Category: রাজনীতি

  • সত্যিকারের নৌকা, ধানের শীষ নিয়ে প্রচার আর চলবে না

    সত্যিকারের নৌকা, ধানের শীষ নিয়ে প্রচার আর চলবে না

    ভোটের প্রচারে প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশন এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যার ফলে বিএনপির কর্মীরা এখন থেকে ক্ষেত থেকে ধানের শীষ কেটে এনে আর প্রচার চালাতে পারবেন না। দলটির নেতা-কর্মীদেরকে প্রচারে নামতে হবে প্লাস্টিকে তৈরি ধানের শীষ ব্যবহার করে।

    একইভাবে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী প্রচারে সত্যিকারের নৌকা নিয়ে আসতে পারবে না। তবে তারা নৌকার আদলে তৈরি প্রতিকৃতি ব্যবহার করা যাবে।

    বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে এক বৈঠক শেষে এই বিষয়টি জানান নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।

    নানা সময় নির্বাচনী প্রচারে বিএনপির কর্মী সমর্থকরা ক্ষেত থেকে ধানের শীষ কেটে এনে প্রচারে অংশ নেন। দলের নেতারাও কোনো এলাকায় সফরে গেলে তাদের হাতে এই প্রতীক দেয়া হয়।

    তবে নির্বাচন কমিশন সচিব বলেন, ‘এখন থেকে কেউ প্রতীকের প্রতিকৃতি ব্যতীত অন্য কিছু ব্যবহার করে প্রচারণা চালাতে পারবে না।’

    সচিব বলেন, ‘আগে ছিল জীবন্ত কোনও কিছু নিয়ে প্রচারণা করা যাবে না। যেমন হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি, সেখানে এখন বলা হয়েছে, প্রতিকৃতি ব্যতিত অন্য কিছু নিয়ে প্রচারণা করা যাবে না।’

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে জীবন্ত প্রাণী নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

    এর আগ পর্যন্ত হাতি, ঘোড়া, ময়ূর বা গোরগ মার্কার প্রার্থীরা এসব প্রাণী নিয়ে মিছিল বের করতেন। কিন্তু সাত বছর ধরে এসব বন্ধ হয়ে গেছে।

    নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের ক্ষেত্রে কী হবে? এর তো কোনা প্রতিকৃতি নেই- এমন প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন সচিবের সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি কোনও জবাব না দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

    সচিব জানান, সিটি করপোরেশন আচরণ বিধিমালায় ১১টি বিষয়ে সংশোধনের প্রস্তাবে সায় দেয়া হয়েছে। বিধিমালাটি জারি হলে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের দাবি অনুযায়ী সিটি নির্বাচনের প্রচারে সংসদ সদস্যরা অংশ নিতে পারবেন।

    ২০১৫ সালে কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে গত ১২ এপ্রিল আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল আইন সংশোধন করে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানায়।

    ফাইল ছবি

    ফাইল ছবি

    নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেয়র প্রার্থীরা এখন থেকে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে নির্বাচনী ক্যাম্প করতে পারবেন। আগে এটা ছিল, প্রতি থানায় একটি।

    সংশোধিত বিধিমালাটি ভেটিং বা আইনি পরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখানে যাচাই বাছাই শেষে পরিপত্র জারি হলে নতুন বিধিমালা কার্যকর হবে।

    নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু  বলেন, ‘এই নির্বাচনকমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ। এদের কোনো যোগ্যতা নেই যা কিছু করছে বিরোধী দলকে ঠেকানোর জন্যই করছে।

  • ‘পুলিশ জুঁই ফুলের গান গাইবে, কাউন্টার করবে না?’

    ‘পুলিশ জুঁই ফুলের গান গাইবে, কাউন্টার করবে না?’

    মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে যারা নিহত হচ্ছেন তারা সবাই অস্ত্রধারী এবং তারা গুলি করার পর পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি করছে বলে দাবি করেছেন ওবায়দুল কাদের।

    কথিত বন্দুকযুদ্ধকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ বলে মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল এবং বিএনপির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ এসেছে, সেটিও উড়িয়ে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং মন্ত্রিসভার সদস্য। তার দাবি, যে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, সেটা বিচারবহির্ভূত হত্যা নয়, এটা এনকাউন্টার। পুলিশ আক্রান্ত হয়ে গুলি করছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন কাদের।

    মাদকবিরোধী অভিযানে মৃত্যুর বিষয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ যাদের ধরতে যাচ্ছে, তাদের কাছে তো অস্ত্র রয়েছে। সেখানে কি তাহলে পুলিশ ‘জুঁই ফুলের’ গান গাইবে? কাউন্টার করবে না?’

