাবেশে অনুমতি মেলেনি বলে জানান।

    আলী আহমদ বলেন, ওসি আমাদের সমাবেশ না করার অনুরোধ করেছেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব (গণমাধ্যম) বলেন, তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। কেন দেয়া হয়নি জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তা বলা যাবে না।

    এর আগে গতকাল বুধবার সিলেট বিএনপির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে দেখা করে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে একটি চিঠি দেয়।

    আলী আহমদ বলেন, পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করার জন্য আমরা এ বিষয় নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আশাবাদী পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেবে।

    এর আগে বুধবার রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থে‌কে বিএন‌পি চেয়ারপার‌সনের মি‌ডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল ক‌বির খান জানান, আগামী ২৩ অক্টোবর সি‌লে‌টে সমা‌বেশ করার অনুম‌তি পে‌য়ে‌ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

    সি‌লে‌টে সমা‌বে‌শের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রাজপ‌থে প্রথমবা‌রের ম‌তো যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা করেছিল।

  • জনগণকে খোয়াড়ে আটকাচ্ছে সরকার : রিজভী

    জনগণকে খোয়াড়ে আটকাচ্ছে সরকার : রিজভী

    ষমতাসীন সরকার প্রণীত বিভিন্ন আইনের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মুখে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে জনগণকে গবাদি পশুর খোয়াড়ে আটকে রাখছেন।

    তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশের পর এবার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার নামে আরেকটি ভয়ঙ্কর আইন করতে যাচ্ছে সরকার।

    আজ বুধবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা সাজানো মিথ্যা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না করেই সরকারের হুকুমে আরেকটি ‘ফরমায়েসী’ রায়ের দিন ধার্য করেছেন নি¤œ আদালত। যেটি সম্পূর্ণরূপে বেআইনী ও নি¤œ আদালতে সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ।

    রিজভী লিখিত বক্তব্যে বলেন, অসুস্থ ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য চলার বিধান পৃথিবীর দেশগুলোতে নেই। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার বেআইনী খারাপ নজীর সৃষ্টিকারী সরকার। তারা জিঘাংসার নতুন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, এটিও তার একটি।

    তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দিতে এবং মানুষকে বোবা বানিয়ে দিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশের পর এবার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার নামে আরেকটি ভয়ঙ্কর আইন করতে যাচ্ছে সরকার। গত সোমবার মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে একটি খসড়া নীতিমালা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খসড়া আইনটিতে বলা হয়েছে- রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যাপারে বিভ্রান্তমূলক তথ্য প্রকাশ করলে তিন বছরের জেল ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা। টকশোতে মিথ্যা ও অসত্য তথ্য প্রচার করলেও একই সাজা। নীতিমালায় আরো বলা আছে- কমিশন গঠন করে রেডিও-টেলিভিশন-অনলাইনসহ সব মিডিয়ার লাইসেন্স দেয়া হবে এবং যেকোনো কারণে তাদের লাইসেন্স তারা বাতিল করতেও পারবে।

    রিজভী বলেন, এই সরকার মানুষের ভোটের অধিকার ছিনতাই করে গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং গায়েবী মামলা, কবরে শায়িত লাশের বিরুদ্ধে মামলা, হাসপাতালে শায়িত অশীতিপর বৃদ্ধ ও পবিত্র হজ¦ পালনরত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলায় বাছ-বিচারহীন গ্রেফতারের মাধ্যমে দেশটাকে নৈরাজ্যে ভরিয়ে দিয়েও স্বস্তি পাচ্ছে না। দুর্নীতির খবর চেপে রেখে নিজেদেরকে নিরাপদ করার জন্যই কি মিডিয়ার মুখ বন্ধ করতে একের পর এক ভয়ংকর কালো আইন করে যাচ্ছে সরকার?

    তিনি বলেন, সরকারের করা একেকটা কালো আইন দেখে মানুষ এখন ৭২ থেকে ৭৫-এর কথাই বলাবলি করছে। ’৭৫-এ বাকশাল গঠনের পর সরকারের অনুগত ৪টি পত্রিকা রেখে সব গণমাধ্যম বন্ধ করা হয়েছিল। সে সময় গণমাধ্যমের লোকজনদেরকে চাকরি হারিয়ে হকারগিরি করতে হয়েছে।

    রিজভী আরো বলেন, এবার যেসব ভয়ঙ্কর নিবর্তনমূলক আইন করা হচ্ছে তাতে গণমাধ্যমের মালিকরাই গণমাধ্যম বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। মানুষ ভয়ে কথা না বলে নিজে নিজে বোবা হয়ে যাবেন। টকশোতে কথা বলা দূরে থাক, এখনই বলতে শোনা যাচ্ছে, আর টকশোতে যাওয়া যাবে না। কারণ কোন কথাটা সরকারের কাছে মিথ্যা বলে বিবেচিত হবে আর মাথায় নিতে হবে জেল জরিমানা।

    তিনি বলেন, মুক্ত গণমাধ্যমের দাবিতে সম্পাদক ও সাংবাদিকরা এখন যুথবদ্ধ সোচ্চার। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে কালো আইন সম্প্রচার নীতিমালার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

  • জাতীয় ঐক্য একটি জগাখিচুড়ি: কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের হিন্দুসম্প্রদায়ের লোকজনের উদ্দেশে বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যে রূপেই হোক, এরা আপনাদের ও আমাদের শত্রু। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে আপনাদের–আমাদের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হলো বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।’

    আজ বুধবার বেলা ১১টায় তাঁর নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে গিয়ে উপস্থিত হিন্দুসম্প্রদায়ের উদ্দেশে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য একটি জগাখিচুড়ি ঐক্য। বিএনপির এখন দরকার ড. কামাল হোসেনের ওপর ভর করা। কারণ তাঁদের চেয়ারপারসন কারাগারে অন্তরীণ, দণ্ডিত এবং তাঁরা যাঁকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছেন, তিনিও লন্ডনে পলাতক এবং তিনিও যাবজ্জীবন দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। কাজেই বিএনপির এখন একজন নেতার দরকার। দুঃখজনক হলেও সত্য, তাঁদের নিজেদের মধ্যে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া মনে হয় আর কোনো নেতা নেই। তাই তাঁরা জাতীয় ঐক্যের নামে ড. কামাল হোসেনের ওপর ভর করে তাঁকে নেতা করেছেন।’

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনাদের শত্রু নিরীহ মুসলমানরা নয়। আপনাদের শত্রু সাম্প্রদায়িকতা। আসুন, আমরা সকলে মিলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আপনাদের, আমাদের সকলের অভিন্ন শত্রু সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিহত করি, পরাজিত করি। আগামী নির্বাচনে এই অপশক্তিকে পরাজিত করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

    হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, আপনাদের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ আপনাদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদেরও নির্দেশ দিয়েছি ২৪ ঘণ্টা আপনাদের পাশে থাকার জন্য।’

    মন্ত্রীর মণ্ডপ পরিদর্শনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস, জেলা পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অরবিন্দ ভৌমিক ও কোম্পানীগঞ্জ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা। মন্ত্রী পরে একই নির্বাচনী এলাকার কবিরহাট উপজেলার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।