    গত ৪ মে থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে এখন অবধি ৫০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। গত চার দিনেই এই সংখ্যাটি অন্তত ৪০।

    প্রতিটি ঘটনায়ও বর্ণনা মোটামুটি একই রকম। সন্দেহভাজনদের ধরতে গেলে তারা বা তার সহযোগীরা বা ধরা পড়ার পর অভিযানে গেলে সহযোগীরা গুলি করে। পুলিশ পাল্টা গুলি করলে এক পর্যায়ে নিহত হন সন্দেহভাজন।

    বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ৩ মে র‌্যাব গঠনের পর এভাবে ব্যাপকভাবে ক্রসফায়ার শুরু হয়। তখন আওয়ামী লীগ এর সমালোচনা করে। আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকে সে সময়ে বিএনপি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করে।

    তবে এখন বিএনপি এই ‘বন্দুকযুদ্ধকে’ ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ আখ্যা দিয়ে বলছে, এভাবে অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়।

    তবে মাদকবিরোধী অভিযানে হতাহতের ঘটনাগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ মানছেন না কাদের। বলেন, ‘আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করি না। সেটা ভিন্ন জিনিস। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট আছে, তাদের সঙ্গে অস্ত্রধারী টেরোরিস্ট রয়েছে। যখন পুলিশ তাদের ধরতে যায় তখন গোলাগুলিতে এনকাউন্টার হয়।’

    ‘এনকাউন্টার তো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নয়। কারণ এখানে শুধু এক পক্ষের হাতে অস্ত্র নাই, অস্ত্র দুইপক্ষের হাতেই রয়েছে।’

    বিএনপির সমালোচনার বিষয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন,  ‘আপনারা কি কোনো রাজনৈতিক সভায় প্রতিপক্ষ গালিগালাজ ছাড়া একটা কথা বলেছেন? মাদক, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করেন নাই। তাই এ বিষয়ে কথা বলার কোনো অধিকার নাই।’

    ‘মাদকের যে ভয়ঙ্কর অবস্থা আজকে এসেছে, আমরা যদি সকলেই (সকল রাজনৈতিক দল) এতদিন সোচ্চার থাকতাম তাহলে এ অবস্থা আসত না।’

    দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ক্রসফায়ারকে সমর্থন করে কি না, জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘ক্রসফায়ারকে আমরা সমর্থন করি না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে অভিযান হচ্ছে তাকে সমর্থন করি।’

    ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অভিযান হচ্ছে আমরা সমর্থন করব না? মাদক ব্যবসায়ীদের সিন্ডেকেট যে অস্ত্রবাজদের নিয়ে মোকাবেলা করছে, সেখানে কি পুলিশ নীরব থাকবে?’।

    অপর এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, কেবল আবদুর রহমান বদি না, প্রমাণ পেলে আরও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়।

  • মাদক সম্রাট সংসদেই অাছে, তাদের ফাঁসি দেন : এরশাদ

    মাদক সম্রাট সংসদেই অাছে, তাদের ফাঁসি দেন : এরশাদ

    মাদক নির্মূলের নামে বন্দুকযুদ্ধে নির্বিচারে হত্যার কঠোর সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, মাদক নির্মূলের নামে যাদের হত্যা করা হচ্ছে তারা কারা অামরা জানি না। মাদক সম্রাটতো সংসদেই অাছে। তাদেরকে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলান।

    আজ কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনির্য়াস ইনিস্টিউট মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যােগে অায়োজিত অালোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলের নেতা ও দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল অামিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন অাহমেদ বাবলু, কাজী ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ অাবু হোসেন বাবলা, হাজী সাইফুদ্দিন অাহমেদ মিলন, জহিরুল অালম রুবেল।
    এরশাদ বলেন, এভাবে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করতে পারেন না। প্রত্যেক নাগরিকেরই সাংবিধানিকভাবে বিচার পাওয়ার অধিকার অাছে। কোথাও এর নজির নেই। বিশ্ব এটা মেনে নেবে না। মাদক নিমূর্লে অাগামী সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে অাইন করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
    ঢাকা শহরের যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যানজটের কারণে প্রতিদিন ৫১ লাখ ঘণ্টা অপব্যয় হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছ দেশ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে এগুলো বাস্তবায়ন করে ঢাকাকে যানজট মুক্ত করবো।

  • ৬৫ দিন পর যুবদল নেতা মুক্ত, ফের গ্রেপ্তার

    ৬৫ দিন পর যুবদল নেতা মুক্ত, ফের গ্রেপ্তার

    ৬৫ দিন কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারো কারাগারের সামনে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

    তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের আপন ছোট ভাই। খোরশেদ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে গণসংযোগ করে আসছিলেন এবং তিনি সিটি কর্পোরেশেনের টানা দুবার নির্বাচিত কাউন্সিলর।

    এর আগে পৌরসভা থাকার সময়েও তিনি একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

    হাইকোর্টের জামিনের আদেশ বুধবার নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পৌঁছালে কারাগার থেকে বের হন খোরশেদ। পরে কারাগারের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।

    কাউন্সিলর খোরশেদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন সরকার জানান, মঙ্গলবার হাইকোর্ট থেকে জামিনের আদেশ বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পৌঁছে। পরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের একটি মামলায় তাকে কারাগারের সামনে থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আগামী রবিবার মামলার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

    জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ দুপুরে শহরের মাসদাইর এলাকায় আদর্শ স্কুলে নির্বাচন কমিশনের অধীনে ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) বিতরণ অনুষ্ঠান থেকে আটক করে পুলিশ। এর পর সদর মডেল থানার একটি ও ফতুল্লা মডেল থানার আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওইসব মামলায় তাকে কায়েক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর পর থেকে এখনও পর্যন্ত মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ কারাগারে বন্দি আছেন।

  • খালেদার জামিন শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি

    খালেদার জামিন শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা হত্যার উদ্দেশ্যে নাশকতার সৃষ্টি এবং মানহানির অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলার জামিন আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত।

    বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    এদিন, আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, কায়সার কামাল, আতিকুর রহমান, এহসানুর রহমান ও ফাইয়াজ জিবরান।

    এর আগে গত রবিবার হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে কুমিল্লা ও নড়াইলের তিন মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। এর মধ্যে চৌদ্দগ্রামের একটি মামলা বিশেষ আইনে হওয়ায় ওই মামলায় ফৌজদারি আপিল করা হয়। তার সঙ্গেই খালেদার জামিন চাওয়া হয়। ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় নৈশকোচে পেট্রলবোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হন। চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ পরদিন খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা করে। এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার পর আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এর মধ্যে খালেদা ঢাকার দুর্নীতি মামলায় কারাগারে যাওয়ায় কুমিল্লার মামলাতেও তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আর নড়াইলের আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি দায়ের করা হয় শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে। নড়াইল জেলা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ফারুকী ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর এ মামলা করেন। আদালতের তলবে হাজির না হওয়ায় ২০১৬ সালের আগস্টে এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

    মামলা তিনটি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সোমবারের কার্য তালিকায় ছিল। তবে এখন দুটি মামলায় জামিন শুনানি চলছে। সোমবার শুনানি করতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল প্রস্তুতির জন্য সময় চান। এরপর আদালত কুমিল্লার দুই মামলার শুনানির জন্য মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার সময় নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত দিনে শুনানি শেষ না হওয়ায় বুধবার আবারও শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

  • ঘোষণা তৃতীয় শক্তি হওয়ার, ঘনিষ্ঠতা বিএনপির সঙ্গে

    ঘোষণা তৃতীয় শক্তি হওয়ার, ঘনিষ্ঠতা বিএনপির সঙ্গে

    দুই প্রধান দলের বাইরে গিয়ে তৃতীয় শক্তি হওয়ার বাসনায় যুক্তফ্রণ্ট গঠনের ঘোষণা দেয়া চার রাজনীতিকের গত ছয় মাসে নিজেদের জোট শক্তিশালী করতে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। বরং জোটের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না ইদানীং বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন। কথা বলছেন বিএনপির সুরেই।

    এর মধ্যে যুক্তফ্রন্টের নেতারা শনিবার বিএনপির ইফতারে অংশ নিয়েছেন। সেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঐক্যের আহ্বানও জানিয়েছেন।

    আলোচিত পাঁচ রাজনীতিক গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন, বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদর রহমান মান্না গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে জোট গঠনের উদ্যোগ নেন।

    গত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে কামাল হোসেনকে বাইরে রেখে জোটের ঘোষণা দেন বাকি চার নেতা। নাম দেয়া হয় যুক্তফ্রন্ট। সে সময় কামাল হোসেন দেশের বাইরে থাকায় তিনি এই জোটে আসেননি বলে জানানো হয়। তবে দেশে ফিরে কামাল হোসেন জোটে যোগ দেননি।

    যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শরিক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা আর মান্না ও কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে সম্পৃক্ত ছিলেন।

    ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার দুই বছর পর কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন। আর মান্না সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায় সরকারের আমলে দলে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত হন আর পরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।

    আরেক শরিক জেএসডি নেতা আ স ম আবদুর রব ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ঐক্যমতের সরকারে মন্ত্রী হন।

    এর আগে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৮৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান সব বিরোধী দল বর্জন করলেও তিনি ছোট ছোট অনেকগুলো দল নিয়ে ভোটে যান এবং সে সময় বিরোধীদলীয় নেতা হন রব।

    জোট গঠনের আলোচনায় যাচ্ছেন যুক্তফ্রন্ট নেতারা। এই ছবিতে নেই কাদের সিদ্দিকী

    জোট গঠনের আলোচনায় যাচ্ছেন যুক্তফ্রন্ট নেতারা। এই ছবিতে নেই কাদের সিদ্দিকী

    ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি বানায় বিএনপি। পরে তাকে এই ছাড়তে বাধ্যও করা হয়। আর সে সময় আলাদা দল গঠন করার পর তার ওপর হামলাও হয় প্রকাশ্যে।

    গত ডিসেম্বরে যুক্তফ্রন্ট ঘোষণার পর এর অন্যতম শরিক মান্না ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘দুই জোটের বিপরীতে নতুন একটা রাজনীতিক জোট গড়ার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল আমাদের। সাধারণ মানুষও সেটা চাইছে। আমরা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পুরণে পথ চলা শুরু করেছি। আমরা মানুষের কাছে যাব। আশা করছি দুই রাজনৈতিক জোটের বাইরে বৃহৎ শক্তি নিয়ে আমরা রাজনীতিতে আবির্ভূত হতে পারব।’

    তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা এর আগেও নানা সময় নানা পক্ষ থেকে এসেছে। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটি একটি বহুল আলোচিত বিষয় ছিল। কিন্তু কার্যত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে কেউ কখনও বড় হয়ে উঠতে পারেনি।

    জাতীয় পার্টি ও জামায়াত নানা সময় জোট করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জিততে পারলেও সারা দেশে তাদের শক্তি নেই। আর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীতে দুটি দলের অবস্থানই শূন্যের কোটায়।

    যুক্তফ্রন্টের ঐক্যবদ্ধ কোনো কর্মসূচি নেই। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের সঙ্গেই অংশগ্রহণ কার তাদের সুরেই কথা বলার বিষয়ে জোটের অন্যতম উদ্যোক্তা মাহমুদুর রহমান মান্নার কাছে প্রশ্ন ছিল। জবাবে ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘এখন যারা ক্ষমতায় আছে তারা স্বোচ্ছাচারী। এই সরকারকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একটি বৃহৎ আকারে ঐক্য দরকার। আমরা আমাদের মতো আন্দোলন করছি, আমরা একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য আন্দোলন করছি। বিএনপিও জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে। আমাদের থেকে বিএনপির বিপদ আরও বেশি। সবাই যার যার জায়গা থেকে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করছি। এখানে আমাদের ঐক্য হতেই পারে, সেটা আন্দোলনের জন্য।’

    কিন্তু বিএনপির সঙ্গে যদি ঐক্য হয় তাহলে তৃতীয় শক্তি হয়ে উঠার বাসনার কী হবে?-এমন প্রশ্নে মান্না আবার বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন। শেখ হাসিনার বিপক্ষে বা খালেদা জিয়ার পক্ষে নয়। বিএনপির সাথে আমাদের মাখামাখির বিষয় নয়, এটা গণতন্ত্রের বিষয়। আমি আওয়ামী লীগ বিএনপিকে একই পাল্লায় মাপি।’

    আওয়ামী লীগ আর বিএনপি একই পাল্লায় মাপলেও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে প্রায়শই কেন আলোচনায় যোগ দিচ্ছেন-জানতে চাইলে যুক্তফ্রন্ট নেতা বলেন, ‘বিএনপির সাথে মাখামাখির সুযোগ আমাদের কম, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য এক সাথে দেখা যায়। আমরা একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য আন্দোলন করছি। বিএনপিও তাদের ভিশনে কল্যান রাষ্ট্রের কথা বলেছে।’

    আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নে ডুক্তফ্রন্ট নেতা বলেন, ‘এরা ভোটের জন্য হেফাজতের সাথে হাত মিলায়, এরশাদের সাথে হাত মেলায়। বর্তমান অবস্থায় আওয়ামী লীগের সাথে সমোঝোতার কোন প্রশ্ন আসে না। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। দেশে এখন সংকট উত্তরণের পথ একটি গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন, কিন্তু আওয়ামী লীগ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করছে না।’

    খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হওয়ার পর বিএনপি এবং সমমনাদের বাইরে তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য এসেছে মান্নার পক্ষ থেকে। তবে ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বলেছি, প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু খালেদা জিয়ার আজকের অবস্থার জন্য তিনিই দায়ী। তিনি লোয়ার কোর্টকে স্বাধীনতা দেননি।’

    যুক্তফ্রন্টের কোনো কাজ দৃশ্যমান নয় কেন-জানতে চাইলে জোট নেতা বলেন, ‘যুক্তফ্রন্টের কার্যক্রম আছে। কিন্তু সারা দেশের গণতন্ত্রের যে পরিবেশ, গণতন্ত্রহীনতার যে পরিবেশ তাতে কিছুতেই আমরা ভালো করে কাজ করতে পারিছি না।’

    ‘আমরা দেশের বহু জায়গায় কমিটি করেছি, তারা প্রকাশ হতে পারছে না। বের হলেই তাদের ‍বিরুদ্ধে হামলা মামলা করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের কাজটা অনেক দূর এগিয়েছে। তারা ভেতরে ভেতরে সক্রিয়ভাবেই যুক্তফ্রন্টের কাজ করে যাচ্ছে। আমরা তাদের সমর্থনও পেয়েছি।’

    “দেশে ‘গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারে’ আগামী আন্দোলনে যুক্তফ্রন্ট সক্রিয়ভাবে থাকবে। সেটা রাজপথের আন্দোলন হোক, নির্বাচনী আন্দোলন হোক, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের আন্দোলন হোক আমরা ভালো ভূমিকা রাখতে পারব।”

    যুক্তফ্রন্টের শরিক হওয়ার কথা ছিল কামাল হোসেনের। কিন্তু তিনি এই জোট যোগ না দিয়ে ডাক দিয়েছেন ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায়’।

    এ বিষয়ে মান্না বলেন, ‘আমরা একসাথেই চেষ্টা করছিলাম গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের আন্দোলন সফল করার জন্য। যখন এটা ফাইনাল স্টেজে আছে তখন ওনি (ড. কামাল) আমাদের থেকে চলে গেছেন। কেন তিনি আমাদের থেকে আলাদা হয়ে গেলেন সেটা তিনিই বলতে পারবেন।’

    ‘জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার অভিষ্ঠ লক্ষ্য আমি জানি না, যদিও যথেষ্ট শক্তিশালী বক্তব্য রেখেছেন। আমি আশা করব যে ওনি এ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রক্রিয়াগতভাবে সম্পৃক্ত হবেন।’

    বিএনপির ৯২ দিনের আন্দোলনে ব্যাপক নাশকতা. একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিষয়ে যুক্তফ্রন্টের অবস্থান কী-এমন প্রশ্নে মান্না বলেন, ‘এগুলো প্রাসঙ্গিক তো না, এখন যদি ওই ৯২ দিনের সমালোচনা করি, তাতে আমার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কী লাভ হবে? অতএব এটা করছি না। এটা করলে নিজেদের করতে পারি, ওনারা যদি শুনতে চান।’

    ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ওই আন্দোলনটা খুবই একটা চিন্তাহীন আন্দোলন ছিল। ওই আন্দোলনের মধ্যে কোন দিকনির্দেশনা ছিল না।’